Skip to main content

স্মৃতিকথা ।। ইনল্যান্ডলেটার থেকে ইন্টারনেট ।। সোমা চক্রবর্তী


স্মৃতিকথা: ইনল্যান্ডলেটার থেকে ইন্টারনেট

সোমা চক্রবর্তী


আমি তখন খুব বেশি হলে ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়ি। ভাই আরও ছোট। আমাদের বাড়িতে বাসন মাজার কাজ করত লক্ষ্মীদি। ছোটখাটো রোগা লক্ষ্মীদি নিজের ছোট ছোট দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে সকালে বিকেলে কাজ করতে আসত। লক্ষ্মীদির মেয়ে ছিল আমার সমবয়সী আর ছেলে ভাইয়ের বয়সী। মেয়েটির সঙ্গে আমি খেলাধুলা করতাম। ওর নাম মিঠু বা মিষ্টি এরকম কিছু ছিল। একদম সঠিক মনে পড়ছে না। লক্ষ্মীদি রোজই মায়ের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে তার বরের নামে নালিশ করত। চোখের জল ফেলত। ওর বর নাকি ভয়ঙ্কর কুঁড়ে লোক। কাজকর্ম কিছু করতে চায় না। সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে কাটায় আর মাসের শেষে লক্ষ্মীদি মাইনে পেলেই সেইসব টাকাপয়সা নিয়ে নেয়। রোজই এইসব কথা বলত লক্ষ্মীদি। তারপর আবার মায়ের দেওয়া খাবার দাবার যত্ন করে গুছিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেত। শুধু ছেলেমেয়ে নয়, ওর অলস অকর্মণ্য বরকে খাবারের ভাগ দিয়ে খাবে বলে। আমার মনে আছে, একদিন মা লক্ষ্মীদিকে বলেছিল, "আচ্ছা তোমার বরকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসো একদিন।" এর কয়েকদিন পর লক্ষ্মীদি বরকে সঙ্গে নিয়ে এল আমাদের বাড়ি। রোগা মত টাকমাথা ছোটখাটো চেহারার একজন লোক। চেককাটা লুঙ্গি আর শার্ট পরা। চোখে মুখে ধূর্ততার ছাপ। আমাদের বাড়িতে নুরুদার সেই প্রথম আসা। মা লোকটার সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে ওকে রাজি করিয়েছিল আমাদের বাগানটা পরিষ্কার করার কাজ করতে। সেই থেকে কয়েকমাস পর পর নুরুদা আমাদের বাড়ি কাজ করতে শুরু করল। পরে অবশ্য আমাদের পাশের বাড়ি, তারপর পাড়ার অনেক বাড়িতেই বাগানের কাজ করার জন্য ডাক পেত নুরুদা। আমরা যখন বেশ বড় হয়ে গেছি, তখন নুরুদা আর বাগান পরিষ্কার করে না। বাড়িতে বাড়িতে রঙের কাজ করে। তখন নুরুদা রীতিমতো করিতকর্মা লোক। লক্ষ্মীদিকে আর লোকের বাড়ি বাসন মাজার কাজ করতে হয় না। তবু চিরকাল নুরুদা মাঝে মাঝেই আমাদের বাড়িতে "কাকিমা" বলে রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়াত। কোন কাজ আছে কি না জিজ্ঞেস করত। আমাদের বাড়িতেও একবার রঙের কাজ করেছিল নুরুদা। কিন্তু সেসব তো অনেক পরের কথা।

শুরুতে ছুটির দিন দেখে নুরুদা যখন আমাদের বাড়ি কাজ করতে আসত, তখন কাজ করত কম, নারকেল কিম্বা আমগাছের ছায়ায় বসে বিড়ি ফুঁকত বেশি। মা রান্নাঘর থেকে লক্ষ্য করে বেরিয়ে এসে বকাবকি করত। বারবার করে চা বানিয়ে দিত। তখন নিতান্ত অনিচ্ছাসত্বে মুখে একরাশ বিরক্তি মাখিয়ে হাতটাত ঝেড়ে নুরুদা কাজ শুরু করত। আবার বেলা বারোটা বাজতে না বাজতেই কাঁচুমাচু মুখ করে উঠোনের এক কোণায় এসে দাঁড়াত। নীচু গলায় বলত, "কাকা, আজ তাহলে যাই?" এবার বাবার ফায়ার হবার পালা। সকালে দেরি করে এসে, দুপুরে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে দুদিনের কাজ পাঁচদিনে শেষ করত নুরুদা। আমাদের বাড়ির সীমানা ঘিরে তখন পাঁচিল ওঠেনি। কঞ্চির বেড়াঘেরা এক কামরার ছোট্ট বাড়িটা ছিল আমার কাছে স্বর্গরাজ্য। বর্ষার পর দূর্গাপূজার আগে আগে বছরে একবার পুরোনো পচে যাওয়া বেড়া ফেলে দিয়ে নতুন বেড়া বাঁধা হতো। নতুন বাঁশ এনে সেটা লম্বালম্বি চারফালি করে কেটে কঞ্চি তৈরি হতো। লম্বা হিলহিলে সেই কঞ্চিগুলো আড়াআড়ি করে খুঁটিতে বাঁধা হতো নতুন নারকেলের ছোবরার দড়ি দিয়ে। তারপর আরও পোক্ত করার জন্য ছোট ছোট পেরেক দিয়ে সেগুলো খুঁটির সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া হতো। সরু তার দিয়েও বেঁধে দেওয়া হতো যাতে খুলে পড়ে না যায়। অনেকটা প্যান্ডেল বাঁধার মতো আর কি! সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে যেত সম্পূর্ণ বেড়া বাঁধতে। তখনকার দিনে খুব কম লোকের বাড়িতেই ইটের পাঁচিল ছিল। সব পাড়াতেই হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র বাড়ি যারা অর্থ বা আভিজাত্যের পরিমাপে আলাদা, তারা ছাড়া বাকি সব বাড়িতে কঞ্চির বেড়াই সীমানা হিসেবে ব্যবহার হতো। আমি অবশ্য এখানে মফস্বলের কথাই এখানে বলছি। শহরের কথা একেবারেই আলাদা। 

