জেগে ওঠে সুমিত মোদক বাউলের গলা টিপে ধরলে লালন সাঁই সমাধি মধ্যে কাঁদে; কাঁদে বাংলা ভাষা, মাটির সুর… মানুষ পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ভবিষ্যতের; ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সর্বহারা চোখ; মাটির প্রতিমার মুণ্ড কেটে নিলে চুপ করে থাকে দখিনা বাতাস, প্রীতি ও বুদ্ধি; হারিয়ে যায় জন্ম ভিটে; দিন দুপুরে নাবালিকা তুলে নিয়ে যায় নেকড়ের দল; সনাতনী শরীর নিয়ে উল্লাসে মাতে; ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকে গোটা এক জাতি, মানচিত্র; ঠাকুর শিল্পীর রক্তাক্ত মৃত দেহের উপর উৎসব শুরু হলে জেগে ওঠে কর্ণসুবর্ণের শশাঙ্ক, গৌড়ের মাটি।
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...