Skip to main content

গল্প ।। অপেক্ষা ।। দেবাংশু সরকার

অপেক্ষা

(আজাদ হিন্দ ফৌজের ভারত অভিযানের প্রেক্ষাপটে লেখা একটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প)

দেবাংশু সরকার


এক


       আবছা অন্ধকার ঘরটাতে টিমটিম করে একটা বাতি জ্বলছে। তিনজন মানুষ বসেছে এক গোপন আলোচনায়। এতটাই গোপন আলোচনা যে ঘরের সবকটা জানালা দরজা বন্ধ রয়েছে, যাতে কাক পক্ষীতেও টের না পায় যে এখানে তিন মাথা এক হয়েছে।  

      - "তাহলে এখন আমাদের কাজ কি?"

      - "আমাদের তেমন কিছু করতে হবে না। যা করার সুভাষ চন্দ্র বোস আর তার ফৌজ করবে। আমাদের কাজ দেশের ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলা। আর বোসের পথ সুগম করা। বিশাল ফৌজ নিয়ে এগিয়ে আসছেন বোস। কুড়ি হাজার ভারতীয় সেনা যোগ দিয়েছে বাহিনীতে। এমনকি লক্ষী স্বামীনাথনের নেতৃত্বে পাঁচশো নারী সেনাও রয়েছে। গতকাল সিঙ্গাপুরে এক প্রকাশ্য জনসভায় রাস বিহারী বোস আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব সুভাষ চন্দ্র বোসের হাতে তুলে দিয়ে, তাকে সর্বময় নেতা ঘোষণা করে, তাকে 'নেতাজী' বলে সম্বোধন করেছেন। বিভিন্ন ব্রিগেড নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশাল বাহিনী। যেমন আজাদ ব্রিগেড, গান্ধী ব্রিগেড, নেহরু ব্রিগেড, সুভাষ ব্রিগেড এবং রাণী ঝাঁসী ব্রিগেড।  আজাদ হিন্দ ফৌজ যত এগোতে থাকবে, যত লড়তে থাকবে তত লোকক্ষয় হবে, তত অস্ত্রক্ষয় হবে, ফৌজের রসদ কমতে থাকবে। আমাদের কাজ হবে যে লোকক্ষয়, যে অস্ত্রক্ষয় হবে সেটা পূরণ করা। সেনাদের খাদ্য, বস্ত্র এবং অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করা, আহত সেনাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ফৌজ ভারতে ঢুকলে আমাদের দায়িত্ব বহুগুন বেড়ে যাবে। সেইজন্য আমাদের মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। পরিস্থিতি বুঝিয়ে সাহায্য চাইতে হবে। সেই টাকা দিয়ে রসদ, অস্ত্র জোগাড় করে, যোগান দিতে হবে। গৌহাটিতে বসে এসব করা সম্ভব নয়, এরজন্য আমাদের দুর দুরান্তরে, গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে হবে। মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের দাসত্ব মোচনের জন্য যে তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে, সে কথা তাদের বোঝাতে হবে। সবাই বুঝবে না। সবাই এগিয়ে আসবে না। কিন্তু কেউ কেউ আসবে। তাদের নিয়েই এগোতে হবে। তাদের নিয়েই সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। অনেকে বিরোধিতা করবে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। সব থেকে বেশি সাবধান থাকতে হবে টিকটিকিদের থেকে। চারিদিকে টিকটিকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের মধ্যে মিশে রয়েছে। যা করার খুব গোপনে করতে হবে। আমাদের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে খুব ভেবেচিন্তে, ভালোভাবে যাচাই করে তবেই কাউকে দলে ঢোকানো হবে। না হলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।"

      - "কিন্তু আমরাতো মাত্র পাঁচজন। তারমধ্যে দুজন অর্থাৎ অরুণ আর পরাশর এখন কোলকাতায়। কবে ফিরবে তার কোনও ঠিক নেই! এই পাঁচজনেের পক্ষেতো খুব বেশি টাকাকড়ি জোগাড় করা সম্ভব হবে না!"

      - "আজ আমরা পাঁচজন।  কিন্তু সদস্য সংখ্যাতো ক্রমশ বাড়বে। আজ এখানেই কথাবার্তা শেষ করতে হবে। বেশিক্ষণ এখানে থাকা যাবে না। তিনজন একসঙ্গে এখান থেকে বের হবো না। তাহলে কারও নজরে পড়ে যেতে পারি। নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে আবার আমরা এখানে মিলিত হবো।"

      আলোচনা শেষ হলো। ঘর থেকে বেরিয়ে যে যার মত অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।


                            
দুই 


      গ্রামের ছেলে মহাদেব। বাবা, মা,ছোটো বোনকে নিয়ে তাদের চারজনের সংসার। সে এখনো বিয়ে করেনি। নিজের জমিতে চাষবাস করে। আজ চাষের কাজে না গিয়ে সে তার তলোয়ারটাকে একটা পাথরে ঘষে চলেছে, আর মাঝে মাঝে তার ধার পরখ করছে। নকুল গগৈ যেতে যেতে মহাদেবকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে। এই গ্রামেই নকুলের মাসির বাড়ি। মাঝে মাঝেই সে আসে এই গ্রামে তার মাসির বাড়িতে। মহাদেব তার সমবয়সী। আগে থেকেই আলাপ পরিচয় আছে।

      তাকে দেখে নকুল বললো, "মহাদেব, সকাল বেলায় তলোয়ারে ধার দিচ্ছো কেন? যুদ্ধে যাবে নাকি?"

