পৌরাণিক ভারত কথা (পর্ব ১) দীপক পাল রাম, লক্ষ্মণ, ভরত, শত্রুঘ্ন, এদের প্রত্যেকেরই দুটি করে পুত্র ছিল । মহাকোশল রাজ্য এই ৮ জনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় l লবের রাজ্য উত্তর কোশল, রাজধানী শ্রাবস্তী । কোশল বা দক্ষিণ কোশল হলো কুশের রাজ্য, রাজধানী কুশবতী বা কুশস্থলী । ভরতের জ্যেষ্ঠ পুত্র তক্ষ, তক্ষশীলায় গেলেন । কনিষ্ঠ পুত্র পুষ্কর গেলেন পুষ্পাবর্ত বা পুষ্করাবতীতে। লক্ষণের জ্যেষ্ঠ পুত্র সূরসেন যান বিদিশায়। ও কনিষ্ঠ পুত্র সুবাহু মধুরায় রাজধানী স্থাপন করলেন । শ্রাবস্তী অযোধ্যার উত্তর পশ্চিমে, কুশবতী নগরী ছিল বিন্ধাচলের পাদদেশে। বিষ্ণু পুরাণে পাওয়া যায় যে যুবানেশ্বর পুত্র শ্রাবস্ত শ্রাবস্তী নামে পুরী নির্মাণ করেছিলেন। আর আনরতের পুত্র রেবত বাস করেন কুশস্থালী পুরীতে। শরযাতী পিতামহ ছিলেন তার। পূন্যজন নামে রক্ষাসরা এই নগর ধ্বংস করে। পরবর্তীকালে কুশাস্থালীর নাম হয়েছিল দ্বারাকাপুরী। রেবতের পৌত্রী রেবতীর সঙ্গে বিবাহ হয়েছিল কৃষ্ণের বড় ভাই বলরামের। রামায়ণে কুশস্থলীর...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...