Skip to main content

Posts

Showing posts with the label অণুগল্প

নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী

নিরুদ্দেশ স্বাতী রায় চৌধুরী    "আমার ও একটা মানুষ হবে নিজের"   ১২ নং রেললাইন বস্তির সরু গলির অন্ধকারে প্রেমিকের বুকে মুখ গুঁজে মেয়েটি খুব অস্ফুটে এই কটি কথাই বলেছিল। সেদিন ওর পরনে ছিল বাসন্তী রঙের শাড়ী, হাতে সবুজ চুড়ির গোছা, কপালে কাঁচপোকা টিপ আর দুচোখে স্বপ্নের মায়া কাজল । তারপর পরম ভরসায় প্রেমিকের হাত ধরে সে পাড়ি দিয়েছিল অজানার উদ্দেশ্যে।   সেদিনের সেই সন্ধের পর থেকে মেয়েটি নিরুদ্দেশ। দর্জি দোকানের কর্মচারী; তার বাবা ও ভাই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান করতে পারেনি। পাড়ার লোকেরা সাথে করে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছিল , ডায়েরি একটা হয়েছে,ওই পর্যন্তই ; সুরাহা কিছুই হয়নি। প্রায় দুই মাস হয়ে গেল মেয়েটি নিরুদ্দেশ।    সবাই যখন প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছে তখনই সে ফিরে এল। তবে পায়ে হেঁটে নয়; পুলিশের ভ্যানে চেপে। পরনে সেই বাসন্তী রঙের শাড়ী, কাঁচের চুড়ি সব একই আছে। শুধু হারিয়ে গেছে সেই স্বপ্নটা; "আমার ও একটা মানুষ হবে নিজের"                                         ...

ভেজা প্রেম ।। প্রদীপ কুমার দে

অণুগল্প ভেজা প্রেম প্রদীপ কুমার দে এইমাত্র বৃষ্টির জলে ভিজে গেলাম আমি। ভিজে গেল শরীর। সিল্কের শাড়িতে জলে লেপ্টে যাওয়া যৌবন যখন রাস্তার সকল পথিকের দৃষ্টি আরোপিত হচ্ছিল তখন একমাত্র বেরসিক দেখলাম তোমায়, হ্যাঁ এমাত্র তুমিই আমাকে অবজ্ঞা করে মুখ ঘুরিয়ে নিলে, যেন কিছুই দেখনি যেন এক যুবতী নারীর দেহ সৌন্দর্য কোন দ্রষ্টব্য বিষয়ই না তোমার কাছে। আমি অবাক হয়েছিলাম সেই মুহূর্তে। যদিও হাজারো দৃষ্টি আর বৃষ্টি তখন আমাকে ধুয়ে খাচ্ছিল। তাই তাড়াতাড়ি পথে পা ছোটালাম। বৃষ্টি থেমে গেছে কখন। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি এখন। কেন জানো? হ্যাঁ। শুধুমাত্র তোমাকে মাপবো বলেই। এক মাথা এলেমেলো উস্কোখুশকো চুল নিয়ে যে যুবকটি কিছু আগে আমার ভিজে যাওয়া শরীরকে উপেক্ষা করেছিল, আর লজ্জায় নিজেই সরে গেছিল পথের বাঁকে, এখন যে তাকেই আমার মন খুব চাইছে। ওইতো ও আসছে .... আসুক, ও আরও কাছে আসুক, এবার আমিই লজ্জার মাথা ভেঙে আমার কামোদ চোখ দিয়ে ওকে ডেকে নেব, আমার জন্যে .... এবারও কি ও আমার মনের সিক্ত প্রেমকে উপেক্ষা করে দেবে ঠিক তখনকার ভিজে যাওয়া দেহের মতই ? ================ প্রদীপ কুমার দে বিরাটী আবাসন এল আই জি -৯ এম বি রোড নিমতা কোলকাত...

নারী স্বাধীনতা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

  অণুগল্প নারী স্বাধীনতা অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ  বিশেষ  অতিথি মিসেস  কমলা সেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ এক অনুষ্ঠানে গোটা গোটা ভাষায় ধারালো বক্তব্য রাখলেন পুরুষদের বিরুদ্ধে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে, স্বনির্ভর হতে হবে। পুরুষদের সমান অধিকার ছিনিয়ে নিতে হবে।  নারী স্বাধীনতা নারীদের অগ্রাধিকার। দর্শক আসনে বসে  জনগনের করতালিতে. মুখরিত হয়ে উঠল।  সবাই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন।  কমলা সেন জনগণের প্রসংশা কুড়িয়ে হাসিখুশিতে বাড়ি ফিরলেন।  এমন সাহসী নারীদরদী, স্বাধীন নারীকে দেখে সবাই ধন্য ধন্য করল। এই তো, পেয়ে গেছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এমনই নারীদের প্রয়োজন।  কমলা একবার করে ঘড়ি দেখে  আর মনটা ছটপট করছে। উত্তরীয়, স্মারক মেমেন্ট নিয়ে বাড়ি ফিরল নি:শব্দে। ভেতর থেকে  কেউ বলে উঠলো, রাত দুপূরে মেমেন্ট নিয়ে ঘরে ফিরছ, রাতের খাবার করবে কে শুনি? সংসারে বুঝি আর কোনো কাজ নেই? এসব লেখালেখি করে আর দুচার কথা বক্তৃতা দিতে ধেইধেই করে চারিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছ?  সংসার  চলবে? ক'টাকা রোজকার হয় লিখে?  চড়া  গলার সেই কমলা...

