Skip to main content

Posts

নিবন্ধ ।। ভাষার মৃত্যু এবং বাংলাভাষা ।। অনিন্দ্য পাল

  ভাষা মানুষের সর্বোত্তম সৃষ্টি, একথা বললে খুব একটা অত্যুক্তি করা হবে না। বৈজ্ঞানিক সমস্ত আবিষ্কারের কথা মনে রেখেও মানুষকৃত সম্পূর্ণ নিজস্ব বৌদ্ধিক উন্নয়নের অন্যতম স্বাক্ষর হিসাবে ভাষার উল্লেখ বোধহয় অযৌক্তিক নয়।  SIL international , 2009 এর সমীক্ষা অনুযায়ী পৃথিবীতে ৬৯০৯ টা ভাষায় মানুষ কথা বলে। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা মাত্র ২৩টি ভাষায় কথা বলে।   বিশ্বের ১৪৬ টিরও বেশি দেশে মানুষ ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। ভাষার দিক দিয়ে ইংরাজি বর্তমানে পৃথিবী তে ১ম স্থানে রয়েছে। পৃথিবীর ১০৬ টি দেশের প্রায় ৩৮ কোটি মানুষ আছে যারা তাদের প্রধান ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যাবহার করে থাকে। তবে সারা পৃথিবীতে ১১৩ কোটির বেশি মানুষ বর্তমানে ইংরেজি ভাষাতে কথা বলে থাকে।          পৃথিবীতে কথা বলার জন্য ২য় সবচেয়ে বেশি যে ভাষা ব্যাবহার করা হয় তা হল-মান্দারিন বা ম্যান্ডারিন। এ ভাষায় কথা বলে চীনের প্রায় ১১১ কোটিরও বেশি মানুষ। পৃথিবীর মোট ২৯ টি দেশে এ ভাষায় মানুষ কথা বলে থাকে। চিনের মোট জনসংখ্যার ৯০% (১২৮ কোটি) এর বেশি মানুষ শুধুমাত্র উ-চাইনিজ ও মান্দারিন ভাষাতে কথা বলে থাকে। ...

একুশের গান ।। তুহিন কুমার চন্দ

একুশ আমার জানলা দিয়ে আগুন ছড়ায় রোজ, একুশ আমার ফাগুন দেখায় পলাশ বনের খোঁজ একুশ আমার বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ গানে, বাংলা ভাষা সেই কবেকার কন্ঠে প্রনাম আনে। ফুটপাতে রোজ সালাম রফিক ভিক্ষাপাত্র হাতে বাংলা ভাষায় গান গেয়ে যায় গভীর নিঝুম রাতে। বাংলা ভাষার কলার ভেলায় বাংলার গানে গানে রক্ত মাখানো বাংলার পথ জেগেছিলো মহারণে। বাদাম গাছের সবুজ ডালে বাংলার পদাবলী,  করুন কন্ঠে পাখির ভাষায় দুয়ার দিয়েছে খুলি।  একুশের রাত ডেকে গেছে কাল রক্তের ইতিহাসে  বাউলের সুরে আকাশে বাতাশে বাংলারই সুর ভাসে। ইতিহাস যত কাঙ্ক্ষিত কথা বলে গেছে ইতিহাসে একুশের মাটি রক্ত মেখেছে বাংলার প্রতিভাসে।  রাষ্ট্র ভাষা বাংলাকে চাই দাবী ছিলো ঘরে ঘরে   বুক পেতে তাই রফিক সালাম ইতিহাস গেছে গড়ে। একুশ আমার জানলা দিয়ে আগুন ছড়ায় রোজ, একুশ আমার ফাগুন দেখায় পলাশ বনের খোঁজ একুশ আমার বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ গানে, বাংলা ভাষা সেই কবেকার কন্ঠে প্রণাম আনে। ============================= ঠিকানাঃ তুহিন কুমার চন্দ সুদর্শনপুর,রায়গঞ্জ-৭৩৩১৩৪ উত্তর দিনাজপুর (প.ব.) ভারত। মোঃ ৮৬১৭৮২৯১৩৩ tuhinchanda030@gmail.com

