Skip to main content

নিবন্ধ ।। সুভাষচন্দ্রের অন্তর্ধান ।। আব্দুস সালাম


1935 এর ফেব্রুয়ারি রোম্যাঁ  রঁলা সুভাষচন্দ্র কে লিখেছিলেন". But we men of thought most each of us fight against the temptation that befalls in moments of fatigue and unsettledness  repairing to a world beyond the battle called God or art or freedom of the spirit of or those distant regions of the mystic soul . For fight we must as our duty lies on this side of the ocean on the battleground of men  "  । সুভাষ চন্দ্রের মধ্যে মরমিয়া প্রবণতা তিনি লক্ষ্য করেছিলেন। কিন্তু  দৃঢ়চেতা  আপোষহীন মানসিকতা এবং প্রতিবাদী মানুষটি অনেক দ্বিধা দ্বন্দের পর  রঁলা কথিত সংগ্রামকেই  মানুষের জন্য এই পথকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন। সুভাষচন্দ্র ছিলেন মানুষের জন্য নিবেদিত সংগ্রামী পুরুষ।

    বহু ভারতবাসীর আশা ছিল সুভাষচন্দ্র আবার  দেশে ফিরবেন । তিনিই সর্বভারতীয় বরেন্য নেতা ।তবু স্বাভাবিকভাবেই বাঙ্গালীদের কাছে তিনি সর্বাধিক প্রিয় । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হলো। খন্ডিত হলো ভারতবর্ষ ,কিন্তু নেতাজি সুভাষচন্দ্র আর দেশে  ফিরে এলেন না । একটি  জাপানি প্লেন      দুর্ঘটনায়  তার মৃত্যু কাহিনী প্রচারিত হয়েছিল বটে কিন্তু অধিকাংশ ভারতবাসীর কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। কারণ সে কাহিনীতে এত বেশি জল মেশানো  ছিল  যা তাকে অলিক বলেই মনে হয় ।সুভাষচন্দ্রের মত এমন আন্তর্জাতিক বড় মাপের নেতার এমন অকিঞ্চিৎকর পরিনিতি তা কখনই মেনে নেওয়া যায় না ।পরস্পরবিরোধী সাক্ষ্য ও গোপনীয়তা করার চেষ্টা হয়েছে বহুভাবে । সেই সব সন্দেহের নিরসন হয়নি। জাপানের রেনকোজি মন্দিরের অস্থীতত্ত্ব অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহ ধন্য ও স্বামী বিবেকানন্দের উত্তরসূরী । তিনি ছিলেন তারুণ্যের প্রতীক।  তিনি   বাঙালি জাতিকে  সাহস ও শৌর্যের  দিক্ষা দিয়েছেন । অস্ত্র বিমুখ বাক্যবাগীশ বাঙালি পেয়েছিল একজন উচ্চশিক্ষিত শাণিত বুদ্ধি অশ্বারোহী  এবং অস্ত্র সজ্জিত সৈনিক । এমনতর  নেতা পেয়ে উজ্জীবিত হয়েছিল বাঙালি জাতি  তার বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির ঈশ্বর। আমরা ভাবতে শুরু করি যে  তিনিই  হতে পারেন একমাত্র  পরিত্রাতা। তিনিই পারবেন ভারত মাতাকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি দিতে।

  তাঁর এই দেবতা হয়ে ওঠা অন্য সংগ্রামী নেতাদের  তা মোটেই পছন্দের ছিল না। তিনি যদি বিজয়ী সৈনিক বেশে আমাদের কাছে আসতেন তবে ভারতের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

   তথাকথিত সুভাষ বিরোধী লবি তাকে দেশদ্রোহী বলতে ও দ্বিধা করেনি। তাকে কুইসলিং বলতে ও অনেকের মুখ কাঁপেনি। জার্মানির সাহায্য চেয়েছেন এবং জাপানের সঙ্গে মিলিয়েছিলেন হাত।এর জন্য রাশিয়ান পন্থীরা রে রে করে তেড়ে এসেছে গেল গেল করে। তাদের যুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যদি  ইংরেজ তথা মিত্র বাহিনীর পরাজয় হতো তবে কি সুভাষচন্দ্র ভারতে  জাপানিদের কে   রাজত্ব  করতে দিতেন? স্বর্গের দেবতা কে মাটিতে টেনে এনে অপদস্থ করতে ছাড়েননি আমাদের বিচক্ষণ নেতগণ।  হায়রে রাজনীতির  বেড়া জাল ,তাকে অজ্ঞাতবাসেই  চিরকাল আমরা রেখে দিলাম। কূটনৈতিক চালে তার শেষ গতি বিধির সমস্ত প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হয় ।

