Skip to main content

Posts

স্বরূপা রায়ের অণুগল্প

প্রতিশ্রুতি "কিরে শম্ভু, কেমন আছিস?" শম্ভুর পিঠে হাত চাপড়ে বললো অতুল। শম্ভু সবজি সাজাচ্ছিল বস্তা পেতে। হাত জোড় করে বললো, "এই তো দাদা, ভালো আছি।"  "ব্যবসা কেমন চলছে?" "ভালোমন্দ মিলিয়ে খারাপ চলছে না।" "দুইবেলা খেতে পাচ্ছিস?" "হ্যাঁ হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাটা তো এখনো ছোট। মায়ের দুধই খায়। তাই আমার আর বউয়ের হয়ে যায়।" "শোন, তুই আমাদের দলের দাদাকে তো চিনিস। উনি খুবই ভালো মানুষ। আগেরবার অল্প ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। এবার জিতলে আমাদের সবার অনেক সাহায্য হবে। আগামী রবিবার আমাদের মাঠে উনি একটা সভা করবেন। তুই তোর বউ-বাচ্চা নিয়ে আসবি। দুপুরে ভালো খেতেও দেবে।" "তাই নাকি?" "হ্যাঁ আসিস কিন্তু। তোদের মুখ দাদা দেখে রাখলে তবেই ভবিষ্যতে সাহায্য হবে।" "আচ্ছা দাদা, যাবো।" আট মাস পরে, শম্ভু বৃষ্টির মধ্যে ছুটতে ছুটতে এসে হাজির হলো পার্টি অফিসে। অতুল ও ওদের দলের দাদা উপস্থিত। ওই দলই এখন শাসক। "দাদা, আমার বাচ্চাটার খুব অসুখ করেছে। অনেক টাকা লাগবে সুস্থ করতে। কিছু সাহায্য করুন। নাহলে...

রীতা রায়ের রম্যরচনা

টুকিটাকি (ভোটপূর্ব কথোপকথন )              ******** ********* ********* *********       --- কী হে, দাস না কী? কতদিন বাদে দেখা, সেই যে তোমার গোপন কথাটা হয়েছিল বেফাঁস!    --- ওই এক বদোভ্যাস! যোগ বিয়োগে হিসেব খাল্লাস।    --- আজকাল করছো কী শুনি? কীভাবে কাটছে বারমাস?    --- বড় কিছু খাস নয়। করছি বুদ্ধির(( চাষ। ফসল উঠছে ভালোই, তরতাজা.. দানাদার। বেমাশুল কারবার। বাজারদর পাচ্ছি না, হচ্ছি জেরবার। মিটছে না মনের আশ, তবু করছি চাষ। জমা ফসলে লেগে যায় ঘূণ।    --- করছোটা কী শুনি, ভাগ না গুণ?    --- তেল নুন কেনা ছাড়া বাকিটা পান থেকে খসে চূণ। আর কাড়ছে রাতের ঘুম।    --- কবিতা-টবিতা, লিখছো.. না কী?    --- ওই টুকি-টাকি, অন্যের লেখা থেকে আর কী!    --- তা বেশ, বেশ। ধরা পড়ার ভয় নাই। কার ঘাড়ে কে বা খায়। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। রসদ চাই, বুঝলে ভায়া?    --- ঠেকে ঠেকে বাজছে বাঁয়া। কায়ার চেয়ে লম্বা ছায়া। নাই কারো...

রম্যরচনা : অনিরুদ্ধ সুব্রত

বাঙালির ভোট-সিন্ড্রোম -------------------------------- দিন শেষে অফিস-ক্লান্ত মধ্য চল্লিশের বাবা, বাস ট্রেনের ধকল সামলে সবে ঘরে ফিরেছেন।ক্লাস থ্রির ছেলে কাছে এসে বলল, বাবা আমরা কি টিএমসি না বিজেপি  ? প্রশ্ন শুনে বাবা পড়লেন আকাশ থেকে । মা ছেলেকে টেনে সরিয়ে নিয়ে গেলেন পড়ার ঘরে, বকাবকি করলেন না-বোঝা বিষয়ে কথা বলার জন্য । বাবা থ হয়ে বসে থাকলেন সোফায় । পরে স্ত্রীর কাছে শুনে বুঝতে পারলেন, ওটা আসলে পুল-কারের ড্রাইভার-আঙ্কেল ছেলের কাছে জানতে চেয়েছিল।             ধরুন ভদ্রলোকের নাম রতনবাবু , তো তিনি ব্যস্ত অফিস আওয়ারে সম পর্যায়ের কোলিগদের কাছে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক বার শুনেছেন, 'গ্রাম থেকে তো আসেন, তা ওদিকের ভাব ক্যামন এবার ? ক'টা পাবে ভাবছেন ?' নিরীহ নিপাট লোকটা মৃদু হেসে, না জানা ,না বোঝার ভানে পেরিয়ে যেতে চান উৎসাহী চোখ গুলোর প্রত্যাশা ।           দু'একদিন বাদে বাদেই অফিস ফেরতা পথে স্টেশনের কাছের মুদির দোকানে যেতেই হয় । ঘর সংসারের এটা ওটা নেবার ফাঁকে দোকান মালিক সামান্য অভিব্যক্তির শৈল্পিক কারুভঙ্গি করে বলেই ফে...