কবিতা ।। অ্যালবাম ।। সিদ্ধার্থ বসু

শীতঘুমে চলে যাওয়া স্বপ্নের এপিটাফ,  মজে যাওয়া শোকতাপ, নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়া ভালোবাসার অ্যালবাম, রোদ্দুরে চুঁইয়ে ঝরে টুপ করে হৃদ্ মাঝারে। বোধের দেউড়িতে কড়া নেড়ে যায়, সদর্থক দায়বদ্ধতা............. প্রত্যাশার ফানুস চুপসে যায়, আতিশয্যের বাহারে।  যন্ত্রনার সাতকাহন........  অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের ফুরিয়ে যাওয়া আগ্রহে, চোরাবালি আর তমসার বিনির্মাণ, রক্তাক্ত অক্ষরমালার নিটোল বুনটে, ষোলকলায় পূর্ণ হয় ছন্দসংবেদ দর্পণ। দহনক্লান্ত মননে আশ্লেষ,  ২১ শে ভাষা বিপ্লব দিবস, শব্দবোধের সংবেদ ও এক অসংজ্ঞেয় স্বজ্ঞা, কৃষ্টি ও সৃষ্টির মেল বন্ধনের প্রজ্ঞা।।

ভাষাদিবসের কবিতা ।। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

সা। সারারাতই নীরব ছিল পাড়া ভোরের বেলা উঠলো জেগে কারা ছোটো এবং বড়ো সবাই মিলে শামিল দেখি কীসের সে মিছিলে কানে কানে বাতাস এসে বলে মাতৃভাষার জন্য ওরা চলে। রে। রে রে করে উর্দুভাষী সেনা মিটিয়েছিল হিংস্রতার দেনা। রক্তে রাঙা মায়ের বুকের জমি লুটিয়ে পড়ে মা বলে শেষ নমি। গা। গাইলো ওরা কাঁদলে তুমি মা বুকে তোমার পুত্রশোকের ঘা কোন রাগেতে জ্বলেছিল ফাগ বেহাগ দীপক অথবা বৈরাগ? মা। মাতৃভাষায় অমৃতময় সুখ আনতে গেলে রক্ত দিতে হয়! জলে ডোবা শিশুর মতো মুখ তবু কেবল বলতে হবে জয়! পা। পায়নি বিজয় অত্যাচারীর দল বলিদানের গর্বে পাওয়া বল মাতৃভাষা মায়েরই এক নাম চোখের মতোই মহামূল্যবান। ধা। ধারের কথায় কদিন বাঁচা যায় দেশে থেকেও পরাধীনের ভাব ঘুচিয়ে গেল বীর শহিদের দল তাদের স্মৃতি নিত্য জেগে থাক। নি। নিষেধ ভাঙা মাটির উপর বাস বিস্মরণের কালো করে গ্রাস অস্ত্রহীনের মুখর প্রতিবাদে শাসকবুকে প্রবল তুফান জাগে। সা। সারাবেলা পাতা ঝরেই চলে সেই যে গাছের শহিদপুজোর ফুল আমরা আনি আনন্দটা তুলে মালির কথা সারাজীবন ভুল। ============================= গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২ কথা ...

কবিতা ।। বাংলা ভাষা ।। সুমন নস্কর

বাংলা আমার মায়ের ভাষা পাড়া কিম্বা গাঁয়ের ভাষা প্রাণের ভাষা গানের ভাষা গ্রহণ এবং দানের ভাষা বাংলা ভাষা চলার ভাষা মনের কথা বলার ভাষা বড়োই ভালো মিষ্টি ভাষা কাব্য ছড়ার সৃষ্টি ভাষা মনের বেদন বোঝার ভাষা আপন জনের খোঁজার ভাষা বাংলা ভাষা মায়ের ভাষা শহর কিম্বা গাঁয়ের ভাষা গানের ভাষা মানের ভাষা ছন্দ লয় ও তানের ভাষা ছোট্ট শিশুর মুখের ভাষা সুখের ভাষা দুখের ভাষা কান্না এবং হাসির ভাষা শিক্ষিত ও চাষির ভাষা সুরের ভাষা স্বরের ভাষা একান্ত এ ঘরের ভাষা বাংলা ভাষা মধুর ভাষা গাঁয়ের যতো বধুর ভাষা মাঝি কিম্বা জেলের ভাষা দুষ্টু সকল ছেলের ভাষা লেখা এবং পড়ার ভাষা মজার মজার ছড়ার ভাষা "মোদের গরব মোদের আশা" আ মরি সেই বাংলা ভাষা।। =================== সুমন নস্কর।।বনসুন্দরিয়া।।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

