Skip to main content

বিজ্ঞানকাহিনি ।। টুইনি ।। আরজু মুন জারিন

নবপ্রভাত

বিজ্ঞান কাহিনি         

টুইনি  

আরজু মুন জারিন


অধ্যায়ঃ এক


তথ্য আর অনুশীলন এর মধ্যে যে ফাক টুকু আছে তা জুড়ে দিতে পারলে কেল্লাফতে। এই পৃথিবী চলে আসবে নিশ্চিৎ ওর হাতের মুঠায়। এমনকি এ ও আশা করছে সকল গ্রহ, নক্ষত্র তারকারাজি রা ওর সাথে আজ মত্ত হয়ে উঠবে আবিস্কার এর খেলায়। না শেষবারের মত দেখে নিতে হবে সকল যন্ত্রপাতি।
ওর বহু সাধনার আবিস্কার আজ সফল হতে চলেছে।
আয়নিক টিপ এরসাথে আনবিক চিপ এর সংযোজন। সমীকরণগুলি আবার দেখতে লাগলো অতি সতর্কতার সাথে। সামান্য ভুলে সব ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে। হ্যাঁ হ্যাঁ তথ্য গুলি নির্ভূল আছে। যন্ত্রপাতি ও সমীকরণ অনুসারে নির্মান করেছে ও। আশা করা যাচ্ছে এই টিপ চিপটি সঠিকভাবে কাজ করবে এবার। আগের কয়েকটি পরীক্ষায় ব্যর্থতায় মনটা একটু সংশয়ে আছে এইমূহূর্তে। ফিল্ডগুলোকে অপরিবর্তনীয় রেখেছে ও যাতে গোলকের সমীকরণটা সঠিক থাকে। এবার আস্তে করে সুইচটি নামিয়ে দিলো। চিপ আর টিপ এর সংযোগ স্থাপনের সাথে সাথে সেন্ট্রাল কোয়ার্জ চেম্বারের খাঁজ থেকে জ্বলে উঠলো আলোক শিখাটি। সাঁই করে চিপটি তারের সাথে ঘুরতে লাগলো এবার চতুর্দিকে। এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে থামলো আলোক শিখাটি।
হুররে। পাশে দাড়ানো ওর সহকারী চিৎকার করে উঠলো আবেগে।
আহ সফল হয়েছে ও অবশেষে।আবার ও দেখে নিলো সমীকরণটি স্পেস S-দূরত্ব D এ X, Y,Z সব ফিল্ডগুলিকে অপরিবর্তনীয় রেখেছে। এখানে ও এই সমীকরণে, E = m c2, E মানে শক্তি, m মানে বস্তুর ভর, এবং c2 আলোর গতি (প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ মাইল) তার নিজের সাথে গুণিত করে পৌছাতে হবে মঙ্গলে। 
উদ্দেশ্য মঙ্গল অভিযান।
ও আরবান জেরক্স। এক টুইনি । পৃথিবীর মানুষ অবহেলা করে যাকে দোআশলা বলে। মা পৃথিবীর মানবী আর বাবা মঙ্গল গ্রহের মানব। দুজনে কবে কোন অবস্থায় কিভাবে মিলিত হয়েছিলেন সেই ইতিহাস ওর জানা নাই। জানতে চায় ও না। শুধু ঘৃণার সাথে এই দোআশলা সত্তা নিয়ে ধুকতে ধুকতে বাঁচছিলো ও। ও না হতে পেরেছিলো এই পৃথিবীর বাসিন্দা না মঙ্গলগ্রহের। সবস্থানে মার খেতো আর ঘৃনা রোষের শিকার হতো ওর টুইনি অবয়বের কারনে। ঘৃণ্য পৃথিবীর মানুষ গুলো ওর খাড়া সজারুর সাদা চুলগুলো টেনে দিতো সবসময়ই। এমনকি অ্যাসাইলাম এর ওয়ার্ডেন ও যখন তখন ওর মাথায় টোকা মারেন উপহাস ভরে। মনে মনে এদের ও ঘৃনা করে। পালিয়ে মঙ্গলগ্রহে চলে যাওয়ার সুযোগ খোঁজে। বাবাকে সে কখন ও দেখেনি। শুনেছে মঙ্গলগ্রহের সবচেয়ে বড় অপারেশনাল মার্শাল টিম এর নেতা তিনি। তিনি মা সহ ওকে ত্যাগ করতে বাধ্য হন ওর জন্মের ঠিক পরমূহূর্তে ওদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে। একটু বড় হওয়ার পর মাকে লেখা বাবার সব চিঠি, তিনি ওকে পড়তে দেন। ওর ষোল বছর বয়সে মা ও ওকে ত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তখন থেকে ওর একা অ্যাসাইলাম এর এই বন্দী জীবন। সেই থেকে পরিকল্পনা করে যাচ্ছে পালাতে হবে এই পৃথিবী থেকে। যে করে হোক পৌছতে হবে ওর বীর মার্শাল এলিয়েন বাবার কাছে। বাবার কথা যখন আসলো ই। একটু পিছনে চলে যাওয়া যাক। মার কাছে থেকে বাবার সকল বীরত্বের গল্পগুলো আজ বলা যাক। 