আবদুস সালামের কবিতা

আমাদের কোনো নিজস্ব তা নেই           (এক)      উদ্বেগের কুয়াশায় লেপ্টে আছে আমন্ত্রণ ক্লান্ত ক্লান্ত ভালো বাসা ছড়ানো সর্বত্র কামুক বাজনা বেজে ওঠে গরুর রাজত্বে গণতন্ত্র উল্লাসে মাতে অন্তপ্রাণ ভোটারদের সম্ভ্রম খোয়া যায় আমরা আমাদের ধর্ষক নির্বাচন করি  পালন করি ভোটোৎসব বিষন্নকাল প্রতিশ্রুতির  আকাশে ডানা মেলে             (দুই) আত্মবিশ্বাস নিয়ে যুদ্ধ করি নির্বোধ পাড়ায় রক্তহীন চোখ দ‍্যাখে আস্ফালন হাহাকার ছায়া ফ‍্যালে ,বাগদী পাড়ায় রোডশোতে নেমে পড়েছে সিনেমা সুন্দরীরদল স্বপ্ন ঈশ্বরীরা পা মিলিয়েছে সাথে( মুদের সুঁথে) রক্তাক্ত হয় চৈতন‍্যের বাগান ফিরে ফিরে আসে ভোট পার্টি অফিস ভাঙচুর হয়, রাস্তায় পড়ে থাকে লাশ মিটিং মিছিলে পাড়া মহল্লা কাঁপে রোদন বিলাসী মা আমার শৃগালের সাধু উচ্চারণ শেখায়, সম্মোহিত হই নস্ট ফুলের মালা গেঁথে  সাজায় নেতাজীমূর্তি  যেদিকে তাকায় ঝুলে আছে বিষ্ময়সূচক চিহ্ন আমরা ভোট দিই আমাদের কোন নিজস্বতা নেই @@@ আবদুস সালাম  প্রয়াস ...

অমিতাভ দাসের কবিতা

গণতন্ত্রের গাড়ি ভোট অফিসার হয়ে বাড়ি থেকে বেরোবার সময় বাবা বুবুনকে কথা দিয়েছিল ফেরার সময় নতুন গাড়ি নিয়ে আসবে আর বুবুন খেলবে সারাটাদিন ধরে। রাতে শোয়ার সময় ফোনে কি সব বলছিল মা, বুবুন বোঝেনি ঠিক,শুধু শিখে নিয়েছিল স্পর্শকাতর,বুথদখল নতুন এইসব শব্দ। রাতে স্বপ্নে বুবুন দেখল একটা লাল টকটকে গাড়ি,তাতে ড্রাইভারের সিটে বসে সে বাবা মাকে বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে অনেক অনেক দূর।গাড়িতে আবার লাগানো রয়েছে একটা সাইরেন। পরদিন বেলার দিকে খবর আসে বাবা একটু তাড়াতাড়ি ফিরবে,ফিরবে মর্গ ঘুরে,বুকের ঠিক যেদিকে বুবুন থাকত,সেখানে কারা যেন দু দুটো ফুঁটো করে দিয়েছে  বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসবের নেশায়। সাইরেনের শব্দে ছুট্টে দরজায় যায় বুবুন,দেখে তার বাবা ফিরেছে,সাথে গাড়ি এনেছে,কাঁচ ঢাকা গণতন্ত্রের গাড়ি!! ======================= অমিতাভ দাস 40/এ বাকসাড়া রোড,বাকসাড়া,হাওড়া - 711110

সুতপা পূততুণ্ডর কবিতা

ভোট বড় বালাই মন্ত্রীরা আজ বেস্ত বেশি উদ্বোধন আর শিলান্যাসে! পরিসেবা কোথাও নেই, শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে ভাসে! ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি সব জনতার পাওনা, মিটলে ভোট সেই নেতাদের টিক্কি ছোঁয়া যায় না! বছর ঘোরে শিলান্যাসে পাথরের গায়ে ঘাস গজায়! উবে যাওয়া প্রতিশ্রুতি কর্পূরকেও হার মানায়। বোতামের গায়ে লেগে থাকে নেতা মন্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাস ভোট মিটলে পরে থাকে রক্তাক্ত গণতান্ত্রিক লাশ। ইছাপুর উত্তর২৪পরগনা Sent from OPPO Mail

টুম্পা মিত্র সরকারের ছড়া

কাকাতুয়ার ছড়া . ভোট এসেছে ভোট— বলছে রামুর ছেলে, বন্ধ দোকানপাট... কাজ না হলে চলে ? . একটা ছেলে গেলো  হেসে  প্যাঁচার বাড়ি, প্যাঁচার মুখটা দেখো... রাগলে কেমন হাঁড়ি ! . দস্যি মেয়ের নাচ পড়শি দেখে চেয়ে, মেয়ের তো হুঁশ নেই, আসছে সবাই ধেয়ে ৷ . সোনা বাবুর পড়া— টেবিল জুড়ে বই, নিঝুম নীরব পাড়া, সোনা গেলেন কই ? . কাকাতুয়ার ছড়া... লাগছে মিঠে ভারি ভোট ফুরোলে দেখি মন্ত্রীরা দেন পাড়ি ৷ ————————————————————— টুম্পা মিত্র সরকার পূর্ব বর্ধমান

জয়ীতা চ্যাটার্জীর কবিতা

স্বৈরতন্ত্র নিজেরই ভেতরে রেখেছ যাকে তুমি,  বয়ে যাও মোট ভার,বয়ে যাও বুকের অলিগলি।  সেও রেখেছে বরাবর এক হাতে লোভ, আর ত্রাস রেখেছে আরেক হাতে,  তোমার ওপরে তার যত লাফালাফি, রাগের তুফান ছুটিয়ে মাঝ রাতে।  নিছক ঘরোয়া এক ভয়, হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে  দগদগে কপালের দাগে।  স্মৃতি মাত্রই দুর্বল, সম্প্রিতি কে কবে দেখেছে স্বৈরতন্ত্রের আগে।।  ------------------------------------------ Jayeeta Chatterjee Add: 22/4 R.N.T.P Bye lane Shyamnagar north 24 parganas