      - "দেশের অবস্থা ভালো নয় নকুল। গোরারা চারিদিকে খুব অত্যাচার চালাচ্ছে। শুনলাম তিনসুকিয়ায় একটা বাড়ি থেকে দুজন মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। আমাদের গ্রামে এই খবর আসতে খুব হৈচৈ হচ্ছে। সবাই খুব আতঙ্কে আছে। আমাদের বাড়িতেও মা বোনেরা রয়েছে। সেইজন্য আগে থেকে অস্ত্রটাতে ধার দিয়ে রাখছি। যাতে বাড়িতে হামলা হলে কাজে লাগাতে পারি।"

      - "কিন্তু মহাদেব, যদি তোমার বাড়িতে হামলা হয়, তুমি একা একটা তলোয়ার দিয়ে কজনকে ঠেকাতে পারবে? গোরাদের কাছে বন্দুক আছে, লোকবল আছে। তুমি একা কিছুই করতে পারবে না। না পারবে বাড়ির মেয়েদের সম্ভ্রম বাঁচাতে, না পারবে তোমার প্রাণ বাঁচাতে।"

      কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে মহাদেব প্রশ্ন করে, "তাহলে কি করা যায় বলতো নকুল! আমরা কি পড়ে পড়ে মার খাবো? কিছুই করতে পারবো না?"

      - "কেন পারবে না? চেষ্টা করলে সবকিছুই পারা যায়। তাছাড়া এ সমস্যা কেবল তোমার একার নয়। এই সমস্যা, এই ভয়, এই আতঙ্ক এখন সব বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। তোমাদের গ্রামে অনেক ছেলে আছে, তাদের সবার সঙ্গে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করো। তাদের একজোট করো। সবাই একজোট হয়ে থাকলে কেউ তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আমাদের গ্রামে আমরা একজোট হয়েছি। রাতে পালা করে পাহারা দিই। সবাই মিলে টাকা দিয়ে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করে রেখেছি। গোরা সাহেবরা খারাপ উদ্দেশ্যে আমাদের গ্রামে ঢুকলে, প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না। আমাদের গ্রামে চল্লিশজন ছেলে আছে। গনধোলাই কাকে বলে দেখিয়ে দেবো। গোরাদের জন্য আমরা পুরোপুরি তৈরি। তোমরাও একজোট হও। গ্রামের ছেলেদের জড়ো করো। বোঝাও যে এই সমস্যা কারো একার নয়। যে কোনও বাড়িতে গোরারা হামলা করতে পারে। যে কোনো সময়ে যে কোনো বাড়ি থেকে মেয়েদের তুলে নিয়ে যেতে পারে। তখন কপাল চাপড়ানোর বদলে, আগে থেকে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেরা করে রাখো। না হলে যে কোনো পরিবার যখন তখন বিপদে পড়তে পারে।"

      - "আমি আজই সবাইকে ডেকে ব্যবস্থা করছি। আমাদের গ্রামে ত্রিশ পঁয়ত্রিশজন ছেলে আছে। আমরাও নিজেদের স্বার্থে একজোট হবো। তারপর টাকা জোগাড় করে বন্দুক কিনবো।"

      - "আগে সবাইকে একজোট করো, সংঘবদ্ধ করো। তারপর আগ্নেয়াস্ত্র কেনার কথা ভাববে। আমি আবার আসবো। শুনবো তোমাদের সংগঠনের কথা"

      সলতে পাকানোর কাজটা নিখুঁতভাবে নকুল করে দিল। সে জানে বাকি কাজটা মহাদেব করবে। নিজের গরজেই করবে।

      গৌহাটি সহরে বাস করলেও বীরেন্দ্রর আদি বাড়ি শিলচরে। মাঝে মাঝে সে শিলচরে যায়। সেখানে তাদের বাড়ি আছে। সেই বাড়িতে তার কাকা জ্যাঠারা থাকে। বাড়ি পৌছে বীরেন্দ্র তার জ্যাঠার ছেলে হরিহরের মুখে শুনলো এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে। একজন মদ্যপ গোরা সাহেব শিকারে বেরিয়ে, সারাদিন বন্দুক হাতে ঘুরে কোনো শিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে এক বৃদ্ধকে গুলি করে মেরে দেয়। ঘটনাটা শুনে রাগে উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে বীরেন্দ্র। সে বলে, "দুশো বছর ধরে আমরা গুলি খেয়ে চলেছি! এখনো যদি সচেতন না হই এভাবেই গুলি খেয়ে মরতে হবে সকলকে।"