গরমের ছুটিতে ট্রেনে করে মামাবাড়ি যাবার সময় স্টেশনে এসে যখন লাল রঙের রেল কোয়ার্টার্স ঘিরে সাদা রঙ করা লোহার বেড়াগুলো দেখতাম, তখন আমি মনে মনে ভাবতাম, "আমি যখন বড় হব, যখন চাকরি করব, তখন আমাদের বাড়িতে ওইরকম সাদা রঙ করা লোহার বেড়া লাগিয়ে দেব। আমাদের বাড়িটার রঙও হবে লাল। তখন আমাদের বাড়িটাও এইরকম সুন্দর দেখাবে। তখন প্রতিবছর আর পুরোনো বেড়া বদলে নতুন বেড়া লাগাতে হবে না। তখন ফাঁকিবাজ নুরুদাটা মহা জব্দ হবে।" ছোটবেলায় সীমানা হিসেবে আমার পাঁচিলের চাইতে বেড়াই বেশি ভালো লাগত। এখনও তাই লাগে। কখনও ভুলেও ভাবতে চাইতাম না যে, আমাদের বাড়িটা ঘিরে একদিন একটা ইটের পাঁচিল হবে। পাঁচিল যখন উঠল, তখন খুশির বদলে মনে মনে হয়তো একটু দুঃখই হয়েছিল আমার, চিরদিনের জন্য বেড়ার রোমাঞ্চ হারিয়ে গেল বলে। বসতভিটের সঙ্গে বেড়া দেওয়া ঘাসে ঢাকা একফালি জমি যেন আজকাল ধূসর একটা স্বপ্নের ছবি বলে মনে হয়। বেড়া ঘেরা বাড়িগুলো সব উধাও হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে উধাও  হয়েছে মায়াবী ছোটবেলাটা আর সরল ভাবনাগুলো।

যাই হোক, যে কথা বলছিলাম, বেড়া বাঁধা হয়ে গেলে বেড়ার গা ঘেঁষে লাগানো হতো বিভিন্ন রকমের গাছ। সবাইকে এক কথায় বলতে শুনতাম, "বেড়াগাছ"। আমরাও তাই বলতাম। তারপর একদিন তাদের নাম সংগ্রহে লেগে গেলাম। কিছু কিছু গাছের কতগুলো ডাকনাম ছিল। যেমন, যে গাছটা সবচেয়ে বেশি লাগানো হতো, সেই গাছটার নাম রাং চিতা। আমরা বলতাম বাঘের চোখ। গাছটা লম্বায় বেশি বড় হতো না। বেড়ার ঠিক পাশে পাশে ফাঁক রেখে রেখে কয়েকটা গাছ লাগিয়ে দিলেই অল্পদিনের মধ্যেই সমস্ত বেড়াটা ছেয়ে যেত গাঢ় সবুজ রাং চিতা গাছে। মোটা মোটা কালচে সবুজ রসালো পাতা। কালচে সবুজ রসালো কান্ড। একটা ডালের ওপর গোল করে ঘিরে ছোট ছোট অনেকগুলো লাল রঙের ফুল ফুটত। ফুলের পাপড়িগুলো সাধারণ ফুলের পাপড়ির মত ছড়িয়ে না থেকে গুটোনো বলে কেমন তিনকোণা আকারের। তাই ফুলগুলোকে আমার ঠিক মাছির মতো দেখতে লাগত। ওই ফুল থেকে আমরা মধু খেতাম। মোটা মোটা পাতাগুলো ছিঁড়ে নিয়ে ভাঁজ করলেই ভাঁজ বরাবর পাতাটা ফেটে যেত। তখন সাবধানে পাতার ফাটা জায়গাটা ফাঁক করলেই পাতার কষ দিয়ে ফাঁকা জায়গাটা ভরে গিয়ে একটা চোখের মত দেখতে লাগত। সেখানে সূর্যের সাতটা রঙ দেখা যেত। সেটাই ছিল আমাদের বাঘের চোখ। কে কত ভালো বাঘের চোখ বানাতে পারে, সেটা হয়ে উঠত একটা উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। এক একদিন বিকেলে সারাটা সময় শুধু বাঘের চোখ বানিয়েই আমাদের সময় কেটে যেত।

বেড়াগাছ হিসেবে আর একটা গাছটা খুব ব্যবহার করা হতো। তার নাম ঢোল কলমি। এই গাছগুলো মাঝারি লম্বা হয়। এই গাছের পাতাগুলো হালকা সবুজ রঙের আর পাতলা পাতলা। আকারে অনেকটা পান পাতার মতো। শুনেছি ঢোল কলমির পাতা তেতো হয় বলে নাকি গরু ছাগলে ওই গাছ খায় না। তাই বেড়ালতা হিসেবে খুব ভালো ব্যবহার করা যায়। ঢোল কলমির ফুলগুলো বেশ বড় বড়। দেখতে অনেকটা মাইকের চোঙের মতো। হালকা বেগুনি রঙের পাঁচটা পাপড়ি নিয়ে চারদিক আলো করে বেড়া ঘিরে ফুটে থাকত ফুলগুলো। দূর্গাপুজোর সময় শরতের সোনালী রোদ্দুরে কি অপূর্ব যে লাগত তা বলে বোঝানোর নয়। ফুলের ভেতরের রঙটা গাঢ় বেগুনী। ছোটবেলায় ফুলের ভেতরের ওই গাঢ় বেগুনী রঙ দেখে আমার মনে হতো, ফুলটার ভেতর থেকে যেন কোন রহস্যলোকের হাতছানি আসছে। মনে মনে আমি নিশ্চিত ছিলাম, ওই ফুলের ভেতরে পরীরা থাকে। কিম্বা পরীদের দেশে যাবার রাস্তা ওই ফুলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। পরীরা খুব ছোট্ট। ঠিক একটা ফড়িং কিম্বা প্রজাপতির মতো। হালকা আর ফুরফুরে পাখনা মেলে উড়ে উড়ে বেগুনি ফুল থেকে ওরা বেরিয়ে আসে। সারাদিন আলোয় আলোয় খেলে বেড়িয়ে সন্ধ্যা হলে ফুলের গাঢ় বেগুনী অভ্যন্তরে টুক করে ঢুকে যায়। কতদিন যে একদৃষ্টে ফুলগুলোরদিকে তাকিয়ে থাকতাম, তার ঠিক নেই। বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন আমি পরীর দেখা পাবই। সরল হবার একটা মজা হচ্ছে, চারপাশের পৃথিবীটাও সরল বলে মনে হয়। ছোটদের পৃথিবীটা তাই এত সুন্দর। ছোটরা যে কোন কিছু করতে পারে। কারণ, ছোটরা বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করতে পারে। ঢোল কলমি এখন আর প্রায় দেখাই যায় না। এই গাছ নাকি এখন প্রায় বিলুপ্ত। সেইসঙ্গে লুপ্ত আমাদের রূপকথা ভরা ছোটবেলা।