শুভঙ্কর দাসের কবিতা

অযুত পদধ্বনি ওঠে সূর্য যেখান থেকে ওঠে সেখান থেকে একটি কালো মাথা এগিয়ে আসে যার হাতের রেখায় কোনো অস্ত্র নেই যার পায়ের তলায় কোনো নরম কার্পেট নেই যার মুখে পড়ে না মঞ্চের হাজার কৃত্রিম আলো তাকে জেগে থাকতে হয় অসুখে,খরায়,বন্যায় অথবা যুদ্ধের দামামায় সে হেঁটে গেলে ধানখেত,সে হাত বাড়ালেই সিংহাসন টলে,সে মরে গেলে বাতাসে ছাই ওড়ে কাঁটাতার ছাড়িয়ে তার শরীরে রক্ত-মাংস ছাড়া শুধু আঁকা আছে চাকা যেটা ঘুরে, অবিরাম ঘুরে বলে,এ পৃথিবীটা জয় করার মতো সুন্দর,ভালোবাসার মতো নরম,সন্ন্যাস হওয়ার মতো ত্যাগ আর মূর্তি বানানোর মতো অহংকার জন্মায় সেই চাকা যত জোরে ছোটে আর কিছু নয়,মহাসংগীত অযুত পদধ্বনি শুধু ওঠে       ------------------------------------------ শুভঙ্কর দাস হলদিয়া পূর্ব মেদিনীপুর ৭২১৬০২ ফোন -৯৭৩২৬২৫২৮৯         

সুমিত দেবনাথের কবিতা

জবাব দিন ********** আমার মায়ের কী দোষ ছিল? বলো না আচ্ছা আপনি বলুন না? ছেলে জন্ম দেওয়া নিজের মুখে রক্ত তুলে, ছেলের মুখে দুধ তুলতে আমার মা তো কোনোদিন কিপটেমি করেনি!! কোনোদিন ভাবেনি, বড়ো করে কি হবে? কী হবে পড়িয়ে? শুধু ভেবেছে ছেলে বড় হবে.. মানুষ হবে? কি তাই না, বলুন না? সান্ত্বনা দেবেন না। আশ্বস্ত করবেন না। একদম না। শুধু উত্তর দিন। আমি উত্তর চাই.. জবাব চাই। আপনাদের মুখ থেকে শুনতে চাই.. আর কতদিন আমার মাকে এইভাবে কোলহারা.. হতে হবে?? আর কতদিন তাকে নিরুপায় হয়ে স‌ইতে হবে উঠতি বয়সের তার বুকের বাছার অসহ্য মৃত্যুযন্ত্রণা। আরে জবাব দিন। মাথা নামিয় রাখবেন না। আমার বাবা যখন সেবার ভোটের দাঙ্গায় মারা গেল .. এই আপনারাই তো এসেছিলেন? তাই না? বলেছিলেন না এসব নাকি আর আপনারা.. হতে দেবেন না। আপনাদেরকে ভোট দিতে.. বলেছিলেন। কিন্তু ক‌ই ? ভোট দিলাম এই তো আপনাদেরকে না না। আপনারা না তো। ওরা তো কালু,ভলু .. আপনারা কারা? হবেন হয়তো শালু গালু। দিয়েছিল সদ্য বিধবা আমার মা ভোটটা সেই কালুদের‌ই। এই এতটুকু আশায় যে, এরা হয়তো...... তার সদ্য পিতৃহারা ... ...

সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

।।ভোট রঙ্গ।। ভোটের আমি  ভোটের তুমি ভোট দিয়ে যায় চেনা। কে জনগন কি জনধন সব আজ যায় কেনা। কোথায় কাজ কেবল সাজ নকল বুঁদির রম্য গড়। মরুক চাষি লাশ হোক বাসি পুড়ুক খোড়ো গোলা,ঘর। ভোটের বালাই পালাই পালাই ইভিএম-এই প্রাণের টান। ভোটের আগে কি অনুরাগে প্রার্থী মুখেই করছে দান। ভোটের রণ কামড় মরণ লক্ষ্য কিন্তু জনগন। উড়ছে টাকা বুকনি ফাঁকা মনটা তবু উচাটন।। ******************* Sudipta Bandyopadhyay. 7P/ 1, Ram Road, Sarsuna, Kolkata - 700061 . Ph. 9432222463.

কুনাল গোস্বামীর কবিতা

 প্রতারক......    ঘড়িতে তখন ১.৪৫,বৈশাখের প্রখর তাপে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গে তখন আগুন জ্বলছে নিখিলেশের।  কিছুক্ষণ আগে ব্যস্ত যানযট উপেক্ষা করে উন্নয়নের পদযাত্রায় সামিল হয়েছিল সে। এখন আবার কোত্থেকে একটা শবদেহ বহন করা গাড়ি হুস্ করে বেড়িয়ে গেল নিখিলেশের পাশ দিয়ে,  নীলাঞ্জনা তাকে ছেড়ে চলে গেছে আজ প্রায় পাঁচ বছর  তার প্রতারণার আগুন আর তাকে নিয়ে লেখা কবিতা গুলো সে এখনো ধারালো অস্ত্রের মতো সাথে নিয়ে ঘোরে  যদি কখনও দ্যাখা পায় কোনো যুগলের  সে তাদের মুখে ছুঁড়ে মারে দেশে এখন মহা উৎসব পালন করা হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের ব্যানার জুড়ে শুধুই অভিনেতাদের ছবি  তারই নিচে নিখিলেশ সাদা কাগজে লেখে - "আজ সে ক্ষুদার্থ, আর তার সঙ্গ দেয় জিভ বের করা এক নিরীহ কুকুর!" নীলাঞ্জনা' এখন আর নেইকো কোনো ভেদাভেদ  তোমার নামের সাথে "প্রতারক" শব্দটা আমি জুড়ে দিয়েছি আজ আমারও আঙুলের ডগায় এক ফোঁটা রক্তের ছাপ আর বুকে প্রজ্জ্বলিত প্রতিহিংসার আগুন। ---------------------------------------------------------------------     কুনাল গ...

