Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ফিচার

ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়

চা দিবস অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ১ লা জুন। চা দিবস। মানে চা পানকে সেলিব্রেট করার দিন। তা আমরা কে কবার সারা দিনের মধ্যে চা খাই সেটা এই সুযোগে মনে করা যেতে পারে। নিজের কথাই বলি। সেই ছোট বেলায় বাবা মায়ের দেখা দেখি চা খেতে শুরু করে আজও এই অমৃত পানীয়টির মোহ ত্যাগ করে উঠতে পারিনি। হ্যাঁ সারা দিনের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় কাপ চা পান করা চাই আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত। আগে শুধু মাত্র সকাল ও বিকালে দুই বার মাত্র চা খেতাম। তারপর যতো বড়ো হয়েছি, চা খাওয়ার মাত্রাটাও ক্রমশঃ বেড়েছে। আমার ডাক্তার পুত্র বেশি বার চা খেতে মানা করা সত্ত্বেও সে অভ্যাস ছাড়তে পারিনি। কিন্তু এই চা পান ব্যাপারটি তো আর এদেশের ছিল না আগে। সম্ভবতঃ চীন দেশেই চায়ের উৎপত্তি ও প্রসার। ক্রমশঃ এই চা পানের অভ্যাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। জাপানিদের কাছে চা এক পরম পবিত্র পানীয়। তাদের চা পানের পর্বটিও অতি সুন্দর এক প্রথার মতো। আমাদের দেশে চা পানের চল শুরু হয়েছে সম্ভবতঃ স্কটিশ সায়েব স্যার ওয়াল্টার রেলের মাধ্যমে। এক সিনিয়র সহকর্মী দাদার কাছে সেই চা পানের অভ্যাস এই দেশে প্রথম প্রথম চালু হবার সময়ের এক...

ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি মিলিয়েই আমাদের পৃথিবী। এ পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলতে তাদের প্রত্যেকের অবদান অপরিসীম। কিন্তু আত্মসাথ্য চরিতার্থ করতে গিয়ে লোভ-লালসা সম্পদের আকাঙ্ক্ষায় মানুষ যেন প্রকৃতির বিরুদ্ধে তার পরাক্রম প্রতিপত্তি জারি রেখে  নিজের বিপন্নতার ঘনঘটা সৃষ্টি করছে।মানুষ এটিকে নির্দয়ভাবে ও নির্বিচারে ব্যবহার করছে, ফলে বিশ্ব ব্যবস্থাই আজ হুমকির মুখে। জীব-বৈচিত্র্য বিশ্ব পরিবেশের এক অনন্য উপকারী সত্ত্বা। বাস্তুতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জীব-বৈচিত্র্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে।আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস আজ। প্রতিবছরের মতো এবারও ২২ মে ভারতসহ বিশ্বব্যাপী যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার ও বন্য প্রাণীর সংকটাপন্ন অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির লক্ষ্য।দিন দিন পৃথিবীতে কমে আসছে বনভূমির আকার।জনসংখ্যার বসবাসের স্থান তৈরি, জ্বালানির চাহিদা পূরণে উজাড় হচ্ছে বন, সেইসঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। মানুষের নানাবিধ চাহিদা মেটাতে ...

