Skip to main content

সন্তোষকুমার দত্তের লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত লেখাজোখা --- অরবিন্দ পুরকাইত

সন্তোষকুমার দত্তের লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত লেখাজোখা

--অরবিন্দ পুরকাইত




কত যে গ্রামশস্যে সমৃদ্ধ শহরের ভাঁড়ার! যুগে যুগে গ্রাম থেকে আসা মানুষ
শহরকে সমৃদ্ধ করেছে তাদের শ্রম দিয়ে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে। আদতে শহর কোনও
বিচ্ছিন্ন সীমায়িত ক্ষেত্র নয়, তার পটভূমি-পশ্চাদ্‌ভূমি হয়ে বরাবর পড়ে
থাকে চিরকালের গ্রাম।
সন্তোষকুমার দত্ত (১৬-০৬-১৯৩০ – ২৮-০৫-২০১৭) সে কথা স্মরণ করেছেন তাঁর এক
নিবন্ধে১ যেখানে তিনি বলেছেন, 'তৈরী-করা শহর আর হয়ে-ওঠা গ্রামের পার্থক্য
অনেকখানি, যেমন শহর কলকাতার সঙ্গে বারুইপুরের গ্রামীণ সংস্কৃতির বনিয়াদ
তৈরি হয়েছে গ্রামের মানুষের প্রাণরসে, আর শহরের সংস্কৃতির নেপথ্যে গ্রাম
থেকে শহরে গিয়ে বসবাস করা মানুষের অবদান।' দুটি দৃষ্টান্তও দিয়েছেন।
রামমোহন আর বিদ্যাসাগর। নিজে গ্রামের সন্তান বলে এটি আরও নিবীড় করে
বুঝেছিলেন তিনি। সাতচল্লিশ বছর বয়সে – যাকে বলে, প্রৌঢ়াবস্থায় – মগরাহাট
থানার নিজ গ্রাম গোকর্ণী থেকে শহরতলি বারুইপুরবাসী হন তিনি। অনেক আগে তিন
বছরের ব্যবধানে তাঁর একটি গল্পের বই (চেনা মুখ অচেনা মন, ১৯৬১) ও একটি
উপন্যাস (দ্বিধারা, ১৯৬৪) বেরিয়ে গেছে। ঘটনাচক্রে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায়
তাঁর লেখাজোখার জগৎ প্রায় নগণ্য হয়ে যায়। শহরতলিতে আসার পর পুনরায়
ফলপ্রসূ হয়ে উঠতে থাকে তাঁর সৃজনশীলতার জগৎ - মূলত প্রবন্ধক্ষেত্রে। একে
একে প্রকাশিত হয় প্রবাহের বিপক্ষে (১৯৮৬), উজানপথে রামমোহন সমীক্ষা
(১৯৯১), বিভূতিভূষণ : স্বকাল ও একাল (১৯৯৩), প্রসঙ্গ : বিবেকানন্দ বিদূষণ
(১৯৯৩), তারাশঙ্করের সাহিত্য ও গান (১৯৯৭), নিঃসঙ্গ পথিক মোহিতলাল
(২০০০), সাহিত্য ও অন্যান্য ভাবনা-র তিনটি খণ্ড (২০০৪, ২০০৬ ও ২০১১),
সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসের আট কথাশিল্পী (২০০৯), তিন রাজার রাজত্বে
(২০১৪)। একটি পত্রিকার (দেবযান, ১৯৮৩) সম্পাদনা বরাবর প্রধান সহায়ক হয়ে
থাকে তাঁর সেই সৃজনকর্মে। প্রসঙ্গত, সাহিত্য সৃষ্টিতে বারুইপুরের
ইতিবৃত্ত রচনাও সহজ নয় বলেছেন তিনি, কেন-না 'যে সংস্কৃতি মাটির সঙ্গে
ওতপ্রোতভাবে বিজড়িত, তাকে মাটি থেকে তুলে আলাদা করে দেখানো কঠিন'।
তাঁর মা বলতেন, তপ করো জপ করো মরতে জানলে হয়। তাঁর গ্রামেরই জাতক বর্তমান
নিবন্ধকারও আরও বহু বহু প্রবাদ-প্রবচনের মধ্যে এই প্রবাদটিও বহুবার
শুনেছে তার মা-দিদিমা-জেঠিমার মুখে। গ্রামের বিশেষত মহিলাদের মধ্যে
এগুলির নিঃসরণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তাঁর আত্মস্মৃতি আয়নার সামনে-তে (১৪১৮)
আলাদা করে মায়ের প্রবাদ-প্রবচন প্রয়োগের কথা নেই। কিন্তু সম্ভবত এমন
একাধিক প্রবাদ-প্রবচন তাঁর মুখে উচ্চারিত হত। এই জেলায় প্রচলিত বেশ কিছু
প্রবাদ-প্রবচন জানা ছিল সন্তোষকুমারের। তাঁর লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত
বাংলা কথাসাহিত্য (২০০৭) পুস্তকের সূচনাপর্বে যে-সব প্রবাদ এসেছে তার বেশ
কিছুটা অংশই নিজস্ব – বোঝাই যায় গ্রামের মানুষ হিসাবে মা-ঠাকুমা-দিদিমা
বা পাড়া-প্রতিবেশীদের মুখে মুখে ফেরা থেকে যা সহজ অর্জন।
গ্রামের সন্তান হিসাবে গ্রামীণ সংস্কৃতি তাঁর অপরিচিত ছিল না। তবে সেই
পরিচয় অবাধ হতে পারেনি বালক সন্তোষের। 'গ্রীষ্মকালে যাত্রা-পুতুলনাচ
