"নোনাজলের নীরবতা" কাবেরী সুন্দরবনের ভোর মানেই পাতার ফাঁকে সূর্যের প্রথম আলো, দূরে বক–পাখির ডানা মেলা আর নদীর ওপর জমে থাকা কুয়াশার আস্তে আস্তে গলে যাওয়া। এই ভোর যেন প্রতিদিন একই থাকে— ওখানকার মানুষের চোখে তাই মনে হয়। প্রকৃতির রং বদলায় প্রতিটি ঋতুতে, কিন্তু জঙ্গল আর নদীকে ঘিরে যাদের জীবন বাঁধা, তাদের কাছে—এই ভোর যেন প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষার ডাক নিয়ে আসা। মলয়ার প্রতিদিনের ভোর এই ভাবেই শুরু হয়। পাশের ঘরে ছেলে রুদ্র আর মেয়ে মৌরী ঘুমিয়ে। স্বামী বলরাম নদীতে গেছেন রাতেই। জোয়ার নেমে যাওয়ার আগে জাল ফেলতে হয়, না হলে মাছের দেখা পাওয়া যায় না। দরিদ্র ঘরে এক ফোঁটা আয় হলেও সেটুকুর জন্য প্রাণপণ লড়াই করতে হয়। মলয়া উনুনে হাঁড়ি বসিয়ে বাতাসে চুল উড়তে দেখে ভাবে—জীবনটা কেমন যেন শুধু দৌড়। কেউ তাকে দৌড়াতে বলেছে এমন নয়, কিন্তু হাড়ে হাড়ে সে টের পায়, থেমে গেলে সব ভেঙে পড়বে। যেন থামা মানেই ডুবে যাওয়া শ্বাস নেওয়ার মতো যেন পরিশ্রম করাটাও বাধ্যতামূলক। --- ভোরের পর নদীর ধারে যাওয়ার পথটা মলয়ার চেনা। ঝোপঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে টিপটিপ শিশির পড়ছে। পথ জুড়ে শেয়ালের পায়ের দাগ, কোথাও হরিণের খোঁচা মাটি। স...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...