Skip to main content

Posts

কবিতা ।। বসন্তের রঙ ।। অমিত পাল

বসন্তের রঙ     অমিত পাল আজ আকাশে খুশির হাওয়ার নাচ রঙ ছড়িয়ে দিল হঠাৎ কে যে! শিমূল পলাশ ভরিয়েছে সব গাছ চারপাশ আজ উঠল কেন সেজে! রঙ কি শুধু গাছের পাতায় পাতায় সেই রঙে কি হয়নি রঙিন মন? ঢুকছে না তো কিছুই আমার মাথায় গুনগুনে গান গাইছি সারাক্ষণ! এ কোন খেলা চলছে চারিদিকে ককিল ডাকে কুহু কুহু সুর অন্যরকম লাগছে পৃথিবীকে রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে যে রোদ্দুর। আর কিছু নয় ফাগুন সারা বেলা বসন্ত তার ডালি উজাড় ক'রে খেলছে বসে রঙিন করার খেলা আমরাও তাই নিলাম হৃদয় ভরে। ____________________________________________________ পরিচিতিঃ নামঃ অমিত পাল পেশাঃ শিক্ষকতা ঠিকানাঃ C/o ANIL KUMAR PAL (NEAR GAYALAL BOYS SCHOOL) P.O: DEBINAGAR, RAIGANJ DIST : UTTAR DINAJPUR WEST BENGAL, INDIA PIN : 733123          মোবাইল নংঃ 0919475105375 / 0917001086182          ইমেলঃ amitpal0809@gmail.com ____________________________________________________ লেখা প্রকাশিত হয়েছেঃ আ...

কবিতা ।। ভোট কড়চা ।। অচিন্ত্য কুমার ধাড়া

          ভোট কড়চা  অচিন্ত্য কুমার ধাড়া ছোঁয়াচে এক রোগ  লেগেছে                          রাজনৈতিক দলে , ভোটের দোরেই এ দল ও দল                        কতই না কৌশলে।  বঙ্গ  ভূমে রঙ্গ চলছে                 দল বদলের পালা,  কত ব্যঙ্গ দেখাবে আর                ভোটার দের জ্বালা।   দেশ প্রেমের হুড়োহুড়ি                  ছোট বড় নেতার , বানিয়ে দেবে স্বর্গ রাজ্য                   টিকিট পেলে এবার।  যখন নেতা পেয়ারা ডালে                    খুশি ছিল অপার,  ভাঙার আগেই বলা শুরু                      গাছটি ছিল অসার । তেঁতুল ডালে বসল ...

কবিতা ।। রঙের খেলা ।। সুমিত মোদক

  মানুষ রেঙে উঠবে সুমিত মোদক একটা নয় , দুটো নয় , সাত সাতটা রঙ নিয়ে খেলা করে ঈশ্বর ; সাত সাতটা রঙ … আর , তারই সৃষ্টি মানুষ , এক একটা রঙ নিয়ে করে ফেলছে রক্তারক্তি ; বসন্ত এলে শ্রীকৃষ্ণ আবির রাঙিয়ে দিতে পারে শ্রীরাধিকার গালে ; সখিরাও রেঙে ওঠে ; রেঙে ওঠে পুরুষ ও প্রকৃতি ; বসন্ত আসে … অথচ , মানুষের মনে বসন্ত-রঙ বিবর্ণ হয়ে গেছে ; চারিদিকে কেবল মৌনতা বিরাজ করে ; পুরুষ প্রকৃতি হতে ভুলে গেছে , প্রকৃতি পুরুষ হতে … পড়ে আছে একটা শূন্যতা নিয়ে পূর্বপুরুষের নাটমন্দির ; খসেখসে পড়ে পলেস্তরা ; ঠিক যেনো মানব সভ্যতার  মতো ; গঙ্গা পাড়ে এখন অন্ধকার ; যমুনা পাড়ে , পদ্মা পাড়েও … তবুও তো নদীতে নৌকা ভাসে ,  ভাসে মাঝি-মল্লারের গান ; জ্বলে লণ্ঠনের আলো ; শ্রীরাধিকা যমুনায় ভাসিয়ে দিতে পারে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি ; তা বলে আবির রাঙা হবে না হয় ! যে মানুষের কানে ভেসে আসে মাঝি-মল্লারের গান , যে মানুষের চোখে ভাসে নদীর বুকের আলো , সে মানুষ যে , রেঙে উঠবে আবিরে আবিরে , বসন্ত রঙে ; আর ঈশ্বর মাখে বসন্তের সাত সাতটা রঙ ।