  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে তার মৃত্যু হয়েছে না হয়নি তাই নিয়ে যতই জল ঘোলা হোক না কেন আমাদের চোখে তিনি চিরকাল যৌবনময় তেজদীপ্ত  মূর্তি।

রবীন্দ্রনাথ যাকে দেশনায়ক বলে বরণ করেছিলেন ভাগ্যের পরিহাসে তাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। আমরা মহান এই বলে গর্ব করি। মনে প্রশ্ন জাগে তিনি বাঙালি বলেই কি আমাদের এটা পাওনা। চিরকাল ভারতবর্ষের রাজনীতি তে বাঙালি জাতিকে কেউ পছন্দ করে নি, এখন ও করে না ।

কলকাতা থেকে কাবুল, কাবুল থেকে বার্লিন , বার্লিন থেকে সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর থেকে কোহিমা এই দুর্গম পথ তার পদ চিহ্ন  ধারণ করলো ।এই  মহান বীরকে  স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    বাস্তবিক ভাবে সুভাষচন্দ্র বসু ওরফে মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন সেদিন ঠিক কোথায় যাচ্ছিলেন এর উত্তর ঐতিহাসিকগণ আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি ।একটা লোক এলিগেন রোডের বাড়ি থেকে পালিয়ে  গেল পশ্চিম দিকে কাবুল ,আর  যখন ফিরে এলো তখন তার দলবল চলছে ইম্ফল, আর তার ঘাঁটি রেঙ্গুন_ এটা কি করে হয়? দ্বিতীয় কথা লোকটিকি  তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাসিষ্ট চক্রান্ত ও আক্রমণের শরীক? এমন একটা কথার গুঞ্জন তখন শোনা গিয়েছিল।

   সুভাষচন্দ্র বসুর যাত্রা পথ অনুসরণ করলে আমার দেখা দেখতে পাই লম্বা ওয়ান্ডারার মোটরে চড়ে  এলগিন রোড থেকে গভীর রাত্রে বেরিয়ে ,পরের দিন মাঝরাত পৌঁছালেন গোমো স্টেশনে । সেখান থেকে কালকা মেল দিল্লী। দিল্লী থেকে পেশোয়ার। পেশোয়া রেলওয়ে স্টেশনে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে  প্রদেশের ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা আকবর শাহ। সীমান্ত পার করে দেওয়ার জন্য তিনি তিনজন ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মী নির্বাচিত করে রেখেছিলেন একজন মোহাম্মদ শাহ (সীমান্তের ওপার তার অনেক বেশি জানাশোনা) , আবাদ খান (উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার সব পথগুলো তার চেনা), আর একজন হলেন ভগৎ রাম তলোয়ার (যার দাদাকে বছর দশেক আগে ইংরেজরা ফাঁসি দিয়ে ছিল)। এই তিনজন ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মীর সহযোগিতায় সুভাষচন্দ্র আফ্রিদি সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ও  টাট্টু ঘোড়া চড়ে, মাল বোঝাই ট্রাকে করে ভগৎ রাম তলোয়ার এর সঙ্গে চলে যান কাবুলের দিকে ।

    কলকাতা থেকে কাবুল, মস্কো , বার্লিন, টোকিও, সিঙ্গাপুর, রেঙ্গুন  , এই দীর্ঘ  ছিল  তার  যাত্রা পথ । কোন পূর্বপরিকল্পিত ছক ছিল না তার হাতে । প্রত্যেক পদক্ষেপে  বিপদ ওৎ পেতে আছে । আন্তর্জাতিক সন্ধি বিগ্রহ ঘটনাচক্র অনুসরণ করেই দিক নির্ণয় করতে হয়েছিল তাকে।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের  ইতিহাসে সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এই বিশ্বযাত্রা।

