Skip to main content

প্রবন্ধ ।। 'কাব্যজিজ্ঞাসা': সারকথা ।। শংকর ব্রহ্ম

'কাব্যজিজ্ঞাসা': সারকথা

শংকর ব্রহ্ম



কবিতার কাছে কি প্রত্যাশা করে, পাঠক?

- কাব্যত্ব?

- কাব্যত্ব কা'কে বলে? 

- রসাত্মক বাক্যই কাব্য।

কবিতার ভিতরে কাব্যত্ব কোথায় থাকে? কোন গুণে বা কী কারণে শব্দবন্ধ বা বাক্য রসাত্মক হয়ে উঠে কাব্য হয়?

কেউ কেউ বলেন, কাব্যের আত্মাই কবিতা।

কাব্যের আত্মা যাই হােক। কাব্যের শরীর হল শব্দবন্ধ বা বাক্য। আবার অনেকে বলেন- ওই শব্দবন্ধের অর্থ ছাড়া, কাব্যের আর আলাদা কোনাও আত্মা নেই।

বাক্যের শব্দ আর অর্থকে আটপৌরে না রেখে, সাজ-সজ্জায় সাজিয়ে দিলেই, বাক্য কাব্য হয়ে ওঠে। এই সাজ-সজ্জার নামই অলংকার। শব্দকে যেমন অলংকারে, অনুপ্রাসে সাজিয়ে সুন্দর করে তোলা যায়। বাচ্যের অর্থকে উপমা, উৎপ্রেক্ষা, রূপক-য়ে সাজিয়ে সুন্দর করা যায়। অনেকে আবার বলেন, কাব্যের আত্মা অলংকার নয়। তা

হলো রীতি বা স্টাইল। পদ রচনার বিশিষ্ট ভঙ্গি। কাব্যে আত্মা তার স্টাইল। 'কাব্যের ইতিহাস হল তার টেকনিকের ইতিহাস', যেমন আঁরাগ প্রমুখেরা ভাবতেন। 

          টেকনিকের সেই ইতিহাস লক্ষ্য করে বলা যায়, ছন্দ সমর্পিত শব্দের নামই কবিতা। দান্তে যেমন বলেহিলেন, 'সুরে বসানো কথাই হল কবিতা।'

অলংকার পরলেই যেমন সবাইকে সুন্দর দেখায় না, যদি না তা, তার অবয়বের সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

এই অবয়বের সামঞ্জস্যপূর্ণতাই হলো স্টাইল বা রীতি।

রমণী দেহের লাবণ্য যেমন অবয়বের চেয়ে, অলঙ্কারের চেয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনাও জিনিষ, তেমনি মহাকবির রচনা এমন এক বস্তু, যা শব্দ-অর্থ, রচনা ভঙ্গি - এ সবের অতিরিক্ত আরও বেশি কিছু। এই 'অতিরিক্ত আরও বেশি কিছু' ই হল কাব্যের আত্মা।

এই বস্তু আবার কী জিনিষ?

বস্তুবাদীরা বলেন, এই জিনিষটি হল, কাব্যের বাচ্য বা বক্তব্য।

কাব্যের কাব্যত্ব নির্ভর করে ওই বস্তু বা ভাবের বিশিষ্টতার উপর। তারা ভেবে থাকেন সব বস্তৃ বা সব ভাব কাব্যের বিষয় নয়। বিশেষ বিশেষ বস্তু, বিশেষ বিশেষ রকমের ভাবকে প্রকাশ করলে, তবেই তা কাব্য হয়। বস্তু বা ভাবের মনোহারিত্ব, অভিনবত্ব বাক্যকে কাব্য করে তোলে। যেমন, প্রকৃতি, চাঁদ, নারী, সূর্য, ফুল, পাখি, প্রজাপতি, ভ্রমর, ঋতু বৈচিত্র প্রভৃতি। তেমনই অনেক রকম ভাব আছে, যা মনকে আকৃষ্ট করে। যেমন অনুভূতির ক্ষেত্রে প্রেম, ভক্তি, বীরত্ব, করুণা, মহত্ব, মানবতা প্রভৃতি।

         কবিরা, এইসব বিশিষ্ট ভাব বা বস্তুকে কাব্য প্রকাশ করেন। তাদের প্রকাশের বিশিষ্টতায় (স্টাইল) তা যখন ভাব ও বস্তকে আরও মনোজ্ঞ করে তোলে, তখনই তা কাব্য হয়ে ওঠে।  অর্থাৎ, ভাব-বস্তু-রীতি-অলংকার এদের যথার্থ সমন্বয়েই কাব্যের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আর অতিরিক্ত কাব্যের আত্মা বলে কিছ নেই।