কবিতা ।। আট-ই ফাগুন ।। উৎপলকুমার ধারা

আট-ই ফাগুন উথলে ওঠা পদ্মানদীর জল কিংবা একুশ ফেব্রুয়ারির ফুলফোটা রোদ্দুর ওই দিন-ই তো বাংলা মায়ের দামাল ছেলের দল গাইলো সবাই মাতৃভাষার বাঁধন ছেঁড়ার সুর ! জুটলো সবাই ছুটলো মিছিল কাঁপলো রে রাজপথ খানসেনাদের সঙ্গে লড়াই বাধলো ভীষণ জোর সবার জন‍্যে আনতে জানি আলোর ভবিষ্যৎ  বীর শহিদের রক্ত-রঙে ফুটলো নতুন ভোর ! যাদের জন‍্যে পেরিয়ে নিকশ অন্ধকারের বাঁধ যাদের জন‍্যে এগিয়ে চলার অগাধ সাহস পাওয়া আজ পেয়েছি মায়ের ভাষার অমল সুখের স্বাদ যাদের জন‍্যে পেলাম সবাই রোদ বিছানো দাওয়া ! তাদের শহিদ বেদীর পরে আলপনা আজ আঁকি রফিক সালাম জব্বার-ভাই এবং আবুল কালাম যাদের জন‍্যে আমরা সবাই মুক্ত ডানার পাখি সেই ভায়েদের জানাই হাজার-হাজার কোটি সালাম !! --------------------------------------------------------   From :- Utpal Kumar Dhara, Purba Nischintapur, Budge Budge, Kolkata - 700138, mob. no. 7980252249, w/a. no. 8017479045,

কবিতা ।। মাতৃভাষা বাংলাভাষা ।। মাথুর দাস

জন্ম থেকেই  যে ভাষাতে  সহজ কথা বলা, ভাব-বিনিময় আদান-প্রদান এবং হাঁটা চলা ; শ্বাসবায়ুতে  মিশে থাকে  জীবনের যে ভাষা, সেই তো আমার মাতৃভাষা, আমার বাংলাভাষা । যে ভাষাতে মনের আকাশ থাকেই নীলে নীল, উড়তে থাকে  উদাস ডানায়  কল্পনা-গাংচিল ; মিষ্টি মধুর যে ভাষাতে  গানের কথা কলি, কাব্য গাথা কথকতা  সেই ভাষাতেই বলি । শিখতে পারি  অন্য ভাষাও  শখ-প্রয়োজন-কার্যে, মাতৃভাষার মতো সাবলীল হতে কি পারি আর যে ! শরীর-মনে রক্তসমান যে ভাষাটি সারা জীবন বয় সেই বাংলাভাষার মর্যাদা থাক যে কোনও বিনিময় । *******************************       মাথুর দাস, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান   *******************************

কবিতা ।। অমর একুশ আমার একুশ ।। রমলা মুখার্জী

অমর একুশ আমার একুশ, একুশ সবার গান- খুনে রাঙা দিন স্বপ্ন রঙিন শহীদের বলীদান। বিশ্বসভার উদার আকাশে একুশ ধ্রুবতারা - বাংলা পরম বাংলা ধরম বাংলা ঝর্ণা-ধারা। একুশের বাণ বাংলার মান একুশ স্নেহের টান.... ভোরের আকাশে একুশ বাজায় ভালোবাসার তান। রফিক, আব্দুল, বরকত, সালাম, সেলাম ভাইজান- বাংলার দুখে বুলেটের মুখে বাংলাতে শেষ ঘ্রাণ। ঢাকের বাদ্যি ঈদের আজান একুশে সবার দান- মিলেমিশে হাসি ভেদাভেদ নাশি হিন্দু-মুসলমান। প্রথম ফাগুনে একুশ পালনে একসাথে ধরি তান- বাংলাভাষার দৈনদশা ভেঙে করি খান খান। কাছাড়ে আসামে বাংলার নামে দিয়েছে এগারো প্রাণ- তাদের স্মরণে আজ শুভদিনে গাই বাংলার গান। একসাথে আসি বাংলা-ভাষী বাংলাতে হাঁটি পথ- বাংলা ভাষার গরবে সরবে ওড়াবো জয়ের রথ।    ===========================   ডঃ রমলা মুখার্জী, বৈঁচী, বিবেকানন্দপল্লী, জেলা হুগলী, পিন 712134, মোঃ 7003550595 হোয়াটস এপ 9474462590