      হরিহর পাল্টা প্রশ্ন করে, "কি করতে পারি আমরা? কি করার আছে আমাদের? যে প্রতিবাদ করতে যাবে সেই গুলি খাবে।"

      - "একজনে যে কাজ করতে পারবে না, দশজনে করো। গ্রামের ছেলেদের ডাকো, জোটবদ্ধ হও। তারপর সবাই মিলে ঐ গোরাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ো। চলো আমরা দুজনেই কাজ শুরু করি।"

      হরিহরকে সঙ্গে নিয়ে বীরেন্দ্র বেরিয়ে পড়ে। গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সে ছেলেদের বোঝাতে থাকে। তাদের একজোট হওয়ার জন্য, সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। গ্রামের ছেলেরাও বুঝতে পারে একজোট না হতে পারলে, রুখে না দাঁড়ালে সাহেবদের অত্যাচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না। কাউকে বাঁচতে দেবে না এই গোরা সাহেবরা। মেরে ফেলবে সবাইকে। এদের হাত থেকে বাঁচতে হলে মার খাওয়ার আগে পাল্টা মার দিতে হবে।

      - "একটা গোরা গ্রামে ঢুকে বেয়াদবি করলে, তোমরা ত্রিশ পঁয়ত্রিশজন ছেলে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। হায়নার মত দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করবে।"

      - "সাহেবদের কাছেতো বন্দুক থাকে বীরেন্দ্র। বন্দুকের সামনে আমরা দাঁড়াবো কি করে?"

      - "একজন সাহেবের কাছে কটা বন্দুক থাকে? কটা গুলি থাকে? বন্দুক দিয়ে সে একা কজনকে ঘায়েল করতে পারবে? দরকার হলে তোমরা গাছের আড়াল থেকে তির ছুঁড়বে, বর্শা ছুঁড়বে, পাথর ছুঁড়বে। আঘাতে আঘাতে জেরবার করে দেবে। সাহেবও গুলি চালাতে থাকবে। একসময় গুলি শেষ হয়ে যাবে। তখন তোমরা আড়াল থেকে বেরিয়ে সবাই মিলে ঘিরে ধরে আক্রমণ করবে, যাতে জ্যান্ত ফিরে যেতে না পারে। এতদিন ওরা তোমাদের আতঙ্কিত করে রেখেছে। এবার তোমরা ওদের আতঙ্কিত করে তুলবে"।

      বীরেন্দ্রর কথার মাঝেই একজন বলে উঠলো, "তোমার কথাই ঠিক বীরেন্দ্র। কাল থেকেই আমরা তির, তলোয়ারের অভ্যাস শুরু করবো। নিখুঁত নিশানায় তির ছোঁড়ার জন্য অভ্যাসের প্রয়োজন।"

      - "খুব ভালো। আমি মাঝে মাঝে এসে দেখে যাবো তোমাদের অনুশীলন। 

      বীরেন্দ্র নিশ্চিত হয় যে তার গ্রামের ছেলেরা সমস্যাটা বুঝতে পেরেছে। এবার তারা নিজেদের তৈরি করে নেবে আত্মরক্ষার জন্য।  তারপর আসল লড়াইয়ের বীজমন্ত্র তাদের দেওয়া হবে।

      পড়াশোনার জন্য গৌহাটিতে এসেছে মুকুন্দ। বাবা চা বাগানের শ্রমিক। চা বাগানের সামান্য মজুরিতে কোনও রকমে দিন গুজরান হয়। চা বাগানের সাহেব মালিক অত্যন্ত বদমেজাজী। কথায় কথায় চাবুক চালায়। আহত, ক্ষতবিক্ষত করে দেয়  শ্রমিকদের। বয়স্ক শ্রমিকরাও ছাড় পায় না। চাবুকের আঘাতে জর্জরিত শ্রমিকদের সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে সময় লেগে যায়। কাজ বন্ধ, মজুরি বন্ধ, গরীব শ্রমিকরা দেনায় জর্জরিত হয়ে যায়। কঠিন সমস্যার মধ্যে দিন কাটে তাদের। অনেক দিন হলো মুকুন্দর বাবা টাকা পাঠায়নি। টাকার জন্য মুকুন্দ বাড়ি যায়।