বিশ্বজিৎ সাহুর কবিতা

                               ভূততন্ত্র                             'গণ' শব্দ শুনলেই কেন কী জানি ধর্ষকের মানে পাই              অথবা কোনো সংক্রামক ব্যাধি , খুনী                    নতুবা আত্মহনন কথন । রাগ হয় নিজস্ব আভিধানিক দ্বন্দ্বে ! লাটিম হাতে খেলতে খেলতে বড় হওয়া ছেলেটা                অ নৈতিক বক্তৃতার জৌলুসে ---             চোখের  সামনে তৈরী বন্দুকবাজ ! 'তন্ত্রে'র বিভূতি মতদানের শাস্ত্রীয় স্থিতধী ছেড়ে শস্ত্র । আহা মিছে কথা নয় --- রূপকথার গল্প শুনেছি ঢের , তারও ঢের রাক্ষস দেখি রোজ              তারা রক্তের গন্ধ নাকে শুভ্রপোশাকে সেজে                    মানুষের ...

বি.কে.স্বপনের কবিতা

ভেবে-চিন্তে ভোটটা দিও --- ---------------------------- ''রাজনীতিটা রাজার নীতি" বলতো সবাই আগে, এসব কথা শুনলে এখন বড্ড হাসি লাগে। লড়ছে ভোটে আসামীরা জেল খাটারও পরে, মাইক হাতে দিচ্ছে ভাষণ অতি উচ্চ স্বরে। ওরা নাকি দেশের জন্য দিতে পারে জানও, রাস্তা-ঘাটে শুনি কতো ওদের গুণ-গানও। ওদের হয়ে গান গাওয়াটা কতো হনুর ব্রত, চামচাগিরি করতে তারা বহায় জন-স্রোতও। ঘোর কলিকাল চলছে এখন বলছে সবাই মিথ্যে, মন্ত্রী তাদের হতেই হবে তাই তো হবে জিততে। দিকনা ভাষণ যতই ভালো সবাই ষড়যন্ত্রী, দেশসেবা তো মুখের কথা চায় যে হতে মন্ত্রী। চা-ওয়ালা আর হাওয়াই চটি আলোচনার শীর্ষে, ওরাই ভাবী প্রধানমন্ত্রী মুখে মুখে ফিরছে। থাকলে পায়ে হাওয়াই চটি পট-পটা-পট শব্দে, যায় যে বলা,  "বিয়াল্লিশে চাই বিয়াল্লিশ! --- সব দে।" উনি আবার ঘর-বিবাগী যদিও স্বঘোষিত, তবু আমরা তাঁর কথাতেই উঠি এবং বসি তো! ভিন্ দেশি এক 'ভিঞ্চি' এসে দিচ্ছেন কতো ডায়লগ, সত্যি-মিথ্যে না ভেবে তা খুশি কতো ভাইলোগ। এমনি করেই আসবে যাবে প্রতিটা নির্বাচন, ভেবে-চিন্তে ভোটটা দিয়ে দাও ওদের নির্বাসন। 'গণতন্ত্রে ব...

পারমিতা ভট্টাচার্যের কবিতা

গণতন্ত্র __________ সাপের মত আঁকাবাঁকা করে  চলেছে একটা লাইন স্কুল এর দিকে, দূর থেকে দেখলেই লাগে পোষমানা বিষদন্তএর থেকে বিষ হয়ত হয়েছে ফিকে। খেয়ালি মত্ততায় মগ্ন আজ জীবনতন্ত্র তারই দস্তখত পড়ে শুধু ভোট যন্ত্রে, সাপের মতো আঁকাবাঁকা একটা লাইন যদিও তার পাঁচ পা দেখতে পাওয়া যায়না। পাঁচ পা দেখালেই আবার একটা ক্ষতবিক্ষত দেহ, আর,অভিভাবকহীন একটা পরিবার পাওনা। তার চেয়ে ভালো পোষ মেনে থাকা, হলেও সামাজিক দৃষ্টিপাত বাঁকা প্রাণটা তো তবু বাঁচে। তাই গৃহপালিত হওয়ার অজুহাতই আজ গণতন্ত্রের মুখে সাজে।। ঠিকানা _______ পারমিতা ভট্টাচার্য পদ্মপুকুর,তারকেশ্বর কলেজ রোড তারকেশ্বর,ওয়ার্ড নও_____১০ পিন কোড__৭১২৪১০

সুজাতা মিশ্র(সুজান মিঠি)র কবিতা

ভোট-বাজার --আমুর ঘরে কারা জ্যান আগুন লাগায়ে গ্যাছে --হ হ শুনসি শুনসি। পাবি পাবি পাঁচ হাজার --ও বাবা, ও বাবা, কবেন থ্যাকে আমুর জর ইয়েছে --ই রাম, এ বুড্ডি কে লিয়ে যা তো, উ ডাক্তার বাজার। আরে শুন, তুদের ই ঘর গুলান সব পাকা হবেক আলো পাবিক জল পাবিক আর পাবিক ভাত, শুধু চুপিচুপি গ্যায়ে মারবি ছাপ, ব্যাস আর কুচু চিন্তা নাই ঘুমাইয়ে ঘুমাইয়ে কাটাইবি মেয়ে বউ লিয়ে রাত। --আমুর বউ ম্যেয়ে লিয়ে গাছতলায় প্যরে থাকি তু বুলেছিলি ভোট দিলে দিবি পাঁচ হাজার… --কি বুললি ব্যাটা হাভাতে! কুবে বুলেছি ইসব! উ দ্যাক, ও দিকে তুর  ম্যায়ের লাগি আছে শরিল-বাজার।             -------------

