Skip to main content

গল্প ।। সন্তান ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী

সন্তান

প্রণব কুমার চক্রবর্তী


          আলেয়া ? অ আলেয়া ?
          ঘরে বসে টিভি দেখতে দেখতে হঠাৎ মহিউদ্দিন সাহেব পাগলের মতো চিৎকার করে  উঠলেন । স্ত্রীর নাম ধরে হাঁক দিয়ে বলে উঠলেন - কোথায় গেলেগো ? একবার চটজলদি এদিকে এসো । দ্যাখো একটা দারুন খবর ! আমাকে এক্ষুনি ওইসব পোশাকগুলো পরতে হবে । মোটেই দেরি করা যাবে না ।
          আগে বসতেন না । ইদানিং কিছুদিন হলো টিভির খবরের আগে টুক টুক করে এসে ঘরে একটা টেনে নিয়ে চেয়ারে বসেন । খবর দেখেই আবার উঠে নিজের ঘরে চলে যান । কারো সাথে কথা বলেন না । মনে হবে যেন কথা বলাটাই উনি ভুলে গেছেন । 
          ভদ্রলোক  কিন্ত এমনটা ছিলেন না । সেনা বাহিনীতে চাকরি করতেন । ভেতরে এবং বাইরে উনি ইস্পাতের মতো শক্ত ছিলেন । চাকরির সূত্রে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন । বাড়িতে খুব কমই থাকতেন । তবে , যতক্ষণ থাকতেন বাড়ি এবং এলাকার লোকজনের হৈ চৈ করেই সময় কাটাতেন । কখনো সখনো স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেটিং করতে বেরুতেন , আবার ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা থাকলে ছেলেদের সঙ্গে - বিশেষ করে ছোটটার সঙ্গে ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখতেন, আর মাঝে মধ্যেই স্ত্রীকে ডেকে বলতেন - কি গো বাড়ি থেকে কি চা অর কফির পাট উঠে গেছে ? এতক্ষণ খালিমুখে বসে আছি । ওগুলো না হলে কি খেলা দ্যাখার কোনোও আনন্দ পাওয়া যায় ?
          ছোট ছেলে সমিউদ্দিন বাবার কথায় সায় দিয়ে মাকে বললেই , মায়ের কাছে বকুনি আর গালি শুনতে হতো । মা আর ছেলের ঝগড়া শুনে মহিউদ্দিন সাহেব মুখ টিপে হাসতেন আর গোটা ব্যাপারটাকে চুটিয়ে উপভোগ করতেন । আলেয়াও শেষ পর্যন্ত চা কিংবা কফি বানিয়ে এনে দিয়ে বলতেন - লাই আর আসকারা দিয়ে ছেলেটাকে একেবারে নষ্ট করে দিচ্ছ ।  তোমাদের দেখে তো বুঝার উপায় নাই যে , তোমরা দুই বাপ আর ব্যাটা ! মনে হয় একদম সমবয়সী বন্ধু । কই একবারও তো দেখিনা ওকে লেখা পড়ার কথা বলছো ? ওর ভবিষ্যতটার কথা কি একবারও চিন্তা করেছো ?
          মহিউদ্দিনবাবু বরাবরের স্পোর্টস ম্যান , তার উপরে সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন, সব সময় জীবনটাকে একটা বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অভ্যস্ত । স্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলতেন - ভেবোনা গিন্নী । দেখো , ছোটটাই তোমার বড় ছেলের থেকে ভালো হবে । নাম করবে । তোমার মুখ উজ্জ্বল করবে ।
          আসলে মহিউদ্দিনবাবু ভালোই জানতেন যে  , বড় ছেলে সুজাউদ্দিন ছোটছেলে সমিউদ্দিনের থেকে সব কিছুতেই ভালো । মায়ের কথামতো সে কনভেন্ট ইস্কুলে ইংরেজীতে পড়াশুনা করেছে । অনর্গল ইংরেজীতে কথা বলতে পারে । দারুন স্মার্ট । ইচ্ছে আছে , এখানে পড়া শেষ করে ও ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় গিয়ে পড়াশুনা করবে এবং সেটেল্ড হবে । মোদ্দা কথা , একজন উঠতি বাংরেজ সাহেব হয়ে উঠেছে ! ছোটটার ওসব হবার কোনোও ইচ্ছে বা মনোবৃত্তিই নেই । ওকে মাকে ম্যাম আর বাবাকে কোনদিনই ড্যাডি বলে ডাকতে পারবে না ।
          দাদার সাথে তুলনা করলেই সামিউদ্দিন রেগে উঠতো । বলতো - ছাড়না ওসব আলোচনা ।কারোও সাথে তুলনা করাটা ওর ভীষন অপছন্দ । ওর বিশ্বাস একজনের সাথে অন্য আর একজনের তুলনা করাটা মোটেই উচিৎ নয় । এটা সবাই মন থেকে মেনে নিতে পারে না । বিশেষ করে এক ভাইয়ের সাথে অন্য ভাইয়ের তুলনা । ওতে একজনের মনে অন্য জন সম্পর্কে ঘৃণা , বিদ্বেষ এবং শত্রুতার সৃষ্টি হয় । বিভেদের বেড়া তৈরি হয় । কথাগুলো বলে সামিউদ্দীন ভাবতো মা বুঝি কষ্ট পাচ্ছে । তাই , পরক্ষনেই মাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠতো - মা ? তোমার তো দুটো ছেলে । তুমি তো দারুন ভাগ্যবতী । দাদা বিলেতে গেলে আমাকে তো এখানে থাকতেই হবে -  তোমাদের দুটো বুড়ো বুড়িকে দেখভাল করার জন্য । তাছাড়া , এই দেশ , এই ঘর বাড়ি , বংশ পরম্পরার স্মৃতি , সবকিছুকে একজনকে তো বহন করতেই হবে ! সেটা না হয় করার জন্য আমিই এখানে থেকে যাবো , কি বলো ? দাদা , দাদার মতো চলুক । আমাকে আমার মত চলতে এবং থাকতে দাও ।

