সকল পেশা সমান গুরুত্বপূর্ণ ফাতিমা তাবিয়া সুবাহ পাঠ্য বইয়ে "শ্রমের মর্যাদা" এই বিষয়ে গল্প, রচনা হয়তো আমরা সবাই পড়েছি। আমরা শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্যই সেটা মুখস্থ করি। কিন্তু পরবর্তীতে সেটা আর কাজে লাগাই না। আমরা বুঝার চেষ্টা করি না যে সত্যিই সকল পেশার সমান মর্যাদা দেওয়া উচিৎ। পৃথিবীতে যত ধরনের পেশা আছে তার প্রত্যেকটিই আমাদের সমাজে বেঁচে থাকার জন্য এবং ভালভাবে জীবনযাপন করার জন্য খুবই জরুরি। আমাদের সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষক,আইনজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরা যেমন সম্মান বা মর্যাদা পায় রিকশাচালক, সুইপার,পিয়ন, পোস্টমাস্টার, গৃহকর্মী, মিস্ত্রী এরা কিন্তু তার বিন্দুমাত্র মর্যাদাও পায় না। এর একটাই কারণ, একদল সমাজের আখ্যায়িত উঁচু পেশায় নিয়োজিত আর আরেকদল নিচু পেশায়।অথচ সমাজে কারো অবদান কারো থেকে কম নয়। কিন্তু আমরা একটাবার ভাবি না যে নিচু পেশায় নিয়োজিত আমরা যাদের বলি তারা যদি তাদের কাজ করা বন্ধ করে দেয় তখন আমরা অচল হয়ে যাবো। যেমন একজন ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, আইনজীবী, শিক্ষক, পুলিশ, বিমান চালক যদি তাদের কাজ না করতো তো আমরা টিকে থাকতে পারতাম না। ঠিক তেমনি একজন রিকশ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...