ওর বাবা মঙ্গলগ্রহের বাইশতম প্রকোষ্ঠের সেনা ছিলেন যখন মায়ের সাথে প্রথম দেখা হয়। পরে ওর জন্মের পর তিনি সেনাপ্রধান হিসাবে উন্নীত হন যোগ্যতা আর কর্মদক্ষতার মাধ্যমে। মায়ের কাছে যেভাবে শোনা তখন মঙ্গলগ্রহের অনেক কক্ষ পৃথিবীর বড় দেশগুলোর তুলনায় ক্ষমতার শীর্ষে ছিল সকল ক্ষেত্রে। সেই প্রভূত্বের বিস্তার ধরে রাখতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্রেড সেন্টারে আক্রমন করে বসলো ওরা। ওই ভবনের ই এক ছোট ট্যাক্স ফার্মে কাজ করতেন ওর মা। আচমকা আক্রমনে বিল্ডিং টি যখন ধ্বসে পড়ছিল সব মানুষ এক এক করে ঝাপিয়ে পড়ছিল ভবনের নিরাপদ গুহাকক্ষে। ওখানে আর সকল বন্দীর সাথে যে সেনার জিম্মায় ওর মা এসেছিলেন তিনি ওর বাবা। ফেডারিখ রুডলফ। আজ এই নামটি পুরো বিশ্বে, মঙ্গলগ্রহে পরিচিত নাম। ওনার নাম আর কাজ গভর্নরের চেয়ে অধিকতর গুরুত্বের সাথে করা হয়। মা বলছিলেন বাবা নাকি প্রথম দিন থেকে অন্য সবার চেয়ে মাকে রক্ষার দিকে মনোযোগ দিয়ে রাখতেন। দুইজনের নাকি প্রথম দর্শনে প্রেম নামক বায়বীয় অনুভব হয়েছিল পরস্পরের জন্য। চিঠির এই জায়গায় ও হেসেছিলো মনে আছে। দুইজন সম্মুখ যুদ্ধের শত্রুর প্রেম। যাই হোক এই যুদ্ধ বাবার জীবনে আশীর্বাদ নাকি এনে দিয়েছিল আবার এই দায়িত্বের কারনে বাবার ওদের ত্যাগ করতে হয়েছিল। বন্দী শিবিরে থাকা অবস্থায় বাবা মার প্রেম নিয়ে আলোচনা চলে সবার মধ্যে। ওর মা দেখতে রাজকুমারীদের মত সুন্দর। আর বাবা বীরত্বে ব্যান্জনায় অ্যালিয়েনদের মত যান্ত্রিক কাঠামোর হলে ব্যাক্তিত্বে ছিলেন তিনি বেশ আকর্ষনীয় পুরুষ। এই দুইজন মনোহর পুরুষ রমনীর সন্তান হয়ে ও কেন এত কদাকার দেখতে হলো এ ও ভারী রহস্যময়। যাই হোক যা প্রাকৃতিক নিয়মে ওর মা গর্ভবতী হলেন। মাকে প্রশাসন মৃত্যূদন্ডের বিধান দেওয়ায় বাবা প্রশাসনের কাছে আপীল করে ওর মায়ের জীবন দান কামনা করেন তার মূল্য হিসাবে ওইসময়ে মায়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হন। এক সেনাদলের নেতৃত্বে মাকে পৃথিবীতে পৌছে দেওয়া হয়। বাবাকে এর পুরস্কার হিসাবে দেওয়া এক কক্ষের সেনাপ্রধান এর দায়িত্ব। একই দিনে নাকি চলছিল সম্বর্ধনা আর বিদায়ের পর্ব। সেই নাকি বাবার সাথে মায়ের শেষ দেখা। সেই একইদিন আজ সাঁইত্রিশ তারিখ মঙ্গলমাস ৪০০। আর ও তিনশ বছর পরের কথা। ওর বর্তমান বয়স ৩০১। আজ এখানে দাড়িয়ে এই প্রতিজ্ঞা ওর এই চার নম্বর গ্রহ মঙ্গলে ৪০০ মঙ্গল মাসের এই আজ মঙ্গলের সকল বার কোড অতিক্রম করবে ওর এই যান নিয়ে। এই যান দিয়ে বাবার হেড কোয়ার্টার এ ল্যান্ড করবে ও। 
