Skip to main content

রণেশ রায়ের প্রবন্ধ

সমাজতন্ত্র গঠন প্রক্রিয়ায় সাংস্কৃতিক বিপ্লব




রাশিয়ায় নভেম্বর বিপ্লবপূর্ব জার আমলে জারের নেতৃত্বে রাশিয়া বহুধা বিভক্ত
ছিল । বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত মানুষজনের আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার খর্ব করে
তাদের ওপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রাধান্যবাদের অধীনে তাদের পশুর জীবন
যাপনে বাধ্য করা হয়েছিল। নাগরিকদের ভোটাধিকার স্বীকৃত ছিল না। রাশিয়ায়
পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলেও পশ্চিমি দেশের পুঁজিবাদের তুলনায় রাশিয়া ছিল পশ্চাপদ।
সেকানে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে নি । সামাজিক জীবনে রেনেসাঁর প্রভাব পড়ে নি।
সাধারণ মানুষ ছিল দারিদ্র নিপীড়িত। মহিলাদের স্বাধিকার খর্ব হত। সেটা ছিল
জারের আমলের বহু নিন্দিত অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ । নভেম্বর বিপ্লব রাশিয়াকে এই
অবস্থা থেকে মুক্ত করে বৃহত্তর সোভিয়েত রাশিয়ার জন্ম দেয় যার অর্থনৈতিক
ভিত্তি সমাজতন্ত্র । এটা নেহাত বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের যোগফল নয় । জন্ম নেয় এক
নতুন মানস যে মানস মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, যে সমতার ভিত্তিতে মানুষের
জীবন জীবিকা শিক্ষা চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা বলে । মুষ্টিমেয় পুঁজিবাদীর
ক্ষমতার ও তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা তাদের রাজত্বের অবসান ঘটায় । রাজতন্ত্রের
অবসান ঘটে । রাষ্ট্র দেশের সম্পত্তির মালিক হয় । রাষ্ট্রের মালিকনাকে ও তাকে
কার্যকরী করার স্বার্থে গড়ে তোলা হয় এক সোভিয়েত যার রূপকার সোভিয়েত বিপ্লবের
নেতা ভি আই লেনিন। পশ্চিমি গণতন্ত্রের নামে পুঁজিবাদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না
। বিপরীতে সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় । এক বিকল্প শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে
তোলার কাজ শুরু হয় । স্বাভাবিক কারণেই রাশিয়ার ধনিক সম্প্রদায় একে মেনে নেয়
না। পশ্চিমী পুঁজিবাদী সমাজ এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে। এই চক্রান্ত
ব্যর্থ করে প্রথমে লেনিন ও পরে তার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী স্টালিনের নেতৃত্বে
সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার প্রভূত উন্নতি হয়। সাধারণ মানুষের জীবিকা নিশ্চিত হয়।
যদিও তাদের জীবন বিলাস বহুল প্রাচুর্যময় হয়ে উঠতে পারে নি বরং ধনীদের জীবন
যাপনের মান নেমে আসে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবিকা শিক্ষা চিকিৎসা নিশ্চিত হয়
। 1925 সালের পরে যখন পশ্চিমি দুনিয়া অথনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত, অর্থনৈতিক
মম্দা সে দেশগুলোকে গ্রাস করে, উন্নয়নের গতি স্তদ্ধ হয়ে যায় তখন সোভিয়েত
রাশিয়া উন্নয়নের গতি বাড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করে । সারা পৃথিবী জুড়ে বিকল্প এই
উন্নয়নে সাড়া পরে যায় । মানুষ নতুন দুনিয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করে। এই সময়কালে
সোভিয়েত রাশিয়ায় ধর্ম্ম বর্ণ নিয়ে দাঙ্গা বন্ধ হয় । জনসাধারনের স্বার্থে আইন
রচিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানের ফ্যাসিস্ট শাসক হিটলারের পতন ঘটে
স্টালিনের নেতৃত্বে । পশ্চমি দুনিয়াতেও সোভিয়েতের এই জয়ে সাড়া পরে যায়।
চার্চিল বা আইসিনহাওয়াররাও স্টালিনের নেতৃত্বের মৌখিক স্বীকৃতি দেন যদিও তাদের
স্টালিনের তথা সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বন্ধ হয় না । মিথ্যার বন্যা
বইয়ে দিয়ে মানুষের পশ্চাদপদ চেতনাকে উস্কে দেওয়ার কাজ চলতে থাকে। পার্টি ও
জনগনের মধ্যে বিশ্বাসঘাতক ঢুকিয়ে দেওয়া হয় । সমাজতন্ত্র গঠনের পাশাপাশি তার
বিরোধী শক্তির প্ররোচনায় সমাজতন্ত্র ধ্বংসের কাজ চলতে থাকে । শেষ পর্যন্ত
চক্রান্তকারীরা জয়ী হয় । ইতিমধ্যে চিনেও মাওসেতুঙের নেতৃত্বে জনগণতান্ত্রিক
বিপ্লব সম্পন্ন হ্য় । সেখানেও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি স্বার্থকতার সঙ্গে গড়ে
ওঠে । কিন্তু পরে সোভিয়েতের মত চিনও তেঙসিয়াও পিংয়ের নেতৃত্বে পুঁজিবাদের পথ
ধরে। এভাবে সমাজতন্ত্রের পশ্চাদঅপসারণের সঠিক কারণ খুঁজতে গেলে বিপ্লবের পরে
সমাজতান্ত্রিক গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রয়োজন কেন
সেটাও বুঝতে হয়। সেটা লেনিন ষ্টালিন মাও সবাই বুঝেছিলেন। বিপ্লবের আদর্শে
বিশ্বাসী ও সেই কাজে নিয়োজিত মানুষকেও আজ সেটা বুঝতে। নভেম্বর বিপ্লবের
তাৎপর্য বুঝতে গেলে এটাও বোঝা অবশ্য কর্তব্য। নভেম্বর বিপ্লব মানে নেহাত একটা
বিকল্প অর্থনীতি ও তার সঙ্গে রাষ্ট্রিয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা নয় তার সঙ্গে উন্নত
মানবমুখী সংস্কৃতি সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা যে সমাজতন্ত্রকে রক্ষা করবে তার
জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে ।

