Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2021

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৩৮তম সংখ্যা ।। বিষয়: 'রঙের খেলা' ।। বৈশাখ ১৪২৮ এপ্রিল 2021

  শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ নবপ্রভাত সাহিত্যপত্রের সকল লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীকে জানাই  শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৮ এর আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।  সকলে ভাল থাকুন, ভালতে থাকুন। বিভেদ নয়, সম্প্রীতিকে হৃদয়ে রাখুন। -- নবপ্রভাত পরিবার। ১লা বৈশাখ ১৪২৮ সূচিপত্র প্রবন্ধ ।। সাদা-কালোর দ্বন্দ্বে যে ওই ছন্দে নানান রঙ জাগে ।। অভিষেক ঘোষ গদ্য ।। রঙের খেলা ।। সুবীর ঘোষ নিবন্ধ ।। দোল উৎসব ও গৌর পূর্ণিমা ।। সুদর্শন মণ্ডল কবিতা ।। গনতন্ত্রের মহোৎসব ।। বদ্রীনাথ পাল মুক্তকথা ।। রঙের খেলা ।। শেফালি সর বসন্ত উৎসব ।। অঞ্জনা গোড়িয়া গদ্য ।। লড়াই লড়াই লড়াই চাই ।। সুদীপ দাশ গল্প ।। লাগলো যে দোল ।। অঙ্কিতা পাল মুক্তগদ্য ।। রঙিন কোলাজের ছেঁড়া টুকরো......।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী মুক্তকথা ।। আবেগ কথা ।। আবদুস সালাম ছোটগল্প ।। তুমি আসবে বলে ।। রণজিত হালদার আঞ্চলিক কবিতা ।। খ্যেলা দেইখ্যে যা ।। সবিতা বিশ্বাস কবিতা ।। চিবুক ।। সোমনাথ বেনিয়া কবিতা ।। বসন্তের রঙ ।। অমিত পাল কবিতা ।। ভোট কড়চা ।। অচিন্ত্য কুমার ধাড়া কবিতা ।। রঙের খেলা ।। সুমিত মোদক কবিতা ।। রঙ ।। অসীম মালিক কবিতা।। রঙের খেলা ।। নীলমাধব...

সাদা-কালোর দ্বন্দ্বে যে ওই ছন্দে নানান রঙ জাগে ।। অভিষেক ঘোষ

সাদা-কালোর দ্বন্দ্বে যে ওই ছন্দে নানান রঙ জাগে  অভিষেক ঘোষ "মেঘের উপর মেঘ করেছে--. রঙের উপর রঙ,. মন্দিরেতে কাঁসর ঘন্টা বাজল ঠঙ ঠঙ।"  রঙ নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীগুলি ঠিক কীরকম? চিরন্তন-মননের গভীরে কোন্ কোন্ রঙ ছাপ ফেলে, মস্তিস্কের ধূসরবস্তু কোন্ রঙ ধরে রাখে, কোন্ রঙ আমাদের উদ্দীপ্ত করে, কোন্ রঙ থাবা বসায় আমাদের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের জগতে, এ বড় তাত্ত্বিক বিষয়, বিজ্ঞান গবেষণায় প্রতি স্তরে স্তরে খুলে যাচ্ছে নানা গবেষণালব্ধ তথ্য, মনোবিদরা গভীর থেকে গভীরতর স্তরে অনায়াস যাতায়াত করে তুলে আনছেন সুক্তি। আমরা বরং এসব সন্তর্পণে এড়িয়ে যাব। আমরা খানিক ঘুরব খোলা আকাশের নীচে, মাঠের ঘাসে।  এখন বিকালবেলা। একটু আগেই আকাশ ছিল নীল। এখন সেখানে নানা রঙ ধরেছে, বদলে বদলে যাচ্ছে রক্তিম গোধূলির দিকে। ক্রমশঃ নামবে আঁধার, তমিস্রা। মাঠের সবুজরঙ সবুজই থাকবে, আমি শুধু দেখব ঘোর আঁধার। আকাশ কি নীলই থাকবে তাহলে? বিজ্ঞান বলছে, আকাশ ঘোর কৃষ্ণ, আমাদের চোখে তা অন্য রঙে আসে, তাহলে রঙের ব্যাপারটা আপেক্ষিক কি? কিছু তো বটে। শিল্পী ক্যানভাসে রঙ চাপিয়ে যান, সেখানে তিনিই প্রজাপতি। অথ চ কিমাশ্চর্যম্, গিরগিটি ...