প্রায়ই হত। পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে প্রাক্‌-বর্ষা পর্যন্ত গ্রামের
বিভিন্ন স্থানে এগুলি লোকরঞ্জন করত। গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যায় ঝড়-বৃষ্টি হলে
পরদিন ভোর থেকে বেলা পর্যন্ত পুতুল নাচ হত। তাতেও দর্শকদের উৎসাহের অন্ত
ছিল না।' – লিখেছিলেন তিনি স্মৃতিচারণামূলক এক রচনায়।২ নিজ গ্রাম বা
বিশেষত পার্শ্ববর্তী ঘনশ্যামপুর গ্রামে হওয়া যাত্রা-পুতুলনাচ দেখতে
যাওয়ার স্বাধীনতা তাঁর ছিল না। 'তখন আমি ছিলাম ক্ষুদ্র, দরিদ্র পরিবারের
শাসন-শৃঙ্খলায় বাঁধা ভীরু পল্লীবালক। বিনা অনুমতিতে কোথাও যাবার অধিকার
ছিল না – এমনকি যাত্রা-পুতুলনাচেও।'৩ অথচ সেই বালক-হৃদয় কতখানি আকুল ছিল
এ-সবের জন্যে তার পরিচয় পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী বোস পাড়ায় দুর্গাপূজার
নবমীর দিন যে নাটক হত তা নিয়ে তাঁর সেই অদ্ভুত উন্মাদনার কথা জেনে। বঙ্গে
বর্গী, গৈরিক পতাকা, সিরাজদ্দৌলা – প্রতি বছর নতুন নতুন পালা। তাঁদের
পাড়ার রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়িতে যেত মঞ্চের সাজ-সরঞ্জাম, বাক্স-ভরা
সাজপোশাক। সেদিন সেই বালকের খেতে-বসতে মন লাগত না, ভালো লাগত না
সঙ্গীসাথীদের সঙ্গে মিশতে। কতবার যে বোসপাড়ায় যেতেন সেদিন! 'বড় বড়
সুপুরিগাছ আর বাঁশ দিয়ে স্টেজ বাঁধা হচ্ছে; ওপরে তক্তপোশ পাতা। পাড়ার
লোকজন কাজে ব্যস্ত, - আর একপাশে আমি অবাক চোখে চেয়ে। মনে হত দিনের বেলায়
এই জায়গাটা রাতের আলোয় অমন অপরূপ হয়ে ওঠে কেমন করে!'৪ বাবা-মা ঘুমোতে
বলতেন, না হলে থিয়েটার দেখতে পাবে না ছেলে। বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতেন,
ঘুমোবে কে! 'সেদিন এই বালকের প্রাণে বেজে উঠতো বাঁশি যা ঘুম ভাঙায়, ঘুম
পাড়াতে জানে না। সেই বাঁশির সুরে থাকত ঘর থেকে বাইরে বের হবার ইঙ্গিত, শত
শত মানুষের মাঝখানে বসার আহ্বান। কত রাজ্যের ভাঙা-গড়ার কাহিনী! কত জাতির
উত্থান-পতনের ইতিহাস। ঘুম আসবে কেমন করে! বুকে হাতুড়ি পেটার শব্দ শুনতে
পাই।'৫ অবশেষে আসত সেই আকাঙ্ক্ষিত সময়, 'আনন্দে আর উত্তেজনায় হৃদপিণ্ড
লাফাতে থাকতো'। থিয়েটার শুরুর আগে কনসার্ট বাজত – হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গ,
ক্লারিওনেট। 'প্রাণের প্রতিটি অণুকে জাগিয়ে, সমস্ত মনকে দোলা দিয়ে বেজে
উঠতো' ক্লারিওনেট নামক সেই সুরযন্ত্রটি। একসময় ড্রপসিন উঠে শুরু হত
থিয়েটার। লিখেছেন সন্তোষকুমার, 'সেদিন সেই বালক হৃদয়ে এমন একটা অনুভূতির
সঞ্চার হতো – যাতে মনে হতো আমিও যেন এই ঘরছাড়াদের একজন। ওদের সঙ্গে আমার
জন্মজন্মান্তরের পরিচয়। ... চোখে লেগেছিল স্বপ্ন-কল্পনার যে মোহাঞ্জন,
মনের কোণে অঙ্কুরিত হয়েছিল যে আশার বীজ, তা এক নতুন দিগন্তের সন্ধান
দিয়েছে।'৬
লোকসংস্কৃতিমূলক লেখাজোখা তুলনায় অপ্রতুল তাঁর। লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত
তাঁর লেখাজোখার এক এবং একমাত্র প্রধান কাজ আমাদের আলোচ্য পূর্বোক্ত
লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত বাংলা কথাসাহিত্য গ্রন্থটি। লোকসংস্কৃতি
সংক্রান্ত দু-একটি সভায় উপস্থিত থাকতে থাকতে, এমনই এক সভায় দু-চার কথা
বলার পর উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক সম্পাদক তাঁর পত্রিকায় এ-বিষয়ে কিছু লেখার
অনুরোধ জানান এবং তা লিখতে গিয়ে তাঁর মনে হয়, 'লোকসংস্কৃতি বাংলা