মাওসেতুঙের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক চিনে ষাটের দশকে সমাজতন্ত্র গঠন প্রক্রিয়ায়
সাংস্কৃতিক বিপ্লব কথাটা ব্যাপকতা ও জনপ্রিয়তা লাভ করলেও কথাটা সমাজতান্ত্রিক
সোভিয়েত গঠনতন্ত্রের আমলেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করতো। আর মানব সমাজের বিকাশের
বিভিন্ন স্তরে অর্থনৈতিক বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগতে
বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। সেদিক থেকে সাংস্কৃতিক বিপ্লব একটি বহমানতা, ধারাবাহিক
বিপ্লবী অগ্রগমন যা ঘটে চলেছে আদিম সমাজকাল থেকে। আজও তা বহমান। অর্থনৈতিক
কাঠামোয় পরিবর্তনের সঙ্গে উপরিকাঠামোয় এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে
অনুসরণ করে। সমাজতন্ত্র আবির্ভাবের আগে বিপ্লবী পরিবর্তনগুলো প্রথমে অর্থনীতির
ভিতে পরিবর্তন আনে। সেখানে বিপ্লব ঘটলেও শোষণ ব্যবস্থা অন্যভাবে টিকে থাকে
একটা স্তরে নতুন অর্থনীতির বিকাশের পর তাকে স্থায়িত্বের তাগিদে রাষ্ট্রক্ষমতা
দখলের মাধ্যমে বিপ্লব সম্পন্ন করা হয়। নতুন অর্থনীতির আধারে যেমন রাষ্ট্র
ক্ষমতা দখলের কাজ সম্পন্ন হয় তেমনি সংস্কৃতির জগতেও এক বিপ্লবী পরিবর্তন
অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা বুর্জোয়া বিপ্লবের প্রক্রিয়াটি আলোচনার
মধ্যে দিয়ে আমাদের আলোচনায় ঢুকতে পারি ।

কম্যুনিষ্ট ইস্তাহারের লেখক কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস লেখেন:

" মানব সভ্যতার ইতিহাসে বুর্জোয়া শ্রেণী খুবই বিপ্লবী ভূমিকা পালন করেছে
-------- উৎপাদনের উপকরণের অবিরাম বিপ্লবী পরিবর্তন না ঘটিয়ে এবং তার সঙ্গে
সঙ্গে উৎপাদন সম্পর্ক ও সমগ্র সমাজ-সম্পর্কে বিপ্লবী বদল না ঘটিয়ে বুর্জোয়া
শ্রেণী বাঁচতে পারে না। "

