Skip to main content

গল্প ।। লোভ ।। অঞ্জন রায় চৌধুরী

লোভ

অঞ্জন 

 

মোহিত বাবুদের বাড়িটা ছিলো শহর থেকে মিনিট চল্লিশ দূরে একটা বর্ধিষ্ণু গ্রাম্য এলাকায়। পাকা দোতলা বাড়ি, বছর কুড়ি পুরোনো। ইদানিং ওই বাড়িটাতে মোহিত বাবুর বাবা মা ছাড়া আর কেউ থাকেন না। মোহিত বাবু, বাবা মা এর একমাত্র সন্তান। লেখা পড়ায় ভালো হওয়ায় মাস্টার্স পাস করে বেকার বসে থাকতে তাঁর মোটেই ভালো লাগছিলো না। যদিও মোহিত বাবুর বাবা ছেলেকে একটা দোকান করে দিতে পারতেন তাঁদের বসত বাড়ির নীচে, কিন্তু মোহিত বাবু বললেন,"একটা শিক্ষিত ছেলে হয়ে চাকরি না করে দোকান করবো?"  এই সব কথা শুনে ছেলেকে আর দোকান করতে না বলে চাকরির চেষ্টা করতে বললেন। মোহিত বাবু ও বছর দুয়েকের মধ্যে একটা আধা সরকারি চাকরি জুটিয়ে ফেললেন, তবে বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরের এক জেলায়। রান্না বান্না করার অভ্যাস না থাকায়, মেসে থাকলেও দুপুর আর রাতের খাবার জুটতো স্থানীয় হোটেলে। কিন্তু একদিনের জন্য ছুটি পেলেও বাড়ি চলে আসতেন তিনি। বাড়ি টাকে বড্ড বেশী ভালোবাসতেন মোহিত বাবু। যেহেতু মাইনে খুব একটা বেশী ছিল না তাঁর, যা মাইনে পেতেন তার প্রায় সবটাই খরচ হয়ে যেত হোটেলে খাওয়া আর প্রতি সপ্তাহে বাড়ি যাতায়াতের জন্য। তবু একবেলা একসন্ধ্যে বাড়ি যেতে পারবেন, তাই বেশী মাইনের বাইরের রাজ্যের চাকরী ছেড়ে ওই চাকরিতেই থেকে গেলেন তিনি। 

 এইভাবে বছর তিনেক চলার পর হোটেলের তেল মশলা দেওয়া খাবার দীর্ঘ দিন খাওয়াতে পেটে আলসার জাতীয় কিছু হলো মোহিত বাবুর। পরিস্থিতির কারণে যথেষ্ট আয় না থাকা সত্ত্বেও মোহিত বাবুকে বিয়ে করে নিতে হলো বাড়ির চাপে । বিয়ে করে প্রথমে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী কে নিয়ে থাকলেও "যে পয়সা উনি ভাড়া গুনছিলেন সেই পয়সা দিয়ে তাঁর নিজস্ব একটা ফ্ল্যাট হয়ে যেতো", এই চিন্তা কেউ বা কারা তাঁর মাথায় ঢোকানোয় শেষ মেষ দু কামরার একটা ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করলেন তিনি। যেহেতু তিনি কোনোদিন ভাড়া বাড়িতে থাকেন নি, তাই মনে মনে তিনি ভাবতেন বাবার মতো তাঁর ও নিজের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হোক, যাতে তিনি তাঁর ছেলে পুলেদেরকেও নিজের একটা বাড়ি দিয়ে যেতে পারেন। 

একে আয় পর্যাপ্ত নয়, তার উপর ফ্ল্যাট কেনার ঠিক আগের বছরই বাবা হয়েছিলেন মোহিত বাবু। তবুও একটা ফ্ল্যাট কেনার লোভ তিনি সামলাতে পারলেন না, বছর দুয়েকের মধ্যে কিনে ফেললেন তিনি। 

কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফ্ল্যাটের ই.এম.আই তার উপর সংসারের খরচ চালাতে ওই রোজগারে প্রায় হিমশিম খাওয়ার মত অবস্থা মোহিত বাবুর। শেষে অবস্থা এমন হলো যে অফিসের সহকর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ধার করতে আরম্ভ করলেন মোহিত বাবু। কিন্তু সবাই তো আর লোকের ভালো চায় না। সহকর্মী দের একটা অংশ ,সেই সব সহকর্মী, যাঁরা মোহিত বাবুকে টাকা ধার দিচ্ছিলেন, তাঁদের কে বোঝাতে লাগলেন মোহিত বাবুর আর্থিক অবস্থা তো ভালো নয়, উনি যে টাকা ধার করছেন ফেরত দিতে পারবেন তো? কিছু সহকর্মী আবার মোহিত বাবু সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করলেন যে মোহিত বাবু এর ওর থেকে টাকা ধার করে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁর জ্বালায় অফিসে আসা দায় হয়ে যাচ্ছে। 

সেই সুহৃদ সহকর্মীর দল যাঁদের উপর দুর্দিনে ভরসা করছিলেন মোহিত বাবু, তাঁরা যখনই এই সব সন্দেহ জনক কথা বার্তা শুনলেন অন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে, তখনই কাল বিলম্ব না করে মোহিত বাবুর কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলেন। 