                               ( দুই )

          মহিউদ্দিন বরাবরই একটু অন্য ধরনের মানুষ । বহিঃকেন্দ্রিক । একসট্রোভার্ট টাইপের !
          সারাক্ষণ শুধু দেশ অর দশের জন্যই তার চিন্তা । নিজের ভাষা , নিজের গ্রামের ছেলেমেয়ে , লোকজন , তাদের শিক্ষা , সামাজিকতা , সভ্যতা এবং সংস্কৃতির উপরে তিনি সবথেকে বেশী শ্রধ্যাশিল । সব সময় মনে করেন - যে সমাজে তিনি বসবাস করছেন , দিন গুজরান করছেন , সেই সমাজের উপরে তার একটা আত্মিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং কর্তব্য রয়েছে । সেই কারনেই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করবার পরে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও উনি যাননি । পশ্চিমী দেশগুলোর এই ভারতীয়দের ব্রেন ড্রেন করে নিয়ে যাওয়াটাকে ভদ্রলোক ভয়ংকর ঘৃণার চোখে দেখতেন । সেই কারনেই দেশে থেকে গিয়েছিলেন । 
          ভিয়েতনামের যুধ্যে সেই দেশের মানুষের দেশপ্রেম , ওর মনে একটা স্বদেশ প্রেমের চেতনা এবং দেশের জন্য কিছু একটা করার চিন্তা এবং ইচ্ছে জাগিয়ে তুলেছিলো । নিজেকে আর সরিয়ে রাখতে পারেনি । সেনাবাহিনীতে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন । বড় ছেলে সুজাউদ্দিনকেও সেইমতো বুঝিয়েছিলেন । কিন্তু , ওর ওই কথাকে কোনো রকম মূল্যই দেয়নি । দেশী হয়ে বিদেশীনাটাকেই সে বেশী পছন্দ করে ।
          ছোট ছেলে সমিউদ্দীন তাই মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে বেশি প্রিয় । বুঝেছিলেন , বড়টা নয় ছোটটাই সুখে দুঃখে বাবা মায়ের পাশে থাকবে । সেইমতো স্ত্রীকে নিজের ধারণাটা জোর দিয়ে জানিয়ে বলতেন - আমার কথাটা ভবিষ্যতে মিলিয়ে নিও । কিন্তু , স্ত্রী ওর বক্তব্যকে মোটেই পাত্তা দিতেন না । 
          সুজাউদ্দিন যেদিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ওকে আমেরিকায় পাড়ি দেবার কথা বলতে এসছিলো , সেদিন  ভদ্রলোক একটু মনক্ষুন্নই হয়েছিলেন । রাগ আর মনের দুঃখটা চেপে রাখতে নাপেরে একটু কটু কথাও ছেলেকে শুনিয়ে দিয়েছিলেন । রাত্রে খাবার টেবিলে বসে বাড়ির উত্তাপটাকে পরিমাপ করে , সমিউদ্দিন একটা প্রলেপ দেবার উদ্দেশ্যে দাদাকে বুঝতে চেষ্টা করেছিলো । কিন্তু , তাতে কোনও লাভ হয়নি । সুজাউদ্দিন বিরক্তির সুরে বলেছিলো - থাম তুই । তোকে বাবার হয়ে আর উমেদারি করতে হবে না । তুই কি বাবার মাউথ পিস হয়েছিস ? তুই চুপ কর , নাহলে আমি বাধ্য হবো খাওয়া ছেড়ে উঠে যেতে ।
          শুরু হয়ে গিয়েছিলো দুই ভাইয়ের মধ্যে ভয়ংকর তর্ক বিতর্ক ! মহিউদ্দিন আর আলেয়া কারোরই ব্যাপারটা ভালো লাগেনি । খাবারের টেবিলের পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে , ওরা স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেই একটা অস্বস্তি বোধ করা শুরু করেছিলেন । মহিউদ্দিন বড় ছেলেকে কিছু না বলে ছোটো ছেলের দিকে ঈষৎ অসন্তুষ্টির চোখে তাকাতেই , ও বলে উঠেছিলো - বাবা ? তুমি যেন রিটায়ার করার পরে কেমন যেন পাল্টে গিয়েছ । শারীরিক তো বটেই , মানসিক ভাবেও কেমন যেন দুর্বল হয়ে পরেছো । একটা টিপিকাল ফাদার হয়ে উঠেছে । আমরা যে বয়সের দিক থেকে বড় হয়েছি , আমাদের যে একটা নিজস্ব অভিমত আছে , সেটা মানতেই চাইছো না ! তুমি কতদিন আর আমাদের কোলে আগলিয়ে নিয়ে বসে থাকবে ? আজ না হোক আগামী কাল তো আমাদের বাইরে কাজে যেতেই হবে । সেদিন তুমি কি করবে ? যেতে দেবে না ? বাড়িতেই বেঁধে রাখবে !
          মা এবং বাবা সেদিন অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলো ।
          - দাদা বিলেতে গেলে তো তোমাদেরই ভালো হবে । সমিউদ্দিন ঠোঁটের ফাঁকে একটা ছোট্ট হাসির ঝলক তুলে বলেছিলো - মাঝে মাঝে তোমরা ওই দেশে গিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে । তুমি কত প্যান্ট এবং হয়ত আর মা গাউন এবং হয় - হিল জুতো পরে বিলেতের রাস্তায় হা ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াবে ! ভাগ্যে থাকলে , আমারও হয়তো দাদার দৌলতে বিদেশটা দ্যাখা হবে । দাদা চলে গেলে , আমিতো এখানে থাকছি । তোমাদের মৃত্যুর পরে দাফনের কবলা পরানো আর মাটি দেয়ার জন্য । ছেলে হিসেবে একজনের তো ওই কাজটা করতেই হবে ।
          ওনারা আর সুজাউদ্দিনকে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে বাধা দেননি ।

                              ( তিন )