সমাজ বিবর্তনের একটা স্তরে পুঁজিবাদের ঊষালগ্নে বুর্জোয়াশ্রেণীর প্রগতিশীল
চরিত্র একটা ঐতিহাসিক অনিবার্যতা। এই মূল্যায়ণ ধরে অনেকে পুঁজিবাদকে একটা
শাশ্বত অপরিবর্তনীয় প্রগতিশীল ব্যবস্থা বলে চিহ্নিত করেন। এর কোন বিকল্প থাকতে
পারে বলে ভাবতে পারেন না। এরা সমাজ বিকাশের নিয়মকে অস্বীকার করেন। বিকাশের
নিয়মে বস্তুর অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব ও ঐক্যের বিষয়টা উপলব্ধি করেন না। বোঝেন
না বা বোঝার চেষ্টা করেন না যে একটা ব্যবস্থা তার ভ্রুণ অবস্থা থেকে পরিণতি
পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়। সে জন্ম নেয়, বিকাশ লাভ করে এবং
বিকাশের প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত দ্বন্দ্বের সঠিক সমাধান না পেলে শেষ পর্যন্ত ধ্বংস
হয়। এরই গর্ভে জন্ম নেয় নতুন ব্যবস্থা। আজ থেকে একশ বছর আগে রাশিয়ায় সর্বহারা
বিপ্লবের নেতা ভি আই লেনিনের নেতৃত্বে সেখানে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে যে
সমাজতান্ত্রিক সমাজের জন্ম হয় তাই পুঁজিবাদের পতনের বাস্তবতা প্রমাণ করে।
পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর ব্যাখ্যা করে তার চূড়ান্ত স্তরে একচেটিয়ার
বিকাশকে তিনি ব্যাখ্যা করে দেখান যে পুঁজিবাদের এই স্তরটি একটি চূড়ান্ত
প্রতিক্রিশীল স্তর এবং তার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের মধ্যেই তার পতনের বীজ নিহিত
থাকে। এই স্তরে পুঁজিবাদের গর্ভেই নিহিত থাকে তার ধ্বংসের বীজ আর একই সঙ্গে এক
নতুন সম্ভাবনা। একচেটিয়া পুঁজিবাদের এই স্তরটি হল সাম্রাজ্যবাদ যা পুঁজিবাদের
সর্বোচ্চ স্তর বলে লেনিন দেখান। আজ ভারতের মত দেশে এই সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে
চেপে বসেছে নয়া সাম্রাজ্যবাদের রূপ নিয়ে সেটা বুঝব না যদি পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ
স্তরটাকে বুঝতে না পারি। আমরাও পুঁজিবাদকে আজ প্রগতিশীল একটা ব্যবস্থা হিসেবে
দেখে মারাত্বক ভুল করব। আজকের ভারতে বিপ্লবী অনুশীলনে বিষয়টা বিশেষ
গুরুত্বপূর্ণ।

আবির্ভাব লগ্নে পুঁজিবাদের আধারে ক্রিয়াশীল থাকে ছোট ও মাঝারি মাপের অসংখ্য
প্রতিযোগী শিল্প সংগঠন। ব্যক্তিগত একমালিকী বা অংশীদারি কারবারি। এরা গড়ে ওঠে
কৃষি ও ব্যবসায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পুঁজির সাহায্যে। শিল্পপুঁজিবাদের
আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই বাণিজ্য পুঁজিবাদের আবির্ভাব ঘটে কৃষি, ব্যবসা,
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে কেন্দ্র করে। কার্যত সামন্তবাদের গর্ভে পুঁজিবাদের এই
ভ্রুণ জন্ম নেয়। সামন্ত ব্যবস্থার গর্ভে এই ভ্রুণ কয়েকশো বছর ধরে পুষ্ট হয় ও
শেষ পর্যন্ত প্রসবিত হয়। পুঁজিবাদের জন্ম হয় সামন্ততন্ত্রের তিন পাহাড়কে
সরিয়ে। এই তিনটে পাহাড় হলো ১) রাজতন্ত্র ২) পোপতন্ত্র ও ৩) সামন্ততন্ত্র।
কয়েকশো বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বিবাদের মধ্যে দিয়ে গিয়ে বাণিজ্যবাদের স্তর
পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাদের আবির্ভাব ঘটে। পুঁজিবাদের প্রাথমিক স্তর-টা
প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদের স্তর বলে পরিচিত। প্রাথমিক অবস্থার এই স্তরটা
একটা প্রগতিশীল স্তর যদিও এরই মধ্যে তার আগ্রাসী চেহারাটাও মার্ক্স্ এঙ্গেলস
প্রত্যক্ষ করেন। তারা বলেন :