গদ্য ।। রঙের খেলা ।। সুবীর ঘোষ

রঙের খেলা সুবীর ঘোষ   ছোটোবেলায় একটা গান শুনেছিলাম ---আকাশে আজ রঙের খেলা / মনে মেঘের মেলা । আশা ভোঁশলের গাওয়া ।   এই গানটা শুনলেই সন্ধের আকাশে ঘটে যাওয়া কত বিচিত্র রঙের সমাহার যা দেখেছি তার কথাই মনে পড়ে যায় । কিন্তু যে বিষয়ের ওপর লিখতে দেওয়া হয়েছে তা সন্ধ্যাকাশের রঙের খেলা নয় । বরং আমাদের যে বার্ষিক রঙের খেলা অর্থাৎ দোল উৎসব তার কথাই বলা হয়েছে । অতএব সেই কথাতেই আসি ।   ছোটোবেলা যে গ্রামে কাটিয়েছিলাম সেখানে প্রধান আরাধ্য দেবতা ছিলেন বলরাম । কৃষ্ণসখা । কৃষ্ণের সঙ্গে দোল উৎসবের ব্যাপক অনুষঙ্গ ছড়িয়ে আছে আমাদের প্রাচীন সাহিত্যে এবং পুরাণকথায় । সেই বলরাম মন্দির প্রাঙ্গণে দোল খেলা হত দোলের দিন বিকেলবেলা । আবির কম , গোলা রং বেশি । এ ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ ছিল খুব । আমাদের এক একজনের নানা সাইজের পিচকারি থাকত । কাউকে কাছ থেকে রং দেবার একরকম পিচকারি তো দূর থেকে কাউকে দিতে আর এক রকম লম্বা পিচকারি । রঙ যখন ফুরিয়ে যেত তখন চলত স্রেফ জল ছোঁড়াছুড়ি । কুয়ো থেকে বালতি বালতি জল তুলে গায়ে মাথায় ঢালা । আমরা বড়দের বিশেষ ঘাঁটাতাম না । তাঁরা নিজেদের মধ্যে রং খেলতে...

নিবন্ধ ।। দোল উৎসব ও গৌর পূর্ণিমা ।। সুদর্শন মণ্ডল

  দোল উৎসব ও গৌর পূর্ণিমা সুদর্শন মণ্ডল     দোলযাত্রার কথা কানে আসলেই বাঙালি মন বাউল হয়ে একতারার সুরে নাচতে থাকে। বাংলা তথা সনাতন হিন্দু বৈষ্ণবদের  উৎসব হল এই দোলযাত্রা। ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে কেবল মাত্র বাঙালিরাই যে রঙের উৎসবে মেতে ওঠে তাই নয়, সারা ভারতবাসি এই উৎসবে সামিল হয়। আমরা সকলেই জানি দোল -পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনের ঘরে ঘরে চলে রঙের উৎসব। নগরের সব বাড়ি গুলো আবিরের রঙে রাঙ্গা হয়ে ওঠে ।সেদিন আপামর মানুষের মনে আলাদা একটা আনুভুতির ঝড় বয়ে যায়। জীবনকে তাঁরা দেখতে চায় নতুন ভাবে।  রঙিন আবিরে বৃন্দাবনবাসি ভালোবাসার স্রোতে ভেসে যেতে চায়। আপন করে পেতে চায় সকল নগরবাসিকে। তাঁরা তো এমনটা করতে চাইবেই। এ যে শ্রী কৃষ্ণের স্মৃতি জরান স্থান। তাই শ্রীকৃষ্ণ আর রাধিকা সাজে অন্যান্য গোপিনীদের সঙ্গে এমন দিনে রঙের খেলাই মেতে ওঠে নগরবাসি । দোল-পূর্ণিমাকে যে গৌর-পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয় তা আমাদের সকলেরই জানা । এই পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ মিশ্র ও শচী দেবীর ঘরে, নদের নিমাই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম হয় বলে, নবদ্বীপবাসি দোল পূর্ণিমার এমন নাম দিলেন। গৌর পূর্ণ...