অণুগল্প ।। ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য

ক্লান্তশ্বাস দীপালি ভট্টাচার্য   হৈ হৈ করে একদল অল্পবয়সী মেয়ে নন্দনে সিনেমা দেখতে ঢুকল। সোয়া দু'ঘন্টার একটি দুর্ধর্ষ মুভি! সিনেমা শুরু হবো হবো করছে হঠাৎ বছর চল্লিশের এক মহিলা ওই একই সারির একটি চেয়ারে এসে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই সিনেমায় মগ্ন হয়ে গেল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বেশ ঠান্ডাই লাগছে এতক্ষণে, বাইরের উত্তাপ যেখানে এত বেশি! এদিকে গল্পের রহস্য বেশ জমে উঠছে! হঠাৎই একজন মেয়ের চোখ গেল পাশে বসা মহিলাটির দিকে। তিনি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন! সিনেমা দেখতে এসে ঘুম! একঘেয়ে মুভি হলে না হয় কথা ছিল! পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে কেউ সারাক্ষণ ঘুমায়! তৃপ্তি বিয়ের আগে একটি বেসরকারি স্কুলে কাজ করতেন। বেসরকারি হলেও বেতন মন্দ পেতেন না! কিন্তু বিয়ের শর্তই ছিল চাকরি ছাড়তে হবে! নিজস্ব ব্যবসার চাপে স্বামী অমল কোনদিকে তাকানোর ফুরসত পান না! এদিকে শাশুড়ি মা শয্যাশায়ী। কাজের লোক, আয়া থাকলেও সেই ভোর পাঁচটা থেকে তৃপ্তির কাজ শুরু, রাত বারোটা পর্যন্ত! দু একটা পদ তাঁকে রাঁধতেই হয়! আয়া থাকলেও খাওয়ার সময় শাশুড়ির পাশে থাকাটা এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। ওই অসহায় মানুষটাকে সারাদিন আয়ার উপর ফেলে রাখতে বিবেকে বাধে। যখন ওঁর দি...

অণুগল্প ।। ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার

ভাগের বাবা দীনেশ সরকার                   সুশীলবাবু   তার সংসারটাকে ধরে রাখতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত সংসারটা ভেঙেই গেল। তিন ছেলেকে তিনি এও বলেছিলেন, 'যতদিন আমরা জীবিত আছি তোরা একসঙ্গে থাক। আমাদের মরার পর তোরা যে যার মতো সংসার করিস।' তাও শেষ রক্ষা হ'ল না। মনের দিক থেকে তিন ছেলে অনেকদিনই আলাদা হয়ে গিয়েছিল। শুধু হেঁসেলটাই জোড়া ছিল, সেটাও এবার ভেঙে গেল। অথচ সামান্য প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করে সুশীলবাবু কী কষ্টটাই না করেছেন। তিন ছেলে, দুই মেয়েকে শিক্ষিত করেছেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তারসঙ্গে সমানতালে কষ্ট করেছেন তার সহধর্মিনী সুলোচনাদেবী। তিন ছেলেই এখন স্বাবলম্বী। বড় ছেলে ব্যাবসা করে, বাকি দুই ছেলে চাকরি করে। তিন ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। বড় বউমা একটু কম শিক্ষি্তা, বাকি বউমারা উচ্চ শিক্ষিতা। ভক্তি-শ্রদ্ধা তারা যেটুকু পেয়েছেন তা ওই বড় বউমার কাছ থেকে, কম শিক্ষিতা কিনা। শ্বশুর-শাশুড়িকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা উচ্চ শিক্ষিতা বউমাদের অভিধানে নেই।           ...

গল্প ।। পার্ক ।। প্রতীক মিত্র

পার্ক প্রতীক মিত্র পার্কের দেয়ালে নতুন করে সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকা হয়েছে। পাশে উচুঁ জাল দিয়ে ঘেরা পুকুরে সাদা হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে। পার্কের ভেতরে  হিমেল হাওয়া লাগলে দুলে উঠছে অমায়িক গাছগুলো। মাথার ওপর নীল আকাশের নিরিখে পার্ক আর তার আশপাশে অবসর শীতবেলার গায়ে দেওয়া চাদরের উষ্ণতার মতন নিবিড়। শুধু পার্কের দোলনায় জং ধরেছে। খালি দোলনা। একটা-দুটো পাখি দোলনায় বসে বোধ হয় ভাবছে পার্কটা এমন চুপচাপ কেন? স্লিপেও হৈচৈ নেই। মানুষ বলতে একটাই মেয়ে। বছর নয়েকের। হাতে ফোন। স্লিপে বসে এক মনোযোগে ফোনে কি সব যেন দেখে চলেছে। কি বেমানান লাগছে পার্কটা। সব কেমন চুপচাপ। বছর কুড়ি আগে হবে। পার্কের উলটো দিকে রুটি কিনতে আসা লোকটা নিজেও তখন এই পার্কেই আসতো খেলতে। অথচ এখন? ================ প্রতীক মিত্র কোন্নগর, হুগলী

