Skip to main content

নিবন্ধ ।। সুভাষচন্দ্রের অন্তর্ধান ।। আব্দুস সালাম


1935 এর ফেব্রুয়ারি রোম্যাঁ  রঁলা সুভাষচন্দ্র কে লিখেছিলেন". But we men of thought most each of us fight against the temptation that befalls in moments of fatigue and unsettledness  repairing to a world beyond the battle called God or art or freedom of the spirit of or those distant regions of the mystic soul . For fight we must as our duty lies on this side of the ocean on the battleground of men  "  । সুভাষ চন্দ্রের মধ্যে মরমিয়া প্রবণতা তিনি লক্ষ্য করেছিলেন। কিন্তু  দৃঢ়চেতা  আপোষহীন মানসিকতা এবং প্রতিবাদী মানুষটি অনেক দ্বিধা দ্বন্দের পর  রঁলা কথিত সংগ্রামকেই  মানুষের জন্য এই পথকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন। সুভাষচন্দ্র ছিলেন মানুষের জন্য নিবেদিত সংগ্রামী পুরুষ।

    বহু ভারতবাসীর আশা ছিল সুভাষচন্দ্র আবার  দেশে ফিরবেন । তিনিই সর্বভারতীয় বরেন্য নেতা ।তবু স্বাভাবিকভাবেই বাঙ্গালীদের কাছে তিনি সর্বাধিক প্রিয় । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হলো। খন্ডিত হলো ভারতবর্ষ ,কিন্তু নেতাজি সুভাষচন্দ্র আর দেশে  ফিরে এলেন না । একটি  জাপানি প্লেন      দুর্ঘটনায়  তার মৃত্যু কাহিনী প্রচারিত হয়েছিল বটে কিন্তু অধিকাংশ ভারতবাসীর কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। কারণ সে কাহিনীতে এত বেশি জল মেশানো  ছিল  যা তাকে অলিক বলেই মনে হয় ।সুভাষচন্দ্রের মত এমন আন্তর্জাতিক বড় মাপের নেতার এমন অকিঞ্চিৎকর পরিনিতি তা কখনই মেনে নেওয়া যায় না ।পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য ও গোপনীয়তা করার চেষ্টা হয়েছে বহুভাবে । সেই সব সন্দেহের নিরসন হয়নি। জাপানের রেনকোজি মন্দিরের অস্থীতত্ত্ব অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহ ধন্য ও স্বামী বিবেকানন্দের উত্তরসূরী । তিনি ছিলেন তারুণ্যের প্রতীক।  তিনি   বাঙালি জাতিকে  সাহস ও শৌর্যের  দিক্ষা দিয়েছেন । অস্ত্র বিমুখ বাক্যবাগীশ বাঙালি পেয়েছিল একজন উচ্চশিক্ষিত শাণিত বুদ্ধি অশ্বারোহী  এবং অস্ত্র সজ্জিত সৈনিক । এমনতর  নেতা পেয়ে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি  তার বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির ঈশ্বর। আমরা ভাবতে শুরু করি যে  তিনিই  হতে পারেন একমাত্র  পরিত্রাতা। তিনিই পারবেন ভারত মাতাকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি দিতে।

  তাঁর এই দেবতা হয়ে ওঠা অন্য সংগ্রামী নেতাদের  তা মোটেই পছন্দের ছিল না। তিনি যদি বিজয়ী সৈনিক বেশে আমাদের কাছে আসতেন তবে ভারতের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

   তথাকথিত সুভাষ বিরোধী লবি তাকে দেশদ্রোহী বলতে ও দ্বিধা করেনি। তাকে কুইসলিং বলতে ও অনেকের মুখ কাঁপেনি। জার্মানির সাহায্য চেয়েছেন এবং জাপানের সঙ্গে মিলিয়েছিলেন হাত।এর জন্য রাশিয়ান পন্থীরা রে রে করে তেড়ে এসেছে গেল গেল করে। তাদের যুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যদি  ইংরেজ তথা মিত্র বাহিনীর পরাজয় হতো তবে কি সুভাষচন্দ্র ভারতে  জাপানিদের কে   রাজত্ব  করতে দিতেন? স্বর্গের দেবতা কে মাটিতে টেনে এনে অপদস্থ করতে ছাড়েননি আমাদের বিচক্ষণ নেতগণ।  হায়রে রাজনীতির  বেড়া জাল ,তাকে অজ্ঞাতবাসেই  চিরকাল আমরা রেখে দিলাম। কূটনৈতিক চালে তার শেষ গতি বিধির সমস্ত প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হয় ।