কবিতা ।। ভাষাবাড়ি ।। বনশ্রী রায় দাস

                কোথায় আমার বাড়িঘর , প্রায়ই একথা বলতে । যেখানে যখন থাকি সেটা আমার ঘর জবাবে বলেছি আমি তোমাকে । বিরক্তি ভাবে তুমি বলেছিলে  এবার তোমার নিজের ঘর বানাও । মৌন হাওয়া তরঙ্গ ঢেউয়ের পায়ে নূপুর হলো চোখের কোণে ঝিলিক দিল অনন্ত সুরের  ঘর বাঁধার স্বপ্ন ,শৈল্পিক আঙুলের মুদ্রায় বানাই আমার ঘর জন্ম থেকে জন্মান্তরে । গর্ভগৃহে রাখলাম স্বরবর্ণ ব্যঞ্জন বর্ণ, আর জানালার গরাদে চন্দ্রবিন্দু,দালান থেকে  দরজা বরাবর সূর্যমুখী হাওয়া ,চিলেকোঠায় কুলুপ এঁটে বসে জিজ্ঞাসা চিহ্ন । দেওয়ালের গায়ে শ্বেতপাথর হয়ে  লুটিয়ে পড়ে টগরের হাসি পলাশ-ব্যকরণ বারান্দায় ধ্যানস্থ বিসর্গ' এর বেড়া ছুঁয়ে  বেজে যায় চাঁপাতলার হারমোনিয়াম  ঘরের ছাদে খেলা করে সময়ের শুকতারা , নদীর সন্ধ্যা শোনে আঁচলের পূর্ণচ্ছেদ । নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে সে ঘর আমার থাকে না  সেখানে বসত করেন আমার ভাষাজননি , ইতিহাস , ভূগোল আর প্রেমের ঝুমঝুমি । হৃদয়ে ঢেউ তুলে ধ্বনিময় স্রোত  সিংদরজায় হয়তো বা ফুটে উঠতে পারে  ভিমবেটকার কারুশিল্প অথবা আলতামিরার বিখ্যাত সেই গুহাকারু।   ...

কবিতা ।। মা, খোকা ও বর্ণমালা ।। মোয়াল্লেম নাইয়া

      পলাশ রাঙা আকাশ জুড়ে ফেব্রুয়ারি এলো মায়ের চোখে শিশিরের ভোর, কি সুখ তাহা বলো! খোকা গেছে অনেক দূরে আনতে কথার ঝুড়ি রক্তনদী পার হয়ে সে ফিরবে তবে বাড়ি ৷ বিন্নি ধানের খই ভাজে মা প্রিয় খোকার তরে ডালের বড়ি শুকায় রোদে সারা উঠোন জুড়ে ৷ দুখিনী মা সাজায় কুঁড়ে সজনে ডাঁটার ফুলে আসবে খোকা প্রতীক্ষা তার স্বপ্ন রাখে তুলে ৷ এসেই খোকা বলবে মাকে কী আছে দাও খাই খাওয়ার পরে মায়ের আদর চাই যে তাহার চাই ৷ এমনি ছিল খোকার সাথে মায়ের আলাপন চন্দ্র-সূর্য ওঠার মত সত্য চিরন্তন। যাওয়ার আগে খোকা নাকি শুনিয়ে ছিল মাকে মুখের ভাষা হারিয়ে গেলে কিইবা পড়ে থাকে! মনে পড়ে তোমার কাছে গল্প শোনার রাত? কাড়তে ওরা চাইছে মাগো, তাইতো প্রতিবাদ৷ লক্ষ্মীটি মা রাগ কোরোনা ফিরব তাড়াতাড়ি সঙ্গে নিয়ে আসবো তোমার লক্ষ কথার ঝুড়ি ৷ আবার তুমি ঘুম পাড়াবে বাংলা ভাষার সুরে কি এসে যায় আমার থাকা কিংবা যাওয়া দূরে? ফিরল খোকা অনেক রাতে পলাশ রাঙা দেহে সঙ্গে এলো কথার ঝুড়ি রক্ত নদী বেয়ে ৷ ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখে বাংলা ভাষার মা শবের পাশে ফুল নয় তো,.. যেন হাজার বর্ণ জমা! ভাষার শরীর শান্ত হলো, মিঠলো ঠোঁটের জ্বালা উঠ...

কবিতা ।। মাতৃভাষা ।। তরুণ মান্না

     এপারে বাংলা,ওপারে বাংলা    মধ্যে কাঁটাতার ,    দেশ কখনো ভাগ হয় না    একই ভাষা যার।    এপারে দাদা,ওপারে ভাই         মধ্যিখানে দেওয়াল,    দুজনার হৃদয়ে প্রবাহিত     রক্তের রঙ লাল।    এপারে অ-আ,ওপারে অ-আ    তবুও ভেদাভেদ,    মাকে কেটে ভাগ করেছি    জীবন জুড়ে ক্লেদ।    যার কোলে জন্ম নিলাম    সে তো মাতৃভূমি-মা,    আর যে মুখে ভাষা দিল    সেও কি নয় মা ?    শোক-দুঃখ সকল আবেগ    যে ভাষাতে ফোটে,    সে-ই তো মাতৃভাষা     জননী হয়ে ওঠে।            -------------------------------      Tarun Manna.    Vill : Khandalia.    P.O. : Kalatalahat.    Dist : South 24parganas.    PIN : 743504.     M.NO : 9732035536                 9851648323.   ...