      চারিদিক শুনসান। রাস্তাঘাটে লোকজনের চিহ্ন নেই। পুরো পরিবেশটা যেন থমথম করছে। বাড়ির কাছে পৌছে একটা গোঙানির শব্দ পেল মুকুন্দ। মনে হচ্ছে শব্দটা তার বাড়ির ভেতর থেকে আসছে। দৌড়ে গিয়ে সে ঘরে ঢোকে। দেখে তার বাবা বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তার মা মেঝেতে বসে কাঁদছে। মুকুন্দকে দেখে  কান্নার বাঁধ ভাঙলো তার মায়ের। কি হয়েছে জানতে চায় সে। অনেক বার জিজ্ঞাসা করার পর তার মা বলে, "চা বাগানে উৎপাদন অনেক কম হওয়াতে গোরা মালিক রেগে গিয়ে চাবুক দিয়ে প্রচন্ড মেরেছে শ্রমিকদের। সেই মারে মারাত্মক আহত হয়েছে অধিকাংশ শ্রমিক।"

      মুকুন্দ জানতে চায়, "তাহলে কাল কারা চা বাগানে কাজ করবে?"

      - "সাহেব হুমকি দিয়ে গেছে, গ্রামের সব জোয়ান ছেলেদের কাল বাগানে যেতে হবে। কাজ করতে হবে।"

      ছিটকে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় মুকুন্দ। চিৎকার করে তার বয়স্যদের ডাকতে থাকে, "রঘু, নীলকান্ত, ব্রজেশ্বর কোথায় তোরা? 

      মুকুন্দর ডাকে তার বয়স্যরা হাজির হলে, মুকুন্দ তাদের প্রশ্ন করে, "তোরা কাল চা বাগানে কাজে যাবি?"

      - "তাছাড়া কি করবো? নাহলেতো চাবুক খেয়ে ঘরে শুয়ে থাকতে হবে।"

      - "সেতো কাজ করতে গেলেও চাবুক খেতে হবে। তোরা কি এভাবেই মরবি বলে ঠিক করেছিস?"

      - "কি আর করবো! সাহেবতো কাল আসবে বলে গেছে। সবাইয়ের ঘাড় ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে যাবে!"

      - "সাহেব একা তোদের এতজনের ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে যাবে! তোরা সবাই মিলে পারবি না সাহেবের ঘাড় ধরতে?"

      - "কি বলছিস মুকুন্দ!"

      - "মেরুদন্ড সোজা করে ভেবে দেখ, আমাদের ভিটে, আমাদের মাটি, আমাদের দেশ। অথচ সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে কয়েকটা লাল মুখো বাঁদর এসে দিনের পর দিন আমাদের ওপর চাবুক চালাবে আর আমরা মেনে নেব!"

      - "তাহলে আমরা কি করবো?"

      - "আপাতত হাতে লাঠি তুলে নে। সাহেবের চোখে চোখ রেখে পরিস্কার অস্বীকার কর চা বাগানে কাজ করতে। তারপর দেখ কি হয়।"

      - "কিন্তু কাজ না করলে খাবো কি?"

      - "উল্টো দিক দিয়ে ভেবে দেখ, কাজ না করলে তোরা যেমন মজুরি পাবি না, তেমনি বাগানের মালিকেরও ব্যবসা চলবে না। চা উৎপাদন না হলে বাগান রেখে তার কি লাভ? দলবদ্ধভাবে একবার শক্ত হয়ে দাঁড়া, দেখবি সাহেব নুয়ে পড়বে। নিজের দোষ স্বীকার করবে। আহত মানুষদের ক্ষতিপূরণ করবে। তোদের একটু শক্ত থাকতে হবে। অভাবের তাড়নায় ভেঙে পড়লে চলবে না। তোরা শক্ত থাকলে, সাহেব ঝুঁকে পড়বে। তোরা ভেঙে পড়লে সাহেবের চাবুক চলতে থাকবে। কি করবি তোরা ভেবে দেখ, পড়ে পড়ে মার খাবি, নাকি রুখে দাঁড়াবি।"

      - "রুখে দাঁড়াবো। অনেক মার খেয়েছি। আর মার খাবো না। এবার পাল্টা মার দেবো।" ভিড়ের মধ্যে থেকে  বলে ওঠে একজন। 

     ক্রমশ ভিড় বাড়ছে মুকুন্দদের ঘিরে। প্রায় পঞ্চাশ জন যুবক এসে জড়ো হয়েছে। ক্রমশ শক্ত হচ্ছে তাদের চোয়াল। বদ্ধ হচ্ছে মুষ্ঠি। সবাই ঠিক করলো কাল একটা ফায়সালা করবে সাহেবের সঙ্গে। যে যার বাড়ি থেকে লাঠি, বর্শা, তির, ধনুক বের করে আনলো। তৈরি হলো সাহেবের মুখোমুখি হওয়ার জন্য। 

      পরের দিন সকাল। গ্রাম জুড়ে থমথমে ভাব। প্রতিটা বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ। উৎকন্ঠার সঙ্গে সময় গুনছে গ্রামের মানুষ। এই বুঝি সাহেব এলো, অবাধ্য ছেলেগুলোর ওপর বেপরোয়া হয়ে চাবুক চালাতে শুরু করলো। ভাবতে ভাবতেই ঘোড়ায় চেপে সাহেব এলো। এসেই হুঙ্কার ছাড়লো, "হেই ইয়ং মেন, হয়ার আর ইউ অল? কাম আউট ফ্রম হোম অ্যান্ড কাম উইথ মি অ্যাট গার্ডেন।"

      মুকুন্দ বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। হাতে লাঠি। সে উত্তর দিলো, "নো মিষ্টার এলিসন। নো বডি ইস রেডি টু গো উইথ ইউ।"

      - "হোয়াই?"

