Skip to main content

নিবন্ধ ।। গোকর্ণী গ্রামে বিবিমার মাঙন ও হাজত ।। অরবিন্দ পুরকাইত


মগরাহাট থানার গোকর্ণী গ্রামে 

বিবিমার মাঙন ও হাজত

 অরবিন্দ পুরকাইত

 

মাঘী পূর্ণিমায় মাঙন করে বিবিমার হাজত সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের আদত। জল-জঙ্গল অধ্যুষিত অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সুন্দরবনের ভয়ঙ্করতার দিক বোঝাতে অনেকসময় এক কথায় বলা হয়ে থাকে— জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। অর্থাৎ মানুষের কথা যদি ধরা যায়, দেখা যাচ্ছে জীবন-জীবিকার টানে তাদের প্রধান দুই বিচরণের জায়গাতেই বিরাজমান দুই মূর্তিমান নরখাদক!  মানুষের সভ্যতায় নগরের ধারণা বলতে গেলে অনেক পরের। সে ধারণা যখন বাস্তবায়িত হতে থাকল, এটাও বাস্তব হয়ে দেখা দিল যে যুগের পর যুগ মানুষের উন্নতি-প্রগতি মূলত নগরকেন্দ্রিক। গ্রাম-বনস্থলীর যতটা দেওয়ার, পাওয়ার ততটা নয়। নগর ভূমিষ্ঠ হয় না, নগর গড়ে ওঠে। মানুষই গড়ে তোলে নিজেদেরই প্রয়োজনে। সেখানে প্রকৃতির সমস্ত পূর্ব উপাদান ক্রমশ কমে আসে। প্রাধান্য পায় মানুষ এবং মানুষের প্রয়োজনীয় এবং সুখদা নানান সাজসরঞ্জাম, সামগ্রী। গড়ে ওঠে বাজার। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে, সুখের টানে দূর দূরান্তর থেকে মানুষ এসে বসত করে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে চাকরি-বাকরি জীবিকার নানান দরজা সেখানে খুলে যায়। ক্রমশ দূরত্ব বাড়ে সেই স্থানের নিজেরই পূর্বাবস্থা থেকে, তার দূরবর্তী অংশের সঙ্গে তো বটেই। দূরে পড়ে থাকে আবহমান জনজীবন, বলতে গেলে সরাসরি প্রকৃতিরই ভাঙাগড়া ধ্বংস-সৃষ্টির নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে। এই অরণ্যচর মানুষ, দেহাতি মানুষজন, এই অনেকখানি প্রকৃতির হাতে প্রতিপালিত— প্রকৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব-মিলনে বয়ে চলে সেখানে জীবন। নাগরিক সুযোগসুবিধা, আয়োজন-উপাদান, ব্যবস্থানার অপ্রতুলতায় তার নানান বিপদ-আপদ, সমস্যা-সংকটে হাতের কাছের উপাদানকে বাধ্যত অনেক বেশি গ্রহণ করে থাকে, প্রকৃতির এক-একটা শক্তিকে ভয় করতে করতে, ভক্তির মোড়কে তাকে তুষ্ট করে জীবনকে নিরাপদ করার উপায় খোঁজে মানুষ সেই প্রকৃতিরই শক্তির মধ্যে। ঝড়-ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, বজ্র-বিদ্যুৎ থেকে প্রকৃতিরই অন্যান্য জীবজন্তুও বাদ যায় না তার থেকে। জীবনযাপনের সঙ্গে বিপদ-আপদ, রোগ-শোক-জরা-ব্যাধি প্রায় আজীবনের সঙ্গী যেমন, তার থেকে রেহাই বা উপশম পেতে মানুষের চেষ্টা তথা সন্ধানও অন্তহীন। ভয় থেকে যে ভক্তি, প্রাকৃতিক বিরূপ নানান শক্তির বিরুদ্ধে যে দেবকল্পনা, তাও নানান রূপ ধারণ করে। জলজীবী-জঙ্গলজীবী-কৃষিজীবী সেই সব মানুষদের কাছের হয়ে ওঠে নিজস্ব কল্পনার, মানসের কাছের নানান দেবদেবী, সেই কাছের দেবদেবীরা তাদের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। লৌকিক দেবদেবী নামে আখ্যাত সেই কাছের দেবদেবীদের জনপ্রিয়তা কাউকে কাউকে স্থানিক থেকে বহুমান্য দেবতাদের সারিতেও পৌঁছে দেয়। সেই কাছের দেবদেবী যুগে যুগে কালে কালে জগৎজুড়ে নানান স্থানে নানান ভাবে ও রূপে গড়ে ওঠে, বিবর্তিত হয়; বিলীনও হয় কোনও কোনওটি, নতুন দেবদেবীরও আগমন ঘটে। এই দেহাতি মানুষজনের কাছের দেবদেবীকে অশাস্ত্রীয় বা অপৌরাণিক দেবদেবীও বলা হয়ে থাকে। শাস্ত্র বা পুরাণ কতদিনের, আর আবহমান মানবসমাজ! তাই শাস্ত্র হওয়ার আগে থেকে কত যে দেবদেবী কত জায়গায় প্রচলিত ছিল কোনও কোনও গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাবে, তার নিদর্শন এখনও রয়ে গেছে কোথাও কোথাও প্রকৃতিপূজা তথা প্রকৃতির কোনও কোনও সজীব বা নির্জীব উপাদানের পূজায়। যেমন, নানান রূপে পাথরপুজো। এমনকি সে পাথর পরে ক্রমশ মূর্তির রূপ পেলেও, পাশাপাশি কোথাও কোথাও রয়ে যায় পাথরখানিও। লৌকিক দেবদেবী আজও বহু স্থানেই উঁকি মারেন বহু যুগের ওপার হতে!





