অস্তিত্ব মানস কুমার সেনগুপ্ত ' আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না, সেই জানারই সঙ্গে সঙ্গে তোমায় চেনা।' কবিগুরুর এই গানের বাণীকে আশ্রয় করে আত্ম উপলব্ধির এক নিরন্তর অনুসন্ধানে চেয়েছি নিজের অস্তিত্বকে খুঁজতে। আমি কে? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আছে কি? অথচ আমি, আমার এই বৃত্তের মাঝে আমরা নিরন্তর ঘুরে চলেছি বিষয়-আশয় সর্বস্ব জীবনে। সাধক রামপ্রসাদ সেন যখন তার এক গানের বাণীতে বলেন 'ভেবে দেখ মন কেউ কারও নয় ', তখন আত্ম-উপলব্ধির এক অপার্থিব জগতে পৌঁছতে চায় মন। কারণ, নিমীলিত নয়নে জীবনের শেষ যাত্রায় আত্মীয়-স্বজন, বিষয় - আশয় সব কিছু ছেড়ে আমরা পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যাই। যা কিছু বা যাদের ছেড়ে চলে যাই সবই মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ে ছিল এতদিন। আসলে আমিত্ব থেকে উত্তরণের সাধনা যদি কেউ করতে পারেন, তবে অনেক পার্থিব চাওয়া পাওয়ার জগত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে সে বড় কঠিন কাজ। তবে আত্ম-উপলব্ধির সেই জগতে পৌঁছতে চাই কবিগুরুর এক গানের বানীকে আশ্রয় করে। 'কাঁদাও যদি কাঁদাও এবার, সুখের গ্লানি সয়না যে আর।' সুখের আবার গ্লানি হতে পারে, সে কথা ...
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...