       - "বিকজ লার্জ নাম্বার অফ পিপল অফ দি ভিলেজ আর হাইলি ইনজিওরড। দে নিড ট্রিটমেন্ট। অ্যাট ফার্স্ট ইউ হ্যাভ টু বেগ অ্যাপলজি অ্যান্ড কমপেনসেট ফুললি। দেন আদার পিপল উইল থিঙ্ক অ্যাবাউট ইয়োর গার্ডেন।"

      মুকুন্দর কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে এলিসন সাহেব। বলে, "হু দ্য হেল ইউ আর? আই নেভার সিন ইউ অ্যাট হেয়ার।"

      - "আই অ্যাম মুকুন্দ। সন অফ ইনজিওরড শ্যাম সুন্দর হাজারিকা। বাট হু আর ইউ? হোয়াট ডু ইউ ডু অ্যাট হেয়ার? গো ব্যাক ইওর কান্ট্রি।"

      উদ্ধত সাহেবের চাবুক ধরা হাত শূন্যে উঠলো। শূণ্যে উঠলো মুকুন্দর হাতে ধরা লাঠি। সেইসঙ্গে শূণ্যে উঠলো মুকুন্দর পাশে এসে দাঁড়ানো আরো দশ বারোজন যুবকের হাতের লাঠি। প্রমাদ গুনলো সাহেব। ঘোড়া ঘুরিয়ে ফিরে গেল। যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে গেল, "আই উইল কাম ব্যাক সুন।"

      কিছুক্ষণ পরে সাহেব আবার ফিরে এলো। এবার তার হাতে চাবুকের বদলে বন্দুক। সঙ্গে দশজন লাঠিধারী রক্ষী। অবশ্য ইতিমধ্যে মুকুন্দ তার মোর্চা গুছিয়ে নিয়েছে। এলিসন সাহেব গ্রামে ঢুকে শূণ্যে গুলি ছুঁড়লো। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বাড়ির, বিভিন্ন গাছের আড়াল থেকে ছুটে আসতে লাগলো ঝাঁকে ঝাঁকে তির, বর্শা, পাথর। কিছু তির বিঁধলো ঘোড়ার গায়ে, সাহেবের শরীরে। পাথরের টুকরোতে ফাটলো সাহেবের কপাল। তার হাত থেকে খসে পড়লো বন্দুক। একজন আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে লাথি মেরে বন্দুকটাকে অনেক দুরে সরিয়ে দিলো। ত্রিশ জন ছেলে লাঠি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লো লাঠিধারী দশজন রক্ষীর উপরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রণে ভঙ্গ দিয়ে লাঠি ফেলে পালালো রক্ষীরা। গনপিটুনী খেয়ে সাহেবও গ্রাম ছাড়লো।

      এলিসন সাহেব প্রথমে ভেবেছিলো আইনি ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তার শুভাকাঙ্খীরা তাকে বিরত করলো। বোঝালো যে এখন সময়টা ইংরেজদের পক্ষে অনুকূল নয়। তাছাড়া আইনি ব্যবস্থা নিলে বেশ কিছুদিন চা উৎপাদন বন্ধ থাকবে। আখেরে লোকসান হবে। ওসব না করে একটা সমঝোতা করে নেওয়া ভালো। পরিস্থিতি বুঝে সমঝোতার পথে হাঁটলো এলিসন। জয় হলো মুকুন্দর। মুকুন্দ তার বয়স্যদের বললো, "দেখলিতো এরা সব কাগজের বাঘ। একটু রুখে দাঁড়ালেই এদের জারিজুরি শেষ। তবে যতদিন এরা এদেশে থাকবে, ততদিন আমাদের উপর অত্যাচার চালাবে। এই দেশ থেকে এদের সমুলে উপড়ে ফেলব হবে।"

      - "কিভাবে?"

      - "সেটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। দেশ নায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস বিরাট সেনা বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। যখন ঐ বিশাল বাহিনী ভারতে ঢুকবে, তখন ঐ বাহিনীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তোরা হাত বাড়াবিতো?"