বনবিবি বা বিবিমা : সুন্দরবন অঞ্চলের অন্যতম প্রধান লৌকিক দেবী— সর্বাধিক জনপ্রিয়— বনবিবি বা বিবিমা। সুন্দরবনের আর এক জনপ্রিয় লৌকিক দেব দক্ষিণরায়। দেখা যাচ্ছে এই দেবী ও দেব পরস্পরের প্রতিস্পর্ধী ছিলেন। পরস্পরের লড়াই এলাকা দখলের এবং এক সময় সমঝোতাসূত্রের মাধ্যমে এলাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার মধ্যে দিয়ে পারস্পরিক সহাবস্থান। দক্ষিণরায় সুন্দরবনের অধিক আতঙ্কের নরখাদক ব্যাঘ্র ও কুমির— ভাঙা ও জলের দুই প্রধান শত্রুর দেবতা হিসেবে মান্য হয়েছেন (প্রধানত বাঘের, কুমিরের আলাদা লৌকিক দেবতা হিসাবে মান্য কালু রায়ও), আঠারো ভাটির অধীশ্বর তিনি; আর অন্যজন বাঘের দেবী হিসাবেও মান্য তো বটেই, আরও কাছের তিনি, কেন-না তিনি আঠারোভাটির সবাকার মা— তাঁকে মা বলে ডাকলে কারো নাকি আর কোনো বিপদ থাকে না।

সুন্দরবনের অঞ্চলে কাঠ কাটতে যাওয়া, মধু সংগ্রহে যাওয়া কিংবা মাছ বা মীন ধরতে যাওয়া মানুষদের কাছে বিপদ-আপদ, প্রাণসংশয়ের ভয় বরাবরই, আর তাই তারা বনে প্রবেশের আগে বনদেবী বা বাঘের দেবতা দক্ষিণরায়ের পূজা করে যায় বনের মধ্যে।

বিবিমা বিষয়ে বিস্তৃতি বা বিশ্লেষণে যাওয়া এ লেখার উদ্দেশ্য নয়, প্রাসঙ্গিক অল্প দু—একটি কথা বলে নিয়েই যাব আমাদের মূল বিষয়ে। গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু বলেছেন যে বনবিবি আদিতে বনদেবী। 'বনবিবির স্বরূপ সম্বন্ধে লোকসংস্কৃতি বা লৌকিক দেবতা বিষয়ে গবেষক এবং তাঁর পূজ্য ধারণা'র কয়েকটি উল্লেখ করেছেন তিনি, যেমন, 'ইনি হিন্দুদেবি – বনদুর্গা, বনচণ্ডী, বনষষ্ঠী বা বিশালাক্ষী; মুসলমান প্রাধান্য কালে বনবিবি হয়েছেন।' 'হিন্দু-মুসলমান ধর্মচিন্তার সমন্বিত বা মিশ্রিত অরণ্যদেবী।' 'ইনি আদি পাঠান যুগের কোন মুসলমান সাধিকা ও ইসলামধর্ম প্রচারিকা অভিজাত মহিলা ছিলেন, সে কারণে প্রথমে মুসলমান সমাজে বহুজন পূজ্য হন, পরে ভক্তির প্রাবল্যে দেবি পদে উন্নীত হন।…' ইত্যাদি। তিনি এও লিখেছেন যে বনবিবির মূর্তি  দু'রকম, মুসলমান ও হিন্দু অঞ্চলে আকৃতি ও বেশভুষায় পার্থক্য দেখা যায়। বনবিবিকে নিয়ে একাধিক কেচ্ছা বা কাব্য রয়েছে। মরহুম মুনশী মোহম্মদ খাতের প্রণীত বোন বিবী জহুরা নামা-তে বর্ণিত হয়েছে:

 'বোন বিবী শাজঙ্গলি ভাই বহিনেতে ।। যে রূপে হৈলেন পয়দা বনের বিচেতে * যে রূপেতে মক্কা হৈতে গমন করিয়া ।। বাদাবনে ভাটি মধ্যে পৌঁছেন আসিয়া * যে রূপেতে নারায়ণীর সঙ্গে কিয়া রণ ।। আসিয়া ভুরকুণ্ড বিচে করেন আসন * যে রূপেতে ভাটিশ্বর ভ্রমিয়া আখেরে ।। হাট মধু বসালেন বনের ভিতরে * যে রূপেতে ধোনাই মোনাই দুই জনে ।। সপ্ত ডিঙ্গা লিয়া যায় মধুর কারণে * যে রূপেতে দুখেরে দক্ষিণ রায়ে দিয়া ।। কেঁদো খালি হৈতে আইসে মোম মধু লিয়া * যে রূপে বোন বিবী শুনে হয়ে দয়াবান ।। দুখের বিপদ কালে করেন আজান * যে রূপে দুখেরে পেয়ে ধন কড়ি দিয়া ।। কুম্ভীরের পীঠ পরে ছওয়ার করিয়া * দয়ার জননী দয়া কোরে নিজ গুণে ।। পৌঁছাইয়া দিল ঘরে দুখের কারণে * দুখে সে পাইয়া ধন হৈল দেশে রাজা ।। চালে চলে বসতি হইল সব প্রজা *।' এর পর বলছেন, 'বিপদে পড়িয়া বনে যেই জন ডাকে ।। মা বলিয়া বোন বিবী দয়ার মাতাকে * উদ্ধারে তাহার তরে আপনার গুণে ।। মায়ের জহুরা কত লিখিব এখানে * বয়ান করিয়া এই সব বিবরণ ।। লিখিব পিছেতে এবে শোন সর্ব্বজন *।'