কথাসাহিত্যে কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে - তা নিয়ে সম্ভবত তেমনভাবে আলোচনা
হয়নি।' তখনকার মতো সাধারণ ভাবে প্রবন্ধটি লিখে পাঠান এবং প্রায় সঙ্গে
সঙ্গে নিজের চিন্তামতো কাজ শুরু করেন, যার ফল উক্ত গ্রন্থ।
সাতাত্তর বছর বয়সে প্রকাশিত বইটিতে রয়েছে তাঁর আন্তরিকতা, শ্রম আর
বহুপাঠিতার প্রমাণ। তাঁর মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল যে ওইরকম কাজ আগেই কেউ
করেছেন কি না। কিন্তু আমাদেরও মনে হয় বিক্ষিপ্ত ভাবে কোনও কোনও
প্রবন্ধ-নিবন্ধে বা কোনও সাহিত্যিকের উপর লিখিত পুস্তকে বা কোনও
সাহিত্যিককে নিয়ে কোনও পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাতেই এমন এক-আধটা লেখা
প্রকাশিত হয় সচরাচর। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের
দুলাল (১৮৫৮) দিয়ে শুরু করে বেশ কয়েকজন সাহিত্যিক হয়ে, লোকসংস্কৃতির
প্রকাশের পরিচয় পেয়ে দেশ-পত্রে তখনও-ধারাবাহিক তিলোত্তমা মজুমদারের
রাজপাট-এর কয়েক কিস্তির উপর আলোচনা – এমনটি কেউ একই পুস্তকে করেছেন বলে
আমাদেরও জানা নেই।
তাঁর দ্বিধারা উপন্যাসের নিখিলকে আমরা দেখেছি যে সে নারী সেজে যাত্রা
করত। নিজের 'নূরজাহান' গল্পে একটি লোকসংস্কৃতি প্রসঙ্গ নিজেই তিনি উল্লেখ
করেছেন লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত তাঁর উক্ত পুস্তকটিতে। এক দিক দিয়ে
তারাশঙ্করের সাহিত্য ও গান (১৯৯৭) বইটিও কিঞ্চিৎ তাঁর লোকসংস্কৃতিপ্রেমের
পরিচয়বাহী। বিচ্ছিন্ন ভাবে অন্য দু-একটি প্রবন্ধও তাঁর লোকসংস্কৃতিচর্চার
পরিচয় বহন করে। যেমন পূর্বোক্ত সাহিত্য ও অন্যান্য ভাবনা (১ম খণ্ড)
পুস্তকের 'তারাশঙ্কর-সাহিত্যে রাঢ়বাংলার লোকসংস্কৃতি'।
লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত উক্ত তাঁর পুস্তকটিতে কথাসাহিত্যিকদের রচনার খাঁটি
লোকসংস্কৃতি-লক্ষণযুক্ত অংশই কেবল উল্লেখে আসেনি, অন্যান্য ভাবে, তা সে
আধ্যাত্মিক, ভৌতিক যেমনই হোক, লোকসংস্কৃতির পরিচয়বাহী বা
লোকসংস্কৃতি-ঘেঁষা মনে হলে তাও উল্লেখে এনেছেন তিনি। এই ভাবে, একশো নয়
পাতার বইটিতে সাধারণ ভাবে লোকসংস্কৃতির পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার
চিহ্নগুলোকে – ছড়া, ব্রতকথা, প্রবাদ-প্রবচন, লোকসংগীত, টুসুগান, গম্ভীরা,
ভাওয়াইয়া, আলকাপ, ভাটিয়ালি, বাউল, জারিগান, সারিগান, যাত্রাপালা ও
পুতুলনাচ, লোকনৃত্য – ছুঁয়ে গেছেন। এর পর একে একে উল্লেখে এসেছে
প্যারীচাঁদ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ,
তারাশঙ্কর, মাণিক, অমরেন্দ্র ঘোষ, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, সমরেশ বসু, আব্দুল
জব্বার ও শেষে ধারাবাহিকের তিলোত্তমা। প্রসঙ্গক্রমে উল্লিখিত হয়েছে
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, কমলকুমার মজুমদার প্রমুখের দু-একটি গল্প। প্রধান
লেখকদের বেশির ভাগেরই প্রতিনিধিত্বমূলক একাধিক উপন্যাস ও গল্পে
লোকসংস্কৃতির উপাদানের সন্ধান করেছেন তিনি।
প্রথম অধ্যায়ে মূলত ছড়া, ধাঁধা এবং প্রবাদ-প্রবচন অংশে বেশ কয়েকটি তাঁর
ব্যক্তিগত সংগ্রহ রয়েছে যাকে তিনি 'দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার স্থান বিশেষে'
বা 'দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি বিশেষ অঞ্চলের' হিসাবে উল্লেখ করেছেন, আসলে এই
স্থানবিশেষ বা বিশেষ অঞ্চল তাঁর গ্রাম গোকর্ণী বা তৎসংলগ্ন এলাকা।
'তুলসী গাছে জল ঢাললে কোনকালে কি পাবে,
নটে শাকে জল ঢাললে নিত্যি বসে খাবে।'
'হাসি হাসবো না তো কি?/হাসির বায়না দিয়েছি।