কবিতা ।। বর্ণপরিচয় ।। হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

      ১ রোদের কাছে কিছুটা রঙ পাওয়ার পর আমাদের ক্যানভাসের শ্যাওলায়  আগুন আগুন ক্ষীণ একটা নদী দেখা যায় অনেকদিন পর ধানের জমিতে গোছ এলে তাকে বর্ণপরিচয় বলে । ২ বেদনার শরীরে বাঁকের মুখে যে তালগাছ দাঁড়িয়ে আছে ঝড়ের লিপি তার যে মেরুদণ্ড এঁকে দেয় তাকে বর্ণপরিচয় বলে । ৩ মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর অনেক রাতে চাঁদ ওঠে রান্নাঘরে খুব একচোট হৈ চৈ হওয়ার পর জানলা দিয়ে দু'একজন হাসি মুখ বাড়িয়ে দিলে তাকে বর্ণপরিচয় বলে । ৪ ভাতের যন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে লাইন ধরে হেঁটে চলে অগণন পা বুকে পেটে কাঁধে ছানাদের চোখ চেনা গেলে তাকে বর্ণপরিচয় বলে । *************************   হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ময়নাডাঙা ( আশ্রয় অ্যাপার্টমেন্ট ) পোঃ --- চুঁচুড়া. আর. এস. জেলা --- হুগলী পিন --- ৭১২১০২ পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষ ফোন --- ৯৪৩৩৩১২৯৬২

কবিতা ।। বর্ণমালা ।। সুদীপ চৌধুরী

  আমি তাকে দেখেছিলাম  মৃত ভাষার ভাগাড় থেকে খুঁজছিল বর্ণমালা ভাষাহীন নীরবতায় মৃত নক্ষত্রের মতো…   পরিযায়ী পাখিসব নখরে চিরে ফেলে   অক্ষর ছিন্ন হয় আমাদের ভাষা পরিচয়। ভাষাভষ্ম হতে যদি, আহা! ফিনিক্স  জীবন হয় তবে 'মা' বলে আবার ডাকব তোমায়। বর্ণমালা, আমার সাধের উচ্চারণ।    ======================      সুদীপ চৌধুরী শিলিগুড়ি  ৮০০১৩৯১৬৮২

কবিতা ।। বাংলা মায়ের প্রাণের ভাষা ।। সুব্রত চৌধুরী

বাংলা   সবার   প্রাণের   ভাষা   বাংলা   সবার   বুকে বাংলা   সবার   মাথার  ' পরে   সবার   সুখে   দু ' খে। বাংলা   খোকার  ' মা ' ' মা '  ডাকে ,  হাসি - খুশি   কান্নায়   বাংলা   খোকার   হাতে   খড়ির   হীরে  - মোতি  - পান্নায়। বাংলা   নদীর   কুলকুল   রবে   ছোটে   সাগর   পানে বাংলা   পাখির   কুজনে   আর   ছিন্ন   বীণার   তানে। বাংলা   বাউলের   একতারাতে     সুরে   সুরে   বাজে বর্ণমালার   মালা   পরে   শহীদ   মিনার   সাজে। বাংলা   মুক্তির   মাথার  ' পরে   বাংলা   মুক্তির   বুকে বাংলা   মায়ের   ডাকে   মুক্তি   শত্রু   সেনা   রুখে। বাংলা   সবার   প্রানের   ভাষা   রবি   সেরার   সেরা দুখু   আমার   বিদ্রোহী   বীর   ভাঙ্গে   বাধার   বেড়া। সাতই   মার...

একুশের কবিতাগুচ্ছ ।। বিচিত্র কুমার

একুশের গান একুশ এলেই মনে পড়ে বর্ণমালার গান, ভাষার প্রতি শহীদ ভাইদের কী নিদারুণ টান। ভাষার দাবিতে রাজ পথে দিলো যারা তাজা প্রাণ, তাদের রক্তে লেখা হলো বাংলা অভিধান। মায়ের মুখের মাতৃভাষা পেলো স্বাধীনতা, একুশ এলেই পুষ্প শয্যায় জানাই কৃতজ্ঞতা। জীবন দিয়ে রেখে গেল যারা মাতৃভাষার মান, সেই শোকেতে গাই আমরা একুশের গান। বাংলা ভাষার উপাখ্যান মায়ের মুখে শুনেছি আমাদের বাংলা ভাষার উপাখ্যান, ঊনিশ'শ বাহান্নর আগে ছিলো না এই মাতৃভাষার এত সম্মান। শুনছিলাম ভিনদেশিদের ভাষাই বলে বলতে হবে আমাদের কথা, এই খবরে পর্ব বাংলার ছেলেদের ভীষণ মাথা ব্যথা। ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেরা সব গেল রাজ পথে, স্লোগান মিছিল চলে দিকেদিকে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"এই শপথে। ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ মিছিল মিটিং সব নিষিদ্ধ, রফিক শফিক বরকত জব্বার সহ হলো আরো অনেকে গুলিবিদ্ধ। প্রতিবাদের ঝড় উঠে সমগ্র বাংলা জুড়ে, স্বীকৃতি পায় বাংলাভাষা আমাদের ঘরে ঘরে।   একুশের চেতনা একুশ আমাদের জাগ্রত চেতনা এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, একুশ মায়ের দুঃখ বেদনা একটি জাতির উদ্দীপনা। ...

