Skip to main content

Posts

গল্প ।। স্মৃতিময় হালখাতা ।। গোবিন্দ মোদক

স্মৃতিময় হালখাতা গোবিন্দ মোদক – মেসোমশাই, পহেলা বৈশাখের দিন আমাদের দোকানে আসবেন। ঐদিন ছোট্ট করে গণেশ পুজো আছে, সেই সঙ্গে নতুনখাতা পুজো। আসবেন কিন্তু।  – আসবো বাবা, আসবো। তোমাদের সঙ্গে আমাদের এতদিনের সম্পর্ক!  – শুধু তাই নয় মেসোমশাই, আপনি আমাদের অত্যন্ত ভালো একজন কাস্টমার। আপনাদেরকে সঙ্গে না নিয়ে কি নতুন খাতা পুজো করতে পারি! ওই দিন কিন্তু অবশ্যই আসা চাই! এই নিন কার্ড।  – কার্ড দাও বা না দাও, মুখে বলেছো এই অনেক। ঠিক আছে বাবা, নিশ্চয়ই আসব। এবছর কি বার পড়েছে নববর্ষ? – রবিবার। কমল দত্তের স্টেশনারি দোকান থেকে এগিয়ে জুড়োন সাহার মুদিখানা দোকানের সামনে রিক্সাটাকে দাঁড়াতে বলেন সুনীলবাবু। সুনীলবাবুকে দেখে দোকানের ছেলেটি এগিয়ে আসে – আসুন কাকু, ভালোই হয়েছে। নইলে আপনার বাড়িতে যেতাম। হালখাতা তো এসেই গেল। যদিও ব্যবসা-পত্রের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়, কিন্তু হালখাতা তো করতেই হয়। আর ছোট্ট করে গণেশ পুজোও করছি ওইদিন। আপনাকে আসতেই হবে। এই নিন কাকু কার্ড।  – আচ্ছা বাবা, আসবো। কার্ড নিয়ে সুনীলবাবু রিকশায় ওঠেন। তারপর বাড়ি ফেরার পথে সনাতনের সবজি দোকানের সামনে দাঁড়ান। কয়েকটি সবজি দিত...

গল্প ।। নববর্ষের উপহার ।। কেতকী বসু

নববর্ষের উপহার কেতকী বসু সকাল থেকেই মায়ের ডাকাডাকি,আর ব্যাস্ততায় ঘুম ভাঙ্গলো সুবর্ণার,বিশেষত একটু বেলা করেই উঠতে ভালোবাসে চিরকাল,কিন্তু কে শোনে কার কথা,অনেক্ষন ডাকার পর অবশেষে উঠতেই হলো সুবর্ণার,হাজির হলো মায়ের সামনে, জানতে চাইলো কি ব্যাপার বলতো,আজ কিসের তাড়া তোমার, "জানো কতো রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করি আমি" ',তারপর একটু সোশাল মিডিয়া নিয়ে থাকি' , 'এতো সকালে ওঠার অভ্যেস আছে আমার'! মা, এভাবে কেনো ডাকলে, শান্ত হয়ে মা, সুবর্ণাকে বললেন আজ ১ লা বৈশাখ, সকাল সকাল স্নান সেরে পূজো দিতে যাবো দুজনে তারপর একটু মিষ্টি মুখ করবি, বড়োদের প্রণাম করবি,তাই জন্যেই তো ডাকছি সোনা। চুপ করো আজকের এই আধুনিক যুগে বাংলা সাল আর তারিখ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি সত্যি ভালো লাগে না। তোমরা সেই  পুরানো যুগেই পড়ে আছো। ততক্ষণে বেনু মাসী ঘর পরিষ্কার করে নিয়েছে। সুবর্ণার  মায়ের ও স্নান সারা,ভেবেছিল মেয়েকে সাথে নিয়ে পূজো দিতে যাবে। কিন্তু অমন কথায় একটু ব্যথিত হলো সুদীপা,কি আর করা নিজেই তৈরি হতে গেলো।  সুবর্ণা মুখ ভারি করে সোফায় বসে আছে।ততক্ষণে রমেন বাবু ,(সুবর্ণার বাবা) দুহাত ভর্তি বাজারের ব্য...

