Skip to main content

গল্প -- সিদ্ধার্থ সিংহ

 

ছিট ছিট দাগ 



রত্নাঙ্ক স্নান সেরে এসে দেখল তেরোটা মিসড্ কল। তেরোটাই ত্রিধার। এই ফোনটারই ভয় পাচ্ছিল সে। অন্যান্য দিনের মতো গত কালও অনেক রাত অবধি কথা হয়েছে ওর। ও বলেছিল, না। তাকে একা যেতে হবে না। আমিই সঙ্গে করে তোকে ডাক্তার সান্যালের কাছে নিয়ে যাব। 
ডাক্তার সান্যাল স্কিনের খুব বড় নামকরা ডাক্তার। তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার। এখন বারোশো টাকা ভিজিট। তাও ডেট পাওয়ার জন্য তিন মাস আগে থেকে নাম বুক করে রাখতে হয়। তবে হ্যাঁ, নিজের বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে একদিন সকালে ঘণ্টা তিনেক করে বসেন। মায়ের নামে চেম্বার। মা খুব বর্ধিষ্ণু পরিবারের মেয়ে হলেও বাবা ছিলেন অত্যন্ত ছাপোষা মানুষ। সামান্য একটা চাকরি করতেন। বাড়ির কেউ রাজি হয়নি দেখে তাঁর বিয়ের জন্য মায়ের রেখে যাওয়া গয়নাগাঁটি নিয়ে এক শাড়িতেই তার বাবার সঙ্গে জামশেদপুর থেকে পালিয়ে এসেছিলেন কলকাতায়। একটা কলোনিতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। খুব কষ্ট করেই চলতেন তাঁরা। তাঁদের যখন এই ছেলে হল, তখন তাকে তাঁর বাবা-দাদার মতো একজন ডাক্তার করার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন তার মা। 
নিজেই পড়াতেন। স্বামীর টাকায় কুলোত না। তাই বাড়ি থেকে আনা গয়না থেকে একটা-একটা করে বিক্রি করে তিনি তাঁর ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। সেটা দেখে তাঁর যে দু’-চার জন বন্ধু ছিলেন, তাঁদের একজন বলেছিলেন, কী রে, গয়না বিক্রি করে ছেলেকে মানুষ করছিস? তোকে শেষ বয়সে ছেলে দেখবে তো! 
তিনি বলেছিলেন, আমি তো গয়না বিক্রি করছি না। আমি গয়না গড়াচ্ছি। 
সত্যিই তাঁর ছেলে তাঁর অলঙ্কার হয়ে উঠেছিল। দুর্দান্ত ভাল রেজাল্ট করে ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছিল। আর চান্স পেয়েই আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে ও এত মেতে উঠেছিল যে শুধু সহপাঠীদেরই নয়, অনেক সিনিয়রকেও মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। 
সেই মা আর নেই। তিনিও অনেক বড় হয়েছেন। যথেষ্ট টাকাপয়সা রোজগার করেছেন। বিশাল একটা প্রাসাদোপম বাড়ি বানিয়েছেন। সেই বাড়ির নাম রেখেছেন মায়ের নামে। যত কাজই থাক, প্রতি সপ্তাহে একেবারে নিয়ম করে সেখানে বসেন। আগে থেকে নাম লেখানোর কোনও ব্যাপার নেই। আগে আসার ভিত্তিতে প্রথম দশ জনকে তিনি দেখেন। না। বিনে পয়সায় নয়। তিনি মনে করেন, বিনে পয়সায় কিচ্ছু হয় না। সামান্য হলেও কিছু দাও। তাই টিকিটের দাম রেখেছেন এক টাকা। ফলে সকাল থেকে নয়, তাঁকে দেখাবার জন্য আগের দিন রাত থেকেই লাইন পড়ে যায়। 