                          
 তিন 


      মুকুন্দ, বীরেন্দ্র, নকুল তিনজন আবার মিলিত হয়েছে নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ে। ভুমিকা ছাড়াই মুকুন্দ বলতে শুরু করলো, "একদিন আমার মনে সংশয় ছিল যে আমরা মাত্র তিনজন কতটা কি করতে পারবো! আজ হিসাব করে দেখা যাচ্ছে যে কয়েকশো যুবককে আমরা বাস্তব পরিস্থিতিটা বোঝাতে পেরেছি। অত্যাচারী ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করে দিতে পেরেছি। তারা সর্বশক্তি দিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি দেশের জন্য, জাতির জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে তারা প্রস্তুত। আসামের বিভিন্ন জেলায়, গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা আমাদের সদস্যরা গৌহাটির আসে পাশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।"

      মুকুন্দ থামতেই বীরেন্দ্র বলতে শুরু করে, "আমার কাছে খবর এসেছে যে আমাদের দুই সাথী অরুণ এবং পরাশর কলকাতা থেকে বেশ বড় অঙ্কের রসদ এবং বেশকিছু সদস্য সংগ্রহ করে গৌহাটির পথে রওনা দিয়েছে। এছাড়াও বিহারের পাটনা, উড়িষ্যার কটক, এবং উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ সংগঠিত হতে শুরু করেছে। অর্থাৎ আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারতে ঢোকার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। অন্য দিকে মণিপুরী, কুকি, নাগা যুবকরাও সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেছে। অতয়েব আমাদের স্বাধীনতা কেবল সময়ের অপেক্ষা। এবং..."

      বীরেন্দ্রর কথার মাঝেই নকুল বলতে শুরু করে, "বিশ্ব যুদ্ধের পরিস্থিতি এখন চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপান ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে। মিত্র শক্তি ক্রমশ পিছু হটতে শুরু করেছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতি জাপানের সমর্থন যেমন আছে। তেমনি রসদ যোগানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের দখল করা আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপ দুটো তারা আজাদ হিন্দ ফৌজকে দিয়েছে। নেতাজী এই দ্বীপ দুটোর নতুন নামকরণ করেছেন 'শহীদ' এবং 'স্বরাজ'। সামরিক অভিযানের সুবিধার জন্য ভারতের নিকটবর্তী রেঙ্গুনে সামরিক দপ্তর গঠিত হয়েছে। রেঙ্গুন থেকে নদী, পাহাড়, অরণ্য পেরিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ পায়ে হেঁটে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে। পিঠে সামরিক বোঝা নিয়ে প্রতিদিন তারা কুড়ি পঁচিশ কিলোমিটার হাঁটছে। আজাদ হিন্দ ফৌজ এখন আরাকানের পথে।"

      সারা দেশ আনন্দে মেতে উঠেছে। ঘরে ঘরে উৎসব হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মস্থানে প্রার্থনা চলছে আজাদ হিন্দ ফৌজের সফলতার জন্য। দেশের যুব সমাজ মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দেওয়ার জন্য।  দেশের হয়ে লড়ার জন্য। এরমধ্যে রেডিও মারফত খবর এসেছে আজাদ হিন্দ ফৌজ আরাকান দখল করেছে। এগিয়ে আসছে ইম্ফলের দিকে।

      প্রত্যেক দিনই আজাদ হিন্দ ফৌজের অগ্রগতির খবর আসছে। বিভিন্ন জেলায়, গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মহাদেব, হরিহর, রঘু, নীলকান্ত,  ব্রজেশ্বরের মত  শয়ে শয়ে ছেলেরা বাড়ি ঘর ছেড়ে গৌহাটির আসে পাশের অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে সংগঠনের পরবর্তি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যত এগিয়ে আসছে আজাদ হিন্দ ফৌজ, তত কোনঠাসা হচ্ছে ইংরেজ তথা মিত্র শক্তি। মহাদেব, হরিহররা আর গোপনে নয়, প্রকাশ্যে রাস্তায় এসে 'জয়হিন্দ' ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলছে।

      আবার এসেছে সাফল্যের খবর। আবার উদ্বেলিত দেশ। আবার গগনভেদী 'জয়হিন্দ' স্লোগানে মুখরিত ভারত বর্ষ। ভারতের সীমানায় প্রবেশ করে ব্রিটিশদের মৌডক সেনা ছাউনিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালায় আজাদ হিন্দ ফৌজ।  ব্রিটিশ সেনারা ভয়ে অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। প্রচুর অস্ত্র করায়ত্ব হয় আজাদ হিন্দ ফৌজের। তারপর আরও সাফল্য। কোহিমা দুর্গ দখল করে আজাদ হিন্দ ফৌজ। কোহিমা ডিমাপুর রোডের একটা ক্যান্টনমেন্ট করায়ত্ব হয় আজাদ হিন্দ বাহিনীর। এরপর মণিপুরের দিকে এগোতে থাকে বাহিনী। মণিপুরের বেশ কিছুটা অংশ অধিকৃত হয় বাহিনীর। মণিপুরের মৈরাংয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। এবার শুরু হলো ইম্ফল দখলের লড়াই। দীর্ঘদিন ধরে চললো লড়াই। আজাদ হিন্দ বাহিনী প্রায় তিন মাস অবরোধ করে রাখে ইম্ফলকে।