1936সাল। নাৎসি জার্মানি ঘুরে ভারতে ফিরবার পরে ডক্টর টিয়ারফেল্ডকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন ---" জার্মানির নতুন জাতীয়তাবাদ শুধু যে সংকীর্ণ ও স্বার্থপর  তাই নয়  তা হলো মদমত্ত।" কিন্তু তার দাদা শরৎচন্দ্র বসুর চোখে সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। তাঁর ধারণা ছিল ইংল্যান্ড ও আমেরিকা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে না , লড়াই করছে বিশ্বে প্রভুত্ব স্থাপন করার জন্য। এবং এটাই সঠিক অনুমান ছিল।

এই ব্যাপারে নেহরুর সাথে বসুর   শুরু হয় মত বিরোধ। যুদ্ধের সময় এই বিরোধ আরো চরমে ওঠে । বাধ্য হয়ে  নেহেরু তখন ঘোষণা করেন "Hitler and Japan must go to hell. I shall fight them to the end and this is my policy. I shall also fight Mr Subhas Bose and his party along with Japan if he comes to India."

 আজাদ হিন্দ ফৌজ জাপানি বাহিনীর সঙ্গে ভারতবর্ষে পৌছাবার পর কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ  বাঁধতে পারে এ কথা বুঝে তিনি গান্ধিজির উদ্দেশ্যে রেডিওতে ঘোষণা করেন যে" ইংরেজরা বিতাড়িত হওয়ার পর ভারতীয় জনগণই স্থির করবে কি ধরনের সরকার তারা চায় এবং কে তার নেতা হবে।"

  ডক্টর ডার্টের সাক্ষ্য থেকে আমরা জানতে পারি সুভাষচন্দ্র এমন এক ধরনের "সেন্ট্রালাইজড" ও "অথরিটারিয়ান" রাষ্ট্র পরিকল্পনা করেছিলেন যেখানে জাতীয় স্বার্থে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য কিছুটা খর্ব করতে হবে এবং তাতে সেনাবাহিনীর একটা বিশেষ গঠনমূলক ভূমিকা থাকবে ।"এখানে নেতাজির সঙ্গে নেহেরুর মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে । সুভাষ বসুর  দাদা শরৎচন্দ্র বসু ছোট ভাইয়ের অপেক্ষা অধিকতর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ গণতন্ত্রবাদী ছিলেন।

    

1940 সাল। পুনরায়  বিশ্ব রাজনীতির ধারা প্রকৃতি লক্ষ্য করে এটা  তার ধারণা হয় যে  বিদেশি  সাহায্য ছাড়া আমি দেশ স্বাধীন করা অসম্ভব।

 