এই ডাক্তারের সঙ্গে রত্নাঙ্কর খুব ভাল সম্পর্ক। সম্পর্ক ভাল হওয়ার কারণ, ডাক্তার সান্যালের মা। তিনি ওকে খুব পছন্দ করতেন। ভালও বাসতেন। ডাক্তার সান্যাল তো তাঁর ডাক্তারি নিয়েই সারা দিন ব্যস্ত থাকতেন। তাই তাঁর ইচ্ছে থাকলেও মাকে খুব একটা সময় দিতে পারতেন না। তাঁর মা শনিবার-শনিবার উপোস করে বড় ঠাকুরের পুজো দিতে যেতেন পাশের পাড়ায়। টুকিটাকি জিনিস কিনতে যেতেন এ দিকে ও দিকে। কোনও কোনও দিন বাচ্চাদের একটা  অনাথ আশ্রমে যেতেন ফলমূল দিতে। 
এর পাশাপাশি তাঁর আর একটা শখ ছিল, ফুল গাছের। প্রায়ই সার আর চারা গাছ কেনার জন্য এ নার্সারি ও নার্সারিতে ঢু মারতেন। তখন তাঁর সঙ্গে যেত এই রত্নাঙ্ক। রত্নাঙ্কর কোলেই মাথা রেখে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন তিনি। না। ডাক্তার ডাকার কোনও সুযোগ দেননি। চলন্ত গাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা, ব্যাস। সব শেষ। সেই সুবাদেই ডাক্তার সান্যালের সঙ্গে রত্নাঙ্কর এত ভাল সম্পর্ক। 
রত্নাঙ্কর সঙ্গে সেই ছোটবেলা থেকেই এক স্কুলে পড়ত ত্রিধা। ক্লাস এইট পর্যন্ত ওই স্কুলেই ছিল। তার পর ত্রিধারা বাড়ি কিনে চলে যায় বাইপাসের ধারে, পঞ্চান্ন গ্রামে। বহু দিন কোনও যোগাযোগ ছিল না। এত দিন বাদে আবার নতুন করে দু’জনের দেখা। ভাল লাগা। 
এই নতুন আলাপ তখন সবেমাত্র তিন দিন গড়িয়ে চার দিনে পড়েছে। প্রেম হব হব করছে। তখন একদিন গড়িয়াহাট মোড়ের আলেয়া’য় সিনেমা দেখতে গিয়েছিল ওরা। হল থেকে বেরিয়ে দু’জনে সবে রাস্তা পার হতে যাবে, হঠাৎ তাদের সামনে ব্রেক কষে দাঁড়াল একটা ঝকঝকে অডি গাড়ি। পেছন সিটের জানালার কালো কাচ নামিয়ে মুখ বার করে রত্নাঙ্ককে গাড়ির সওয়ারি জিজ্ঞেস করলেন, কোন দিকে যাবি? 
রত্নাঙ্ককে কথা বলতে দেখে ত্রিধা একটু সরে দাঁড়াল। লোকটাকে সে চেনে না। দু’জনকে পাশাপাশি দেখলে কী ভাববে কে জানে! যদি ওদের বাড়ির কেউ হয়! যদি কেউ নাও হয়, ওদের দেখে অতি উৎসাহী হয়ে যদি ওদের বাড়িতে গিয়ে বলে দেয়! সব জানাজানি হয়ে যাবে না! ওদের নিজেদের মধ্যেই এখনও সে রকম কিছু গড়ে ওঠেনি। রত্নাঙ্কর সমস্যা হবে না! তবু লোকটাকে আড়চোখে দেখার চেষ্টা করতে লাগল ত্রিধা। গাড়িঘোড়ার শব্দের মধ্যেও কান খাড়া করল, উনি কী বলছেন, যদি শোনা যায়!      