 স্বগ্রাম : সুন্দরবন অঞ্চলে মাঘী পূর্ণিমায় বাড়ি বাড়ি মাঙন করে বিবিমার হাজতের যে আদত, বৃহত্তর সুন্দরবনের অংশ হিসেবে আমাদের এই মগরাহাট থানা এলাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। আজও খোলা আকাশের নিচে কোনও লৌকিক দেবস্থান দেখলে বহুদূরের জনজীবনের অস্পষ্ট আলোছায়া ভাসতে থাকে যেন চোখে! উজিয়ে গিয়ে বহু দূরের আমাদের তস্য অগ্রজদের সান্নিধ্য অনুভূত হয়। যদিও আজ অনেক স্থলে মাথার উপর ছাউনি বা ছাদ, মাটির ঢিবি থেকে মাটি-পাথর-ধাতুর মূর্তি, কিন্তু কোথাও কোথাও আজও রয়ে গেছে যেন অনেকখানি সেই আদিম আদল বা আদতের আভাস। মূর্তি হিসাবে পূর্ব বা পরিবর্তিত রূপে অথবা চালা বা মন্দির হিসাবে পরিবর্তিত রূপের মধ্যেও— আচার-পদ্ধতির রূপান্তর সত্ত্বেও— কোথাও কোথাও প্রাচীন চিহ্নাদি আজও অবলুপ্ত হয়নি একেবারে। আমাদের পুরকাইত পাড়ার পূর্বে মিস্ত্রিপাড়ার উত্তরে বিবিমার থান রয়েছে, রয়েছে পশ্চিমে জলমপুকুর— অন্য নামে, দখিনমাটান (মাঠান) বা দখিনপাড়ায়ও। রয়েছে গোকর্ণী বাজারের পশ্চিম পাশে। এই তিন জায়গাতেই বাৎসরিক বিবিমার গানও হয়। আমাদের পুরকাইত পাড়া থেকে মাঙন করে, প্রথমে এই বাজারের পাশের থানে এবং ফেরার পথে মিস্ত্রিপাড়ার থানে হাজত দেওয়া হয়।

মাঙনে বেরোনো : স্নান করে উপবাসী থেকে মাঙুনে বা মাঙুনীরা বের হন ছোটখাটো একটি দলে, তাতে বয়স্ক মহিলা থেকে অল্পবয়সি বধূ বা পাড়ার বালিকা-কিশোরী। গলায় খড় বেঁধে মাঙন করতে বেরোনো। এই খড় বাঁধা কিন্তু বাড়িতে নয়, উক্ত বাজার পার্শ্বস্থ বিবিমার থানে। ধোয়া কলাপাতার উপরে ধোয়া খড় কয়টি রাখা হয় বিবিমায়েদের সামনে। তারপর প্রণাম করে এক-একটি এক-একজন গলায় পরে নেয়। মাঙন করতে বেরোনোর সময় গলায় এই মালাটি থাকে না, কয়েক ঘর মাঙন করতে করতে থানে গিয়ে মালাধারণ পর্বটি সেরে নেয় সবাই। আবার কেউ এক-দুজন আগেভাগে চলে গিয়ে থানে ওইভাবে ঠাকুরের সামনে রেখে প্রণাম সেরে তুলে নিয়ে এসেও দলে ভিড়তে পারে। তারপর প্রত্যেকে একটি করে পরে নেওয়া। এই খড়ের মালা ধারণ করে সারাদিন উপবাসী থেকে মাঙুনেরা মাঙন করে ফেরে গোকর্ণী তো বটেই, প্রতিবেশী ঘনশ্যামপুর, মাখালিয়া, হংসগেড়িয়া, মাইতিরহাট ইত্যাদি গ্রামগুলোতে— যতটা হাঁটা সম্ভব আর কি। কষ্ট তো কম নয়— পথ হাঁটা, মাঙনের ধান-চাল বওয়া। আগে ধানও নেওয়া হত, পরে সাধারণত কেবল চালই নেওয়া শুরু হয়। ধান নেওয়ার কালে ধান ও চালের জন্যে আলাদা আলাদা খড়া নিয়ে বেরোতে হত। তা এসবের সঙ্গে সঙ্গে আছে সময়ে কুলিয়ে ওঠার ব্যাপার। শেষ বিকেল, সন্ধ্যার মুখে বা সন্ধ্যার ঠিক পরেপরেই তো ফিরতে হবে। কেন-না তার পরেই তো বাকি থাকে আসল কাজটি— বিবিমার থানে গিয়ে হাজত দেওয়া। সে কথায় আসছি।

প্রতিবেশী-মিলনের এ এক মাহেন্দ্রক্ষণ : ভাবা যায়, নিজেদের গ্রাম সংলগ্ন দু-তিনটি গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বিচরণ এই সূত্রে! ওই যে সময়ে কুলানোর কথা বলা হচ্ছিল, তার অন্যতম এক কারণ হল পরস্পরের কুশল বিনিময়, খোঁজখবর ইত্যাদি। মাঙুনে দলের কারও কারও আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব— ব্যক্তি, পরিবার বা পাড়াসূত্রে, যেমনই হোক— কোনও কোনও পাড়ায় থাকলে পর বাড়তি সময় সেখানে পারস্পরিক কুশল বিনিময়, গল্পগুজব, সংসার-পরিবার-পাড়ার খোঁজখবর। এ এক অনবদ্য প্রতিবেশী-সংযোগ! বিশেষত গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে— ভাবলে ভাল লাগে বই-কি! ছোটবেলায় দেখেছি, কোনও কোনও বয়স্ক মহিলার ঘোমটা খসার ভয় থাকলেও, ঘরে ঘরে ঘোরা এবং খোঁজখবরে কার্পণ্য না থাকা। কোনও কোনও বাড়িতে শুধু মাঙন নিয়ে চলে গেলেই হবে না, সাদরে পেতে-দেওয়া ঝেঁদলা-মাদুরে একটু বসতে হবে। কত সংবাদ সংগ্রহ বা পরিবেশন! কার বাড়ির কে কেমন আছে, কার ছেলেমেয়ে কয়টি এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা-কাজকর্ম বা বিয়ে-থার খবর। শুধু ওই মাঙনকালীন সময়ে তা সীমাবদ্ধ থাকে না, বাড়িতে ফিরে সেসবের গল্পগাছা, আলাপ-আলোচনা— দীর্ঘ রেশ রেখে যায় তা। এতদঞ্চলের অনেক বিবাহিত মহিলার বাপের বাড়ির ও তার আশপাশের দু-একটি গ্রামের অনেকখানি স্মৃতি বিবাহ-পূর্ব তাদের মাঙনে-যাওয়ানির্ভরও।

