জেদ বিবেকানন্দ নস্কর ১ বালুচরে পাতা ফাঁদ বৈধব্য কপালে এঁকে দিল কে প্লাবণ সময় , ঢেউ ভাঙে ঢেউয়ের ফেনায় গরলের দাগ সহবাস হাতছানি দিয়ে ডাকে। ২ এবার ন্যাকামো রাখো সতীত্ব ঝলসে যায় শরীরী ছোঁয়ায় পুরুষের আঙুলে বারুদের ঘ্রাণ কত রাত নিজের সাথে যুদ্ধরতা অভিসারে বেরিয়ে পড়ার অদম্য আগুন। ৩ বেশ তবে আঁচলে বাঁধো বসন্ত রেণু অতীতকে মুছে দেওয়ার শপথ অলীক আলোয় সমুদ্রের টান পাথরে এঁকে রাখো নষ্টার মুখ সব সুখ বন্দী আছে জীর্ণ খাঁচায় । =================
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...