কবিতা ।। রঙ ।। অসীম মালিক

  রঙ অসীম মালিক ধুয়ে গেছে সব রঙ মুছে গেছে জলের শরীরে। জলহীন নদীমন ফিকে দ্যাখো বুক চিড়ে। মর্মে না লাগলে রঙ রাঙে কি মন? জালিকথা সময়ের ডাক রঙিন পলাশবন। যতখুশি রঙ দাও পাহাড়ের মুখে। ফুটবে না পলাশ শিমুল মাটিহীন বুকে। নদীও কিশোরী হয় বৃষ্টি ও মেঘের ডাকে। চেয়ারের যত রঙ তুলে দিও মাকে। কোন রঙের কি মানে জানে কেবল মা। রাস্তায় মানুষ কই ! সব দেখি জামা। -------------------------------------   Asim Malik Village -Sitalpur,PO.-Arandi, P.S.-Arambagh,Dist-Hooghly, Pin Code No.-712413, West Bengal, India, Mo.-9593504996

কবিতা।। রঙের খেলা ।। নীলমাধব প্রামাণিক

   রঙের খেলা        নীলমাধব প্রামাণিক  চারদিকে তে রঙের খেলায়  বদলে গেছে ভোল,  রঙ ফোটালো শিমুল পলাশ  রঙিন হলো দোল  । বর্ষ শেষের মন মাতানো  এমন ফাগুন কালে,  কে যেন এই প্রকৃতিতে  অজস্র রঙ ঢালে  । রঙ ছড়ানো চারিদিকে  নানান ফুলে ফুলে,  রঙের ছোঁয়ায় হৃদয় ও মন সত্যি ওঠে দুলে । মনে মনে রঙ ধরানোর  এ কারসাজি কার,  জানিনা ঠিক তাই এখানে  নিচ্ছি মেনে হার  ।   =============              ঠিকানা  নাম -নীলমাধব প্রামাণিক, মাধবনগর ডাক -পূর্ব চাঁদপুর, মন্দির বাজার  দক্ষিণ 24 পরগনা  পিন কোড -743336  পশ্চিমবঙ্গ,    ভারত 

কবিতা ।। সম্পর্কের নাম শেষের কবিতা ।। সঞ্জীব সেন

সম্পর্কের নাম শেষের কবিতা   সঞ্জীব সেন   এক উইক এন্ডে বেড়াতে এসেছি অযোধ্যা পাহাড় হোটেল হিল ইন এর ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দেখছি পাশে পলাশের বন বীথিকা নেক লাইন দিয়ে ঢুকে পরেছে কালো মেঘ চৈত্রের প্রথম কালবৈশাখী লালধুলো চোখে মুখে একাকার তখনই দেখলাম মেয়েকে সামলাছে একহাতে ত্রস্ত আঁচল অন্যহাতে মেয়ে যুবতী বেলার বিকেল তবু যেন বাইশের যুবতী এস্ট্রনট ঠিক বলেছে চাঁদ ভুল করে এসে পড়েছে পৃথিবীর জীবনে আমিও তাই তবু যেকটা দিন ছিল,রঙেরঙে রাঙিয়ে দিয়ে গিয়েছিল জীবন দোলের দিন  রঙ মাখাতে গিয়ে বলেছিল "কিছু সম্পর্কের নাম জন্মদাগ আর কিছু সম্পর্কের নাম দিতে নেই, ইথার তরঙ্গে বেঁচে থাকে বৃষ্টি শুরু হল হোটেলের ব্যালকনি দিয়ে দেখলাম চলে যেতে আমি এই সম্পর্কের নাম দিয়েছিলাম "শেষের কবিতা" যদি কোন দিন দেখা হয় একান্তে সেদিন বলব, ভুল দিয়েছি নামটা। দুই সামনে যতই বলি ভাঙিনি ভিতরে তো পাশাপাশি কান্না আর তুমি যেমন ব্যাথার গায়ে কবিতা ভেঙে তো পড়তামই,  ভরসা দিলেন তিনি যাঁর জীবন জুড়ে প্রেম অসম্ভবের ক্রাচে ভর দিয়েই আসে সম্ভবনা তাই তো আজ সাহস করে বলতে পারি   "রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবা...