তেলাকুচার লতাও বেড়ে উঠত আমাদের বেড়ায়। হয়তো নিজে থেকেই হতো। তেলাকুচার ফুল সাদা রঙের আর কাঁচা ফলগুলো সবুজ। পেকে উঠলে সেগুলো লঙ্কার মত টুকটুকে লাল হয়ে যেত। এই গাছের কচি পাতা আর কাঁচা ফল খাবার জন্য নিয়ে যেত অনেকে এসে। ছোটবেলায় সবার মুখে শুনতাম, এই গাছের নাকি উপকারিতা অনেক। আমাদের বাগানে পান পাতার মতো দেখতে আর একরকম লতা দেখা যেত। বড় আমগাছটায়, লেবুগাছে ছেয়ে যেত। বাবা বলত, "এটা হল গুলঞ্চ। এর উপকারিতার সীমা নেই।" গুলঞ্চ লতা জন্মালে কখনও কেটে ফেলা হতো না। এই গাছে হলুদ ফুল আর সবুজ ফল হতো। পেকে গেলে এই ফলও লাল রঙের হয়ে যেত। একবার বড় আম গাছটা ছেয়ে গিয়েছিল ধুঁধুঁল বা ধুন্দলের লতায়। ধুন্দলকে কেউ আবার বলে পোরোল। ঠিক ঝিঙের মত দেখতে একটা ফল। ফলটা সবজি হিসেবে কাঁচা খাওয়া যায়। কিন্তু পাকলে তখন আর সেটা খাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ ফলটা শুকিয়ে ছোবরা হয়ে যায়। তখন তো আর স্নান করার জন্য সিন্থেটিক ছোবরা কিনতে পাওয়া যেত না। মুদির দোকানে ধুন্দলের ছোবরা, কেউ কেউ বলত ছোবা, সেটাই পাওয়া যেত। খোসাটা ছাড়িয়ে নিয়ে সেই ছোবরা ব্যবহার করা হতো। সেবার এত ধুন্দল হয়েছিল যে, আমগাছের পাতাগুলোই দেখা যাচ্ছিল না। তখন আমাদের বাড়িতে যেই আসত, সেই ফেরার সময় পাকা ধুন্দল সঙ্গে করে নিয়ে যেত। আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী বা বাড়িতে কাজ করতে আসত যারা, তারা সবাই। বাবার অফিসের কিম্বা মায়ের স্কুলের বন্ধুরাও বাদ যায়নি। সবাই আমাদের বাড়ি থেকে ধুন্দল নিতে আসত বলে আমি আর ভাই খুব মজা পেতাম। তারপর একদিন নুরুদা ধুন্দলের লতাটা কেটে ফেলে মুক্তি দিয়েছিল আম গাছটাকে।

 "কচার বেড়া" কথাটা শোনেনি এমন বাঙালি বোধহয় আমাদের সময় বিরল ছিল। এও একরকম বহু প্রচলিত বেড়া গাছ। আসল নাম ভেরেণ্ডা। অনেকে বলে ভেন্না। কোথাও বা বলা হয় রেড়ি। এর ইংরেজি নামটা আরও অদ্ভুত। সম্ভবত এর বীজ থেকে তেল তৈরি হয় বলেই হয়তো একে বলে castor-oil plant। বাংলা সাহিত্যে বহুবার বহু জায়গায় রেড়ির তেলের ('রেড়ির তেলের প্রদীপ' ইত্যাদি) যে উল্লেখ আছে, সেই রেড়ির তেল তৈরি হয় এই ভেরেণ্ডা গাছের ফলের বীজ থেকেই। যদিও বেড়া গাছ হিসেবেই এর পরিচিতি বেশি, কিন্তু এর পাতা আর ফলের অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। রেড়ির তেল নাকি ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। এই গাছের পাতাগুলো অনেকটা পেঁপে পাতার মত দেখতে। ফলগুলো কাঁটাওয়ালা। এত গুণ থাকা সত্বেও বাংলা প্রবচনে এর জায়গাটা একটু অবহেলা ভরা। কেউ কোন কাজ না করলে তাকে বলা হয় "বসে বসে কি ভেরেণ্ডা ভাজছিস" ইত্যাদি। গাছগুলো সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জানলাম, এই ভেরেণ্ডা বা ভেন্না বা কচা গাছও নাকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আমাদের বাড়িতে একটা অতসী ফুলের গাছ ছিল। অতসী গাছ সরু আর লম্বা হয়। লম্বা লম্বা নরম পাতাগুলোর ওপরের দিকের রঙ গাঢ় সবুজ আর নীচের দিকের রঙ হালকা সবুজ। এই গাছের ডালগুলোও সবুজ রঙের। ডালের আগায় হলুদ রঙের অতসী ফুল দেখতে ঠিক প্রজাপতির মত দেখায়। হয়তো অতসী ফুলের ভত গায়ের রঙ বলে দেবী দূর্গার এক নাম অতসী। এই গাছের ফলগুলো কাঁচা  অবস্থায় সবুজ। অনেকটা কড়াইশুঁটির মত দেখতে। শুকিয়ে গেলে সেগুলো কালচে হয়ে যায়। তখন সেগুলোকে নাড়ালে ঝুন ঝুন করে শব্দ হয়। ফুলগুলোতে চাপ দিলে ফুলের আগা থেকে ডিমের কুসুমের মত হলুদ রঙের পরাগ বেরিয়ে আসে। অতসী ফুলের আমদানি সম্ভবত ভারতের বাইরে থেকে। আজকাল আর এই গাছটাও দেখতে পাওয়া যায় না। সন্ধ্যাবেলায় ফোঁটা সন্ধ্যামালতী ফুলের গাছ থেকে কালো থানার মত বীজ সংগ্রহ করতাম কি পরম আগ্রহে! সন্ধ্যামালতী ফুলের গাছও আজকাল আর চোখে পড়ে না। আমাদের বাড়িতে গাঢ় গোলাপি রঙের নাইন ও ক্লক ফুটত ঠিক সকাল ন'টার সময়। এই প্রজাতির নাকি আরও গাছ আছে। কেউ সকাল চারটের সময় ফোটে। এদের একসাথে টাইম ও ক্লক বলে। তবে আমি শুধু নাইন ও ক্লকই দেখেছি। বাগান ভরে কাঞ্চন, হাস্নাহানা, গন্ধরাজ, কামিনি এই সবকটি ফুলই একসময় ফুটত আমাদের বাড়িতে। প্রত্যেকটা ফুলই সাদা রঙের হয় আর প্রত্যেক ফুলেরই গন্ধ অসাধারণ। কামিনি গাছটা এখনও আছে পাঁচিলের গা ঘেঁষে গেটের পাশে। অনেককেই বলতে শুনতাম, কামিনি ফুলের গন্ধে সাপ আসে। সাপ তার জিভের সাহায্যে গন্ধ বুঝতে পারে। ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে অনেক সাপও দেখেছি। কিন্তু কামিনি ফুলের গন্ধে সাপ এসেছিল কিনা সেটা আমি জানি না।