          যতো দিন যাচ্ছিল মহিউদ্দিনবাবু কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে পড়ছিলো ।
          একদিকে সুজাউদ্দিনের চিন্তা যেমন ওকে কুরে কুরে খাওয়া শুরু করেছিল , অন্য দিকে এন অর সির ভীতি ! জীবনটা ক্রমশ যেন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে !  প্রত্যেকটা মানুষকে প্রমাণ করতে হবে যে , সে ভারতীয় নাগরিক ! না হলে , এই দেশের নাগরিকত্ব থেকে নাম কেটে "ডি ভোটার" করে  "ডিটেনশন ক্যাম্পে" বন্দী করে রেখে দেবে !  ঝামেলা ! লাখ লাখ মানুষ যারা একশ দেড়শ বছর ধরে অবিভক্ত ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে বসবাস করছে , যে জায়গাগুলো আগে অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল এখন ভারত স্বাধীন হবার পরে সেই দেশটা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে , সেখানকার সব্বাই বর্তমানে ভারতের নাগরিক । অথচ , ওইসব মানুষজনকে বলা হচ্ছে - হয় তাদের নিজেদের না হয় তাদের বাপ , ঠাকুরদা প্রমুখর জন্মের কাগজ , ঘরবাড়ি এবং জমি জমার কাগজ , দলিলপত্র , ইত্যাদি দ্যাখাতে হবে । অন্যথায়  তাদের "ডি ভোটার" করে "ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে গিয়ে বন্দী করবে ! এ কি এক উঠকো ঝামেলা !
          মহিউদ্দিন সাহেবের বাবা , ঠাকুরদা , বৃদ্ধ ঠাকুরদা , সব্বাই আসামের এই ধুবুরি জেলাতেই নিজের বাড়িতে জন্মেছিলেন ।  বাপ , ঠাকুরদা এবং বৃদ্ধ ঠাকুরদা তো দূরের কথা , তাদের কারোর নিজেদেরই জন্মের কাগজ পত্র নেই । কারণ , সেই সময় কেউই হাসপাতালে বা " নার্সিং হোমে " জন্মাত না । বাড়িতে ধাইয়ের হাতে জন্মাত। তাই , জন্মের কাগজ পত্র তারা কোথা থেকে পাবে ? এখন সেগুলো কিছু দেখাতে  পারছে না বলেই , প্রশাসনের লোকজন মানতে চাইছে না যে , তারা বংশ পরম্পরায় একশ বছরেরও বেশী ভারতের নাগরিক ।  প্রশাসনের লোকজনকে নিজের অবিভক্ত ভারতবর্ষের সেনা বাহিনীতে কাজ করার উপযুক্ত কাগজ পত্র দেখিয়ে বুঝবার যে চেষ্টা করবেন , সেটাও সম্ভব হচ্ছে না ! কারণ , গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদীর বার কয়েক বন্যায়  সেসব ধুয়ে মুছে কোথায় যে চলে গেছে , তার পাত্তাই পাওয়া যায়নি । আসলে , সেই সময় তেমন ভাবে কেউ আর ওগুলো জোগাড় করার চেষ্টা I করেনি । ভাবেইনি যে ওগুলো ভবিষ্যতে কোনোও কাজে লাগবে !
          যেদিন ভারত স্বাধীন হয়েছিল , দিল্লীর লালকেল্লায় ভারতের প্রথম প্রধান মন্ত্রী তেরঙ্গা জাতীয় পতাকাকে উত্তোলন করেছিলেন , কর্নেল মহিউদ্দিন সাহেব তখন সেইখানে হাজির থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছিলেন । কিন্তু , সেটাও এখন ওর কাছে নেই । বাড়ির দেয়ালে ফটো ফ্রেম বাঁধিয়ে টাঙিয়ে রেখেছিল । সেটাও বন্যার জলে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে !  ওইসব ঘটনার গল্প এখন আসামের বর্তমান প্রশাসনের কাছে বলতো যেন সবটাই কাকস্য পরিবেদনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ! সরকারি তরফ থেকে মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে চিঠি এসেছে - অবিলম্বে ভারতবর্ষের মাটিতে তিনি যে জন্মেছেন তার সেই জন্মের কাগজ পত্র বা বাপ ঠাকুরদার বাড়ির এবং জমি জমার দলিল ও কাগজ পত্র না দ্যাখাতে পারলে , ভোটার লিস্টে ""ডি ভোটার"" করে দেওয়া হবে এবং ""ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে আটকে রাখা হবে !
          কি সাংঘাতিক ব্যাপার ! প্রায় এক শতাব্দী কালেরও অধিক সময় ধরে আসামের এই ধুবুরিতে বসবাস করছে এবং নিজে প্রায় পঞ্চান্ন বছরের মতো প্রথমে ব্রিটিশ ভারতীয় পরে স্বাধীন ভারতের মিলিটারিতে  চাকরি করে উনিশশ বাহাত্তর সালে রিটায়ার করেছেন । তাকেও আজ প্রমাণ করতে হবে যে , সে কি সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিক !
         ব্যাপারটা মহিউদ্দিন সাহেবকে কুরে কুরে খাওয়া শুরু করেছে । মাঝে মাঝে ভাবেন চিৎকার  করে কেঁদে আল্লাহকে বলবেন , এই অপমান এবং যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছে না ।  দয়া করে উপরে নিয়ে যাও । এই রকম ভারতবর্ষ তো আমরা দেখতে চাইনি ! জীবনে ভাবতেও পারিনি যে , জন্মসূত্রে এই ভারতের নাগরিক হয়েও আমাদের আবার নতুন করে প্রমাণ দিতে যে আমরা অনুপ্রবেশকারী নই । সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিক !
          মাঝে মাঝে বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে  একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখতেন - কিছুটা দূরে বিরাট এলাকা জুড়ে চলছে - এন আর সীর শিকার হওয়া "ডি ভোটারদের" জন্য "ডিটেনশন ক্যাম্প" তৈরির কাজ । যারা ওই ক্যাম্প তৈরির কাজ করছে , সবথেকে দুঃখের বিষয় তারা নিজেরাই জানেনা যে , ওই ক্যাম্পেই হয়তো তাদের নিজেদের মা , বাবা কিংবা ভাই বোনকে বন্দী থাকতে হবে । এ যেন হিটলারের সেই ইহুদিদের " কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প" ! বন্দী শিবির !
          এইভাবে কি বাঁচা যায় ! ক দিন এইভাবে মনের সাথে লড়াই করে , সে দিন কাটবে ? একদিন তো ওইসব কাগজ পত্র দ্যাখাতে হবে ! না দ্যাখাতে পারলে ওকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবেই । সেদিন কি হবে ?  কথাগুলো ভাবলেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে ।  একটা চিন চিন ব্যথা অনুভূত হতে থাকে ।
          ময়দানে দাঁড়িয়ে লড়াই করার লোক হয়েও রিটায়ার্ড সেনা আধিকারিক মহিউদ্দিন মোল্লা উঠে গিয়ে বিছানায় শুয়ে শুধু আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকেন ।