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া

হুলোরাজ সুখে ছিল হুলো মেনি চারখানা ছানা একজন কুঁড়ে অতি কেজো তিনখানা। ভাই বোন রোজগার করে যাই আনত কুঁড়ে ভাই তার থেকে বেশিটাই টানত। মা বাবা বকে ঝকে          পাঠালেই বাইরে ছেলে ঠিক ঘুমোবার খুঁজে নেয় ঠাঁই রে। খেয়ে দেয়ে ঘুম দিয়ে ছোট্ট দেহটা ক্ষীণ মোটা থেকে মোটাতর হয়ে চলে দিন দিন। রোজগেরে ভাইবোন চোর বলে পরিচয় গেরস্ত দেয় হুড়ো খিল দেয় দরজায়। লাঠি হাতে করে তাড়া গাল দেয় ছোঁড়ে ঢিল ছিঁচকেমি সোজা নয় বড় হ্যাপা মুশকিল। ইঁদুরও তো কতবার থাবা থেকে ফস্কায় তার পিছু নিয়ে ধরা কী জ্বালা কী যে দায়! তার চেয়ে কুঁড়ে ভাই আছে তোফা বেশ তো ঘাড়ে বসে খেয়ে নেতা চালাবে সে দেশ তো!   ================ Sriparna Bandyopadhyay, Flat 3, Jagadish Apartment, 26 J. K. Chatterjee Road, Sodepur, Kolkata 700110 Mobile: 9007511457, 9331084639. Email: sriparna405@gmail.com প্রিয় নিরাশাহরণ, নতুন করে গদ্য পেরে উঠলাম না। এই ছড়াটি মনে হয় জুতসই হবে। শুভেচ্ছা  শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

নিসর্গ নির্যাসের কবিতা

      টোপ এক সামিয়ানার নীচে শত সারি পাত পড়ে জ্বলজ্বলে চোখে- পেট ভরা তৃপ্তি এক সাথে হাত চলে। সম্প্রীতি বা মিড্-ডে মিল না। ওরা শিকার। নানা রঙ- নানা তাঁবু। একই জমায়েত। ভোট হয়- সভা জমে ভুখা নিয়ে রাজনীতি ছকে।  ====================

সৌরভ ঘোষের কবিতা

একমুখী যুদ্ধ নুন আর চুন মিলে মিশে সাদাকার ফুটফাট শব্দ নিরাশ,  ক্লিন্ন হাহাকার... জড়ি পাড় রাত,ঝলমলে জামদানী পশমের সোয়েটারে মশা,লাল আম-আদমি...    যাপনের ক্ষেত, চাষির হাতে বে-হাল, ভুল করে কেটে ফেলে কুমির আনার খাল... বৃংহতি শালিকের ঠোঁটে জঙ্গী বিমান, লাইট হাউস ফাঁকা ফেলে রক্ষীর তীর্থ ভ্রমণ। গল্প ছাই অনু হয়ে বাতাসে উড়ছে,  ঢিলেমিতে প্রতিদিন প্রতিবাদ মরছে... নিজের নগরী নিজেই জিতেছে রাজা ক্যানেস্তারা পেটো,বিয়োগে মেলাও হাতে রাখো দুটো মজা। কানাকানি একেবারে নয়  বজায় থাকুক ট্রাডিশন কোটি কোটি ধৃত - রাষ্ট্র বাঁচুক...  জন্ম নিক শয়তান ...  সুদর্শন চক্র ছদ্দবেশে মেঘারোহী, খনিতে একমুখী যুদ্ধরীতি ...     ==================== Sourav Ghosh মুন্সিরহাট, হাওড়া

দেবপ্রসাদ মুখার্জীর কবিতা

ভোট পরব উদিন আমাদে গাঁয়ে হৈ হৈ পরব সিনামার ইস্টার আইছিল ভোট মাগত্যে আমাদে কাছে সাদা ফটফট্যা জামা , কপালে লাল টিক লিয়ে এলেক গোটা গাঁটা ঘুরলেক চালখুলা মটরে চাপেএ  আমার ব্যাটাটা বললেক  মা দ্যাখ দ্যাখ ই লোকটা সিদিন গুন্ডাগুলার কাছে মার খায়েও কমন পিটালেক ভিলেনটাকে , দুয়ারে দুয়ারে দাঁড়ায়ে ভোট মাগছিল ইস্টার বাবু  তারপর থেকয়ে আর আসেনাই কত কুড়ি দিন কাট্যে গেল উদিন থিক্যে ভোট পরব হল্য , ইস্টার ভোটে জিতলঅ , আমাদে জুয়ান ছিলাগুলা লাল মদ খায়ে রং মাখ্যে নাচলঅ , ঘরে ঘরে বাতাসা দিলঅ কদিন পরে সবাই ভুলয়ে গেল ভোটের পরব  শুধু ভুলিনাই মুই বাবলু সরেনের ভাতারখাগী মা দুলি সরেন , আমার কলের ব্যাটাট ভোট পরবের দিনেএ গুলি খায়ে মরেছিলঅ কুনু পাটি করতক নাই তাও মরেএ গেল ব্যাটাট ভোট পরবের দিনেএ ।