একে নিজের সঞ্চয় বলে কিছুই নেই, তার উপর যা কিছু ছিল সবই খরচ করে ফেলেছিলেন তিনি। থাকার মধ্যে ছিল বাবার বাড়ি টুকু। উনি সব কথা বাবা মা কে জানাতে ওনারা কিন্তু কিন্তু করেও ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে অবশেষে রাজি হলেন নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে ছেলের ফ্ল্যাটে গিয়ে থাকতে। প্রথমে যে দাম রাখা হয়েছিলো, সেই দামে কেনার খদ্দের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। ওদিকে মোহিত বাবুকে তাঁর সহকর্মীরা একরকম হুমকি দিতে লাগলেন টাকা ফেরত করার জন্য। এর মধ্যে একবার অফিসের মধ্যে তাঁর কলার চেপে ধরে অপমান করা হলো এবং সময় বেঁধে দেওয়া হলো যে তার মধ্যে ফেরত না দিলে এবার থানা পুলিশ হবে। বাধ্য হয়ে দাম কমিয়ে খদ্দের খুঁজতে আরম্ভ করলেন মোহিত বাবুরা। 

খুঁজতে খুঁজতে পরিচয় হলো রমেন বাবুর সঙ্গে। রমেন বাবু, মোহিত বাবুদের দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন চাকরি পেয়েছেন। ওনার বাড়ি মোহিত বাবুর দেশ বাড়ির পাশের জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। উনি অবিবাহিত এবং বাবা মা ছাড়া ওনার আর কেউ নেই। নতুন চাকরি হওয়ার সুবাদে ওনার বেতন ও খুব একটা বেশি ছিল না, কিন্তু বাবা মা কে ওই গ্রামে রেখে উনি একা থাকতে পারছিলেন না। তাই উনি একটা কম দামের মধ্যে বাড়ি খুঁজছিলেন। মোহিত বাবুর বাড়ির তুলনায় বাড়ির দাম বেশ খানিকটা কম হওয়ায় রমেন বাবু বাড়িটা কিনতে আগ্রহী হলেন। কিন্তু পাকা কথা বলার আগে উনি একবার বাবা মা এর মতামত নিতে চাইলেন। রমেন বাবুর বাবা মা পুরনো পন্থী গ্রামের লোক। ওনারা এই ব্যাপার টা শুনে ওনাদের গুরুদেবের সাথে আলোচনার কথা বললেন। ওনাদের গুরুদেবের বাড়ি ওই গ্রামেই। সত্তরের উপর বয়েস, রোগা পাতলা, বেঁটে খাটো মানুষ। রমেন বাবুর বাবা মা এর মুখে সব কথা শুনে উনি রমেন বাবুর জন্ম বৃত্তান্ত জানতে চাইলেন। তারপর রমেন বাবুর কোষ্ঠী বিচার করে উনি বললেন," এই কোষ্ঠী যা বলছে, তাতে এই মুহূর্তে কোনো শুভ কাজ না করায় ভালো। হিতে বিপরীতও হতে পারে।" রমেন বাবু বাবা মা এর মুখে এই কথা শুনে একরকম হেসেই উড়িয়ে দিলেন। বললেন," আজ কালকের দিনে কেউ এসব মানে না। আর তাছাড়া এসব কোষ্ঠী বিচার করে কিছু হয় না, যা ঘটার তা এমনিই ঘটবে।" তাছাড়া এই মূল্যে অমন দোতলা বাড়ি কেনার লোভ সামলাতে পারলেন না রমেন বাবু। বাবা মার গুরুদেবের কথা একরকম অগ্রাহ্য করেই ব্যাংকের সাথে কথা বলে লোনের ব্যবস্থা করলেন রমেন বাবু। দেশের বাড়িটা বিক্রি করতে বাবা মা কে একরকম বাধ্য করে ব্যাংক লোন আর বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে কিনে ফেললেন মোহিত বাবুর দেশ বাড়ি।

এরপর একদিন শুভ দিনক্ষণ দেখে রেজিস্ট্রি করে, পুজো দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলেন রমেন বাবুরা।

বুকে একরাশ স্মৃতি আর চোখে একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে চোখের জলে ঘর ছাড়লেন মোহিত বাবুর বাবা মা।

বাড়ি বিক্রির টাকায় সহকর্মীদের কাছ থেকে ধার করা টাকা শোধ করলেও যেহেতু ফ্ল্যাটের ই.এম.আই দেওয়ার পর মোহিত বাবুর মাসিক আয়ের সামান্য অংশই পড়ে থাকতো সংসারে দেওয়ার জন্য, তারপর বেতন বৃদ্ধি ও বন্ধ হয়ে ছিলো অনির্দিষ্ট কালের জন্য। ফলে লোক সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আবার নতুন করে সমস্যায় পড়লেন তিনি। বাড়ি বিক্রির টাকা প্রায় পুরোটাই ব্যয় হয়ে গেছিলো ঋণ পরিশোধ করতে, আর মোহিত বাবুর বাবার সামান্য পেনশন ছাড়া মোহিত বাবুর আর কোনো আয়ের সংস্থান ছিলো না, ফলে সংসারে লোকসংখ্যার অনুপাতে টাকা পয়সার পরিমাণ অপর্যাপ্ত হওয়ায় সংসারে দেখা দিল তীব্র অভাব। অভাবের সঙ্গে সঙ্গে সংসারে অশান্তি ও বাড়তে থাকলো, ন্যুনতম প্রয়োজন মেটানোর সংস্থান না থাকলে যা হয় আর কী।