কবিতা ।। রঙের খেলায় জীবন ।। পলাশ পোড়েল

  রঙের খেলায় জীবন পলাশ পোড়েল   রঙের দাগ পড়ে ভাসছে ক্যানভাসে মেয়ে সেই চোখে জলছবি     বাতায়ন খিদে নিয়ে। ঢেউ ভেঙে ছিপ ফেলে শরীর জ্যোৎস্নার আলোয় সঙ্গমের মুগ্ধ নেশায় নিত্যদিন নিজেকে বিকায়। স্বপ্ন নদী হতে গিয়ে ভুলভুলাইয়া... জড়িয়েছিল কাকে?  হাত ফেরি হয় রাতপরী। রঙ আর টানে না তাকে। কড়ি কাঠে ঘুণ ধরে    সাদামাটা জীবনের রঙ আয় আয় আশমানী কবুতর... রঙ মেখে সাজি সঙ।    ----------  পলাশ পোড়েল   কুলডাঙা,  হাওড়া-৭১১৩০২

কবিতা ।। বসন্ত এলে ।। মানস চক্রবর্ত্তী

বসন্ত এলে  মানস চক্রবর্ত্তী  বসন্ত এলে মনে পড়ে  জঙ্গলের দিনরাত্রি ,  মনে পড়ে আমিও প্রেমিক ছিলাম  স্পর্শের অনুভূতি তোমাকে দিয়েছিলাম |  বসন্ত এলে মনে পড়ে  হলুদ বিকেলে গোধূলি স্নান  পলাশের ডালে লিখে রাখা তোমার নাম |   বসন্ত এলে মনে পড়ে  ফাগুনের মাস একদিন ছিল বারোমাস  একদিন ছিল কবিতার চাষবাস  রাত্রিবেলায় ছিল পাশাপাশি বসবাস |  এখন ফাগুনের মাসে শুধু মনে আসে  মানুষের দেশে , মানুষের বেশে  আমি কি ফিরব অবশেষে ?  -------------------------------------       মানস চক্রবর্ত্তী  সাহাপুর , নিকুঞ্জপুর , বাঁকুড়া  মোবাইল : ৯০৬৪৪৬৮৫৭০

কবিতা ।। বসন্তের গান ।। অঞ্জনা দেব রায়

বসন্তের গান  অঞ্জনা দেব রায় যে গাছটিতে বহুদিন ধরে পাতা আসেনি শুধু একবার তার নিচে এসে কিছুক্ষণ বসো তাকে সোনালী আলোয় সবুজের কথা শোনাও। মনে করে দেখো গাছটি একদিন সবুজে সবুজে আলপনা দিয়েছিল শাখা-প্রশাখায় সুরে সুরে ডেকেছিল পাখিরা চাঁদের আলোয় ঝলমল করে উঠেছিল মাঠের ফসল  চরকা কাটা বুড়ির সুতোর টানে  বেজে উঠেছিলো জীবনের জয়গান । রুক্ষ শুষ্ক বাতাসে ক্ষীণ হতে হতে   কি করে যে মিলিয়ে গেছে তা জানি না , গাছটির কাছে এসে যদি পারো  শুনিয়ে যাও বসন্তের গান আশা জাগাও ওর রুক্ষ-শুস্ক প্রাণে  বসন্ত এলে সেও হয়ে যাবে প্রাণোচ্ছল , বহুদিন তার ডালে সবুজের উৎসব হয়নি । ------------    অঞ্জনা দেব রায়   ৫৫৩, পি মজুমদার রোড, কলকাতা - ৭৮    