গল্প ।। ভালবাসার বাড়ি ।। বন্দনা সেনগুপ্ত

ভালোবাসার বাড়ি বন্দনা সেনগুপ্ত  এই গল্পের সঙ্গে নববর্ষের বিশেষ কোন যোগ নেই। তবে ঘটনাটা ঘটল চৈত্র মাসের একেবারেই শেষের দিকে। আর, তাছাড়া এটা কোন গল্পও না। একটা খুব সুন্দর ঘটনার কথা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। কারুকে বিব্রত করতে চাই না বলে শুধু নাম ধাম পাল্টে দিয়েছি। গত পরশু দিন মানে বুধবার ছিল আমার পরিচিত কৃতিশ্রীর জন্মদিন। ফেসবুক তাকে বেশ নামকরা কবি এবং সুলেখিকা বলে জানে। আমার সঙ্গেও ওই পাড়াতেই আলাপ। আমি ওকে বড্ড ভালোবাসি। সে আমাকে ডাকে দিভাই। আর, সেই সম্মানটাও দেয়।  তো আমি ভাবলাম কি মেসেজ না করে ওকে ফোন করি। করলাম। শুভ কামনা জানানো ছাড়াও, যা হয়, মেয়েদের কত্ত কত্ত কথা থাকে। বেশ কিছু ক্ষণ চলল তুমুল আড্ডা। "ও দি, তুমি গোধূলিদিকে চেনো তো! জানো কি হয়েছে?" গোধুলিদিকে আমি সামান্য চিনি। কিভাবে জানেন? আমি, কৃতিশ্রী, গোধুলিদি, এবং প্রায় আরও আড়াই তিন হাজার জন একটি ফেসবুক গ্রুপের মেম্বার। গ্রুপটির নাম "ভালোবাসার বাড়ি"। তো কিছুদিন ধরে ওই গ্রুপে ওঁর লেখা পড়ছিলাম। দারুণ মজার মজার লেখা লেখেন উনি। নিজেই বলেন যে শুধু যে যৌবন কালেই দুষ্টু ছিলেন তাই নয়, এখনও মাথার মধ্যে...

কবিতা ।। নতুন দিন ।। রবীন বসু

নতুন দিন রবীন বসু নতুন বছর নতুন দিন স্বপ্ন ভরাক আলাদিন, যা গেল তা পিছে থাক যত দুঃখ শোক তাপ l মনের মাঝে জল ছবি কাঁপছে দেখ নিরবধি, কী ওঠে কী-বা পড়ে ঘন্টা কেবল নড়েচড়ে l জোনাক জ্বলে আঁধারে স্মৃতিরা উড়ছে বাহারে, মন পবনের নাও ভাসে কোন সুদূরে সুখ হাসে ! দুঃখ-সুখের ভেলা চেপে পাওনাগণ্ডা দেখি মেপে, গেল বছর কিই-বা দিল কতটা যেন কেড়ে নিল? ওই যে মেয়ে পণের বলি গায়ে আগুন শুধুই জ্বলি, মুখে অ্যাসিড নাহলে রাজি জামিন দেন হিসেবি কাজি l ভয় যে আছে ঘরের মধ্যে বাঘ বেশে বসেছে ঘোগে l নতুন বছর নতুন সে দিন ওদের এবার বাঁচতে দিন l ও মেয়ে তোর করুণ হাসি এবারও যেন না হয় বাসি ! ==================== রবীন বসু ১৮৯/৯, কসবা রোড, কলকাতা-৭০০০৪২