মোহিত বাবুর বাবা নিজের দেশেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে রেখেছিলেন যাতে মাঝে মাঝে তাঁদের মন খারাপ হলে বুড়ো, বুড়ি নিজেদের দেশে যেতে পারেন। যখন এই অর্থাভাব আর অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছালো, তখন মোহিত বাবু একদিন রাগের মাথায় তাঁর বাবা মা কে বললেন," এই ভাবে চলতে থাকলে তো আর একসাথে থাকায় যায় না। তোমাদের অসুবিধা হলে তোমরা আসতে পারো।" মোহিত বাবুর বাবা মা এর মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। যে সন্তানের জন্য তাঁরা সর্বশ্রান্ত হলেন, শেষে সেই সন্তানের মুখে এহেন কথা শুনে মোহিত বাবুর বাবা হতবম্ব হয়ে গেলেন। সেই রাতেই তাঁরা ঠিক করলেন যে আর ছেলের ফ্ল্যাটে থাকবেন না। পরের দিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মোহিত বাবুর বাবা মা বেরিয়ে গেলেন তাঁর ফ্ল্যাট ছেড়ে। তারপর শেষে পৌঁছলেন সেই ভাড়া বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন যাহোক করে কাটলো তাঁদের। একে নিজের বাড়ি বিক্রির ক্ষত, তারউপর ছেলের দুর্ব্যবহারে মাথার শেষ ছাদ টুকুও চলে যাওয়া, এই দুইয়ের ধাক্কা সামলাতে পারলেন না তাঁরা। একদিন ঠিক করলেন তাঁরা আত্মহত্যা করবেন। 

সেদিন সকাল থেকে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। যে ঘরে ভাড়া থাকতেন তাঁরা সেটা দোতলায়, ওনাদের বসতবাড়ি থেকে খানিকটা দূরে বাজারের মধ্যে। সকাল থেকে বৃষ্টি পড়ায় বাজার চত্বর টা ছিল সেদিন ফাঁকা ফাঁকা। দুপুরে শেষ বারের মত খাওয়া দাওয়া করে, পাশের দোকান থেকে কিনে আনা কীট নাশক খেয়ে নিলেন দুজনে। তারপর থেকে রাত অবধি বিষের জ্বালায় ছটফট করতে করতে শেষে দুজনেই একসময় ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে, কেউ জানতেও পারলো না। তিন চারদিন পর তীব্র পচা গন্ধে চারদিক ভরে যাওয়ায় ওই এলাকার স্থানীয় লোক জন আর ব্যবসাদারেরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে বের করলো মোহিত বাবুর বাবা মা এর পচা গলা মৃতদেহ। মোহিত বাবুকে খবর পাঠানো হলেও উনি এলেন না, কারণ ওই মুখ নিয়ে বাবা মার মৃতদেহের সামনে দাঁড়ানোর মতো নির্লজ্জ সম্ভবত তিনি হতে পারেন নি। যাই হোক, তাঁদের দেহ উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো। পোস্টমর্টেম করে শেষ কৃত্য সম্পূর্ন হলো ছেলের অনুপস্থিতিতেই।

মোহিত বাবুর দেশ বাড়ির সামনের দিকে বেশ কিছুটা  ফাঁকা জায়গা ছিল, তারপর পাঁচিল দেওয়া। রমেন বাবুর বাবা গ্রাম্য মানুষ। বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে উনি গোটা বিশেক মুরগী নিয়ে একটা মুরগীর খামার বানালেন।নিজেই পরিচর্যা করতেন খামার টা।