          যেমন রক্ত, মাংস, মজ্জা ইত্যাদি উপাদানের যথার্থ সমন্বয়েই মানব দেহে চেতনার উদ্ভব ঘটে, মন নামে আলাদা কোনা বস্তু নেই। অনেকে আবার এই মতে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন না। কারণ তারা দেখেছেন, ভাল কবিতার প্রকৃতিই হচ্ছে বাচ্যকে ছাড়িয়ে যাওয়া। শব্দার্থে যতটুকু প্রকাশ হয়, সেই কথ্য-বস্তু (বক্তব্য)-টুকই কাব্যের প্রধান কথা নয়। তা যদি হত, তবে শব্দার্থের জ্ঞান আছে, এমন যে কোনও ব্যক্তিই কাব্যের আস্বাদ নিতে পারতেন। কিন্তু তা হয় না।


           ভালাে কবিতা নিজের বাচ্যার্থে আটকে না থেকে বিষয়ান্তরের ব্যঞ্জনা বহন করে। তাকে 'ধ্বনি' বলেন আলঙ্করিকরা। কবিরা বলেন 'রস'। কাব্য হচ্ছে সেই সব শব্দ-বন্ধ বা বাক্য, 'রস' যার আত্মা। এই জন্যই বলে, রসাত্মক বাক্যই কাব্য।

       রসবােধ সব সময় বিদ্যা-বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে না। তাকে বিদ্যা-বৃদ্ধির দ্বারা বিচার করে, মাপ-জোক করে, কিছুই বোঝার উপায় থাকে না। হৃদয়ের ভিতরে রসবোধ না থাকলে, তা উপল্ধি করা যায় না। এই জন্যই বলে বোধহয়, 'রসিক বােঝে রসের মর্ম, বে-রসিকে তার পায় না স্বাদ।

            কাব্যের রস বিচার করে, সব সময় পাঠক তার থেকে কাব্য-রসের স্বাদ পায় না, সেই আস্বাদ পায় রসিক পাঠক, দরদী মনের অনুভূতি মিশিয়ে।

            সহদয় পাঠক, কাব্যানুশীলনের অভ্যাসে, সে রস আস্বাদনের যোগ্য হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায়, কাব্যরসের আধার-কাব্যও নয়, কবিও নয়। তা হলো রসিক কাব্য পাঠকের মন। রসবোধ এক ধরনের মানসিক অবস্থান বলা যায়। কী করে মনে, এ অবস্থার উদ্ভুব ঘটে?


             দার্শনিক কান্ট, জ্ঞানের উৎপত্তি বিশ্রষণ করে দেখিয়েছেন, তাতে দু'ধরনের উপাদান থাকে, মানসিক ও বাহ্যিক।

            বাইরের উপাদান ইন্দ্রিয়ের দ্বারা মনে প্রবেশ করে, কিস্তু তা জ্ঞান নয়। জ্ঞানের উন্মেষ ঘটে, যখন মনের কতগুলি তত্ত্ব, ওই বাহ্যিক উপাদানের উপর কাজ করে, বিশেষ পরিণতি বা আকার দেয়। এই সব তত্ত্ব মন বাইরে থেকে আহরণ করে না।  নিজের ভেতর থেকে এনে বাইরের জিনিষের উপর তার প্রভাব ফেলে।

যেমন, রােদের তাপে মাথা গরম হয়। এই জ্ঞানের বাহ্যিক উপাদান রোদ, আগেকার অবস্থার ঠান্ডা মাথা এবং পরের অবস্থার মাথা গরম ভাব ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে মনে প্রবেশ কর। কিন্তু রোদ এবং গরম মাথার সম্পর্কটি অর্থাৎ ওদের

কার্য-কারণ সম্বন্ধে মনের দান। এই কার্য-কারণ তত্বের প্রয়োগেই বাহ্যিক উপাদান জ্ঞানে পরিণত হয়েছে। উল্টোভাবে বলা চলে, ঐ বাহ্যিক উপাদান-ই মনোগত সাধারণ কার্য-কারণ তত্ত্বকে বিশেষ কার্যকারণের জ্ঞানে পরিণত করে এবং জ্ঞানের অথই হলাে, বিশেষ জ্ঞান। বাহ্যিক উপাদান এবং মানসিক তত্ত্ব- এই দুয়ের সংযোগ

হলে, তবেই জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। একটিকে ছাড়া, অন্যটি অস্তিত্বহীন।