ছড়া ।। দোল ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

   দোল  রঞ্জন কুমার মণ্ডল বসন্তে মন হয় উচাটন                শীত গিয়েছে সরে দোদুল দোলা,রঙের খেলা                দোল এসেছে দ্বারে। কৃষ্ণচূড়া,পলাশ হাসে                হরেক রঙের হাসি রঙের ছটা, দোলের ঘটা                    মন বসন্তে খুশি। বসন্তদূত, বড়ো অদ্ভূত                     মিষ্টি কুহু তানে রঙ বসন্তে কোন অজান্তে         'দোল' ছোয়াঁ দেয় প্রাণে। অশোক ফুল,হাসে শিমুল                মনে জাগে হিল্লোল হৃদয়ে দোলা,আবির খেলা            দোলা দিয়ে যায় 'দোল'। পিচকারি রঙ,সবাই তো সঙ                 মনেতে ফাগুন মাস গোকুলেশ্বরী বাজায় বাঁশরি                   বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। বসন্তে দোল,জাগে হিন্দোল...

ছড়া ।। চোখের জল ।। রঞ্জিত বিশ্বাস

চোখের জল রঞ্জিত বিশ্বাস জিততে ভোট করছে জোট নেতারা মিলেজুলে, সকল কাজ হবে শীঘ্র রবে না আর ঝুলে। ভোটের টানে যাচ্ছে ডানে কেউবা আসে বামে, ভোটে দাঁড়াতে কেউ আবার অনেক নীচে নামে। ভোটের মুখে নেতার বুকে জমছে বহু আশা, জিতলে ভোটে পাঁচ বছর কামায় হবে খাশা। অনেক ভেবে ভাষণ দেবে নেতা গরম কিছু, স্বর্গ যেন গড়বে তারা সবার ঘরের পিছু। ভোটের নেশা কারোর পেশা অনেক করে ছল, হতাশ হয়ে জনতা শুধু ফেলে চোখের জল। --------------     রঞ্জিত বিশ্বাস  চাঁদপুর, নদীয়া ফোন নং 7908074219

কবিতা ।। খেলা হবে ।। রীতা রায়

খেলা হবে রীতা রায় তখনও খেলা হতো.. রঙ খেলা পিচকারি হাতে ছোটরা মেতে উঠতো রঙ খেলায় লাল নীল সবুজ হলুদে জামা কাপড় সাতরঙা ! বেলুনে রঙ ভরে ছুঁড়ে দিতো এর ওর বাড়ির ছাদে অথবা ছাদ থেকে রাস্তার পথ চলতি লোকের গায়ে সূর্যছটার মতো ছড়িয়ে পড়তো উঠোনে, রাস্তায়.. দেওয়ালের গায়ে রঙের আঁকিবুকি চিহ্ন.. প্রমান দিতো খেলা হয়েছিল.. রঙ খেলা..  | পাড়ার ছেলেরা প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢুকে রাঙা হাতে রাঙিয়ে দিত পাড়াতুতো বৌদিদের, কেউ বা দৌড়ে ঘরের দরজায় তুলে দিতো শিকলি | যদিও রেহাই মিলতো না নাছোড় কৌশলীদের থেকে কালিমাখা মুখে হাতে সোনালী-রূপোলী ঝিলিক.. রঙের বিনিময়ে মালপোয়া কচুরি ডালপুরীর আস্বাদের পরিতৃপ্তিতা মাখানো খুশির সমারোহ | বিকেলের বাতাসে সুগন্ধিত গোলাপী আভা আবীরে আবীরে রাঙা গুরুজনদের পায়ের চিহ্ন শিশুর উচ্ছ্বল মুখ, মেয়েদের সিঁথি-বিনুনী ! রাঙা ভূতের দল.. পথে কোলাহল.. হাস্য কলরোল  বিহারী কুলিদের নগর কীর্তনের ঝঙ্কারে মাতোয়ারা ভোজপুরি হোলির গানের বোল জাগিয়ে রাখতো রাতের সুষুপ্ত অন্ধকারকে ! পরদিন.. তার পরদিন ..পরের পরদিন বাড়ি বাড়ি আত্মীয়সুখে জমে উঠতো রঙের খেলা সবাই বলতো .. দোল আসছে ..খেলা হবে হোলি খেলা, আত্মীয়তার রঙে ...