মোহিত বাবুর বাবা মা গত হওয়ার সপ্তাহ খানেক পরের ঘটনা। একদিন রাত্রি বেলায় মুরগি গুলো হঠাৎ করে চিৎকার করতে শুরু করলো সঙ্গে ডানা ঝাপটানোর শব্দ। রমেন বাবুর বাবা ভাবলেন হয়তো খটাশ বা শিয়াল ঢুকেছে খামারে। একটা লাঠি হাতে নিয়ে তিনি দরজা খুলে বাইরে বেরোলেন। বাইরে বেরিয়ে যা দেখলেন তাতে তাঁর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। বাইরের চাঁদের আলোয় তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন দুটো লম্বা লম্বা মূর্তি, একটা পুরুষ আর একটা মহিলা। উনি মুরগীর খামারের দিকে এগিয়ে যেতেই দেখতে পেলেন দুটো মুরগী ঘাড় মটকে পরে রয়েছে খামারের সামনে, আর পুরো চত্বর টা তাদের রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ওনাকে দেখেই সেই ছায়া মূর্তি দুটো হুস করে কোথায় উড়ে গেলো। এই রক্তারক্তি দৃশ্য দেখে আচমকা শরীর খারাপ করতে লাগলো রমেন বাবুর বাবার। একটা আর্তনাদ করে দুম করে পড়ে গেলেন বুকে হাত দিয়ে। তাঁর চিৎকার শুনে দৌড়ে বেরিয়ে এলেন রমেন বাবু ও তাঁর মা। তাঁরা কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। রমেন বাবুর বাবা মুখ দিয়ে তখন ঘর ঘর শব্দ করছেন। তাঁকে যাহোক করে ঘরে নিয়ে গেলেন রমেন বাবুরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। কিছুক্ষণ পরই মারা গেলেন রমেন বাবুর বাবা। ওনার মৃত্যুর পর ওনার মা ও কেমন যেনো হয়ে গেলেন। রমেন বাবু চাকরী সূত্রে সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে ওই অত বড় বাড়িতে ওনার মা সম্পূর্ন একা থাকতেন। দুপুর বেলায় প্রায় তিনি শুনতে পেতেন পুরুষ ও মহিলার কণ্ঠ স্বর, হাঁসাহাসি করার শব্দ, কখনও খিল খিল করে হাসছে আবার কখনো গুমরে গুমরে কাঁদছে। রাতে একাই শুতেন রমেন বাবুর মা। রাতে স্পষ্ট দেখতেন এক জোড়া ছায়া মূর্তি সারা ঘর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রমেন বাবু কে তিনি প্রায় বলতেন, " চল বাবু, এখান থেকে চলে যাই",কিন্তু রমেন বাবু ভাবতেন, বাবা চলে যাওয়ায় মা মানসিক রোগী হয়ে গেছেন, তাই পাত্তা দিতেন না ওনার কথায়।

মাস খানেক পরের এক দুপুর বেলার ঘটনা। স্নান সেরে উঠে ছাদে কাপড় জামা মেলতে উঠেছিলেন রমেন বাবুর মা। কাপড় মেলতে মেলতে ছাদের আলসের কাছে চলে এসেছিলেন তিনি। হঠাৎ শুনতে পড়লেন পেছনে কেউ যেনো খিল খিল করে হাসছে। পেছন ফিরে দেখতে যাবেন এমন সময় কেউ যেনো দৌড়ে এসে দিলো তাকে এক ধাক্কা। দোতলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে গেলেন তিনি। আর উঠলেন না। রমেন বাবু যখন খবর পেলেন, ততক্ষনে সব শেষ।

মা এর মৃত্যুর পর কেমন যেন মুহ্যমান হয়ে পড়লেন রমেন বাবু। দুই রকমের চিন্তা তাঁকে একরকম ব্যতিব্যস্ত করে তুললো। একদিকে তিনি ভাবতে লাগলেন যে তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র, তার উপর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী। রোগী আর মৃতদেহ দুটোই তাঁকে রোজই ঘাঁটতে হয়। ভূত বা আত্মা বলে যে কিছু থাকতে পারে তা তিনি কোনোদিনই বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু অন্যদিকে বাড়িটা কেনার পর তাঁর বাবা মায়ের অপমৃত্যু তাঁকে ভাবতে বাধ্য করাচ্ছে যে এই বাড়িতে নিশ্চয় এমন কিছু ঘটছে যা স্বাভাবিক নয়, অতিপ্রাকৃতিক। কিন্তু এই রকম  বাড়ি এই টাকায় তো রোজ রোজ পাওয়া যাবে না, তাছাড়া একবার যে শুনবে এই বাড়িতে কী কী ঘটেছে, সে কি আর বাড়িটা কিনতে চাইবে?

এইসব সাত পাঁচ চিন্তা রোজ করতে করতে মানসিক ভাবে তিনিও কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না এখন তাঁর কী করণীয়। এমন সময় একদিন হঠাৎ তাঁর মনে হলো বাবা মায়ের গুরুদেবের কথা। সেই সপ্তাহের রোববারই তিনি চললেন তাঁর নিজের গ্রামে,গুরুদেবের সাথে দেখা করতে।

