Skip to main content

Posts

শ্রদ্ধাঞ্জলি ।। বিস্মৃত বাঙালি বিপ্লবী ইন্দুভূষণ রায় ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী

বিস্মৃত বাঙালি বিপ্লবী ইন্দুভূষণ রায়                                হাতে ঘা- মুখে,  খাবার তুলতে পারতেন না পর্যন্ত। সেই অবস্থায় কাজ দেওয়া হয়েছিল তেলের ঘানিতে- যন্ত্রণায় ছারখার হতে হতে, রাতের পর রাত যন্ত্রণায় দগ্ধে দগ্ধে মরতে মরতে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন। কাদের জন্য এত কিছু করলেন? কেই বা মনে রাখল?  খুলনার ছেলে ইন্দুভূষণ রায় কলকাতায় এসেছিলেন। একদিন কীভাবে যেন কলেজ স্কোয়ারে দেখা হয়ে যায় বারীন ঘোষের সঙ্গে। বারীন ঘোষ, সেই যুগান্তর ও অনুশীলন সমিতির বারীন- অরবিন্দের ভাই। বিপ্লবী সংসর্গে এসে ইন্দুভূষণের পরিবর্তন ঘটে। চলে, গীতা ও আনন্দমঠ পাঠ, উদ্বুদ্ধ হন দেশকে বিদেশি শাসন মুক্ত করতে।  চন্দননগরের মেয়রের ওপর বোমা ছোঁড়ার অপরাধে এবং বিখ্যাত আলিপুর বোমা মামলায়- যুগান্তরের সদস্যদের সঙ্গে তাঁরও সাজা হল। যে-সে সাজা নয়। দ্বীপান্তর- কুখ্যাত কালাপানি- সেলুলার জেলে। ক'জন আর ফেরে? সেলুলার জেলে রাজনৈতিক বন্দি আর অরাজনৈতিক বন্দিদের অবস্থা এক ছিল না। ব্রিটিশদের শত্রু মেনে যারা প্রাণ সমর্পণ করেছেন, তাঁদের কি ব্রিটিশ...

নিবন্ধ ।। রাখি বন্ধন উৎসব ।। সুদর্শন মণ্ডল

রাখি বন্ধন উৎসব  ভাই-বোনের প্রীতির সম্পর্কের উৎসব বলতেই ভাইফোঁটার পর যে উৎসবটির নাম মনে পরে তার নাম রাখি-বন্ধন | এমন দিনে দাদা বা ভায়ের মঙ্গল কামনায় রাখি নামে প্রবিত্র সুতো হাতে বেঁধে দেয় দিদি বা বোনেরা | রাখি  হল এক শপথের প্রতীক | দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার শপথ এই রাখি বন্ধন উৎসব  |           বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয় |রাখি পূর্ণিমার আরেক নাম শ্রাবণী পূর্নিমা বা সৌভাগ্য পূর্ণিমা | এই শ্রাবণী পূর্ণিমা বলার একটা কারণ আছে | রাখি পূর্ণিমার পাঁচ দিন আগে শ্রী কৃষ্ণের ঝুলন পূর্ণিমা শুরু হয়, আর সাত দিন পরে শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হয় | এই দুই লীলার মাঝে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখি পূর্ণিমা উৎসব উজ্জাপন করা হয় বলে এর আর এক  নাম শ্রাবণী পূর্ণিমা |           ইতিহাস বলে চিতোরের বিধবা রানী কর্ণবতী মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সাহায্য প্রার্থনা করে একটা রাখি পাঠান | তারপর থেকে এই রাখি বন্ধন উৎসব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে |           এই রাখি উৎসব সম্পর্কে আর...