মাঙনের কম-বেশি : পরিচিত মহলে মাঙন তুলনায় বেশি মেলে। আমার মা যেমন প্রায় প্রতি বছরই যেত মাঙনে, মাঙুনে দল বিশেষ করে চাইত মাকে, লাগোয়া ঘনশ্যামপুরে মায়ের বাপের বাড়ি এবং এ বাড়ি ও সে বাড়ি সূত্রে আরও একাধিক পাড়ায় মায়ের পরিচিতি। মায়ের দৌলতে মাঙন বেশি পাওয়া যেত বলে গল্প করত ঠাকুমা-জেঠিমা-কাকিমারা। প্রসঙ্গত, মাঙনের পরিমাণ অর্থাৎ মাঙন-সামগ্রী মেলার পরিমাণ এইরকম পরিচিতি, পথ হাঁটা, একটি পাড়া থেকে কয়টি দল বেরোলো এসবের উপর বেশ খানিক নির্ভর করে। সবাই যে খুব আদর করে মাঙন দেয় তা নয়, এই সময়টা একের পর এক দল ঢোকায় মনে মনে বিরক্তও হয় কেউ কেউ। অনেকের হয়তো আবার চাষ নেই, কেনা চাল। কারও কারও অবস্থা ভাল হলেও, কেবল সৌজন্য রক্ষা। অসৌজন্যও। মানসিকতা, বিশ্বাস ইত্যাদির ব্যাপার। কোনও কাজে ব্যস্ত বলে ঘুরে আসতে বলাও আছে। 'নয়াপয়সার দল' অর্থাৎ কেবল অল্পবয়সি মেয়েদের দেখলে মাঙন কম। কেউ কেউ আগত দলের পাড়া জেনে নিয়ে, তাদের পাড়া থেকে ইতিমধ্যে অন্য দল এসে থাকলে তা শুনিয়ে দিতেও ছাড়ে না। মাঙন বেশি পাওয়ার জন্যে একটি দল দু-ভাগ হয়ে আলাদা আলাদাভাবে একই বাড়িতে মাঙন নিয়েও থাকে। দিনের শেষে একত্র করে বেচে, একসঙ্গে হাজত। একই পাড়ায় আলাদা আলাদা জ্ঞাতি-গোত্র থাকায় আলাদা দল বেরোনোও সম্ভব।

মাঙনে সব প্রতিবেশীই মান্য : এ মাঙনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সব রকম প্রতিবেশীর কাছ থেকে মাঙন নেওয়া। সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্ণের— যেমন কাওরা, মুচি প্রভৃতি শ্রেণির বাড়ি থেকেও মাঙন নিতে হয়, নেওয়া হয়। মুসলমানের বাড়ি থেকেও অন্তত এক ঘর থেকে, বেশি হলে তো ভালই। এখানে পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় মানুষরা যেমন দল বেঁধে মাঙনে বেরোয় তেমনই কায়স্থ, ব্রাহ্মণ, নাপিতরাও বেরোয় এবং সমাজের সব রকম বর্ণ বা শ্রেণির বাড়ি থেকে মাঙন সংগ্রহ করা হয়, অর্থাৎ কোনো ভেদাভেদ রাখার নিয়ম নেই। পির গাজি প্রভৃতি দেবদেবী তো হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়সাধক দেবতা হিসাবে পরিগণিত, মাঙন সংগ্রহের এই ধারা বা ধরন যেন তারই পরিপূরক। 

অল্পবয়সের হুজুগ : অল্পবয়সি মেয়েরা অনেকেই মাঙনে যায় হুজুগে। অনেকসময় খানিক মাঙনের পরে বা মাঝ-মাঙনে হয়তো তাদের কেউ বা কেউ কেউ আগ্রহ হারিয়ে ফেলল, তখন তাদের বাড়ি যেতে বলা হয় বা পরিচিত কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়, কিন্তু নির্দেশ থাকে বাড়িতে না ঢুকে বাইরে খেলাধুলা করে সময় কাটানোর। বাচ্চা মেয়েরা উপবাস অত মানে না সবসময় কঠোরভাবে, তবে ভাতটা খায় না। মাঙুনেরা মাঙন সেরে এলে এরা তাদের সঙ্গী হয় এবং হাজতশেষে যথাবিধি যে-যার বাড়িতে প্রবেশ করে।

মাঙনে মানা : কারও বাড়িতে অশৌচ থাকলে বা 'মায়ের দয়া' অর্থাৎ হাম-বসন্ত হলে তাঁদের জ্ঞাতিগোত্রের মানুষরা মাঙনে বেরোয় না বা মাঙন দেয়ও না। মাসিক হলে মাঙনে বেরোয় না মহিলারা।

হিন্দু-মুসলমান ধর্মসমন্বয়ের বাস্তবচিত্র : বিবিমার এই হাজতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ বলতে, যে ফকির হাজতের বন্দোবস্ত করেন তিনি বরাবরই মুসলমানদের মধ্যে কেউ একজন হন। তাঁকে হাজতের সময় নামাজ পড়তে হয়। এখানে পুরোহিত দিয়ে কোনোদিনই পুজো হয়নি। তার বাইরে, মুসলমানরা মাঙন করে হাজত দেয় না। কারও কারও মানসিক থাকলে, চিড়ে-মুড়কি-বাতাসা-সন্দেশ ইত্যাদির মালসা দেয়। প্রসাদ দেওয়ার সময় সংলগ্ন মুসলমান পাড়া থেকে অবশ্য অনেকেই তা নিতে হাজির হয়। একদা সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্ণের থেকে নানান কারণে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছিল যারা, শিকড়বাকড়ের টান যেমন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা, মুসলমান হওয়ায় মূর্তিপূজার বিষয়ে আগ্রহহীনতাও অস্বাভাবিক নয়।