পয়লা বৈশাখের কবিতা ।। সুমিত মোদক

তারিন দাদু ও পয়লা বৈশাখ সুমিত মোদক ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে কয়টা খড়ের আঁটি নিয়ে মাঠের দিকে হনহন করে হাঁটা দেয় তারিন দাদু; আজকের দিনে জমিতে, বাগানে, ঘাটে, খামারে, বাড়ির প্রবেশ দ্বারে খড়ের আগুন দেয়; সে কোন ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি; তারিন দাদু, আমার ঠাকুরদার ছোট ভাই; আমাদের আবাদি জমিগুলো বেশির ভাগটাই  বেদখল হয়ে গেছে ; তবুও দাদু যায়, জমি গুলোর প্রতি খুব যে মায়া; যে জমিতে এক সময় নিজের হাতে  সোনালী ধান ফলিয়েছে, যে বাগানগুলোতে নিজের হাতে সবজি ফলিয়েছে, সেগুলো এখন অন্যের দখলে; অথচ, পয়লা বৈশাখে খালি পায়ে পৌঁছে যায় সে জমির আলপথে; আলপথও ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে; ছোট হয়ে আসছে পাড়া-পড়শির হৃদয়গুলো; সুতি খালে আর ঢোকে না জল … একে একে অনাবাদি হয়ে পড়ছে জমি, চোখের সামনে দেখা সমাজটাও; গ্রামের বাড়িতে এখন তেমন কেউ থাকে না; তবে পালে-পার্বণে মোটামুটি প্রায় সকলে আসে, আমরাও … এখানে বছর শেষে চড়ক মেলা বসে; চড়ক গাছ ঘোরে বনবন করে; বনবন করে ঘোরে শিব সন্ন্যাসী; শুরু হয় শিবের গাজন; ছোট ছোট অনেক দোকান বসে; জেনেরেটরের আলোতে মাঠ জুড়ে আলো; আলো আর আলো .… আর শিকড়ের টানে ফেরা মানুষের মুখ; একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে কত কথা...

কবিতা ।। নববর্ষের প্রার্থনা ।। দীনেশ সরকার

নববর্ষের প্রার্থনা দীনেশ সরকার নববর্ষ আসুক ফিরে জ্বালুক খুশির আলো সবার মুখে হাসির ধারা পড়ুক ঝরে ঝরে, মেরুদন্ড সোজা রেখে সবাই খাকুক ভালো নববর্ষ বিমল আলো ছড়াক নতুন ভোরে। খাঁচাবন্দি জীবন থেকে মনের মুক্তি হোক শত্রু-মিত্র আলিঙ্গনে দিক তারা সব ধরা, স্বজনহারা বিয়োগব্যথা, সকল দুঃখ-শোক দূর হয়ে যাক্‌ মন থেকে সব, মন হোক খুশি ভরা। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আর ভেদাভেদ থাক্‌ পড়ে সব দূরে ভালোবাসার ভুবনডাঙা উঠুক ভরে ফুলে, সবাই মিলে জীবনের গান গাই যেন একসুরে হাসি-খুশির মিলন মেলায় উঠুক হৃদয় দুলে। নতুন বছর আসুক আবার আশার প্রদীপ নিয়ে দূর করে দিক কালিমা-কলুষ, মনের গ্লানি যত, সবার হৃদয় দিক সে ভরে ভালোবাসা দিয়ে বাঁধার সাগর পেরিয়ে সবাই হাসুক ফুলের মতো। ************************** দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, প্রেমবাজার, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ---- ৭২১৩০৬

কবিতা ।। দিনটা ছিলো ।।বদ্রীনাথ পাল

দিনটা ছিলো বদ্রীনাথ পাল নববর্ষের প্রথম দিনের কথা-- চোখ বুজলে আজও মনে পড়ে, সকাল হলেই দেখতাম মা নিজে আলপনাটি দিচ্ছে ঠাকুর ঘরে। আমরা যারা ছিলাম কঁচিকাঁচা-- সবাই মিলে স্নানটি সারা হলে, নতুন জামা নতুন কাপড় গায়ে ঘুরতে যেতাম পাড়া দলে দলে। সেদিন হতো নানান খাওয়া দাওয়া-- মাছ মিষ্টি পড়তো সবার মুখে, বৈষ্ণবীটাও হরি নামটি গেয়ে টহল দিতো গ্ৰামটি মনের সুখে। তারপরে যেই হতো বিকেল বেলা-- পায়ে পায়ে গিয়ে দাদুর সাথে, গদী ঘরে নতুন খাতা করে ফিরে আসা মিষ্টি প্যাকেট হাতে ! দিনটা ছিলো আনন্দেতে ভরা-- উৎসব আর হাসি খুশি মিলে, সুখের সেদিন আজ পাইনা খুঁজে নিউ ইয়ার খেলো তাকে গিলে। ========= বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোস্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া, 