      আচমকাই পট পরিবর্তন হলো বিশ্ব যুদ্ধের এবং বিশ্ব রাজনীতির। একই সঙ্গে পরিবর্তিত হলো ঋতুর। এলো বর্ষাকাল। প্রচন্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগে রসদের যোগান প্রায় বন্ধ। খাদ্য, বস্ত্রের অভাব সেইসঙ্গে বিষাক্ত কীট পতঙ্গের উপদ্রবে পরিবেশ ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে ওঠে আজাদ হিন্দ ফৌজের পক্ষে। অন্যদিকে মিত্র শক্তি প্রচন্ড আক্রমণে দখল করে নেয় বর্মার উত্তরাঞ্চল। জাপান বাহিনী রেঙ্গুন ছেড়ে পালায়। রেঙ্গুন চলে যায় মিত্র শক্তির দখলে। ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজের পক্ষে লড়াই চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইংরেজ বাহিনী কামান, ট্যাঙ্ক এবং আকাশ পথে আক্রমণ করে দিশেহারা করে তোলে আজাদ হিন্দ ফৌজকে। ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজ অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। 

      আজাদ হিন্দ ফৌজের পরাজয়ে হতাশ হয়ে পড়ে বীরেন্দ্র, মুকুন্দ, নকুল, মহাদেব, হরিহরের মত সারা দেশের হাজার হাজার, লাখ লাখ তরুণ যুবক। তাদের মুখে একটাই প্রশ্ন "আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে স্বাধীনতার জন্য?"

      না, বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র দুবছর পরে ভিন্ন পথে এসেছিল স্বাধীনতা। তবে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবল ঝড় ইংরেজদের ভারতে রাজত্ব করার স্বপ্ন এবং মনোবলকে চুরমার করে দিয়েছিল।


                          ।। সমাপ্ত ।।



      ==========================

                দেবাংশু সরকার,
               M.G.ROAD, BUDGE BUDGE,
               KOLKATA  - 700137.


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। দি ওয়াল- রাহুল দ্রাবিড় ।। আনন্দ বক্সী

দি ওয়াল- রাহুল দ্রাবিড়  আনন্দ বক্সী  ঠান্ডা মাথা, সরল হাসি, ভদ্র আচরণ  যাঁর ব্যাটিং দক্ষতায় মজে সবার মন,  ধৈর্য আর একাগ্রতার যিনি নিদর্শন  ভারতবাসীগণের তিনি অতি আপনজন,  ইন্দোরে জন্ম হলেও কর্নাটকে বাস  ক্রিকেট খেলে ছড়িয়ে দেন ধরাধামে সুবাস, শরদ দ্রাবিড় পিতা তাঁর পেশায় কারবারি  মাতা পুষ্পা,গৃহবধূর ছেলে সে দরকারি, যাঁর ব্যাটিং দেখতে মাঠে জমতো সে কী ভিড় ক্রিকেটপ্রেমী জনের প্রিয়, সে রাহুল দ্রাবিড়। বারো বছর বয়সে তাঁর ক্রিকেটে হাতেখড়ি  স্কুলের হয়ে ভাসান প্রথম তাঁর ক্রিকেট তরি। বিশ্বনাথ ও তারাপোরে দেন ক্রিকেট-দীক্ষা  সঙ্গী হলো জীবনে তাঁর তাদের সে শিক্ষা। কর্নাটকের হয়ে তিনি ঘরোয়া খেলা খেলে  নির্বাচকের সামনে  প্রতিভা ধরেন মেলে। ওয়ানডের জাতীয়দলে পেলেন তিনি ডাক  কিন্তু যেন কোথায় একটা থেকেই গেল ফাঁক।  শুরুটা তাঁর হলোনা ভাল শ্রীলঙ্কার সাথে  বাড়ালেন সময় আরও নিজের কসরতে।  ইংল্যান্ডে ঘটল তাঁর টেস্ট-অভিষেক  এমন খেলা খেললেন যে পেলনা কেউ ঠেক। লর্ডস মাতিয়ে দিলেন তিনি দুর্দান্ত খেলে  আউট হয়ে ফ...