মাঙন থেকে ফেরা : দিনশেষে মাঙুনীরা পাড়ায় ফেরে। প্রাপ্ত ধান, চাল, আলু ইত্যাদি কেউ কেউ কিনে নেয়। সেই পয়সা এবং মাঙনে প্রাপ্ত পয়সায় গোকর্ণী বাজার থেকে কেনা হয় হাজতের সামগ্রী। মূলত চিড়ে-মুড়কি-বাতাসা-সন্দেশ-পাটালি। এই হাজত-অভিমুখী দলটা তুলনায় ভারী হয়। ছোট-আমরাও সাগ্রহে সঙ্গী হয়েছি একাধিক বছর। এই সময় তো আর ছেলে বা মেয়ের ব্যাপার নেই! বলা বাহুল্য, দু-একটি নাছোড় ছোট ছেলের ব্যতিক্রম বাদ দিলে, মাঙনে মহিলা বা মেয়েরাই প্রধান। বাজার থেকে আমরা এবার পৌঁছাই অদূরের বনবিবি বা বিবিমার থানে। 

থানে হাজত : থানে এই পক্ষকাল বিকেল থেকে উপস্থিত থাকেন ফকির। এক-একটি দল এলে, তিনি হাজতের বন্দোবস্ত করেন। সঙ্গে নিয়ে-যাওয়া সাতটি আঁচ কলাপাতা ধুয়ে, পরপর পেতে দিয়ে তার উপর রাখা হয় হাজত-সামগ্রী। এখানে শিরনি দেওয়ার চল নেই কোনোকালেই। তা হাজতের সামগ্রী আগে রাখা হত খোলা আকাশের নিচে ছোট-বড় ও গুঁড়ো ইটের অনুচ্চ লম্বাটে আয়তকার জায়গায়‌। এখন সেখানে ইট-বালি-সিমেন্টের বাঁধানো বেদি এবং তার উপর পাশাপাশি সিমেন্টের সাতটি অনুচ্চ থাম সাত বিবির। মাথার উপর চালা, চারদিক খোলা। গোছগাছ করে দেওয়া হয়ে গেলে, ফকির নামাজ শুরু করেন। দোয়া মাঙেন। নামাজ শেষে মাঙুনীরা তাদের খড় বা কুটোর মালা খুলে ফেলে। তারপর হাজতের জিনিস এবং আলাদা-করে-রাখা মিস্ত্রিপাড়ায় হাজত দেওয়ার চিড়ে-মুড়কি ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে বাড়ির পথে! বড়দের থেকে শুনে শুনে আমরাও হাজতের জিনিসই বলতাম বেশি, প্রসাদ সেইভাবে কোনোদিন বলেছি বলে মনে হয় না। অন্যান্য পূজার ক্ষেত্রেও, আমরা পুজোর জিনিসই বলেছি বেশি, প্রসাদ আর বলেছি কই! যাই হোক, দত্তদের পুকুরের পাশ দিয়ে এবার একটু পুবে গিয়ে বাবাঠাকুরতলার উলটো দিকের পথে অর্থাৎ দক্ষিণে একটু হেঁটে দলটা পৌঁছাবে মিস্ত্রিপাড়ার অদূরে অবস্থিত বিবিমার থানে।

পাড়াপার্শ্বস্থ বিবিমার থানে হাজত : এখানে আমরা বিবিমার মূর্তিই দেখে এসেছি। মৃন্ময়, পাশাপাশি সাত বোন। আগে মাটির দেওয়াল ও টালির ছাওন ছিল, এখন ছাদ দেওয়া পাকা ছোট্ট থান। নিজেরাই এখানে হাজত দেওয়ার চল, ফকির বা কোনো পুরোহিতের ভূমিকা থাকে না। এটিই তো আদতে একদা লৌকিক দেবদেবীর পূজার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, পরে দেখা দেয় পুরোহিতপ্রাধান্য। এখানে হাজতের পর মহানন্দে পাড়ায় ফেরা। মহানন্দ, কেন-না এবার শিগগিরই খেতে পাব আমরা হাজতের জিনিস!

জ্যোৎস্না-খামারে বিলি হাজতের জিনিস : হাজতের দলটা এসে বসবে আমাদের খামারে। সঙ্গে গেলে তো কথাই নেই, যারা যায়নি এমন ছেলেমেয়ে, বউ-ঝি, বয়স্করা কেউ কেউ এসে হাজির হবে সেখানে। উপস্থিত মাঙুনে বা মাঙুনীদের মধ্যে হাজতের জিনিস ভাগ করার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হবে তা উপস্থিত সবাইকে। মাঙুনেরা ওখানে বসেই খাওয়া শেষ করবে। শুক্লপক্ষ হওয়ায়, বেশির ভাগ সময়ে চাঁদের আলোয়। তার পরে যে-যার বাড়ি ঢুকতে পারবে। আমাদের তরুণ বয়স থেকেই অবশ্য বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ার চল শুরু হয়। সারাদিনের ধকলের পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে বসে হাজতের শুকনো জিনিস চিবোনো কষ্টকর।

পরিবারের সবাই ঠিকঠাক আছে তো : মাঙুনেরা হুট করে বাড়িতে ঢুকে পড়ে না। বাড়ির লোকেরা সদর দরজার সামনে কুলগাছের ছোট্ট একটি ডাল, পেতলের ঘটি, জগ বা গ্লাসে জল এবং একটি প্রদীপ জ্বেলে রেখে দেয়। সদর দরজার বাইরে থেকে মাঙুনে ও বাড়ির ভিতর থেকে কারও কথোপকথন হবে এইরকম :

মাঙুনে : দৈরে কেন কাঁটা?