কবিতা ।। অজিত কুমার জানা ।। নববর্ষ নক্ষত্র

অজিত কুমার জানা  নববর্ষ নক্ষত্র তাপবৃক্ষে বসে বৈশাখ,  ঝিঁঝিঁ বাঁশরি হাতে। রাই কিশোরী রোদ,  উষ্ণ নূপুর পলকে,  দুপুর পুড়ে নীরবে।  তাপ জল ঘাম স্রোতে,  বৈশাখী ডিঙি বেয়ে।  রাজ সিংহাসনে নতুন বছর,  তাপের টোপর মাথায়। ধূলো, ধূলো হয়ে যাচ্ছে, জলন্ত উনুন পিচরাস্তা।  উচ্চরক্ত চাপে হাঁস ফাঁস,  চলন্ত গাড়ির চাকা।  শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হলে,  জ্বলে নববর্ষ নক্ষত্র।  ================== অজিত কুমার জানা, গ্রাম +পোষ্ট-কোটরা, থানা-শ্যামপুর  জেলা-হাওড়া, পিন-৭১১৩০১, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। 

কবিতা ।। প্রতীক মিত্র ।। নতুন বছর

প্রতীক মিত্র নতুন বছর নতুন বছরের কাছে আবদার আমার বেশিই রাখবো বলে ভেবেছিলাম। তারপর দেখলাম বেশি কিছুই চাওয়া হল না। পাওয়াও হল ততধিক কম। উত্তাপ, বাজার দর, ভোটের ডামাডোলে আরো যেন গুটিয়ে গেছি। স্মৃতির সাঁকো ধরে হেঁটে দেখেছি পেছনে, শৈশবে বাবা-মা'র হাত ধরে  দোকানে যেতাম। ব্যস্ততায় মিষ্টি আর ঠান্ডা পানীয়ে ঘেমো আলোকিত সন্ধ্যেগুলো বেশ কেটে যেত। এখনও ইচ্ছে হয়  সন্তানকে নিয়ে যাই। সে বলে না। সে তেমন কিছু জানেনা। কিভাবে যে তাকে শেখাই? কিই বা শেখাই? বাঙালিয়ানা থেকে নববর্ষ থেকে আমিই  কত দুরে! বহুত্ববাদের ভারে ইংরেজীর জোরে  অতীতের মতন বর্তমানও অন্ধকার। না আবেগে ভাসি না উত্তর দিতে পারি কোনো সওয়াল। জানার যেন তাগিদ নেই মোটে। উত্তরাধিকার, প্রশ্ন লটকে যানজটে আমার সন্তান কতটা আমার?এটাই বা বাংলার কোন সাল? প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235, পশ্চিমবঙ্গ

বাঙালিমানসে বাংলা নববর্ষ ও হালখাতা ।। পাভেল আমান

বাঙালিমানসে বাংলা নববর্ষ ও হালখাতা পাভেল আমান বছরের এই একটা দিন সমস্ত বাঙালিরা একাকার হয়ে যায় বাঙালিত্বের জাগরনে। বাঙালি যেনো আবারো খুঁজে পাই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটু আনন্দ ভাব বিনিময়ে নিজস্ব ঐতিহ্য কৃষ্টি ঘরানাকে। সেই বহুকাঙ্খিত পয়লা বৈশাখ প্রতিবছরেই বাঙ্গালীদের  কে  নব আশায় উদ্দীপিত করে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে গোটা বাংলা  অধীর আগ্রহে প্রহর গুনতে থাকে। শুরু হবে বাংলা ১৪৩১ সাল। চৈত্র সংক্রান্তির পরের পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে নতুন বছর শুরু হয়। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ওতো কত ভাবে জড়িয়ে আছে আবহমানকাল ব্যাপী চলে আসা হালখাতা। কত স্মৃতি ঘটনার চিরন্তন সাক্ষী বহন করছে এই হালখাতা। বাংলার ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রথম দিনটাকে হালখাতা হিসেবেও পালন করে থাকেন। এই হালখাতা নামের নেপথ্যে আছে অনেক ইতিহাস লোক গাথা যার পড়তে পড়তে বাঙালিয়ানা। কিন্তু ব্যবসার খাতার নাম 'হালখাতা' কেন?শুধু হিসেবের খাতা হালনগদ করার আনুষ্ঠানিকতাই নয়, পয়লা বৈশাখে ব্যবসায়ীরা আয়োজন করেন হালখাতা। দোকানপাটে থাকে পরিপাটি সাজ। ফুল, মালা দিয়ে সাজিয়ে এ দিন দোকানে দোকানে গণেশের পুজো করা হয়। নতুন খাতার প...