কবিতা ।। বসন্ত রাগ ।। লাবণী পাল

             বসন্ত রাগ                  লাবণী পাল ভিনদেশী ঝড়, অগোছালো ঘর, সাজি ভরে ফুল তুলছে। রঙের দোয়াত, আলো মাখা হাত, হলুদের ঘ্রাণে মাতছে।           এলোচুল মেয়ে লাজে রাঙা হয়            চুপি চুপি ডাকে নূপুরের লয় মহুয়ার বনে, কে যে এককোণে, বাঁশি নিয়ে ঠোঁটে ডাকছে। পলাশের দিন, আগুনের বীণ সুরে সুরে ঐ বাজছে। একলা বাতাস থমকেছে আজ, কান পেতে গান শুনছে।             অশোক, শিমুল হেসে গলে যায়             চেনা বৌকথা গান গেয়ে যায় আকুলি বিকুলি, হৃদয়ের গলি চোরা পথে কাছে আসছে।   ঠিকানা- ধুপগুড়ি, জলপাইগুড়ি

কবিতা ।। রঙের নেশা ।। তপতী মন্ডল,

রঙের নেশা তপতী মন্ডল পলাশের পাগল টান শিমুলের আগুন রঙ অশোক বলে মুচকি হেসে-- সুবাস আমার নাও গো এসে।  ব্যাকুল বসন্তে আকুল করে কুহুতান, হোলির রঙে মুখর আকাশ সুরভিত চারিপাশ।  বাতায়নে দাঁড়িয়ে দেখি উদ্দামতায় উদাস সাজ,  হঠাৎ আমার ভোরের স্বপন বাড়িয়ে দিল আপন হাত।  চেনা সুরের অচেনা তান হৃদয়মাঝে ঝড়তুফান,  বাঁধন ছিঁড়ে বিরহবাঁধ পরশপাথর মেটায় আশ। খুশির নেশায় মাতাল হাওয়া সোহাগ ছুঁলো  আজ,  আবির রঙে রাঙা হল ভরা পূর্ণিমার চাঁদ।।    ===============   তপতী মণ্ডল।   বন্দিপুর গোলদারপাড়া হিন্দ পার্ক, রহড়া, কোলকাতা--700118

কবিতা ।। জীবনের রঙ ।। সুজিত কুমার মালিক

  বদলে যাচ্ছে জীবনের সংজ্ঞা, হারিয়ে যাচ্ছে রঙের সৌন্দর্য্য! ওহে রং-বিশারদগন, তোমাদের ইস্তাহারে ভাত-কাপড়ের কি রং! হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকা অসহায় রুগী কোন রঙের রক্তে প্রাণ বাঁচাবে? ফাইল বন্দী শিক্ষার মাপকাঠি! টেবিলের নীচের কালো রং সাদা করার উপায় আছে ইস্তাহারে? আবেগ মেশানো নীল রং সাদার প্রলেপে ফিকে হয়ে আসছে। যোগী গেরুয়া আচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িক বিষে, সংগ্রামী লাল বহুবাদিতায় অস্তিত্বের সংকটে বিশ্বজুড়ে। শুধু একটা হলুদ ফুল সজ্জিত খোঁপার বাঁধনে লাজুক তারার দুস্টুমিতে বেঁচে থাকে সবুজ স্বপ্ন।   =============     সুজিত কুমার মালিক মইখন্ড, হেলান, আরামবাগ, হুগলী পিন:৭১২৪১২ মো:৯৬৩৫৪২৪৬৯২