"তুমি সাহস আর বীরত্বে তোমার বাবার মত হয়েছো টুইন। আরবানকে মজা মেশানো আদরে এ নামে সম্বোধন করে ওর সহকারিনীটি। সহকারিনী বলতে এ তার মায়ের বোন। সম্পর্কের বোন। ক্যালিফোর্নিয়া ট্রেড সেন্টারে মায়ের সাথে উনি কাজ করতেন আর সেই সময়ে মঙ্গলদের বন্দী শিবিরে উনি ও মায়ের সাথে বন্দী ছিলেন। ওর বাবা সম্পর্কিত অনেক তথ্য ওনার কাছে থেকে শোনা।
"কি ধরনের" একটু উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করে আরবান। বাবার প্রসঙ্গ আসলে তার পুরো অস্তিত্ব সজাগ হয়ে উঠে।
"এই যে কয়বছর ধরে অসীম সাধনায় এই সমীকরণটি ভাঙ্গার চেষ্টা করছিলে। মর্তের মানব হলে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতো। এলিয়েন ফ্রেডারিখ এর জীন তোমার শরীরে"। চেহারা বাবার মত হয়নি তোমার তবে স্বভাব বিলকুল ওর মত"
"বাবা মানুষটি কেমন" আমাকে বলবে একটু" এই মানুষটির কাছে আসলে দ্রবীভূত হয়ে যায় আরবান। অন্য কার ও কাছে তার এই আবেগ প্রকাশ করেনা ও মঙ্গলগ্রহ আর বাবা মা সম্পর্কে।
আলিজা খুব মায়ায় লক্ষ্য করে আরবানকে। ছেলেটা অনেক হালকা পাতলা। ঠিক মানুষদের মত দেখতে নয় আবার এলিয়েনদের কাঠামোর ও নয়। পরনের পোষাকে আভিজাত্যের বিন্দু চিহ্ন ও নাই। এ দিকে খেয়াল ও নাই। যেন রুপকথার প্রাণভোমরার গল্পের মত ওর প্রাণ আটকে আছে মঙ্গলগ্রহ আর বাবার সাক্ষাতে।
"বলছি নরম স্বরে বলে এবার। বিবরণে চলে যায় মঙ্গলগ্রহের দুর অতীতের এক ঘটনায়------
"মঙ্গল গ্রহ, সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ এবং একে "লাল গ্রহ" ও বলা হয়। এর কারণ হল এর পৃষ্ঠে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড (rust) বিদ্যমান। এটি একটি শিলাময় গ্রহ এবং এর বায়ুমণ্ডল খুবই হালকা। মঙ্গলে দিন-রাতের দৈর্ঘ্য এবং ঋতুচক্র সব পৃথিবীর মতোই, কারণ উভয় গ্রহেরই আবর্তন কাল এবং অক্ষীয় নতি প্রায় একই রকম। শুধু আমদের দিনে ওখানে রাত থাকে। আমরা প্রথম ওখানে যখন পৌছি একেবারে অভিভূতের মতই হয়ে গিয়েছিলাম। বাড়ী, ঘর বাজার, কাপড় চোপড় খাওয়া একইরকম। কিছু জিনিস ব্যাতিক্রম ছিল যা আমাদের চেয়ে বেশী বিদঘুটে রকমের ব্যাতিক্রমী"
"যেমন আরবান ঝুকে আসে কৌতুহলে। আগ্রহ আর উদ্দীপনায় তার চোখ জ্বলজ্বল করতে থাকে।
লোকাল মঙ্গলিয়ানদের প্রিয় খাওয়ার হল ডিনার শেষে এক জেলী সূপ। অনেকটা আমাদের পেট্রোলিয়াম জেলীর সাথে দুধ মেশালে যেরকম হয় সেই চেহারার ডেজার্ট। আর এনার্জি ড্রিংক বলতে লেক এর পাশ্বে লাল মাটি মেশানো পানি খায়।
অর্থাৎ ত্বড়িতে দাড়িয়ে পড়ে উত্তেজনায় আরবান। মাটি!! লাল মাটি !!! পৃথিবীর সাধারন পানীয় কি নাই ওখানে? এবারে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লো যেন ও। সে আবার ক্ষুধা তৃষ্ণায় পৃথিবীর মানুষ। 
"স্যামন, তুর্কী, লবষ্টার কি পাওয়া যায় না ওখানে? ওর প্রশ্ন শুনে আলিজা হেসে ফেললো এবার।
"পাওয়া যায় সবই পাওয়া যায় স্নেহে সহাস্যে বলে আলিজা।