হাসি পঁচিশ টাকা মণ।/হাসি আনতে কতক্ষণ?' (শেষ পঙ্‌ক্তিটি আমরা
মা-দিদিমাদের কাছে শুনেছি 'হাসি হাসতে কতক্ষণ', যদিও বায়না দেওয়ার সঙ্গে
আনাই মানায়)
'আমাদের লোক মরেছে ভাদ্দর মাসে
কাট-কুটো নেই পোড়াবো কিসে!
কাটের দাম চোদ্দ সিকে।'
"কাঁসারির 'সারি' ছাড়া পাঁটার ছাড়া 'পা'
লবঙ্গর 'বঙ্গ' ছাড়া কিনে আনগে যা তা।'
'পুতের মুতে কড়ি, মেয়ের গলায় দড়ি।' (আমরা শুনেছি, বেটাছাবালের গাঁটে
কড়ি/মেয়েছাবালের গলায় দড়ি)
'ভালবাসার এমনি গুণ, পানের সঙ্গে যেমন চুন।
বেশী হলে পোড়ে গাল, কম হলে লাগে ঝাল।' – এমনই কয়েকটি।
ভালো লেগেছে দেখে যে মাঘী শুক্লপক্ষে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার
মহিলারা মাঙন করে বিবিমার থানে যে হাজত দেয় – তাঁদের পাড়াও যার ব্যতিক্রম
ছিল না – 'ব্রতকথা'র অংশে সেটি উল্লিখিত হওয়ায় যেখানে
খই-মুড়ি-ফল-বাতাসা-মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়ার শেষে মহিলাদের নিজ নিজ বাড়ির
দরজায় পৌঁছানোর পর৭, বাইরে-দাঁড়িয়ে-থাকা উক্ত মহিলা এবং সেই বাড়ির কোনও
ছেলে বা মেয়ের মধ্যে যে প্রশ্নোত্তর চলত সেটি তুলে ধরায় –
"দোরে কেন আলো - ?
গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে ভালো।
দোরে কেন পেতল - ?
গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে শেতল।
দোরে কেন কাঁটা - ?
গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই লোহার ভাঁটা।"
শেষে তিনি লিখেছেন, 'লোক সংস্কৃতির এই সুন্দর অনুষ্ঠান জাতি-ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে মানুষকে এক সম্প্রীতির জগতের সন্ধান দেয় – যে সম্প্রীতে একালে
– অপ্রিয় হলেও সত্য – ক্রমশ অস্তাচলগামী।'
দ্বিতীয় অধ্যায়ে, প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস থেকে
ছড়া-গান, দুর্গাপূজার বোধনের বর্ণনা, বিয়ের কবিতা উল্লেখ করে
সন্তোষকুমারের সংশয়ী উপসংহার : 'বাংলা উপন্যাসে যৎসামান্য হলেও
লোকসংস্কৃতির পথিকৃৎ সম্ভবত প্যারীচাঁদ মিত্র।' তাঁর এই সংশয় আরও কমে যেত
এই উপন্যাসে লোকভাষা ও প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহারের দিকটি একটু খেয়াল করলে।
দৃষ্টান্ত সহ 'বিভিন্ন কাহিনির মধ্যে গান, ছড়া, শ্লোক ও রূপকথার
উপস্থাপনায় লোকসংস্কৃতি সম্বন্ধে বঙ্কিমের সচেতন মনোভাব অনুমান করা
সম্ভব' বলার পর শেষ করেছেন তিনি এইভাবে : 'প্যারীচাঁদ মিত্রে যার
গৌরচন্দ্রিকা, বঙ্কিমচন্দ্রে তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।'
রবীন্দ্রপর্বে, বউঠাকুরানীর হাট উপন্যাসে 'কবি রচিত এবং সম্ভবত দু'একটি
সংকলিত গান ও কবিতায়' – যেমন বসন্ত রায়ের কৌতুকগীতি, প্রতাপাদিত্যের
জামাতার অনুচর রামমোহনের আগমনী গান 'সারা বরষ দেখিনে মা, মা তুই আমার
কেমন ধারা', দ্বিতীয় বার রাজ্যে প্রবেশ করলে তাঁর প্রাণসংশয় অবশ্যম্ভাবী
শুনে বেদনাহত বসন্ত রায়ের গান ইত্যাদিতে লোকসংস্কৃতির সন্ধান করেছেন
সন্তোষকুমার। রাজর্ষি-র ধ্রুবের গান, নৌকাডুবি-র মদ্রদেশের রাজার সঙ্গে
কাঞ্চীর রাজকন্যার বিবাহের গল্প, গোরা-তে উদ্ধৃত লালনের গান, যোগাযোগ-এর
দু-একটি ছড়া বা গান উল্লিখিত। 'মুক্তির উপায়', 'খাতা', 'অসম্ভব কথা',
'অতিথি', 'গুপ্তধন', 'শেষের রাত্রি' ছোটগল্পে গান-গল্প-ধাঁধা-বাউল গান
ইত্যাদি দৃষ্টান্ত হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রে তুলে ধরা
হয়েছে শ্রীকান্ত, বড়দিদি উপন্যাস; 'বিলাসী', অভাগীর স্বর্গ' গল্প থেকে