উধাও ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ

উধাও  অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ  হঠাৎ টেবিল থেকে "আমার বই" উধাও।  সবার ব্যাগ চেক করা হল। যার বই হারিয়েছে,তারও ব্যাগ দেখা হল।কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।এদিকে  মেঘলা  মানে (যার বই হারিয়েছে)কেঁদে ভাসাচ্ছে।  আমার বই এখুনি খুঁজে দিতে হবে। নইলে মা খুব বকবে। সামনেই পরীক্ষা। বই হারিয়ে তাকে আর ধরে রাখা দায়। আমিও চিন্তায় পড়ে গেলাম। ক্লাসের মধ্যে থেকে বইটা গেল কোথায়?  অফিস ঘরের টেবিল,আমার ব্যাগ, রান্নাঘর সব জায়গায় খোঁজা হল। কিছুতেই পাওয়া গেল না।  মেঘলার কান্নার কারণে একটা নতুন বই দিয়ে বললাম, পরীক্ষা শেষে ফেরত দিস।তাতেও কান্না থামে নি।একটাই কথা আমার আগের বইটাই চাই।বই এ আমি অনেক কিছু লিখেছি।কার্টুনের ছবি লাগানো আছে। আমার বই আমাকেই দিতে হবে।  ছেলে পুলেদের পুলিশের ভয় দেখালাম।  যে চুরি করেছে, তাকে পুলিশে দেওয়া হবে।  কেউ বলল,সত্যি বলছি আমি চুরি করিনি। আমার ব্যাগ দেখো ভালো করে।  ক্লাস টুয়ের রোণিত বলেই ফেলল, তুমি তো জানো আন্ট্রি,ছোটো বেলায় কত চুরি করেছি। এখন কি আর করি বলো? বড় হয়েছি না? শিশু শ্রেণীর রোহিণী, চোখ মুছতে মুছতে বলল,বই না পেলে কি সবাইকে ধরে নিয়ে ...

অণুগল্প ।। সংসার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

   সংসার    সঙ্ঘমিত্রা দাস  কাল মা আর ঠাম্মার ঝগড়া হয়েছে। টুকটুকি দেখেছে। ওরা কথা বলছে না, আড়ি। আজ সকালে স্কুলে যাবার সময়  যখন দুধ কর্নফ্লেক্স খাচ্ছিল তখন বাবা ঠাম্মাকে চা দিয়ে এসেছে। এখন খুব চিন্তা হচ্ছে মা যদি ওকে ঠাম্মার সাথে কথা বলতে বারণ করে। ঠাম্মাই তো বলে মায়ের সব কথা শুনতে হয়। তাহলে কি করবে? স্কুলে সারাদিন অন্যমনস্ক ছিল টুকটুকি। ইংলিশ পিরিয়ডে পড়া না শোনায় কান ধরেও দাড়িয়েছে। কিন্তু এসব কথা তো দিদিমণিকে বলা যায় না।  ছুটির পর মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরেছে। ঠাম্মা বারান্দায় খবরের কাগজ পড়ছে, ওর দিকে একবারও তাকালো না। কিন্তু রোজ এইসময় ও ঠাম্মার কাছে গল্প শোনো, টিভি দেখে একসাথে। তারপর স্নান করতে যায়। চুপচাপ ঘরে এসে ইউনিফর্ম পাল্টে নিল টুকটুকি। মা গম্ভীর ভাবে ওকে বললো  " যাও এবার ঠাম্মার সাথে খেলো গিয়ে, আমার মাথা ব্যাথা করছে একটু বিশ্রাম নেবো। " টুকটুকি একগাল হাসি দিয়ে ছুটে গিয়ে ঠাম্মার কোলে উঠে পড়লো। ঠাম্মাও আদরে জড়িয়ে ধরলো ওকে। আজ স্নান খাওয়া সব ঠাম্মা করিয়েছে। মায়ের মন ভালো নেই তাই। টুকটুকির মা জানলা দিয়ে ওদের দেখে...