                                ( চার )

          সেদিন মহিউদ্দিন সাহেব ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন ।
          হটাৎ আলেয়া হাতে চায়ের কাপটা নিয়ে ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে - কি গো ? তুমি কি ঠিক করেছো যে , বাড়ির টেলিফোনটা আর ঠিক করবে না ? আজ প্রায় আট না হয়ে গ্যালো লাইনটা খারাপ হয়ে পড়ে আছে । আমি সুজার কোনোও খবরই পাচ্ছি না । আগে তবু তুমি বাইরে যেতে , বুথ থেকে ফোন করে খবর নিয়ে এসে আমাকে জানাতে । এখন তো সেটাও বন্ধ করে দিয়েছো ।  বলতে পারো, আমি কি নিয়ে থাকবো ?
          আসলে , বড় ছেলে ভিনদেশী বিদেশিনীকে বিয়ে করার খবর শোনার পর থেকেই মহিউদ্দিন সাহেব নিজের ভারতীয় জাত্যাভিমানে প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছেন । কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না । ব্যাপারটা শুনলে আলেয়া ভীষন কষ্ট পাবে । তাই , বাড়ি ফিরে ভদ্রলোক নিজেই ইচ্ছে করেই টেলিফোনের আই এস ডির লাইনটা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন । ভেবেছিলেন , ব্যাপারটা সময় করে ছোটছেলে সমিউদ্দিনকে বলে রাখবেন । কিন্তু , এইসব এন আর সি , ডি ভোটার এবং ডি ক্যাম্পের  চিন্তা আর ঝামেলায় সবটাই উনি ভুলে গিয়েছেন । বলা আর হয়ে উঠেনি ।
          ওদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যখন টেলিফোনের ব্যাপারটা নিয়ে কথা হচ্ছিলো , তখনই  কোথা থেকে সমিউদ্দন ঝড়ের মতো উড়ে এসে হাজির হয়েই দুম করে বলা শুরু করলো - বাবা ? তুমি কেনো বাড়ির টেলিফোনের লাইনটা ঠিক করাচ্ছো না ? কতদিন ওটা অকেজো হয়ে পড়ে আছে ? মা দাদার সাথে কথা বলতে পারছে না । ঘরেবসে সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে । হয় ওটা ঠিক করাও , না হয় মাঝে মাঝে মাকে নিয়ে বাইরে গিয়ে রাজুর টেলিফোন বুথ থেকে দাদার সাথে মাকে কথা বলাও , এবং নিজেও বলো ।
          মহিউদ্দিন ছেলের মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন । কেন যেন ওর মনে হচ্ছিলো - এ তো সেই সমিউদ্দিণ নয় !  যাকে সে চেনে এবং জন্য !  যাকে নিয়ে ওর অনেক উঁচু ধারণা ! ...
          সমিউদ্দিন আরোও কিছু বলতে চাইছিলো , কিন্তু আলেয়াই ওকে থামিয়ে দেয় ।
          হঠাৎ যেন মহিউদ্দিন সাহেবের ধর্য্যর  বাঁধ ভেঙে পড়ে ! চিৎকার করে বলে উঠলেন - ইডিয়েট একটা ? তুমি পারো না টেলিফোন অফিসে গিয়ে লাইনটা ঠিক করাতে ? পারো না সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে  আমাদের এই শতাব্দী প্রাচীন বাড়ি , জমি - জমার সব পুরাতন রেকর্ড , কাগজ - পত্রগুলো জোগাড় করে আনতে ? এন আর সির এনকোয়ারিতে তো ওগুলো না দ্যাখাতে পারলে আমাকে আর তোর মাকে "ডি ভোটার" করে দেবে ! "ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে গিয়ে আপাতত ঢোকাবে ! পরে অনুপ্রবেশকারী বলে এই দেশ থেকে বের করে দেবে ! আমি বুড়ো মানুষ , এই শরীর নিয়ে কোথায় , কর কাছে দৌড়াবো ? আমি যে সেনা অফিসার ছিলাম , সেটা কেউ শুনতেই চাইছে না ।  চাকরি বাকরির তো চিন্তা নেই । দিব্যি ঘরের খেয়ে বনের মোষ তারাচ্ছ । এগুলো তো করতেই পারো ?
          আলেয়া আর বসে থাকতে পারেনি । উঠে ধমক দিয়ে ছেলেকে সরিয়ে দিয়ে স্বামীকে বলেছিলো - দেখলে তো তোমার আস্কারাতেই সমিউদ্দীনের  বারোটা বেজেছে ! এখন আর ওকে দোষ দিয়ে লাভ কি ? ওতো জানেই না - কাকে কখন কি কথা বলতে হয় !

                               ( পাঁচ )    

          পরের দিন সকাল থেকেই সমিউদ্দিনকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি ।
          থানা পুলিশ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ খবর করে ওর কোনোও খোঁজ পাওয়া যায়নি । মহিউদ্দিন সাহেবের বাড়ি এখন যেন একটা মৃত পাষাণ পুরি হয়ে উঠেছে !
          বৃদ্ধ মহিউদ্দিন সাহেবের এখন প্রতিদিন সন্ধ্যেয় টিভিতে খবর শোনাটা একটা অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে । চুপ চাপ খবরটা শুনেই উঠে নিজের ঘরে চলে যান । বছর তিনেকের মতো ওদের দুই ছেলের কারোর সাথেই যোগাযোগ নেই । এন আর সিতে জমা দেওয়া বা দ্যাখনোর মতো কোনোও কাগজ পত্র এখনও তিনি জোগাড় করে উঠতে পারেননি । যে কোনোদিন "ডি ভোটার" ডিক্লেয়ার হয়ে যাবেন এবং পুলিশের লোক এসে বাড়ি থেকে ধরে "ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে যাবে ! আলেয়ার সেই সময় কি হবে ! ও তো জীবনে কোনদিন একা একা থাকেনি ! কে ওকে দেখবে ! ....
          সেদিনও সন্ধ্যে বেলায় মহিউদ্দিন সাহেব ঘরে বসে টিভির সংবাদ শুনছিলেন । হঠাৎ , খবরের মাঝে একটা "স্ক্রলিং নিউজের ক্যাপশন" ভেসে উঠলো ।  কাশ্মীরে পাক হানায়  ভারতীয় সেনা হত ।  ঘোষক বলে চলেছেন -  "কাশ্মীরের কুপোওয়রের রাস্তায় ভারতীয় সেনা বাহিনীর কনভয়ের উপরে পাক সন্ত্রাসবাদীদের একটা সংগঠিত হামলাকে , বীর সেনা জওয়ান সমিউদ্দিন মোল্লা একাই প্রাণ দিয়ে রুখে দিয়েছেন সমিউদ্দিন আসামের ধুবুরির ছেলে । ওনার বাবা মহিউদ্দিন মোল্লাও একসময় ভারতীয় সেনার অফিসার কর্নেল ছিলেন । বছর তিনেক হলো সমিউদ্দিন সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ।  সেনা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে , সমিউদ্দীন মোল্লার ইউনিফর্মের বুক পকেট থেকে একটা সেনা বাহিনীর সিল মারা কাগজ পাওয়া গিয়েছে , তাতে প্রাক্তন সেনা অধকারিক মহিউদ্দিন মোল্লার চাকরি জীবনে ঢোকার প্রথম "পুলিশ ভেরিফিকেশনের সার্টিফাইড কপিটা" রয়েছে । ওটাতে লেখা রয়েছে - মহিউদ্দিন মোল্লা জন্মসূত্রে অবিভক্ত ভারতবর্ষের নাগরিক । আসাম প্রদেশের ধুবুরিতে উনিশ শ এগারো সালের পাঁচই অক্টোবর জন্মেছেন । নিহত সামসুদ্দিন মোল্লার মৃতদেহটা নিয়ে ইস্টার্ন কম্যান্ডের গুয়াহাটির কোনও বড় অফিসার ধুবুরীতে গিয়ে সামসুদ্দিন মোল্লার বাবা মহিউদ্দিন সাহেবের সাথে দ্যখা করবেন এবং ওনার হাতে  টেনে নিহত বীর সন্তান সমিউদ্দীণ মোল্লার দেহ এবং উদ্ধারকৃত কাগজটিও হস্তান্তর করবেন ।
          বীর সামসুদ্দিন মোল্লা ! আসামের ধুবুরীর বাসিন্দা ! মাই ইয়াঙ্গেস্ট সন ! আমি ওকে বকাবকি করে অপদার্থ বলে বাড়ি থেকে একরকম বের করে দিয়েছিলাম । তার বডি নিয়েই গুয়াহাটির হায়ার মিলিটারি অফিসাররা এখানে আসছেন । বুঝলে আলেয়া , তোমার সামসুদ্দিনের জন্যই হয়তো আমাকে আর "ডিটেনশন ক্যাম্পে" যেতে হবে না ।           
          মহিউদ্দিন সাহেব আর ভাবতে পারছিলেন না । পাগলের মত চিৎকার করে বললেন - আলেয়া ? অ আলেয়া , কোথায় তুমি ? এদিকে একবার এসো । আলমারি থেকে আমার পোশাকগুলো সব বের করে দাও । আমাকে এক্ষুনি পরতে হবে । এটা আজ আমার কাছে দারুন খবর । তোমার ছোট ছেলে নিজের জান কুরবানি করে আমাকে আর তোমাকে এই বাপ - ঠাকুরদার বাড়িঘর ছাড়া হতে দেয়নি । আমাকে বেআইনী অনুপ্রবেশকারী বলে অপমানিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে গেলো !
          আলেয়া ছুটে এসে দেখে - দেয়ালে টাঙ্গানো ছোটছেলে সামসুদ্দিনের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ প্রাক্তন সেনা আধিকারিক কর্নেল মহিউদ্দিন মোল্লা স্যালুট করে ভারাক্রান্ত গলায় বলে চলেছেন - ব্রাভো মাই বয় ! সামসুদ্দিন , আজ আমি তোমার জন্য প্রাউড ফাইল করছি । টেন্ডার মাই হার্টিয়েস্ট রেসপেক্ট নট অনলি ফ্রম অ্যান এক্সমিলিটারি অফিসার , বাট আলসো ফ্রম অ্যান ওল্ড এজেড ফাদার ! .... সামু , আজ তুমি যে অমরত্ব লাভ করে বেহেশ্তের পথে এগিয়ে যাচ্ছো । যাও । আমি আর তোমাকে পিছন থেকে ডেকে সেই যাত্রায় বাধা দেবো না । .... তবে, সামু জেনে রেখো , ইউয়োর ফাদার ইজ অলসো গোয়িং টু মিট উইথ ইউ ভেরি শুন । ... বেহেশতে আমার জন্য অপেক্ষা করো কিন্তু । পারলে আমার জন্য একটা সিট বুক করে রেখো । .... ডোন্ট আফ্রড , সামসুদ্দিন কাশ্মীর থেকে তোমার মৃতদেহটা  আমাদের এখানে এসে না পৌঁছানো পর্যন্ত - আই উইল ওয়েট ফর ইউ । ..... তোমাকে তো এই ব্রহ্মপুত্রের পারেই তোমার পিতামহ , প্রপিতামহ এবং বৃদ্ধ পিতামহের সাথে রেখে যেতে হবে । .....
          কথাগুলো কানে যেতেই আলেয়া শঙ্কিত হয়ে  উঠলেন । এতো সাংঘাতিক কথা ! উনি এসব কি বলছেন .....



=============================

               প্রণব কুমার চক্রবর্তী
            বানীদিপ ভবন ( দ্বিতীয় তল )
            এইচ এন রোড , গোলবাগান ,
            কুচবিহার
            পিন - ৭০৬১০১



      
   














          


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শন ।। শংকর ব্রহ্ম

প্রবন্ধ               বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শন শংকর ব্রহ্ম                  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা সম্পর্কে বলেছেন, "যদি ভারতকে জানতে চাও, তবে বিবেকানন্দকে জানো। তাঁর মধ্যে যা কিছু আছে সবই ইতিবাচক, নেতিবাচক কিছুই নেই।"                  বিবেকানন্দ বুঝেছিলেন, দেশের ভবিষ্যৎ দেশের জনগণের উপর নির্ভর করে। তাই তিনি মনুষ্যত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, "আমার উদ্দেশ্য, মানবজাতিকে তার অন্তর্নিহিত দেবত্ব শিক্ষা দেওয়া এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয় তা শেখানো।"                    তিনি  বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানবতার পরিপূর্ণতার প্রকাশ। তা মানুষের মধ্যেই আছে। তার বিকাশ ঘটাতে হবে। সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে ন...

গল্প ।। তুষার মরু প্রান্তরে ।। দেবাংশু সরকার

তুষার মরু প্রান্তরে দেবাংশু সরকার          কয়েক বছর হল দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তির স্বাদ পেয়েছে দেশবাসী। লাল মুখোদের রক্ত চক্ষু আর দেখতে হয় না। সহ্য করতে হয় না বিদেশী চাবুকের আঘাত। গোরাদের ভারি বুটের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়া যায় না। সরকার জোর দিয়েছে শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে। গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ। দেশকে স্বাধীন করার, পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার যে স্বপ্ন ছিল যুব সমাজের চোখে, সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। সেই আকাঙ্খা চরিতার্থ হয়েছে। এখন যুব সমাজের চোখে দেশকে গড়ে তোলার স্বপ্ন। কৃষিকাজ, পড়াশোনা সব দিক দিয়েই সাফল্য আসতে শুরু করেছে। কেবল কৃষিকাজ বা পড়াশোনা নয় খেলাধুলাও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যুব মানসে। উত্তর, পশ্চিম ভারতে ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়ছে কুস্তির। অন্যদিকে পুর্ব, দক্ষিণ ভারতের ছেলেরা মেতে উঠেছে ফুটবল নিয়ে।       উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানার গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় মহল্লায় গড়ে উঠেছে কুস্তির আখড়া। বজরং বালীর নাম নিয়ে সেই সব আখড়ায় ভিড় জমাচ্ছে তরুণ, যুবকরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও চলত এই সব আখড়া। তখন সংখ্যায় অনেক...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

চিনা লোককথা ।। সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে ।। বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র

চিনা লোককথা সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র     জিন রাজবংশের আমলে চিনে লে-গুয়াং নামের একজন সৎ সাহসী চরিত্রবান ও বন্ধুবৎসল ব্যক্তি   বাস করতেন। এক প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ না হওয়ায় তিনি লোক পাঠিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।     বন্ধুকে দেখে লে-গুয়াং-এর চোখে জল এসে যায়। এ কী চেহারা হয়েছে তার, চোখেমুখে   দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি বন্ধুর কাছে জানতে চাইলেন, ‘বন্ধু, তুমি কি কোনো কঠিন সমস্যায় পড়েছ? তোমার মুখ এত ম্লান কেন?’ বন্ধুটি কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘গতবছর তোমার দেওয়া ভোজসভায় আমি উপস্থিত ছিলাম তোমার নিশ্চয় মনে আছে। ওই ভোজসভার দিন থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খাওদাওয়ার পরে তুমি আমার হাতে যে পানীয়ের গেলাসটি ধরিয়ে দিয়েছিলে তার মধ্যে একটি ছোট্ট সাপ উঁকি দিচ্ছিল। সেই দৃশ্য দেখার পর থেকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।’     লে-গুয়াং বন্ধুর কথা শুনে ধন্ধে পড়ে যান। তারপর বসার ঘরের চারিদিকে ভালো করে   পর্যবেক্ষণ করে দেয়ালে টাঙানো একটি সাপ-আঁকা ধনুকে তাঁর চোখ আটকে যায়। সহসা তিনি   হাহা করে হেসে ওঠেন...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...