প্রবন্ধ ।। একটি ভাষার মৃত্যু ।। সবিতা বিশ্বাস

  লিচো একটি মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল একটি ভাষা                                                  নামকরণে রয়েছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল একটি ভাষা, এটি না বলে বলা চলে মৃত্যু ঘটল একটি ভাষার | হ্যাঁ, এখানে গ্রেট অন্দামানিজ পরিবারের প্রাচীনতম ভাষা “সারে” র কথাই বলা হচ্ছে | অন্দামানি ভাষা হল এক জোড়া ভাষা নিয়ে গঠিত একটি ভাষা | গ্রেট অন্দামানিজ “ নেগ্রিট ” এবং “ ওগান ” ভাষা | এই পরিবারেরই প্রাচীনতম ভাষা ছিল ‘সারে’ ভাষা |        ২০১০ সাল অবধি এই পরিবারে ছিল আন্দামানের প্রাচীনতম চারটি ভাষা | জেরো, সারে, খোরা এবং বো |  ওই বছরেই আন্দামান থেকে মুছে গিয়েছিল খোরা এবং বো | যে ভাষাটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি সেই ‘ সারে ’ ভাষায় কথা বলতে পারতেন মাত্র একজন | তিনি লিচো | লিচো ছিলেন রাজা জিরাকের প্রথম সন্তান | বয়স হয়েছ...

প্রাণজি বসাক-এর দুটি কবিতা

//সীমারেখা // তীব্র কঠিন রোদের অন্তরালে কথা হল চলাচল হল অনেকদিন অনেককাল তারপরও প্রথাগত আদান-প্রদান ছিল তুমিই উপলক্ষ  - তোমারই হেতু সময়কাল আজ বুঝি সাদাকাগজের মত সকাল হল গতরাত ছিল চিরন্তন সত্য চারদিক থেকে ঘিরে থাকা ঘন অন্ধকারে পোড়া এক জীবন মধ্যবর্ত্তী সংলাপ কারোরই মনে নেই এখন অনন্তকালেরও বস্তুত জীবনসীমা আবদ্ধ রাতআকাশে তুবড়ির দ্যুতি যেমন ক্ষণিকমাত্র গতরাত ছিল চিরন্তন সত্য .... ঘন অন্ধকারে পোড়া এক দ্যুতিময় জীবন ******** // পড়োশি ছায়া // চোখের দিকে তাকালে দেখি মেহফিল মধ্যরাতে কোথাও বাজনা বেজে ওঠে দখিনা বাতাস পেয়ে একমানুষের ছায়া অন্য মানুষের কাছে যায় - থেমে যায় সানাইয়ের একটানা লয় ঘুমঘুম ভোরে সুচারু ভ্রমণ ছিল মঙ্গলশোভাযাত্রায় অনায়াসে ভেঙে গেছে জানলার প্রতীক্ষা চরণবদ্ধ তরিকায় ক্রমে বেঁধে ওঠে সংসার মেহফিল চোখে অনিদ্রা পাড় ভাঙা জীর্ণ বুক গ্রাম্যমেলায় পোড়ামাটির ঘোড়া তবু্ও লাফায় মরুচরে কাঁটাঝোপের ছায়া আজ শান্তি দেয় ** ******* Pran G Basak, E- 60 A,  F/Floor, Mahavir Enclave Bengali Colony, New Delhi - 110045 .Ph.. 9310736484 . emai...

দুটি কবিতা // তৈমুর খান

রাজনৈতিক _____________________ সভ্যতার আলোকোজ্জ্বল রাস্তায় অন্ধকার মনেদের ভিড় আস্ফালন জিঘাংসা জাগে হীন প্রবৃত্তির আত্মরক্ষা হবে তবে? সংখ্যালঘুর প্রশ্ন বিশ্বাসের কাছে বিশ্বাস হারায় রোজ বিবেকহীন দেশে তবুও নরম গাল উজ্জ্বল রোদের আভাসে লাল শীতকালে ঈষৎ ফেটে গেলে চুম্বন ক্রিম লাগায় রোজ, যত্নআত্তি করে   ব্যতিক্রম __________________ ব্যতিক্রমকে আমি চিনি আমাদের পাড়ায় থাকে হ্যান্ডসাম দেখতে, টল্ ফিগার সব শব্দেরা ওর প্রেমে পড়ে যায় সব ক্রিয়া বিশেষণ কাঁপে সব কথা ফুলের বাগানে ফুল হয় আমি তৎসমের কাছে বসি দেশী ও বিদেশী ফণাগুলি দোল খায় ব্যতিক্রমকে তাদের মাথায় বসাই যদিও কলহে বন্ধ কথা কথাবাহিনীর উৎসব ফিরবে আবার, মুখোশ খুলে খুলে দেখি ===================== Taimur Khan, Ramrampur (Shantipara), POST Rampurhat, District Birbhum, West Bengal, pin 731224, Mobile 9332991250, India.