ক্লাস ওয়ানে আমাকে ভর্তি করা হয়েছিল পাড়ার প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল বসত বেলা এগারটায়। আমার স্কুলে যাবার সঙ্গী ছিল পাড়ার দুয়েকজন বন্ধু। আমরা সবাই একই ক্লাসে পড়তাম। বড় রাস্তা দিয়ে যেমন স্কুলে যাওয়া যেত, তেমনই পাড়ার ভেতর দিয়েও যাওয়া যেত। পাড়ার ভেতর দিয়ে একটু ঘুরপথ হতো, কিন্তু আমরা ওই পথই বেশি পছন্দ করতাম। পাড়ার ভেতরের পথগুলো ছিল জালের মতো। ঘুরে ফিরে একটার সঙ্গে আর একটার সংযোগ থাকত। আমরা মনের আনন্দে এ পথ ও পথ ঘুরতে ঘুরতে যেতাম আর আসতাম। আমাদের পাড়ার পেছনেই ছিল একটা বাঁশ বাগান। বাঁশ বাগানের ভেতর দিয়ে গেলে একটু তাড়াতাড়ি হতো। সবাই বলত, বাঁশ ঝাড়ের গোড়ায় সাপের বাসা থাকে। কেউ বলত, বাঁশ বাগানে ভূত থাকে। তখন সেই ভূতের গল্প হিসেবে পথের ওপর বাঁশ গাছ নুয়ে পড়ার গল্পটার খুব চল ছিল। কথাগুলো সব মনে মনে ঠিক বিশ্বাস করতাম না। আবার সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করতেও পারতাম না। সব মিলিয়ে দিনের বেলাতেই বাঁশ বাগান দিয়ে যেতে আমাদের একটু ভয় ভয় করত। কিন্তু তবু অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ওখান দিয়েই আমরা যেতাম। একবার এক গরমের ছুটির দুপুরে সত্যি সত্যিই বাঁশ গাছের গোড়ায় মস্ত বড় দুটো সাপ দেখেছিলাম। যারা দেখতে পেয়েছিল, তারা হই হই করে ছুটে আসছিল আর বলছিল, "সাপের শঙ্খ লেগেছে"। 

বাঁশতলাটা সবসময়ই খুব ঠাণ্ডা আর ছায়া ছায়া থাকত। ভেতরে দাঁতনের ঘন ঝোপ আর বিছুটির জঙ্গল ছিল। মাঝখান দিয়ে সরু পায়ে চলা পথ। বিছুটি পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। গাছটার পাতার ওপরনীচ আর সমস্ত ডালপালা সব জায়গা অত্যন্ত সূক্ষ্ম রোমে ঢাকা। ঠিক শুঁয়োপোকার মত। হাতের পাতা ছাড়া গায়ের আর যে কোন অংশে বিছুটি পাতার স্পর্শ লাগলেই সেখানে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। তারপর জ্বালা করে জায়গাটা ফুলে ওঠে। দুষ্টুমি করে বা শত্রুতা করে ওই পাতা গায়ে লাগিয়ে দিলেই হয়েছে আর কি! বিছুটি পাতাকে আবার ছোতরা পাতা বা চোতরা পাতাও বলে অনেকে। আপাতভাবে বিপজ্জনক এই পাতারও নাকি অনেক ওষধিগুণ রয়েছে। অবশ্য আমাদের দেশের প্রায় সব গাছপালারই কিছু না কিছু গুণ রয়েছে বলে পড়েছি। বিশেষ করে লতা আর গুল্ম জাতীয় গাছ। দাঁতনের যে ভালো নাম আশশেওড়া, সে কথা তখন আমরা জানতাম না। দাঁতনকে কেউ কেউ আবার বলে মটকিলা। দাঁতনের ডাল থেকে ছোট একটা টুকরো কেটে নিয়ে তার একপাশটা দাঁত দিয়ে চিবিয়ে ছিবড়া বানিয়ে নিয়ে তাই দিয়ে লোকে দাঁত মাজত। ওই জিনিসটাকেই বলা হয় দাঁতন। আর ওটা দিয়ে দাঁত মাজাকে বলে দাঁতন করা। গ্রামগঞ্জে নিমের ডালকেও লোকে দাঁতন হিসেবে ব্যবহার করত। মনে হয় সেই জন্যই আশশেওড়া গাছের ডাকনাম দাঁতন হয়ে গেছে। ছোটবেলায় আমিও কয়েকবার মেজে দেখেছি। কিন্তু আমাদের কাছে দাঁতনের মাহাত্ম্য ছিল সম্পূর্ণ অন্য কারণে। দাঁতন পাতা ছিল বিছুটি পাতার প্রতিষেধক। একেবারে অব্যর্থ ওষুধ। কোথাও বিছুটি পাতা লেগে গিয়ে জ্বালা করলে সেখানে খানিকটা দাঁতন পাতা থেতো করে তার রসটা লাগিয়ে দিলেই জ্বালা কমে যাবে। খেলাধুলা করতে ঝোপজঙ্গলে গিয়ে বিছুটি পাতা হাতে পায়ে লেগে যাওয়া ছিল আমাদের রোজকার ঘটনা। তাই দাঁতন আমাদের কাছে খুবই আদরের গাছ ছিল। দাঁতনের ফলগুলো দেখতে হতো ঠিক ছোট ছোট টমেটোর মতো। একটা ডালের আগায় একথোকা গুড়ি গুড়ি ফল হতো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ রঙের কিন্তু পাকা ফলগুলো গোলাপি থেকে ক্রমশ লাল রঙের হয়ে উঠত। আমাদের রান্নাবাটি খেলার সময় দাঁতনের ফল হতো আমাদের খেলার রান্নাঘরের টমেটো।

বাড়ি থেকে স্কুল আবার স্কুল থেকে বাড়ি। এইটুকুই ছিল সেসময় আমার গোটা জগত। তাই যতটা সম্ভব সেই জগতটাকে বাড়িয়ে তুলতাম আজ এই রাস্তা কাল ওই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে। পথের ধারে ধারে সবুজ ঝোপজঙ্গল। বিছুটি, দাঁতন ছাড়াও সেখানে রয়েছে শিয়ালকাঁটার ঝোপ। উঁকি মারছে হাতিশুঁড়ের আগা। সেই ঝোপে ধুতরা আকন্দ আর ভাঁটফুলের ঠেসাঠেসি। ভাঁটফুলের আর একটা প্রচলিত নাম ঘেঁটু। শেষের তিনটে ফুলের নামের সঙ্গে অনেকেই হয়তো পরিচিত। কারণ এই ফুল শিব ঠাকুরের খুব পছন্দ। শুনেছি শিবরাত্রির দিন এই জংলা ফুলগুলোর দামই হয়ে যায় আকাশছোঁয়া। আমরা ছোটবেলায় ঝোপঝাড় ভরে থাকতে দেখতাম এইসব ফুলে। হাতিশুঁড় পাতা অনেকটাই বিছুটি পাতার মতো দেখতে। তবে এদের রোম থেকে চুলকানি হয় না। গাছের প্রত্যেকটা ডাল নরম আর সবুজ। সোজাসুজি অনেকটা উঠে আগার কাছটায় বেঁকে গিয়ে ঠিক যেন হাতির শুঁড়ের মতো দেখায়। বাাঁকানো অংশটায় অনেকগুলো ছোট ছোট সাদা বা হালকা বেগুনি ফুল ফোটে। দেখতে ভারি সুন্দর হলেও এই গাছের পাতায় একটা উটকো গন্ধ আছে। শিয়ালকাঁটা ফুলগুলো হলুদ রঙের। হালকা ফুরফুরে পাপড়ি। পাতাগুলোর প্রত্যেকটা আগায় কাঁটা থাকে। সবুজ রঙের ফলগুলোও কাঁটাওয়ালা। এই ফুলের বৃন্ত বা বোঁটা নেই। দেখে মনে হয় ফুলটা যেন সরাসরি একটা পাতার ঝুড়িতে বসানো। একবার উঁচু ক্লাসের একটা ছেলে দুষ্টুমি করে একটা শিয়ালকাঁটা ফল একটা মেয়ের লম্বা চুলে লাগিয়ে দিয়েছিল বলে হেড মাস্টারমশাই ছেলেটাকে সকলের সামনে বেত দিয়ে প্রচণ্ড মেরেছিলেন। আমরা শিয়ালকাঁটা ফুল তুলে তার এক একটা পাপড়িতে জোরে ফুঁ দিতাম। শিসের মতো একটা তীক্ষ্ম শব্দ বের হতো। তখন কেই বা জানতো যে মহাশয়দের আমদানি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো থেকে। এই গাছেরও নাকি গুণ অসীম।