কবিতা ।। গনতন্ত্রের মহোৎসব ।। বদ্রীনাথ পাল

             গনতন্ত্রের মহোৎসব                  বদ্রীনাথ পাল গনতন্ত্রের মহোৎসবে আমরা সামিল সব-- ভোটের বাজার গরম,শুনি তাইতো কলরব। মন্ত্রী নেতার হয় না তো আর খেয়ে শুয়ে ঘুম-- ভোট-ভিখারি সাজার দেখি তাই লেগেছে ধুম্। দিকে দিকে ছুটছে দেখি প্রতিশ্রুতির বান-- সেই ধাক্কায় বাধার প্রাচীর হচ্ছে যে খান্ খান্। বলছে সবাই " করবো ভালো, দাও আমাকে ভোট"-- ভাবছি আমি, তবে কেন পাকাও এতো ঘোঁট ! ইচ্ছে যদি জনসেবার, কেন রক্তপাত- কেন এতো আগুন জ্বলে, কার সেখানে হাত ? শান্তি প্রিয় মানুষ মরে,কেন পুড়ে ঘর- দিকে দিকে কেন তবে এতো আপন-পর ? বন্ধ করো এ রক্তপাত, শুদ্ধ মানব বোধ-- জাগ্ৰত হোক সবার মাঝে, হোক কণ্ঠ রোধ-- বিভেদকামী মানুষ গুলোর ! জেনে রেখো ভাই-- এ দেশটাকে গড়তে সবার এগিয়ে আসা চাই। -----------------------------------------------------------------       বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোষ্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া ৭২৩১২১, ফোন-হোয়াট্স আপ-৮১৫৯০৭৬৫৪৮ -----------------------------------------------------------------

মুক্তকথা ।। রঙের খেলা ।। শেফালি সর

  "রঙের খেলা" শেফালি সর আকাশ  চিত্রপটে যে ছবি আঁকা হয় প্রতিনিয়ত সকাল বিকাল সন্ধ‍্যা তাতে তো রঙের  ই খেলা হয়।কোন্ চিত্রকর যে সে ছবি আঁকে অলক্ষে‍্য থেকে  কে জানে! তার  রঙের  তুলির টান সত্যিই  অপরূপ কত মোহময়। পূর্ব দিগন্তে  প্রভাতক্ষণে যে ছবি আঁকা হয়  তা তো চিত্রকর তার  অনুরাগ  মিশিয়ে নবারুণের উদয়ের ছবি আঁকে। সে যেন কোনো কবির মনোজগতের লালিমাময় বৈচিত্র‍্যতায় ভরা অপূর্ব  সুন্দর  ছবি। সে বড়ো নয়নপ্রীতিকর  আবেশ মাখানো ছবি। একটার পর একটা  তুলির টানে নানা  রঙে ভরিয়ে তোলে পূবের  আকাশ। একসময়  সে ছবি বিলীন  হয়। তারপর আবারও  একটার পর আর  একটা  সাদা রঙে  এঁকে  যায় বিচিত্র সব ছবি। সেছবির রঙ ছড়িয়ে  পড়ে  দিকে  দিগন্তরে,বনে বনান্তরে-জলের ধারায়, কম্পিত ঝাঁউ শাখে-রূপসীর খোঁপার  ফুলে,ছায়াচ্ছন্ন অরণ‍্য প্রান্তরে, প্রজাপতির পাখায়, বালুতটে সর্বত্র। কখনো বা ক্ষুব্ধ চিহ্ন এঁকে  দিয়ে যায়  সিন্ধু বুকে। আবার রঙের  তরী নিয়ে  ভেসে চলে  পশ্চিম  দিগন্তে...

বসন্ত উৎসব ।। অঞ্জনা গোড়িয়া

  বসন্ত উৎসব  অঞ্জনা গোড়িয়া বসন্ত উৎসব!  এই নাম টা  আমাদের খুব পরিচিত। বসন্ত উৎসব মানেই  শান্তিনিকেতন আর শান্তিনিকেতন  মানেই  বসন্ত উৎসব।  এত দিন খবরে কাগজে  টিভি সংবাদে দেখে আসছি শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের কথা।  শুনে আসছি মানুষের  মুখে মুখে।  তখনও  কচিমনে   ইচ্ছে  করত একবার ঘুরে  আসতে। রবি ঠাকুরের  শান্তিনিকেতনে। বসন্ত উৎসবে। আবীরের উৎসবে।  ভালোবাসার উৎসবে।  কিন্তু ইচ্ছে   থাকলেও   কখনো যাওয়া  হয় নি।  ইচ্ছে  থাকলেও    সূচনা করতে    পারিনি। এমন ই এক উৎসবের আয়োজন করা হলো  এই বছর।  পেরেছি।  হ্যাঁ গো। ঠিক ই বলছি। এক বছর ধরে করোনা পরিস্থিতিতে  মানুষের মনে সুখ সাধ আনন্দ বিষাদে পরিনত হয়েছে। যদিও এখনো  আমরা করোনার আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি।  তবু কিছু টা সময়  চেয়ে নিলাম একটু অন্যভাবে  কাটাতে। নবযুগের সূচনা  করতে।  আমার এক ছোট্ট  বোন এই গাঁয়ের ই বউ প্রীতি  যখন বলল,এমন ই এক উৎসবের...