কান্তিলাল দাসের কবিতা

আমজনতা গেছেই বুঝে         চাইছে সবাই দেশের ভালো দশের ভালো করতে ভোটটি এলেই ভোটবাবুরা চলেন ভোটার ধরতে ! 'ও-দল বড় সাম্প্রদায়িক দাদা ওদের ভোটটি নয় আমরা হলাম আগমার্কা দাদা জানেন সে নিশ্চয় !' 'ওরা দাদা কী চোর কী চোর চিহ্নে ওদের দিলেই ছাপ জিতলে পরে সরকারি সব টাকা জানেন করবে গাপ !' 'ওদের দেখুন কি বিধায়ক কি সাংসদে গুছোচ্ছে কেমন ছিল কেমন হলো পাবলিকে সব কুঁচোচ্ছে !' যাচ্ছে চলে ভদ্রভাষা ইতর ভাষার আমদানি চক্ষুচড়ক আমজনতার হালে কী কেউ পাই পানি ! নেতার যত উস্কানিতে পাড়ায় পাড়ায় বিভেদ জোর আনবে ভালো বদল কে যে খুঁজতে হবে কম কে চোর ! গণতন্ত্র কাঁপছে ভয়ে কে দেবে আজ ঠাঁই আমায় যুদ্ধ চলে ছলে বলে রায় করা চাই ঠিক আদায় ! আমজনতা গেছেই বুঝে পাঁচটি বছর শুষবে যে ভোট দিয়ে তো আনব তাকে গদির পরে ফুঁসবে যে ! ................... কান্তিলাল দাস বেলতলা লেন (সাধুখাঁ মাঠ) ডাক : সিঙ্গুর জেলা : হুগলি

অসীম মাহাতর আঞ্চলিক কবিতা

    'পচার '                    বলি হেঁ গো নেপালের মাই  ঠিক তুখন কটা বইলব, তবে হঁ মাথার উপরে সূজ্জি ঠাকুর ছিল বইসে । হামি মাঠে কাম করইতে ছিলি  তদের গাঁয়ে হুর হুর গাড়ি ঢুইকলঅ , আর মাথায়-মুখে বাঁধা ছিল কাপড় দমে জোর জোর চেঁচাঁতে ছিল  বইলছে ধূর হাঁটাও-জিন্দাবাদ । কদাল ছাইড়ে ঘরের দিকে দিলি ছুঁইটে  বউ ছানাপুনাকে লুকাতে । ভাগ্যিস ভগবানের দয়ায় হামাদের দিকে,  যায় নাই বাছা । গেলে মনে হয় মইরেই যাথি গো । দূর বোকা হাড়াম, অরা অন্য কেউ লয়  তবে কারা বইঠল - ভোট মাঁইগতে অ্যাইসে ছিল  আমি ভাবলি পেছুরদিন ঘুইরে অ্যাইল । হরি হে তবেই বলে  টুকু লেখাপড়া শিখবি, ইস্কুল যাবি ।                 ----

অমিত পাটোয়ারীর কবিতা

      ভোট এরপর সবকিছু নিশ্চুপ হয়ে যাবে শঙ্খ লাগা অজগর দুটো কোলকাতার রাস্তাঘাটে ছুটবে বাধাবন্ধনহীন। ওদের পেটের মধ্যে ধরা যাক , শেষের দিকের কোনো জানালায় বসে আমরা লিফলেট নিয়ে বানাবো এরোপ্লেন। এরপর ময়দানে নিজস্ব তাঁবু টাঙিয়ে সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে পুলিশের তাড়া খাবো কেননা আমাদের ভুলে যাবার পারমিট নেই। মাঝরাতে পাড়ার মেয়েটাকে খালপাড়ে নগ্ন পাওয়া গেলে মুখ বুজে অপেক্ষা করবো। শেষদফা এবং ফলাফল বেরিয়ে গেলে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই! বেশ কিছু শ্মশানচুল্লি আগাম ফাঁকা রাখবো বেশ কিছু তুলো , ধুপ , সাদা ফুল... আমাদের কাকা , জ্যাঠা , ভেড়া পিসি , বিল্টু... সবাইকে নিয়ে চলে যাবো একটি নিবিড় নির্বাচনহীন স্যাংচুয়ারিতে। আমরা বনভোজন করবো ততদিন , যতদিন না ভারতবর্ষে শীতকাল আসে।

কোয়েলী ঘোষের কবিতা

ভোটযুদ্ধ সভ্যতার নিচে জমছে অন্ধকার আর ভয় জানি না এ যুদ্ধে কার জিৎ ,কার হবে জয় । হাওয়ায় হাওয়ায় খবর ওড়ে মিডিয়ায় ভোট যুদ্ধ আসে ,নিরীহের জীবন চলে যায় । অস্ত্র -শস্ত্র মজুত তাক করা বন্দুকের নল শক্তিমানের আছে দলবল আর বাহুবল । অ্যাসিডের জ্বালায় গলা বুক জ্বলে যায় শান্তিপূর্ণ ভোট , শুধু খবর বলে যায় --- দরজা জানলা এঁটে তাই ঘুমিয়েছে পাড়া ক্ষুদ্র স্বার্থ নিয়ে থাকে জাগে না আর তারা । দুর্দিন তবু বসে থাকে সুদিনের আশায় নির্ভয় কলম জাগে ভবিষ্যৎ ভাবনায় ।