সে সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে পক্ষ ছিল অক্ষত্রয়ী ও সোভিয়েত ইউনিয়ন । গোপন চুক্তি করে স্তালিন হিটলার তখন লিথুনিয়া, লাটভিয়া, এস্স্টোনিয়া বেসারেবিয়া ইতালি দেশ ভাগাভাগি করে নিয়েছে । জাপান তখনো নামেনি  । কিন্তু জার্মানি ও ইতালি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়ছে ।এইসব অক্ষশক্তি এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ।তাই  তাদের কাছ থেকে তিনি সাহায্য পাওয়ার আশা পোষণ করেছিলেন  ।কিন্তু তিনি এর মধ্যে কোন আদর্শগত মৈত্রী আমদানি করার পক্ষপাতি ছিলেন না। ওই চারটি রাষ্ট্রের আদর্শ মে এক নয় এটা ও তার কাছে স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে অক্ষয়ের আদর্শভেদ  সকলেই  জানত । কিন্তু অক্ষত্রয়ীর ভিতরেও যথেষ্ট  পার্থক্য  ছিল। জাপান ফ্যাসিবাদী শক্তি ছিলনা এবং জার্মানি বা  ইতালি রাষ্ট্রের সঙ্গে তার মূলগত সাদৃশ্য ও ছিল না ।সক্রিয় জাতীয়তাবাদ "এশিয়া বাসীদের জন্য এশিয়া "স্লোগান মূলত ছিল ইংরেজ  প্রভুত্বের অবসান ঘটানো ।আর এটাই ছিল জাপানের মূলমন্ত্র । এদিকে ইংরেজ ও আমেরিকার রেডিও প্রোপাগান্ডায় জার্মানি ইতালি সঙ্গে জাপান কেউ পররাজ্যগ্রাসী যুদ্ধবাজদের শিবিরের ঢুকিয়ে একাকার করে দিতে বদ্ধপরিকর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে এটা বাস্তব ছিল না। জার্মানরা নিজেদের প্রভুত্ব বিস্তারের জন্য যুদ্ধ বাধিয়েছিল। জাপান এ যুদ্ধে যেতে রাজি ছিল না। জাপান তখন শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে ।ভীত হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা । ইউরোপে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার ভয়ে এবং চীন জাপান যুদ্ধ লেগে যাবে এই আশংকায় তারা জাপানে তেল আসা বন্ধ করে দেয়। জাপানের সঞ্চিত তেল ফুরোতে শুরু করে। জাপান মরিয়া হয়ে  ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ অয়েল ফিল্ডগুলো দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করে। জাপান বিপদ থেকে বেরিয়ে আসে ও পার্ল হারবার এ হানা দেয়।এর ফলে ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর ও এশিয়া তে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জাপানের মূল লক্ষ্য ছিল ইঙ্গোমার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে এশিয়া বাসীদের রক্ষা করা।

 

  ভারতবর্ষের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে তিনি গুপ্ত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন ।কারণ জাপান ইংরেজদের শক্তিশালী শত্রু ।তাই তিনি দেশ থেকে পালাবার আগে জাপানে তিনি যে গুপ্ত দূত পাঠান তার ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ায় সেই চাল বানচাল হয়ে যায়। জার্মানিতে পৌঁছে তিনি জাপানের সঙ্গে চীনের বিরোধ বিরোধ মিটিয়ে দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন ।দুই দেশের আসল শত্রু সাম্রাজ্যবাদ। জাপানের পৌঁছে তিনি দেখলেন ইংল্যান্ড ও আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে নিরত জাপান চীনের সঙ্গে একটা সমঝোতা করে নিতে আগ্রহী  ।কিন্তু তখন ইংরেজ ও আমেরিকানদের সাহায্য নিয়ে প্রাণপণ লড়ছে ।দেখেশুনে সুভাষচন্দ্র ধারণা হলো আমেরিকার সঙ্গে লড়াইয়ে জাপান যদি হেরে যায় তাহলে চীন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শিকার হবে  তিনি দেখলেন  যুদ্ধে যাওয়ার পর জাপানি জাতি ও জাপান সরকার একটা নতুনভাবে  ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে ।এই নবচেতনা "এশিয়াটিক চেতনা" যার বশবর্তী হয়ে জাপান চাই চীনের সঙ্গে ঝগড়া মিটিয়ে নিতে এবংফিলিপিনস ব্রহ্মদেশ এবং ভারতবর্ষকে স্বাধীন সাম্রাজ্য বিরোধী  রাষ্ট্র হিসেবে পেতে চাই।