  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে তার মৃত্যু হয়েছে না হয়নি তাই নিয়ে যতই জল ঘোলা হোক না কেন আমাদের চোখে তিনি চিরকাল যৌবনময় তেজদীপ্ত  মূর্তি।

রবীন্দ্রনাথ যাকে দেশনায়ক বলে বরণ করেছিলেন ভাগ্যের পরিহাসে তাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। আমরা মহান এই বলে গর্ব করি। মনে প্রশ্ন জাগে তিনি বাঙালি বলেই কি আমাদের এটা পাওনা। চিরকাল ভারতবর্ষের রাজনীতি তে বাঙালি জাতিকে কেউ পছন্দ করে নি, এখন ও করে না ।

কলকাতা থেকে কাবুল, কাবুল থেকে বার্লিন , বার্লিন থেকে সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর থেকে কোহিমা এই দুর্গম পথ তার পদ চিহ্ন  ধারণ করলো ।এই  মহান বীরকে  স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    বাস্তবিক ভাবে সুভাষচন্দ্র বসু ওরফে মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন সেদিন ঠিক কোথায় যাচ্ছিলেন এর উত্তর ঐতিহাসিকগণ আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি ।একটা লোক এলিগেন রোডের বাড়ি থেকে পালিয়ে  গেল পশ্চিম দিকে কাবুল ,আর  যখন ফিরে এলো তখন তার দলবল চলছে ইম্ফল, আর তার ঘাঁটি রেঙ্গুন_ এটা কি করে হয়? দ্বিতীয় কথা লোকটিকি  তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাসিষ্ট চক্রান্ত ও আক্রমণের শরীক? এমন একটা কথার গুঞ্জন তখন শোনা গিয়েছিল।

   সুভাষচন্দ্র বসুর যাত্রা পথ অনুসরণ করলে আমার দেখা দেখতে পাই লম্বা ওয়ান্ডারার মোটরে চড়ে  এলগিন রোড থেকে গভীর রাত্রে বেরিয়ে ,পরের দিন মাঝরাত পৌঁছালেন গোমো স্টেশনে । সেখান থেকে কালকা মেল দিল্লী। দিল্লী থেকে পেশোয়ার। পেশোয়া রেলওয়ে স্টেশনে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে  প্রদেশের ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা আকবর শাহ। সীমান্ত পার করে দেওয়ার জন্য তিনি তিনজন ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মী নির্বাচিত করে রেখেছিলেন একজন মোহাম্মদ শাহ (সীমান্তের ওপার তার অনেক বেশি জানাশোনা) , আবাদ খান (উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার সব পথগুলো তার চেনা), আর একজন হলেন ভগৎ রাম তলোয়ার (যার দাদাকে বছর দশেক আগে ইংরেজরা ফাঁসি দিয়ে ছিল)। এই তিনজন ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মীর সহযোগিতায় সুভাষচন্দ্র আফ্রিদি সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ও  টাট্টু ঘোড়া চড়ে, মাল বোঝাই ট্রাকে করে ভগৎ রাম তলোয়ার এর সঙ্গে চলে যান কাবুলের দিকে ।

    কলকাতা থেকে কাবুল, মস্কো , বার্লিন, টোকিও, সিঙ্গাপুর, রেঙ্গুন  , এই দীর্ঘ  ছিল  তার  যাত্রা পথ । কোন পূর্বপরিকল্পিত ছক ছিল না তার হাতে । প্রত্যেক পদক্ষেপে  বিপদ ওৎ পেতে আছে । আন্তর্জাতিক সন্ধি বিগ্রহ ঘটনাচক্র অনুসরণ করেই দিক নির্ণয় করতে হয়েছিল তাকে।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের  ইতিহাসে সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এই বিশ্বযাত্রা।