সেদিনের ঘটনা বলি যেদিন ভালো করে ফ্রেডারিখকে আমাদের জানার সুযোগ হয়েছিল । একটা কাজে আমাকে আর আন্দ্রিলাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দপ্তর থেকে। একটা লিষ্ট নিয়ে আমরা দুজন মঙ্গলে আমাদের গৃহের সন্নিকটে শপিং কমপ্লেক্স এলাম। ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্র সংগ্রহ করে নীচে নেমে আমাদের বরাদ্দকৃত উড়োযান টিতে আসন নিতে যাবো তখন ই দেখলাম ফ্রেডারিখ এক গ্রুপ ট্রুপের সাথে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। এ ঠিক যেন সিনেমার দৃশ্য। দুজন ফ্রিজ হয়ে দাড়িয়ে রইলো একে অপরের দিকে তাকিয়ে। ওদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা মানুষ থেকে প্রকৃতি সবাই অনুধাবন করতে পারছিল। আমাদের যান এর কাছে ছিল এক অপরিত্যক্ত মাইন এর কুয়া। যানটিতে উঠতে আন্দ্রিলার গাউনের কোনা পায়ে বেধে ও কুয়ায় পড়ে যায়। ব্যাপারটা আকস্মিক সেকেন্ডের দ্রুততায় ঘটে গেল আমরা সবাই হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম। কি করার ভেবে পেলামনা খূঁজে। পরের মূহূর্তে ফ্রেডারিখ লাফ দিয়ে পড়লো কুয়ায়। 
হায় হায় বলে ওর ট্রুপের সব সৈনিক দৌড়ে এল। এই খনিটি হাজার ফুট গভীর। আমরা সবাই ওদের জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম প্রায়। সৈনিকরা দড়ি পাঠাচ্ছিল অনুমান করে। পরিবাহক ট্রাক আটকে সৈনিকদের গ্রুপ নেমে গেল পরিমাপক যন্ত্র পরিবাহক বেল্ট সহ। প্রায় ঘন্টাখানিক পরে দুজনের হাসিখুশী সতেজ মুখ দৃশ্যমান হল কুয়ার মুখে। দুজনের ই ভাষ্য ছিল খনিটি দশফুট এর মধ্যে বিরাট খাজে প্রথমে দুজনের পা আটকে গিয়েছিলো। পা খোলার চেষ্টা করতে ই পেল বড় সুড়ঙ্গ যার শেষ প্রান্ত মিশেছে লেকে। আন্দ্রিয়াকে বাঁচাতে ফ্রেডারিখ একইভাবে গড়িয়ে লেকে পড়তে বাধ্য হলেন। তাই সৈনিকরা প্রথমে খূঁজে পাননি। দুইজন যখন একসঙ্গে বেরিয়ে আসলো অন্যের সাহায্য ছাড়া সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের মত লাগছিল। ওখানে দাড়ানো সকলে বিস্ময়সূচক ধ্বণি করছিল। অপরাহ্নের হেলে পড়া রবির কিরণে দুজনের মুখ ছিল উজ্বল ও আলোকিত। একই সঙ্গে দুজনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল লেকের পানি সেবন করায়। দুজনকে পাশের হেলথ সেন্টার এ আনা হল সুশ্রুষার জন্য। আন্দ্রিয়ার শরীরের পানি নিস্কাষন হল দ্রুততায়। এইসময়টায় যা দৃষ্টি আকর্ষন হল পুরো সময়টায় ফ্রেডারিখ শক্ত মুষ্টিতে ধরে রেখেছেন আন্দ্রিয়ার হাত। আর ওঘন্টাখানিক পরে জ্ঞান ফিরে এল আন্দ্রিয়ার। সামনে ফ্রেডারিখকে ওর হাত ধরে বসে থাকতে দেখে লজ্জা পেয়ে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। চমকিত হয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে এবার স্বাভাবিক হয়ে বসলো ফ্রেডারিখ। এতক্ষনে ও ও লজ্জা পেয়ে সচেতন হল। এর পর থেকে আন্দ্রিয়াকে অনেক অন্যমনস্ক দেখতাম। একমাস পরে একদিন ফোন এল ফ্রেডারিখ এর। দেখা করতে চায় আন্দ্রিয়ার সাথে।
"ডেটিং এর প্রস্তাব" বিস্ময়ে বলে উঠে।
হ্যাঁ মুচকি হেসে বলে আলিজা। "যেহেতু আমাদের বন্দী শিবিরে থাকতে হত। বের হতে অনুমতি নিতে হত। একা কোথাও যাওয়ার অনুমোদন ছিলনা। এই অনুমোদন টা ও তৈরী করে দিল"।
"কে বাবা ফ্রেডারিখ?