    সুভাষচন্দ্র যখন রাশিয়া হয়ে জার্মানি পৌঁছচ্ছেন তখন অত্যন্ত গোপনে রিবেনট্রপ ও মলটোভের  মধ্যে কথা বার্তা হচ্ছিল ।  তিনি বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন জার্মানরা পূর্ব ইউরোপে কি করতে চায়? বিশ্বভাগে তার আপত্তি নেই ,কিন্তু দানিউব উপত্যকা টা তার  চাই । হিটলারের  মেজাজ চড়তে লাগলো ।এই সবকিছু  সুভাষচন্দ্র জানতেন না   ।তিনি জানতে পারলেন না যে আসলে হিটলারের লড়াই করতে চান ইংরেজদের সঙ্গে নয়  রুশদের  সঙ্গে  ।ইংরেজদের সঙ্গে জার্মানের লড়াই করতে হচ্ছে কিন্তু আসলে তা নয়  ।চার্চিল ভারতবর্ষের  দখল রাখুক না কেন হিটলার তাতে কোনো আপত্তি নেই বরং যথেষ্ঠ সহানুভূতিশীল  । ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা পাবার যোগ্যতা অর্জন করতে আরো 100 থেকে 150 বছর সময় লাগবে ইংরেজরা সেখানে নির্বিবাদে রাজত্ব করুক । জার্মানিরা রাশিয়া পেয়ে তাদেরকে" ভারতবর্ষে" বানিয়ে দেবে। ভিতরে ভিতরে সব পরিকল্পনা যখন করা হচ্ছে সুভাষচন্দ্র পক্ষে এতো জানা সম্ভব ছিল না ।তিনি জানতেন না যে  হিটলার ও স্টালিনের বিন্দুমাত্র  মাথাব্যথা নেই ভারতবর্ষ স্বাধীন হোক বা না হোক ।

 কাবুল যাবার সময় সুভাষচন্দ্র বসুর মাথায় ঠিক কী পরিকল্পনা ছিল তা তিনি কোথাও লিপিবদ্ধ করে যাননি। যার সঙ্গে তিনি ছক নিয়ে বিশেষভাবে পরামর্শ করেছিলেন সেই শরৎচন্দ্র বসু  ও কাউকে কিছু বলে যাননি। কলকাতা থেকে পালাতে সাহায্য করেছে তার ভাই পো । কিন্তু তাদের কাছে এ সব কথা ভেঙে বলার নয় ।কাবুলের পৌঁছে তিনি যা যা করলেন তা থেকে আন্দাজ করে নিতে হবে তার মাথায় কি উদ্দেশ্য ছিল।

     দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। তার একটা ই লক্ষ্য ভারতকে স্বাধীন করতে হবে। সুভাষ বসুর কূটনীতির মূল লক্ষ্য ছিল অক্ষত্রয়ী ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ইংরেজ বিরোধী জোট গড়ে তোলা। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে অক্ষত্রয়ী মিলে গেলে জাপান নিশ্চিন্তে সিঙ্গাপুরে হানা দিতে পারবে। তাকে রুশ শত্রুর ভয়ে পিছু তাকাতে হবে না।  আবার এজন্য জার্মানিকে তৎপর হতে হবে এবং মস্কোকে ঠিক পথে চালিত করতে হবে ।ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটা জগৎজোড়া চতুর শক্তি জোট গড়ে উঠবে । জার্মানি, ইতালি ,সোভিয়েত ইউনিয়ন ও জাপানের সহযোগিতায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে ভারতবর্ষ স্বাধীন হবে।এই ছিল সুভাষ বসুর স্বপ্ন ।

    একই সঙ্গে ইতালিও  জার্মান বাহিনী উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম প্রাচ্য দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে যাবে আর সিংগাপুর দিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসবে জাপানি নৌবহর ।

