এক অশথ এক বট উলটো যেন ঘট
বটের ঝুরি দুয়ের গোড়ায় পাকিয়েছিল জট।
পুকুর দুই ধারে – গাছ মাঝের পাড়ে
তেঁতুল-আতা-খেজুরগাছ, ঝোপ পায়ে থেকে ঘাড়ে।
পুবে শিবের থান সবাই করে মান
তিনদিকে তিন পথ গেছে তার কল নিচে একখান।
দূর থেকে নিশান, বিশ্রামে কৃষাণ –
তার ছায়াতে জিরেন আড্ডা সারা দিনমান।
ওঠার তিনটি পথ, কেউ দ্রুত কেউ শ্লথ –
বসে-শুয়ে খেলা-খাওয়ার সে অন্য জগৎ!
বাড়ির 'পরে রাগ, পারলে মানাও বাগ!
বন্ধু বট-অশথ তো আছে, যা দেখি সব – ভাগ্।
পাকলে পরে ফল আসত অবিরল
দিনে হরেক পাখি, রাতে বাদুড় দলকে দল।
পড়ত যেই জলে, মৎস্য সদলে
হামলে পড়ে খেত সে ফল হরেক কৌশলে।
তার নিচেতে ঝাঁপ, চড়ক – বাপ্ রে বাপ্!
তার নিচেতেই সভা-সালিশ – তিরস্কার বা মাফ।
এক-এক করে ডাল ভাঙল কালে কাল
ইন্তেকালটা এল যখন আমরা বেসামাল!
* * *
পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

Comments
Post a Comment