গদ্য ।। লড়াই লড়াই লড়াই চাই ।। সুদীপ দাশ

লড়াই লড়াই লড়াই চাই সুদীপ দাশ      আমাদের তো সাতচল্লিশ সালে পাওয়া স্বাধীনতা।সেই স্বাধীনতা  এল দ্বিখন্ডিত দেশ নিয়ে। দেশের দুই প্রান্তে দুই প্রদেশে তখন দেশভাগের হাহাকার।সে সময়ের আগে পরে, কত যে হানাহানি,কত লড়াই, যা তখন কুখ্যাত ছিল 'রায়ট' নামে।বাঙালি জীবন তদবধি আজও  জাতি,ধর্ম দলে বিভাজিত।সেই ব্রিটিশ শাসনের সময় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই শুরু হল কম্যুনিস্ট পার্টি।কালে কালে তারও কত বিভাজন।নেতাজীও কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে করলেন ফরওয়ার্ড ব্লক,বললেন, 'এই দল ব্রিটিশের, সাম্রাজ্যবাদী শাসকের প্রকৃত বিরোধিতা করবে।' তাছাড়া সেই শতাব্দীপ্রাচীন ঘটি বাঙালের দ্বন্দ্ব তো রয়েছেই ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানে।সেই সংঘাত ফুটবলের মাঠ থেকে পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়েছে।এমনকি মাঝে মাঝে রক্তক্ষয়ী রূপও নিয়েছে অতীতে।    পোকায় কাটা এক গণতান্ত্রিক দেশ উপহার পেলাম।সেখানে ডান,বাঁ উভয়েরই নিত্য নূতন দল উপদলের পত্তন।আবার একই দলে থেকে স্বার্থসংঘাতে তৈরী হতে থাকল বিভিন্ন গোষ্ঠী। বাঙালির অভিধানে এল নতুন শব্দ,-- 'গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা কোন্দল।'     ছোটবেলায় যখন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে মামাবাড়িতে যেতাম,তখ...

গল্প ।। লাগলো যে দোল ।। অঙ্কিতা পাল

  লাগলো যে দোল   অঙ্কিতা পাল    "নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন লাগলো, বসন্তে সৌরভের শিখা জাগলো।"                             ---- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর      আজ রঙের উৎসব দোল, আকাশে বাতাসে আনন্দে সুর। সবাই দল বেধে দোল উৎসবে মেতে উঠেছে। দোল মানেই বাঙালি মনের রঙের আবেশ। মেয়েদের পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি আর ছেলেদের পাঞ্জাবি। শ্যামবাজারের বসু পরিবার এর ব্যতিক্রম নয়, এই বসু পরিবারের মেয়ে নলিনী বসু নৃত্যে গীতে ভরিয়ে রেখেছে তাদের বসন্ত উৎসবকে। আজ সে সকলের মধ্যমণি, কতো দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে এসেছে তাকে দেখতে । সে তার পরিবারের লোকজন বন্ধু-বান্ধব ও পাড়াপড়শি দের নিয়ে দোল উৎসবে ব্যস্ত। এমন সময় এক লাল গাড়ি থেকে নেমে এলেন এক যুবক, দেখলে মনে হয় খুব উচ্চ শিক্ষিত ও প্রভাবশালী।  তিনি নলিনীদের সাথে রং খেলায় সুন্দর ভাবে মিশে গেছেন। সেই সকাল থেকে রং খেলা যে কখন সন্ধ্যায় শেষ হলো বোঝা গেলো না, কেমন করে সময় যে জলের মতো পার হয়ে গেল...