1936সাল। নাৎসি জার্মানি ঘুরে ভারতে ফিরবার পরে ডক্টর টিয়ারফেল্ডকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন ---" জার্মানির নতুন জাতীয়তাবাদ শুধু যে সংকীর্ণ ও স্বার্থপর  তাই নয়  তা হলো মদমত্ত।" কিন্তু তার দাদা শরৎচন্দ্র বসুর চোখে সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। তাঁর ধারণা ছিল ইংল্যান্ড ও আমেরিকা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে না , লড়াই করছে বিশ্বে প্রভুত্ব স্থাপন করার জন্য। এবং এটাই সঠিক অনুমান ছিল।

এই ব্যাপারে নেহরুর সাথে বসুর   শুরু হয় মত বিরোধ। যুদ্ধের সময় এই বিরোধ আরো চরমে ওঠে । বাধ্য হয়ে  নেহেরু তখন ঘোষণা করেন "Hitler and Japan must go to hell. I shall fight them to the end and this is my policy. I shall also fight Mr Subhas Bose and his party along with Japan if he comes to India."

 আজাদ হিন্দ ফৌজ জাপানি বাহিনীর সঙ্গে ভারতবর্ষে পৌছাবার পর কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ  বাঁধতে পারে এ কথা বুঝে তিনি গান্ধিজির উদ্দেশ্যে রেডিওতে ঘোষণা করেন যে" ইংরেজরা বিতাড়িত হওয়ার পর ভারতীয় জনগণই স্থির করবে কি ধরনের সরকার তারা চায় এবং কে তার নেতা হবে।"

  ডক্টর ডার্টের সাক্ষ্য থেকে আমরা জানতে পারি সুভাষচন্দ্র এমন এক ধরনের "সেন্ট্রালাইজড" ও "অথরিটারিয়ান" রাষ্ট্র পরিকল্পনা করেছিলেন যেখানে জাতীয় স্বার্থে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য কিছুটা খর্ব করতে হবে এবং তাতে সেনাবাহিনীর একটা বিশেষ গঠনমূলক ভূমিকা থাকবে ।"এখানে নেতাজির সঙ্গে নেহেরুর মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে । সুভাষ বসুর  দাদা শরৎচন্দ্র বসু ছোট ভাইয়ের অপেক্ষা অধিকতর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ গণতন্ত্রবাদী ছিলেন।

    

1940 সাল। পুনরায়  বিশ্ব রাজনীতির ধারা প্রকৃতি লক্ষ্য করে এটা  তার ধারণা হয় যে  বিদেশি  সাহায্য ছাড়া আমি দেশ স্বাধীন করা অসম্ভব।

 

সে সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে পক্ষ ছিল অক্ষত্রয়ী ও সোভিয়েত ইউনিয়ন । গোপন চুক্তি করে স্তালিন হিটলার তখন লিথুনিয়া, লাটভিয়া, এস্স্টোনিয়া বেসারেবিয়া ইতালি দেশ ভাগাভাগি করে নিয়েছে । জাপান তখনো নামেনি  । কিন্তু জার্মানি ও ইতালি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়ছে ।এইসব অক্ষশক্তি এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ।তাই  তাদের কাছ থেকে তিনি সাহায্য পাওয়ার আশা পোষণ করেছিলেন  ।কিন্তু তিনি এর মধ্যে কোন আদর্শগত মৈত্রী আমদানি করার পক্ষপাতি ছিলেন না। ওই চারটি রাষ্ট্রের আদর্শ মে এক নয় এটা ও তার কাছে স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে অক্ষয়ের আদর্শভেদ  সকলেই  জানত । কিন্তু অক্ষত্রয়ীর ভিতরেও যথেষ্ট  পার্থক্য  ছিল। জাপান ফ্যাসিবাদী শক্তি ছিলনা এবং জার্মানি বা  ইতালি রাষ্ট্রের সঙ্গে তার মূলগত সাদৃশ্য ও ছিল না ।সক্রিয় জাতীয়তাবাদ "এশিয়া বাসীদের জন্য এশিয়া "স্লোগান মূলত ছিল ইংরেজ  প্রভুত্বের অবসান ঘটানো ।আর এটাই ছিল জাপানের মূলমন্ত্র । এদিকে ইংরেজ ও আমেরিকার রেডিও প্রোপাগান্ডায় জার্মানি ইতালি সঙ্গে জাপান কেউ পররাজ্যগ্রাসী যুদ্ধবাজদের শিবিরের ঢুকিয়ে একাকার করে দিতে বদ্ধপরিকর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে এটা বাস্তব ছিল না। জার্মানরা নিজেদের প্রভুত্ব বিস্তারের জন্য যুদ্ধ বাধিয়েছিল। জাপান এ যুদ্ধে যেতে রাজি ছিল না। জাপান তখন শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে ।ভীত হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা । ইউরোপে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার ভয়ে এবং চীন জাপান যুদ্ধ লেগে যাবে এই আশংকায় তারা জাপানে তেল আসা বন্ধ করে দেয়। জাপানের সঞ্চিত তেল ফুরোতে শুরু করে। জাপান মরিয়া হয়ে  ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ অয়েল ফিল্ডগুলো দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করে। জাপান বিপদ থেকে বেরিয়ে আসে ও পার্ল হারবার এ হানা দেয়।এর ফলে ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর ও এশিয়া তে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জাপানের মূল লক্ষ্য ছিল ইঙ্গোমার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে এশিয়া বাসীদের রক্ষা করা।