কবিতা // রঞ্জনা রায়

অনুঘটক  নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে কখনো স্বপ্নের কাছাকাছি আসি  আবার নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে দূরে চলে যাই  ভাঙ্গা গড়ার এই দোলন   দৃশ্যপটে  কখনো উজ্জ্বল রোদ, কখনো মেঘলা তন্দ্রা। #  সাজানো বাগানের ইতিহাস-ভূগোল  এখন চায়  একটু নিঃশঙ্ক  বিশ্রাম ।  কারণ তোমার চোখে ইতিহাস সত্য নয়  আমার চশমায় কম্পাঙ্ক  সঠিক নয় । #  বিরোধ জন্ম নেয় রক্তের নীলনদ  মেয়েটি ডাইনি হয় অথবা ধর্ষিতা  মুম্বাই মেল এ প্রেমিকই দালাল  মাংসের কারবারে প্রেম এক অণুঘটক ।

কবিতা : অংশুমান চক্রবর্তী

বৃষ্টিধোয়া অন্ধকার কে যেন আঁকড়ে ধরে, শুনতে চায় অফুরন্ত কথা সময় তো বেমানান, এঁকে যাই দ্রুত নীরবতা। নিজেকে গুটিয়ে রাখি, মুড়ে রাখি শুধু রাংতায় কালোমেঘ দেখলেই অদৃশ্য হয়ে যাই প্রায়। অভিমান জমে বুকে, মনে মনে চেয়ে নিই ক্ষমা বুঝি না তো ভাষা তার, করে দেয় কেউ তর্জমা। উদাসীন অনুভব শরীরের ভাষা পড়তে পারে? কে দেবে আমাকে পাঠ বৃষ্টিধোয়া গাঢ় অন্ধকারে? ============================ Angshuman Chakraborty 61 H.I.T Road. Hatpukur. Howrah 711112 Mob 9836819379

কবিতা : বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

বিদারী ছায়া পেয়ালায় রাখা আস্ত পৃথিবী বস্পায়িত হতে থাকে আঁধার নামতে কোন বাহানার প্রয়োজন হয় না নদীর বুকে বিঁধে গেছে তির নাব্যতা কখন প্রাগৈতিহাসিক হয়ে ওঠে আমার ঠোঁটে শুধুই কবরের গান গড়ে তুলছে একটি লেলিহান গর্ত। আমি অপেক্ষা করে আছি একটি ফুলে ভরা আকাশ একটি উজ্জলন্ত ঝড় আমায় ডুবিয়ে দিল  ক্ষতের পর ক্ষত দিয়ে  উলকি এঁকে পতনের অপেক্ষায় হাজারো তারা সাজানো প্লেট থেকে খুঁটে নিচ্ছে  হজম না হওয়া এক বিশাল শুন্যতা। তোমার নাভিতে গেঁথে রাখা একটি গনগনে ভালোবাসা কিভাবে বিষবৃক্ষ হয়ে  ভেঙ্গে ফেলে নিজেরই ভূখণ্ড জানা ছিলনা আমার। এক মেঘ জল উবে যাচ্ছে মৃত্যু হয়ে আর আমার উপর প্রতিফলিত হচ্ছে এক বিদারী ছায়া। বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় গ্রাম পোস্ট বৃন্দাবনপুর বাঁকুড়া ফোন 9732154888