" কালক্রমে বুর্জোয়াশ্রেণী বিশ্ববাজারকে কাজে লাগাতে গিয়ে প্রতিটি দেশেরই
উৎপাদন ও উপভোগে একটা বিশ্বজনীন চরিত্র দান করেছে। প্রতিক্রিয়াশীলদের ক্ষুব্ধ
করে তারা শিল্পের পায়ের তলা থেকে কেড়ে নিয়েছে সেই জাতীয় ভূমিকা যার ওপর
ভিত্তি করে শিল্প আগে দাঁড়িয়ে ছিল । সমস্ত সাবেকি শিল্প হয় ধ্বংস পেয়েছে নয়
প্রত্যহ পাচ্ছে। তাদের স্থানচ্যূত করছে এমন নতুন নতুন শিল্প যার প্রচলন সকল
সভ্য জাতির পক্ষেই মরাবাঁচা প্রশ্নের সামিল; এমন শিল্প যা শুধু দেশজ কাঁচামাল
নিয়ে নয় দূরতম অঞ্চল থেকে আনা কাঁচামালে কাজ করছে ; এমন শিল্প যার উৎপাদন শুধু
স্বদেশেই নয় ভূলোকের সর্বাঞ্চলেই ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশজ উৎপন্ন যা মিটত তেমন সব
পুরানো চাহিদার বদলে দেখছি নতুন চাহিদা, যা মেটাতে দরকার সুদূর বিদেশের নানা
আবহাওয়ায় উৎপন্ন। আগেকার স্থানীয় ও জাতীয় বিচ্ছিন্নতা ও স্বপর্যাপ্তির বদলে
পাচ্ছি সর্বক্ষেত্রেই আদান প্রদান, জাতিসমূহের বিশ্বজোড়া পরস্পর নির্ভরতা।
বৈষয়িক উৎপাদনে যেমন তেমনি মনীষার ক্ষেত্রে। এক একটা জাতির মানসিকতা হয়ে পরে
সকলের সম্পত্তি। জাতিগত একপেশেমি সংকীর্ণচিত্ততা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ে ;
অসংখ্য জাতীয় বা স্থানীয় সাহিত্য থেকে জেগে ওঠে একটা বিশ্ব সাহিত্য" (
কমুনিস্ট ম্যানুফেষ্ট)

উপরের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা
স্বত:স্ফূর্ত ভাবেই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়ে যায়। রাষ্ট্র এই
পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও এই প্রক্রিয়া অনেকটা স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে
কারণ শোষণের সস্কৃতিটা থেকে যায় যা মানুষের মনোনে হাজার হাজার বছর ধরে গেড়ে
বসে থাকে। আত্মকেন্দ্রিকতা যার ভিত্তি, আত্মস্বার্থের দর্শন যাকে পুষ্ট করে।
তারই ছত্রছায়ায় শোষণ ব্যবস্থা টিকে থাকে। সনাতনী ভাববাদের ওপর আঘাত এলেও নতুন
রূপে যান্ত্রিক বস্তুবাদের দর্শনকে আঁকড়ে ধরে সে টিকে থাকে। ভাববাদের এক ইতর
বিশেষ রূপ হলো যান্ত্রিক বস্তুবাদ। প্রাধান্য বাদের নতুন এক দর্শন সৃষ্টি হয়
যা শোষক ও শোষিতের মধ্যে বিভাজনকে সনাতনী চিরস্থায়ী অবশ্যম্ভাবী বিভাজন বলে
মনে করে .