 

  ভারতবর্ষের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে তিনি গুপ্ত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন ।কারণ জাপান ইংরেজদের শক্তিশালী শত্রু ।তাই তিনি দেশ থেকে পালাবার আগে জাপানে তিনি যে গুপ্ত দূত পাঠান তার ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ায় সেই চাল বানচাল হয়ে যায়। জার্মানিতে পৌঁছে তিনি জাপানের সঙ্গে চীনের বিরোধ বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন ।দুই দেশের আসল শত্রু সাম্রাজ্যবাদ। জাপানের পৌঁছে তিনি দেখলেন ইংল্যান্ড ও আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে নিরত জাপান চীনের সঙ্গে একটা সমঝোতা করে নিতে আগ্রহী  ।কিন্তু তখন ইংরেজ ও আমেরিকানদের সাহায্য নিয়ে প্রাণপণ লড়ছে ।দেখেশুনে সুভাষচন্দ্র ধারণা হলো আমেরিকার সঙ্গে লড়াইয়ে জাপান যদি হেরে যায় তাহলে চীন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শিকার হবে  তিনি দেখলেন  যুদ্ধে যাওয়ার পর জাপানি জাতি ও জাপান সরকার একটা নতুনভাবে  ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে ।এই নবচেতনা "এশিয়াটিক চেতনা" যার বশবর্তী হয়ে জাপান চাই চীনের সঙ্গে ঝগড়া মিটিয়ে নিতে এবংফিলিপিনস ব্রহ্মদেশ এবং ভারতবর্ষকে স্বাধীন সাম্রাজ্য বিরোধী  রাষ্ট্র হিসেবে পেতে চাই।

    সুভাষচন্দ্র যখন রাশিয়া হয়ে জার্মানি পৌঁছচ্ছেন তখন অত্যন্ত গোপনে রিবেনট্রপ ও মলটোভের  মধ্যে কথা বার্তা হচ্ছিল ।  তিনি বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন জার্মানরা পূর্ব ইউরোপে কি করতে চায়? বিশ্বভাগে তার আপত্তি নেই ,কিন্তু দানিউব উপত্যকা টা তার  চাই । হিটলারের  মেজাজ চড়তে লাগলো ।এই সবকিছু  সুভাষচন্দ্র জানতেন না   ।তিনি জানতে পারলেন না যে আসলে হিটলারের লড়াই করতে চান ইংরেজদের সঙ্গে নয়  রুশদের  সঙ্গে  ।ইংরেজদের সঙ্গে জার্মানের লড়াই করতে হচ্ছে কিন্তু আসলে তা নয়  ।চার্চিল ভারতবর্ষের  দখল রাখুক না কেন হিটলার তাতে কোনো আপত্তি নেই বরং যথেষ্ঠ সহানুভূতিশীল  । ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা পাবার যোগ্যতা অর্জন করতে আরো 100 থেকে 150 বছর সময় লাগবে ইংরেজরা সেখানে নির্বিবাদে রাজত্ব করুক । জার্মানিরা রাশিয়া পেয়ে তাদেরকে" ভারতবর্ষে" বানিয়ে দেবে। ভিতরে ভিতরে সব পরিকল্পনা যখন করা হচ্ছে সুভাষচন্দ্র পক্ষে এতো জানা সম্ভব ছিল না ।তিনি জানতেন না যে  হিটলার ও স্টালিনের বিন্দুমাত্র  মাথাব্যথা নেই ভারতবর্ষ স্বাধীন হোক বা না হোক ।