মানবেশ মিদ্দার কবিতা

ভোট নিয়ে যা 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়' মাটির মানুষ কৃষক ভাই, চাষের কাজে টাকা চাই? ইঁটের পাকা বাড়ি পাবে, ছবি চীনে ভোটটা দেবে, ঋণ মুকুব, কৃষক ভাতা, সবই পাবে জুতো, ছাতা। দুখের দিন দেখবে কেমন ধুয়ে মুছে যায়, 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়।' লেবার মানুষ শ্রমিক ভাই স্বাস্থ্য বীমা তোমার চাই? কারখানার বন্ধ তালা ভোটের পরেই হবে খোলা, হিসেব নতুন, বেতন পাবে পুজোয় ডবল বোনাস দেবে। আমরা থাকি মাটির কাছে, মাটি ভোলা যায়? 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়।' দেশের যত টাকার খনি, গরীব মেরে মালিক ধনী। জীবন বিমায় চিটিং বাজি, জেলে যাবে সকল পাজি, ভোটের ভোগে নকুল দানা, মিলতে পারে মিষ্টি ছানা, সুখের দিন নয়তো দূরে, বেলা বয়ে যায়, 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার যায়।' সবার জন্য চাকরি আছে, এক্কেবারে ঘরের কাছে, অভাব কিছু থাকবে না আর সবাই পাবে সঠিক বিচার, জল আলো বাতাস দেবো, শুধু কেবল ভোটটা নেবো, আর তোমাদের কি চাই বলো, আমরা অপেক্ষায়, 'ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়।' চপের দোকান, চায়ের দোকান, করতে আছে লোনের যোগান, নাচের, গান...

চন্দন মিত্রর কবিতা

উলু-খাগড়ার ছড়া উলু এবং খাগড়া দুটি ভাই মানিকজোড়ের মতন ঘোরে ফেরে --- এমন মিল তুলনা যার নাই গাঁয়ের সবাই বলেন কণ্ঠ ছেড়ে হঠাৎ হল ভীষণ যুদ্ধ শুরু রাজায় রাজায় রাজ্য জয়ের লড়াই যোদ্ধা ছোটে বক্ষ দুরু দুরু জিতব আমরা করল মুখে বড়াই উলু এবং খাগড়া কৌতূহলে দেখতে গেল লড়াই মাঠের ধারে রাজার সেপাই যুদ্ধ জেতার ছলে কোপ বসাল দুইটি ভায়ের ঘাড়ে ... ===================== চন্দন মিত্র ভগবানপুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সূচক --- ৭৪৩৩৩১ চলভাষ --- ৯৩৩২৩৫৮৭৪৭   

সজল কুমার টিকাদারের কবিতা

ভোট চারিদিকে থম থম।শুধু ভারী বুটের আওয়াজ। দারিদ্র্য অধ্যুষিত। ছোট ছোট মাটির বাড়িরা প্রাণহীন। পোষ্যটা সকাল থেকে আম গাছটায়  শুকনো মুখে বাঁধা। রাজনৈতিক উত্তেজনায় গতকাল খুন--এক; রক্তের দাগ এখনও! নিতান্ত সাধারণ।খেটে খাওয়া। কিন্তু আগুন কি এই সব মানে? চারিদিকে তুমুল উত্তেজনা তখন বিন্নি ধানের খই... সকাল ঠেলে বেরিয়ে এসেছিল হতভাগা এই তপ্ত দুপুরের মাঝখানে। খুট করে একটা শব্দ। বুকে তিন ইঞ্চি গর্ত,  রক্ত... গতকাল ভোট ছিল এইখানে। ----------------------------------------------------------- সজল কুমার টিকাদার আরামবাগ,হুগলি পিন-৭১২৬০১. ফোন-৯৭৩২৮১৫৩৯৯.

মোনালিসা পাহাড়ীর আঞ্চলিক কবিতা

ভোট ভোট আইনে দিকে দিকে মিটিং মিছিল হয়, নেতামনে লম্বা চওড়া কত্ত কথা কয়। তুমার আমার সামনে দাঁড়ায় দুহাত জোড় করি, ভিখারি যমন ভিখ মাগে হাতে বাটি ধরি। তুমানেবিত গলি গেল, দিদিল সব ভোট, কত আশার স্বপ্ন দেখল হই কি এক জোট। দুঃখের দিন ঘুঁচি যাবে ঠকবনি আর মোটে, নতুন নেতা রাখবে কথা জিতনে এবার ভোটে। তারপর ত ভোট হিগেলা, জিতলা বি সৌ নেতা, বিশাল বড় পদ বি পাইলা হইলা কেউকেটা। বড় বড় গাড়ি চড়লা উড়িই রাস্তার ধুলা, মোন্নাকে আর চিনলানি ত , সব যেন ভুলভুলা। তুমানে রইল অন্ধকারে তাকে আলো দিকি, সে অখন চোখ রাঙায়টে অতীত ভুলিকি। অমনু সব বেইমানিয়ে ভরিচে গোটা দেশটা, কে জানে বাবু, কবে যে হবে, এ নৈরাজ্যের শেষটা!! ================================= মোনালিসা পাহাড়ী প্রযত্নে- চন্দন দাস মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭২১৪৫১ ফোন- 9635269527

সায়ন তরফদারের কবিতা

যারা ভোট দেয় আধার কার্ড নিজেকে চেনায় ভোটার কার্ড অধিকার কে নির্বাচন চেনায় শাসক। পাঁচটি বছর কেটে গেল আবার হবে নির্বাচন আসবে এবার কে? মুঘল নাকি অশোক? আবার হবে যুদ্ধ, মরবে হাজার মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে                   দাঁড়িয়ে মানুষ আবার ভোট দেবে। মিথ্যে প্রতিশ্রুতিকে সত্যি ভেবে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে                    মানুষ আবার বোকা হবে। ============================= SAYAN TARAFDAR (সায়ন তরফদার) Phone:- 9123079092                                           

