আবিশ্ব এই মহামারি এবং ঈশ্বরের ভূমিকা ভগবান কই কাছাকাছি! এক-এক দেব-দেবীর নামের মধ্যে তারক, বিপদভঞ্জন, বিঘ্নশাশিনী, বিপত্তারিণী, দুর্গতিনাশিনী, অভয়দায়িনী, ত্রিপুরারি, মধুসূদন, ত্রিভুবনপালিনী, অসুরদলনী, বরাভয়প্রদায়িনী, ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু ইত্যাদি কত কত বিঘ্ননাশক বা কল্যাণকর বিশেষণ প্রয়োগ করে এসেছি আমরা যুগ যুগ ধরে; অথচ আজ যখন দুনিয়াজুড়ে প্রায় প্রতিটি দুয়ারে প্রবল বিক্রমে করাঘাত করছে করোনারূপ এক মহামারি, কোথায় অশুভবিনাশকারী দেববিক্রম, কোথায় জগৎব্যাপী মঙ্গলময় রূপ – কোথায় আশ্বাসের অভয়বাণী! সত্যিকার মহিমাপ্রকাশের এমন সুযোগে কোথায় তাঁরা! আমাদের অজানা নয় যে কেবল মন্দির-মসজিদ-গির্জাদিই ঈশ্বরের আবাস নয়। তবু আমাদের বিশ্বাস এক আর বাস্তব অর। তাই বা বলি কী করে! আমাদের বিশ্বাসও সবসময় সে কথা বলে বা মনে রাখে কি? প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের আবাস বলা হয়, উপনিষদ বলছে 'সোহম' –আমিই সে অথচ আমরা দেখছি গত অর্ধ শতকে কী হারে বাড়ল মূর্তিপূজা, দেবার্চনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জাঁকজমক! ঘরোয়ার নিয়মনিষ্ঠতা থেকে বারোয়ারির উৎসবসর্বস্বতা। পাঁজিপ...
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...