কবিতা ।। রঙ মহল।। সুনন্দ মন্ডল

       রঙ মহল            সুনন্দ মন্ডল রঙের ছোঁয়ায় জুড়ায় প্রাণ তপ্ত বুকের ঘরে। তোমার নুপূর বাজলে পায়ে মনটা নেচে মরে। দুঃখগুলো দূর হটে যায় তোমার হাসির রেখায়। তোমার হাতে রঙ উঠলে গালটা ভরে হোলির আভায়। তোমার আকাশ সরে গেছে কবেই তুমি হলে তারা। রংমহলটা শূন্য আজি নিঃস্ব, চারিপাশে বেড়া। যা হলো তা, ভোলা যায় না শুধুই ভাসে চোখে জল। মনটা ভেঙে কোথায় গেলে মানে না যে কোনোই ছল।           ---------$---------   সুনন্দ মন্ডল কাঠিয়া, পাইকর, বীরভূম 8637064029

কবিতা ।। চিরবসন্ত ।। বিকাশ আদক

চিরবসন্ত বিকাশ আদক  ত্রিশটা বছর পার হলাম। শুভময়ের কথা বড্ড মনে পড়ে এসময়। শালডাঙার স্কুল মাঠের পরে রোজ বিকেলে আমার জন্য আনতো একরাশ পলাশ। খোঁপা ভরে পরিয়ে দিত খুব যত্ন করে, খুব খুশি হতাম, তাই বাধা দিতাম না কখনো। ওর দু'চোখে তখন ফাগুনের আঁচ, আমার বসন্ত বানভাসি।  আঙুল ছুঁয়ে কখন যে বনবীথি শেষ হত  জীবনানন্দের শূন্যতায়... শুভময় কখন যে মন ছুঁয়ে গেছে---! গীতবিতানের প্রতিটি পাতা জুড়ে ছুঁয়ে দেখি ওর সবকিছুকে আজ।  সপ্তসুরে মন কথা বলে, কথা বলে জীবন। কালবৈশাখীর এক অশান্ত দিনে, চারিধার ঘন আঁধার বহুদূরে গেলে চলে... বৃষ্টিস্নাত শান্ত সকালে যখন তোমায় পাব বলে  সব খুশিকে পেছনে রেখে পা বাড়ালাম, আমার সমস্ত পথ জুড়ে পড়ে আছে ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত পলাশ। এক একটা কুড়াতে কুড়াতে এগিয়ে চলেছি আজও বনবীথি ধরে... বসন্তের সব রঙ মেখে, তোমার পলাশে- আজ আমার প্রতিটা দিন তোমার রঙে রাঙিয়ে দেওয়া দোল,  শুভময়, তুমি আর বসন্ত এখন আমার অনন্য খুশি।   ____________________

কবিতা ।। ভোট ফেরি ।। সাইফুল ইসলাম

  ভোট ফেরি সাইফুল ইসলাম ভোট এলো,দোর খোলো             ভোটারগণ জাগোরে, দরজা খুলে দেখো চেয়ে            নেতা করজোড়ে।  মায়ের কোলে ল্যাংটা শিশু            কাঁদছে ক্ষিধের জ্বালায়, নেতা তারে করছে আদর            ভোট বড় বালাই।  ডুমুরের ফুল নেতা আমার             আজকে মহান যীশু, মায়ের থেকে নিচ্ছে কেড়ে               নাক ঝড়া এক শিশু। আজকে দেখে হচ্ছে মনে               ইনিই মাসি-পিসি, ভাবটা যেন,মায়ের চেয়ে               মাসির দরদ বেশী।  জন্ম থেকেই রোগা পাতলা               আমিরুদ্দিন খুড়ো, তিরিশ বছর বয়স হলেও                আদ্যিকালের বুড়ো। নেতা গিয়ে সাথীরে কয়                 খোল ডাইরির পাতা, ভোটটা গেলেই দেবই দেব   ...