বাড়ির লোক : গিন্নি গেছে বনভোজনে ছেলেরা সব লোহার ভাঁটা।

মাঙুনে : দৈরে কেন পেতল?

বাড়ির লোক : গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে শেতল।

মাঙুনে : দৈরে কেন আলো?

বাড়ির লোক : গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে ভাল।

প্রথম প্রশ্নের উত্তরে অনেক সময় কেবল 'ছেলেরা সব লোহার ভাঁটা' বা 'ছেলেরা লহার ভাঁটা'ও বলা হয়। আমরা জানি, কেবল ভাঁটার মতন চোখ নয়, কারও 'গাঁট্টাগোট্টা' চেহারা হলে পাড়া-গাঁয়ে ভাঁটার মতন শরীর বলার চল আছে। প্রশ্ন ও উত্তর শুনিয়েছেন মাঙনে-না-যাওয়া মায়া কাকিমা (পুরকাইত) ও এখনও-যেতে-থাকা কল্পনা কাকিমা (পুরকাইত); পেতল পর্বটি দীর্ঘদিনের মাঙুনে প্রয়াত আমার মা রেণুকার কাছ থেকে শুনে শুনে মনে রেখেছে আমার স্ত্রী সরমা। কল্পনা কাকিমা জানালেন যে সদর দরজার সামনে রাখা হয় কুলকাঁটা আর ঘরের দরজায় রাখা হয় প্রদীপ। যাদের সদর দরজা নেই, দুটিই রাখা হয় ঘরের দরজায়। সংক্ষেপ করার জন্যে তিনটি জিনিসই সদর দরজার সামনে রাখা হয়ে থাকে, বা ঘরের দরজায়।

এ গ্রামের জাতক (পরবর্তীকালে বারুইপুরের বাসিন্দা) মান্য সাহিত্যিক তথা দেবযান-সম্পাদক প্রয়াত সন্তোষকুমার দত্ত (১৯৩০—২০১৭) তাঁর "তরুণ বয়সে দেখা বিনিমা'র মাঙনের একটি অনুষ্ঠান"-এর কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন :

"মাঘ, ফাল্গুন মাসের কোন এক সময়ে পাড়ার বয়স্কা মহিলাদের গ্রামের বাড়ি বাড়ি মাঙন, সন্ধ্যায় বিবিমা'র থানে মৌলবীকে দিয়ে পূজার জিনিসপত্র অর্পণ। পূজা শেষে পাড়ার শান-বাঁধানো ঘাটে অথবা কোন গাছ তলায় বসে মহিলাদের দুধ-মুড়ি-কলা-মিষ্টি দিয়ে ফলার ভক্ষণ। সেই সময় পারস্পরিক খাদ্যের আদান-প্রদান। ভোজন শেষে ব্রতধারিণীদের দলবদ্ধভাবে পাড়ার প্রত্যেক বাড়িতে উপস্থিতি। সেই সব বাড়ির দরজায় রাখা হতো একটা বড় ঘটিতে জল, কুলগাছের এক টুকরো ডাল এবং একটি প্রজ্জ্বলন্ত প্রদীপ। মহিলাদের মধ্যে একজন প্রশ্নকর্ত্রী এবং তার উত্তরদাতা সেই বাড়ির কোন এক ছেলে বা মেয়ে।" এরপর প্রশ্ন ও উত্তর দিয়েছেন তিনি :

'"দোরে কেন আলো — ?

গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে ভালো।

দোরে কেন পেতল — ?

গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে শেতল।

দোরে কেন কাঁটা — ?

গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই লোহার ভাঁটা।"'

অর্থ দিয়েছেন এই বল, "শেতল অর্থে সংসারে শান্তি বিরাজমান এবং 'লোহার ভাঁটা' অর্থে পরিবারের সকলে সুস্থ।" 'এই পরিক্রমার পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি' জানিয়ে, 'তাৎপর্য' হিসাবে তিনি লিখেছেন, 'দানে ও গ্রহণে চিত্তের প্রসারতাই এর অন্যতম দিক। লোকসংস্কৃতির এই সুন্দর অনুষ্ঠান জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে এক সম্প্রীতির জগতের সন্ধান দেয় — যে সম্প্রীতি একালে — অপ্রিয় হলেও সত্য — ক্রমশ অস্তাচলগামী।'

গ্রামীণ একেবারে তৃণমূল স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে শব্দসংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণের মান্য এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিমলেন্দু হালদার ছড়াটিকে দিয়েছেন এইভাবে :

'ঘরে কেন রে আলো?

গিন্নি গেছে বিলমাঙনে

সবাই আছে ভালো।।

পথে কেন রে কাঁটা?

ছেলেরা সব খেলা করতেচে

সবাই নোয়ার ভ্যাঁটা।

অথবা,

ছেলেরা সব নোয়ার ভাঁটা।।'