রত্নাঙ্ক জানে লোকটার বাড়ি ফার্ন রোডে। তাই সে বলল, আমি সোজা  যাব। রুবির দিকে। 
— রুবি? চলে আয়। আমি তো রুবি হয়েই যাব। 
এই রে, সেরেছে… নিজের মনেই বিড়বিড় করল রত্নাঙ্ক। কেন যে রুবির দিকে বলতে গেলাম! 
— কী ভাবছিস? উঠে আয়। বলেই, গেটের লক খুলে সিটের ও দিকে সরে গেলেন তিনি। 
সঙ্গে সঙ্গে আলতো করে দরজা ঠেলে জানালার কাছে মুখ নিয়ে রত্নাঙ্ক বলল, তার আগে আমাকে একবার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে যেতে হবে। তাই… 
— ও… ঠিক আছে, যা তা হলে। ভাল আছিস তো? 
— হ্যাঁ। আপনি? 
— এই তো… অনেক দিন তো আসিস না। মা নেই বলে কি আমরাও নেই? একদিন চলে আয় না... 
— হ্যাঁ, যাব। এর মধ্যেই যাব। এখন আছেন তো? 
— হ্যাঁ, এই মাসটা আছি। তার পর চার মাসের জন্য একটু বাইরে যাব। 
পেছনে পর পর কয়েকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে গেছে। তারা ঘনঘন হর্ন বাজাচ্ছে। অটোগুলো পাশ কাটিয়ে গাড়ির ও পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। যেতে যেতে তাদের দিকে বিরক্তিসূচক চাহনি ছুড়ে দিচ্ছে। তাই রত্নাঙ্ক বলল, ঠিক আছে, ঠিক আছে… এর মধ্যেই যাব। বলেই, জানালা থেকে মুখ সরিয়ে নিল। 
গাড়িটা জানালার কাচ তুলতে তুলতে হুস করে চলে গেল। গাড়িটা যেতেই ত্রিধা বলল, ইনি ডাক্তার সান্যাল না? 
— হ্যাঁ। কেন? তুমি চেনো? 
— না না। আমি চিনব কী করে! আমি বলছি, উনি নিজে থেকে গাড়ি থামিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বললেন! 
— হ্যাঁ, না বলার কি আছে! উনিও মানুষ। আমিও মানুষ। 
গদগদ হয়ে ত্রিধা বলেছিল, উনি কত বড় ডাক্তার জানো? 
— উনি কত বড় ডাক্তার আমি জানি না। তবে, উনি কত বড় মাপের মানুষ, সেটা আমি জানি। 
— তোমাকে খুব ভাল করে চেনেন, না? 
রত্নাঙ্ক বলেছিল, কেউ যদি কোনও ভাইকে জিজ্ঞেস করে, তার দাদা তাকে খুব ভাল করে চেনে কি না, সেই প্রশ্নটা যেমন হবে, তোমার এই প্রশ্নটাও ঠিক সেই রকম… 
— উনি তোমার দাদা? 
— না। ঠিক দাদা নন। দাদার মতো। তবে দাদার চেয়েও বেশি… 
ওটা শুনেই ত্রিধা বলেছিল, তাই? তা হলে ওনার সঙ্গে আমার একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্সড করিয়ে দাও না… 
— অ্যাপয়েন্টমেন্ট! কেন? কার জন্য? 
— এই দ্যাখো না, গালের এই ছিট ছিট দাগটা… আগে এইটুকুনি ছোট্ট একটা তিলের মতো ছিল। এত গাঢ়ও ছিল না। যত দিন যাচ্ছে, ততই বেড়ে যাচ্ছে। এই ক’বছরে এত বেড়ে গেছে না… কারও সামনে যেতে বড্ড লজ্জা করে। 
— কোনও ডাক্তার দেখাওনি? 