সব শুনে গুরুদেব বললেন," এবার বুঝলে তো, কেন আমি বারণ করে ছিলাম তোমার মা বাবা কে?" রমেন বাবু অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বসে রইলেন। গুরুদেব বলে চললেন," দেখো, ওই বাড়িটা যাদের, তাঁরা তাঁদের অধিকার ছাড়তে চাইছেন না। এখন উপায় দুটো। প্রথম উপায় হলো, ওই বাড়ি বিক্রি করে দেওয়া, কিন্তু তোমার কোষ্ঠী অনুযায়ী এখন বিক্রী করলে তুমি ডাহা লোকসান করবে। আর দ্বিতীয় উপায় হলো," গুরুদেব থামলেন। রমেন বাবু তাঁর মুখের দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছেন, যেমন মুমূর্ষ রোগী ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে থাকে। গুরুদেব বললেন," দ্বিতীয় উপায় হলো, ওই ভিটেতে যে দোষ আছে সেটা যজ্ঞ করে কাটাতে হবে।" রমেন বাবু এইসব বিশ্বাস না করলেও এখন আর বিশ্বাস না করে উপায় ছিল না। তিনি গুরুদেব কে জিজ্ঞাসা করলেন," তা হলে আমাকে এখন কি করতে হবে?" গুরুদেব বললেন," দেখো, আমি এইসব কাজ করি না, তবে এইসব কাজ যিনি করেন তাঁর ঠিকানা তোমাকে দিতে পারি। তুমি তাঁর সাথে যোগাযোগ করে নিও। ভদ্রলোকের নাম শম্ভু তান্ত্রিক। বাড়ি পাশের গ্রামে। তুমি সেখানে যাও, গিয়ে আমার নাম করবে। দেখো উনি কতদূর কী করতে পারেন।" অগত্যা রমেন বাবু গিয়ে পৌঁছলেন শম্ভু তান্ত্রিকের বাড়িতে। শম্ভু তান্ত্রিক তখন পুজোয় বসেছিলেন। বয়েস বছর পঞ্চাশেক। বেঁটে খাটো, ভুঁড়িদার, গোলগাল লোক। মুখে ঘনো গোঁফ দাড়ি। রমেন বাবু কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বাইরে এলো শম্ভু তান্ত্রিক। রমেন বাবু ওনাকে সব কথা খুলে বলতে উনি বললেন," আসলে ওই বাড়ির আসল মালিক বাড়ির অধিকার ছাড়তে চাইছেন না। তোমার কোনো দোষ নেই, কিন্তু তোমার বাবা মা কে হারাবার জন্য ওনারাই দায়ী। যাই হোক, তুমি কি ভাবছো? বাড়িটা বিক্রী করে দেবে?" রমেন বাবু বললেন," আসলে এই মুহূর্তে আমার সেই ক্ষমতা নেই যে আর একটা বাড়ি কিনতে পারবো। তাছাড়া আমার ব্যাংক লোনও এখনও শোধ হয় নি। লোন শোধ না করে বাড়ি বিক্রি তো করতে পারবো না, সুতরাং ওই বাড়িতেই আমাকে থাকতে হবে।" শম্ভু তান্ত্রিক বললেন," হুঁ, তাহলে ওই বাড়ির দোষ কাটাতে একটা যজ্ঞ করতে হবে। তুমি একটু অপেক্ষা করো, আমি তোমাকে একটা ফর্দ করে দিচ্ছি, সেই অনুযায়ী জিনিস পত্র গুলো এনে রেখো। আর একটা কথা আজ কৃষ্ণ পক্ষের সপ্তমী, আগামী অমাবস্যায় যজ্ঞ করবো আমি। ততদিন ওই বাড়িতে রাতে থেকো না। কয়েকদিনের জন্য একটা অন্য বাসার ব্যবস্থা করো। আমি আগেরদিন পৌঁছে যাবো তোমার কাছে।"

সেই কথা অনুযায়ী রমেন বাবু সপ্তাহ খানেকের জন্য একটা অন্য বাসা ভাড়া করলেন যেটা বাঁশ বাগানের ভেতর একটা ছোট্ট টিনের চালার ঘর। নির্দিষ্ট দিনে শম্ভু তান্ত্রিক দুই শিষ্য কে নিয়ে পৌঁছে গেলেন রমেন বাবুর বাসায়। যখন তাঁরা পৌঁছলেন তখন বিকেল তিনটে। রমেন বাবু একবার অফিস থেকে এসে ওনাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বললেন," আপনারা একটু গুছিয়ে বসুন, আমি বাকি ডিউটি টা সেরে আসছি।" 

শম্ভু তান্ত্রিক বললেন," সেই ভালো, আমরা একটু বিশ্রাম করে নি। তারপর সন্ধ্যা নাগাদ একবার ওই বাড়িতে যাবো, কিছু প্রাথমিক ক্রিয়া করতে হবে।"

সন্ধ্যা বেলায় দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে শম্ভু তান্ত্রিক ভাবলেন হয়ত রমেন বাবু ফিরে এসেছেন। দরজা খুলে দেখলেন, হাত খানেক দূরে বাঁশ ঝারের গা ঘেঁষে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে তার মুখ ঠিক করে বোঝা যাচ্ছে না। শম্ভু তান্ত্রিক জিজ্ঞাসা করলেন," কে আপনি?" সে কথার জবাব না দিয়ে লোকটা বললো," আপনি শম্ভু তান্ত্রিক তো? রমেন বাবুর বাড়িতে কাজ করার জন্য এসেছেন। তবে আজ রাতে আর ওই দিকে না যাওয়ায় ভালো।" শম্ভু তান্ত্রিক খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বললেন," কোন টা ভালো, আর কোনটা মন্দ সেটা আমি বুঝবো। তাছাড়া আপনি কে আমাকে বারণ করার?" লোকটা খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে বললো," আমি আর কে আপনাকে বারণ করার। বেশ, আপনার যেটা ইচ্ছে আপনি করুন। আমি শুধু সাবধান করতে এসেছিলাম। এখন চলি।" বলে লোকটা আস্তে আস্তে বাঁশ বাগানের ভেতর কোথায় যেনো মিলিয়ে গেলো। একটু পরেই রমেন বাবু এসে পৌঁছলেন। শম্ভু তান্ত্রিক তাঁকে এই ঘটনার কথা কিছুই বললেন না। চা খেয়ে শম্ভু তান্ত্রিক আর তাঁর দুই শিষ্য রমেন বাবুকে সঙ্গে করে নিয়ে চললেন তাঁর নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাসা থেকে বেরিয়ে মেন রোড টপকে আম বাগানের ভেতর রমেন বাবুর নতুন বাড়ি। আম বাগানের মধ্যে যেই না তাঁরা প্রবেশ করেছেন, হঠাৎ এক শিষ্য প্রায় চিৎকার করে উঠলো," গুরুদেব সাবধান। সামনে কারা যেনো রয়েছে।" রমেন বাবু সে দিকে টর্চের আলো ফেলতেই দেখলেন দুটো কালো কুচ কুচে বেড়াল। তাদের দুই জোড়া চোখ যেনো ভাঁটার মত জ্বলছে। লোক জন দেখেই দৌড়ে তারা পালিয়ে গেলো আম বাগানের ভেতরে। বাড়ির সামনে পৌঁছে গেট খুলতেই শম্ভু তান্ত্রিকের নাকে এলো একটা পচা গন্ধ। কাউকে কিছু না বলে শম্ভু তান্ত্রিক বাড়ির চৌহদ্দিতে ঘুরতে লাগলেন। হঠাৎ তাঁর শিষ্যদের এবং রমেন বাবুর চ্যাচামিচির আওয়াজ শুনে শম্ভু তান্ত্রিক সেদিকে তাকাতেই দেখতে পেলেন অন্ধকারে তাঁদের উপর ইট বৃষ্টি হচ্ছে। এই বড় বড় ইট, একটা মাথায় লাগলে আর বেঁচে থাকতে হবে না। গেট বন্ধ করে যাহোক করে তালা লাগিয়ে তাঁরা সকলে ছুটে মেন রোডে চলে এলেন। রমেন বাবু শম্ভু তান্ত্রিক কে জিজ্ঞাসা করলেন," কিছু বুঝলেন মশাই?" শম্ভু তান্ত্রিক কিছু বললেন না, চুপ করে হন হন করে হাঁটতে লাগলেন।