কবিতা // অনিন্দ্য পাল

সিঁড়ি =============== সমতলে পা ফেলে মাড়িয়ে এসেছি এতদিন  পেন্সিলে আঁকা মানচিত্র  আত্মপ্রতিকৃতিও বলা যায় সেই সব রেখাগুল্মকে অথবা ভেঙেচুরে পড়া বনেদি ঠিকানা  যাই হোক, যে ভাবেই হোক সেই হিসেব  তার হালখাতা রাখাছিল সমতল ড্রয়ারে  হঠাৎ কী এক আলো নেমে এল কোথা থেকে  যেন সেই বিদেশী সিনেমার দেবতার টর্চ আর নেমে এল পাণ্ডুরঙের তকতকে সিঁড়ি  এঁকে বেঁকে উঠে গেছে যেখানে রাখা আছে  আমার শেষ শ্বাসবায়ু ... =============================== অনিন্দ্য পাল প্রযত্নে- বিশ্বনাথ পাল  গ্রাম - জাফরপুর  পোঃ- চম্পাহাটি  পিন - ৭৪৩৩৩০ থানা- সোনারপুর  দঃ চব্বিশ পরগনা 

কবিতা : সৌমিত্র চ্যাটার্জী

ভূপর্যটন   আকাশের খুব কাছে আমাদের বসবাস নীরব সম্মতির স্বরচিত দেওয়ালে কবোষ্ণ স্মৃতিচারণ সুদূর প্রেরিত অমরসঙ্গীত আর কিছু নিশ্চিত ভ্রম এই আমাদের সাদামাটা ভূপর্যটন   আগুনের তাপে সেঁকে ভুঁইফোড় জীবনকে বাজী রেখে চোখে চোখে বিদ্ধ হয়েছে সর্পিল রোদ্দুর বিশুদ্ধ অভিমানের ফেলে আসা বাঁকে   যেসব দিনরাত কেটেছে শর্তহীন কে ভেবেছিল তারা প্রতিশোধ নেবে ফিরিয়ে দেবে সব প্রতিরোধ অন্তরীক্ষের পথে   জানবে না কেউ কেন স্তব্ধতা দু'চোখ ছাপানো কান্নার অন্দরে কেন দূরে ঠেলে দেওয়া বুকের ভিতরে জমানো বেদুইন অবরোধ...     ------------------------------------------------------ Soumitra Chatterjee Flat No. 2C , AS-2 , Ashiyana Society, Shankarpur  PO : Arrah , District Burdwan(west) , West Bengal  PIN : 713212 ।  Durgapur  ----------------------------------------------- Mobile No. 8967774027 ---------------------------------------- E-Mail ID :  poesy.soumitra@gmail.com ------------------...

কবিতা : তীর্থঙ্কর সুমিত

সুযোগ আমি চলে আসবো এটা তুই জানতিস তানাহলে আজ সূর্যের দিকে চেয়ে প্রনামের অছিলায় একবার দেখে নিতিস অন্যায় বলে আদৌ কিছু নেই সব পাপ জমা হলে  একটা কালো দাগ ঘিরে নেয় নিজেকে আর সেই দাগে থাকে এক একটা বিষ সব বিশ একত্রে জমা হলে  যেমন আশি হয়না ঠিক সেইরকমই সব বিষ একত্রে  জমা হতে হতে কখনো কখনো অমৃত ও হয়ে ওঠে দিনকে রাত আর রাতকে গোটা দুপুর ভাবলে এক একটা বর্ণমালায় খুঁজে পাওয়া যায় এক একটা সরস্বতী সবাইকে চিনে নেওয়ার একটা দারুন সুযোগ। ============= তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুন্ডু ব্রাম্ভন পাড়া হুগলী ৭১২১৩৯ মো ৯৭৪৮০৫২২২০ 

কবিতা // জগবন্ধু হালদার

             ঘুমকাতুরে                       মিশমিশে অন্ধকার আর উঠতি বাতাসেরা  একটা  ছিরিছাঁদহীন দেয়ালের পাশে সারারাত জটলা করে,  শিস দেয়, হাসাহাসি করে বিষাক্ত বীজ ফেলে কানাচে উল্লাসে আমি জানলায় থুতনি রেখে তারাখসা দেখি  দেখি দুমড়ে যাওয়া আড়কাঠে                                          কীভাবে ধোঁয়া জমে ঝুল হয় ঝুলে থাকা জাল কীভাবে মৃত্যু-ফাঁদ হয় স্বভাবের দেখি বিনা বাক্যে বয়স্ক গাছেরা                                            কেমন মুড়ো নাড়ে দ্বিধাহীন                                                                 ...