পুঁজিবাদের বিকাশের ধরণটা আর তার সঙ্গে আত্মকেন্দ্রিকতার চূড়ান্ত বিকাশটাকে
ধরতে না পারলে তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংস্কৃতিটা ধরতে পারব না . এর সঙ্গে যুক্ত
আজকের সাম্রাজ্যবাদের যুগের সংস্কৃতি যা গড়ে তুলেছে ভোগবাদ সমরবাদ ও তারই
পরিপূরক হিসেবে আত্মসমর্পনবাদ . একচেটিয়া পুঁজিবাদের সাংস্কৃতিক বিষয় হলো এই
বিষয় গুলো . এদের উৎখাত না করে পাল্টা সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না
পারলে সমাজতন্ত্র চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে পারে না . সোভিয়েত রাশিয়া ও চীনের
অভিজ্ঞতা সেটাই বলে . আজকের যুগে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে
ভিত্তি এলাকায় অস্থায়ী রাষ্ট্রের নেতৃত্বে সে লড়াই শুরু করে দিতে হয় .
বিপ্লবের পর এই লড়াইটার কথা ভাবা যাবে বলে বসে থাকলে চলে না . এই সাংস্কৃতিক
বিপ্লবের লড়াই নতুন মানুষ গড়ার লড়াই . পুঁজিবাদের গর্ভে পুষ্ট যুক্তিবাদী
মানুষের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগী মানুষ গড়ার লড়াই . সাংস্কৃতিক বিপ্লবের এই
তাত্ত্বিক দিকটা বুঝতে গেলে আত্মকেন্দ্রিক যুক্তিবাদী মানুষটাকে চিনে নিতে হয়
কারণ এ লড়াই যুক্তিবাদী তথা চূড়ান্ত আত্মকেন্দ্রিক মানুষটাকে উচ্ছেদের লড়াই .
একই সঙ্গে বিপ্লবে বিশ্বাসী মানুষের নিজের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই কারণ
যুক্তিবাদী মানুষের আত্মকেন্দ্রিক দর্শন আমাদের সবাইকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে
রেখেছে. এ অতি কঠিন লড়াই .

ধনতন্ত্রের বিকাশ ও আত্মকেন্দ্রিক যুক্তিবাদি মানুষ :

অষ্টাদশ শতকে শিল্পপুঁজিবাদের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের
আবির্ভাব ঘটে তার শাসন ব্যবস্থা কি হবে কোন মননের দ্বারা অর্থনীতি পরিচালিত
হবে তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়, পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে . মনে করা হয় যে রাজতন্ত্র
নয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে আরো মসৃণভাবে কাজ করার
সুযোগ করে দেবে. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল দেশের শাসন
তার গণভিত্তি খুঁজে পায় এমন নয়, দেশের অর্থনীতি পরিচালনার এক উপযুক্ত পরিবেশ
সৃষ্টি হয় যেখানে বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ নয়, ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া শৃঙ্খলা নয়, এক
স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনৈতিক পরিবেশই পারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে
সবচেয়ে নিপুণ এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে. এই নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনৈতিক
ব্যবস্থাই হলো বাজার ব্যবস্থা যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতারা সার্বভৌম উৎপাদন
ব্যবস্থা থেকে নি:সারিত বন্টন ব্যবস্থা আপনা থেকেই স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থার
মাধ্যমে উৎপাদনে

সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সমাজ বিপ্লব

কোন নিদৃষ্ট অর্থনীতির কাঠামোর ওপর গড়ে ওঠে তার সঙ্গে মানানসই একটা
সংস্কৃতি যার মৌলিক উপাদান হলো সমাজ চেতনা শিল্প সাহিত্য চলচিত্র পুজো আচার
আস্তিকতা নাস্তিকতা. এ সবই হল সংস্কৃতির অঙ্গ . এক ধরনের সমাজের অর্থনীতির
আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তার উপযুক্ত সংস্কৃতি তৈরী হয় যে সংস্কৃতি
নিদৃষ্ট অর্থনীতিকে মদত করে . আর সমাজবোধ সমাজ চেতনার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা
সংষ্কৃতি ব্যবস্থাটাকে টিকিয়ে রাখতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক উপরিকাঠামো হিসেবে সামরিক রাষ্ট্রশক্তি যতটা শক্তিশালী সাংস্কৃতিক
শক্তি তথা হাতিয়ারটা তার থেকে কম শক্তিশালী নয় . সমাজ চেতনা একটা
প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ ভাঙতে যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নতুন সমাজ গড়তে
ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর ঠিক এইজন্যই সাংস্কৃতিক বিপ্লব
ধারণাটা আমাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ ।