পথ চলতি ✍️পার্থ প্রতিম দাস

🌼পথ চলতি 🌼 ✍️পার্থ প্রতিম দাস      সব সময় ভাবুক মন দুঃখের তাল কেটে বেরিয়ে যেতে চায় নিরুদ্দেশের পথে। তাইতো আকাশে উড়োজাহাজের শব্দ শুনতে পেলেই, চোখ তুলে ওপরের দিকে খোলা শূন্যের দিকে তাকায়। আকাশকে শূন্য বলাটাও ভুল। অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্রের বাস সেখানে। সেখানেও আছে আইনের রাজত্ব। ভৌতবিজ্ঞানের নিয়ম নীতি সেখানে বিপুল পরিমাণে কাজ করে। ছোটবেলা থেকে সূজয় এইসব পড়েছে। এখন তার হাতে বাজারের থলে। বাজারে গিয়ে সে ঠিক করে দরদাম করতে পারে না। দর কষাকষি যে একটা আর্ট, সেই ব্যপারটা তার সিলেবাসে নাই।      আগে বাজার করে ফিরলে মায়ের কাছে বকা খেত। এখন স্ত্রীর মুখে বকা শুনে। ছেলে মেয়ে গুলো বড় হচ্ছে। প্রতিদিন কথা শুনতে তার ভীষণ আত্মসম্মানে লাগে। মোড়ের দোকানের সামনে টোটো দাঁড় করিয়ে সে একটা সিগারেট ধরায়। এক রাউন্ড ধোঁয়া ছেড়ে দোকানের পল্টুদাকে বলল, "তোমার খুব ভাগ্য ভালো। দোকানের হিসেব পত্র কত সুন্দর করছো। আমি আর হিসেবটা শিখতে পারলাম না।"    এতো লম্বা চওড়া প্রশংসা শুনে পল্টুদা হেব্বি খুশি হয়ে গেল। জামার কলার তুলে বলল, "হিসেব করাটাই আসল বিদ্যা। আর সব তো ছাইপাশ। টিউশনি নিতে আসিস। ফ...

গর্ভ ।। শাশ্বত বোস

গর্ভ শাশ্বত বোস নদীটার নির্দিষ্ট কোন নাম নেই! ওপারের পদ্মার চরের শেষ মাথা থেকে বেরিয়ে আবার এ দেশে এসে ঢুকেছে! এঁকে বেঁকে গিয়ে মিশেছে ভৈরব নদীতে। স্মৃতির পিঠে স্মৃতি জড়িয়ে গিয়ে, একটা ঝিমধরা বিষন্নতার বোধ নিয়ে, ওকে সবাই চেনে 'পদ্মার শাখানদী' নামে। ঘোর বর্ষায় ওর বুকে পেটে এখন জল থৈ থৈ! রোজ সন্ধ্যেবেলা ছেদু কাকার ঘাটে মাছের বাজার বসে। নিতান্ত ছোট্ট গ্রাম্য একটা বাজার! ওই শাখা নদীতে জাল দিয়ে যা যা মাছ ওঠে, তাই কাঁটা হয় এই বাজারে। রুই, কাতলা, পার্সে, ট্যাংরা, ভাঙ্গর, কাজলী আর বর্ষার মরশুমে কখনো সখনো ইলিশ! চওড়া বুক জুড়ে যেন রুপোর ক্যানভাস! পিঠের দিকটা সবুজ! নাকের কাছে খাবলা করে হলুদ আর সিঁদুর মাখানো যেন! যেন পদ্মার গর্ভে ভেসে আসা সৃষ্টির আদিকালের আদুরে সন্তান! এই শাখা নদী যেন পেট দেয় মাছেদের। এ পেট গর্ভের নিশ্চিন্ত আশ্রয়! এই শাখানদীর মিষ্টি জলে, পদ্মার স্রোতের বিপরীতে ভেসে আসা মাছেরা ঘর বাঁধে। আবার এই মাছেরাই পেট চালায় রাণীনগর ব্লক ২ এরিয়ার এই কয়েক ঘর ধীবরের! 'অজগর আলী মন্ডল' এদেরই একজন! এপারে ওর নাম অজগর আবার বর্ডার ক্রস করে ওপারে গেলেই হয়ে যায় 'বাহারুদ্দিন শেখ'! আজ স...

শাপে বর ।। সাইফুল ইসলাম

শাপে বর সাইফুল ইসলাম বড় বড় ফাটল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা খড়ের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়িটির পিছন দিকের দেয়াল ঘেঁষে একখানা কামার শালা। পঞ্চাশোর্ধ পবিত্র ও তার স্ত্রী রাধারানী ছোট ছেলেকে নিয়ে সেই বাড়িতেই থাকে। কামারশালায় হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুরু হয় সকাল সকাল, চলে দিনভর। সারাদিনের আগুনের আঁচে শরীরখানা যেন কয়লা। সেদিন পাড়ার অনেকে জুটেছে পবিত্রর কামারশালায়। কাজ করতে করতে সে হঠাৎ ধুলোয় শুয়ে ছটফট করছে। সবাই মিলে ডাক্তার-খানা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। "আমাকে নিয়ে যেতে হবে না। এমনটা আমার প্রায়ই হয় "- বলে হাত বাড়িয়ে একটা প্লাস্টিকের কৌটো থেকে কি যেন নিয়ে মুখে পুরে বলল - একটু জল দাও। কিছুক্ষণ বাদে উঠে আবার কাজ শুরু করলো। ওটা তুমি কি খেলে? -প্রশ্ন ছুঁড়ল কেউ। খাবার সোডা। কে তোমাকে এসব খাওয়ার যুক্তি দিয়েছে? কেউ না। আমি রোগী, আমিই ডাক্তার। খাবার সোডা নামটা শুনেই সকলেই মুখ চাওয়া-চাওয়ি শুরু করল। পবিত্র বলল -ডাক্তার একটা পেটের ছবি করতে বলেছে। টাকা পয়সার অভাবে তা পারিনি। --বলেই হাপর টানতে শুরু করল। লোকের ভিড় কমে গেছে। গরম লোহা হাতুড়ির ঘা খেয়ে রূপ বদলাতে শুরু করেছে। প...