এটিকে তিনি 'উৎসবের ছড়া' বলে উল্লেখ করে লিখেছেন, "দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় বিবিমার পুজো, পীরের পুজো 'জাত' ইত্যাদিতে ভক্তরা মাঙন করে। সারাদিন উপোস করে, মানুষের দোরে দোরে মাঙন করে চাল পয়সা পায়। চালগুলো বিক্রি করে দেয়। তারপর সমস্ত পয়সা নিয়ে হাজতের প্রসাদ কেনে। পীরতলাতে পীরের থানে সিন্নি দেয়। সন্ধ্যাবেলা যখন ব্রতীরা বাড়ি ফেরে তখন এই ছড়া বলে। একজন প্রশ্ন করে অন্য একজন উত্তর দেয়। সারাদিনের শেষে পুজো হয়ে গেলে বাড়ি ফেরার সময় গৃহিণীর মনে শঙ্কা জাগে— সবাই ভালো আছে তো? ছেলেরা কেমন আছে? দূর থেকে আলো দেখে, পথে কাঁটা ছড়ানো দেখে শঙ্কা দূর হয়। এগুলি ভালো থাকার সংকেত বা চিহ্ন।" 'বিল মাঙন' বলতে তিনি 'বড় ধরনের মাঙন' বলেছেন, কিন্তু 'বিল' সচরাচর 'বড়' অর্থ করে বলে মনে হয় না। বিল পুকুর, বিল মাছ উভয়েরই চল আছে। বিল পুকুর যখন বলা হচ্ছে, মূলত বিল মাছের পুকুরই বোঝায় তা। অর্থাৎ বিলের মাছ— মূলত বিল বা জলা জমি, পুকুর, ডোবা, খালের মাছ বোঝায়। এর বিপরীতে সচরাচর চল আছে পোনা পুকুর বলার— রুই-মৃগেল-কাতলা-কালবউস প্রভৃতি মাছের পুকুর। বিল মাছ বলতে বরং চুনোচানা ও 'ডেঙা' দিশি খুচরো মাছের দিকেই ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ 'রাঘব বোয়াল' নয়।

ব্যবস্থাপক, ফকির ও পাঁচালি গায়ক : বর্তমানে এই বিবিমার থানটির ব্যবস্থাপনা ও সংলগ্ন স্থানের পরিসর বৃদ্ধির দায়িত্বে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ গায়েন, নরেন্দ্রনাথ বায়েন ও কানাইলাল হালদার। বর্তমান ফকির আয়েন মিস্ত্রি (পিতা আমিন মিস্ত্রি)। পূর্বে দীর্ঘদিন ছিলেন ছোপান ফকির। মাঝে কিছুদিন ছিলেন ফয়জদ্দি ফকির। প্রতি বৎসরই এখানে পুর্ণিমায় শেষ হাজতের দিন বিবিমার গান হয়। গত দু-বছর বিবিমার গান গাইছেন দেওয়ানগঞ্জের গোবিন্দ শিকারী।

সুজিত কুমার মণ্ডল গোপেন্দ্রকৃষ্ণের মত প্রসঙ্গে লিখেছেন, "প্রথমত, 'মুসলমান-প্রধান অঞ্চল' ও 'হিন্দুপ্রধান অঞ্চল'-এর ধারণাটি স্বচ্ছ নয়। পূজা-হাজোত যদি ব্যক্তি বা পরিবারনির্ভর হয় তা হলে অঞ্চলভিত্তিক ভাগের ধারণা টেঁকে না। দ্বিতীয়ত, এই ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও তার পাশাপাশি ধর্মসমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে বনবিবিকে দেখার তত্ত্ব পরস্পরবিরোধী। তৃতীয়ত, আমাদের পর্যবেক্ষণে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মূর্তি পূজার বদলে হাজোত দেওয়ার প্রবণতা বেশি। মানত বা ছলন পূজায় সে ক্ষেত্রে আলোচ্য পালাগানগুলির বদলে গাজির গান আচার ও অনুষ্ঠান হিসেবে অভিনীত হতে বেশি দেখা যায়।"

একদা বাধ্যত প্রাকৃতিক উপাদান, কল্পিত দেবদেবী, জাদু, মন্ত্রতন্ত্র ইত্যাদির উপর একান্ত নির্ভরশীল মানুষ আজ কেউ কেউ এসবে তেমন আস্থাশীল নয়, কেউ কেউ আধুনিক চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে যায় এসবও। আধুনিক চিকিৎসা যেখানে আজও ভাল করে পৌঁছায়নি, সেখানে আজও, অন্তত প্রাথমিকভাবে এসবের উপর নির্ভর করে অনেক মানুষ, চিকিৎসার সামর্থ্যে না কুলালে বা অচিকিৎস্য হয়ে পড়লে শেষ আশ্রয় হিসাবেও অনেকে আস্থা রাখতে চায় এসবে। অনেকসময় আশায় থাকে অত্যাশ্চর্য বা অলৌকিক কিছু ঘটার। প্রাকৃতিক উপাদান অবশ্য স্বতন্ত্র্য কারণ তার দ্রব্যগুণ অনেকসময়ই প্রত্যক্ষ্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানও তার থেকে রসদ সংগ্রহ করে।

যে-যার নিজস্ব বিশ্বাস ইত্যাদির ব্যাপার বাদ দিলেও, দীর্ঘ প্রথা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে একইসঙ্গে শিকড়ের স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক কিছু কিছু উপযোগিতার প্রবাহ চলতে থাকে কাল থেকে কালান্তরে। লৌকিক দেবী বিবিমার থানে নানান বিপদ-আপদ, রোগ-শোক-ব্যাধি ইত্যাদির জন্যেই পুজো-হাজত দিয়ে বা মুদো বেঁধে রক্ষা পাক আর নাই পাক, মানুষের সঙ্গে মানুষের বাৎসরিক এই সাক্ষাৎ, সংযোগ, মেলামেশা, পারস্পরিক আদানপ্রদানের গুরুত্ব কম নয়, বিশেষ করে ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক-আত্মসর্বস্ব হয়ে-ওঠার এই দিনে। 

 

 =====================

 

উল্লেখসূত্র ও ঋণস্বীকার :

কোনও কোনও তথ্য প্রাপ্তি এবং যাচাইয়ে যাঁদের কাছে ঋণী - শান্তিবালা পুরকাইত, শৈলেন্দ্রনাথ পুরকাইত, কল্পনা পুরকাইত, মায়া পুরকাইত, সরমা পুরকাইত, রবীন্দ্রনাথ গায়েন প্রমুখ।

লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত বাংলা কথাসাহিত্য — সন্তোষকুমার দত্ত, বঙ্গবাতায়ন, ১৫ আগস্ট ২০০৭
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কথ্যভাষা ও লোকসংস্কৃতির উপকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড) — বিমলেন্দু হালদার, প্রিয়নাথ প্রকাশনী, দ্বিতীয় প্রকাশ — বইমেলা, জানুয়ারি
 ২০১৯