লোকসাংস্কৃতিক নানান চিহ্ন ।
তৃতীয় অধ্যায়ে, বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক ও ইছামতী
উপন্যাস বা 'কিন্নর দল', 'পিদিমের নিচে' গল্প থেকে একাধিক ছড়া, মন্ত্র,
ধাঁধা, পাঁচালী, বাউল, শ্যামাসংগীত ইত্যাদির উল্লেখ করেছেন সন্তোষকুমার।
এমনই নানান লোকসংস্কৃতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন তারাশঙ্করের কবি,
গণদেবতা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, নাগিনী কন্যার কাহিনী উপন্যাস এবং
'পৌষলক্ষ্মী', 'ইমারত', 'তমসা', 'রাঙাদিদি', 'সংসার' গল্প থেকে যেখানে
আমরা দেখতে পাই 'গ্রামের চাষী, রাজমিস্ত্রির সহচরী, অন্ধ ভিক্ষুক,
বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা প্রভৃতি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের দৈনন্দিন
জীবনযাত্রার মধ্যেও লোকসংস্কৃতির বীজ নিহিত। অনুকূল পরিবেশে তার বিকাশ।'
এখানে প্রসঙ্গক্রমে রমাপদ চৌধুরীর প্রথম প্রহর উপন্যাসে একটি অঞ্চলে রেল
ইঞ্জিনের চাকায় তেল-সিঁদুর দিয়ে ও গান গেয়ে বরণ করে নেওয়ার উল্লেখ আছে।
মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসে যাত্রার দৃশ্য,
ছড়া-গান, অলৌকিক কাহিনি; পদ্মানদীর মাঝি-তে হোসেন মিঞা ও গণেশের গান
লোকসংস্কৃতির পরিচায়ক হিসাবে উঠে এসেছ তাঁর লেখায়।
চতুর্থ অধ্যায়টিকে 'শূদ্র জাগরণ' হিসাবে উল্লেখ করে প্রথমে লোকলসংস্কৃতির
সন্ধান করেছেন সন্তোষকুমার অমরেন্দ্র ঘোষের চরকাশেম উপন্যাসে। সেখানে
পাওয়া যাচ্ছে ছড়া, কেচ্ছা-কাহিনি, গান ইত্যাদি। এর পর অদ্বৈত মল্লবর্মণের
তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে তিতাসের তীরে মালো সমাজের 'পূজাপার্বণ,
ব্রত, লোকসংগীত, নৃত্য, প্রবাদ-প্রবচন ও অলৌকিক কাহিনির সমন্বয়ে যে
লোকলসংস্কৃতি' তার সন্ধান করেছেন। উল্লেখ করেছেন যাত্রা ও গানের সঙ্গে
ধাঁধা, ছড়া, রূপকথার গল্প, এমনকি লৌকিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের কথাও। সমরেশ বসুর
গঙ্গা উপন্যাসে, 'অম্বুবাচী, রথ, ঝুলন, গঙ্গাপূজা, অলৌকিক কাহিনি,
যাত্রা, খনার বচন ও সঙ্গীত প্রভৃতি লোকসংস্কৃতির নানা বিষয়ের কথা
উল্লিখিত।' প্রাসঙ্গিক ভাবে সমরেশের 'জোয়ার ভাঁটা' ও 'অকাল বসন্ত'
গল্পদুটির গানের কথা বলেছেন। এই অধ্যায় শেষ হয়েছে আব্দুল জব্বারের
'গল্প-রীতির অনুসারী' 'প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার খণ্ড খণ্ড বৃত্তান্ত'-এর বই
বাংলার চালচিত্র-তে উল্লিখিত সাপে-কাটার মন্ত্র, বনবিবির গান, কাহিনি,
রসের গান, হিজড়ের গান ইত্যাদি দিয়ে।
তবে এই অধ্যায়টিকে কেন যে 'শূদ্র জাগরণ' বলে চিহ্নিত করেছেন সন্তোষকুমার
তা স্পষ্ট নয়, বড়জোর নিম্নবর্গচর্চা জাতীয় কিছু বলা যেতে পারত। অধ্যায়
শুরু হয়েছে যে অমরেন্দ্র ঘোষের চরকাশেম উপন্যাস দিয়ে তার সম্বন্ধে লেখক
নিজেই বলেছেন, 'নদ-নদী অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গের এক বিশেষ অঞ্চলের জীবনালেখ্য
– প্রধানত মুসলমান সমাজ যার কেন্দ্রবিন্দু।' তবে কি মুসলমান সমাজও শূদ্র
সমাজের অন্তর্ভুক্ত! অধ্যায়ের দ্বিতীয় সাহিত্যিক হিসাবে অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সম্বন্ধে লেখা হয়েছে 'শূদ্র-জাগরণের অন্যতম প্রতিভূ'। লেখকের জীবনের তথা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনবদ্য যে একমাত্র উপন্যাস তিতাস একটি
নদীর নাম-এ লোকসংস্কৃতির সন্ধান করেছেন লেখক তার শেষ দৃশ্যে আমরা দেখছি :