আদিম ক্ষুধা ।। আনন্দ গোপাল গরাই

আদিম ক্ষুধা আনন্দ গোপাল গরাই স্বাতীকে একা পেয়ে তার পিছু নিয়েছে দুজন ষন্ডামার্কা ছেলে। সম্ভ্রম বাঁচাবার জন্যে প্রাণপণে ছুটতে থাকে সে। ছেলে দুটোও ওকে ধরার জন্যে ছুটতে থাকে ওর পিছু পিছু। অতিরিক্ত নেশা করার কারণে পা টলতে থাকে তাদের। হঠাৎ আবছা অন্ধকারে স্বাতী দেখতে পায় এক মাঝবয়সী ভদ্রলোককে। প্রাণপণে দৌড়তে দৌড়তে তার কাছে এসে সাহায্য প্রার্থনা করে সে। ততক্ষণে মাতাল ছেলেদুটোও তার কাছাকাছি এসে গেছে। একজন তো ওর হাতটা ধরব ধরব করছে। তা দেখে ভদ্রলোক গর্জন করে বললেন--" আর এক পা এগোবার চেষ্টা করবি না।" কথাটা বলেই যে ছেলেটা কাছাকাছি এসেছিল তাকে সজোরে মারলেন এক লাথি। রাস্তার উপর চিৎ হয়ে উল্টে পড়লো সে। সঙ্গী ছেলেটা একটা চকচকে ছোরা বের করে মারতে গেলো ভদ্রলোককে। তাই দেখে পকেট থেকে পিস্তল বের করলেন ভদ্রলোক। পিস্তল তাক করতেই প্রাণভয়ে একটা ঘিঞ্জি গলির দিকে ছুটে পালালো ওরা। ভদ্রলোকের সঙ্গে স্বাতী গিয়ে হাজির হলো এক প্রাসাদোপম বাড়িতে। ভদ্রলোক তাকে বসতে দিলেন একটা ঝাঁ চকচকে রুমে। এতক্ষণে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো স্বাতী। ভদ্রলোক না থাকলে ওর যে কী অবস...

সময় বড় কম ।। গৌতম সমাজদার

সময় বড় কম গৌতম সমাজদার  ছা-পোষা মানুষ নির্মলবাবু। অতি সরলতা অঞ্চলের মানুষকে মুগ্ধ করত। নির্মলবাবু খুবই জনপ্রিয় মানুষ গ্রামে। যাতায়াতের পথে সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন। গ্রামের সবার বিপদে পাশে থাকেন। বৌ কমলা মাঝে মাঝেই বলেন, "ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়াও। ঘরে সময় দাও। তাতে সংসারটাও ভাল থাকবে, তোমার শরীরও ভাল থাকবে।" কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। নির্মলবাবু অবিচল থাকেন। নিজের স্বল্প আয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন সংসার ভাল করে চালাতে। এজন্য নিজেও অনেক আত্মত্যাগ করেন। অতি সাধারণভাবে নিজের জীবন কাটান। পরিবারের চাহিদা মেটাতে সদা তৎপর। তবু চাহিদা তো আজকের জীবনে মেটানো বেশ কঠিন। বিজ্ঞাপনের শিকার হয়ে পরিবারের সব সাধ মেটাতে পারেন না। নিজেও তাতে দুঃখ পান। তবে তাতে পরিবারের বন্ধন কম নেই। কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হলেও একটা টান সবাই সবার জন্য বোধ করে। স্ত্রী তার সাধ্যমতো পরিবারকে ভাল রাখার জন্য প্রচুর দায় দায়িত্ব পালন করে। বিয়ের পরপর কিছু সময় ভাল কাটলেও পরের দিকে চাহিদা মেটানোর ঘাটতিতে অশান্তি যে হত না তা নয়। নির্মলবাবু নিজে কষ্ট করেও পরিবারের জন্য সঞ্চয় করেন। একদিন নির্মলের খুব ইচ্ছে...