ব্যক্তিগত গদ্য ।। সিদ্ধার্থ সিংহ

আমার মাস্টারমশাই স্যার বললেন, আজকে স্কুলে ঢুকে আগে টিচার্স রুমে এসে আমার সঙ্গে দেখা করবি। বুঝেছিস?  আমি খুব খুশি। স্যার টিচার্স রুমে যেতে বলেছেন মানে, এই স্যারও জানেন, ঘণ্টা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্যারেরা যেই ক্লাস থেকে বেরোতে যায়, অন্যান্য ছেলেদের মতো আমিও স্যারের কাছ থেকে চকের টুকরো নেওয়ার জন্য পিছু পিছু যাই। কোনও কোনও দিন পাই, কোনও কোনও দিন পাই না। পেলেও, ব্ল্যাকবোর্ডে অনেক কিছু লেখার জন্য কিংবা লিখতে লিখতে মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার জন্য স্যারের হাতের শেষ অংশটা এত ছোট হয়ে যায় যে, ধরে লেখার মতো অবস্থায় থাকে না।  তখন আমরা ওগুলিকে গুঁড়ো করে হাতের তালুতে নিয়ে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এর তার মুখের সামনে আচমকা ফুঁ দিয়ে এমন করে উড়িয়ে দিই যে, সে একেবারে সাদা ভূত হয়ে যায়। কারও কারও চোখেও চলে যায়। সেটা নিয়ে কেউ কেউ আবার শুধু মনিটারকেই নয়, ক্লাস টিচারকেও নয়, সোজা হেড মাস্টারমশাইয়ের কাছে গিয়ে কেঁদেকেটে একশা করে। তখন হাতে বেতের বাড়ি খাওয়ার জন্য অথবা ক্লাসের বাইরে নিল ডাউন হয়ে বসে থাকার জন্য রেডি হয়ে থাকতে হয়। তা সত্ত্বেও পর দিন সব কিছু বেমালুম ভুলে গিয়ে আবার যে কে সেই।  তা হলে কি স্যার...

কবিতা // অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়

২২শে শ্রাবণ ও রবীন্দ্রনাথ শ্রাবণ মেঘ চোখে পড়লে বুকের ভেতর যন্ত্রণার রেখাচিত্র এলোমেলো উড়ে যায় তারাদের কাছে . তারা'রা দুধের গুড়োর  মতন ছড়িয়ে পড়ে মনে হয় যেন শেষেবিদায়ের বেলা দিন ঘুরে রাত্রি, মাস ঘুরে বছর এভাবেই আসে বাইশে শ্রাবণ সাদা পালকের মতন  নরম সকালে কি করে যে আঁধার নামে ভাবতে ভাবতে চলে যায় দৃষ্টি দুটো গাছের কাছে, যেখানে গাছ সমুদ্রস্রোত উপেক্ষা করে আজ  ও সমুদ্রভূমির ওপর.... তেমন ভাবে যদি তুমি এখন ও আমাদের কাছে বট গাছের মতন শতাব্দী ধরে চিরকালীন হয়ে থাকতে তাহলে আমরা তোমার ছায়া তলে এসে দাঁড়াতাম, প্রাণ ভরে শ্বাস নিতাম বছর ঘুরে যখন বাইশে শ্রাবণ এসে দাঁড়ায় তখন ছাতিম তলা থেকে উড়ে যায় পাখি উদয়ন বাড়ির দিকে, তোমার খোঁজে....