"হ্যাঁ প্রতিদিন ওরা দেখা করতো সেই একই কুয়োর ভিতরে। এ করতো সতকর্তা স্বরুপ। যেহেতু ও দায়িত্বশীল পদে গ্রহ রক্ষার কাজে জড়িত ও চাইছিল না ওর ব্যাক্তিগত জীবন অন্যের আমোদ আর আলোচনার খোরাক হোক। কুয়ার ভিতরে লেকের পাশে ওরা প্রতিদিন সময় কাটাতো। আর বাহিরে আমি ওদের পাহারা দিয়ে রাখতাম। কেন যেন নিজেকে ওদের অভিভাবক মনে হত। প্রথম প্রথম আন্দ্রিয়াকে অনেক নিষেধ করতাম এ সম্পর্কে। বলতাম এ জানাজানি হলে তোমাদের দুজনের জীবন বিপন্ন হবে। যেহেতু তুমি বন্দী শিবিরে অবস্থান করো। স্বাভাবিক নাগরিকদের স্বাধীনতা তোমার জন্য অনুমোদিত নয়। আর ফ্রেডারিখ যেহেতু মঙ্গলগ্রহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল টিম এ কাজ করে একইভাবে প্রেম, সম্পর্ক ওর জন্য ও নিষিদ্ধ। তোমরা সাধারন সিভিলিয়ান হলে অসুবিধা ছিলনা। যাই হোক যে ভয়টা ছিল অবশেষে সেই দূর্ঘটনাটি ঘটলো। একদিন হেড অফিস থেকে এক জরুরী তলব এলো কাজের। সাধারনত এ বিশ্রাম এর সময়। এই সময়টায় সৈনিক সহ সব অভিযাত্রীদের বিশ্রামের জন্য ধার্য্য। সেদিন মঙ্গল রাডারে এক উল্কার দৃশ্যমান। প্রথমে অপারেশনাল টিম এর সকল সৈনিকটা বুঝতে পারছিলনা এ উল্কাটি কতটা বিপদজনক? বা এ মঙ্গল গ্রহের কতদুর নিকটবর্তী সীমানায় দাড়িয়ে তা বোদ্ধা কয়জন ও সঠিক বিশ্লেষনে ব্যার্থ হচ্ছিল। এ ব্যাপারে ফ্রেডারিখ আর দুজনের সাথে তথ্য ভিত্তিক নেতৃত্ব ও দিচ্ছিল। ওর প্রমোশান এর কথা ও শোনা যাচ্ছিল গত কয়দিন ধরে। তাই এই কয়ঘন্টায় উচ্চপদস্থ ও খূঁজছিল ওকে। আমার তিনজন এর অয়্যারলেস এ মেসেজ ট্র্যান্সমিট হচ্ছিল যা সম্পর্কে আমরা ছিলাম বেখবর। ট্রুপ এর এক দল খূঁজতে খূঁজতে সেই কুয়া আমার কাছে এসে পৌছলো। 
"হেই বন্দিনী তোমার সঙ্গিনী কোথায়"? চমকে তাকিয়ে দেখি আমাদের বন্দী শিবিরের প্রক্টর ও আছে সেনাদল এর সাথে। উপয়ান্তর না দেখে আমি বলে উঠলাম "আন্দ্রিয়া পড়ে গিয়েছে এই কুয়ায়"
"বল কি? আবার ও। এই এই কি লুকাচ্ছো? প্রক্টর ধমকাতে শুরু করলো আমাকে। আমি স্পষ্ট দেখলাম তুমি তোমার সঙ্গিনীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লে কোন ফোন পেয়ে"।
এই ওর ফোন সীজ কর। আমার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে বন্দী করা হল। ট্রুপের সদস্যরা ক্রেন দিয়ে কুয়ার ভিতরে নেমে গেল। সেখান থেকে দুজনকে পাকড়াও করলো ওরা। আন্দ্রিয়ার স্থানান্তর হল বিশেষ সেলে আর ফ্রেডারিখ এর হল কোর্ট মার্শাল। প্রথমে ওকে সাসপেন্ড করা হল আর্মস ডিপার্টমেন্ট থেকে। এই বিচার শাস্তি চললো আটমাস ধরে। একদিন অনেক ধরাধরি অনুনয়ের মাধ্যমে দেখা করতে সক্ষম হই আন্দ্রিয়ার সাথে। আমাকে দেখে হাউহাউ করে কেঁদে ফ্রেডারিখ এর কথা জানতে চায়। ওর নিজের অবস্থা সঙ্গীন এ দিকে কোন ও মনোযোগ নাই। শরীর দেখে বুঝতে পারলাম ওর পেটে সন্তান আছে। বড় অসহায় বোধ করলাম এই সময়ে। 