নি:সঙ্গতা ।। মাখনলাল প্রধান

  নি:সঙ্গতা মাখনলাল প্রধান শীতার্ত এই শহরটিতে প্রায়ই শোনা যায়, প্রতিটি বন্ধুর মুখ থেকে নাকি ভোরের আগে ঝরে পড়ে একেকটা অকল্পনীয় অদৃশ্য ভাষা, যেগুলো কেবল ধোঁয়ার ভিতরেই চলাফেরা করে। বন্ধুরা গোল হয়ে দাঁড়ায়, হাতে থাকে ফাল্গুনীর তৈরি চায়ের ভাঁড়, সারা রক্ষিতের মোড় আলোয় হাঁটে আর ভাঁড় থেকে উঠে আসা চায়ের গন্ধে ভেসে ওঠে শৈশবের হারানো দুপুরগুলো। যারা সেই চা খায়, তারা নাকি কিছুক্ষণের জন্য নিজেদের জন্মদিন ভুলে যায়। বন্ধুরা হাসতে হাসতে পটেক হাতড়ে বিড়ি বের করে। ধোঁয়ার মধ্যে ভেসে ওঠে অলৌকিক জালের মতো ছবি—কেউ দেখে বাঁকুড়ার টেরাকোটা ঘোড়া পুলওমা হয়ে ছুটে যাচ্ছে, কেউ দেখে  আরজিকরের  পেছন দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা রক্তের ধারাকে কয়েকজন লাথি মেরে বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কেউ আবার বেনিয়াটোলার ছোটো ছাপাখানার অক্ষরগুলোকে ডানা মেলে ভারতনাট‍্যম করতে দেখে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বাজ পড়া কোনো গাছকে নিয়ে এখানে কেউ কবিতা লেখে না; কারণ বিশ্বাস করা হয়, সেই কবিতা লিখতে গেলেই তারা মাটিতে নেমে এসে মানুষের কানে কানে গোপন মৃত্যুবার্তা ফিসফিস করে দেবে। এই শহরের একমাত্র কবি—আমি—যখন অটোতে চড়ে গড়িয়া যাই, যখন ফুটপাত ধরে হাঁট...

বন্ধু ।। রবীন বসু

  অণুগল্প    বন্ধু রবীন বসু     অয়ন আমার কলেজবন্ধু ছিল। যাকে বলে হরিহর আত্মা। সেমেস্টারে আমার রেজাল্ট ওর থেকে ভাল থাকত। হতাশ হয়ে বলত, তোকে আর টপকাতে পারলাম না‌।   কিন্তু সেই বন্ধুত্বে একদিন ফাটল এল তৃণাকে নিয়ে। তৃণা আমাদের কমন বান্ধবী। সেই বন্ধুত্ব আমরা দু'জনেই প্রণয়ে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হই । আর গোল বাধল সেখান থেকেই। যেন দুই প্রতিপক্ষ যোদ্ধা। তৃণা মজা পেত। হাসতে হাসতে বলত, বাবা! বান্ধবীরা যেখানে একটা প্রেমিক জোটাতে পারছে না, আমার সেখানে দু' দুটো। তবে আমার বাপু একটা শর্ত আছে। আমি একটা স্বয়ম্বর সভার ব্যবস্থা করব। সেখানে তোমাদের ডুয়েল লড়তে হবে। যে জিতবে মালা তার গলায়।          অবশ্য শেষ পর্যন্ত অয়নের সঙ্গে আমার ডুয়েল লড়া হয়নি। ত্রিশঙ্কু ঝুলে থেকে তৃণার মন না- পেয়ে স্কলারশিপ নিয়ে আমি চলে যাই আমেরিকার মিশিগান শহরে। তারপর রিসার্চ, চাকরি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাগে আর  মনের দুঃখে তৃণাকে ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে, ফেসবুকে ব্লক করে দিই। তাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রায় দশ বছর পর দেশে ফিরে অয়নকে ফো...

দৌড় প্রতিযোগিতা ।। মুক্তি দাশ

  দৌড় প্রতিযোগিতা  মুক্তি দাশ  মা মরে যাওয়ার পর লালু ভীষণ একা হয়ে গেল। একেবারে একা। বাপ তো অনেক আগেই পরপারে। এই বিশাল পৃথিবীতে এখন সে একদম একা। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায়, কখনো বা বাস-স্ট্যান্ডে, কখনো স্টেশন চত্বরে ঘুরে বেড়ায়। ভিক্ষে করে কোনোরকমে দিন গুজরান হয়। রাত্তিরে ফুটপাতে মড়ার মতো ঘুমোয়। সেদিন রাস্তার ধারে বসে সে চেয়ে-চিন্তে পাওয়া বাসি পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিল, হঠাৎ ভুলুর সংগে দেখা। ভুলুকে সে কাছে ডাকল। নিজের ভাগের পাউরুটি ছিঁড়ে এক টুকরো দিল ভুলুকে। ভুলু তাতেই খুশি। ব্যস্। সেই থেকে দু'জনের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হল। এখন ওরা যেখানেই যায়, দু'জনে একসংগে। লোকে বলে, মাণিকজোড়। সেদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই লালু উঠে বসল। তারপর হঠাৎ কী মনে পড়ায় ছুটতে শুরু করেছে। পেছন পেছন ভুলুও। রীতিমতো  দৌড়-প্রতিযোগিতা। টার্গেট ডাস্টবিন। গতরাতে মজুমদার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। পরিত্যক্ত খাবারের এঁটোকাঁটায় উপচে পড়ছে ডাস্টবিন। প্রতিযোগী মাত্র দু'জন। লালু আর ভুলু। দু'জনেই প্রাণপণে ছুটছে। শেষপর্যন্ত লালু জিততে পারল না অবশ্য। বেচারা! ততক্ষণে ভুলু একেব...