— কত ডাক্তার দেখিয়েছি। প্রথমে আমাদের পাড়ার এক হোমিওপ্যাথি ডাক্তারকে দেখাতাম। কমছে না দেখে কে যেন বলেছিলেন, কোনও কবিরাজকে দেখাতে। তিনিই বোধহয় কারও নাম-ঠিকানা দিয়ে দিয়েছিলেন। বেশ কিছু দিন সেই কবিরাজকেও দেখিয়েছিলাম। কিন্তু যে কে সে-ই। কোনও লাভ হয়নি। 
— তার পর?   
— আমার বাবাকে তাঁর এক বন্ধু বলেছিলেন, ওই সব কবিরাজি-টাজি, হোমিওপ্যাথি-ফ্যাতি ছাড়। মেয়েকে ভাল কোনও ডাক্তার দেখা। 
— তার পর? 
— আমাদের ওখানকার একজন বেশ নামকরা ডাক্তারকে দেখালাম। তিনিই দেখেটেখে রেফার করে দিলেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ট্রপিক্যালে। সেই সক্কালবেলায় যেতে হত। ওরা প্রথমে ভেবেছিল, আমার বুঝি কুষ্ঠ হয়েছে। তার পর ওখানকারই একজন বড় ডাক্তার বললেন, না না, কুষ্ঠ না। এটা একটা মামুলি চর্মরোগ। তবে অনেক দিনের পুরনো তো... গেড়ে বসেছে। সারতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু অত সময় কার আছে! তাই বাবা বললেন, মেয়ে বলে কথা। গালে ও রকম দাগ থাকলে কেউ বিয়ে করবে? যত টাকা লাগুক রঞ্জিত পাঁজাকে দেখাব। উনি তখন স্কিনের এক নম্বর ডাক্তার। যে দিন বাবা আমাকে নিয়ে যাবেন ঠিক করলেন, তার আগের দিন রাত্রেই শুনলাম, তিনি মারা গেছেন। আমি তখন কত ছোট... 
— তার পর? 
— তার পর আর কী? একের পর এক প্রচুর ডাক্তার দেখিয়েছি। পাতার পর পাতা ওষুধ খেয়েছি। এ মলম লাগিয়েছি। সে মলম লাগিয়েছি। কিন্তু যে কে সে-ই। এখন হাল ছেড়ে দিয়েছি। 
— ট্রপিক্যালে আর যাওনি? 
— নাঃ। 
— কেন? 
— রোজ রোজ কে নিয়ে যাবে? 
— নিয়ে যাওয়ার কী আছে? তুমি কি বাচ্চা নাকি, কোলে করে নিয়ে যেতে হবে? একাই যাবে। 
— ও বাবা, মেয়ে না! আমাদের বাড়ি থেকে ছাড়বেই না। ভীষণ স্ট্রিক্ট। 
— তার পর? 
— তার পর এই তো কিছু দিন আগে একটা চ্যানেলে এই ডাক্তারকে দেখলাম। তখনই জানতে পারলাম এনার কথা। শেষ চেষ্টা হিসেবে এঁকে একবার দেখাব ঠিকও করলাম। অনেক খুঁজেপেতে ওনার ঠিকানাও জোগাড় করলাম। যোগাযোগও করলাম। কিন্তু যা শুনলাম! তিন মাসের আগে ওনার কোনও ডেটই পাওয়া যাবে না… 
— তুমি দেখাতে চাও? 
হাতের মুঠোয় যেন স্বর্গ পেয়েছে, এমন ভাবে ত্রিধা বলল, দেখো না, যদি একটা ডেট পাওয়া যায়… 
— ডেট পাওয়ার কী আছে? কবে যেতে চাও বলবে, নিয়ে যাব। 
— আগে তো জানতে হবে উনি কোথায় কোথায় বসেন? 
— তোমাকে নিয়ে গেলে কি ওঁর চেম্বারে নিয়ে যাব? 
— তবে? 
সহজ ভঙ্গিতে রত্নাঙ্ক বলল, ওঁর বাড়িতে নিয়ে যাব। 
— বাড়িতে! 
— হ্যাঁ। আরে বাবা, আমার সঙ্গে কি আজকের সম্পর্ক নাকি? 
সে দিনই ত্রিধা বলেছিল, তা হলে তুমি ডাক্তার সান্যালের সঙ্গে কথা বলো না… উনি যদি কাছাকাছি কোনও একটা ডেট দিয়ে দেন… 
— ডেট নেওয়ার কী আছে? তুমি যে দিন যেতে চাও বলবে, নিয়ে যাব। 
— না… উনি কবে থাকবেন, না-থাকবেন… 
তাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে রত্নাঙ্ক বলল, ঠিক আছে। আমি কালই কথা বলে নেব। চলো। 

কিন্তু না। সেই কাল আর কোনও দিনই আসেনি রত্নাঙ্কর। অবশ্য আসেনি বললে ভুল হবে, ও-ই চায়নি। ডাক্তার দেখালে… না। থাক। 
কিন্তু কত কাল আর এ ভাবে ওকে এটা সেটা বানিয়ে বানিয়ে বলে এড়িয়ে যাওয়া যায়! যত বার ত্রিধা জি়জ্ঞেস করে, কি গো, ডাক্তার সান্যালের সঙ্গে কথা হয়েছে? তত বারই কোনও না-কোনও একটা অজুহাত তুলে ধরে ও। আজ ফোনে পাইনি। কিংবা উনি মিটিংয়ে ছিলেন। বা অপারেশনে ছিলেন। নয়তো, কয়েক দিনের জন্য উনি একটু বাইরে গেছেন। অথবা যত বারই করেছি, শুধু এনগেজড আর এনগেজড… 
কিন্তু না। কাল আর কোনও অজুহাত খুঁজে পায়নি ও। বাইপাশের ধার ঘেঁষে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ত্রিধা এমন করে বলছিল যে, ডাক্তার সান্যালকে ফোন না করে ও আর পারেনি। বাধ্য হয়ে তার সামনেই ফোন করেছিল। রিং হতেই না-হতেই ত্রিধা বলেছিল, স্পিকারটা অন করো না… অন করো… অন করো … 
ওর কোনও উপায় ছিল না। স্পিকার অন করে দিয়েছিল। অন করতেই, ও প্রান্ত থেকে ভেসে এসেছিল, হ্যালো… 
— আমি রত্নাঙ্ক বলছি। 
— হ্যাঁ, বল… 
— বলছিলাম, আমার একটা পরিচিত মেয়ে আপনাকে দেখাতে চায়, তাই একটা ডেট… 
— আরে, তোর পরিচিত লোককে নিয়ে আসবি, এতে এত হেজিটেট করার কী আছে! নিয়ে আয়। 
— কবে যাব? 
— কাল সকালে তো আমি বাড়িতে বসব। চলে আয়। 
— সে তো দশ জনের বেশি দেখেন না। 
— না-হয় তোর জন্য কাল এগারো জনকে দেখব, কী আছে, চলে আয়। 
— ঠিক আছে। 
এত সহজে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টটা হয়ে যাবে ত্রিধা ভাবতেই পারেনি। সে একেবারে অভিভূত হয়ে গিয়েছিল। তার পরে যতক্ষণ দু’জনে একসঙ্গে ছিল, আর অন্য কোনও কথা নয়, শুধু ডাক্তারকে নিয়েই কথা হয়েছিল। 
রাত্রেও তাই। ফোন ছাড়ার আগে ত্রিধা জিজ্ঞেস করেছিল, তা হলে কাল কখন বেরোব? 