প্রবন্ধ ।। ২২ গজের বাইরে সৌরভ গাঙ্গুলী ।। বটু কৃষ্ণ হালদার

২২ গজের বাইরে সৌরভ গাঙ্গুলী স্বমহিমায় মূর্তিমান   ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলী সম্বন্ধে যে কোনো তথ্য আমাদের কাছে অক্সিজেনের সমান। সৌরভ গাঙ্গুলীর ক্রিকেট জীবন বিশ্লেষণ করলে,আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় ক্রিকেটে বাঙ্গালীদের অবস্থান যে কতটুকু সে সম্বন্ধে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। সেই দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করলে ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গাঙ্গুলী এক ব্যতিক্রমী চরিত্র।বারবার ভারতীয় ক্রিকেটে তার লড়াইটা নতুন রূপে পেয়েছি। জীবনের শুরু থেকে লড়াইটা শুরু হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে তাকে বেঙ্গল ক্রিকেট দলের হয়ে খেলার জন্য নির্বাচন করা হয়। ঠিক সেই সময় দাদা স্নেহাসিশ গাঙ্গুলিকে বেঙ্গল ক্রিকেট দল থেকে অপসারিত করা হয়। জীবনের ক্ষীন আশা টুকু ও শেষ হয়ে যায়। হাল ছাড়েননি তিনি। ১৯৯০_১৯৯১ সালে এই দুই বছর তার জীবনের চরম মুহূর্ত। রঞ্জি ট্রফিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করার জন্য প্রথমবার ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলার জন্য সুযোগ পান। কিন্তু ডেবিউ ম্যাচে মাত্র ৩ রান করে আউট হন। যার ফলে ভারতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে। আবার শুরু ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। পুনরায় তিনি রঞ্জি ট্রফি খেলতে শুরু করেন। সাফ...

প্রবন্ধ ।। বিস্মৃত ত্রয়ী: দুর্গাদেবী, মিস এলিস ও সত্যবতী দেবী ।। টুবাই মন্ডল

বিস্মৃত ত্রয়ী টুবাই মন্ডল "বিজন বনে কুসুম কত বিফলে বাস বিলায়ে যায়, নীরবে আহা ঝরিয়া পড়ে কেহ ত ক্ষতি মানেনা তাই। তবু ত প্রভু তাহারো তরে করুণা ধারা তোমার বয়, বরষা বারি ধরায় ঝরে, উথলে আলো ভুবনময়।"                    বাস্তবিকই এমন অনেক 'কুসুম' ই আমাদের অগোচরেই প্রস্ফুটিত হয়ে, তার রুপ, রস, গন্ধ অকৃপনভাবে বিলিয়ে দিয়ে আবার সবার অগোচরেই ঝরে যায়। নিতান্ত অবহেলাভরে তাদের নাম হয়ত বা লেখা থাকে ইতিহাসের জীর্ণ পাতার কোনো এক অনাবিষ্কৃত প্রকোষ্ঠে। তাঁরা যা করেছেম তা অর্থ বা খ্যাতির মোহে নয়, তাই হয়ত স্তাবক-ইতিহাস এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। ' বিস্মৃত ত্রয়ী' সেই বিস্মৃত ইতিহাসকে আবিষ্কার করে, শতাব্দী প্রাচীন ধুলো ঝেড়ে নতুনের মাঝে উপস্থাপন করেছে।          "বিস্মৃত ত্রয়ী' এর প্রথমার জন্ম হয়েছিল উত্তর ভারতে,১৯০৭ সালে। তদকালীন ভারতীয় রক্ষনশীল হিন্দু পরিবারের সন্তান হয়েও যে উন্নত, প্রগতিশীল, সংষ্কারমূক্ত এবং আধুনিক মনের পরিচয় তিনি দিয়েছিলেন তার উপজীব্য ছিল নির্জলা স্বদেশপ্রেম। ...

কবিতা : রোনক ব্যানার্জী

     ভেদ    ——————— একচ্ছত্র সাম্রাজ্য পড়ে রয়েছে পাশে, স্তাবকের তাঁবেদারি মাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে দুর্বোঘাস দুর্বোধ্য বিশেষণ                         উষ্মার প্রাচীরে ফাটল কালো খামের চিঠিতে প্রেরকের ঠিকানা অনুপস্থিত; মূলরোমহীন শিকড়ের পাশে প্রগলভতার পরিখা, সার্চলাইটের আলোয় উচ্চাকাঙ্খিত জীবনের অবসান,              মৃগয়াফেরত আসামি  অস্থিমজ্জার বাদামী স্রোত বিশৃঙ্খলার ওপর বয়ে চলেছে,  গড় পরিস্থিতির পরীক্ষালব্ধ ফল জলবায়ুর বিপরীত,            বিপ্রতীপ কোণে দাঁড়িয়েও সুফল আসেনি,  হঠাৎ এক দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সহানুভূতি জুটে যায়।            