কবিতা ।। আমার মাতৃভাষা বাংলা ।। সুবীর ঘোষ

আমার মাতৃভাষা বাংলা           সুবীর ঘোষ     প্রথম যখন ভাষা উঠল আমার দুটি নরম ঠোঁটে সেই থেকে তার সঙ্গে আমার শহীদ জীবন বৃন্তে ফোটে ।   ঘর সংসার শিশুর কান্না অসাবধানী প্রেম মহরৎ আমার ভাষা শেখায় যত্নে শালীনতার সব সহবৎ ।   কারখানাতে যন্ত্র ঘোরে একঘেয়েমি ছন্দে তালে তার মধ্যেও আমি জড়াই আমার ভাষার মুক্তিজালে ।   নদীর বুকে নৌকো যখন উড়তে থাকে হাওয়ায় হাওয়ায় আমি আমার মাতৃভাষার স্পর্শ দেখি সেই সে যাওয়ায় ।         সুবীর ঘোষ ৩০১ আশ্রয় এ্যাপার্টমেন্ট গ্রুপ হাউসিং , বিধাননগর দুর্গাপুর—৭১৩২১২ চলভাষ—৯৯৩২৬৪০৯৪৯  

কবিতা ।। বাংলা ভাষা ।। শুভাশিস দাশ

কৃষ্ণচূড়া পলাশ রাঙা ফাগুনে দিন এলে বাংলা ভাষার বর্ণমালা বিশ্বে মাথা তোলে।   এই ভাষারই জন্য কত প্রাণ গিয়েছে চলে বুক ফেটে যায় বাংলা মায়ের তাইতো একুশ এলে ।   গর্ব তবু বাংলা ভাষার গর্ব বাংলা মায়ের বুকের রক্ত যায়নি বৃথা আমার শহীদ ভায়ের।   ==============    শুভাশিস দাশ দিনহাটা মো 9932966949

কবিতা ।। বাংলাভাষা তোমাকে ।। সুমনা ভট্টাচার্য্য

  স্মৃতির হাতে বেঁধেছো যে রুমাল শব্দে গাঁথো দিনশেষের সে শোক টেবিলজুড়ে মন কেমনের যে জাল মুখরতা সে তোমার নামে হোক   শেকড়ের টান চিনিয়ে দাও তুমি - ছাতিম গন্ধে অস্থিরতার চাবুক  অক্ষরে মন বাড়ায় সালতামা মি তোমায় ছুঁয়ে আনমনা যে চিবুক ।   তোমার ক্ষত চিনেছিলো যারা তাদের বুকে শহীদ সংক্রমণ - আমদের পথ আজও দিশেহারা তাদের থেকে কিনছি সে দিনযাপন...   নোটপ্যাড চেনে বিষাদের দরবারি অকুণ্ঠতা ও আয়নার শিরোনাম - যে মোহনায় সে ঢেউয়ের ঘরবাড়ি- তার ঢেউ জলে নেভায় কেউ যন্ত্রণা ...   গেরস্থালী শস্যগন্ধে আবাদ যে নদীচর উর্বরতা রই চাষ তারই কাছে নতজানু বারবার তার কাছে হাত বাড়িয়ে নিই আশ্বাস...                 --------------------    সুমনা ভট্টাচার্য্য,বারাসাত

কবিতা ।। একুশে ফেব্রুয়ারি ।। জীবনকুমার সরকার

এক একটা একুশ আসে, আর  আমরা তখনই গা ঝাড়া দিয়ে উঠি  চারপাশে হুল্লোড়  মঞ্চে ওঠার হুড়োহুড়ি  যে আগে বক্তৃতা রাখি  আসলে একুশের চেয়ে আমরা ওটাই ভালো জানি।  এসব দেখে দেখে চোখে নামে অবসাদ ছেলেমেয়ে সব ইংলিশ মিডিয়াম, অথচ  আমরা সবাই একদিনের একুশে ফেব্রুয়ারি।  কত দিন, কত দিন, কত দিন এভাবে  একুশ বাঁচিয়ে রাখা যায়?  তবুও একুশ ফিরে ফিরে আসে আর আমাদের কিছু ঋণ মনে করায় । আমরা তো বাংলাভাষী  তাই আমরা এখন জীবন্ত লাশ  বাঙালির একুশ থাকলেও  ঘরে ঘরে মৃত্যুর উৎসব।  ================= জীবনকুমার সরকার পরশপাথর অ্যাপার্টমেন্ট, ৩ নং গভঃ কলোনী ইংরেজ বাজার, মালদা-- ৭৩২১০১। ই-মেল : shabdabhaash@gmai.com  