মাঠেঘাটে, রাস্তার পাশে পাশে আর একরকম ঝুপসি গাছ দেখতে পেতাম ছোটবেলায়। কেমন বুনো বুনো একটা গন্ধ পাওয়া যেত গাছ আর পাতা থেকে। কিন্তু গন্ধটা নাকে এলে বেশ ভালো লাগত। কেমন সতেজ ভাব ছিল গন্ধটায়। পাতাগুলো বেশ বড় বড় আর কালচে সবুজ রঙের। গাছটাতে সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল ফুটত। প্রথম অবস্থায় ফুলগুলো ঠিক ফুলকপির মত দেখতে লাগত। আমাদের খেলাঘরের রান্নায় ওই ফুল তুলে নিয়ে এসে আমরা ফুলকপি বানিয়ে রান্না করতাম। কিন্তু কিছুদিন পর যখন সমস্ত পাপড়ি মেলে সম্পূর্ণ ফুটে যেত ফুলগুলো, তখন আর ওদের ফুলকপির মত দেখাত না। একসময় চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেল সেইসব আগাছা বুনোফুলের দল। খুঁজতে খুঁজতে অনেক পরে জেনেছি যে ওই গাছের নাম বন মটমটিয়া। সবুজ ঝোপ ভরে আর একরকম বিন্দু বিন্দু সাদা কি যেন ফুল ফুটে থাকত। তার নাম পার্থেনিয়াম তাও তখন জানতাম না। পুটুসের ঝোপ তো অনেক দেখেছি। পাড়ায়, রাস্তার ধারে, ট্রেনে করে যেতে যেতে। হালকা বেগুনি, লাল আর হলুদ ছোট ছোট থোকা থোকা ফুলগুলোর কি বাহার! সত্যিই কি রূপে তারা গোলাপ বা রজনীগন্ধার সমকক্ষ নয়? আর গুণের কথা আজ না হয় বাকিই থেকে যাক। বিভূতিভূষণ কিম্বা বুদ্ধদেব গুহ তখনও পড়িনি। তবু ওই নাম না জানা ফুলেরা ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকে আজও উজ্জ্বল করে রেখেছে।

ঝোপে জঙ্গলে কালচে সবুজ পাতা আর হাঁটু পর্যন্ত ঝুপসি গাছের ডালগুলো ভরে বেগুনি রঙের বনফুল ফুটে থাকতে ছোটবেলায় অনেকেই দেখেছে। ফুলগুলো অনেকটা কলকে ফুলের আকারের। বেগুনি রঙের পাপড়ি গুলো খুব পাতলা আর ফুলের একদম ভেতরটায় গাঢ় নীল রঙ। গাছটার বেশিরভাগ পাতাগুলোই সবসময় পোকায় খাওয়া থাকত। সেই ফুলের নাম নাকি পটপটি ফুল। এর আদি নিবাসও দক্ষিণ আমেরিকা। আমরা এই গাছকেও আগাছা বলেই জানি। কিন্তু এই গাছের শিকড় নাকি মূত্রনালীর পাথর অপসারণে কাজে লাগে। আর এক ধরনের জংলা গাছ ঝোপঝাড়ে খুব দেখতাম ছোটবেলায়। পাতাগুলো খানিকটা লম্বাটে আর পাতার চারধারটা ছোট ছোট খাঁজ কাটা। এই গাছের ডাল আর পাতারা খুব নরম আর পাতায় ঝাঁঝালো গন্ধ। একটা লম্বা মঞ্জরীতে পাতা আর ফুল খাঁজে খাঁজে সাজানো থাকে। কালচে সবুজ রঙের পাতার ফাঁকে ফাঁকে গাঢ় বেগুনি রঙের ছোট ছোট ফুল। এই ফুলের নাম গোবুরা। এই ফুলে মধু হয়। মঞ্জরীর সবুজ ফলের মত জিনিসগুলোয় বীজ থাকে। এই গাছেরও অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। তবে এখন আর এই গাছ দেখা যায় কিনা জানি না। বাসক, তুলসী, থানকুনি, কুলেখাড়া এইসব গাছের উপকারিতার কথা কে না জানে! যাদেরই বাড়িতে একটুখানি জমি থাকত,  তাদেরই বাড়িতে এইসব গাছ বেশিরভাগ সময় থাকত। আমাদের বাগানেও এই সব গাছ একদিন অনেক পরিমাণে হতো। আমরা খেতাম। লোকজন এসে নিয়েও যেত। বাসক পাতার একটা গাছ আমাদের বাড়িতে কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিল। এই গাছের পাতা দেখতে খানিকটা আমপাতার মতোই লম্বা লম্বা তবে আমপাতার চেয়ে অনেক পাতলা। সাদা সাদা ছোট ছোট ফুল ফোটে। বাসক পাতা সর্দিকাশির অব্যর্থ ওষুধ। গাছটা যতদিন পর্যন্ত ছিল, আমরা ছাড়া আশেপাশের অনেকে, এমনকি পথচলতি অজানা মানুষ এসেও বাসক পাতা চেয়ে নিয়ে যেত। ছোটবেলায় দেখা আগাছা গাছের সন্ধান করতে গিয়ে চকচকে উজ্জ্বল সবুজ রঙের পানপাতার আকারের খুব ছোট লতা লুচি পাতা গাছের একখানা গালভরা নাম পেলাম- পেপেরোমিয়া। এই গাছ নাকি শাক হিসেবে খাওয়া যায় আর এর ভেষজগুণও অবাক করার মত।