সারা রাত ঘুম হলো না শম্ভু তান্ত্রিকের, চিন্তা করতে লাগলেন সন্ধ্যেবেলায় ঘটা ঘটনাটির কথা। পরের দিন দুপুর থেকেই ওনারা চলে গেলেন রমেন বাবুর বাড়িতে। সেখানে পুজোর স্থান নির্বাচন করে, পুজোর সামগ্রী গুছিয়ে যখন পুজোয় বসলেন শম্ভু তান্ত্রিক, তখন রাত সাত টা। চত্বরে কেউ কোথাও নেই, শুধু চার জন ছাড়া। আসন শুদ্ধি করে পুজোয় বসে নিজের, দুই শিষ্যের এবং রমেন বাবুর গাত্র বন্ধন করে দিলেন তিনি। তারপর রমেন বাবু কে বললেন," কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটতে পারে, আপনি যেনো কোনো মতেই আসন ছেড়ে উঠবেন না।" এইবলে তিনি পুজো শুরু করলেন। প্রাথমিক পর্যায়ের পুজো শেষ করে উনি ঝোলা থেকে বের করলেন একটা নর কপাল। তারপর সেটা সামনে রেখে তার মধ্যে কারণ বারি ঢেলে কাল ভৈরব মন্ত্র উচ্চারণ সবে শুরু করেছেন তিনি, অমনি পাশের বাগান থেকে এক পাল শেয়াল বিকট শব্দে চিৎকার করতে লাগলো। আসে পাশের পরিবেশের নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে গেলো তাদের সেই ডাকে। রমেন বাবু ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন শম্ভু তান্ত্রিকের দিকে কিন্তু তিনি নির্বিকার, কারণ উনি জানতেন যে এমন ঘটনা ঘটা টা অস্বাভাবিক নয়। এরপর আরো কিছুক্ষন পুজো এগোলো ঘণ্টা খানেক ধরে। এবার পুজো শেষ করে যজ্ঞ শুরু করার পালা। শম্ভু তান্ত্রিক তাঁর এক শিষ্য কে বললেন ধুনুচি তে  ছোবরা দিয়ে ধুনো জ্বালাতে। শিষ্য টি ধুনো জ্বালাতেই একরকম চিৎকার করে উঠলো সে ," গুরুদেব।" সবাই অবাক হয়ে দেখলো ধুনোর সেই পবিত্র গন্ধের বদলে একটা তীব্র মরা পোড়ার গন্ধে সারা ঘর ভরে গেলো। শম্ভু তান্ত্রিক একটা ফুল কে মন্ত্রপূত করে ছুঁড়ে দিলেন ধুনুচির মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে সেই মরা পোড়ার গন্ধ উবে গিয়ে ধুনোর সেই পরিচিত পবিত্র গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। যজ্ঞের আগুন জ্বালিয়ে আহুতি দেওয়া শুরু করতেই হঠাৎ কোথা থেকে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো। হাওয়ার বেগে যজ্ঞের আগুন প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হলো। অনেক চেষ্টা করেও আর কিছুতেই ধরে রাখা যাচ্ছিল না সেই আগুন। ঘরের দরজা জানলা গুলো ধড়াম ধড়াম শব্দে খুলতে, বন্ধ হতে লাগলো, আর সেই হাওয়ার ভেতরে যেনো কাদের জান্তব অট্টহাসি আর গোঙানির শব্দ শোনা গেলো," এ বাড়ি আমাদের। এখানে আমরাই থাকবো, আর কেউ না।" শম্ভু তান্ত্রিক আর তাঁর দুই শিষ্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন যজ্ঞের ওই নিভে আসা আগুন কে আবার জ্বালিয়ে যজ্ঞ সম্পূর্ন করতে কিন্তু আচমকাই যজ্ঞের স্থানে শুরু হলো গত সন্ধ্যার মত ইট বৃষ্টি। শুধু ইট নয়, তার সাথে যুক্ত হলো মরার হাড় আর মাথার খুলি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শম্ভু তান্ত্রিক আর তাঁর দুই শিষ্য কোনো রকমে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দৌড়ে গেলেন মেন রোডের দিকে। রমেন বাবু ও ছুটলেন তাঁদের পেছন পেছন। তাঁরা শুনতে পেলেন এক প্রবল অট্টহাসির শব্দ তাঁদের পেছনে যেনো তাড়া করে আসছে। মেন রোডে উঠে তাঁরা সকলে হাঁপাতে লাগলেন। তারপর শম্ভু তান্ত্রিক হন হন করে হেঁটে চললেন রমেন বাবুর বাসার দিকে। সেখানে পৌঁছে সেই রাতে সারাক্ষন গুম মেরে রইলেন শম্ভু তান্ত্রিক। হয়তো এই ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।

