Skip to main content

Posts

Showing posts from September, 2026

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ✍️শিবাশিস মুখার্জী

মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ✍️শিবাশিস মুখার্জী ​ ১. ভূমিকা: সময়ের নদী ও একজন শব্দের জাদুকর ​ইতিহাসের গতিপথ যেমন নদী নির্দেশ করে, একটি জাতির সাহিত্যের গতিপথ তেমনই নির্দেশ করেন কিছু ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং আধুনিক বাঙালি মানসের ওপর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রভাব কেবল একজন জনপ্রিয় লেখকের সীমানায় আবদ্ধ নয়; তিনি ছিলেন আস্ত একটা যুগের দিশারী। বাংলা সাহিত্যের প্রথাগত আড়ষ্টতা ভেঙে তিনি যে আধুনিকতা ও সতেজতার হাওয়া এনেছিলেন, তা আজ অর্ধশতাব্দী পরেও সমানভাবে স্পন্দিত হয়। ​আমরা যখন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে স্মরণ করি, তখন কেবল একজন প্রখ্যাত কবি বা ঔপন্যাসিককে স্মরণে আনি না; বরং স্মরণ করি এমন এক জীবনবোধকে, যা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিখাদভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে ইতিহাসের ধূলোপড়া পাতায় জীবনের স্পন্দন খুঁজতে হয়, এবং কীভাবে সমস্ত সামাজিক জড়তা ভেঙে মুক্ত হাওয়ার পিয়াসী হতে হয়। ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর শুভ জন্মদিনে বাংলা ভাষার এই প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্রের প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। ​২. মাদারী...

কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জী

কবিতা-প্রেম করে বেঁচে থাকা: ইতিহাসের সীমা পেরিয়ে রোমিলা থাপারের অস্তিত্বের অনুসন্ধান শিবাশিস মুখার্জী,   কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় "ইতিহাস আমাকে শিখিয়েছে মানুষ কী করেছে; কবিতা আমাকে শেখায় মানুষ কেন এখনও মানুষ হয়ে আছে।"— এই বাক্যটি হয়তো রোমিলা থাপার কখনও বলেননি, কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক কাব্যগ্রন্থ Just Being যেন এই অঘোষিত দর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ। একজন ইতিহাসবিদ কেন কবিতা লেখেন? প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জ্ঞান, সময়, স্মৃতি এবং অস্তিত্বের গভীর সম্পর্ক। ইতিহাসের কাজ অতীতকে ব্যাখ্যা করা, আর কবিতার কাজ মানুষের অন্তর্জগতকে উন্মুক্ত করা। যখন একজন ইতিহাসবিদ কবিতার দিকে এগিয়ে যান, তখন তিনি আসলে তথ্যের সীমা ছাড়িয়ে সত্যের দিকে যাত্রা করেন। রোমিলা থাপারের নতুন কাব্যগ্রন্থকে তাই কেবল সাহিত্যিক ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একটি দার্শনিক মুহূর্ত। এমন এক সময়ে, যখন ইতিহাসকে রাজনৈতিক মতাদর্শের সেবকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে, তখন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষক ঘোষণা করছেন—শেষ পর্যন্ত মানুষকে বুঝতে হলে কবিতার কাছে ফিরতেই হয়। ইতিহাস কি সত্যিই সম্পূর্ণ সত্য? ইতিহাসকে আম...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা

অসুখী ঋণের বোঝা      ভাস্কর সিনহা মাঝরাতে শংকরের ঘুম ভাঙল তিনটে টোকার শব্দে। ঠক। ঠক। ঠক। শব্দটা দরজায় নয়—মনে হলো, খাটের নিচ থেকে আসছে। সে উঠে বসতেই টিনের চালের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে গেল। অথচ জানালার পাশে ঝোলানো মিতুর স্কুলের ফিতা একটুও নড়ল না। ঘর অন্ধকার। কেবল ভাঙা জানালা দিয়ে পাশের ওষুধের দোকানের নীল আলো এসে মিতার মুখে পড়েছে। মুখটা এমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিল, যেন বহুদিনের মৃত কেউ ঘুমিয়ে আছে। শংকর আস্তে ডাকল, “মিতা?” মিতা চোখ না খুলেই বলল, “আজও এসেছে?” শংকরের বুকের ভেতরটা জমে গেল, “কে?” “যে রোজ তিনবার টোকা দেয়।” এবার খাটের নিচ থেকে কাগজ ঘষার মতো শব্দ হলো। কেউ যেন পাতার পর পাতা উল্টাচ্ছে। শংকর নিচু হয়ে তাকাতে পারল না। তার কারণ ছিল। খাটের নিচে সে গত সাত রাত ধরে একটি খাতা দেখতে পাচ্ছিল—কালো মলাট, লাল সুতোয় বাঁধা। অথচ দিনের আলোয় খুঁজলে সেখানে ধুলো, একটি ভাঙা পুতুল আর পুরোনো জুতোর বাক্স ছাড়া কিছুই পাওয়া যেত না। খাতাটি প্রথম দেখা দিয়েছিল যেদিন পাওনাদার স্বপন এসে বলেছিল, “মাসের মধ্যে পাঁচ হাজার না দিলে অটোটা তুলে নিয়ে যাব।” শংকর অটো চালায়। তার নিজের অটো নয়; দৈনিক ভাড়া দিয়ে চালাতে হয়। স...

অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক

মাটির বাঁধ সুমিত মোদক  ভাদ্র মাসের বৃষ্টিতে মণি নদী চঞ্চলা । বার বার আঘাত করে । ভেঙে দিতে চায় দুর্বল মাটির বাঁধ । সুচরিতার মতো । কখন কি অঘটন ঘটাবে জানে না । ভয়ে ভয়ে থাকে অনন্ত ।  এপারে ধান ক্ষেত , বাসভূমি । ওপারে নোনা জল । বাঁধ ভেঙে গেলে ভেসে যাবে সব । নোনা জল , নোনা বাতা মিলেমিশে একাকার হবে । আবাদি জমি হয়ে যাবে বছরের পর বছর অনাবাদি । রাত জাগে । বাঁধ পাহারা দেয় বাদাবনের মানুষ । অনন্তও ।  অনেক কষ্ট করে চার বিঘে দু ফসলি জমি কিনেছে । চাষ করেছে । সবুজে সবুজে ভরে গেছে ক্ষেত । আলপথে দাঁড়ালে মনে হয় ধান গাছ গুলি হাসছে । ঠিক যেন তিন মাসের মেয়েটার মতো । দেখে বুক জুড়িয়ে যায় । বাচ্চা নিয়ে বউ বাপের বাড়িতে । পাকা রাস্তার কাছাকাছি । ওখান থেকে হাসপাতাল , ডাক্তার , ওষুধ দোকানের যোগাযোগ সুবিধা । আর কয়েক মাস গেলে ফিরবে । দু চার দিন ছাড়া দেখে আসে । আজ দুপুরে দেখা হয়ে ছিল সুচরিতার সঙ্গে । পুকুর-ঘাটে । চোখ দুটি যেন জ্বলছে । বাঘিনীর মতো । চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নেয় । কিছু বলার সাহস হ...

গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর

দর্শন   নিরাশাহরণ নস্কর   সালটা ১৯৯৪। আমি আর আমার সহপাঠী অন্তরঙ্গ বন্ধু বিশ্বনাথ এসেছি পার্ট ওয়ানের পরীক্ষা দিতে কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ে। আমাদের বাড়ি থেকে কাকদ্বীপ অনেক দূর। যাতায়াত অসম্ভব। আর রাস্তাঘাটের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে ওর বাবা আর আমার বাবা এসেছিলেন একটা অস্থায়ী আস্তানার সন্ধানে। মিলেও গিয়েছিল। একটা মেসের কিছু সিট খালি ছিল। সেখানেই মাসখানেকের জন্য আমাদের অস্থায়ী আস্তানা। থাকা, খাওয়া, পড়া আর পরীক্ষা দেওয়া। এক একটা পরীক্ষার ফাঁকে বেশ কিছুদিন ছুটি। প্রতিদিন ভোরে আর সন্ধ্যায় অনতিদুরের কোন একটা মন্দির থেকে ভেসে আসত ভক্তিগীতি সুর। একদিন ওকে বললাম, চল, একবার একটু ঘুরে আসি। আশপাশটাও দেখা হবে আর মন্দিরটাতে একবার ঘুরে আসব। প্রতিদিন এত সুন্দর সুন্দর ভক্তিগীতির সুর শুনি, মন্দিরটা নিশ্চয়ই সুন্দর বা মূর্তিটাও সুন্দর হবে।   সন্ধ্যার কাছাকাছি একদিন বেরিয়ে পড়লাম। গ্রাম্য পরিবেশের মাধুর্যের মধ্যে সুর লক্ষ্য করে হেঁটে চলেছিলাম দুজন। ৫-৭ মিনিট হাঁটতেই চলে এলাম মন্দিরের কাছাকাছি। আহামরি বিরাট কিছু না হলেও খুব ছোট নয় মন্দিরটা। সৌন্দর্যও বেশ। রাস্তার প...

তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন: রাজনীতি, স্মৃতি এবং ঘরে ফেরার অর্থ ।। ড. শিবাশিস মুখার্জি

তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন: রাজনীতি, স্মৃতি এবং ঘরে ফেরার অর্থ ড. শিবাশিস মুখার্জি প্রায় দুই দশক পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন কেবল একজন খ্যাতিমান লেখকের ঘরে ফেরা নয়। এটি এমন এক মুহূর্ত, যেখানে সাহিত্য, রাজনীতি, ইতিহাস, পরিচয় এবং অন্তর্গত হওয়ার মানবিক আকাঙ্ক্ষা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। কারও কাছে এটি বাংলা ভাষাভাষী বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানীতে নির্বাসিত এক বাঙালি লেখকের প্রত্যাবর্তন। আবার কারও কাছে এটি গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যে পূর্ণ একটি ঘটনা। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির মাঝখানে রয়েছে আরও জটিল এক বাস্তবতা—যা দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন প্রেক্ষাপটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং পরিচয়-রাজনীতির পরিবর্তনশীল সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। দক্ষিণ এশিয়ার খুব কম লেখকই তসলিমা নাসরিনের মতো অস্থির ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ জীবনযাপন করেছেন। তিনি একজন নির্ভীক নারীবাদী, ঔপন্যাসিক, কবি, চিকিৎসক এবং প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত, যিনি ধারাবাহিকভাবে পিতৃতান্ত্রিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক রক্ষণশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

বছরের বাছাই

মাসের বাছাই