          রসের বিশ্লেষণেও এই দুই ধরনের উপাদান রয়েছে, মানসিক ও বাহ্যক।

            রসের মানসিক উপাদান হল মনের ভাব বা ইমাোশনগুলি। আর বাহ্যিক উপাদানগুলি, জ্ঞানের বাহ্যিক উপাদানের মতাে, বাইরের লৌকিক জগৎ থেকে আসে না। আসে কবির সৃষ্ট কাব্য-জগৎ থেকে। কাব্য-জগতের ওই বাহ্যিক উপাদানের ক্রিয়ায় মনের ভাবে রূপান্তরিত হয়ে, রসে পরিণত হয়। সুতরাং রস জিনিষটি লৌকিক বস্তু নয়। তবে মনের যে সব ভাব রসে রূপান্তরিত হয়, তারা অবশ্যই লৌকিক।

              শোক একটি মানসিক ভাব বা ইমোশন। লৌকিক জগতের বাহ্যিক কারণে, মনে শােকের জন্ম হলে, মানুষ শোকার্ত হয়ে ওঠে। কিস্তু শোকার্ত লোকের মনের শােক, তার কাছে রস নয় এবং সে শোকের কারণটিও কাব্য নয়।

             কিস্তু কবি যখন তার প্রতিভার মায়াবলে, এই লৌকিক শোক ও তার লৌকিক কারণের, এক অলৌকিক চিত্রকল্প ফুটিয়ে তোলেন, তখনই রসিক পাঠকের মনে, রসের উদয় হয়। যার নাম-করুণ রস। এই করুণ রস শোকের ইমোেশন নয়।

            শােক হচ্ছে দুঃখদায়ক। কিস্তু কবির কাব্য পাঠে, মনে যে করুণ রসের সঞ্চার হয়, তা চোখে জল আনলেও, মনকে অপূর্ব আনন্দে ভরিয়ে তোলে। এই কথা, কাব্যের আস্বাদ যার আছে, সে-ই জানে। কিন্তু তা কাউকে প্রমাণ করে বোঝানাে কঠিন। কারণ, করুণা রসে মনে যে অদ্ভুত সখ্য জন্মে, তার একমাত্র প্রমাণ হৃদয়বান লোকের অনুভূতিতে। করুণ রস শুধুমাত্র দুঃখের কারণ হলে, রাময়ণ পাঠে কেউ আর আগ্রহ বোধ করত না।

                   'Our sweetest songs are those that tell of saddest thought' যথার্থ কথাই বলেছেন কবি। তবে মনে রাখতে হবে, tell of saddest thought, যে বাস্তব ঘটনা মনে সােজাসুজি Sad thotght আনে, তা sweet ও নয় song-ও নয়। কবি যখন, সেই Saddest thought-এর কথt কাব্যে তুলে ধরেন, নানা রূপকল্পে, তখনই তা Sweetest song-য়ে রূপাস্তবিত হয়।

               রস বা কাব্যের জগৎ অলৌকিক মায়ার জগৎ। কবি তাঁর কাব্যে যে মায়া জগৎ সৃষ্টি করেন, তার কৌশল কী?

              এই প্রশ্নের যথার্থ উত্তর অসম্ভব। কারণ, প্রত্যেক সার্থক কাব্য, এক বিশেষ সৃজন, কলের (machine) তৈরি জিনিস নয়।

             প্রেমিকের মনে যে প্রেমের উদ্ভব হয়,তা রসও নয়, কাব্যও নয়। কারণ তা প্রেমিকের ব্যাক্তিগত হদয়ে আবদ্ধ। সুতরাং তা পরিমিত। তা লৌকিক। অতএব রস বোধের অন্তরায়।

            কবি যখন প্রতিভার মায়ায়, এই পরিমিত লৌকিক ভাবকে 'সকল সহৃদয় হৃদয় সংবাহী' আলৌকিক রস মুর্তিতে রূপান্তর ঘটান, তখন তা কাব্য হয়ে ওঠে। পাঠকের মনেহয়, কাব্যের চরিত্র এবং ভাব পরের, কিন্তু সম্পূর্ণ পরের নয়, কিছুটা আমার নিজেরও, কিস্তু সম্পূর্ণ নিজেরও নয়।

               আজকের দিনে মহাকাব্যে লেখা হয় না বললেই চলে। লিরিক কাব্য লেখা হয়। এখন যখন কবির নিজের মনের ভাবই কাব্যের উপাদান, তখন এই ভুল প্রায়ই ঘটে দেখি, কবির হৃদয়ের ভাবকে পাঠকের মনে সঞ্চারিত করাই বুঝি কবির লক্ষ্য এবং যে কবির ভাব যত তীব্র, যত আবেগময়, তার কাব্য সৃষ্টিও তত সার্থক। তাই যদি হত, তা হলে সাম্প্রদায়িকতা জিগিরের উম্মত্ত উত্তেজক সব ভাষণই উৎ্কৃষ্ট কাব্য বলে বিবেচিত হত। কারণ, তাতে সাম্প্রদায়িক জিঘাংসা ও ক্রোধকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা সফল ভাবেই করে।