"ফ্রেডারিখ এর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে"? আলিজা বোন। ও আমার জন্য বিপদে পড়েছে। ওকে আমাদের সাহায্য করতে হবে"?
"কিভাবে !! আমরা তো বন্দী। হয়তো আমাদের শাস্তির মেয়াদ অতিক্রম হয়ে আসছিল। এখন আমাদের নুতুন মেয়াদের শাস্তি শুরু হয়েছে জান? আর তোমার এ বাচ্চা কি মনে হয়? ওরা দেবেনা দেখ। ছিনিয়ে নিবে।
না না বলে কাঁদতে থাকে এবার উচ্চস্বরে আন্দ্রিয়া।
"চুপ কর বন্দিনী এক প্রহরী বকে উঠলো।
সেল থেকে এসে অনেক চেষ্টা করলাম ফ্রেডারিখ এর দেখা পাওয়ার। 
"দেখা পেয়েছো" উত্তেজনা দমাতে না পেরে প্রশ্ন করে বসলো এবার আরবান।
"না দেখা পেলাম মঙ্গলগ্রহের থাকার শেষ দিন মার্শাল কোর্ট এর বাহিরে। মাত্র ঘন্টাখানিক আগে তোমার জন্ম হয়েছিল। একটা নভোযান দাড়িয়ে ছিল আগে ই ওখানে। আমাদের আদেশ করা হল যানে চড়তে। তোমার বাবাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি তোমাকে দেখার।ওইদিন আমাদের পৃথিবীতে পৌছে দেওয়া হয়েছিল। এরপরে আর তোমার বাবাকে আর দেখা হয়নি। টিভি নিউজে মাঝে মাঝে দেখি ওকে। টেলিপ্যাথিক কন্টাক্ট এ তোমার বাবা কথা বলে আমার সাথে দরকারে। 
সকাল থেকে সাজ সাজ রব।আজ ওরা দুজন আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রস্তত হয়েছে আবিস্কৃত যানটি মঙ্গলগ্রহের আকাশে ওড়ানোর।বহুদিন ধরে মঙ্গলগ্রহের আকাশ সীমানা বন্ধ পৃথিবীর মানুষের জন্য। আজ এই গোপন কোড ভাঙ্গতে যাচ্ছে আরবান আর আলিজা আর এ করবে মঙ্গলগ্রহের দুর্ধর্ষ এসপিওনাজ দের দৃষ্টিকে ফাকি দিয়ে। এবার আস্তে আস্তে সুইচ টা নামিয়ে দিল এবার আরবান। সুইচ আর ফিল্ড এর সংযোগ স্থাপনের সাথে সেন্ট্রাল কোয়ার্জ প্রকোষ্ঠের প্রতি খাজ থেকে দপ করে জ্বলে উঠলো আগুনের শিখা। আরবান এর দৃষ্টি তীক্ষ হয়ে উঠলো। ইনপুটে চাপ দিয়ে তাকিয়ে রইলো আউটপুট এর দিকে। এবার ওদের চমকে দিয়ে সা সা করে উঠে গেল ফিল্ড এর চার ডানা আকাশের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি। আগুন শিখাটি জ্বলতে লাগলো ঊজ্বল ম্যাগনেসিয়াম ফ্লেয়ারের মতই। একইসাথে এ ছিল বাতাসের মত শীতল।বৈদ্যূতিক বাতির তাপ ছিলনা তাতে একেবারে। সব দেখে শুনে সুইচটা অফ করে দিল আবার। এখন নয়। আর ও কিছুদিন যাক। আর ও পরীক্ষা নিরীক্ষার বাকী। পরের সপ্তাহ পার করলো ফিল্ড এর ডানাগুলির গতি আর ও দ্রুত করায়। অবশেষে এল ঐতিহাসিক মূহূর্ত টি। মেশিনটার চারটা ফিল্ড সংযোগ করে দিল সমীকরণ অনুযায়ী। আউটপুট টা যেন আয়ত্বের বাহিরে চলে না যায় তার জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে বিপরীত শক্তি এক দশমাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এখন যন্ত্রের গতিসীমা ৪১ কিলোমিটার এর ও বেশী। পৃথিবী থেকে মঙ্গলগ্রহের সর্বোচ্চ দূরত্ব ৪১ কিলোমিটার। তাই এর চেয়ে বেশী দ্রুতিতে ওড়ার চেষ্টা করলো। অবশ্য এখানে এক বিপদ ও রয়ে গেছে এই দ্রততায় ওড়ায়। পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব পরিবর্তনশীল, কারণ উভয় গ্রহই সূর্যকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরে। সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ৫ কোটি ৪.