 কাবুল যাবার সময় সুভাষচন্দ্র বসুর মাথায় ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল তা তিনি কোথাও লিপিবদ্ধ করে যাননি। যার সঙ্গে তিনি ছক নিয়ে বিশেষভাবে পরামর্শ করেছিলেন সেই শরৎচন্দ্র বসু  ও কাউকে কিছু বলে যাননি। কলকাতা থেকে পালাতে সাহায্য করেছে তার ভাই পো । কিন্তু তাদের কাছে এ সব কথা ভেঙে বলার নয় ।কাবুলের পৌঁছে তিনি যা যা করলেন তা থেকে আন্দাজ করে নিতে হবে তার মাথায় কি উদ্দেশ্য ছিল।

     দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। তার একটা ই লক্ষ্য ভারতকে স্বাধীন করতে হবে। সুভাষ বসুর কূটনীতির মূল লক্ষ্য ছিল অক্ষত্রয়ী ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ইংরেজ বিরোধী জোট গড়ে তোলা। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে অক্ষত্রয়ী মিলে গেলে জাপান নিশ্চিন্তে সিঙ্গাপুরে হানা দিতে পারবে। তাকে রুশ শত্রুর ভয়ে পিছু তাকাতে হবে না।  আবার এজন্য জার্মানিকে তৎপর হতে হবে এবং মস্কোকে ঠিক পথে চালিত করতে হবে ।ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটা জগৎজোড়া চতুর শক্তি জোট গড়ে উঠবে । জার্মানি, ইতালি ,সোভিয়েত ইউনিয়ন ও জাপানের সহযোগিতায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে ভারতবর্ষ স্বাধীন হবে।এই ছিল সুভাষ বসুর স্বপ্ন ।

    একই সঙ্গে ইতালিও  জার্মান বাহিনী উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম প্রাচ্য দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে যাবে আর সিংগাপুর দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসবে জাপানি নৌবহর ।

   সুভাষ চন্দ্র দেখলেন ভারতবর্ষ কে স্বাধীন বলে ঘোষণা করার কোন ইচ্ছাই হিটলারের নেই ।তার ইচ্ছে ছিলো কিভাবে রাশিয়া জয় করা যেতে পারে । তিনি দেখলেন কাবুল ও উত্তর পশ্চিম সীমান্তে যে সংগঠন গড়ে তোলার কথা ভেবেছিলেন সেটাও বানচাল হয়ে গেল।  এদিকে ভগৎরাম ও ইংরেজ দের হাতে ধরা পড়ে যায় ।প্রাণ বাঁচাতে সে স্বীকার করে নেয় সে নাকি  মস্কোর গুপ্তচর। মস্কোর নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর পশ্চিম সীমান্তে সুভাষচন্দ্রের সহযোগীদের ধরিয়ে দেয়। ভগৎরামের দল "কীর্তি কিষাণ পার্টি"ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে  ভিড়ে যায়। এতে মারাত্মকভাবে  তিনি মুষড়ে পড়েন । ইউরোপের প্রচেষ্টা অসফল হওয়ায় সুভাষের নজর পড়লো জাপানের উপর । পূর্ব প্রাচ্যে বাঁধলো যুদ্ধ।    সিঙ্গাপুর ও রেঙ্গুন    চলে গেল জাপানের হাতে। জাপানিরা হিটলারের কাছে ভারতে ক্রিপস মিশন পৌঁছানোর আগে ভাগে প্রস্তাব দিল জাপান-জার্মানি বাহিনী এগিয়ে এসে  ভারত মহাসাগরে মিলিত হওয়া প্রয়োজন। আর প্রয়োজন  হলে হিটলার  রাশিয়ার সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে ফেলুন । কারণ মিত্রপক্ষকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে হলে আগে ভারত মহাসাগরে অক্ষত্রয়ীর মিলিত হওয়া প্রয়োজন। হিটলার কিন্তু এই প্রস্তাবে কান দিলেন না । তার একমাত্র লক্ষ্য রাশিয়া জয় করা ,ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভগ্ন করাটা  তার লক্ষ্য নয়। 1942 সালে অক্ষশক্তির মিলিত হওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল তা হারিয়ে গেল।স্তালিনগ্রাডে জার্মান বাহিনী আটকে গেল। জাপানিরা সিংহল আক্রমণ করে  ভারতে হানা দেওয়ার যে ছক কষে ছিল তাও ভেস্তে গেল। কেননা  হিটলার বাহিনী মিশর থেকে  ভারত মহাসাগরে এগিয়ে আসতে তৈরি নয় । এই সময়ে" ভারত ছাড়ো " আন্দোলন  জোরদার হয় । কিন্তু  জাপান ও    জার্মান বাহিনী কোন দেশই ভারত আক্রমন করতে প্রস্তুত নয়। সুভাষ বসুর ছক ছিল "বহিঃ আক্রমণ ও ভারতের অভ্যুত্থান" জোড়া আক্রমণ  ঘটলে ইংরেজরা পিছু হটতে বাধ্য হবে ।  এটা ফলপ্রসূ হয়নি বলে তার ক্ষোভ বাড়তে লাগলো । তিনি জাপান পালিয়ে আসতে মনস্থির করেন । কিন্তু আসবেন কিভাবে ?