মুক্তগদ্য ।। রঙিন কোলাজের ছেঁড়া টুকরো......।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

রঙিন কোলাজের ছেঁড়া টুকরো...... পার্থ সারথি চক্রবর্তী     বসন্তোৎসব নাকি ভোট- কোনটা নিয়ে লিখব! ভাবতে গিয়ে যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যা এককথায়, ঠগ বাছতে গা উজাড়। বসন্ত কালে আকাশ নীল হয়ে থাকে, বাতাস ফুরফুরে হয়। গাছের পাতা ঝরে পড়ে। সেই সঙ্গে ঝরে কিছু পুরনো স্মৃতি। তবে এগিয়ে যাবার পথ প্রশস্ত হয় বিছিয়ে রাখা ঝরা পাতার শব্দে। পাতা ঝরে পড়ার শব্দে ধ্বনিত হয় হৃদয়ের ভেঙেচুড়ে যাবার, দুমড়ে মুচড়ে যাবার প্রক্রিয়া। জন্মজ যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা যাই, তা আসলে পুরোটাই একটা পথ। দীর্ঘ একটা পথ। আর বসন্ত বা শরৎ বা তৎসংক্রান্ত বিষয়াদি সেই পথের কয়েকটা বিরতি। সেই বিরতি আবার কখনো কখনো সেখান থেকে কয়েকটা উপপথ বা বাইলেনের জন্ম দেয়। যদিও কোন কোনটা আবার ঘুরে এসে সে পথেই মিলে যায়। কোনটা আবার হারিয়ে যায় নিরুদ্দেশের খোঁজে। রঙ বেরঙের ছবির কোলাজে এই মুহূর্তগুলো ধরা থাকে। বসন্ত রঙ নিয়ে আসে প্রকৃতির। প্রকৃতির মাধ্যমে। আর আমরা মানুষেরা বাড়তি চাকচিক্য আনি বিভিন্ন রঙ মেখে আর মাখিয়ে। অথবা রঙ ছিটিয়ে। রঙ উড়িয়ে। বাঙালীর জীবনে ভোট কিন্তু একটা রঙিন উৎসব ছিল একদা। পাশাপাশি দুই বা তিনদলের সহাবস্থান। য...

মুক্তকথা ।। আবেগ কথা ।। আবদুস সালাম

 আবেগ কথা আবদুস সালাম           তাৎক্ষণিক আবেগ বাঙালির অন্যতম একটি স্বভাব ধর্ম। পরিব্যাপ্ত নেতা নেত্রীর রাজনীতি এ রাজ্যের প্রতিবাদ-বিরোধী রাজনীতি সমর্থক রূপে গৃহীত । উপরন্ত বাঙালি গণতন্ত্রকে দলতন্ত্র রূপে দেখতে অভ্যস্ত। জোর যার মুলুক তার , এই মাপ কাঠিতে     রাজ্যের রাজনীতির উত্তাপ পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।  এলাকা   দখলের মতো মানসিকতা এই মানসিকতার ফসল ছাড়া আর কিছুই নয় । বর্তমানে দখল এবং পুনর্দখলের মতো ভাষা আমরা অভ্যাস করে ফেলেছি ।        বন্ ধ ডেকে , রাস্তা অবরোধ করে  জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়ে রাজনৈতিক শক্তির পরীক্ষা যাচাই করায় এখন ভারতীয় গনতন্ত্রের অলিখিত সংবিধান । দলে বেনো জল ঠেকাবার কোন উদ্যোগ নেই। পাইয়ে দেওয়া ,ডানা ছেঁটে দেওয়ার মতো সরল  রাজনীতি বাংলার একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।  বিগত বছরগুলোতে বস্তাপচা বুলী শুনে শুনে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। কেবল দিতে হবে দিতে হবে এই শ্লোগানে মুখরিত দেশ । কেমন করে দিতে হবে ,কি দিতে হবে ? কেই বা দিবে এসব আমরা কিছুই জানি না। কোথায় ...

ছোটগল্প ।। তুমি আসবে বলে ।। রণজিত হালদার

  তুমি আসবে বলে   রণজিত হালদার  "রিতু ,আরে রিতু নীচে আয় মা "।  বার দুয়েক তিনি  ডাকলেন।  খানিক পরে ছাদ থেকে  উত্তর এল "যাই মা "। রাত দশটা বাজে। কল্যাণের বাবা আরাম করে বসে টিভি দেখছেন আর তার মা ,বসে বসে সজনে ডাঁটা কাটছেন। খানিক আগে বউমার সঙ্গে বসে   তিনি ডিসকভারি চ্যানেল দেখছিলেন। সিরিয়াল দেখতে রিতু বারণ করেছে ।ওতে নাকে সংসারে একে অন্যের মধ্যে বিশ্বাস আর ভালবাসায় চিড় ধরে । তাই তিনি ওসব দেখেন না । আবার তিনি ডাক দিলেন, " রিতু নীচে  নাম , তোর বাবার ক্ষিদে পেয়েছে , খেতে দিবি তো ।"  আরও  মিনিট কুড়ি পর রিতু নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে , ভাল করে চোখে মুখে জল দিয়ে একতলায় এল। কল্যাণের সঙ্গে কথা তার শেষ হতে চায় না , সে কেমন ভিতরে ভিতরে উত্তেজিত হয়ে যায়। শাশুড়ি বললেন, " কি রে খোকা কি বলল, কবে আসবে ? "  " জানিনা"  " তুই জানবি না,  কি আমি জানব! "  " ছুটি পাচ্ছে  না , বলছে দোলে ছুটি পেলে এক সপ্তাহের জন্য আসবে " । বাবা মার একমাত্র সন্তান কল্যাণ। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বিএসএফ এ জয়েন  করে ।এখন  ত্...