'কিন্তু এখন সে মালোপাড়ার কেবল মাটিই আছে। সে মালোপাড়া আর নাই। শূন্য
ভিটাগুলিতে গাছ-গাছড়া হইয়াছে। তাতে বাতাস লাগিয়া সোঁ সোঁ শব্দ হয়। এখানে
পড়িয়া যারা মরিয়াছে, সেই শব্দে তারাই বুঝি বা নিঃশ্বাস ফেলে।' এর পরেও
বলতে পারব আমরা 'তাই আক্ষরিক অর্থেই বাংলা কথাসাহিত্যে এই উপন্যাসখানি
শূদ্রজাগরণের স্মারক হিসাবে চিহ্নিত'? আলোচনায় অধ্যায়ের তৃতীয় সাহিত্যিক
সমরেশ বসু প্রসঙ্গটি শুরুই করছেন সন্তোষকুমার 'সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রে
তিতাসের লেখক অপেক্ষা সমরেশ বসু শক্তিমান কথাশিল্পী' বলে! তাঁর
তিতাস-আলোচনার সারবত্তাকে অনেকখানি স্বীকার করেও বলতে হচ্ছে, পুরো
পুস্তকটির মধ্যে কেন অনভিপ্রেত এই একমাত্র তুলনামূলক মূল্যায়নপ্রচেষ্টা!
তিতাস একটি নদীর নাম-এর সঙ্গে গঙ্গা তথা অদ্বৈতর সঙ্গে সমরেশের যেসব
তুলনা করেছেন লেখক তা-ও বিতর্করহিত নয়। সেসবে বিস্তৃত হওয়া সম্ভব নয়
এখানে। তবু সামান্য বলি। গঙ্গা পড়তে গিয়ে অনেক পাঠকেরই কিন্তু এটাও মনে
হবে, যা তার স্রষ্টার একান্ত বন্ধু এবং তাঁর গ্রন্থের সম্পাদক বিশিষ্ট
সমালোচক সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে গেছেন : 'ডিটেল সম্বন্ধে অতি-সতর্কতায়
এ-গ্রন্থেও পঞ্চম ও ষষ্ঠ দশকের পাঠকের সংবাদগত কৌতূহল-বৃত্তিকে তুষ্ট
করার প্রবণতা প্রকাশিত।'৮ অন্যদিকে তিতাস সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন :
'জীবনমুগ্ধতার অক্ষয় সম্পদের একটা সমালোচনা-নিরপেক্ষ শ্রী আছে, সেই
সম্পদে বইখানি সম্পন্ন।'৯ আরও যা বলেছেন, পাঠকালে আজও পাঠক তার সঙ্গে
একাত্মতা অনুভব করবেন : 'তিতাসের মন্থর স্রোতের পাশেপাশে উদাসীন
মালোপাড়ার জন্ম-বিবাহ-মৃত্যু জড়িত জীবিকার ছবিকে কাব্যময় ভাষায় ফুটিয়ে
তুলেছেন অদ্বৈতবাবু। তিতাসের স্রোতের মতোই ভাষাতেও এসেছে একটা মৃদু
সঙ্গীত – যা জীবনের মৃদু এবং মেদুর, সুখ এবং দুঃখকে ধ্বনিত করেছে অসীম
নীলাকাশের অঙ্কশায়ী নদীর অস্পষ্ট এবং চিরন্তন তরঙ্গ কল্লোলের সঙ্গে
সঙ্গতি রেখে।'১০ বাংলার চালচিত্র-তেও বিবিধ বিচিত্র যে জীবন ও যাপনচিত্র
তাকে কি বলা যাবে শূদ্র-জাগরণ!
পঞ্চম তথা শেষ অধ্যায়ে তখনও-ধারাবাহিক তিলোত্তমার রাজপাট-কে আলোচনায় এনে
একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ববোধেরও পরিচয় দিয়েছেন
সন্তোষকুমার। শ্লোক, গান, পদাবলী, বাউল, কীর্তন, ছড়া, খনার বচন,
ভূত-তাড়ানো মন্ত্র, সাপের বিষ ঝাড়ার মন্ত্র, নৌকা বাইচের গান, কাহিনি,
ব্রতের মন্ত্র বা ছড়া ইত্যাদির আধার এই ধারাবাহিকটিকে আলোচনায় আনা
অত্যন্ত জরুরি ছিল।
'নিবেদন' অংশে লেখক জানিয়েছেন যে 'গ্রন্থের আলোচনা সংক্ষিপ্ত', কেন-না
'বিস্তৃত করতে গেলে যে সময় ও বইপত্র প্রয়োজন, তা সংগ্রহ করার মত বয়স'
তাঁর নয় তখন। কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেছেন 'কাজটি কত দুরূহ
ও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ' 'তাই বিষয়টির উপর একটি রুপরেখা টানার চেষ্টা' করেছেন
মাত্র। তবু বলতে হবে যে এই বইটি তাঁর এক ব্যতিক্রমী এবং উল্লেখযোগ্য কাজ।
আটাত্তর বছর বয়সে পৌঁছেও, নিজের বহুপাঠিতার নজির রেখে একটানা যে ভাবে
কাজটি করে একেবারে বই হিসাবে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন তিনি তা
অত্যন্ত সাধুবাদযোগ্য এবং অনুসরণীয়। বইটিতে দেওয়া পারিবারিক ও সাহিত‍্য
সংক্রান্ত কয়েকটি আলোকচিত্র পাঠকের বাড়তি প্রাপ্তি।
উৎপল দত্তের প্রচ্ছদ পরিকল্পনা প্রশংসার যোগ‍্য।



