কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার অঞ্জনা দেব রায় বাংলা সাহিত্যের জগতে এক অন্যতম কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার (১৯৪৪-২০২৩)। তাঁর কথার কারখানার মূল উপাদান ছিল মানুষ। আর সেই মানুষকে দেখার জন্য নির্মম ও নির্মোহ ভাবে সাহিত্যিকের অন্তর্দৃষ্টি ছাড়া আর অন্য কিছু গ্রহণ করেননি। তা সে উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং মৌষলকাল-এর চতুর্ভুজ হোক বা সাতকাহনের নারী-কথা হোক। তাঁর কথা ও দেখার শুরুটা হয়েছিল দেশ পত্রিকাতে । ১৯৬৭ থেকেই তাঁর দেশ পত্রিকার সাথে সংযোগ। গ্রুপ থিয়েটারের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড আসক্তি ছিলো । সাহিত্যজীবনে পদার্পণের আগে ১৯৬৫ সাল নাগাদ বন্ধুস্থানীয়দের সাথে একত্রে 'শাতকর্নি' নামের একটি নাটকের দল তৈরি করেছিলেন তিনি। বিমল করের একটি গল্প অবলম্বনে পিয়ারিলাল বার্য নাটকে নামভূমিকায় অভিনয়ও করেন তিনি । সে সময় দেশ পত্রিকার যাত্রা- নাটক বিভাগের সম্পাদক প্রবোধ চন্দ্র অধিকারী সমরেশ মজুমদারকে নাটকের জন্য গল্প লেখায় অনুপ্রাণিত করেন। তার প্রথম গল্প "অন্যমাত্রা" লেখাই হয়েছিল মঞ্চনাটক হিসাবে, আর সেখান থেকেই তাঁর লেখক জীবনের শুরু। তাঁর...
পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...