আঞ্চলিক কবিতা ।। খ্যেলা দেইখ্যে যা ।। সবিতা বিশ্বাস

খ্যেলা দেইখ্যে যা                     সবিতা বিশ্বাস    এ—এ---এ---এ----ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্   খ্যেলা দেইখ্যে যা রে বাবু ----  খ্যেলা দেইখ্যে যা লাইচছ্যে দেখ্ হীরা বাবু লাইচছ্যে মতি বিবি বান্দর লাচ লাইচছ্যে সোব তুইলছ্যে ফটোক ছবি ভালুক লাচ লাইচত্যে লাইচত্যে আইসছ্যে ঝেঁপ্যে জ্বর জ্বরের ঘোরে শিব ছাঁইড়ে ষাঁড়ে কোইরছ্যে গড় সিনিমিনি চইলছ্যে লা গ' পক্যেট বেবাক ফাঁকা তাইত্যে সোব মন দিয়েছ্যে কোইরব্যাক জনসেবা এ---এ---এ---এ--- ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ ডুগ্ খ্যেলা দেইখ্যে যা রে বাবু খ্যেলা দেইখ্যে যা বুইলছ্যে গুরু ঘাস খাব্যক লাই, মোষ হব্যক লাই যাব্যক লাই আর বামে ঠাকুর সেবায় মন লাইগ্যেছ্যে ইবার ফুলট' দিব্য রামে খেইলছ্যে দাদা খেইলছ্যে দিদি স্যাঙ্গাত প্যাঙ্গাত সোব উইড়ছ্যে ট্যাঁকা ঘুইরছ্যে ট্যাঁকা চইলছ্যে মহোত্সোব   মোইরছ্যে মজুর ভুখা পেটে ঝুইলছ্যে তালা কারখানা গেটে লইড়ছ্যে কিষান দিল্লী পথে...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

পুস্তক-আলোচনা ।। পুস্তক : বেগমপুরের ইতিহাস ।। লেখক : ড. দেবব্রত নস্কর ।। আলোচক: অরবিন্দ পুরকাইত

'বেগমপুরের ইতিহাস' :  অনুসরণযোগ্য জন্মগ্রাম-গাথা — অরবিন্দ পুরকাইত আজন্ম যে স্থানে মানুষের শৈশব-কৈশোর কাটে, যৌবন কাটে, তার স্মৃতি সচরাচর অবিস্মরণীয়। যত নগণ্যই হোক না সে স্থান। প্রত্যক্ষভাবে যদি না-ও হয়, আমরণ ছায়াসঙ্গী যেন তা মানুষের! আমাদের ইতিহাসচেতনা বলবার মতো নয়। একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব এ আক্ষেপ করে গেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কথা তো স্বত-ই মনে আসে। আমরা এমনকি ইতিহাস নিয়ে ভাবি-ই না তেমন করে! মৌখিক পরম্পরা একসময় হারিয়ে যেতে থাকে আগের প্রজন্মের মানুষের একের পর এক প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে, তার লিখিত বা অন্য রূপ তেমন ধরে রাখতে না পারার কারণে।        কেবল শৈশব-কৈশোর-যৌবনই নয়, জন্মতক দেবব্রত নস্করের প্রায়-সাতদশকজোড়া জীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে কেটেছে তাঁর ধাত্রী, পালয়িত্রী বেগমপুরে — দুশো-আড়াইশো বছর আগে বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনার দাড়া গ্রাম থেকে এসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল হাসিল-করা স্থানেই। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতাস্বরূপ লিখেছেন তিনি তাঁর জন্মগ্রামের কথা। বহু মানুষেরই স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্মভূমির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। সেই জন্মভূমির প্রতি প্রায়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...