কবিতা ।। লড়াই থাকবে জারি ।। নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত

যে রাজপথ কান্নায় আর রক্তে লাল ভোলেনি তো সে ফেব্রুয়ারির একটি দিন ক্ষোভে বিক্ষোভে চিহ্নিত ক্লিন্ন গাল। বুকের আগুনে পতাকায় লাগে রক্ত ছোপ রক্তের ঘ্রাণে আজো ভরপুর শিক্ষালয় বলছে : হে শাসক, ধর্মের দিও না টোপ। আপন মায়ের মুখের ভাষা যেমনি হোক তার চেয়ে মধুর নেই কিছু বিশ্বময় সে ভাষাই হোক রাষ্ট্রভাষা চেয়েছে লোক। রক্ত পতাকা। আঁকা হয় তাতে মৌনমুখ শুনছ না তাতে বিশ্বাসের কণ্ঠস্বর?  এখনো কি দ্বিধা? কোথায় পাবে স্বর্গসুখ?  যারা ঢাকার রাজপথে বা বরাকে আসামে মাতৃভাষার সংগত  ন্যায্য দাবিতে  প্রাণ দিল একুশে ফেব্রুয়ারি ঊনিশে মে তাদের আমরা ভুলব কি? টানব কি দাঁড়ি  লড়াই আন্দোলনে?না, না। ভাষার দাবিতে   চিরকাল আমাদের লড়াই থাকবে জারি।    ****************************** Nripendranath Mahanta  Vill.& Post-HEMTABAD District :-Uttar Dinajpur PIN-733130  Mobile No. -8918861003

কবিতা ।। প্রাণের ভাষা ।। সাইফুল ইসলাম

বাংলা ভাষার মধূর সুরে                 যাচ্ছে বাউল পথে, মন মেতেছে সুরের ভেলায়                 একতারাটি হাতে।  ঢেউয়ের তালে নৌকা দুলে                 যায় যে মাঝি দূর, কন্ঠে তাহার বাংলা ভাষার                  ভাটিয়ালি সুর।  বাংলা আমার প্রাণের ভাষা                  বাংলা আমার মা, পল্লীগীতি-লোকগীতি                  কিংবা টুসু গা।  কোথায় আছে এমন ভাষায়                   প্রাণ জুড়ানো গান,  গরমকালে শীতল সমীর                   যেমন জুড়ায় প্রাণ।  সেলাম তোমায় অমর শহীদ                   বাংলা ভাষার লাগি, রফিক,সালাম,জব্বার,বরকত                  ...

কবিতা ।। একুশে ফেব্রুয়ারি ।। তপন তরফদার

  একুশে ফ্রেবুয়ারি সার্থক না হলে,  মানুষ ভুলে যেত বাংলার কথকতা-- পৃথিবীর আলোয় প্রচার হতো না রবি কাব্যের প্রয়োজনীয়তাও মাধুর্যতা। একুশে ফ্রেবয়ারি সার্থক না হলে  যুদ্ধ হতোই পড়শী ভায়ে ভায়ে প্রাদেশিকতার ঘোর  নির্মম আঘাতে এতদিনে অবশ্যই লুপ্ত হত বাংলা বর্ণমালা--- একুশে ফেব্রুয়ারি সফল না হলে ইয়াঙ্কী কালচারে মগজ যেত ভরে আমদানি করতো অশ্রাব্য সৃষ্টি  হারিয়ে যেত, বাংলার লোকসংস্কৃতি একুশে ফেব্রুয়ারি সফল না হলে     বিদেশি ভাষায় দেশ যেত ভেসে  চারিধারে ঝুলতো  নগ্ন নায়িকার ছবি      বাংলা হয়ে যেত  মহেঞ্জাদারোর জুড়ি ।  একুশে ফেব্রুয়ারি সফল না হলে, থাকতো না কোনো মনের ভাষা ধরণী র ধূলায় লুন্ঠিত হতো আরো  অনেক অনেক মধুর মিষ্টি মাতৃভাষা।   =========================   তপন তরফদার, প্রেমবাজার (আই আই টি) খড়্গপুর।                 ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ 9434077490

