Skip to main content

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ : বঙ্গে শৈব থেকে বৈষ্ণবীয় ধারার ভাবান্তর ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

 

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ: 

বঙ্গে শৈব থেকে বৈষ্ণবীয় ধারার ভাবান্তর

সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

                                                              ১
খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দী থেকে বাংলায় পাল রাজবংশের প্রভাব স্তিমিত হতে থাকলে সেন বংশের  আধিপত্যের উদয় ঘটে।  সেনরাজা বিজয় সেন হুগলী জেলার ত্রিবেণীর নিকট তাঁর রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। নামও দেন তাঁর নামানুসারে 'বিজয়পুর।' প্রসঙ্গত, পূন্যতোয়া ত্রিবেনীতীর্থের গঙ্গাতীরের আধ্যাত্ম রম্যতা এবং নিকটে সপ্তগ্রামের নৌ-বানিজ্যের সুবিধার্থেই এই বিজয়পুরের পত্তন। পরবর্তী সময়ে রাজা হন বল্লাল সেন। 'দানসাগর' এবং 'অদ্ভুতসাগর' গ্রন্থের প্রনেতা এই নৃপতি অত্যন্ত প্রতিভাধর ও সুপণ্ডিত ছিলেন এবং সেই ধারা আরও বেশি সম্প্রসারিত হয় লক্ষ্মণ সেনের সময়কালে। কারণ, লক্ষন সেনের রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন পঞ্চরত্ন উমাপতি ধর, শরণ, ধোয়ী, গোবর্ধন আচার্য এবং জয়দেব। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল ১১৮৫ - ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।  তারপরই তুর্কী  আক্রমণ।  শুরু হয়  অন্ধকার যুগ; বাংলা  সাহিত্যের ভাবধারার এক পট পরিবর্তনের সূচনা। 

           প্রাচীন যুগের বাংলা ভাষার সাহিত্যিক নিদর্শন 'চর্যাপদ' আর মধ্যযুগের প্রথম    নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।' একটি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধনতত্ত্ব এবং অপরটি কৃষ্ণ-রাধা বিষয়ক নাটগীতি। এর মাঝামাঝি যে অন্ধকার  রাস্তা তার নিরিখেই কি সাহিত্যের এই বিবর্তন? নাকি বাংলা  সাহিত্যের অভিমুখ পাল্টাতে শুরু করেছিল পূর্ব থেকেই। প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য  তুর্কী আক্রমণের পূর্বে  সেন বংশের  প্রথম যোগ্য নৃপতি ছিলেন বিজয় সেন। 'সেকশুভোদয়' থেকে জানা যায় তিনি প্রত্যহ শিবপূজা না করে জল গ্রহণ করতেন না।  আবার তাঁর পুত্র বল্লাল সেন,   তিনিও শৈব ছিলেন। কারন তাঁর আবিষ্কৃত তাম্র শাসনে 'ঔঁ নম: শিবায়:' নামক মহাদেব বন্দনা পরিলক্ষিত হয়।  অথচ তার পরবর্তী কিছু সময় পরই পুত্র লক্ষ্মণ সেন পিতৃসূত্রে প্রাপ্ত শৈবতাকে ছেড়ে আকৃষ্ট হন বৈষ্ণবীয় ভাবধারায়। এই প্রসঙ্গে কয়েকটি মত ও প্রমাণ প্রনিধানযোগ্য—
               ১. "লক্ষন সেনের সভায় কৃষ্ণলীলা কাহিনীর বিশেষ সমাদর ছিল।" (বাঙ্গালা সাহিত্যের   ইতিহাস— সুকুমার সেন / ১ ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯২) 
                ২. তাম্রশাসন গুলিতে লক্ষ্মণ সেন "পরম বৈষ্ণব", "পরম নরসিংহ" প্রভৃতি বিশেষনে বিভূষিত হয়ে ছিলেন দেখতে পাওয়া যায়। (হুগলী জেলার ইতিহাস— সুধীর কুমার মিত্র, পৃষ্ঠা ১৪৩)
          এছাড়া, লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালে জয়দেবের  গীতগোবিন্দের অবতারণা, যা বৈষ্ণবীয় ভাবধারার সব থেকে বড় নিদর্শন। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই ভাবধারার বিবর্তন তা রীতিমতো আলোচ্য একটি বিষয়।

                                                               ২
               আসা যাক, আলেকজান্ডারের  সময়কালে।   খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ সালে দিগ্বীজয়ী বীর আলেকজান্ডারের 'পঞ্চনদ' আবিষ্কারের পর তাঁর কাছে খবর আসে 'গঙ্গরিডয়' (Gangaridae)  নামক এক সমৃদ্ধ শক্তিশালী রাজ্যের। যার রাজধানী বাণিজ্য নগরী 'গাঞ্জী।' এই 'গঙ্গরিডয়' রাজ্যই 'বঙ্গদেশ' এবং এর রাজধানী 'গাঞ্জী' হল 'সপ্তগ্রাম।' আবার এই সপ্তগ্রাম বা সাতগাঁ 'গঙ্গা-কুন্তী-সরস্বতী'র মিলনস্থল 'ত্রিবেণী' তীর্থের পাশেই অবস্থিত। সপ্তগ্রাম লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালে মুরারি শর্মার আয়ত্বে ছিল বলেও জানা যায়। কবি কৃষ্ণরামের 'ষষ্ঠীমঙ্গল' কাব্যে দেখি — 
                                             "সপ্তগ্রাম যে ধরণী তার নাহি তুল।
                                             চালে চালে বৈসে লোক ভাগিরথী কূল
                                             শক্রজিৎ রাজার নাম তার অধিকারী। 
                                             ঠিকরয়ে কতগুন বলিতে না পারি।" 

অর্থাৎ, সপ্তগ্রামের শক্রজিৎ বংশীয় রাজার রাজত্বকালের প্রমানও মেলে সেই সময়। তবে এও সত্য ১২৯৮ খ্রি. জাফর খাঁ সপ্তগ্রাম অধিকার করে নেন। ত্রিবেণী এবং সপ্তগ্রামের দুটি দেবমন্দির তিনি ধ্বংস করে মসজিদে পরিণত করেন। পরবর্তী কালে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি পরলোক গমন করলে ওই স্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। যা বর্তমানে 'জাফর খাঁ এর দরগা' নামে খ্যাত। এই জাফর খাঁর সাথে পূর্বতন 'গঙ্গরীডয়' এর প্রসিদ্ধ জনপদ 'মহানাদ' এর একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। জাফর খাঁর পূর্ববর্তী সময় থেকেই বঙ্গে তুর্কীর আক্রমণ এক আমানিশা ডেকে আনে বঙ্গের বুকে। হিন্দু-মুসলমান বিরোধ সবিশেষ বৃদ্ধি পায়। মহানাদের অদূরে অবস্থিত পাণ্ডুয়া ছিল দিল্লীরাজ জালালুদ্দিন খিলজি ফিরোজ শাহের ভগ্নীর অধিনস্থ আবাস। আর পাণ্ডুয়ার হিন্দুরাজা সেই সময় বাস করতেন মহানাদে। জাফর খাঁ ফিরোজ শাহের ভগ্নীকে সাথে নিয়ে সেই সময় পাণ্ডুয়া ও মহানাদকে মুসলমান কারায়ত্ত করেন। আসলে, মহানাদ ছিল চিরকালীন 'নাথ-শৈব' সাধনার পীঠস্থান। জাফর খাঁ এর আক্রমণে মহানাদে যে শৈব সাধনার প্রাচুর্য ছিল তা ক্রমে স্তিমিত হয়ে পড়ে বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু চিরকালীন নাথ-শৈব সাধনার এই পীঠকেন্দ্র জাফর আক্রমণের পরই ম্লান হয়ে আসে নাকি তুর্কি আক্রমণের পূর্বে প্রাচীন  যুগেই উক্তস্থান সহ 'বঙ্গ' প্রদেশে নাথ-শৈব সাধনা ফিকে হয়ে আসে এনিয়ে গবেষণার অবকাশ থেকে যায়। আর এই প্রসঙ্গে শৈবধাম মহানাদ প্রসঙ্গও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।  

'মহানাদ' জনপদ যোগ সাধনার মহাক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল যোগাচার্য্যের সময় থেকে। পরবর্তীকালে বশিষ্ঠনাথ 'নাদ বিন্দু' যোগসাধনার জন্য এই মহাক্ষেত্রে আসেন এবং জীবন্ত সমাধি নেন।  প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রভাস চন্দ্র পালের 'নাথতীর্থ মহানাদ' গ্রন্থে এই তথ্য বিবৃত হলেও সত্যাসত্য নিয়ে কিঞ্চিত সংশয়ের অবকাশ থেকে যায়। তবে বর্তমানে মহানাদে যেখানে জটেশ্বর নাথের শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত সেখানের স্তম্ভাকৃত শিবলিঙ্গটি গুপ্তবংশীয় সম্রাট প্রথম কুমার গুপ্তের রাজত্বকালে বলে প্রমাণিত হয়। আর জটেশ্বর মন্দিরটি সম্ভবত যোগীরাজা মহেন্দ্রনারায়নের সময়কালের। সুধীর কুমার মিত্রের মতে "দেশাবলী বিবৃতি গ্রন্থে যোগীরাজা মহেন্দ্রনারায়ণের নাম লিখিত আছে, সম্ভবত তিনি এই মন্দিরের একজন মোহান্ত ছিলেন এবং সাথে মহানাদ শাসন করতেন। জটেশ্বরনাথের মোহান্তগন নাথপন্থী। তাঁরা গৈরিক বসন পরিধান করতেন এবং বিবাহ না করে চিরকুমার থাকতেন।" অর্থাৎ মহানাদ নগর যে প্রকৃতই বঙ্গের 'শৈব' ধর্মের অন্যতম সেরা পীঠস্থান একথা স্বীকার্য। পাশাপাশি নাথযোগীরা কালের অন্তরালে নাথশৈব ঘেঁষা হয়ে বৈদিক-সনাতনে বিশ্বাসী হয়ে পড়ে; যা গোটা বঙ্গদেশ জুড়েই পরিলক্ষিত হয়। (প্রসঙ্গত "কর্ণাটে দ্বাদশ শতকে নাথপন্থী বাসব কর্তৃক বীর শৈব মত প্রচারিত হয় এবং নাথেরা যে শৈবই ছিলেন একথা স্পষ্ঠ হয়ে ওঠে।"— নাথ সম্প্রদায়ের ইতিহাস, দর্শন ও সাধনপ্রণালী, শ্রী কল্যানী মল্লিক।) কিন্তু, প্রশ্ন হল এই শৈব ধর্মের প্রাচুর্যতা হারিয়ে গিয়ে বঙ্গে বৈষ্ণবীয় ভাবধারা আগমনের প্রকৃত কারন কি? উপরন্তু সেন সাম্রাজ্যের রাজধানীর অনতিদূরে মহানাদের মতো ঐতিহ্যশালী এমন একটি শৈবপীঠ থাকা সত্ত্বেও কেন এই ভাবান্তর! এই প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক সত্যবতী গিরির দুটি মত উত্থাপন জরুরি হয়ে পড়ে— 
                         ১. "একই ব্রাহ্মণ্য ধর্মের স্বীকৃত দুই দেবতা শিব ও বিষ্ণু। শৈব সেন বংশের কৌলিক ঐতিহ্য ত্যাগ করে লক্ষন সেনের বিষ্ণুতে প্রবনতান্তরনের পিছনে সময়কালের কতখানি প্রভাব ছিল তা হয়তো প্রমানের অভাবে অনুমানের বিষয় হতে পারে। কিন্তু আমাদের ধারণা তেমন কিছু প্রভাব নিশ্চয়ই ছিল।" (বাংলা সাহিত্যে কৃষ্ণকথার ক্রমবিকাশ,  পৃষ্ঠা- ৬০) 

                   ২. "আমরা অনুমান করি সেই কারণটি হল আগে থেকে কৃষ্ণকথা সাধারণ লোকসমাজে প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এই কৃষ্ণকে আশ্র‍য় করেই সেকালের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষকে সনাতন ধর্মে উদ্বুদ্ধ করা সহজতর উপায় ছিল। লক্ষ্মণ সেনের বৈষ্ণব হওয়ার পিছনে এই সামাজিক শক্তিটি ক্রিয়াশীল হয়েছে।" (বাংলা সাহিত্যে কৃষ্ণকথার ক্রমবিকাশ,  পৃষ্ঠা- ৪৮) 

শৈব ছেড়ে বৈষ্ণবীয় ধারার বিবর্তনের নিরিখে প্রাবন্ধিকের এই অনুমান কিছুটা ভাবিয়ে তোলে। তুর্কী আক্রমনের পূর্বে কৃষ্ণকে আশ্রয় করে সনাতন ধর্মে উদ্বুদ্ধ হতে চাওয়াই নাকি রাষ্ট্রনৈতিক-সাংস্কৃতিক অন্য কোনো বিষয় এই পরিবর্তনের প্রধান মানদণ্ড! সেই বিষয়টি নববিশ্লেষনের প্রয়েজন হয়ে ওঠে।


                                                                 ৩
বল্লাল সেনের শেষ জীবন অতিবাহিত হয় শাস্ত্রচর্চায়; ত্রিবেণীর গঙ্গাতীরে। আবার পিতা বিজয় সেনও মহানাদ নিকটস্থ গঙ্গাতীর 'ত্রিবেণী'র পাশে 'বিজয়পুর' এর প্রতিষ্ঠাতা। দুই পুরুষ ধরে তাঁরা অন্যত্র রাজত্বসীমা বর্ধিত করলেও ত্রিবেণী তীর্থের পুন্যার্থের ভাবনা এবং মনোরম আবহাওয়াজনিত নিজেদেরকে উক্ত স্থানেই নিয়োজিত রাখেন। পাশাপাশি 'মহানাদ জনপদ' থেকে 'সপ্তগ্রাম' পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য তৈরি হওয়া যে প্রসস্থ পথ এবং সেই পথের দুই পাশে জলপথে নৌকারোহন সহজেই সেন বংশের প্রাদেশিক যাত্রাকে সহজলভ্য করে তোলে। সেই হিসাবে ত্রিবেণী-সপ্তগ্রাম থেকে প্রসিদ্ধ মহানাদ অঞ্চলে যে তাঁদের যাতায়াত অক্ষুণ্ন ছিল তা সহজেই অনুমেয়। কারন মহানাদ প্রসিদ্ধ নগরী; তার ওপর শৈব্য ধর্মের আকরস্থান। মহানাদ অঞ্চলের গর্ভ থেকে প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রভাসচন্দ্র পাল পরবর্তীতে প্রচুর শিবলিঙ্গের আবিষ্কারই শুধু করেননি, পাশাপাশি অকপটে স্বীকারও করেছেন "গঙ্গা রাঢ়ের মধ্যে একমাত্র মহানাদেই এত  মূর্তি আবিষ্কৃত হইয়াছে যেগুলি রাজপরিবারশ্রিতও হতে পারে।" সেনদের মহানাদ যাত্রার আরোও একটি সম্ভাব্য কারণ হল মহানাদ অঞ্চলে ওই সময়ে প্রতিভাশীল শাস্ত্রজ্ঞ বিদ্বানদের জন্ম নেওয়া।  সেক্ষেত্রে বল্লাল সেনও নিজে সুপণ্ডিত এবং শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন। তাই যাতায়াতের এই যোগসূত্রকে অস্বীকার করা নিছকই অপ্রতুলতা। সেই কালপর্বে টীকাকার শ্রীধর কর্তৃক লিখিত হয়েছে 'পদার্থ ধর্ম সংগ্রহের টীকা', জয়হরি সিংহের 'কক্ষোল্লাস', পুরুষোত্তমের 'ভাষাবৃত্তি' প্রভৃতি একাধিক প্রাচীন প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। প্রতিটি গ্রন্থই যেমন আজও আড়ালে রয়ে গেছে, তেমনই মহানাদনিবাসী এইসব গুণী লেখকেরা আজও হয়ে রয়েছেন উপেক্ষিত। যদিও পরবর্তী রাজা লক্ষন সেনের পঞ্চরত্নের আলোয় তাঁরা ম্লান হলেও পূর্ববর্তী বিজয় সেন এবং বল্লাল সেনের রাজত্বে মহানাদ অঞ্চল সহ পাশাপাশি অঞ্চলের সাথে সেনদের যোগসূত্র এবং  প্রসিদ্ধতা অস্বীকার করার জায়গা নেই।  বল্লাল পুত্র লক্ষন সেন সংস্কৃতজ্ঞ বিদ্যাচর্চার আরও প্রসার ঘটান। ত্রিবেণীর গঙ্গার ঠিক অপর পাড়ে 'নওদিয়া' ( বর্তমানে নদীয়া)  জনপদে লক্ষন সেন নিজেকে স্থিত করেন। এক্ষেত্রে 'নওদিয়া'র পাশাপাশি অঞ্চলের গঙ্গাবক্ষে নতুন নতুন পলি সঞ্জাত দ্বীপ'এর (আজও প্রচুর 'চর অঞ্চল' জেগে উঠছে) জেগে ওঠার কথাও অবিদিত নয়। লক্ষ্মণ সেনের সমসাময়িক এডু মিশ্র বলেছেন —