কবিতা ।। অন্য বসন্ত ।। সেখ মেহেবুব রহমান

অন্য বসন্ত সেখ মেহেবুব রহমান  ভোট রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে  এক অচেনা অজানা বসন্তের ছবি আঁকি। না, রঙ তুলি নিয়ে বড়ো কোনো ক্যানভাসে নয় বসন্তের অপরূপ স্নিগ্ধতা খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পরা কোনো এক হতভাগ্যের হৃদয়ে। কতটাই না মূর্খ সে- গণতান্ত্রিক উৎসবে মেতে ওঠা বাঙালির জীবনে আজ কি বসন্তের প্রীতি পাওয়া যায়? যায় না, কখনই যায় না। আজ যে তারা আমরা ওরার খেলায় মেতেছে ছড়িয়েছে বিষ বাষ্প সৃষ্টি করেছে অন্য বসন্ত। শুনেছি, ঊষা কলে সে হতভাগা নাকি কান উঁচিয়ে কিছু শুনতে ব্যাকুল থাকে, মনে পড়ছে না, আমিও শুনতাম, আপনিও শুনেছেন- একটু ভাবি, হ্যাঁ মনে পড়েছে- কোকিলের কুহু কলতান, ভুলতেই বসেছি সেই মধুরতা। এতে আমাদেরই বা দোষ কোথায় আজ যে আর কুহু ডাকে বসন্তের ভোর আসে না। ঘুম ভাঙে- মাইকে দিক ফাটা আওয়াজে নেতা নেত্রীর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর পারস্পরিক আক্রমনের কদর্য শব্দমালা কানে নিয়ে। গান প্রেমী বাঙালি এসবের প্রতিবাদ ভুলে গেছে মিথ্যায় নিজেকে মুড়ে আজ সেও অন্য বসন্তের শরিক হয়েছে। দুদিন আগে দেখেছি, সে হতভাগা রামধনু রঙে নিজেকে রাঙিয়ে রাস্তায় নেমেছে ছড়িয়ে দিয়েছে বাহারী আবির দিগন্ত রাঙাতে। কিন্তু ...

কাল্পনিক সংলাপ ।। রঙের খেলা।। পারিজাত ব্যানার্জী

  দোলের আবির ... হোলির রং   পারিজাত ব্যানার্জী আবির : চল , আজ দোল খেলে আসি গিয়ে রঙিন !  রঙিন : ভর দুপুরবেলা ! যা রোদ চারদিকে ! পুড়ে ঝামা হয়ে যাবো তো রে আবির !  আবির : তুই বড় বেশি রংহীন ! কি ভেবে যে তোর নাম ' রঙিন ' রেখেছিল কাকু কাকিমা , বুঝিনা একদম !  রঙিন : আমার নাম মোটেই আমার মা বাবা রাখেনি ! রেখেছিল ঠাকুরদা ! তাও , কারণটা ছিল বড্ড অদ্ভুত ! ঠাকুরদা তখন বাড়ির রং করাচ্ছিলেন . নাতি আসবে এই আশায় ; জন্মে গেলাম আমি ! সবাই যখন ওনাকে বলল ; " অরে বাহ্ , আপনার বাড়িতে রং করলেন , দেখুন , লক্ষ্মী এলো !" উনি বিমর্ষচিত্তে বলেছিলেন , " ভারী তো রঙিন এলি , আমার সব স্বপ্ন ভাসিয়ে দিলি !" ব্যাস , সেই থেকে ' রঙিন '! আবির : তোকে এটা কে বলল ? তোর খারাপ লাগেনি ?  রঙিন : হ্যাঁ , লেগেছিল তো ! তবে কথাটার জন্য নয় ! বাবাও যে মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলত , সেটা জেনে ! আর গল্পটা কত রসিয়ে রসিয়ে বাড়ির বড়রা বলত , সেটা ভেবে .  আবির : ছেলে হয়ে কি পাকা ধানে মই দিলাম আমি ! সেই তো বেকার , ফ্যা ফ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