 অনেক আলাপ আলোচনার পর ঠিক হয় তাকে সাবমেরিন করে পূর্ব প্রাচ্যে পাঠানো যেতে পারে। হিটলার ও সুভাষ এর মধ্যে শেষ সাক্ষাৎ ঘটে। হিটলার সুভাষ কে  বলেন জার্মান ডুবো জাহাজ ও উড়োজাহাজ  নিয়ে ইংরেজদের উপর বার বার আঘাত হানছে। এর বেশি ভারতের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি ম্যাপ দেখিয়ে প্রমাণ করে দেন যে ভারত এখান থেকে অনেক দূরে।তাই এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।

  বহু প্রতিক্ষার পর অবশেষে সুভাষচন্দ্র পূর্ব প্রাচ্যে পৌঁছালেন ।আজাদ হিন্দ ফৌজ রওনা দিল ইম্ফলের উদ্দেশ্যে । তখন বড্ড দেরী হয়ে গেছে।  জার্মানরা রাশিয়ায় পিছু হটতে শুরু করেছে । প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানিরা আমেরিকানদের সাথে পেরে উঠতে পারছেনা । এদিকে ভারত আক্রমন করার কোন প্ল্যান জাপান সরকার তৈরি করেনি। জাপানি বাহিনী ও আজাদ হিন্দ ফৌজ সাময়িক ভাবে অভিযান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলো।

  টোকিও তে বসে সুভাষ রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। তাদের কে বোঝালেন মিত্র পক্ষ ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এর স্বার্থ এক নয়।তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা ভারতের স্বাধীনতার দিকে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করুন।

        জাপান যখন পশ্চাদপসরণ করছে তখন সুভাষচন্দ্র বসুর অনুরোধে আজাদ হিন্দ সরকারের অন্তত সর্বাধিনায়ক কে রাশিয়া পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে রাশিয়া ও জাপান  তখন পরস্পরের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত। তবে জাপানের সেনারা সুভাষচন্দ্র বোস কে শ্রদ্ধা করতেন বলেই শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হন । সুভাষচন্দ্র যদি রাশিয়া পৌঁছাতে পারতেন তবে কি হতো বলা মুশকিল। কেননা রুশদের ধারণা ছিল ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে  বিরোধের  তলে তলে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে। তা নাহলে অত সহজে কাবুলে পৌঁছে গেলেন কিভাবে?আর ইংরেজরা ও জেনে শুনে তার পৌঁছে যাওয়া আটকালো না কেন? অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খায়।

     বাস্তবিক ভাবে সুভাষচন্দ্র  কোন বৃহৎ শক্তির হাতে নিজেকে সমর্পণ করতে চাননি। তিনি তাদের কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন মাত্র । তার একটাই উদ্দেশ্য ভারতের মুক্তি । ভারতের মুক্তির জন্য শত্রু পক্ষের বক্তব্য ছিল  সুভাষচন্দ্রকে বাইরের শক্তি কাজে লাগাচ্ছে ।আসলে রুশদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে তার উল্টোটা চোখে পড়ে। তারা সন্দেহ করছে বাইরের শক্তি গুলো সুভাষচন্দ্র কে কাজে লাগাচ্ছে। এই মত বিরোধ রুখতে সুভাষচন্দ্র মহাত্মা গান্ধীর উদ্দেশ্যে রেডিও ভাষণে বলেছিলেন" On who has stood for national self respect and honour of his life and has suffered considerably in vindicating it, would be the last person in this world to give in to any other foreign power."।