                                           "গঙ্গা গর্ভোস্থিত দ্বীপ দ্বীপপৌজ্ঞৈবর্হিধূত
                                            প্রতিচ্যাং যস্য দেশস্য গঙ্গাভাতি নিরন্তরম।"

কর্ণপুরের চৈতন্য চরিতামৃতে 'নবীনদ্বীপ' এর উল্লেখ দেখা যায়। আবার কৃত্তিবাস ওঝার রামায়ণে দেখা যায় —
                                           
                                                "গঙ্গারে লইয়া জান আনন্দিত হইয়া
                                                 আসিয়া মিলিল গঙ্গা তীর্থ যে নদীয়া
                                                 সপ্তদ্বীপ মধ্যে সার নবদ্বীপ গ্রাম
                                                 একআরাত্রি গঙ্গা তথা করিল বিশ্রাম।"

আসলে এই 'নতুন দ্বীপ' বা 'নবদ্বীপ' হল নদীয়া নগর। (নদীয়া বর্তমানে সম্পূর্ণ একটি জেলা এবং নবদ্বীপ তৎমধ্যবর্তী প্রসিদ্ধ নগর।)  মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের 'নবদ্বীপ ইতিবৃত্তে' জানা যায় সংস্কৃতজ্ঞ পন্ডিতদের উচ্চারিত 'নবদ্বীপ'ই,  বখতিয়ার খলজির শাসনে ফার্সি ভাষার প্রভাবে 'নদীয়া' হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নবদ্বীপেই ছিল লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী। যে স্থান চৈতন্য মহাপ্রভুর পূন্যজন্মভূমি, সেই স্থানেই লক্ষ্মণ সেন বৈষ্ণবীয় চেতনার বীজকে অন্তর্নিহিত করেন তুর্কী আক্রমণের আগে। এ বিষয়ে নিঃসন্দেহ লক্ষ্মণ সেন পরবর্তীতে বৈষ্ণব হয়ে ওঠেন। এমনকি তুর্কী আক্রমণের পূর্বে 'সস্ত্রীক বিষ্ণুমূর্তি'র পূজারও আয়োজন করেন (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস/ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৯৩), যা গোটা নবদ্বীপেই সেই সময় সুবিদিত ও প্রচারিত হতে থাকে। আবার লক্ষন সেনের সভাকবি 'পবনদূত' প্রণেতা ধোয়ী, 'সুভাষিতাবলী' খ্যাত উমাপতি ধর প্রমুখও ছিলেন নবদ্বীপ নিবাসী। তাঁরা যে উভয়েই জয়দেব দ্বারা কমবেশি প্রভাবিত যে হয়েছিলেন তা তাঁদের কাব্য অবলম্বনেই অনুমেয় হয়। আর বীরভূমের 'কেন্দুবিল্ব' নাকি উড়িষ্যার 'কেন্দ্রবিল্ব' সে প্রশ্নের থেকেও বড় জয়দেব 'কেন্দুবিল্ব'  থেকেই নিজ প্রতিভার সাথে রাধাকৃষ্ণের লীলাসুরভিত বৈষ্ণবীয়ানাকে বয়ে এনেছিলেন। যার দ্বারা দ্বাদশ সর্গে লেখা 'গীতগোবিন্দ' থেকেই বৈষ্ণবীয় রাধার সুপ্রতিষ্ঠা প্রায় পাকা হয়ে যায়। পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণের পার্থিব কামনা-বাসনা, প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ছবি ভক্তিমূলক দৃষ্টিকোন থেকে লৌকিক দৃষ্টিকোনে পর্যবসিত হয়ে বিপুল জনসমাজে সমাদৃত হতে থাকে। জয়দেব পুরাণাশ্র‍য়ী ব্রাহ্মণ্য রাজধর্মের বিষ্ণুভক্তির সাথে লৌকিক কামকেলিরত কৃষ্ণকে মিলিয়ে দেন। ফলত ব্রাহ্মণ্য তান্ত্রিক রাজসভা থেকে মরমী জনমানসের  উপভোগ্য হয়ে ওঠে এই গ্রন্থ। তুর্কী বিজয়ের পরবর্তী সাহিত্যে শত শত বছর পরেও বড়ুচণ্ডী দাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, চণ্ডীদাসের পদাবলী, সৈয়দ আলাওলের পদ্মাবতীতে গীতগোবিন্দ যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে তাতে তা যে তৎকালীন জনসমাজকে ব্যাপক প্রভাবিত করবেই তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে জয়দেব ও তাঁর এই গ্রন্থ যেমন একাধারে বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যনদের সেতুবন্ধন ছিল, তেমনই অপরপক্ষে শৈব টপকে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় আগত বেশ কিছু সংখ্যক মানুষের  গন্তব্য-ডিঙা হয়ে উঠেছিল।                      

                 দ্বিতীয়ত— 'রাঢ়', 'বরেন্দ্র' এবং 'বঙ্গ' নিয়ে গঠিত তৎকালীন বাংলাদেশের 'বঙ্গ' প্রদেশে শৈবধর্মের বাহুল্য থাকলেও 'রাঢ়'প্রদেশ মূলত ব্রাহ্মণ্যধর্মের আধিপত্যকে জারি রাখেন। রাঢ়প্রদেশের রাজা ছিলেন আদিশূর। তিনি তাঁর রাজধানীতে কনৌজ থেকে পঞ্চগোত্রের পঞ্চব্রাহ্মন এনে বসবাসের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলত ব্রাহ্মণ্যসনাতনবাদের আকরস্থান হয়ে মাথাচাড়া দেয় রাঢ় প্রদেশ। অপরদিকে বঙ্গরাজ বিজয় সেনের পুত্র বল্লাল সেনকে আদিশূরের দৌহিত্র বলে মনে করা হয় (কূলপঞ্জিকায় সেই উল্লেখ আছে)। অর্থাৎ আদিশূরের কন্যা বিলাস দেবীর সাথে বিজয় সেনের বিবাহ হয়। শৈব বিজয় সেন মহানাদের নিকটস্থ এক স্থানে সুউচ্চ, সুদর্শন মন্দির স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রকার দেবদেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে আদিশূরের আনিত ব্রাহ্মণগণ এর সহযোগে নিত্যপুজা চলতে থাকে ( ঐ স্থান বর্তমানে 'সুদর্শন' গ্রাম নামে পরিচিত হয়েছে) এবং ক্রমেই বহু দেবদেবীর পূজার্চিত বিখ্যাত আধ্যাত্ম-স্থান হয়ে ওঠে। রাজমাতা কর্তৃক বহু দেবদেবীর এই নিত্যপুজা প্রচলন এবং তার ওপর  রাজা বল্লাল সেনের  ধর্মানুশাসনহীন উদারতা থাকার ফলে যে বঙ্গে শৈব ধর্ম ছিল, যে মহানাদ নাথ-শৈবতীর্থের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল তা ক্রমে বহু দেবাশ্রিত সনাতনপন্থী হয়ে ওঠে। হরগৌরীর পাশে লক্ষীনারায়ন বিগ্রহ অঞ্চলজুড়ে পূজিত হতে থাকে। আর এক্ষেত্রে কিছু পরে বল্লাল পুত্র লক্ষণ সেনের আমলে শৈবতা কালক্রমে বৈষ্ণবীয়তার দিকেই হেলে যায়। অর্থাৎ রাঢ় প্রদেশের সাথে বঙ্গ প্রদেশের এই বিবাহসূত্রই নাথপন্থী শৈবতন্ত্র থেকে সনাতনত্বের দিকে ঠেলে দেয় বঙ্গ প্রদেশকে।

                  তৃতীয়ত— সারা বাংলাদেশের বরেন্দ্র প্রদেশ ও বঙ্গপ্রদেশে বৌদ্ধধর্ম ও নাথ ধর্মের প্রচলন ছিল। তবে মুসলমান আক্রমণের পূর্ব থেকেই এই বৌদ্ধ ও নাথপন্থীরা অত্যাচারিত হতে থাকে সনাতনপন্থীদের দ্বারা  (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র /প্রথম খণ্ড; পৃষ্ঠা- ১১১)। ফলত বৌদ্ধ ও নাথপন্থা ক্রমেই স্তিমিত হতে থাকে। আর বঙ্গপ্রদেশে শিব ছেড়ে আঁকড়ে ধরার মতো পরিচিত দেবতা ছিল বিষ্ণু। সোজা কথায় হর থেকে হরিতে আসা সনাতনত্বে উত্তীর্ণ হবার সহজ উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

                চতুর্থত— সেন রাজাদের পূর্বে পালরাজাদের সময়েই বৌদ্ধ ভাবাদর্শ ব্রাহ্মণ্য মতের সাথে মিলে যেতে থাকে। ফলত বুদ্ধদেবও সেইসময় দশম অবতার রূপে পূজিত হতে থাকেন৷ নবম-দশম শতাব্দী থেকে দেওয়ালে মূর্তি এঁকে বা মাটি দিয়ে গড়া দেবদেবীর পূজা প্রচলিত হয়। এমনকি মহাযান তান্ত্রিক উপাসনাতেও অদ্ভুত ভাবে এই প্রকার রীতি জায়গা করে নেয় (বঙ্গভূমিকা, সুকুমার সেন)। পাল পরবর্তীযুগে সেনরাজ বিজয় সেনের ব্রহ্মন ও শিবভক্তিতে রাজমুকুট প্রাপ্তির গল্প 'সেকশুভোদয়া'তে মিললে, পাশাপাশি সেখানে (সেকশুভোদয়া) বল্লালের ব্রাহ্মণ্য ভক্তির খবরও মেলে। এক্ষেত্রে সংস্কৃতিবান রাজা লক্ষনের সময়ে শৈব্ ও ব্রাহ্মণত্ব একছাতার তলায় চলে আসে। বৌদ্ধতান্ত্রিকতা এবং শৈব নাথপন্থায় 'যোগাচার' ক্রমেই পাল এবং সেনযুগ থেকে ব্রাহ্মণ্য আদলে পড়ে পুরাণাশ্রিত হয়ে পড়ে।  লক্ষন সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্রের 'ব্রাহ্মন সর্বস্ব' গ্রন্থে চণ্ডী পূজা যে ব্রাহ্মনের নিত্যকৃত্য তা বলা আছে। আসলে এই 'চণ্ডী' প্রকৃতার্থে শক্তির উপাস্য। যে শক্তি সাধনা বৌদ্ধতান্ত্রিক এবং শৈবরা করে এসেছে, তা চণ্ডীর সাথে একীভূত হতে থাকে। তন্ত্রশাসন কার্যত শাস্ত্রশাসনের অধীন হয়ে পড়ে। শাস্ত্রগত অন্য দেবতা হিসাবে শিব এর পাশে বিষ্ণু এবং গ্রাম্যদেবতার অন্যান্য লৌকিক দেবদেবীর পাশে কৃষ্ণকথার সন্নিবেশ ঘটে। তাই 'সুভাষিত রত্নকোষ' (দ্বাদশ শতাব্দী) এর সংকলক বিদ্যাকর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হয়েও 'হরি'বিষয়ক আদিরসাত্মক প্রাকৃত প্রেম কবিতাকে সংকলিত করতে পারেন। 'সুগতব্রজ্যা' (বৌদ্ধ) ব্যতীত সারাগ্রন্থ জুড়েই সেখানে হিন্দু দেবদেবীর চিত্রণ প্রকাশ পায়। বিষ্ণুলক্ষীর প্রেমলীলায় 'শাস্ত্রের বিষ্ণু' ক্রমেই কৃষ্ণকথায় পর্যবসিত হয়। লোককথায় যে কৃষ্ণ বহু পূর্ব থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে তা লক্ষন সেনের সহজাত গ্রহণে রাজউষ্ণীষ প্রাপ্ত হয়। বাঙালি বৈষ্ণবীয় ভাবধারার গোড়াপত্তন করে ফেলে। 

                     পঞ্চমত— নাথ পন্থীদের যোগসাধনা এবং শৈব ধর্মের আগল বহু পূর্ব থেকেই পৃথক রূপে পর্যবসিত হয়। মহানাদ অঞ্চল এবং পাশাপাশি অবস্থিত অঞ্চলসহ বঙ্গে  নাথ-শৈব ধর্মের যে প্রসিদ্ধতা তা শিথিল হতে থাকে। মূলত যোগজ নাথ ধর্ম পুরুষপ্রধান একটি ধর্ম-দর্শন। তাছাড়া ইন্দ্রিয়সমূহ বশে এনে দুঃখ-কষ্ট নিরোধ এইরূপ দর্শন-ভাবাদর্শিত সাধনা ধীরে ধীরে শিথিল হয়। যোগসাধনায় পরম পুরুষ ঈশ্বর হলেও সেখানে যোগ সাধনার দ্বারা কিভাবে মনের চঞ্চলতা দূরীভূত হয় তা প্রধান বিবেচ্য। কিন্তু কালক্রমে বিভূতিলাভের উদ্দেশ্যেই যোগকর্ম সম্পন্ন হতে থাকে। সেখানে আত্মার স্বরূপ সন্ধান তো দূরের কথা আত্মস্বরূপ ভুলতে বসে অনুগামীরা। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে বেদানুগত ধর্মদর্শন অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে থাকে। মহর্ষি পতঞ্জলির 'যোগ' দূরে সরতে থাকে। কারণ উভয়ই বেদস্বতন্ত্র এক ধর্মীয় ভাবধারা।
                      ষষ্ঠত—  বল্লাল সেনের আমলে তিনি নিয়ম করে ছিলেন প্রতি ছত্রিশ বৎসর অন্তর কুলিনদের নির্বাচন হবে এবং অকুলীন সদাচারী ব্যক্তি পুনরায় কৌলিন্যের অধিকারী হবে। কৌলিন্যপ্রাপ্ত দু:শীল ব্যক্তি সেক্ষেত্রে কৌলিন্যভ্রষ্ঠ হতে পারে। কিন্তু তাহার পুত্র লক্ষনসেনের রাজত্বে কৌলিন্য নিয়ে গণ্ডগোল উপস্থিত হওয়াই কৌলিন্য বংশানুগত হবে এমন স্থির হয়। ফলত ব্রাহ্ম  আধিপত্যের সমাজপতিত্বের সুযোগ চলে আসে ব্রাহ্মণের হাতে। তারা একদিকে রাজসভায় থেকে সংস্কৃত শাস্ত্রশাসিত বেদানুগত আচার-অনুষ্ঠান সংস্কৃতির বাতাবরন ছড়াতে থাকে, প্রচারের আলোয় আসতে থাকে পুরাণকথা। ফলত শিবের উপাসনায় অন্য দেব-দেবী সহজেই থাবা বসায়।

                  সেনযুগে ব্রাহ্মণ্য সম্প্রদায় কর্তৃক পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্যমতে শিবের পাশাপাশি বিষ্ণুর উপাসনা করার রীতি পরিলক্ষিত হয়। যোগ সাধানার থেকে যজ্ঞ সাধনা প্রাধান্য পেতে থাকে। বাড়তে থাকে আচার-উপাচারের দরবারী ও লৌকিক তান, কমতে থাকে আধ্যাত্বসাধনার অনুশীলন গান। খুব সহজেই লক্ষন সেনের সময় থেকে কৃষ্ণলীলার লৌকিক কাহিনীর সমাদর বাড়ে। রাজা লক্ষণ সেনও কৌলিক দেবতা সদাশিবের উপাসনা টপকে বিষ্ণুর ভক্ত হয়ে ওঠেন।

                  সপ্তমত— গুপ্ত শাসন থেকেই ব্রাহ্মণ্য উপনিবেশ স্থাপন  হতে দেখা গিয়েছিল। আগে থেকে বসবাসকারী ব্রাহ্মণ্য ডেরায় উপনিবেস্থ নবাগত ব্রাহ্মণ্যদের সুন্দর ঐক্যের মধ্যেও বিভেদ বৈচিত্র ধরা পরে সেই সময়। এক্ষেত্রে ব্রাহ্মণদের দুটি ভাগ সহজেই পরিলক্ষিত হয়। একটি প্রবীন ব্রাহ্মণদল এবং অপরটি নবীন ব্রাহ্মণদল। মূলত দেশীয় প্রবীন ব্রাহ্মণরা ততটা যোগনিষ্ঠ, তত্ত্বজ্ঞানপুষ্ট ছিলেন না কিন্তু নবীনরা ছিলেন নিষ্ঠাযুক্ত আধ্যাত্মনিষ্ঠ সংস্কৃতাশ্রয়ী। তারা প্রবীনদের মতো ভাববিলাসী ছিলেন না। সেক্ষেত্রে "শিব যখন শাস্ত্রপন্থী নবীনদের দেবতারূপে পুজ্য হতেন তখন তিনি হয়ে ওঠেন যোগীশ্রেষ্ঠ, আবার যখন তিনি ভাববিলাসী প্রবীনদের দেবতা তখন তিনি হয়ে ওঠেন ভোলানাথ; গঞ্জিকাধূস্ত,  চাষী এবং নীচ পরনারীর লোভে হীনকর্মে রত" (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস/ ১ম খণ্ড, সুকুমার সেন, পৃষ্ঠা- ৭৯)। বাংলায় ব্রাহ্মন্যবাদের মধ্যেও সংস্কৃতিগত, ধর্মবিশ্বাসগত এই মিশ্রণ শৈবসাধনার যোগপন্থা ও তন্ত্রপন্থাকে সরিয়ে লৌকিক দেবদেবীর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। শক্তি-সাধনা সরে এসেছিল প্রেমে। ফলত কংসাসুরমর্দন কৃষ্ণ বাঙালী মনে গোপাল-গোবিন্দ রুপে ঠাঁই করে নেয় সহজেই। 

                   অষ্টমত— উচ্চবিত্তরা বিষ্ণুমূর্তিতে নিত্যপূজা সম্পন্ন করতে থাকে। প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রভাস চন্দ্র পাল মহানাদ দক্ষিণ পাড়া অঞ্চল থেকে সেন আমলের তিনটি বিষ্ণুমূর্তি আবিষ্কার করেন (যা বর্তমানে সারদাচরন মিউজিয়ামে রাখা)। সুকুমার সেন আবার তুর্কী আগমনের পূর্বে লক্ষন সেনের আমলে সস্ত্রীক বিষ্ণুমূর্তি পূজার আয়োজনের কথাও বলেন। তবে 'শালগ্রাম' যেখানে দরিদ্রের সহায় সেখানে নি:সন্দেহে 'বিষ্ণুমূর্তি' রাজশ্রেণী এবং রাজকর্মচারী কর্তৃক পূজিত হত। পাশাপাশি লক্ষন সেনের সভাকবি উমাপতি ধর'এর কৃষ্ণলীলা পদ কিংবা জয়দেবের গীতগোবিন্দের ঢেউ রাজশ্রেণী ও কর্মচারীদের সংস্পর্শিত করে প্রভাবিত করলে অবাক হবার বিষয় হবে না। 

                                                          ৪
মহানাদ অঞ্চল ও পাশাপাশি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যোগ সাধানার ধারায় মোহন্তগনের উদ্ভব হয়েছিল একথা আগেই বলা হয়েছে। মোহন্ত মৃত্যুর পর তাঁদের প্রধান শিষ্যই হতেন নতুন মোহন্ত। সুধীর কুমার মিত্রের মতে, "এই মোহন্তগন উত্তর পশ্চিম প্রদেশীয় ব্যক্তি, বাঙালী নহেন।" যোগসাধনায় যেহেতু শিলা প্রাসঙ্গিক নয় তাই ধারণা করায় যায় পরবর্তীতে এই উত্তর পশ্চিম প্রদেশীয় মোহন্তরা বাঙালী ভাবধারার সাথে মিশে হয়তো শিলা প্রস্তরের অনয়ন ঘটান। সেক্ষেত্রে বৈদিক ধর্মযোগের ঢেউও এসে পড়ে। পুরুষ গ্রাম দেবতার প্রতীক — শিলাখন্ড; যা লিঙ্গরূপী। আর পাশাপাশি শক্তির আধাররূপ স্ত্রী গ্রামদেবীর প্রতীক— জোড়াঘট, যা স্তনরূপী। একটি দেবতা শিব আর অপরটি শিবশক্তির আধার রূপ চণ্ডী। একটি পৌরষ বীর্যবত্তার প্রতীক হয়ে আর অপরটি পুষ্টতার প্রতীক হয়ে জায়গা করে নিতে থাকে বাঙালী মনে। এই শিলা প্রস্তর পূজার অনয়নেই আবার প্রবেশাধিকার পেয়ে যায় 'শালগ্রাম শিলা', অর্থাৎ বিষ্ণুর আধাররূপ উপাসনায়। 