বাংলার লৌকিক দেবতা— গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু, প্রথম প্রকাশ— নভেম্বর ১৯৬৬, পরিবর্ধিত প্রথম দে'জ সংস্করণ— এপ্রিল ১৯৭৮, চতুর্থ সংস্করণ— জানুয়ারি ২০০৮

বনবিবির পালা— সম্পাদনা সুজিত কুমার মণ্ডল, গাঙচিল, মার্চ ২০১০

 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন

দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন এখন  তোমার হাতে খেমতা ছিল বলে কষে বসাও বুকে একটা লাথি অধীন দেশে ছিল এমনতর স্বাধীন দেশেও বাড়ছে সংখ্যাটি। বিচার ছাড়াই গারদ এখনো যে আইন করে পাস করছ কেন ক্ষমতা অপব্যবহারে তুমি অভিযুক্ত মান কি না মান। স্বাধীন দেশেও বিচার ব্যবস্থাকে নানান রঙের সুতোয় কেন বাধ বছর বছর গড়গড়িয়ে চলা ন্যায় কাঁদে বাড়ে অবসাধও। টাকা কেন সাদা কালো হবে মানব মন উত্তোলিত নয়  মানুষ গড়ার বিদ্যালয় গুলি লজ্জা নত বাড়ছে অবক্ষয়। ধর্ম নিয়ে বিভেদ কেন গড়  প্রতিবেশী কেন যে অবিশ্বাসী হিংসা বাড়ে মারণাস্ত্র আসে জীবন কি দ্বন্দ্বের ই প্রত্যাশী। আমি একটা দুটো করে নামের পেছনে  দাগ দিতে থাকি আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি  সারা পৃষ্ঠা দাগ দিতে পারলেই ছুটি তখন আমাকে পায় কে ! আমি নদীর কিনারায় পৌঁছে যাব সাদা রুমাল উড়াবো আর ওপারে সংকেত পাঠাব আয় সাঁতরে চলে আয়  আমরা মাঠে অপেক্ষায় আছি খেলার সময় বয়ে যায়। এখন হাতে ধরা কাগজের পৃষ্ঠার দিকে তাকিয়ে দেখছি  কে যে  সংখ্যালঘু আর  কারা কারা সংখ্যাগুরু !! ============== সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা,৭০০০২০ ...

উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

উদভ্রান্ত আমি জয়িতা চট্টোপাধ্যায় একটা জীবন্ত আমি ঘুরে বেড়াই খাতার পৃষ্ঠায় ব্যর্থ প্রেম থেকে তুলে আনি নতুন অহংকার বস্তু কণার মতো ছড়িয়ে দিই দুঃখকে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত গড়ে ওঠে একটা বিরাট পথ যা তুমি পেরুতে পারো না আবার সরাতেও পারো না আর আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে বেড়াই নিজেরই কবিতার পংক্তিতে আমার দুহাতে এখন উপচে পড়ে দয়া গোটা পৃথিবীই মনে হয় ভীষণ আপন কেবল তুমি একদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলে বলে... ============== জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর

    রঙ বিবেকানন্দ নস্কর    আদুল স্রোতের টান  আঙুল রঙিন  চোখের পাতায় কৃষ্ণচূড়া  আদিবাসী মেয়ে বাজালো ফাগুন বীণ। বাসন্তিকা এমন বেআব্রু  আনমনা দক্ষিনা কোথায় যায় আবির বাতাস ঘ্রাণ  বিরহ বৃথা দায় । রঙ বিন্দু,স্বেদ বিন্দু  কিশোরী যুবতী হোক আদি প্রেম আদি ভাষা  রক্তাভ হাতের নখ । =============== বিবেকানন্দ নস্কর  সম্পাদক -ছন্দের ঘ্রাণ পত্রিকা  সন্তোষ পুর  পোঃ চাঁদ পালা  ফলতা  দ:২৪ পরগনা 

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

চৈনিক লোককথা ।। এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র

চৈনিক লোককথা এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ইংরেজি থেকে বাংলা রূপান্তর : চন্দন মিত্র এক কৃষকের ছিল নাশপাতির বাগান। তাঁর বাগানের নাশপাতি ছিল স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। তিনি ঠেলাগাড়িতে ডালপাতাসহ নাশপাতি চাপিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতেন। টাটকাতাজা নাশপাতি কেনার জন্য তার গাড়ির সামনে ভিড় জমে যেত। একদিন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু কৃষকের গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে একটি নাশপাতি চাইলেন। ভিক্ষুর মাথায় ছেঁড়া টুপি ও পরনে জীর্ণ চীবর দেখে কৃষক বুঝলেন নাশপাতি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। কৃষক তাঁকে সরে যেতে বললেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন, এক পাও নড়লেন না। কৃষক এবার ভিক্ষুকে গালিগালাজ শুরু করলেন। ভিক্ষু অকম্পিত কণ্ঠে ধীরভাবে বললেন, আপনার গাড়িতে কয়েকশ নাশপাতি আছে, সেখান থেকে একটা ছোটো মতো আমাকে দিলে আপনার খুব বেশি ক্ষতি হত না বোধহয়। ঠিক আছে বুঝলাম আপনি কৃপণ মানুষ। কিন্তু আমাকে গালিগালাজ করছেন কেন? উপস্থিত লোকজন কৃষককে বললেন, ভাই একটা ছোটো দেখে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কৃষক অনড়, কারও কথায় তিনি কর্ণপাত করলেন না। ভিড়ের ভিতর থেকে একজন কারিগর এসে একটি নাশপাতি কিনে ভিক্ষুর হাতে তুলে দিলেন। ভিক্ষু তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত ল...