জয় হিন্দ ।। দীনেশ সরকার

  জয় হিন্দ   দীনেশ সরকার   রায় পরিবারে কারও মন ভালো নেই। একটা দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ক্রমশঃ তাদের পরিবারের উপর ছায়া বিস্তার করছে। পরিবারের সবেধন নীলমণি বংশধর বাবুসোনা প্রায় তিন বছর হতে চলল কিন্তু তার মুখে সেভাবে কথা ফুটল না। "ই-ই, উ-উ" ছাড়া তেমন কোন কথা তার মুখ থেকে বের হয় না।   অথচ ওই বয়সের শিশুরা   মোটামুটি কথা বলতে শেখে। এইটাই পরিবারের দুশ্চিন্তার কারণ। বাবুসোনার বাবা-মা, দাদু, ঠাম্মি, কাকাইয়েরও মন খুব খারাপ। বাবুসোনা কথা বলতে পারবে তো! ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে গেলে   ডাক্তারবাবু অবশ্য অভয়বাণী শুনিয়েছেন, 'এখনই অধৈর্য হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। সব বাচ্চার একসময়ে বোল ফোটে না। কারও কারও ক্ষেত্রে দেরীতে বোল ফোটে। তাই এখনই হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।' ডাক্তারবাবু যতই অভয়বাণী শোনাক, মন তো মানে না। রায় পরিবারের মনে তাই দুশ্চিন্তার মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।                  দিনটা ছিল ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস। ক্লাব প্রাঙ্গনে দিনটি উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। ভাষণ হবে, পতাকা উত্তোলন...

বৃষ্টি থামার শেষে ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস

  বৃষ্টি থামার শেষে সঙ্ঘমিত্রা দাস  দমদম নাগেরবাজারে মুখোমুখি মেসবাড়ি। সুতপা অফিস ফেরত চা নিয়ে জানলায় বসলেই সামনের ঘরে  বিনয়ের অস্তিত্ব টের পায়। গান চলছে, ল্যপটপে কাজে ব্যস্ত। সুঠাম গড়ন, সুপুরুষ চেহারা। সুতপার মনে প্রেমের জোয়ার। কাজের ফাঁকে আড় চোখে সুতপাকে দেখে বিনয়ও। রোজ একটা অপেক্ষা থাকে, সামনে এলেই পর্দার আড়াল খোঁজে দুজনে। লাজুক চোখ, লুকাই লুকাই ভাব। এভাবে গভীর হয় প্রেম, আগুনে পোড়ে মন। নীরব  দুই জোড়া  চোখ নিশ্চুপে ভালোবাসে। অঝোর বৃষ্টিতে দুজনেই আটকে আছে স্টেশনে সেডের নীচে। বারবার চোখে চোখ মিলছে।  বৃষ্টিটা  কমতেই বিনয় ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে,  প্রথম বাক্যালাপ  "মনে হয় তাড়াতাড়ি থামবে না। ছাতা আছে, চলে যাই চলুন"। সুতপা, বিনয় একছাতায়। মাথা বাঁচলেও  শরীর ভিজছে। আরো কাছে ঘেঁষে আসছে ওরা। একে অপরের স্পর্শ অনুভব করছে। বুকের ধুকপুকানি বাড়ছে। দুজনেই রিমঝিম প্রেমে আকুল। সুতপা ব্যাগটা শক্ত করে আড়ালে টেনে রেখেছে। ওর ব্যাগেও যে ছাতা আছে কিছুতেই বিনয় যেন টের না পায়। ছোট মিথ্যার আশ্রয়, ও যে আরো একটু বিনয়ের কাছে থাকতে চায়। ===...