স্মৃতির পাতায় নববর্ষ ।। মিঠুন মুখার্জী

স্মৃতির পাতায় নববর্ষ মিঠুন মুখার্জী  বাঙালি আনন্দপ্রিয়। বারো মাসে তেরো পার্বণকে কেন্দ্র করে তারা সারা বছর আনন্দে মেতে থাকেন। তবে সবার কাছে সব অনুষ্ঠান বিশেষ থাকে না, কোনো কোনো পার্বণ বিশেষ হয়ে ওঠে। তারা ইংরাজি নববর্ষকে যেমন আপন করে আনন্দে মেতে ওঠেন, তেমনি নিজেদের বাংলা নববর্ষে নানান অনুষ্ঠানে সামিল হন। সকল বাঙালিরই থাকে নববর্ষকে কেন্দ্র করে নানান স্মৃতি। তবে সকল স্মৃতি তারা মনে রাখেন না। কিছু কিছু স্মৃতি চিরকাল মনে থেকে যায়। আমার মনেও নববর্ষকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ স্মৃতি আজও জেগে আছে, যার কথা আজ আমি ব্যক্ত করব। ১৪১০ বঙ্গাব্দের পয়লা বৈশাখ। তখন আমার বয়স ছিল কুড়ি বছর। এখনকার থেকে অনেক প্রানচঞ্চল ছিলাম আমি। আমাদের গোবরডাঙায় পয়লা বৈশাখ থেকে দশ দিন গোষ্ঠবিহার নামে একটি মেলা হয়। আজ এই মেলা দুশো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে গুরুজনদের নমস্কার করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। কালীবাড়ি প্রসন্নমায়ের মন্দিরে প্রনাম করে গিয়েছিলাম একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল কলকাতায়। নববর্ষ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। গান, নাচ , কবিতা আবৃত্তি সব...

অণুগল্প ।। শীর্ষা ।। অমিত কুমার রায়

  শীর্ষা অমিত কুমার রায় নববর্ষের সকালে একমনে ছবি  আঁকছিল শীর্ষা। ওর মা অনিন্দিতা বলছে শীর্ষাকে হরিরতলায়, ঘরের প্রবেশ পথে চালের পিটুলি করে আলপনা দিতে। সেসব শীর্ষা এখনো করেনি বলে অনিন্দিতা ঘরে ঢুকে দেখে সুন্দর একটি ছবি এঁকেছে মেয়ে! কৌতূহল এবং আবেগ তাড়িত হয়ে অনিন্দিতা জিজ্ঞেস করলো --- কী ফুলের গাছ রে শীর্ষা! শীর্ষা ছবিতে শেষ তুলির টান দিতে দিতে বলল --- ভ্যান ঘগের বিখ্যাত ছবি ' Almond Blossoms'! মা অনিন্দিতা বিস্ময় দৃষ্টিতে বলল বাঃ! শীর্ষা নিজের আঁকা ছবির দিকে চোখ রেখে বললে, এই শাখা প্রশাখা যেন জাগরণ আর স্টার ফুলগুলো যেন সতেজ চেতনা ! এই আমার প্রতি দিনের নববর্ষ ! অনিন্দিতা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল --- খুব খুব সুন্দর ! শীর্ষা হেসে জিজ্ঞেস করেছিল কে ছবি না আমি ! অনিন্দিতা বুকে চেপে মুখে চুমু দিয়ে শীর্ষাকে বলেছিল -- দুইই। ========== অমিত কুমার রায় ঝিখিরা   হাওড়া ৭১১৪০১