পরের দিন সকালবেলা শম্ভু তান্ত্রিক যাওয়ার সময় রমেন বাবুকে বলে গেলেন," রমেন বাবু, ওই বাড়িতে কেউই বাস করতে পারবে না। আপনি অন্য কোনো বাসস্থান ঠিক করে ওখান থেকে চলে যান, নয়তো আপনারও প্রাণ হানি হতে পারে।" রমেন বাবু তাঁকে তাঁর প্রাপ্য দিতে গেলে তিনি বললেন," আমি এটা নিতে পারবো না। সফল হলে অবশ্যই নিতাম, কিন্তু গত রাতে আমি ব্যার্থ হয়েছি আমার কাজে। কাজেই পারিশ্রমিকের প্রশ্নই ওঠে না।" এই বলে দুই শিষ্য কে নিয়ে চলে গেলেন শম্ভু তান্ত্রিক।

এর পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। ওই বাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রইলো। রমেন বাবু ওই গ্রামেই অন্য একটা বাড়ী ভাড়া নিয়ে থাকতেন বটে, কিন্তু বাবা মা এর মৃত্যু এবং বাড়ী হারানোর যন্ত্রণায় তিনি মানসিক অবসাদ গ্রস্থ হয়ে পড়লেন। এক সকালে তাঁর প্রতিবেশীরা উদ্ধার করলো তাঁর মৃতদেহ। পুলিশ এসে ঘর থেকে উদ্ধার করলো একটা সুইসাইড নোট, তাতে লেখা রয়েছে," লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।"  


 ---------------------------------------

অঞ্জন রায় চৌধুরী, বহরমপুর , মুর্শিদাবাদ 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতা ।। দি ওয়াল- রাহুল দ্রাবিড় ।। আনন্দ বক্সী

দি ওয়াল- রাহুল দ্রাবিড়  আনন্দ বক্সী  ঠান্ডা মাথা, সরল হাসি, ভদ্র আচরণ  যাঁর ব্যাটিং দক্ষতায় মজে সবার মন,  ধৈর্য আর একাগ্রতার যিনি নিদর্শন  ভারতবাসীগণের তিনি অতি আপনজন,  ইন্দোরে জন্ম হলেও কর্নাটকে বাস  ক্রিকেট খেলে ছড়িয়ে দেন ধরাধামে সুবাস, শরদ দ্রাবিড় পিতা তাঁর পেশায় কারবারি  মাতা পুষ্পা,গৃহবধূর ছেলে সে দরকারি, যাঁর ব্যাটিং দেখতে মাঠে জমতো সে কী ভিড় ক্রিকেটপ্রেমী জনের প্রিয়, সে রাহুল দ্রাবিড়। বারো বছর বয়সে তাঁর ক্রিকেটে হাতেখড়ি  স্কুলের হয়ে ভাসান প্রথম তাঁর ক্রিকেট তরি। বিশ্বনাথ ও তারাপোরে দেন ক্রিকেট-দীক্ষা  সঙ্গী হলো জীবনে তাঁর তাদের সে শিক্ষা। কর্নাটকের হয়ে তিনি ঘরোয়া খেলা খেলে  নির্বাচকের সামনে  প্রতিভা ধরেন মেলে। ওয়ানডের জাতীয়দলে পেলেন তিনি ডাক  কিন্তু যেন কোথায় একটা থেকেই গেল ফাঁক।  শুরুটা তাঁর হলোনা ভাল শ্রীলঙ্কার সাথে  বাড়ালেন সময় আরও নিজের কসরতে।  ইংল্যান্ডে ঘটল তাঁর টেস্ট-অভিষেক  এমন খেলা খেললেন যে পেলনা কেউ ঠেক। লর্ডস মাতিয়ে দিলেন তিনি দুর্দান্ত খেলে  আউট হয়ে ফ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