পুনশ্চ :
লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত বাংলা কথাসাহিত্য
সন্তোষকুমার দত্তে
বইটির প্রকাশক - বঙ্গবাতায়ন।
প্রকাশকাল - ১৫ আগস্ট ২০০৭।
মূল‍্য - আশি টাকা ।


তথ্যসূত্র :
১। 'গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ ও কবিতা রচনায় বারুইপুর', বারুইপুরের ইতিহাস,
২য় সংস্করণ, ২০১৪। সম্পাদনা – শক্তি রায়চৌধুরী ও মনোরঞ্জন পুরকাইত।
২। বার্ষিক সংকলন-পত্র কান্তরেণু, সূচনা সংখ্যা, ১৪২০।
৩। আয়নার সামনে – সন্তোষকুমার দত্ত, বঙ্গবাতায়ন, ১ আষাঢ় ১৪১৮
৪। তদেব।
৫। তদেব।
৬। তদেব।
৭। তিনি লিখেছেন, 'ব্রতচারিণীদের দলবদ্ধভাবে পাড়ার প্রত্যেক বাড়িতে
উপস্থিতি', আসলে দলবদ্ধ ভাবে ঘুরে ঘুরে যে-যার নিজের বাড়িতে ঢুকে পড়া।
এখন আর অনেকসময় এমন ঘোরা হয় না, উপস্থিত সবাইকে দেওয়ার পর ভোজন এবং তারপর
যে-যার বাড়িতে চলে যাওয়া।
৮। বাংলা উপন্যাসের কালান্তর –সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যশ্রী,
পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ – ১৯৭১/১৩৭৮।
৯। তদেব।
১০। তদেব।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