কবিতা ।। নববর্ষ ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

 নববর্ষ রঞ্জন কুমার মণ্ডল নববর্ষ আসে বাংলা সনে  চৈত্র অবসানে শুভকামনা, শুভেচ্ছাবার্তা আনন্দ দেয় প্রাণে।  বাংলা সনের নববর্ষেই হালখাতা উৎসব মিষ্টি মুখ মঙ্গল কামনায় ওঠে খুশির রব। বাংলা সনের নববর্ষেই গাছেতে কচিপাতা  খুশি আনন্দে হয়ে মশগুল  দেয় শুভ বারতা। বাংলা সনের নববর্ষেই মিঠে কড়া রোদ্দুর তপ্ত হাওয়া শোনায় গান কালবৈশাখী সুর। বাংলা সনের নববর্ষেই বৈশাখ দেয় ডাক নতুন বছর হোক শুভ হোক সম্প্রীতি দৃঢ় থাক। ===================== যোগাযোগ: রঞ্জন কুমার মণ্ডল সারাঙ্গাবাদ, মহেশতলা দক্ষিণ -২৪ পরগণা। পশ্চিমবঙ্গ। .

ছড়া ।। সময় কৈ ।। কার্ত্তিক মণ্ডল

সময় কৈ কার্ত্তিক মণ্ডল সকাল হতেই মা ডেকে কন ওঠ রে খোকন ওঠ নববর্ষের রোদ মেখে গায় মাঠে মাঠে ছুট।  ছোট্ট আছিস তাইতো তোর নাইকো বাধার বাঁধ একটু বড়ো হলেই সামনে কত জটিল ফাঁদ।  কর্মমূখী জীবন হবে সামনে পাহাড় খাই সংসারটা দাবানলের মত আরও চাই আরও চাই।  পুরাতন আর নতুনের ভেদ  করাটাই খুব শক্ত নববর্ষ ভাবার সময় কৈ জল হয় গার রক্ত । 

ছড়া ।।রবীন্দ্রনাথ ।। রূপালী মুখোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথ  রূপালী মুখোপাধ্যায়  এলো বৈশাখ  বাজে ওই শাঁখ আসছে বিশ্ব কবি  দাও উলু দাও  শংখ বাজাও  ছোটরা আঁকো রে ছবি  গাও জয় গান  রাখো তার মান তিনি তো প্রাণের কবি  লিখেছেন গান  তুলেছেন তান  আঁকাও তাঁহার হবি ছোটরা জানো  কত ছড়াগানও  লিখেছেন মজা করে  পৃথিবী জুড়ে  ফিরেছেন ঘুরে  আছেন সবার ঘরে  স্মরণ করবে  তবেই পারবে  করতে বিশ্বজয়  বিপদ আসুক  বন্যা ভাসুক  পাবে নাকো কোন ভয় । ====================

কবিতা ।। আসছে নবীন বৈশাখ ।। অনুপম বিশ্বাস

আসছে নবীন বৈশাখ অনুপম বিশ্বাস ও আসছে বৈশাখী ঝরের দাপটে তাই তো প্রকৃতি সবুজ মুকুলে সাজে, ও আসছে মুকুল ঝরা মেঠো পথে তাই তো উষ্ণ দুপুরে নুপুর বাজে। ও আসছে আনন্দের বার্তা নিয়ে তাই তো সকলে খুসির জোয়ারে মাতে, ও আসছে পূর্নিমার চাঁদ হয়ে আকাশে তারা ঝলমলে জোৎস্না রাতে। ও আসছে বলে দুর করে দাও মনের যত ময়লা, মুখে হাসি,ভালোবাসি বৈশাখী পয়লা। ও আসছে বলে দূর হয়ে যাক রোগ-ব্যাধি-জরা, ও আসছে বলে নব হিল্লোল শান্তিতে পূর্ণ হবে ধরা। ও আসছে বলে ঞ্জানের আলো জ্বলুক মস্তকে, ও আসছে বলে ভয় ভেঙে যায় অসীম সাহস বুকে। ও আসছে বলে জ্বলুক অগ্নিশিখা বাজুক আগমনী শাঁখ, আসো আসো আসো হে পহেলা বৈশাখ।