রত্নাঙ্ক বলেছিল, সকালে। 
— সে তো জানি। কিন্তু সকালে মানে কত সকালে? ক’টা নাগাদ? আমাদের যেতেও তো সময় লাগবে। 
— ওই বেরিয়ো না… তোমার সুবিধে মতো… বেরোবার আগে আমাকে শুধু একটা ফোন করে নিয়ো। 
মুখে এ কথা বললেও, রত্নাঙ্কর একদম ইচ্ছে নয়, ত্রিধাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার। কারণ, এই ডাক্তার সান্যালদা চর্মরোগের ক্ষেত্রে একেবারে ধন্বন্তরী। তাঁর বিশ্বাস, একবার গেলেই উনি এমন ওষুধ দেবেন যে, দু’-চার দিনের মধ্যেই ত্রিধার গালের ওই ছিট ছিট দাগগুলো একবারে মিলিয়ে যাবে। আর ওটা মিলিয়ে গেলেই, সে মুখ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। শুধু সুন্দর হলে না-হয় একটা কথা ছিল। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, যে মুখ নিয়ে আর পাঁচ জনের সামনে যেতে তার লজ্জা করে। যে মুখ নিয়ে সে হীনমন্যতায় ভোগে। কারও সামনে যেতে চায় না। সে সব একেবারে চিরদিনের জন্য ঘুচে যাবে। তখন! 
ও ত্রিধাকে বলেছিল, বেরোবার আগে আমাকে শুধু একটা ফোন করে নিয়ো। কিন্তু না। একটা নয়, রত্নাঙ্ক স্নান করে এসে দেখল, তার মোবাইলে তেরোটা মিসড্ কল। তেরোটাই ত্রিধার। এই ফোনটারই ভয় পাচ্ছিল সে। এখন উপায়! কিছু তো একটা বলতে হবে! কিন্তু কী বলবে ও! কি! 
না। ত্রিধাকে নয়। ও ফোন করল ডাক্তার সান্যালকে। যত বার ফোন করল, প্রত্যেক বারই এনগেজড টোন। আর যত এনগেজড টোন পেতে লাগল, ততই ও অস্থির হয়ে উঠতে লাগল। কিন্তু তার  পরেই ও আবার যখন ফোন করল, তখন একটা রিং হতে না-হতেই ফোন ধরলেন উনি। সঙ্গে সঙ্গে ও বলল, হ্যালো, আমি রত্নাঙ্ক। বলছিলাম কি, আজকে যাকে নিয়ে আপনার ওখানে যাওয়ার কথা ছিল, সে এখন ফোন করে জানাল, তার মা নাকি গত কাল রাতে হঠাৎ করেই খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে একটা নার্সিংহোমে ভর্তি করাতে হয়েছে। সারা রাত নাকি ওরা ওখানেই ছিল। ফলে আজ ওর পক্ষে যাওয়া… 
— ঠিক আছে। অন্য দিন নিয়ে আসিস। ও.কে। 
ডাক্তার সান্যাল লাইন কাটতেই রত্নাঙ্ক ফোন করল ত্রিধাকে। ও কিছু বলার আগেই ত্রিধা বলল, কী হল, তখন থেকে ফোন করছি। কোথায় ছিলে? 
— ডাক্তার সান্যালের বাড়িতে।   
— ডাক্তার সান্যালের বাড়িতে! 
— তা হলে আর বলছি কি। এই তো ওঁর বাড়ি থেকে এলাম। 
— কী হয়েছে? 
— না। ওঁর কিছু হয়নি। হয়েছে ওঁর বাবার। আসলে আজ ভোররাতে উনি নাকি বাথরুমে পড়ে গেছেন। পড়ে গিয়েই একটা স্মাইল স্টোকের মতো… বয়স হয়েছে তো… 
— সে কী! এখন কেমন আছেন? 