কবিতা । । শম্ভু সরকার

                ফিনিশিং পয়েন্ট ঐ চেয়ে দেখ অমল দিগন্ত জুড়ে পড়ে আছে ফিনিশিং পয়েন্ট শত হতাশা পিছনে ঠেলে আরেকটু ছুটতে পারলেই আমরা জিতে যাবো, আমাদের জিততে হবে অমল দুঃখিনী মায়ের মুখটা মনে করে সাহসে বুক বেঁধে নে ভোর রাত থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত ঐ দেখ অন্ধকারে এঁটো কল তলায় একটা শীর্ণ ছায়া কেমন পরম মমতায় গুছিয়ে নিচ্ছে সংসার অভুক্ত কাঁপা কাঁপা হাতে সেলাই করে চলেছে আমাদের দৈন্যতা দিন মজুরের ভিড়ে ঐ চেয়ে দেখ একজন রুগ্ন পিতা প্রাণপণ কোদাল চালাচ্ছে, যেন মাটির নীচে খুঁজে চলেছে এক কাঙ্খিত ভবিষ্যৎ যারা স্বপ্ন দেখে তাদের থেমে যেতে নেই অমল একবার শেষ সীমা ছুঁতে পারলেই মাটি ফুঁড়ে উঠে আসবে গগনচুম্বী সিঁড়ি আমরা হাত ধরাধরি করে আলোর দিকে হাঁটবো আরেকটু জোরে ছোট অমল  দুর্গম পথ পেরিয়ে ঐ চেয়ে দেখ দিগন্ত জুড়ে পড়ে আছে ফিনিশিং পয়েন্ট। ============== Sambhu Sarkar Chakdaha, Nadia Mobile 9126434148

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায় লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজনা — মধুসূদন থেকে জীবনানন্দ (প্রথম অংশ ) রণেশ রায়    ১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত: জীবনী, সাহিত্যপ্রতিভা ও আত্মোপলব্ধি জীবনী মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন যুগান্তকারী কবি। অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে, এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পাশ্চাত্য সাহিত্য, গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল ছাত্রজীবন থেকেই । সেই আকর্ষণই তাঁকে পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রেরণা দেয়।তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের এক দিগন্ত রেখা। যুবক বয়স থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন।তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার স্কুল-কলেজে পড়তে শুরু করেন। তৎকালীন পাশ্চাত্য জীবনাদর্শ, বিশ্বযুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ,মানবতাবাদী দর্শন —এসব তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে । তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে "মাইকেল" নাম গ্রহণ করেন—যা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজে অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তিনি বিচ্ছিন্ন হয় পড়েন তার নিজ-জনের কাছ থে...

স্বাধীনতা দিবস ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

স্বাধীনতা দিবস অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) ভোরের বেলা বর্ষণের                    ঝমঝম ছন্দে, ঘুম থেকে উঠে        মেঘ জমা মনে ; বাদলের লুকোচুরি খেলা। পুবের আকাশ থেকে এক টুকরো সূর্য রশ্মি, চকচকিয়ে পাত্রে রাখা                  পদ্ম পাতায় পরে। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সাথে         শ্বেত করবীর দোলা। দক্ষিণা আকাশে যেখানে             জলের রেখা দিগন্তে মেশে ; ঠিক সেখানেই উঁড়ে যায়                    পাখি পক্ষীর দল। পশ্চিম দিকে কালো মেঘে ঢাকা গাছের ফাঁকে শুধুই তারেই দেখা।         উত্তরেতে বহু দূরে............... ভেসে আসে গানের সু...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

চন্দন মিত্রর কবিতা

    পুনর্নবা         আমাকে ঝাঁকাও যদি ঝরাব টুপটাপ  লাল নীল গোলাপি সবুজ হলুদ বেগুনি সাদা অ আ ক খ অনিঃশেষ উন্মূল হব না কখনও  এ মাটিতে হাজার বছর আমি  শিকড় চারিয়ে আছি কাটো যদি গজাব আবার ... =============== চন্দন মিত্র ভগবান পুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা 

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...