কবিতা - বিকাশ দাস

প্রিয়তমা   দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলেছি সাংসারিক অভাব লাঘব হবে বলে এসেছি আর এক অন্য শহরে অন্নসংস্থানে তোমাকে সাময়িক রেখে দূরের অতলে   ।   বুঝেছি ভালোবাসা শুধু কাছে থাকা নয় কাছে থাকা দূরে থাকা   মেঘ যেন মাটি মাখা কামনার ঝনৎকার সপ্নময়     বৃষ্টির স্বাদে দূরের ভেতর এলিয়ে হৃদয় পরিণয়   ।   কাছের যন্ত্রণা     হৃদয়ের রোদন বিরহ প্রতিধ্বনি হৃদয়ের বোধন প্রাণের গভীরে গভীরে প্রহর জাগে ভাবনার সঙ্কেতে তোমারি অনুরাগে আমি তৃষিত তুমি    তৃষিত সম্পর্কের বিস্তর পালঙ্কে দোঁহে দু ' জনের একলার    বিছিন্ন মোহে বিরহের ধারালো    হাওয়ায় ভালোবাসার মোমবাতি জ্বলতে থাকে কাঁপতে থাকে গলতে থাক পুড়তে থাকে   দিলদরিয়া দিগন্তের বসত মহলে এক দু ' জনার নিঃশ্বাস উথলে শুয়ে পাশাপাশি ছুঁয়ে ভালবাসাবাসি আগুনে আগুন পোড়ে কাছে বা দূরে থাকার বহ্নিতাপে   জ্বালার আরাম সুধাময় গোপনের বেড়ায় হৃদয়ের প্রলাপে   ।   =============================== Bikash Das...

কবিতা ।। সোনালি অতীত ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

সোনালি অতীত  প্রবোধ কুমার মৃধা   সুশীতল ছায়াঘেরা স্নেহময়ী মাটি মা।   সে আমার জন্মভূমি সপ্তপুরুষের গাঁ।   প্রকৃতির বুক থেকে প্রাণের রসদ নিয়ে।   ফিরিতাম নদীতীরে হৃদয়ের গান গেয়ে।   সন্ধ্যাতারা উঁকি দিত গোধূলি লগনে।   প্রত্যুষে ভাঙিত ঘুম বিহঙ্গ কূজনে ।   আষাঢ়ের নব মেঘে ঘিরিত গগন।   বাদলের ছায়া ঢাকা কদম্ব কানন।   দলবেঁধে মাঠে-বাটে বেতালা-বেছন্দে।   কেটে যেত সারাদিন ভালো কভু মন্দে।   ডাক দেয় শিশুকাল, বাল্য ও কৈশোর।   অফুরন্ত প্রাণোচ্ছ্বল, আনন্দে বিভোর।   করমের স্রোতে ভেসে সংসারের হাটে।   ভিড়িল জীবনতরী নগরের ঘাটে।   ফিরিবার সাধ্য নাই ফেলে আসা পথে।   বাল্য রোমন্থন করি অতীত স্মৃতিতে।                    __________ 

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...

তবুও প্রজাপতিটা ।। সুবিনয় হালদার

  তবুও প্রজাপতিটা  সুবিনয় হালদার হলুদের ছোঁয়া তখনো লাগেনি পত্রে তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে— এখনো বসে ভুল ভবিষ্যৎ! কত সোহাগে রং মেখেছিল কোন এক ফাগুনের দুপুরে, এসেছিল একাকী— ফাগ-ছড়ানো বাঁশ বন তালগাছ পুকুরপাড়— মেঠো পথ ধরে অন্ধকার পথে ; পরাগের রেনু মিলেমিশে মাখামাখি ভিজেছিল সেই রাত রংবেরং স্বপ্নের বেড়াজাল ইন্দ্রিয় সুখের ছন্দপতন ঘটে প্রাতে । রজনীগন্ধার গন্ধে মাখা পত্রটা বর্ণমালা শূন্য নিঃশব্দ  পলেস্টার খসা দেওয়াল মাকড়সার জাল ভ্যাপসা গুমোট পরিবেশে  একাকী পড়ে জীর্ণ বিবর্ণ অপরিচিতদের ভিড়ে ; তবুও প্রজাপতিটা উড়ে এসে বসেছিল গায়ে—অজান্তে পথ ভুলে ! =============== সমাপ্ত =============== সুবিনয় হালদার  গ্রাম - দৌলতপুর  পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার  থানা - ফলতা  জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগনা  পিন কোড নম্বর -৭৪৩৫০৩ রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ  দেশ - ভারতবর্ষ