   সুভাষ চন্দ্র দেখলেন ভারতবর্ষ কে স্বাধীন বলে ঘোষণা করার কোন ইচ্ছাই হিটলারের নেই ।তার ইচ্ছে ছিলো কিভাবে রাশিয়া জয় করা যেতে পারে । তিনি দেখলেন কাবুল ও উত্তর পশ্চিম সীমান্তে যে সংগঠন গড়ে তোলার কথা ভেবেছিলেন সেটাও বানচাল হয়ে গেল।  এদিকে ভগৎরাম ও ইংরেজ দের হাতে ধরা পড়ে যায় ।প্রাণ বাঁচাতে সে স্বীকার করে নেয় সে নাকি  মস্কোর গুপ্তচর। মস্কোর নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর পশ্চিম সীমান্তে সুভাষচন্দ্রের সহযোগীদের ধরিয়ে দেয়। ভগৎরামের দল "কীর্তি কিষাণ পার্টি"ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে  ভিড়ে যায়। এতে মারাত্মকভাবে  তিনি মুষড়ে পড়েন । ইউরোপের প্রচেষ্টা অসফল হওয়ায় সুভাষের নজর পড়লো জাপানের উপর । পূর্ব প্রাচ্যে বাঁধলো যুদ্ধ।    সিঙ্গাপুর ও রেঙ্গুন    চলে গেল জাপানের হাতে। জাপানিরা হিটলারের কাছে ভারতে ক্রিপস মিশন পৌঁছানোর আগে ভাগে প্রস্তাব দিল জাপান-জার্মানি বাহিনী এগিয়ে এসে  ভারত মহাসাগরে মিলিত হওয়া প্রয়োজন। আর প্রয়োজন  হলে হিটলার  রাশিয়ার সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে ফেলুন । কারণ মিত্রপক্ষকে যুদ্ধে পরাস্ত করতে হলে আগে ভারত মহাসাগরে অক্ষত্রয়ীর মিলিত হওয়া প্রয়োজন। হিটলার কিন্তু এই প্রস্তাবে কান দিলেন না । তার একমাত্র লক্ষ্য রাশিয়া জয় করা ,ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভগ্ন করাটা  তার লক্ষ্য নয়। 1942 সালে অক্ষশক্তির মিলিত হওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল তা হারিয়ে গেল।স্তালিনগ্রাডে জার্মান বাহিনী আটকে গেল। জাপানিরা সিংহল আক্রমণ করে  ভারতে হানা দেওয়ার যে ছক কষে ছিল তাও ভেস্তে গেল। কেননা  হিটলার বাহিনী মিশর থেকে  ভারত মহাসাগরে এগিয়ে আসতে তৈরি নয় । এই সময়ে" ভারত ছাড়ো " আন্দোলন  জোরদার হয় । কিন্তু  জাপান ও    জার্মান বাহিনী কোন দেশই ভারত আক্রমন করতে প্রস্তুত নয়। সুভাষ বসুর ছক ছিল "বহিঃ আক্রমণ ও ভারতের অভ্যুত্থান" জোড়া আক্রমণ  ঘটলে ইংরেজরা পিছু হটতে বাধ্য হবে ।  এটা ফলপ্রসূ হয়নি বলে তার ক্ষোভ বাড়তে লাগলো । তিনি জাপান পালিয়ে আসতে মনস্থির করেন । কিন্তু আসবেন কিভাবে ?

 অনেক আলাপ আলোচনার পর ঠিক হয় তাকে সাবমেরিন করে পূর্ব প্রাচ্যে পাঠানো যেতে পারে। হিটলার ও সুভাষ এর মধ্যে শেষ সাক্ষাৎ ঘটে। হিটলার সুভাষ কে  বলেন জার্মান ডুবো জাহাজ ও উড়োজাহাজ  নিয়ে ইংরেজদের উপর বার বার আঘাত হানছে। এর বেশি ভারতের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি ম্যাপ দেখিয়ে প্রমাণ করে দেন যে ভারত এখান থেকে অনেক দূরে।তাই এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।

  বহু প্রতিক্ষার পর অবশেষে সুভাষচন্দ্র পূর্ব প্রাচ্যে পৌঁছালেন ।আজাদ হিন্দ ফৌজ রওনা দিল ইম্ফলের উদ্দেশ্যে । তখন বড্ড দেরী হয়ে গেছে।  জার্মানরা রাশিয়ায় পিছু হটতে শুরু করেছে । প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানিরা আমেরিকানদের সাথে পেরে উঠতে পারছেনা । এদিকে ভারত আক্রমন করার কোন প্ল্যান জাপান সরকার তৈরি করেনি। জাপানি বাহিনী ও আজাদ হিন্দ ফৌজ সাময়িক ভাবে অভিযান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলো।

  টোকিও তে বসে সুভাষ রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। তাদের কে বোঝালেন মিত্র পক্ষ ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এর স্বার্থ এক নয়।তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা ভারতের স্বাধীনতার দিকে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করুন।