কবিতা ।। অতুলনীয় গোলরক্ষক--লেভ ইয়াসিন ।। আনন্দ বক্সী

  অতুলনীয় গোলরক্ষক--লেভ ইয়াসিন  আনন্দ বক্সী  রাশিয়ায় জন্ম যে তাঁর দরিদ্র পরিবার  তাঁর খেলাতে সারা বিশ্ব হয়েছিল তোলপাড়।  খেলাধুলার ক্ষমতা ছিল তাঁর নয় হেলাফেলা  গোলকিপার হয়ে বিশ্বে দেখালেন তিনি র‌্যালা।  যাঁর খেলাতে মুগ্ধ ছিল ডাক্তার থেকে চাষি  লেভ ইয়াসিন নামেই তাকে চিনলো বিশ্ববাসী।  সৈন্যদলে দিলেন যোগ বয়স যখন কুড়ি  ক্রীড়াশৈলী দেখিয়ে তিনি করলেন মনচুরি। সব খেলাতেই ছিল তাঁর কমবেশি উৎসাহ  ফুটবলকেই করেন শেষে জীবনে চলার রাহ। সেনাদলের হয়ে করেন হকির শিরোপা জয়  আইস হকিতেও খ্যাতির রাখলেন পরিচয়।  মস্কো ডায়নামোজ ক্লাবে শুরু ফুটবল খেলা  তাঁর প্রতিভা প্রকাশ পেল গড়ালো যত বেলা। হঠাৎ পাওয়া সুযোগটা লাগালেন তিনি কাজে  দর্শকরা মুগ্ধ হলো তাঁর সে খেলার ঝাঁঝে। পরিশ্রমের মধ্যে তাঁর ছিলনা যে কোন ছল  পাখির মতো উড়েই তিনি বাঁচিয়ে দিতেন বল। মন মাতানো খেলা দেখিয়ে লাগিয়ে দিতেন তাক  খুব শীঘ্র পেয়ে গেলেন জাতীয় দলে ডাক। সবার মনে জায়গা পেল তাঁর খেলার ধরন  বিশ্ববাসী করলো তাঁকে মুক্ত মনে বরণ। ক্লাব হোক বা দেশে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। সোনালি অতীত ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

সোনালি অতীত  প্রবোধ কুমার মৃধা   সুশীতল ছায়াঘেরা স্নেহময়ী মাটি মা।   সে আমার জন্মভূমি সপ্তপুরুষের গাঁ।   প্রকৃতির বুক থেকে প্রাণের রসদ নিয়ে।   ফিরিতাম নদীতীরে হৃদয়ের গান গেয়ে।   সন্ধ্যাতারা উঁকি দিত গোধূলি লগনে।   প্রত্যুষে ভাঙিত ঘুম বিহঙ্গ কূজনে ।   আষাঢ়ের নব মেঘে ঘিরিত গগন।   বাদলের ছায়া ঢাকা কদম্ব কানন।   দলবেঁধে মাঠে-বাটে বেতালা-বেছন্দে।   কেটে যেত সারাদিন ভালো কভু মন্দে।   ডাক দেয় শিশুকাল, বাল্য ও কৈশোর।   অফুরন্ত প্রাণোচ্ছ্বল, আনন্দে বিভোর।   করমের স্রোতে ভেসে সংসারের হাটে।   ভিড়িল জীবনতরী নগরের ঘাটে।   ফিরিবার সাধ্য নাই ফেলে আসা পথে।   বাল্য রোমন্থন করি অতীত স্মৃতিতে।                    __________ 

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

হালখাতা ।। সেখ জিয়াউর রহমান

  হালখাতা সেখ জিয়াউর রহমান সবারই বুকের বাঁ পকেটে একটা হালখাতা রাখা থাকে সেখানে লেখা -  মিনুর মা'কে চার চামচ নুন, ছোট জা বোনের বিয়েতে মিনাকরা বড়ো নেকলেসটা নিয়ে একমাস পর ফেরত দিয়েছিলো, কেউ লিখে রাখে - "ঠাকুরপো ওই দিকেই তো যাবে তোমার দাদার খাবারটা একটু নামিয়ে দেবে!" আরও কত কী- রামুর ভূষিমাল দোকানে একশো টাকা বাকি সেও হালখাতার কার্ড পাঠিয়েছে,মলিন কাগজে গণেশের ছবি ছাপা, দেবে তো সেই দশ বারোটা বোঁদে একটা নিমকি আর একটা গজা সবই হিসাবে বাঁধা! আচ্ছা মেঘ তো কোনোদিন কার্ড পাঠায়নি! চুড়ুই পাখি,  নাম না জানা ওই ফুলটা সন্ধেবেলা মন ফুরফুরে করে দেয় যে  বা ওই সাঁওতালি বাঁশিওয়ালা! হিসেবের খাতায় কত পাওনা জমা হলো   কে জানে! তোমার-আমার হিসেব খোলা খাতা — পাতা উল্টালেই দেখি কত না-দেওয়া, কত না-পাওয়া এই খাতা কখনো যেন বন্ধ  না-হয়, নইলে কোনো একদিন তুমি খাতা ছুঁড়ে ফেলে বলবে— "আমার জন্যে কী করেছো?" তখন— সমস্ত না-লেখা ভালোবাসা, সব গোপন স্পর্শ, সব নিঃশব্দ পাশে থাকা— হাওয়ায় ভেসে যাবে, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো একটি শূন্য হিসেবের সামনে... ................................... সেখ জিয়াউর রহমান...