আমার মামাবাড়ির ঠিক পাশে একটা মস্ত বড় পুকুর ছিল। ছুটিতে মামাবাড়ি গিয়ে যখন থাকতাম, দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেতাম একদল হাঁস সারাদিন ধরে নিশ্চিন্ত হয়ে সাঁতার কেটে চলেছে। আমার সেজো মামা ছুটির দিনে ওখানে স্নান করতে যেত। খুব ভালো সাঁতার কাটত সেজো মামা। আমার মা আর মামামাসিরা সবাই সাঁতার কাটতে জানে। ওই পুকুরেই নাকি শিখেছে। আমি আর আমার সমবয়সী মামতুতো বোন পুকুরপাড়ে বসে অবাক হয়ে মামার সাঁতার কাটা দেখতাম। ওই পুকুরটার ধারে ধারে ছিল কলাবতী ফুলের গাছ। গাছ না বলে ঝোপ বলাই বোধহয় ভালো। আগুন রঙা লাল আর হলুদ কমলা অনেকরকম রঙ হয় ফুলের। পাতাগুলো বড় বড়। অনেকটা কলাপাতার মতই দেখতে। সেই সময় থেকেই কলাবতী ফুল আমার ভীষণ ভালো লাগে। তখন অনেক পুকুরের ধার ঘেঁষেই কলাবতীর ঝোপ হয়ে থাকত। আজকাল পুকুরই দেখা যায় না। আর কচিৎ কদাচিৎ দেখা গেলেও তাতে টলটলে জল কই? আর কলাবতীর ঝোপ? তার তো প্রশ্নই নেই। কে জানে, তারাও আজ বিলুপ্তির পথে কি না! পিসির বাড়ি যাবার পথে বাজারের পরই টাকী রোডের ওপর সুটী নদী। অতীতে নাকি এই নদীর আসল নাম ছিল সুবর্ণবতী। তার ওপর সেতু।  নদী এখন মজে গিয়ে প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু স্থানীয় ইতিহাসের নিরিখে একটা সময় এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যাই হোক, এখানে এখন আর সেই গল্প নয়। সুযোগ পেলে অন্য কোন সময় না হয় সেই গল্প হবে। বাবার সঙ্গে বাজারে গিয়ে প্রতি রবিবার আমরা পিসির বাড়ি চলে যেতাম। সুটী নদীতে এখন আর একটুও জল না থাকলেও তখন সামান্য জল ছিল। তার মধ্যেই ভরে থাকত কচুরিপানা। আসা যাওয়ার পথে আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে সেই দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আজও কচুরিপানা ফুল আমার ভীষণ ভালো লাগে। একবার আমার সেই অপার মুগ্ধতা দেখে বাবা আমাকে রাস্তার ওপর দাঁড়াতে বলে তরতর করে নেমে গিয়েছিল ঢালু পাড় বেয়ে। একটা কচুরিপানা ফুল খুব যত্ন করে তুলে এনে আমার হাতে দিয়েছিল। আমি সেদিন কত যে খুশি হয়েছিলাম, তা বলে বোঝাবার নয়। সারাদিন ধরে আলতো ভাবে ফুলটাকে ধরে আছি। হালকা বেগুনী থোকা একখানা ফুল। প্রত্যেকটা ফুলের একখানা করে পাপড়িতে গাঢ় বেগুনি রঙের ভেতর একটা করে হলুদ ছোপ। অনেকটা ময়ূরের পাখার মত। ফুলটায় খুব মৃদু জলজ গন্ধ। আমাকে দেখাবার জন্য বাবা ফুলের সঙ্গে দুটো সবুজ পাতাও তুলে এনেছিল। পাতাগুলো মোটা ফোলা ফোলা আর তেলতেলে। উঁচু ক্লাসে বিজ্ঞান পড়ার সময় কচুরিপানা নিয়ে আরও জেনেছিলাম। কিন্তু তথ্য বাদ দিয়ে শুধু ওর রূপটাই আমার মনকে ভরে রেখেছে। কোন এক ব্রাজিলের পর্যটক নাকি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কচুরিপানাকে এ দেশে নিয়ে এসেছিল। পড়ে আমি ভেবেছি, সেও হয়তো ঠিক আমারই মত এই ফুলটাকে ভালোবেসেছিল। কচুরিপানা পুকুরে জন্মালে পুকুরের জল নষ্ট হয়। এটা একটা জলজ আগাছা- এই কথা জেনেই অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু কচুরিপানার সত্যিই অনেক গুণ। পৃথিবীতে যত লতা আর গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে, তার মধ্যে ওষধি গুণ নেই এমন উদ্ভিদ বোধহয় বিরল।

আমাদের বাড়ির পাশে বিশাল একটা মাঠ ছিল। মাঠের শেষ প্রান্তে একটা ভাঙা পাঁচিল। তার ওপাশে ছিল একটা বিশাল বাগান। ফুলের বাগান নয়। ফলের বাগান। সবাই বলত মালির বাগান। কেন বলত, কেই বা সেই মালি আমি জানতে পারিনি কখনও। তবে এটুকু জানতাম যে, চেনাজানা এমন কোন ফল নেই যেই গাছ ওই বাগানে ছিল না। আম জাম কাঁঠাল জামরুল এইসব অতি পরিচিত ফলের গাছগুলো তো ছিলই। তাছাড়াও ফলসা কুল করমচা কামরাঙা বৈঁচি আতা তাল আরও অনেক রকমের গাছ ছিল। বাগানটার পাঁচিল বেশিরভাগ জায়গাতেই ভাঙা ছিল। ভেতরে গেলে কেউ নিষেধও করত না। পাশের পাড়া থেকে অনেক ছেলেমেয়েরা এসে ফল পাকুড় নিয়ে যেত। কিন্তু বাড়ির কড়া শাসনের জন্য আমি কখনই যাইনি। শুধু একবার কেন যেন ভাইবোনেরা মিলে ভাঙা পাঁচিল টপকে ওই বাগানের মধ্যের পথটা দিয়ে কোথাও গিয়েছিলাম। একটা মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আমার পিসতুতো দিদি বলেছিল, "পাকা আতার গন্ধ"। বাজার থেকে বাড়িতে পাকা আতা তো কতবার আনা হয়েছে। কিন্তু সেই আতায় ওইরকম গন্ধ কখনও পাইনি।

পিসির বাড়িতে একটা ফলসা গাছ ছিল। ফলসা গাছে হলুদ হলুদ ছোট ছোট ফুল ফুটত আর করমচার মত ছোট ছোট ফল। গরমকালে ফলসায় ভরে যেত গাছের ডালগুলো। ফলসা কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাকলে কালচে বেগুনি রঙের হতো। ফলসা গাছের ডাল খুব সরু। ওই গাছে ওঠা যায় না। পাকা ফলগুলো উঁচু ডালে ঝুলত। গাছটা ঝাঁকা দিলে টুপটাপ করে মাটিতে পড়ত। আমরা কুড়িয়ে নিয়ে খেতাম। পাকা ফলসা খেতে অপূর্ব। পিসিরা ওই বাড়িটা বিক্রি করে আমাদের পাড়ায় চলে এসেছিল। সেই থেকে এই পর্যন্ত আর ফলসা খাওয়া হয়নি আমার। জানি না, আমাদের এখানে ফলসা গাছ এখন আর আছে কি না! সম্ভবত বাজারেও খুব একটা ফলসা পাওয়া যায় না। কুলের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। আমাদের বাড়িতে বেশ কয়েকটা কুল গাছ ছিল। টোপা কুল আর নারকেলি কুল। এখনকার দিনে অবশ্য শীতকালে সরস্বতী পূজার আশেপাশে বাজারে কুল পাওয়া যায়। কিন্তু সেই কুলের মধ্যে ছোটবেলার কুলের সেই টক মিষ্টি স্বাদটা পাওয়া যায় না। মনে মনে একটা ছবি ভেসে ওঠে, পড়ন্ত বিকেলে পায়ে এক হাঁটু ধুলো মেখে একদল ছেলেমেয়ে ঝোপঝাড় অথবা মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছে। প্রত্যেকের বাঁ হাতের চেটোয় খানিকটা নুন আর ডান হাতে আর জামার পকেট বোঝাই করা কাঁচাপাকা কুল। সবার মাথার চুল এলোমেলো। খেলতে খেলতে সবাই ক্লান্ত। কুল খেয়ে খেয়ে দাঁত টকে গেছে তবু প্রাণে ধরে বাদবাকি কুলগুলো না পারছে ফেলে দিতে, না পারছে কাউকে দিয়ে দিতে। পাড়ার একমাত্র পুকুরটা ছিল সমাদ্দারবাড়ির। নিতাই খুড়ো পুকুরটার দেখাশোনা করত। পুকুরের চারদিকে অনেক কুল গাছ। একটা করমচা গাছও ছিল। কিন্তু খুড়োর ভয়ে কোন বাচ্চার সাহস ছিল না সেই সব গাছে হাত দেবার। এখন আর কুল, করমচা বা কামরাঙা গাছ কোথাও দেখতে পাই না। বাজারে অবশ্য মাঝে মাঝে কামরাঙার দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু ফলসা বা করমচা দেখিনি আমি।