পাঠ-প্রতিক্রিয়া ।। নবপ্রভাত বইমেলা 2023 সংখ্যা ।। সোমা চক্রবর্তী

পাঠ-প্রতিক্রিয়া : নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৩ সংখ্যা সোমা চক্রবর্তী  (কালিকাপুর, বারাসাত,উত্তর চব্বিশ পরগনা) লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় যাওয়া এবার সম্ভব হল না। কয়েকদিন আগে ডাক যোগে হাতে পেয়েছি নবপ্রভাত এর মুদ্রিত বইমেলা সংখ্যা। একটি অণুগল্প নিয়ে আমিও সেখানে রয়েছি অন্যান্য প্রিয় লেখকদের সঙ্গে। কাজেই, উৎসাহ একটু বেশিই রয়েছে। সম্পাদক মহাশয়ের অনুরোধ লিখিত পাঠ প্রতিক্রিয়া চাই। তাই আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেললাম বইটি। নবপ্রভাত এর যে ব্লগ বা ওয়েব ম্যাগাজিন (ব্লগজিন) এর সঙ্গে আগে থেকেই আমি পরিচিত, এ ক্ষেত্রে তার কথা একটু বলে নেওয়া প্রয়োজন। প্রতি বাংলা মাসের এক তারিখে প্রকাশিত প্রতিটি সংখ্যারই প্রবন্ধ অংশটি অত্যন্ত উন্নত মানের হয়ে থাকে। যেমন বিষয় নির্বাচন, তেমনই তথ্য সমৃদ্ধ। মুদ্রিত সংখ্যাটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পাঁচটি প্রবন্ধের প্রত্যেকটিই উৎকৃষ্ট। বিষয় এবং তথ্য আমাদের ভাবায়। "যুদ্ধ-কবিতা এবং কবিতায় যুদ্ধবিরোধ" প্রবন্ধটি পড়তে পড়তে এবং উল্লিখিত কবিতার ভেতর দিয়ে আমরা দেখতে পাব, মধ্যযুগের বীরগাথামূলক কাব্য এবং মহাকাব্যের হাত ছেড়ে কেমন করে কবিতা ছোট পাকদন্ডী বেয়ে চল...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। সোনালি অতীত ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

সোনালি অতীত  প্রবোধ কুমার মৃধা   সুশীতল ছায়াঘেরা স্নেহময়ী মাটি মা।   সে আমার জন্মভূমি সপ্তপুরুষের গাঁ।   প্রকৃতির বুক থেকে প্রাণের রসদ নিয়ে।   ফিরিতাম নদীতীরে হৃদয়ের গান গেয়ে।   সন্ধ্যাতারা উঁকি দিত গোধূলি লগনে।   প্রত্যুষে ভাঙিত ঘুম বিহঙ্গ কূজনে ।   আষাঢ়ের নব মেঘে ঘিরিত গগন।   বাদলের ছায়া ঢাকা কদম্ব কানন।   দলবেঁধে মাঠে-বাটে বেতালা-বেছন্দে।   কেটে যেত সারাদিন ভালো কভু মন্দে।   ডাক দেয় শিশুকাল, বাল্য ও কৈশোর।   অফুরন্ত প্রাণোচ্ছ্বল, আনন্দে বিভোর।   করমের স্রোতে ভেসে সংসারের হাটে।   ভিড়িল জীবনতরী নগরের ঘাটে।   ফিরিবার সাধ্য নাই ফেলে আসা পথে।   বাল্য রোমন্থন করি অতীত স্মৃতিতে।                    __________ 

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

হালখাতা ।। সেখ জিয়াউর রহমান

  হালখাতা সেখ জিয়াউর রহমান সবারই বুকের বাঁ পকেটে একটা হালখাতা রাখা থাকে সেখানে লেখা -  মিনুর মা'কে চার চামচ নুন, ছোট জা বোনের বিয়েতে মিনাকরা বড়ো নেকলেসটা নিয়ে একমাস পর ফেরত দিয়েছিলো, কেউ লিখে রাখে - "ঠাকুরপো ওই দিকেই তো যাবে তোমার দাদার খাবারটা একটু নামিয়ে দেবে!" আরও কত কী- রামুর ভূষিমাল দোকানে একশো টাকা বাকি সেও হালখাতার কার্ড পাঠিয়েছে,মলিন কাগজে গণেশের ছবি ছাপা, দেবে তো সেই দশ বারোটা বোঁদে একটা নিমকি আর একটা গজা সবই হিসাবে বাঁধা! আচ্ছা মেঘ তো কোনোদিন কার্ড পাঠায়নি! চুড়ুই পাখি,  নাম না জানা ওই ফুলটা সন্ধেবেলা মন ফুরফুরে করে দেয় যে  বা ওই সাঁওতালি বাঁশিওয়ালা! হিসেবের খাতায় কত পাওনা জমা হলো   কে জানে! তোমার-আমার হিসেব খোলা খাতা — পাতা উল্টালেই দেখি কত না-দেওয়া, কত না-পাওয়া এই খাতা কখনো যেন বন্ধ  না-হয়, নইলে কোনো একদিন তুমি খাতা ছুঁড়ে ফেলে বলবে— "আমার জন্যে কী করেছো?" তখন— সমস্ত না-লেখা ভালোবাসা, সব গোপন স্পর্শ, সব নিঃশব্দ পাশে থাকা— হাওয়ায় ভেসে যাবে, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো একটি শূন্য হিসেবের সামনে... ................................... সেখ জিয়াউর রহমান...