৬ লক্ষ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ দূরত্ব প্রায় ৪১ কোটি কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। দূরত্ব পরিবর্তিত হয় মঙ্গল গ্রহ ও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীর মত এবং কক্ষপথ সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, বরং উপবৃত্তাকার।এই উপবৃত্তাকার গতির কারণে দুটি গ্রহের মধ্যেকার দূরত্ব সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। মঙ্গলের কাছাকাছি পৌছতে দূরত্ব সর্বনিম্ন স্কেলে নিয়ে আসলো। নিরাপদে আরবান এর যানটি অবতরণ করলো মঙ্গল ভূপৃষ্ঠে তার বাবার জন্মভূমি বাবা এবং সকল এসপিনাজ এর দৃষ্টিকে ফাকি দিয়ে। যান থেকে নেমে দুজন মনের আনন্দে চিৎকার করে উঠলো। চারিদিকে বিভিন্ন রঙের মাটি আরবানকে অবাক করে তুললো। একটা বড় জানালা দেওয়া ঘরে ঐতিহাসিক তথ্য দেওয়া আছে মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কিত। গুগলে পাওয়া একই তথ্যই পেল এখানে। নুতুন কোন তথ্য নাই। আলিজার কাছে শুনেছে মঙ্গলের ওরা সধারনত সাম্প্রতিক ইতিহাস ও তথ্য গোপন রাখার পক্ষ্যে।
পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মাঝখানের গেট এ পাওয়া মঙ্গল সংক্রান্ত তথ্যগুলি ঝালিয়ে নিলো ওর মিনি ল্যাপটপটিতে
সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ হচ্ছে মঙ্গল। পৃথিবীর মতো মঙ্গল গ্রহেও রয়েছে বায়ুমণ্ডল। রয়েছে পাহাড়-পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মরুভূমি ও মেরুদেশীয় বরফ। 
১. এই গ্রহে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের রং নীল।  
২. এখানে বায়ুমণ্ডলে খুব অল্প মাত্রায় অক্সিজেন রয়েছে।পৃথিবীতে একবার শ্বাসের সঙ্গে মানুষ যে পরিমাণ অক্সিজেন নেয়, মঙ্গল গ্রহে একই পরিমাণ অক্সিজেন নেওয়ার জন্য কমপক্ষে ১৪ হাজার বার শ্বাস নিতে হবে।
৩. এখানে তরল পদার্থ স্থায়ী হতে পারে না। এখানে বায়ুর চাপ ও তাপমাত্রা খুবই কম। ফলে পানির অণুগুলো বাষ্প রূপে ছড়িয়ে পড়ে, নয়তো বরফের আঁকার ধারণ করে।
৪. পৃথিবীর মতোই মঙ্গল গ্রহের দুই মেরুতে বরফ রয়েছে। এসব 'ড্রাই আইস' বা শুষ্ক বরফ। শুষ্ক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপকেই ড্রাই আইস বলে। অনেক কম তাপমাত্রায় এবং কম চাপে গ্যাসীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড রেখে দিলে সেটি তরলে রূপান্তরিত না হয়ে সরাসরি কঠিন পদার্থের আকার ধারণ করে। এ ড্রাই আইস গরম পরিবেশে তরল না হয়ে আবার সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়। তাই প্রতি বসন্তকালে মঙ্গলগ্রহের মেরুদেশীয় বরফ উধাও হয়ে যায়।