দুলাল সুরের কবিতা

বন্ধুত্ব জিন্দাবাদ            বিবেক ও বরকতের সখ্যতা ভীষণ একই পাড়ায় থাকে একই আত্মার অভিন্ন হৃদয় গা শুদ্ধু লোক জানে। ভোটের বাদ্যি বাজলে পরে নেতাদের মনভোলানো প্রতিশ্রুতি'তে লোভ-লালসা, হিংসা-দ্বেষ, তর্কযুদ্ধে ওদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। বেকার আর থাকবে না কেউ নাম লেখাও প্রার্থীর সমর্থনে ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে নিশ্চিত তুমি চাকরী পাবে সর্বাগ্রে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কমবে মূল্য ঘরে ঘরে বিজলীবাতির জ্বলবে আলো ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাটে চলবে মোটরগাড়ি মানবের হিতার্থে নতুন সরকার সদা থাকবে প্রহরারত। ছলাকলা ও প্রলোভনের রণকৌশলে   বিবেক-বরকতের বিভেদ পৌছায় চরমে জেতানর জন্য জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করে ভিন্ন দলে নাম লিখিয়ে খাটে প্রার্থীর সমর্থনে । ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়ে, নেতারা সব নতুন সরকার গড়ে প্রতিশ্রুতি'র চাকরীর আশায় ওঁরা নেতাদের দোরে দোরে ঘোরে দিন যায়, বছর যায়, ক্রোধ, হতাশা গ্রাস করে চাকুরী তো দূর অস্ত, নেতারা ওদের চিনতে নাহি পারে । আশাহত হয়ে দুই বন্ধু ফের আসে কাছাকাছি নেতারা...

পল্লব দাসের কবিতা

ভোটার সময় এলো আর গেল কথাই দিয়েছে সবাই লোকারণ্য কমলে সব কথা হাওয়ায় । সামনে এসে গড়িয়ে পড়লে সান্ত্বনা দিয়ে খবর হয়েছে খাস কাজের কাজ হয় নি শহরজুড়ে ঝুলছে সব মাথা কাটা লাশ । সব বড় বড় কথা গণতান্ত্রিক অধিকার এসবে কিছু হবে না শুধু তৈরি হবে নতুন নতুন ভোটার ।                                

তপন কুমার মাজির কবিতা

   প্রতিবাদী কণ্ঠের বিষম ঘায়ে উপর ওয়ালার আস্কারায় গুণ্ডারা এসেছে প্রকাশ্য পথে, দস্তুরমতো সুরক্ষিত করা হয়েছে তাদেরকে অন্ধকার জগতে ! ভোট নামক লোকদেখানো একটি ব্যবস্থায় জনগণকে  বানানো হয়েছে বোকাযন্ত্র, প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো গড়ের মাঠে গড়াগড়ি খাবে  গণতন্ত্র...! অতীতে যেমন কেঁদেছিল সে অসহায়ে ভবিষ্যতেও কাঁদবে তেমনই, বুক চিতিয়ে করবে চিৎকার-- খবর নেওয়ার সময় হয়তো হবে না কারোরই ! গোবর-গনেশরা নাচবে-গাইবে  হবে মাতোয়ারা-- কালের কাকাতুয়ারা কোরাসে সুর মিলিয়ে  হবে আত্মহারা ! হাততালি দেবে দু'মুখো দোঁহারী, হাতকাটা ঠুঁটোরা বলবে বলিহারি... এমনিভাবেই আমাদেরকে মুখে কুলুপ দিয়ে দেখতে হবে  আরোও কতদিন  ঠিক জানে না এই মন, তবে নাকে দড়ি দিয়ে অন্ধকারবাসীকে একদিন  টেনে আনবেই আনবে প্রকাশ্য রাস্তায়,  সচেতন জনগণ  ক্ষমতার গর্বে গর্বিত মুকুটকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে, চাবুকরূপ প্রতিবাদী কণ্ঠের বিষম ঘায়ে...! ----------------------------------------------------- তপন কুমার মাজি কোর্টমোড়, আসানসোল ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ একলা  আজ আর কাছে আসে না কেউ  যারা কাছে ছিলো  তারা ছেড়ে গেছে  আকাশের মতো এখন একলা জীবন। বয়েস বেড়েছে  দৃষ্টি ক্ষীণ  যৌবনের রোদ নেই  এখন বসে বসে গুণি বার্ধক্যের দিন। উত্তাপ চায় মন  প্রিয়জনের একটু ছোঁয়া  শ্মশানে কারা লাশ বয়ে নিয়ে যায়  ভাবি আমিও লাশ হবো  ক'টা দিন পর। বিষাদ ভাবনায় খাঁ খাঁ করে ওঠে মন। অপেক্ষা কেউ নেই  অথচ কেউ কেউ থেকে যায়  মনের গোচরে  থেকে যায় অপেক্ষায়। আজ যার সাথে দ্যাখা  সে অপরিচিত  হৃদয়ে ধূপের সুবাস  কেউ থেকে যায় অপেক্ষায়। অনেক দিন পর কথা হলো  সবাই ফিরে এলো  মনের মানুষ ফিরে এলো না  এখন আর কেউ থাকে না অপেক্ষায়। শূন্য হৃদয়  মরে গিয়ে বেঁচে আছি তার অপেক্ষায়। হেঁটে যায় রোদ্দুর পায়ে পায়ে হাঁটে  পায়ে পায়ে হেঁটে যায় রোদ্দুর  দুপুর পোড়ে দাবদাহে  খরা কবিতায়। বিকেল আসে না  সন্ধ্যে নামে না  পাখিরা ফেরে না নীড়ে  তবু মনের নদী পেরিয়ে যায়  অচেনা ভূবন। শুকনো মরু বুক বরাবর  তেষ্টায় বিহবল ঠোঁট  ভুখাপেট পান করে চাঁদের ওলা...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...