        জাপান যখন পশ্চাদপসরণ করছে তখন সুভাষচন্দ্র বসুর অনুরোধে আজাদ হিন্দ সরকারের অন্তত সর্বাধিনায়ক কে রাশিয়া পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে রাশিয়া ও জাপান  তখন পরস্পরের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত। তবে জাপানের সেনারা সুভাষচন্দ্র বোস কে শ্রদ্ধা করতেন বলেই শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হন । সুভাষচন্দ্র যদি রাশিয়া পৌঁছাতে পারতেন তবে কি হতো বলা মুশকিল। কেননা রুশদের ধারণা ছিল ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে  বিরোধের  তলে তলে অন্য কোনো যোগসূত্র আছে। তা নাহলে অত সহজে কাবুলে পৌঁছে গেলেন কিভাবে?আর ইংরেজরা ও জেনে শুনে তার পৌঁছে যাওয়া আটকালো না কেন? অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খায়।

     বাস্তবিক ভাবে সুভাষচন্দ্র  কোন বৃহৎ শক্তির হাতে নিজেকে সমর্পণ করতে চাননি। তিনি তাদের কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন মাত্র । তার একটাই উদ্দেশ্য ভারতের মুক্তি । ভারতের মুক্তির জন্য শত্রু পক্ষের বক্তব্য ছিল  সুভাষচন্দ্রকে বাইরের শক্তি কাজে লাগাচ্ছে ।আসলে রুশদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে তার উল্টোটা চোখে পড়ে। তারা সন্দেহ করছে বাইরের শক্তি গুলো সুভাষচন্দ্র কে কাজে লাগাচ্ছে। এই মত বিরোধ রুখতে সুভাষচন্দ্র মহাত্মা গান্ধীর উদ্দেশ্যে রেডিও ভাষণে বলেছিলেন" On who has stood for national self respect and honour of his life and has suffered considerably in vindicating it, would be the last person in this world to give in to any other foreign power."।

   অবশেষে জাপানি প্লেন মাঞ্চুরিয়া নিয়ে  যেতে রাজি হলো। পরিকল্পনা ছিল রুশ সেনাবাহিনীর কাছাকাছি প্যারাস্যুট দিয়ে নামবেন। অন্য দিকে আজাদ হিন্দ ফৌজ রেঙ্গুন থেকে পিছু হটে সাইগন আসে। সাইগন থেকে প্লেন রওনা হলো তাইপে।  তাইহেকু বিমান বন্দরে  18আগষ্ট প্লেনের জ্বালানি কম থাকায় জ্বালানি  নিতে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হলো । জ্বালানি ভরে নিয়ে উড়তে যাওয়ার সময় দেখা দেয় বিপত্তি। ইঞ্জিনের সমস্যা থাকায় ভেঙে পড়লো প্লেন।দাউ দাউ করে তা জ্বলে উঠলো  । পড়িমরি করে  বিমান যাত্রীরা প্লেন থেকে নামতে সবাই ব্যাস্ত। সুভাষচন্দ্র যখন নেমে এলেন তখন মনে হচ্ছিল যেন একটা আগুন মানুষ  বেরিয়ে আসছে । সমস্ত শরীর দিয়ে বেরুচ্ছে লকলকে আগুন। তাড়াতাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। তখন তার সাথী ছিলেন হাবিবুর রহমান। হাসপাতালে বেডে বলতে লাগলেন জাপানি ভাষায় মিজু,মিজু (মানে জল জল)।

 আক্ষেপ করে অতি কষ্ট করে হাবিবুর রহমানকে বারবার বলতে লাগলেন ভারতের স্বাধীনতা না দেখেই তাকে চলে যেতে হচ্ছে। এটা আমার তথা ভারতবাসীর দুর্ভাগ্য। কিন্তু তিনি দেখতে পাচ্ছেন ভারতের স্বাধীনতা  অতি সন্নিকটে। এভাবেই তিনি আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

আমরা হারালাম আমাদের প্রিয় নেতাকে।

 ##############


তথ্যঃ

প্রসঙ্গ সুভাষ ( কৃষ্ঞা বসু) আনন্দ পাবলিশার্স

আধুনিক ভারত দ্বিতীয় খণ্ড প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায় (1920-1947) কলকাতা 1999

সুভাষচন্দ্র একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন, পশ্চিম বঙ্গ পত্রিকা (ডিসেম্বর-জানুয়ারী) সংখ্যা 1996-1997

 

 ==============================


 
আব্দুস সালাম, মুর্শিদাবাদ।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432