              অন্যদিকে শিবকে নাথযোগীরা 'ভৈরব', 'কালভৈরব', 'নন্দভৈরব', 'একলিঙ্গ' প্রভৃতি মূর্তিতে পূজা করে থাকতেন। 'ভৈরবমূর্তি' আবার শৈব্য ও শাক্ত উভয়েরই উপাস্য। মহানাদ জটেশ্বর মঠ সংলগ্ন ভৈরব মূর্তির নিদর্শনও পাওয়া গেছে। মহানাদ অঞ্চলের অনতিদূরে 'ভৈরবপুর' নামক গ্রামের নামও যে ওই ভৈরব উপাসনা থেকেই একথা সহজেই অনুমান করা যায়। তবে মূল বিষয় উক্ত অঞ্চলে শিব এবং শক্তি উভয় উপাসনার চল থাকলেও  কালক্রমে সেখানে সনাতন বলি প্রথার প্রচলন ঘটে। অর্থাৎ 'ভৈরব' প্রথমে নাথ-যোগ সাধনার ডিঙা টপকে পরবর্তীকালে সনাতনত্মে পৌঁছায়। আর যোগী নাথরাও সনাতনী শৈব হয়ে ওঠে অধিক ক্ষেত্রে। গুরু পরম্পরায় মন্ত্র মনে রাখার প্রনালী না থাকায় হয়তো কিছু ক্ষেত্রে পুরাণাদি কিংবা 'শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ'এর (খ্রি:পূ: ৪০০-২০০ অব্দে লেখা) সম্মুখীন হন তাঁরা। আর এভাবেই মিশ্র ধর্মদর্শন মিশ্র সংস্কৃতিতে পৌঁছায়।

                      
                                                               ৫
লক্ষ্মণ সেন অসামান্য দানশীল ও প্রজাবৎসল ছিলেন। সেইসময় দরিদ্র প্রজা এবং বিস্তীর্ণ জনপদের জনগন তাঁর বাৎসল্য প্রভাবের দ্বারা সহজেই নিজেদের ধর্মকে রাজার দ্বারা প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন। 'তবকাত-ই-নাসিবী'র লেখক মিনহাজ-উস-সিরাজ সঙ্গতভাবেই তাঁকে বাংলার 'মহান রায়' হিসাবে উল্লেখ করেন এবং তাঁর 'পরম বৈষ্ণব' উপাধি ধারনের কথাও জানান। ফলত প্রজাপ্রেমী লক্ষ্মণ সেনের বৈষ্ণবীয় ধর্ম প্রচার বাংলার বুকে যে ঢেউ এনেছিল শৈবধাম মহানাদও তার থেকে ব্যতিক্রম নয়। তুর্কী আক্রমনের বহু পূর্বেই এবং ১২৯৮-এ মহানাদে মুসলমান করমর্দনের আগেই বৈষ্ণবীয় ধারা সূচিত হয়। লক্ষনের  রাজত্বকালে মহানাদ ও তার আশেপাশের অঞ্চলে গ্রাম্য বিবাহ উৎসবের রীতিতে গ্রাম্যদেবতার বিবাহ দেওয়া হত আড়ম্বর করে। গাওয়া হত লৌকিক প্রেমের গান।  আধ্যাত্ম যোগচর্চা সরিয়ে বাঙালি সেইসময় মঙ্গলগানের লৌকিক দিককে এক করে নিতে পেরেছিল। শিবগৃহিনীর গার্হস্থ দু:খের বর্ণনা যেমন স্থান করে নিয়েছিল বঙ্গ বহির্ভূত 'প্রাকৃত পৈঙ্গল'এর ছত্রে, তেমনই বঙ্গের 'সদুক্তিকর্ণামৃতে'ও তা উজ্জ্বলরূপে প্রতীয়মান হয়েছিল। 'সদুক্তিকর্ণামৃত' তো লক্ষন সেনের  রাজপ্রতিনিধি বটুদাসের ছেলে শ্রীধর দাসের লেখা। শ্রীধর দাসের এই সংকলন গ্রন্থই যেন চিরন্তন বাংলার পল্লীজীবনের এক চিত্রিত রূপ। পরবর্তীকালে বৈষ্ণব পদসংকলনে এই গ্রন্থের ভূমিকা প্রায় বারোয়ানা। যেখানে সিংহভাগ জায়গাজুড়েই রাধাকৃষ্ণলীলার বৈষ্ণব ভাবাদর্শ প্রষ্ফূটিত হয়েছে—
           
                                            "রত্নচ্ছায়াচ্ছুরিতজলধৌ মন্দিরে দ্বারকায়া
                                             রুক্মিণ্যাপি প্রবলপুলকোদ্ভেদয়ালিঙ্গিতস্য।
                                             বিশ্ব্য পয়ান মসৃণ্যযমুনাতীরবানীরকুঞ্জে
                                             রাধাকেলিভরপরিমলধ্যানমূর্ছা মূরারেঃ।।"

আসলে ব্যক্তি শ্রীধর দাস নিজেই মহানাদনিবাসী ছিলেন। 'সদুক্তিকর্ণামৃত' ও শ্রীধর দাস যেন মহানাদ নগরীর ধূসর পান্ডূলিপিতে পরিচয় করিয়ে যাচ্ছে বঙ্গসভ্যতার। সম্মুখীন  করিয়ে যাচ্ছে শৈবতান্ত্রিক নাথ সংস্কৃতির, আলিঙ্গন করিয়ে যাচ্ছে বৈষ্ণবীয় মিলনান্তক সুর। আর আত্মঘাতী মহানাদনিবাসী, আত্মবিস্মিত বঙ্গবাসী ভুলতে বসা শ্রীধর দাসকে আজও সেই দারুচিনি দ্বীপে দেখে বলে উঠছে—
       
                         "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
                          মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের'পর
                          হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
                          সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
                          তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?"
 

                                                ————
 
 
লেখক :সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়,   কবি, গবেষক ও শব্দশ্রমিক। 
নিবাস : ভৈরবপুর, মহানাদ, হুগলী।

Comments

  1. গবেষণাধর্মী লেখাটি পড়ে ভালোলেগেছে।

    ReplyDelete

Post a Comment

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432