— এখন বিপদমুক্ত। ভাগ্যিস উনি বাড়িতে ছিলেন। না-হলে যে কী হত, কে জানে! উনি অবশ্য রিক্স নেননি। সঙ্গে সঙ্গে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়েছিলেন। বড় বড় ডাক্তাররা তো সবই ওঁর বন্ধুবান্ধব। তাঁরা নাকি বলেছেন, এ যাত্রা উনি বেঁচে গেলেন… তবে ডাক্তাররা ও কথা বললেও, ডাক্তার সান্যাল কিন্তু খুব টেনশনে আছেন। তারই মধ্যে কে যেন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাড়িতে আপনার জন্য পেশেন্টরা তো সব বসে আছেন, কী করবেন? উনি তখন আমার সামনেই তাঁকে ফোন করে বাড়িতে জানিয়ে দিতে বললেন, আজ আর উনি বসবেন না… কেউ যেন অপেক্ষা না করেন... 
— ও… তাই… 
— তোমাকে অন্য কোনও দিন নিয়ে যাব। কেমন? 
— না না। সে ঠিক আছে। অন্য দিন যাবখ’ন। আমি সেটা বলছি না। বলছি, তুমি বরং পারলে বেলার দিকে একবার গিয়ে ওনাকে দেখে এসো। বুঝেছ? তুমি ফোন ধরছ না দেখে আমি তো ভাবলাম তোমার আবার কী হল…  
— আরে, তাড়াহুড়োর মাথায় বেরিয়েছি তো… ফোন নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। 
— ও...এখন কী করছ? 
— এই তো সবে ওখান থেকে এলাম। এখনও হাতমুখ ধুইনি। 
— ঠিক আছে, ঠিক আছে। যাও। ফ্রেশ হয়ে নাও। পরে কথা হবে। 
অন্য সময় হলে ইনিয়ে-বিনিয়ে রত্নাঙ্ক আরও কিছুক্ষণ কথা বলত। কিন্তু না। আজ আর একটাও কথা বাড়াল না ও। কী বলতে কী বলে ফেলবে, তখন আর এক কেলেঙ্কারি। কোনও মিথ্যেকে ও বেশিক্ষণ টেনে নিয়ে যেতে পারে না। ধরা পড়ে যেত। সে জন্যই তাড়াতাড়ি ফোনটা ছেড়ে দিল। 
ফোন ছাড়ার পরেই তার মনে হল, এটা কি ও ঠিক করল! ও যে ভয়টা করছে… গালের দাগগুলো মিলিয়ে গেলে সে আরও দেখতে সুন্দর হয়ে যাবে। অনায়াসে এখানে ওখানে যাবে। এর তার সঙ্গে আলাপ হবে। আর সে রকম কোনও ছেলে পেয়ে গেলেই আলাপ থেকে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে মেলামেশা। মেলামেশা থেকে ঘনিষ্ঠতা। ঘনিষ্ঠতা থেকে নিবিড় সম্পর্ক। আর অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলেই আস্তে আস্তে তাকে দূরে সরে যেতে হবে… এটা তো অমূলকও হতে পারে। পারেই। তা হলে! 
আমি কি তাকে ডাক্তার সান্যালের কাছে নিয়ে যাব! না, যাব না! যাব! না, যাব না! যাব! না, যাব না! রত্নাঙ্ক ভাবতে লাগল। ভাবতেই লাগল। 

=========================







SIDDHARTHA SINGHA
27/P, ALIPORE ROAD,
KOLKATA 700027
(M) 9836851799 / 8777829784

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শন ।। শংকর ব্রহ্ম

প্রবন্ধ               বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শন শংকর ব্রহ্ম                  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা সম্পর্কে বলেছেন, "যদি ভারতকে জানতে চাও, তবে বিবেকানন্দকে জানো। তাঁর মধ্যে যা কিছু আছে সবই ইতিবাচক, নেতিবাচক কিছুই নেই।"                  বিবেকানন্দ বুঝেছিলেন, দেশের ভবিষ্যৎ দেশের জনগণের উপর নির্ভর করে। তাই তিনি মনুষ্যত্বের উপর জোর দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, "আমার উদ্দেশ্য, মানবজাতিকে তার অন্তর্নিহিত দেবত্ব শিক্ষা দেওয়া এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তা কীভাবে কাজে লাগাতে হয় তা শেখানো।"                    তিনি  বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানবতার পরিপূর্ণতার প্রকাশ। তা মানুষের মধ্যেই আছে। তার বিকাশ ঘটাতে হবে। সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে ন...