গল্প ।। হালখাতা ।। মধুরিমা ব্যানার্জী

হালখাতা  মধুরিমা ব্যানার্জী জীবন নদীর কঠিন নাও তে ভর করে এগোচ্ছে অজিত। এভাবে আর কতদিন? সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। শহরের কাজটা চলে গেছে এই কথাটা বলতেও কষ্ট হয়। অজিত বৌদির শুকনো মুখ দেখে ভাবে কি করে বলে শহর তার সহ্য হয়না কেন? বাউন্ডুলে অজিতের কোনো কাজ ই যে বেশিদিন টেকেনা এই কথা সকলের জানা। এবার অজিত চেষ্টা করেছিল যাতে কাজটা তার টিকে যায়। এবার সে ফাঁকি দেয়নি বৌদি ছাড়া এই কথা আদৌ কেউ বিশ্বাস করবে? সবাই বৌদিকে অপবাদ দেয় তার আস্কারা তেই অজিত এমন হয়। যাক সে সব কথা। মন্দ ভালো দিন মিলিয়ে জীবনের অধ্যায় অজিত শহরে কাজ করতো এক নাম কোম্পানি এর পিয়ন হিসাবে। দাদা সেই যে শহরে গিয়েছিলো আর ফেরেনি বৌদি পথচেয়ে বসে থাকতো। অজিত ভাবতো শহরে গেলেই দাদাকে পাবে অভিজ্ঞতা কম থাকলে যা হয়। কাজ কর্ম আর সময় পেরিয়ে বিজ্ঞ হয়ে অজিত বুঝলো এত বড়ো শহরে দাদাকে খোঁজা খুব কঠিন। দিনগুলো ভালোই কেটে যেত যদি না দাদা তার অফিসে আসতো। দাদা এসেছিলো অজিত এর বস এর চেম্বার টাতে। অজিত পরিষ্কার করছিলো। দাদাকে দেখে ব্যস্ত হয়ে অজিত এগিয়ে যায়। অজিত কে না দেখার ভান করে দাদা। পরে বস এর থেকে জেনেছিলো উনি অনেকবড়ো কোম্পানির মালিকের জামাই সব ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায় লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজনা — মধুসূদন থেকে জীবনানন্দ (প্রথম অংশ ) রণেশ রায়    ১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত: জীবনী, সাহিত্যপ্রতিভা ও আত্মোপলব্ধি জীবনী মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন যুগান্তকারী কবি। অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে, এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পাশ্চাত্য সাহিত্য, গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল ছাত্রজীবন থেকেই । সেই আকর্ষণই তাঁকে পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রেরণা দেয়।তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের এক দিগন্ত রেখা। যুবক বয়স থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন।তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার স্কুল-কলেজে পড়তে শুরু করেন। তৎকালীন পাশ্চাত্য জীবনাদর্শ, বিশ্বযুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ,মানবতাবাদী দর্শন —এসব তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে । তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে "মাইকেল" নাম গ্রহণ করেন—যা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজে অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তিনি বিচ্ছিন্ন হয় পড়েন তার নিজ-জনের কাছ থে...

স্বাধীনতা দিবস ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

স্বাধীনতা দিবস অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) ভোরের বেলা বর্ষণের                    ঝমঝম ছন্দে, ঘুম থেকে উঠে        মেঘ জমা মনে ; বাদলের লুকোচুরি খেলা। পুবের আকাশ থেকে এক টুকরো সূর্য রশ্মি, চকচকিয়ে পাত্রে রাখা                  পদ্ম পাতায় পরে। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সাথে         শ্বেত করবীর দোলা। দক্ষিণা আকাশে যেখানে             জলের রেখা দিগন্তে মেশে ; ঠিক সেখানেই উঁড়ে যায়                    পাখি পক্ষীর দল। পশ্চিম দিকে কালো মেঘে ঢাকা গাছের ফাঁকে শুধুই তারেই দেখা।         উত্তরেতে বহু দূরে............... ভেসে আসে গানের সু...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...