                     লােকে যদি আলো চায়, তবে তাকে জ্বালতে হয় বাতি (লাইট), তেমনি কবির লক্ষ্য যদিও রস সৃষ্টি, কিন্তু তার জন্য তাকে সৃষ্টি করতে হয় কাব্যের শব্দার্থময় কথা। এই কথাবস্তু যদি সহদয় পাঠকের মনে, অভিপ্রেত রস সঞ্চার করে, তবেই কবির কাজ সার্থক হয়। এর বেশি তার সাধ্যের বাইরে। কারণ, কাব্য কোনও

পাঠক-বিশেষের মনে রসের উদ্রেক ঘটাবে কিনা, তা কেবল কাব্যের উপর নির্ভর করে না, পাঠকের মনের রুচির উপরও নির্ভর করে।

                   কবি যে ভাবকে রসমূর্তিতে রূপ দিতে চান, যদি পাঠকের মন সে ভাব সম্পর্কে কতকটাও কবির মনের সহমর্মী না হয়, তবে সে পাঠকের কাছে কাব্য ব্যর্থ। কাব্য যে ভাবকে, রসে পরিণত করতে চায়, পাঠকের মনে তার কোনও ধারণাই যদি না থাকে, তবে তার বয়স যতই হোক, সে কাব্য সম্বন্ধে শিশু। অর্থাৎ ওই কাব্য তার জন্য নয়। মনে ভাব থাকলেই যে রসের আস্বাদন হবে, এমন

আবার নাও হতে পারে। যদি তার কাব্য পাঠের অভ্যাস না থাকে।

               কাব্যের লক্ষ্য রস। শব্দ-বক্তব্য-স্টাইল-অলস্কার তার উপায় মাত্র। এই উদ্দেশ্য ও উপায়ের মধ্যে এক যাদু প্রক্রিয়া বিদ্যমান, যা সকলেই বোঝে না, কেবল মাত্র কবিমনই বুঝতে পারে। এ জন্য কাব্যে পাঠে অভ্যস্থ পাঠকের কাছে যে ব্যঞ্জনা ধরা পড়ে, সকলের কাছে তা ধরা পড়া সম্ভব নয়।

              অবশ্য বেরসিকের কাছে এর কোন মূল্য নাও থাকতে পারে। যেমন, উদাহরণ স্বরূপ একটি বাস্তব ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করি। আমার এক তরুণ বন্ধু-সুশিক্ষিত, মার্জিত, রুচিবোধ সম্পন্ন, কম্প্যুটারে পারদর্শী, আই. টি সেক্টরে কর্মরত। একদিন কথায় কথায় আমায় বলল, তোমরা কবিতা কবিতা করে এমন মাতামাতি কর কেন বল তাে? কী মজা পাও আধুনিক কবিতা পড়ে? আমি তাে পড়ে ছাই কিছুই বুঝি না।

আমি তখন তাকে বলি। তাহলে তোমাকে একটা কবিতা বলি শোন -

'হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিয়াছি পৃথিবীর পথে

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি ; বিন্বিসার অশোেকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি ; আরো দূরে অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লাস্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সযফন,

আমাদের দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।'


           বন্ধু শুনে বলে উঠলো, আরে থামো থামাে। এতাে পাগলের প্রলাপ | চলতি ছােকরাদের ভাষায়, ভাট বকা। হাজার বছর কেউ বাঁচে যে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরে, বিস্বিসার -অশোকের ধূসর জগতে ঘুরবে? ঘুরে ক্লান্ত হবে, তারপর বনলতা সেনের দেখা পেয়ে শাস্তি পাবে।

            আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করি, এ তো কবির কল্পনা।

সে শুনে বলে, একেবারে অবাস্তব কল্পনা। যার কোনও মাথা মুন্ড নেই। তার চেয়ে বললেই পারতাে -