   অবশেষে জাপানি প্লেন মাঞ্চুরিয়া নিয়ে  যেতে রাজি হলো। পরিকল্পনা ছিল রুশ সেনাবাহিনীর কাছাকাছি প্যারাস্যুট দিয়ে নামবেন। অন্য দিকে আজাদ হিন্দ ফৌজ রেঙ্গুন থেকে পিছু হটে সাইগন আসে। সাইগন থেকে প্লেন রওনা হলো তাইপে।  তাইহেকু বিমান বন্দরে  18আগষ্ট প্লেনের জ্বালানি কম থাকায় জ্বালানি  নিতে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হলো । জ্বালানি ভরে নিয়ে উড়তে যাওয়ার সময় দেখা দেয় বিপত্তি। ইঞ্জিনের সমস্যা থাকায় ভেঙে পড়লো প্লেন।দাউ দাউ করে তা জ্বলে উঠলো  । পড়িমরি করে  বিমান যাত্রীরা প্লেন থেকে নামতে সবাই ব্যাস্ত। সুভাষচন্দ্র যখন নেমে এলেন তখন মনে হচ্ছিল যেন একটা আগুন মানুষ  বেরিয়ে আসছে । সমস্ত শরীর দিয়ে বেরুচ্ছে লকলকে আগুন। তাড়াতাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। তখন তার সাথী ছিলেন হাবিবুর রহমান। হাসপাতালে বেডে বলতে লাগলেন জাপানি ভাষায় মিজু,মিজু (মানে জল জল)।

 আক্ষেপ করে অতি কষ্ট করে হাবিবুর রহমানকে বারবার বলতে লাগলেন ভারতের স্বাধীনতা না দেখেই তাকে চলে যেতে হচ্ছে। এটা আমার তথা ভারতবাসীর দুর্ভাগ্য। কিন্তু তিনি দেখতে পাচ্ছেন ভারতের স্বাধীনতা  অতি সন্নিকটে। এভাবেই তিনি আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

আমরা হারালাম আমাদের প্রিয় নেতাকে।

 ##############


তথ্যঃ

প্রসঙ্গ সুভাষ ( কৃষ্ঞা বসু) আনন্দ পাবলিশার্স

আধুনিক ভারত দ্বিতীয় খণ্ড প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায় (1920-1947) কলকাতা 1999

সুভাষচন্দ্র একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন, পশ্চিম বঙ্গ পত্রিকা (ডিসেম্বর-জানুয়ারী) সংখ্যা 1996-1997

 

 ==============================


 
আব্দুস সালাম, মুর্শিদাবাদ।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা

 দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ১. আমার হিয়ার মাঝে... শরীর জুড়ে যাত্রাপালা, নাচ-গান, নাটক  দর্শক আমি শ্রমের বিনিময়ে  মঞ্চ বলতে ঘর-বারান্দা শ্রোতা বলতে আমি ও রবীন্দ্রনাথ  হঠাৎ চারপাশে অজস্র রবীন্দ্রনাথ  ভর করে শিল্পীর মাথায়  শিল্পী বেজে ওঠে প্রকৃতির খেয়ালে  আমার হিয়ার মাঝে... ............................ ২. আমায় যে সব দিতে হবে  নিজের অন্তরে প্রত্যেকে ভিক্ষুক  ভিক্ষার হাহাকার নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ  প্রত্যাশার ঝুলি নিয়ে  ভোর কাঁধে করে   বের হয় এক - একটি রাস্তা  আত্মদানে কেউ মুখর নয় এক বাউল সকাল  মিথ্যে রঙের একতারা বাজিয়ে  গেয়ে ওঠে    আমায় যে সব দিতে হবে...  ............................ ৩.যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা আকাশের চেয়ে উঁচু দু:খকে পার হতে পাখিকে শিখতে হলো উড়ান গাছেরাও শিখে নিলো বিবাহ সঙ্গীত  নামগান করতে করতে উড়ে গেলো প্রজাপতি  নদীর কাছে নতজানু হলো মানুষ  জেগে উঠলো নদী বেজে উঠলো নদী যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা  ............................ ৪.  প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে রাস্...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো