এক অশথ এক বট উলটো যেন ঘট
বটের ঝুরি দুয়ের গোড়ায় পাকিয়েছিল জট।
পুকুর দুই ধারে – গাছ মাঝের পাড়ে
তেঁতুল-আতা-খেজুরগাছ, ঝোপ পায়ে থেকে ঘাড়ে।
পুবে শিবের থান সবাই করে মান
তিনদিকে তিন পথ গেছে তার কল নিচে একখান।
দূর থেকে নিশান, বিশ্রামে কৃষাণ –
তার ছায়াতে জিরেন আড্ডা সারা দিনমান।
ওঠার তিনটি পথ, কেউ দ্রুত কেউ শ্লথ –
বসে-শুয়ে খেলা-খাওয়ার সে অন্য জগৎ!
বাড়ির 'পরে রাগ, পারলে মানাও বাগ!
বন্ধু বট-অশথ তো আছে, যা দেখি সব – ভাগ্।
পাকলে পরে ফল আসত অবিরল
দিনে হরেক পাখি, রাতে বাদুড় দলকে দল।
পড়ত যেই জলে, মৎস্য সদলে
হামলে পড়ে খেত সে ফল হরেক কৌশলে।
তার নিচেতে ঝাঁপ, চড়ক – বাপ্ রে বাপ্!
তার নিচেতেই সভা-সালিশ – তিরস্কার বা মাফ।
এক-এক করে ডাল ভাঙল কালে কাল
ইন্তেকালটা এল যখন আমরা বেসামাল!
* * *
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

Comments
Post a Comment