'লক্ষ বছর ধরে আমি তাে আদম হয়ে ঘুরে ফিরি সমুদ্রে জঙ্গলে

নিবিড় শান্তি পেতে দু'দন্ডের তরে, ইভকে যে খুঁজে পাই অকস্মাৎ নিষিদ্ধ ফলে।


            এরপর আমি আর কোনোদিন ওকে ভুলেও কবিতার রস গেলাতে যাইনি। কারণ সে কোনও দিনই বুঝবে না কবিতার ব্যঞ্জনা। কবিতার রস আস্বাদন করার মতন মনটাই ওর তৈবি হয়ে ওঠেনি যে। অথবা মনটাকে ও সেভাবে তৈরী করে তোলবার কথা ভাবেনি। তাই কবিতার রস সকলের জন্য নয়। যেমন 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।' তেমনি সকলেই কবিতার পাঠক নয় কেউ কেউ কাব্য-পাঠক। এই জন্যই গল্প-উপন্যাসের মতো কখনোই কবিতার বইয়ের বাজার থাকে না। কবিতার বই বিক্রি, এত কম হয়।


                 কবিতার ভাষা, স্টাইল বা অলংকার প্রয়াোগের কোনও বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। নিয়ম থাকা সম্ভবও নয়। কেননা রস ছাড়া এদের আর কোনও আলাদা মুল্য নেই।

                প্রাচীন কবিদের কাব্য বিচার করে, যদিও তার কাব্য থেকে কোনও কোনও সাধারণ নিয়ম আবিস্কার করা যায়, নতুন কবিদের ক্ষেত্রে সে নিয়ম প্রযোজ্য নাও

হতে পারে। কারণ, তাদের কাব্য প্রতিভা সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে চলেও, সার্থক কাব্য সৃষ্টি করতে পারে।

               কাব্যের বিষয় সম্পর্কেও এই একই ব্যাপার। কী নিয়ে কবি কাব্য রচনা করবেন, তা কারও পক্ষই বলে দেওয়া সম্ভব নয়। কোন 'অপূর্ব কথা বস্তু সৃষ্টি করে, রসকে আকর্ষণ করবে, আগে থেকে কে তা নির্ণয় করতে পারে? কারণ, এমন কোনও বিষয় নেই, যা রসিক কবি প্রকাশ-উপযোেগী করে তুলতে পারেন না। বস্তু জগতের মতো কাব্য জগতও সীমাহীন। কাব্যে, কবির ব্যবহার স্বাধীন, বাইরের কোনও কিছুর আনুগত্য তাকে মানতে বাধ্য করা চলে না।

              কবি জীবনানন্দ দাশ বলতেন, "কাব্যের ছন্দ তাে অনেক রকম, গদ্যও ছন্দও তো একরকম ছন্দ। কবি যখন ভারাক্রান্ত হন, তখন চোখ তার ছবি দেখে, কান শোনে ছন্দ এবং চোখও অনুভব করে যেন ছন্দ বিদ্যুৎ। কোন ছন্দে কবিতাটি রচিত হবে মুহুর্তের ভিতরেই নির্ণীত হয়ে যায় অনেক সময়।"

               কাব্যের লক্ষ্য হল রস। রস হল ভাবের পরিণতি। কিন্তু ভাব কোন নিরালম্ব জিনিষ নয়। বস্তুকে আশ্রয় করেই তা জন্মায় এবং বেঁচে থাকে। কবি ভাবের এই বস্তুকে কথা-শরীর দিয়েই রসের উদ্বোধন ঘটান। সৃতরাং কাব্যের কথা-বস্তু যদি ভাবের প্রকৃত বস্তুর যথার্থ চিত্রণ না হয়, তবে রসের উদ্বোধনের ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করে। বর্ণনা এমন হবে যাতে পাঠকের অনুভূতি রঞ্জিত হয়।

               কবি জীবনান্দ দাশ বলতেন, "কবিতা সৃষ্টির জন্য নিজেদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে গিয়ে ও সেই কবিতা সৃষ্টি করবার সময় উপরোক্ত সামাজিক লাভ-অলাভের প্রশ্ন কবির বড় চেতনায় বিশেষ কোনো ছায়াপাতই করে না, তার চৈতন্য ও অনুচেতনা ঐকাস্তিকভাবে সক্রিয় থাকে কবিতাটিকে সৎ, সার্থক করে তোলার জন্য।"

             কাব্যের জগৎ তাই সমস্তাটাই বস্তুর জগৎ নয়। খানিকটা মায়ারও জগৎ। তাই বলা চলে, 'রামের জন্মভূমি সত্য, কবির মনোভূমি -- তার চেয়েও বেশি সত্য।'

          মহাকবি বাল্মীকির কাছে, রামের জন্মভূমি যতটা সত্য ছিল তার চেয়ে বেশি সত্য ছিল তার মনোভূমি। না হলে তার সৃজনকর্ম "রামায়ণ' মহাকাব্য না হয়ে, শুধুমাত্র ইতিহাস গ্রন্থ বলেই বিবেচিত হত আজ। অনেকে আবার বলেন, রামের জন্মের আগেই নাকি মহাকবি রামায়ণ রচনা করেছিলেন।


