এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে শাশ্বত বোস জঙ্গলের গা ঘেঁষে পাহাড়চূড়োর মতন অনন্ত নরম আকাশে, বসন্ত যেন উড়ে এসেছে মিহি রঙের গুঁড়ো আবিরের মতো। ওপাশে আপার তেন্দু ফরেস্ট আর এ পাশে পরপর চা বাগান পেরিয়ে গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক। মাঝে বিগত যৌবনা কোন স্থানীয় রমণীর মতন, নিমগ্ন আলোড়নে ক্ষীণ রেখাটি হয়ে এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে মূর্তি নদী! শরীর জুড়ে তার অসংখ্য যাযাবর নুড়ি পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেন কুচি কুচি জোনাকির দানা! হিমালয়ের পাদদেশে আষ্টে পৃষ্টে জড়ানো আবছা কুয়াশা ঘেরা বিস্ময় আর মহাশূন্য থেকে খড় কুটো মুখে করে নেমে এসে, সারাদিন উড়ে উড়ে-ঘুরে ঘুরে বেহিসেবী পথ খুঁজতে থাকা ক্লান্ত বসন্তবৌরীর মায়া শিসের মৌতাত হয়ে, বয়ে চলেছে সে বিহানবেলার আনন্দবিলাসী কোন এক নেশাতুর ম্যাজিক বিভঙ্গের লোভে। এ আকাশ সে আকাশে এখন আগুন খোঁজে কামতাপুরী ভাওয়াইয়া গানের সুর! এমন সুন্দর একখানি মধুময় ভূমিখণ্ডের সাথেই তো জন্ম জন্মান্তরের ঋণে জড়িয়ে যাওয়া যায়! গলায় এক আঁজলা অঞ্জলী জড়িয়ে গেয়ে ওঠা যায়, “এই অরণ্য, নদী, পর্বত, নুড়ি পাথরে ভরা এই ভূখণ্ড, আমার দেশ! আমার একার দেশ! “মোর দেশ, মোর স্বর্গ!” কাল রাতে চা বাগানে চিতা বেরিয়েছিল। আজ সকালে এ...
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...