আমরা ছোটবেলায় কচুপাতা দিয়ে প্রজাপ্রতি আর ফড়িং ধরতাম। দুহাতে দুটো কচুপাতা নিয়ে চুপি চুপি কাছে গিয়ে খপ করে ফুলের ওপর বসে থাকা প্রজাপিকে ধরে ফেলতাম। একটু কাছ থেকে দেখে আবার উড়িয়ে দিতাম। অনেকে আবার খালি হাতেও প্রজাপতি বা ফড়িং এর পাখনাটা ধরে ফেলত। আমিও একবার দুবার ধরে দেখেছি। ভালো লাগেনি। প্রজাপতি হাতে ধরলে হাতের আঙুলে ওর পাখনার গুঁড়ো গুঁড়ো রঙ লেগে যায়। সেই রঙ অতসী ফুলের রেণুর মতো নরম কিম্বা পাউডারের মত। অনেক ছেলেমেয়ে ফড়িং ধরে তার লেজে সেলাই করার সুতো বেঁধে নিজের সঙ্গে নিয়ে ঘুরত। এই জিনিসটাও আমার ভালো লাগত না। আমি কখনও কোন প্রাণীকে বন্দী করে ধরে রাখতে চাইনি। রাখিওনি। এই খেলায় বেশিরভাগ সময়ই ফড়িংটার ক্ষতি হতো। কিন্তু যারা করত তারা সেটা বুঝতে চাইত না। ছোটরা অনেক সময় অনেককিছু বোঝে না। বুঝতে চায় না। তাই কখনও কখনও ছোটদের খেলাধুলা তাদের অজান্তেই নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়ায়। এটাও সেইরকম একটা খেলা ছিল। আজ ফেলে আসা সবকিছুর কথা বলতে বসেছি। তাই এই কথাটাও উল্লেখ করলাম। 

আমাদের ছোটবেলায় দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। আমরা সবাই জানি, রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত যাবতীয় চিঠিপত্র এখন বিশ্ববিখ্যাত পত্রসাহিত্য। ফলে সবসময়ই চিঠি সমসাময়িক  একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। চিঠি লেখা হতো খামে, পোস্টকার্ডে কিম্বা ইনল্যান্ডলেটারে। খামের চিঠি আলাদা কাগজে লিখে, খামের ওপর ঠিকানা লিখে ডাকটিকিট লাগিয়ে ডাকে ফেলতে হতো। খামের চিঠি ছিল সবচেয়ে রোমাঞ্চকর। যত ইচ্ছে ততটাই লেখা যায়। খুব ভারিক্কি আর ব্যক্তিগত। তখনকার দিনে পোস্টকার্ড ছিল হলুদ রঙের একটা মোটা কাগজ। তার একপিঠে লেখার জায়গা। অন্য পিঠের অর্ধেকটা ফাঁকা। বাকি অর্ধেক ঠিকানা লেখার জায়গা। সেইখানে তিনটে লাইন টানা আর ওপরে একটা বাঘের ছবি। বাঘের ছবিটা হল ডাকটিকিটের পরিপূরক। পোস্টকার্ড একেবারে খোলামেলা জিনিস। পিওন থেকে পোস্টমাস্টার- যে কেউ চাইলে সেই চিঠিতে চোখ বোলাতে পারে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো ইনল্যান্ডলেটার। নীল রঙের তিন ভাঁজ করা পাতলা কাগজ। নামেই শাসিয়ে রেখেছে, দেশের ভেতরের জন্য। দেশের বাইরে যারা থাকেন, তাদের জন্য এয়ার মেলের সাদা খাম। চারপাশে লাল আর নীল দাগ দেওয়া। এই ইনল্যান্ডলেটার ছিল মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। অর্থাৎ পোস্টকার্ডের থেকে বেশি লেখা গেলেও অপর্যাপ্ত জায়গা নেই। আবার ভাঁজ করে আঠা লাগিয়ে দেবার ফলে বেশ গোপনীয়তা রইল। তা যে চিঠিতে গোপনীয়তা নেই, তা আবার চিঠি নাকি? যেই লিখুক আর যাই লেখা থাকুক, চিঠি মানেই গোপন, ব্যক্তিগত, নিজস্ব।

আমার প্রথম চিঠি লেখার শুরু আত্মীয়স্বজনকে চিঠি লেখা দিয়ে। খুব ছোটবেলা থেকেই দাদু-দিদা, বড়মামা আর মামী, আমার সমবয়সী মাসতুতো বোনের সঙ্গে চিঠির আদানপ্রদান চলত। আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে লিখতাম আর উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকতাম। ছোটবেলার সঙ্গীদের মধ্যে আমার এক জেঠতুতো দাদা যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে জলপাইগুড়ি গেল, আর কিছুদিন পর পাশের বাড়িতে থাকা পিসতুতো দিদি বিয়ে হয়ে ভুবনেশ্বর চলে গেল, তখন আমিও একটু বড়। ওদের সঙ্গে সারাবছর ধারাবাহিক ভাবে চিঠির আদানপ্রদান চলত। এখানকার কথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ওদের জানানো আর ওদের ওখানকার কথা শুনবার ছিল অপরিসীম অপেক্ষা। মনে আছে, একবার টিভিতে একটা পুরষ্কারপ্রাপ্ত ছবি "গরম ভাত" এক রবিবার টেলিকাস্ট হয়েছিল। দাদা তখন হস্টেলে। সেই ছবি হস্টেলের কমন রুমের টিভিতে দেখে চিঠিতে আমাকে লিখেছিল, "ঘি আর লবনের অভাবে গরম ভাত নিতান্তই পানসে লাগল"। সেই সব দিনগুলোতে ওইসব চিঠিও প্রায় শিল্পের পর্যায়েই উঠেছিল। কারণ আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতাম চিঠিটাকে সুন্দর করতে। আমাদের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সাহিত্য নিদর্শনটা চিঠিতে তুলে ধরতে। 