চিনা লোককথা ।। সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে ।। বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র

চিনা লোককথা সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র     জিন রাজবংশের আমলে চিনে লে-গুয়াং নামের একজন সৎ সাহসী চরিত্রবান ও বন্ধুবৎসল ব্যক্তি   বাস করতেন। এক প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ না হওয়ায় তিনি লোক পাঠিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।     বন্ধুকে দেখে লে-গুয়াং-এর চোখে জল এসে যায়। এ কী চেহারা হয়েছে তার, চোখেমুখে   দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি বন্ধুর কাছে জানতে চাইলেন, ‘বন্ধু, তুমি কি কোনো কঠিন সমস্যায় পড়েছ? তোমার মুখ এত ম্লান কেন?’ বন্ধুটি কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘গতবছর তোমার দেওয়া ভোজসভায় আমি উপস্থিত ছিলাম তোমার নিশ্চয় মনে আছে। ওই ভোজসভার দিন থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খাওদাওয়ার পরে তুমি আমার হাতে যে পানীয়ের গেলাসটি ধরিয়ে দিয়েছিলে তার মধ্যে একটি ছোট্ট সাপ উঁকি দিচ্ছিল। সেই দৃশ্য দেখার পর থেকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।’     লে-গুয়াং বন্ধুর কথা শুনে ধন্ধে পড়ে যান। তারপর বসার ঘরের চারিদিকে ভালো করে   পর্যবেক্ষণ করে দেয়ালে টাঙানো একটি সাপ-আঁকা ধনুকে তাঁর চোখ আটকে যায়। সহসা তিনি   হাহা করে হেসে ওঠেন...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

প্রবন্ধ ।। টুবাই মণ্ডল

বাংলা সাহিত্যে পাশ্চাত্য প্রভাব       সাহিত্য আঙ্গিকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন নতুন কথা নয়। এই দুই গোলার্ধের দেশগুলিরই ভৌগলিক সীমারেখার কথা বাদ দিলে, মানসিক দিক দিয়ে দিয়ে যে এখানকার মানুষেরা অভিন্ন এবং প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে সবাই যে একই বৃহৎ ভূখণ্ডের (প্যাঞ্জিয়া) অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা কষ্টকল্পিত নয়। মনোজগতের ভাব, ন্যায়নীতি বিচারের মাপকাঠি এবং জীবনের বৃহত্তর ক্ষেত্রে পার্থক্য প্রায় নেই বললেই চলে। এমতবস্থায় তাদের সাহিত্যভাবনা বা সাহিত্য নির্মানের কৌশলে যে একে অপরের অনুরক্ত হয়ে পড়বে তাতে আর আশ্চর্য কি! কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাচ্যের বাংলা সাহিত্যের সাথে পাশ্চাত্যের সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের সাদৃশ্য অনিচ্ছাকৃত বা কাকতালীয়, কিছুক্ষেত্রে তা অবচেতন মনের(subconscious mind) এর দরুন, আবার বিশেষ বিশেষক্ষেত্রে তা সতর্কভাবেই অনুপ্রেরনা লাভ। বাংলা সাহিত্যের কথায় আসার আগে সংষ্কৃত সাহিত্যের সাথে সাদৃশ্যের কথা বলে গৌরচন্দ্রিকাটা সেরে নেওয়া যাক। প্রথমেই আসি দুই গোলার্ধের দুটি ভিন্ন যুদ্ধ বর্ণনা এবং তাদের লিখিত বিবরণের উপর যা ভৌগলিক সীমারেখা অতিক্রম করে আজ সার্বজন...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