নবাবী নুপুর ✍️ পার্থ প্রতিম দাস

  নবাবী নুপুর ✍️পার্থ প্রতিম দাস      ভারত স্বাধীন হওয়ার পর রাজা ও নবাবী শেষ হয়ে প্রজাতন্ত্রের উন্মেষ ঘটেছে। সেই প্রাচীন প্রাসাদগুলো এখন প্রায় অভিজাত হোটেলে পরিণত হয়েছে। দেশ বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসে ইতিহাস ও ঐতিহ্য দেখার জন্য। তখন তারা সেই হোটেলগুলোতে থাকে। সেই বঙ্কিমের যুগ থেকে ইতিহাসের প্রতি বাঙালীর আকর্ষণ তীব্র রয়েছে।              অশ্বিনী, সে বহুজাতিক সংস্থায় কর্মচারী। তার মতে রোজগার করো আর ছুটির দিনে বেরিয়ে পড়ো ভারত দর্শনে। এই খামখেয়ালী মনোভাবের জন্য অশ্বিনী চিরকুমার থেকে গেছে। তাতে কি হয়েছে? তার সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে পাহাড়, সমুদ্র, ঝর্ণা, নদী, গুহা ভাস্কর্য, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি।      এবারের পুজোর ছুটিতে অশ্বিনী বেরিয়ে পড়লো আরাবল্লীর কোলে মরুস্থলির ইতিহাস দেখার জন্য। প্রাসাদ হোটেলে একটা রুম বুক করে পুজোর ছুটিটা কাটাচ্ছে। সারাদিন উটের পিঠে চেপে, হরিন ময়ূরের ছবি তুলে ফিরে আসে হোটেলে। প্রতি রাতে শুনতে পায় নূপুরের মিস্টি ধ্বনি। সকালে উঠে খুঁজতে থাকে কোথা থেকে নূপুরের ধ্বনি আসছিল! কর্মচারীদের জি...

মুরোদ ।। রানা জামান

  মুরোদ রানা জামান     মাজেদার চিৎকারে ব্যথিত হতে থাকে আকাশ বাতাশ। মেয়ে দুটোকে বাবা ছাইদুল ধরে রেখেছে কোলে। মনে মনে বলছে: পরপর দুইটা মাইয়া দিছো আল্লাহ, বংশ রক্ষার জন্য এইবার একটা পোলা দেও। মাজেদার ছোটবোন সাজেদা এসে বললো, বুবুর খুব কষ্ট হইতাছে। হেরে কুনু ক্লিনিকে নিয়া চলেন দুলাভাই। ছাইদুল বললো, ক্লিনিকে নেয়ার মতো ট্যাকা নাই। এর আগেও তোমার বুবুর দুইটা নরমাল ডেলিভারি হইছে। এইবারও নরমাল ডেলিভারি হইবো ইনশাআল্লাহ। আপনের মতো কঞ্জুস ছাড়া আর কেউ দাই ডাকে না ডেলিভারির লাইগা। তখন মাজেদার গগনবিদারী চিৎকারের সাথে সাথে নবজাতকের চিৎকারও শোনা গেলে সাজেদা ছুটে চলে গেলো আঁতুড়ঘরে।  ছাইদুল দুই মেয়েকে বললো, শুইন্যা আহো তোমাদের ভাই হইছে না বইন হইছে। মেয়েরা আঁতুড়ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ালে মাজেদা হাত ইশারায় ভেতরে ঢুকতে বললে ওরা ভেতরে ঢুকে তাকিয়ে রইলো নবজাতকের দিকে। মাজেদা বললো, তোগো আরেকটা বইন হইছে। তোগো বাপরে গিয়া জানা। কিন্তু ছাইদুলকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলো না। আধাঘণ্টা পরে ছাইদুল মাজেদাকে ফোনে বললো, তোরে একটা পুলা দিতে কইছিলাম। ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

পুস্তক-আলোচনা ।। পুস্তক : বেগমপুরের ইতিহাস ।। লেখক : ড. দেবব্রত নস্কর ।। আলোচক: অরবিন্দ পুরকাইত

'বেগমপুরের ইতিহাস' :  অনুসরণযোগ্য জন্মগ্রাম-গাথা — অরবিন্দ পুরকাইত আজন্ম যে স্থানে মানুষের শৈশব-কৈশোর কাটে, যৌবন কাটে, তার স্মৃতি সচরাচর অবিস্মরণীয়। যত নগণ্যই হোক না সে স্থান। প্রত্যক্ষভাবে যদি না-ও হয়, আমরণ ছায়াসঙ্গী যেন তা মানুষের! আমাদের ইতিহাসচেতনা বলবার মতো নয়। একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব এ আক্ষেপ করে গেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কথা তো স্বত-ই মনে আসে। আমরা এমনকি ইতিহাস নিয়ে ভাবি-ই না তেমন করে! মৌখিক পরম্পরা একসময় হারিয়ে যেতে থাকে আগের প্রজন্মের মানুষের একের পর এক প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে, তার লিখিত বা অন্য রূপ তেমন ধরে রাখতে না পারার কারণে।        কেবল শৈশব-কৈশোর-যৌবনই নয়, জন্মতক দেবব্রত নস্করের প্রায়-সাতদশকজোড়া জীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে কেটেছে তাঁর ধাত্রী, পালয়িত্রী বেগমপুরে — দুশো-আড়াইশো বছর আগে বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনার দাড়া গ্রাম থেকে এসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল হাসিল-করা স্থানেই। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতাস্বরূপ লিখেছেন তিনি তাঁর জন্মগ্রামের কথা। বহু মানুষেরই স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্মভূমির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। সেই জন্মভূমির প্রতি প্রায়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...