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ জুড়ে সামন্ততন্ত্রের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ ঘটিয়ে
প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদ বুর্জোয়া বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় যাকে
শিল্প বিপ্লব বলা হয়। ইংল্যান্ডে এর সূচনা হলেও সারা ইউরোপে তা ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু অর্থনীতি নয় এর উপরিকাঠামো রাজনীতি ও সংস্কিতির জগতে এক বিপ্লব সংগঠিত
হয় যার সপ্মর্কে কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলস বলে গেছেন বলে আমরা দেখি । মানুষের
চেতনার জগতেও এক মৌলিক পরিবর্তন আসে । অর্থনীতি ও ব্যবসায় যুক্তিবাদী মানুষ ও
তার স্বার্থ সিদ্ধির দর্শনকে রূপ দেওয়ার জন্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা যেমন
চালু হয় মানুষের জীবনযাপন আচার ব্যবহার শিল্পসাহিত্যে তেমনি ব্যক্তি
স্বাধীনতার কথা বলা হয় যার ওপর দাঁড়িয়ে এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে .যুক্তিবাদ
ধর্মীয় ভক্তিবাদের জায়গা দখল করার চেষ্টা করে । কিন্তু নতুন সমাজ যেহেতু নতুন
কায়দায় শোষণকে অব্যাহত রাখে তাই সমাজে শ্রেণীবিভাজন নতুন পদ্ধতিতে টিকে থাকে।
যে সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতা দেখা যায় তা ধনি শোকশ্রেণী ভোগ করে । গরিবরা অনুগত
থেকে যেন নতুন শাসন ও শোষণ মেনে নেয় তার জন্য এক আনুগত্যের দর্শন চালু হয়।
আনুগত্য আর ধর্মের নামে ভক্তিবাদ যার মূল কথা । সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে
যুক্তিবাদ পিছু হটে । প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শিল্প জগতে প্রযুক্তির
দরকার হয়। সেইজন্য সেখানে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির খণ্ডিত প্রয়োগ দেখা যায় ।
সামগ্রিক সমাজজীবনকে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি বেষ্টন করতে পারে না । বিজ্ঞান
প্রযুক্তির অবাধ বিকাশ সত্ত্বেও তা মানবতার স্বার্থে কাজে লাগে না । মুনাফার
দর্শনের সে লেজুড় বৃত্তি করে । সমাজ জীবনে ভক্তিবাদ তথা অনুগ্রহবাদ আর তার
সঙ্গে পশ্চাদপদ রীতি নীতি চালু থাকে । সে অর্থে সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পূর্ণতা
লাভ করে না । এই অসম্পূর্ণতা সত্ত্বেও বুর্জোয়া বিপ্লব ও তার সঙ্গে পুঁজিবাদ
ইতিহাসে প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করেছে সন্দেহ নেই ।

শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে রেনেসাঁ ঘটে চলে যা কার্যত সাংস্কৃতিক
বিপ্লব . এই বিপ্লব শোষণের গোড়া ধরে টানে না .শোষণটা টিকে থাকে . উৎপাদিকা
শক্তি ও উৎপাদন সম্পর্কের বৈরিতামূলক দ্বন্দ্বটা নতুন রূপ পায়. বরং শোষণটা
নতুন ও আরো তীব্র ভাবে অব্যাহত থাকে . তাও কার্ল মার্কস পুঁজিবাদকে তৎকালীন
পরিপ্রেক্ষিতে প্রগতিশীল ব্যবস্থা বলেছেন. মানব সমাজের ইতিহাসের একটা স্তরে
এটা প্রগতিশীল কারণ পুরোনো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় সামন্ত তান্ত্রিক
উৎপাদন সম্পর্ক উৎপাদিকা শক্তি বিকাশে যখন অক্ষম হয়ে উঠেছিল তখন বুর্জোয়া
বিপ্লব সেই বাধা দূর করে, উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ঘটে. কিন্তু পুঁজিবাদের
অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আবার উৎপাদন সম্পর্ক ও উৎপাদিকা শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব
এমন এক স্তরে পৌঁছয় যার সমাধানের একমাত্র পথ আবার এক বিপ্লব. সমাজতন্ত্র গঠন .
তার সঙ্গে নতুন এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব যা শোষণহীন শ্রেণীহীন সমাজকে মদত করে
.সেটা না হলে আবার পশ্চাদ অপসারণ কারণ আত্মকেন্দ্রিকতাকে কেন্দ্র করে শোষণের
বীজটা টিকে থাকে . এই স্তরে লড়াইটা আরো তীব্র . রাষ্ট্র টিকে থাকে যেটা কাম্য
নয়. এই সংগ্রামে জয়ী হলে সমাজ আমাদের কাঙ্খিত সাম্যবাদের স্তরে পৌঁছতে পারে
যখন রাষ্ট্র নিজেই উবে যায় .রাষ্ট্র নয় সমাজ উপকরণের মালিক হয় . এক নতুন
অর্থনীতি তার সঙ্গে নতুন মানুষকে নিয়ে এক শ্রেণীহীন সমাজ গড়ে ওঠে . পুঁজিবাদের
সংকট একে অনিবার্য করে তোলে .তবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা ঘটে না. সচেতন মানুষের
অবিরাম আত্মত্যাগের পথে এই লড়ায়ের মাধ্যমে সেই স্তরে পৌঁছতে হয়. ইতিহাসের
স্তর পরিক্রমার মধ্যে দিয়ে . দাস ব্যবস্থায় অভস্ত হয়ে যাওয়া মানুষ আজকের
স্তরের মানব সভ্যতাকে যেমন কখনো অনুমান করতে পারে নি তেমনি আজকের প্রযুক্তির
স্তরে আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদের স্তরে আগামী এই কাঙ্খিত সমাজকে অনুমান করা
আমাদের মত সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন.লেনিন বা মাওএর মত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন
মানুষরা ই পারেন সেটা করতে.এর জন্য দরকার কঠিন অনুশীলনের. চেতনার জগতে
যুক্তির সঞ্চয় ও বিজ্ঞান চর্চ্চার মাধ্যমে সেটা বুঝতে হয়. চেতনার সেই
মহাস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হয় . সেজন্য সংস্কৃত বিপ্লবকে চেতনার মহাস্ত্র
বলা চলে :