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

কবিতা ।। মায়াজাল ।। আরতি মিত্র

মায়াজাল আরতি মিত্র জীবন এক অন্তহীন পথচলা কখনও হৃদয়ে রঙের বাহার  কখনও হিয়ার বর্ণহীন আর্তনাদ  মনের কোণে হারাই হারাই ভাব    শুধু কল্পনা আর বাস্তবে  নেই যেন হারাবার ভয়।  মনে সাতরঙা রামধনুর খেলা বাস্তবে এই আছে এই নেই  মরীচিকার মায়া যেন সবই জাদুকাঠির ছোঁয়ায় রূপকথা  জীবন্ত রূপে এসে আনন্দ ছড়ায়  ছুটে চলে যায় উন্মুক্ত বাতাসে  ছায়ায় ছায়ায় স্মৃতির হাতছানি চেনা অচেনার মৃন্ময়ী অবয়বখানি  তৃপ্তি অতৃপ্তির বেড়াজালে  খুঁজে ফেরে বাতাসেরা আর্তনাদের আড়ালে  জ্যোৎস্নালোকিত নিশীথের গভীর দীর্ঘশ্বাস  করুণ কান্নার রোল তটভূমির কিনারায় বৃথাই শুধু কথার আশ্বাস। আরতি মিত্র 267/3 Nayabad. Garia.  Kol. 700094

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র

ভয় শ্রীশুভ্র আপনি কি ভয় পেয়েছেন? হঠাৎ এমন প্রশ্ন কানে এলে ভয় লাগারই কথা। প্রাত্যহিক জীবনে বহু বিষয়েই বহু রকমের ভয় আমাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু আমরা সচেতন ভাবেই সেই সব নানাবিধ ভয় সামলাতে নানান রকমের উপায় অবলম্বন করি। তার ভিতরে অন্যতম, আমরা কেউই মুখে ভয় পাওয়ার বিষয়টা স্বীকার করি না। করতে চাই না। অন্তত আচমকা কেউ এমন প্রশ্ন করলে। কিন্তু মনের তলায়, রাতের ঘুমে ভয় আমাদের পিছু ছাড়ে না। পরীক্ষার আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ভয় থেকে হয়তো সচেতন ভাবে এই ভয় সামলানোর সাথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিংবা তারও আগে প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন থেকে, মাতৃক্রোড়চ্যুতির ভয় দিয়ে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভয়ের সাথে। যার অন্তিম পরিণতি মৃত্যভয় দিয়ে। যে ভয় আমাদের তাড়া করে নিয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন। ভয়ের সাথে এই যে আমাদের আমৃত্যু সহবাস, মানবজীবনের এই এক অমোঘ নিয়তি। যার থেকে মুক্ত নয় কোন একটি স্বাধীন জীবনও।   অবোধ শিশু কোন কিছুতে ভয় পেলে প্রথমেই মায়ের কোলে ছুটে গিয়ে আশ্রয় খোঁজে। অবোধ মানুষও সেইরকম ভয় পেলে কাল্পনিক ঈশ্বরের কোলে আশ্রয় নিতে ছুটে যায়। কিন্তু মানুষ যখনই অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে চায়, ত...

গল্প ।। দু’টাকা ।। অনিন্দ্য পাল

 দু’টাকা    অনিন্দ্য পাল    ট্রেন থেকে যখন বাসব প্ল্যাটফর্মে নামল, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। শিয়ালদহ মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন মানেই এক নরককুণ্ড, আর আজ যেন সেই নরকের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বেশি। অফিস ফেরত আর কলেজ ফেরত মানুষের কনুইয়ের গুঁতো, ঘামের গন্ধ আর চড়া গলার চিৎকারে বাসবের মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। ভিড়ের চাপে ট্রেনের হাতল ধরে ঝুলতে ঝুলতে হাত দুটো অবশ হয়ে গেছে। প্ল্যাটফর্মে পা দিয়েই সে একটা থামের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকটা ধকধক করছে, ফুসফুস দুটো যেন একটুখানি টাটকা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। কিন্তু বাতাসের চেয়েও এই মুহূর্তে যা বাসবকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল, তা হল তার পেটের ভেতরের এক তীব্র, অসড় করা খিদে। দুপুরের দিকে কলেজের ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাড়ার গন্ধ পেয়েছিল, কিন্তু পকেটে হাত দেওয়ার সাহস হয়নি। আজ সকাল থেকেই তার পকেট একেবারে গড়ের মাঠ। মেসের শেষ টাকাটা কালই চুকে গেছে। বাড়ি থেকে মানি-অর্ডার আসতে আরও অন্তত দুটো দিন বাকি। কলেজ থেকে স্টেশন পর্যন্ত টানা আধ ঘণ্টা হেঁটে আসতে আসতে পা দুটো ভারী হয়ে আসছিল, এখন মনে হচ্ছে শরীরটা যেন অবাধ্য হয়ে ক...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,