              কথা বস্তুর লক্ষ্য - বস্তু নয়, রস। কাব্যে যে বস্তুকে তুলে ধরা হয়, তা বস্তুর জন্য নয়, রস সৃষ্টির জন্য। কাজেই উপায় যদি উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে যায়, তবে কাব্যের রস-হানি ঘটে। কাব্যের উৎকর্ষতা হ্রাস পায়। বস্তুর বাস্তবতা অনস্ত। কোনও কবিই তার সবটুকু কাব্যের কথাবস্তুতে স্থান দিত পারেন না। যদি পারতেন,

তবে তার সৃষ্টি আর যাই হাক কাব্য হত না। সুতরাং বাস্তবতার কতটুকু কাব্যে স্থান পাবে, তা নির্ভর করে, সেই কাব্যের উদ্দিষ্ট রসের উপর, এবং বিশেষ করে কবি প্রতিভার বিশেষত্বের উপর।

                    বস্তুর বাস্তবতার যে অংশ কাব্যের রসকে পরিপুষ্ট করতে পারে না, সেই অংশ কবিতার ভার, বোঝা। তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

                    বস্তুতস্ত্র এবং ভাবতন্ত্র রস সৃষ্টির দুই ভিন্ন কৌশল। কোন কবি, কোন কাব্যে, কোন কৌশল অবলন্বন করবেন তা নির্ভর করে তার রুচি এবং প্রতিভার বিশেষত্বের উপর। এই দুই কৌশলের মধ্যে সৃষ্ট রসের আস্বাদের ভিতরে প্রভেদ থাকলেও কিন্তু রসত্বের প্রভেদ নেই। সুতরাং কেউ, কাউকে ছােট ভাবলে, সেটা অবশ্যই ভুল করা হবে। এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, প্রথাগত ধারায় রচিত কবিতা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক ধারায় সৃষ্ট কবিতা, যখন দুটি ধারাই একসঙ্গে বহমান থাকে, তখন দুটি ধারার দিকেই সমান দৃষ্টি দেওয়া প্রয়াোজন। সুতরাং কাউকে অগ্রাহ্য করা ভুল হবে। একটাকে বাদ দিয়ে অথবা একটা শুধু পড়লে, রুচির প্রসার ঘটবে না। তবে এক আস্বাদের রসে অরুচি হলে,কিছুদিনের জন্য পাঠক অন্য রসের স্বাদ নিতে পারেন। খেজুরে অরুচি হলে তেতুলের স্বাদ গ্রহণে বাধা নেই কোনও।

               কাব্যের সঙ্গে কাব্যের ছােট বড়র ভেদ, মূলত রসের তারতাম্য নিয়ে। কাব্য আর অকাব্যের ভেদ, এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।

         কাব্যে রস সৃষ্টির যে সব উপাদান যথা শব্দ, স্টাহল, অলস্কার, ছন্দ - সে একই মাল মসলা দিয়ে রচিত রচনা, অথচ যাতে রস নেই, তা হচ্ছে অকাব্য। কেউ কেউ আবার তাকে বলে থাকেন 'চিত্র-কাব্য'। চিত্র যেমন বস্তুর অনুকরণ কিন্তু বস্তু নয়, এও তেমনি কাব্যের অনুকরণ অথচ কাব্য নয়। এ রকম অকাব্য যে রচিত হয়, তার কারণ অনেক। প্রধান কারণ, রস সৃষ্টির প্রতিভা যার নেই, অথচ তার কাব্য রচনার ইচ্ছে আছে ষোল আনা। এই ইচ্ছের বেগে সে যা রচনা করে চলে, তা কাব্য হয় না, হয় কাব্যের ছায়ামুর্তি মাত্র। এই জন্যই, সমসমায়িক যশঃপ্রার্থী কবিরা কেউ কেউ, পূর্বসূরী কোনও প্রভাবশালী কবির 'ভাষা-ছন্দ-ভঙ্গি র ব্যর্থ অনুকরণ করে সফল হতে চায়। কারণ তাদের মনের ভরসা, কতকটা ওই রকম, মূর্তি গড়তে পারলেই, তার মধ্যে রস সঞ্চার আপনা থেকেই হয়ে যাবে।