মহাস্ত্র

জমা আছে জেনো

আমাদের ভাণ্ডারে সে অস্ত্র ,

শ্রম যুক্তি মনন অভিজ্ঞতায়

গড়ে তুলেছি সেই মহা মন্ত্র

উজাড় করে দিই যা আছে যার

চিনে নাও তাকে, থেকো না

সময়ের অপেক্ষায় আর,

সে অস্ত্রে সজ্জিত তুমি আমি

ক্রুশে বিদ্ধ হয়েও আমরা বাঁচি

ত্রিশূল আমাদের বিঁধতে পারে না

আণবিক বোমা পরাস্ত সে অস্ত্রে

তলোয়ারের ধার কাটে না

আমরা যে সজ্জিত সৈনিক সে বস্ত্রে

আমি আজ বিদ্রোহী সন্ত্ৰাসবাদী

শত্রুর বুকে ত্রাস আমি

আমি আজ বিবাদী ;

বলি আমি জনে জনে

মহাস্ত্র জমা সবার ভাণ্ডারে,

সে অস্ত্র আমার আলিঙ্গনে

সে নিরব প্রেম আমার

সশস্ত্র লড়াই তার মননে ,

তার প্রেমে বলীয়ান আমি

সে আমার হাতিয়ার

কানে কানে কথা কয়

সে আমার প্রত্যয়,

যুক্তির তলোয়ারে শত্রু ছিন্ন ভিন্ন

ডরি না আর শত্রুরে

আমি শত্রুর বুঁকে এঁকে যাই পদচিহ্ন,

এসো বন্ধু হাতে হাত রাখো

চিনে নাও আমার তোমার সে মহাস্ত্র

আমাদের চেতনা আমাদের মনন

আমাদের জীবন আমাদের চলন

আমাদের বিশ্বাস

সেই মহা মন্ত্র আমার তোমার ,

সেই আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস

সে অস্ত্রে বলীয়ান সকলে বন্ধু

শান দাও সে অস্ত্রে সবার

'পাড়ি দিতে হবে সিন্ধু '