আজকাল ইন্টারনেটের জাদুতে একজনের কথা নিমেষের মধ্যে আর একজনের কাছে পৌঁছে যায়। ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার তার ওপর ফেসবুক, বিভিন্নরকমের ভিডিও কল সবকিছু মিলিয়ে যেন পৃথিবীটাকে খুব কাছাকাছি এনে ফেলেছে। খবর আদানপ্রদান এখন আর কোন সমস্যা নয়। কিন্তু এইসবকিছুর মধ্যে কখন যেন হারিয়ে গেছে 'অপেক্ষা করা'। আজকের পৃথিবীতে কেউ কারোর জন্য আর অপেক্ষায় থাকে না। কেউ কাউকে চিঠিতে লেখে না, "তোমার আসার অপেক্ষায় রইলাম"। টেলিফোনে অধীর হয়ে কেউ জিজ্ঞেস করে না, "তোরা কবে আসবি রে?" হয়তো যা হয়েছে, সবকিছু ভালোই হয়েছে। ডি এন এ টেস্ট আবিষ্কার হওয়ার ফলে একশো বছর আগেকার জ্যাক দ্য রিপারের রহস্যভেদ হয়েছে। দ্রুতগামী মহাকাশযান আবিষ্কার হওয়ার ফলে মানুষ মঙ্গলে পাড়ি জমিয়েছে আর মাত্র ৪৬ বছরে ভয়েজার ১ পার করে ফেলেছে পৃথিবী থেকে ২৩.৮ বিলিয়ন কিলোমিটার পথ। আমরাও এই একটা জীবনে একসঙ্গে অনেকটা জীবন যাপন করে নিলাম। দিন বদলের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলাতে দেখলাম। আমরাও তো বদলেছি অনেকটাই। হ্যারিকেন থেকে ইলেকট্রিক আলো, রিকসা থেকে এরোপ্লেন, তেলাকুচা থেকে জ্যাকারান্ডা আর ইনল্যান্ডলেটার থেকে ইন্টারনেট! প্রত্যেক বছর ১৮ই এপ্রিল বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। ঐতিহ্য বলতে আমরা বুঝি আমাদের পুরোনোদিনের বনেদি আর মূল্যবান জিনিস অথবা পরম্পরা। আমাদের ফেলে আসা দিনগুলিও তো সেই অর্থে ঐতিহ্য যা আমরা চেষ্টা করলেও সোনার খাঁচায় ধরে রাখতে পারব না। যা মুছে গেছে, যা বিলুপ্তপ্রায়, যা কিছু স্মৃতিতেও আজ প্রায় আবছা, তারই কয়েকমুঠো ধরে রাখতে চাইলাম আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। 

Who lives who dies who tells your story.......


--------------------------------

সোমা চক্রবর্তী
Kalikapur, Taki Toad 
PO. Barasat, Dist: 24 Pgs (N), WB.
Pin: 700124.

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ একলা  আজ আর কাছে আসে না কেউ  যারা কাছে ছিলো  তারা ছেড়ে গেছে  আকাশের মতো এখন একলা জীবন। বয়েস বেড়েছে  দৃষ্টি ক্ষীণ  যৌবনের রোদ নেই  এখন বসে বসে গুণি বার্ধক্যের দিন। উত্তাপ চায় মন  প্রিয়জনের একটু ছোঁয়া  শ্মশানে কারা লাশ বয়ে নিয়ে যায়  ভাবি আমিও লাশ হবো  ক'টা দিন পর। বিষাদ ভাবনায় খাঁ খাঁ করে ওঠে মন। অপেক্ষা কেউ নেই  অথচ কেউ কেউ থেকে যায়  মনের গোচরে  থেকে যায় অপেক্ষায়। আজ যার সাথে দ্যাখা  সে অপরিচিত  হৃদয়ে ধূপের সুবাস  কেউ থেকে যায় অপেক্ষায়। অনেক দিন পর কথা হলো  সবাই ফিরে এলো  মনের মানুষ ফিরে এলো না  এখন আর কেউ থাকে না অপেক্ষায়। শূন্য হৃদয়  মরে গিয়ে বেঁচে আছি তার অপেক্ষায়। হেঁটে যায় রোদ্দুর পায়ে পায়ে হাঁটে  পায়ে পায়ে হেঁটে যায় রোদ্দুর  দুপুর পোড়ে দাবদাহে  খরা কবিতায়। বিকেল আসে না  সন্ধ্যে নামে না  পাখিরা ফেরে না নীড়ে  তবু মনের নদী পেরিয়ে যায়  অচেনা ভূবন। শুকনো মরু বুক বরাবর  তেষ্টায় বিহবল ঠোঁট  ভুখাপেট পান করে চাঁদের ওলা...

আগুনের রঙহীন রঙ ।। রোকেয়া ইসলাম

আগুনের রঙহীন রঙ রোকেয়া ইসলাম দিকবিদিকশুন্য শিউলি দৌড়াচ্ছে , কোলে পাঁচ বছরের মেয়ে। কখনও হোটচ খেয়ে পড়ে যায়, ইটের কোণায় লেগে বুড়ো আঙ্গুল ফেটে রক্ত বের হয়, তবুও দৌড়াতে থাকে শিউলি। গতকালই রুবেল বলেছিল ওদের বেতন হয়নি, মালিক বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ওঠানামা করছে তাই অর্ডার বাতিল। বারোতলা গার্মেন্টসে আগুন জ্বলে ওঠে। শ্রমিকরা যখন ভেতরে আঁটকে আছে, দরজায় বিদেশি তালা ঝুলছে, চাবিসহ গেট কিপারের দেখা নেই। ভেতরের মানুষগুলো ধোয়ার কুন্ডলিতে আচ্ছন্ন হয়ে হাতড়ে হাতড়ে নাকে মুখে ওরনার আঁচল আর শার্টের কোনা তুলে ধোয়া আঁটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। বারো তলার কাচের জানালা বিকট শব্দে ঝুরঝরো হয়ে নিচে পড়ছে। ওদের আর্তচিৎকারে ইউটিউবাররা লাইভ ভিডিওদাতারা দেশি বিদেশি সাংবাদিকরা এলোপাতাড়ি ছবি তুলতে থাকে । এগুলো ওদের সম্পদ। বহু চেষ্টার পর ধোয়ার কুন্ডলী রেখে আগুন নেভে। কিন্তু শিউলির ঘর ভরে থাকে আগুন তাপের রঙে। রুবেল এই বারো তলা গার্মেন্টসের সুপার ভাইজার ছিল। রুবেলকে পাওয়া যায়নি শুধু রুবেলের শরীরের মাপে একটুকরো কয়লা পড়ে ছিল ভেজা ছাইয়ের স্তুপে। মেয়ে প্রায় রাতেই ওর গলা জড়িয়ে বুকের কাছে মুখ নিয়ে বল...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...