ভালোবাসা কারে কয় ।। সৌমেন দে

        ভালোবাসা কারে কয়           সৌমেন দে ভালোবাসার উন্মুখ বাসনায় নারীকে পেতে চাওয়া কি সত্যিই ভালোবাসা? নাকি অবদমিত কামের পীড়নে নারীকে ছুঁতে চাওয়া নিজের মত করে? ভালোবাসার গহীন প্রদেশে লুকিয়ে থাকা নিখাদ বিশ্বাসের মহীরুহ, যৌন সংসর্গের আদিম তাড়নায়  লুণ্ঠিত হয়, ধর্ষিত হয় প্রতিক্ষণে। ভালোবাসা সাগরের মত‌ সীমাহীন  নারীর নাভি কূপের গভীরতা আবদ্ধ জলাশয়। সমুদ্রের বিস্তারে যে রঙের বাহারি শোভা ক্ষুদ্র যোনি প্রদেশে কি খুঁজে পাব সেই বিভোরতা? তবু শরীর চায় শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য, ভালোবাসার হাত ধরে নিশ্চুপে ছোবল হানে উদ্যত অসংযত 'লিবিডো'--এটাই বাস্তব। ভালোবাসা শুধু জীবনভর অন্বেষণ বই আর কিছু নয়, আর রিপুর আবেগে খুঁজে নেওয়া পরিতৃপ্তির স্বল্পস্থায়ী আবেশ--উত্তেজনার প্রশমন মাত্র। ভালোবাসা আকাশের মত আর নারীকে আশ্লেষের ইচ্ছা  কেবলই ঐহিক সুখের আকাশে পাখা বিস্তার। ভালোবাসা এক অনুশীলন -- জীবনভর এক সাধনার ফসল। ....................... সৌমেন দে উত্তরপাড়া/হুগলি 

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর

    রঙ বিবেকানন্দ নস্কর    আদুল স্রোতের টান  আঙুল রঙিন  চোখের পাতায় কৃষ্ণচূড়া  আদিবাসী মেয়ে বাজালো ফাগুন বীণ। বাসন্তিকা এমন বেআব্রু  আনমনা দক্ষিনা কোথায় যায় আবির বাতাস ঘ্রাণ  বিরহ বৃথা দায় । রঙ বিন্দু,স্বেদ বিন্দু  কিশোরী যুবতী হোক আদি প্রেম আদি ভাষা  রক্তাভ হাতের নখ । =============== বিবেকানন্দ নস্কর  সম্পাদক -ছন্দের ঘ্রাণ পত্রিকা  সন্তোষ পুর  পোঃ চাঁদ পালা  ফলতা  দ:২৪ পরগনা 

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। পর্ব : ৩ ।। বসন্ত ও রঙ বিষয়ক

    : শুভেচ্ছা-বার্তা : বর্ণময় বাসন্তী-দিনে সকলের হৃদয় উঠুক রেঙে। বর্ণালী বিচ্ছুরণে উজ্জ্বল হোক জীবন। ধুসর সময় পেরিয়ে বসন্তের বাহারি রঙে ঝলমল করে উঠুক প্রেমের পৃথিবী।  নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে বাসন্তী-শুভেচ্ছা।  —নিরাশাহরণ নস্কর। (স. / ন.প্র. )   'বসন্ত ও রঙ' বিষয়ক লেখাগুচ্ছের সূচি বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন রঙ ।। মনোজ ঘোষ রঙ || নীল ডায়েরি এসো, পলাশের রঙে সাজি ।। জয়শ্রী সরকার দোল ।। বিজিত মন্ডল 'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দোল এল ফাগুনে ।। মুক্তি দাশ এলো যে বসন্ত ।। দীনেশ সরকার রং ।। গণেশ ভট্টাচার্য রঙ ।। বিবেকানন্দ নস্কর রং ।। দীপক জানা রঙ ।। মেশকাতুন নাহার বসন্ত ঋতুর সন্ধ্যায় রবি ।। রাজর্ষি দাশগুপ্ত তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার বসন্তের পদধ্বনি ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ঋতুশ্রী বসন্তে ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী অচেনা কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত রঙ ।। জীবন সরখেল রঙ ।। সুবীর কুমার ভট্টাচার্য রাঙিয়ে দিয়ে যাও ।। তাপসী প্রামাণিক অন্য বসন্ত ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)      

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

কবিতা ।। অন্ধমনে ।। সায়নী আচার্য্য

 অন্ধমনে  সায়নী আচার্য্য পথচলার প্রতিক্ষণে ধাওয়া করেছে বিপদ। জেতার জন্যে উন্মাদ হয়ে ভাঙতে চাইছে গরাদ। অন্ধমনে বদ্ধ ঘরে একলা বসে ভাবে। ভাগ্য কেন দুঃখ দেয়? বাঁচিয়ে রাখে ভবে। প্রবল তার মনের জোর, মানে না কোনো বারণ। মানে না কোনো বঞ্চনা, লড়বে আমরণ। ভাগ্য শুধু সুযোগ আনে, মনকে করে শক্ত। পায়ের বেড়ী ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে আসে ভক্ত। অন্ধ কেবল সাহায্য চায় , পারে না কোনো কাজ। এমনভাবে ছোটো করা বন্ধ করো আজ। ===================       সায়নী আচার্য্য     ইলিয়াস রোড, আগর পাড়া                 কোলকাতা-৭০০০৫৮

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...