চেতনার জগতের অস্ত্রকে শানিত করে শত্রুকে আঘাত করার কাজটা করতে হয় সাংস্কৃতিক
বিপ্লবের মাধ্যমে পূরণ আত্মকেন্দ্রিক ধ্যানধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা
সংস্কৃতির জায়গায় গড়ে তুলতে হয় সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় গড়ে ওঠা আত্মত্যাগের
সংস্কৃতি যা শোষণহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে স্থায়ী রূপ দিতে পারে। লেনিনের
নেতৃত্বে সোভিয়েত গড়ে তুলে যৌথ স্বার্থের এক মনন গড়ে তোলার সক্রিয় চেষ্টা দেখা
যায়। সোভিয়েত রাশিয়া বলতে বিভিন্ন ভূখণ্ডের যান্ত্রিক ঐক্যকরন বোঝায় না। ধর্ম
বর্ণের উর্দ্ধে উঠে এক সোভিয়েত চেতনার উন্মেষ বোঝায় যা গড়ে ওঠে সম্পত্তির যৌথ
মালিকনা মেহনতের মর্যাদা নারী স্বাধীনতা যুক্তিবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে . যে
সোভিয়েত সংবিধান তৈরী হয়েছিল তা সোভিয়েত চেতনায় পুষ্ট এক সমাজতান্ত্রিক সমাজ
গঠনের কথা বলে। এই প্রক্রিয়ায় সমাজতন্ত্রের উচ্চতর সাম্যবাদের স্তরে সমাজকে
এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। 'যতটা পার দাও আর যতটুকু প্রয়োজন নাও' - এর
এক দর্শন চালু করে যার ওপর নির্ভর করে নতুন এই সাম্যবাদী সংস্কৃতি . অর্থনৈতিক
গঠনের সঙ্গে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এক সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথা
বলা হয় যেটা সম্ভব চলতি শোষণভিত্তিক আত্মস্বার্থের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে। এ এক
বিপ্লব, সাংস্কৃতিক বিপ্লব, যেখানেও বলপ্রয়োগ দরকার হয় কারণ বিপ্লবের পর
পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি তাদের আত্মস্বার্থে গড়ে ওঠা সংস্কৃতিকে হাতিয়ার
করে ফিরে আস্তে চায়।

হাজার হাজার বছর ধরে পুষ্ট হওয়া এই সংস্কৃতি পার্টি আমলা নেতা মেহনতি মানুষের
মধ্যে জেঁকে বসে থাকে। তাকে উচ্ছেদ করতে হয়। ক্রুশ্চেভ ব্রেজনেভ চীনের তেঙ
শিয়াও পিঙরা এই চিন্তার ধারক ও বাহক। এদের মাধ্যমেই লেনিন স্তালিন মাওদের
বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী শক্তির মদতে। রাশিয়ায় এরা
জয়লাভ করে। পার্টির অভ্যন্তর থেকেই বিপদ ঘনিয়ে আসে। সাংস্কৃতিক জগতের
দুর্বলতাকে হাতিয়ার করে রাশিয়ায় সোভিয়েতের চীনে তেঙ সিয়াও পিঙের নেতৃত্বে
প্রতিবিপ্লবী অভ্যুথান রুখতে মাও সদর দপ্তরে কামান দাগার ডাক দেন। তাতে ছাত্র
যুবকদের তরফ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়। চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লব এগিয়ে
যায়। তেঙ পিছু হটে । কিন্তু সে সময়ের অপেক্ষায় থাকে। উপযুক্ত সময় বেছে নিয়ে সে
আবার প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে দলের মধ্যে সমাবেশিত করে। মাওয়ের মৃত্যুর পর সে
জয়লাভে সমর্থ হয়। চীন তার বিপ্লবী চরিত্র হারায়। এই তীব্রতম লড়াই চলার কালে
মাও নতুন মানুষ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। মাওয়ের শিক্ষাকে হাতিয়ার করে নকশালবাড়ির
পরবর্তী লড়াইয়ে চারু মজুমদারের নেতৃত্বে ছাত্র যুবকদের গ্রামে গিয়ে গরিব
মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার লড়াইয়ের উদাক্ত আহবান জানানো হয় সিপিআই এম এলের
তরফ থেকে। চলতি শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জগতের এই লড়াই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের
অঙ্গ যা সম্ভব হয় চেতনার সেই মহাস্ত্রকে আরো ধারালো করে। আজ ভারতে যে সব
অঞ্চলে বিপ্লবী ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে, ছত্তিশগড়ে জনাতনা সরকারের মত ভ্রুণাকারে
হলেও বিপ্লবী সরকার গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে সেখানে জনযুদ্ধের অংগ হিসাবে
সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।
মনে রাখতে হয় যে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের এই লড়াই এক কঠিন লড়াই। শুধু বাইরের শত্রু
নয় ঘরের শত্রু এমন কি নিজের বিরুদ্ধে নিজের এই লড়াই চেতনার জগতের শত্রু অনেক
বেশি শক্তিশালী।
                 ------------------------------------------------------------

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,