              সত্যি বলত কী, তা কখনোই হয় না, ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র। আবার অনেকে আছেন, যাদের কাব্য রচনার উদ্দেশ্য- উপদেশ দেওয়া, প্রচার করা, মানুষের বুদ্ধির কাছে কোনো সত্যকে তুলে ধরা। যেমন পােপের, 'এসে অন ম্যান' অথবা কৃষ্ণচন্দ্র মজমদারের 'সদ্ভাব শতক' কিংবা 'খনার বচন', এইসব রচনাকে কাব্যের আকারে গড়লেও, রস এখানে উপায় মাত্র, বক্তব্যই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সুতরাং এইসবগুলি কাব্য নয়। কাব্যের ছদ্মবেশ মাত্র। পদ্য বলা চলে। কবিতায় রসই প্রধান উপপাদ্য বিষয়। কাব্যে ব্যবহৃত অন্য আর সবকিছুই তার উপায় বা উপাদান মাত্র।

            প্রসঙ্গতঃ কবি জীবনানন্দ দাশের কথা মনে পড়ে। তিনি বলতেন, "কবিতা মুখ্যত লােকশিক্ষা নয়, কিংবা লোকশিক্ষাকে রসে মপ্তিত করে পরিবেশন - না, তাও নয়। কবির সে রকম কোনও উদ্দশ্য নেই"।

                   অ্যারিস্টটল জানতেন যে, বিসাদৃশ্যের মধ্য সাদৃশ্যের সন্ধান যে কবির ক্ষমতায় কুলায় না, সে প্রতিভায় বঞ্চিত।

                আজকের দিনে মানুষের কাছে, সমাজ বন্ধন এবং সমাজ ব্যবস্থা (অর্থনীতি,রাজনীতি) খুব বড় হয়ে উঠেছে। এত বড়, যেন মনে হয় মানুষের সব প্রচেষ্টা, সমস্ত সৃষ্টির ওটাই হচ্ছে চরম লক্ষ্য। কিস্তু যে সব সৃষ্টি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সমাজের কোনও  কাজ লাগে না, তার যে কোনও মূল্য আছে, সে কথা ভাবা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে। 

              কিছু লােকের ধারণা, পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থা একদিন সমস্ত মানুষকে দুর্দশাহীন, সকল রকম সুখ-স্বাচ্ছন্দের অধিকারী করে তুলবে। সুতরাং তাদের দাবী কবিদের উপর বেড়ে গেছে। তাদের সেই দাবী- কবির রস সৃষ্টির শক্তি এই সমাজ সংসারের মঙ্গল সাধনের জন্য নিয়ােজিত করা হোক। এ দাবী অসঙ্গতও নয়। লৌকিকে জীবনের উপর যে কবিতার প্রভাব নেই, তা তো নয়। কিন্তু সে ফল জীবনের পুষ্টিতে নয়, মানবিক মুক্তিতে। আমাদের আত্ম -উপলন্ধি আরও গভীর, আরও বিস্তৃত করা ছাড়া কবিতার অন্য আর কোনো উদ্দেশ্য না থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।

                  কবি কাব্যের স্রষ্টা হলেও, সে অবশ্যই সামাজিক জীব। মানুষের দুঃখ-সুখ, আশা-নিরাশা, প্রণয়-হিংসা তার কাব্যের বিষয়। কবি তাদের রস সৃষ্টির উপাদান হিসাবে ব্যবহার করেন, সেখানে হয়তোে কবির সামাজিকতা ঢাকা পড়ে যায়, কারণ রস সৃষ্টিই তার চরম লক্ষ্য। যেমন শেক্সপীয়রের নাটক, যেখানে কবির সামাজিকতা প্রবল কিন্তু তা রস সুষ্টির অস্তরায় হয়ে ওঠেনি। সামাজিকতা এখানে উপরি পাওনা।

                   কবি রসের ছলে উপদেশ দেন। ওই কথা যেমন সত্য নয়, তেমনি কাব্য রসের সাহায্যে সত্যকে প্রকাশ করেন এ কথাও মিথ্যে। সত্য - কাব্যের লক্ষ্য নয়, রসের উপাদান মাত্র।

                    কবি বা শিল্পী, নেতা নন, সমাজ সংস্কারকও নন। তার কাজ সমস্যার সমাধান

বাতলে দেওয়া নয়। শুধু তা শিল্প সুষমায় প্রকাশ করে দেওয়া। বক্তব্যে উপদেশ দেওয়া নয়, সমাজের ক্ষতটা রসমন্ডিত করে তুলে ধরা। 

                   কবি ইয়েটস বলেছেন, "অপরের সঙ্গে আমাদের যে কলহ, তা থেকে আমরা ভাষার অলঙ্কার পাই, আর নিজের সঙ্গে যে দ্বন্দু, তা থেকে কবিতা।"

                   কবিতায় উপদেশ দেওয়া, শিক্ষা দেওয়ার কাজ কবির পক্ষে যথার্থ নয়। সে কাজ অপরের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভাল।

                    শিল্পী যখন পাথর কুঁদে কুঁদে একটি মৃর্তির প্রকাশ ঘটান, তখন কেউ তাকে বলেন না যে মূর্তির মধ্য দিয়ে সে পাথরকে প্রকাশ করেছেন। এও তেমনি দৃষ্টি বিভ্রম মাত্র।

                       তাহলে এখন প্রশ্ন, কাব্য সংসার জীবন বা সমাজের কাজে কতটা লাগে?

