নারী অধিকার ও আজকের প্রবাসন রণেশ রায় কোনও দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা, সে দেশের উন্নতি নির্ভর করে ব্যাপক মানুষের সুস্থ সবল জীবন যাপনের জন্য খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থানের মত অপরিহার্য বিষয়গুলি পাওয়ার ওপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এইগুলো পাওয়ার সুযোগ কতটা যথেষ্ট ও পরিব্যপ্ত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে দেশে কতটা প্রকৃত উন্নতি ঘটছে। এই মাপকাঠিতে ভারত ও ভারতের অঙ্গ রাজ্যগুলো উন্নত নয় বরং পশ্চাদপদ সন্দেহ নেই। উন্নতি যতটুকু ঘটছে তা মুষ্টিমেয় ধনীকে আরও ধনী করছে আর গরিবদের তুলনামূলক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে কারন আয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে। তাই ওপরের কোন মাপকাঠিতে ভারত উন্নত, সে তরতর করে এগিয়ে চলেছে বলা চলে না। এশিয়া আফ্রিকার দুর্বলতম দেশগুলোর মধ্যে ভারত একটা সন্দেহ নেই সরকারী প্রচার যাই হোক না। সরকারী তরফে জাতীয় আয়ের মাপকাঠিতে উন্নয়নকে বিচার করার একটা প্রবণতা আছে। খাদ্য শিক্ষা স্বাস্থ্য আর তার সঙ্গে বন্টনের বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায় না। ফলে অনুন্নয়নের ভয়াভয়তার বিষয়টা প্রতিফলিত হয় না সরকারী প্রচারে। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে দাম বৃদ্ধির বিষয়টা গভীরে বিবেচিত হয় না। ফলে দেশের প্রকৃতি আর্থসামাজিক অবস্থাটা ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...