বিরল মানুষ ভিক্টর ভেসকেভো ।। গৌতম সমাজদার

বিরল মানুষ ভিক্টর ভেসকেভো গৌতম সমাজদার  সভ্যতার শুরুতে মানুষ নিজের প্রয়োজনে বেঁচে থাকার তাগিদে আগুন আবিষ্কার করেছিল। সেই শুরু, আজও মানুষ প্রকৃতিকে জয় করার অদম্য উৎসাহে এগিয়ে চলেছে, দিশা দেখাচ্ছে সভ্যতাকে। আমরা সবাই জানি পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম স্থান হল মাউন্ট এভারেস্ট। কিন্তু অনেকেই জানে না পৃথিবীর গভীরতম স্থান হল প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাদ। এই দুই স্থানেই প্রথম পৌঁছানো মানুষটি কে? হ্যাঁ, তিনি ভিক্টর ভেসকেভো। ছোট বয়স থেকেই যার প্রতিটি নিঃশ্বাসেই থাকত রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের নেশা। পাহাড়, সমুদ্র, মহাকাশ সব জায়গাতেই তাঁর অবাধ বিচরণ। পাঁচটি মহাসাগরের গভীরতম বিন্দু যেমন তিনি স্পর্শ করেছেন, তেমনই জয় করেছেন বিশ্বের সর্বোচ্চ সাতটি চূড়া। অবাক হতে হয় এই মানুষটির জন্য। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে পা রেখেছেন ভেসকেভো। এযাবৎকাল একাধিক বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। ২৩ বছর বয়সের একটা ঘটনা তাকে রোমাঞ্চকর ঘটনার স্বাদ দিয়েছিল। তিনি লাইব্রেরীতে ঘোরার সময় মেঘের আড়ালে মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো দেখতে পেয়েছিলেন। সেই থেকেই অ্যাডভেঞ্চারের নেশা তাকে পেয়ে বসে। তিনি সাফল্যের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করার পর গোয়েন্দ...

নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক

নববর্ষের সেকাল একাল মিতা ভৌমিক মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে যাক সব জীর্ণ স্মৃতির ভার, তবুও মন থেকে মোছে না কিছু জমে থাকা হাহাকার। কিছু হাহাকারে থাকে পুরোনোকে ফিরে পাবার আকুলতা। যেমন প্রতি বছর বৈশাখের প্রথম দিনে হাহাকার জাগে পঞ্জিকার ডানার ওপর নববর্ষের রোদ ঝলসানো ভোরের। পুরোনো দিনগুলো উঁকি দিয়ে যায় স্মৃতির জানলা ধরে। প্রতিবছর ক্যালেন্ডার বদলায়,সময় এগিয়ে যায়, আমরা ধীরে ধীরে যান্ত্রিক মানবে রূপান্তরিত হয়ে উঠি। তবু কোথাও যেনো হৃদয়ের মণিকোঠায় অক্ষয় হয়ে থাকে শৈশবের নববর্ষরা ,রঙিন স্মৃতির ক্যানভাস জুড়ে। সেকালের নববর্ষ মানেই ছিলো ভোরের আলো ফুটতেই নতুন জামা পড়ে ঠাকুরঘরের পূজোতে চন্দন-ধূপের সুঘ্রাণ। "গাছে গাছে ফুল ফুটেছে, নববর্ষের ডাক এসেছে তুমি আমার বন্ধু হও, নববর্ষের কার্ড লও" বাবার এনে দেওয়া নববর্ষের কার্ডগুলোতে এই কবিতার ছড়া লিখে দাদুর হাত ধরে বিলি করতে বেরোতাম বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি।পরিবর্তে নিজের সংগ্রহেও জমা হতো বহু নববর্ষের কার্ডের সম্ভার। ক্যালেন্ডারের পাতায় গণেশঠাকুরের মূর্তি আর লাল খেরোর খাতার গন্ধে ম ম করতো পাড়ার দোকানগুলো। মিষ্টির বাক্স আর বগলদাবা করে কিছু...

নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত

  নববর্ষের নবতম আশা  সমীর কুমার দত্ত  পয়লা বৈশাখের পূর্ব রাত কলকাতা -হাওড়ার প্রখ্যাত মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী নকুল চন্দ্র নাগের বেশ কয়েকটি শাখার তোড়জোড় চলছে পরের দিন পয়লা বৈশাখের ভোরে দক্ষিণেশ্বরে ভব তারিণী মায়ের মন্দিরে হালখাতার পূজো দেওয়ার। বাড়ির গিন্নি, কর্তা সহ উঠতি ছেলেমেয়েদের সকলেরই সাজসাজ রব। এ প্রথা চলে আসছে বহুদিন ধরে। এবারের‌ও তার ব্যতিক্রম নেই  বরং উন্মাদনা এবার একটু বেশি। কারণ এবার পরিবারের এক  অষ্টাদশী যুবতী কন্যা  উচ্চ মাধ্যমিকে দশম  স্থানাধিকারিণী উচ্চশিক্ষার্থে অর্থাৎ জি.আর.ই ক্র্যাক করে  আমেরিকার উদ্দেশ্যে  যাত্রা করছে এই পয়লা বৈশাখে রাতের ফ্লাইটে। শুভ দিন নি:সন্দেহে। নকুল চন্দ্রের পাঁচ সন্তানের কনিষ্ঠ সন্তান সোমনাথের জ্যেষ্ঠ কন্যা সুলক্ষণা নাগ খুব‌ই মেধাবী ও ব‌ইপোকা ।  লরেটো  স্কুলের আই.এস. সি পরীক্ষায় দশম স্থানাধিকারিণী ছাত্রীটি বংশের গৌরব। আই. সি. এস. ই পরীক্ষাতেও সে দশম স্থান অধিকার করে। নকুল চন্দ্রের পাঁচ সন্তানদের মধ্যে সোমনাথ‌ই কলেজ পাশ। বাকিরা কেউ মাধ্যমিক, কেউ উচ্চ মাধ্যমিক ...

বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত

  বাংলা নববর্ষ  পার্থপ্রতিম দত্ত বাংলা নববর্ষ তার নিজস্বতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে উজ্জ্বল। ইংরেজি নববর্ষ যেমন জাঁকজমক ও আড়ম্বর এর সাথে পালিত হয়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হয়ত তেমন হয় না। কারণ পয়লা জানুয়ারি সারা বিশ্বে উচ্ছাসের সঙ্গে উদযাপিত হয়। তবু বাংলা নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে সমুজ্জ্বল। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, দোকানে দোকানে হালখাতার উদ্বোধন, দুপুরে ভূরিভোজ, নতুন বাঙালী পোশাকে সজ্জিত হওয়া, সন্ধ্যায় নানা অনুষ্ঠানে নববর্ষ কে বরন ও স্মরণ করা, এসবই বাংলা নববর্ষের বৈশিষ্ট্য। নববর্ষ উপলক্ষে নতুন বই প্রকাশ, পত্রিকা প্রকাশ বিক্রয় মূল্যের উপর বিশেষ ছাড়, বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে। নববর্ষের প্রধান আকর্ষণ জুয়েলারী ও অন্যান্য দোকান থেকে পয়লা বৈশাখের আমন্ত্রণ পত্র পাওয়া। সেখানে গিয়ে মিষ্টি, উপহার ও বাংলা ক্যালেন্ডার গ্রহণ করা। এখন বেশ কিছু বাঙালী বাঙালীয়ানার ব্যাপারে উদাসীন। তারা সন্তানদের বাংলা মাধ্যমে পড়াতে চান না, ছড়ার বদলে Rhymes শেখান। বাংলা ভাষার প্রতি এই অবহেলা কাম্য নয়। মাতৃভাষা ই মাতৃদুগ্ধের মত মানুষের মানবিক পুষ্টি ঘটায়। অন্যান্য ভাষাকে যোগ্য সম্...

নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পান্ডে

নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি চঞ্চল পান্ডে  ​ সভ্যতার ক্রমবিকাশে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত নারী কেবল গৃহকোণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা। বর্তমান বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন আর কেবল স্লোগান নয়, বরং এটি একটি বাস্তব বাস্তবতা। শিক্ষা, রাজনীতি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। ​পারিবারিক গণ্ডি ছাড়িয়ে নারীরা এখন মহাকাশ জয় করছেন, পাহাড়ের চূড়ায় উঠছেন এবং করপোরেট দুনিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে এই অগ্রযাত্রার পথটি সবসময় মসৃণ ছিল না। যুগ যুগ ধরে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, কুসংস্কার এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের আজকের এই অবস্থানে আসতে হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সমান মজুরি নিশ্চিত করা এখনও বিশ্বব্যাপী বড় চ্যালেঞ্জ। ​একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, "আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।" এই উক্তিটি নারীর গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নারীর মেধা ও শ্রমকে অবহেলা করে কোনো সমাজ পূর্ণতা...

ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার সঙ্ঘমিত্রা দাস  নারী অধিকার, মম্মান ও মর্যাদার কথা যখন ওঠে তখন সবার প্রথমে মনে আসে নারী শিক্ষার কথা‌। আর সেই শিক্ষা যদি হয় পুরুষের সাথে সমানতালে কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে।  "তোমরা পারবেনা, এটা ছেলেদের কাজ"  এই কথাকেই তো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হবে। দিয়েছেও অনেকে। এখন যুদ্ধ বিমানে এমনকি সাবমেরিনেও মেয়েরা আধিপত্য বিস্তার করেছে। আজ এসব কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই যার নাম মনে এলো তিনি বাঙলা তথা বাঙালী , পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা কারিগরি বিদ্যার (মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক ইলা ঘোষ। ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষের ফরিদপুরে , অধুনা বাংলাদেশে তার জন্ম। বিয়ের পূর্বে তিনি ছিলেন ইলা মজুমদার। বাবা ম্যাজিস্ট্রেট , সেই সূত্রে ১৯৪৫ সালে কোলকাতায় আসেন। প্রাইভেটে মাধ্যমিক পাশ করেন। রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি। ভর্তি হন আশুতোষ কলেজে। ১৯৪৭ সালে প্রবেশিক পরীক্ষার মাধ্যমে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সুযোগ লাভ করেন। এখানে তিনি ভীষণ ভালো ফল করেন। ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। যদিও ভারতীয় ও ইংরেজ মিলে তখন আটশোরও বেশি ছাত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র মেয়ে। প্রথমদিকে ...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা   প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয় উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে সারা পৃথিবীব্যাপী। আমরা সকলেই অবগত নারী যিনি একদিকে মা জননী তিনি মানব সংসারের চালিকাশক্তি।সংসারে নারীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। নিজের সন্তানকে গর্ভে ধারণ এবং জন্ম দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখানোর মাধ্যমে একজন 'মা' নারী হিসেবে জীবনের সার্থকতা লাভ করে। যখন একটি শিশুর জন্ম হয় তখন একজন মায়েরও জন্ম হয়। এছাড়া স্ত্রী, বোন, কন্যাসহ মর্যাদাপূর্ণ সব সম্পর্কের বাঁধনে নারীরা সমাজের সাথে আবদ্ধ। তারা সমাজের অর্ধেক অংশ। তাদের প্রতিভা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য।প্রতিটি নারীদের কাছে 'আন্তর্জাতিক নারী দিবস' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক উপলব্ধির জন্য পালিত হয় এই দিনটি। এই বিশেষ দিনটি যে শুধু মাত্র উদযাপন করা হয় তা কিন্তু নয়। সমাজে নারীরা অনেক সময়েই নানান চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। যেমন-শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, মেয়েদের ...

এক সাহসিনী সিন্ধু কন্যার কথা ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি

এক সাহসিনী সিন্ধু কন্যার কথা  জয়শ্রী ব্যানার্জি    কিছুদিন আগেই চলে গেলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। একদা  International Women's Day শুরু হয়েছিল  মূলত নারীদের শ্রম অধিকার, ভোটাধিকার ও সমান মর্যাদার দাবিকে সামনে এনে। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকদের বড় আন্দোলন এই দিবসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯১০ সালে সমাজতান্ত্রিক নেত্রী Clara Zetkin আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার ও সমতার সংগ্রামের প্রতীকী দিবস হয়ে ওঠে। কিন্তু এর সাথে আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, তা হলো নারীদের সত্যিকারের সাহসিকতা । নিজের এবং সমাজের অনেক মেয়েদের উপযুক্ত ভাবে গড়ে তোলার জন্য যে সাহসিকতা  ও পরিশ্রমের দরকার হয় সেই সাহসিকতা । যদিও বর্তমানে এই সাহসিকতা বলতে নারীবাদীরা অন্য অর্থ ধরে নিয়েছে । ঔদ্ধত্য আর অশ্লীলতা কেই এখনকার যুগে  সাহসিকতা বলে মনে করছেন আজকের বহু নারী ।     যায় হোক তাদের কথা ছেড়ে আজ এক সাহসিনীর কথা বলব ।তিনি এক প্রাচীন ভারতীয় নারী। সিন্ধুবাসিনী কন্যা। তাঁর নাম সূর্য দেবী । তাঁর পিতা  ছিলেন ...

বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান

বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি  পাভেল আমান যেকোনও উৎসবের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে মানুষের মিলনের আনন্দ বার্তা। উৎসব মানেই প্রতিমুহূর্তে জুড়ে যায় একে অপরের সাথে আত্মিকতার মেলবন্ধন।আত্মীয়-পরিজনের আগমনে উৎসব পূর্ণতা লাভ করে। পৌষের সংক্রান্তির কথা উঠলেই ভেসে উঠে পিঠে, পুলি, পায়েস দিয়ে রসনাতৃপ্তি এবং ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে সংক্রান্তির স্নান শেষে ধানের থেতে খড়ের বুড়ি মা-র ঘরে আগুন দিয়ে গ্রাম জুড়ে আট থেকে আশির শরীর উষ্ণ করার ছবি।পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। এভাবেই পৌষ সংক্রান্তি ঘিরে বাঙালি মানুষে নানান স্মৃতি বারে বারে উঁকি দিয়ে থাকে। আজ পৌষ সংক্রান্তি। উৎসবপ্রিয় ভোজনরসিক বাঙালির বারো- মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে আরও এক পার্বণ হলো পৌষ-সংক্রান্তি। পৌষ সংক্রান্তিকে 'মকর সংক্রান্তি' বা 'উত্তরায়ণ সংক্রান্তি'ও বলা হয়। । এই পার্বণের অর্থ হলো পিঠে পুলির উৎসব।  পৌষ পার্বণ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে বিশেষ একটি দিন...

ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখি ।। নিবেদিতা দে

এই মুহুর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখি   নিবেদিতা দে "আমি প্রকৃতি আমি সৃষ্টি আমিই নারী।" প্রত্যেক নারীর মধ্যেই সৃষ্টির এক সহজাত প্রবৃত্তি আছে। আপনি বাজার থেকে কাঁচা সবজি এনে দিন, নারী তার হাতের স্পর্শে ও গুণে সুস্বাদু খাবার করে আপনাকে যত্ন করে খাওয়াবেন। দীর্ঘ প্রসব যন্ত্রণা ভোগ করে নারীই শিশুকে পৃথিবীর বুকে আলো দেখান। ঘরে বাইরে সংসারে সর্বক্ষেত্রে নারীদের সহনশীলতা ধৈর্য্য মেনে নেওয়া মানিয়ে নেবার কাহিনী আমরা সেই কবে থেকেই শুনে আসছি। তবে সবক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম আছে। নারীরা এখন অনেক প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। নারী তার ক্ষুরধার লেখনী তে মনের ভাব প্রকাশ করছেন লেখনীর মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন। এ যেন এক নবজাগরণ বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখা লেখিতে।  ঈশ্বরের পৃথিবীতে, অন্যান প্রাণীদের মতোই মানুষ নামক জীবের সৃষ্টি পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মানুষের একটা মন আছে, আবেগ আছে, আছে অনুভূতি ও অনন্য অনুভব। তাই তো মানুষ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলেন ও মনে ভাব প্রকাশ করেন। কালি কলম ও মনন এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের মনের কথা কলমে ফুটিয়ে তুলি। পৃথিবীতে কথা শক্তি হলো সবচেয়ে বড়ো শক...

ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

রমণী রতন  মানস কুমার সেনগুপ্ত                           আমাদের  পরিবারে  এমন  এক  রমণীকে ছোটবেলা থেকে দেখেছি, যার কথা আজও  স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তিনি আমাদের ঠাকুরদা, বাবা-কাকা এবং আমাদের ভাই-বোনদের সকলের 'বুড়োমা' । বুড়োমা ছিলেন আমার ঠাকুরদাদার মা। আমাদের যৌথ পরিবারে মা-ঠাকুমাদের সঙ্গে বুড়োমাও সমান কর্মঠ এবং সক্রিয় ছিলেন আমাদের বড় করে তুলতে। ঠাকুরদাদাদের‌ তিন ভাইকে বড় করে তুলেছেন   অল্প বয়সে স্বামীহারা হয়ে। বাবা-কাকাদের      প্রজন্মকেও একইভাবে আগলে রেখেছিলেন তিনি। বুড়োমা দীর্ঘায়ু ছিলেন। তাই আমরা সব ভাই-বোনেরা স্নেহ এবং প্রশয়ে সমানভাবে বড় হয়ে উঠেছি তাঁরই হাতে।                   ছোটবেলায় আমার এবং আমার দিদির একইসঙ্গে খুব বেশীরকম      গুটিবসন্ত হয়েছিল। আমার আজও মনে আছে, দুজনকে নিজের দুপাশে শুইয়ে সারারাত নিমের পাতা গায়ে বুলিয়ে দিয়েছিলেন। পৌষ পার্বণের দিন নিজের হাতে পিঠে-পুলি তৈরী ক...

মহালয়া : একটি আবেগ ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

মহালয়া : একটি আবেগ  মানস কুমার সেনগুপ্ত বঙ্গজীবনে দুর্গোৎসবের আবেগ, আনন্দময় অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আকাশবাণী কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত মহিষাসুরমর্দিনী। অনুষ্ঠানটি অবশ্য বহুদিন থেকে আমাদের কাছে মহালয়া বলেই প্রতীয়মান হয়ে আসছে। ওই দিনটিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়ে, দেবীপক্ষের আগমনবার্তা ঘোষিত হয়।       সেই কিশোরবেলা থেকে দেখে আসছি মহালয়ার অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য বাঙালির ঘরে ঘরে ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখা হতো। ভোর চারটে থেকে ঘরে ঘরে রেডিও বেজে উঠলে মনে হতো, সত্যিই পুজো এসে গেছে। বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র মহাশয়ের আবেগমথিত কন্ঠে   মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের ভাষ্যপাঠেই ঘোষিত হয়ে যেত মা দুর্গার আগমন বার্তা। বানী কুমার মহাশয়ের কালজয়ী ভাষ্যরচনা এবং সঙ্গীতের অংশে অসামান্য সুরের আয়োজনে ছিলেন আর একজন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ও সুরকার পঙ্কজ কুমার মল্লিক। সুপ্রীতি ঘোষের কন্ঠে 'বাজলো তোমার আলোর বেণু, দ্বীজেন বাবুর কন্ঠে জাগো দুর্গা সহ আরও অনেক গান আজও আপামর বাঙালির মুখে মুখে ফেরে।       সত্যি বন্ধু, আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এই...

প্রবন্ধ ।। গাঙ্গেয় জনপদ - পাণ্ডব বংশের দুর্গাকথা ।। দীপঙ্কর নস্কর

  প্র ব ন্ধ গাঙ্গেয় জনপদ - পাণ্ডব বংশের দুর্গাকথা দীপঙ্কর নস্কর   শারদোৎসব বঙ্গ জীবনের অঙ্গ। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমল থেকে বাঙালি তার যাবতীয় আনন্দ-উল্লাস-আরাধনাকে এক সূত্রে গেঁথেছে এই দুর্গাপুজোর মাধ্যমে। বনেদি থেকে বারোয়ারি সর্বত্রই কোন এক শক্তি, যা আমাদের বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত প্রাত্যহিকতার গ্লানিময়তা থেকে দূরে রাখে। তবে, আজকের যুগে শহুরে মানুষজনের অনেকেই ইচ্ছা। প্রকাশ করেন, কলকাতার প্যান্ডেলের ভিড় ছেড়ে দূরে চলে যাবার। প্রশ্ন করেন এমন কোথায় যাওয়া যায়, যেখানে একটু নিরিবিলিতে পুজোর গন্ধ নেওয়া যেতে পারে? বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর আনন্দ উল্লাস জৌলুস এবং সাবেকিয়ানা যদি দেখতেই হয় তাহলে আসতে হবে প্রাচীন জনপদ জয়নগর-মজিলপুর অঞ্চলে।

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...