                        কবি বলেন, কোনও কাজেই লাগে না। কাব্যের প্রধান কাজ রসিক পাঠকের মনে আনন্দ লহরী তােলা ছাড়া আর অন্য কিছুই নয়। কেউ যদি তার থোকে সংসার জীবন  কিংবা সমাজের জন্য কিছু পান, তা তার বাড়তি পাওনা। এ'জন্য কবিকে কেউ কেউ অসামাজিক জীবও ভাবতে পারেন। মূর্খও ভাবতে পারেন। তা'তে প্রকৃত কবি দুঃখ পাবেন বলে মনেহয় না।

                         কবিতা কখনোই তত্বকে প্রমাণ করে না। সে তত্বকে রূপদান করে মাত্র। সব সময় যে তাও করে, তা নয়। তত্ত্ব হােক বা না হােক, একটা কিছু যে কোনও রস

বস্তকে, সে আপনার কল্পনায় ও ভাবে - ছাঁচে ফেলে, একটা সুষমাময় রূপে গড়ে গড়ে তুলতে পারলেই সে খুশি।

                         সে ভাবকে ধরতে চায় না, অভাবনীয়কে ধরতে চায়। এই জন্য সে যে রস সৃষ্টি করে, তার মধ্যে আসল ভাবটা কি, তা উদ্ধার করা এত কঠিন। মুখে যেমন মনের নানা ভাবের আলাে-ছায়ার কারুশিল্প দেখা যায়, কবিতার মধ্য দিয়ে তেমনি ভাবের নানা ইশারা ইঙ্গিত মাত্র পাওয়া যায় মাত্র, তার বেশি কিছু নয়।

---------------------------------------------------------------------------------------------

[ ঋণস্বীকারঃ 

'কাব্যজিজ্ঞাসা'- অতুলচন্দ্র গুপ্ত ]

---------------------------------------------------------------------------------------------

 


SANKAR BRAHMA. 8/1, ASHUTOSH PALLY, P.O. - GARIA, Kolkata - 700 084.


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার   f‡i _vKyK AvKvk N„Yvq bq fv‡jvevmvq R‡g DVzK wgZvwj AvnZ mg‡q b‡ivg el©‡Y AvmyK cÖkvwšÍ emšÍ w`‡bi g‡Zv KvUzK ev‡iv gvm G‡K Ac‡ii mnvbyf~wZ‡Z f‡i _vKzK †`k mevi Kcv‡j †j‡M _vKzK Avb‡›`i wUc my‡Li cÖ`xc R¦‡j DVzK mevi `ytL N‡i mKv‡ji ‡mvbv †iv‡` f‡i _vK mvivw`‡bi mgq ‡KvZ~nj bq Avb›` D”Qv‡m f‡i _vKzK mevi Ni Sjmv‡bv Av‡jvq f‡i _vKyK mevi AvKvk|   Zzwg mgy‡`ªi g‡Zv A‰_ ü`‡q Avgvi AvKvOÿvi N‡i G‡b‡Qv fv‡jvevmvi e„wó my‡Li bvgZvq Rxe‡bi avivcvZ f‡i‡Qv fv‡jvjvMvi evZv‡m f‡i‡Qv wb:k‡ãi Kÿ iv‡Zi wb¯ÍäZvq G‡b‡Qv †RvbvwKi evmi|   Avn¬v`x Av`‡i nv‡Z nvZ †i‡L wb`viæY my‡L f‡i‡Qv gb k~Y¨Zvi †PŠnÏx‡Z Zz‡j‡Qv my‡Li †`qvj Avuav‡i R¡vwj‡q‡Qv Av‡jvi †ivkbvB em‡šÍi e„wó‡Z gb wfwR‡q nvRv‡iv dz‡ji M‡Ü K‡i‡Qv gvZvj|     Zzwg Kv‡Q Avmvq   Zzwg Kv‡Q G‡j fv‡jvevmvq Av‡m c~Y©Zv emšÍ evZv‡m D‡o gy³ cvwL`j g‡bi K...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...