৫. এখানে বালুঝড় সংঘটিত হয় । এসব বালু ঝড়ের উচ্চতা তিন মাইল পর্যন্ত হয়।  
৬. মঙ্গলগ্রহের দুই উপগ্রহ ডেইমস ও ফোবসের আকৃতি এতোই ছোট যে মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে এদের অনেক সময় দেখাই যায় না।
৭. মঙ্গলের মাটিক্ষয় অনেক ধীরে হয়। ফলে উল্কাপাতে সৃষ্ট গর্ত সেখানে পৃথিবীর চেয়েও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়।  
৮. সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপত্যকা মঙ্গলগ্রহ। প্রায় ২৫০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত এ উপত্যকা ।
৯. লাল রঙ ছাড়া ও এর মাটিতে সোনালি, বাদামি, হলুদ, সবুজসহ নানা রঙের মাটি আছে।
১০. এইগ্রহের বেশ কিছু পাথর আছে যা বড় আকৃতির উল্কার সাথে আঘাতের ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণে পাথরগুলো তৈরী হয়েছিল।  
সূত্র বাংলা নিউজ

অধ্যায়ঃদুই

একটু মাথা ব্যাথার মত হচ্ছে ওর। এ ও বিস্ময়কর তথ্য এ গ্রহের জন্য। এ শুনলে সেনাপ্রধান এর পদ থেকে নিঃশ্চিত অব্যহতি দেওয়া হবে। সে নিজে ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে তার এই লৌহকঠিন যান্ত্রিক শরীরে শারীরিক মানসিক অনুভব এর অবস্থান কোথায় লুক্কায়িত আছে? ওই পৃথিবীর মানবীটি তাকে এলোমেলো করে দিয়েছে যেন একেবারে। বাহির থেকে তিনি এখন ও বেশ কঠিন, দুর্ধর্ষ দায়িত্ব পরায়ন এক সেনাপ্রধান। কিন্তু ভিতরে তিনি নুয়ে গিয়েছেন একেবারে। ফ্রেডরিখ রুডলুখ এখানে ৪০০ মঙ্গল কক্ষের সবচেয়ে দক্ষ যোগ্য যুদ্ধবাজ সৈনিক সেনাপ্রধান। বিষন্ন মনে আজ ও হাটছিল এই টানেল এর ভিতরে। টানেল এর শেষপ্রান্তে একটা ঝুলন্ত দোকান। ওখানে কিছু মানুষ জটলা করছিল। ও না মানুষগুলো খেলছে। এ এই গ্রহের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক খেলা। এ চতুর্মাত্রিক ধাবমান ঘূর্নায়মান খেলা। এ এক স্কয়ার ধরনের মেশিন। যার চার মাথায় চারজন পার্টনার বসে। ওদের পাশে আরেক স্কয়ারে থাকে চার কর্ণারে থাকে চার অ্যানড্রয়েড ডিভাইস। মানুষের স্কয়ারের চেষ্টা থাকে কম্পিউটার এর স্কয়ারটিকে পরাজিত করার। পরাজিত করতে পারলে এক বিশাল স্কয়ার বাক্স হীরার স্তুপ পাওয়া যায়। এ অনেকটা রেস, জুয়ার মত। এতে যেমন কেউ বিশাল ধনী হয়ে যায় কেউ অমানবিক মৃত্যূবরন ও করে। প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান চেজ করতে করতে হাত, পা শরীরের অঙ্গহানির সাথে মৃত্যূর মত ঘটনা ঘটে। 
"হেই ফ্রেডারিখ আমার পার্টনার হবে? সিমকিন তাদের ডিআইজি স্যারের মেয়ে।ভারী উড়নচন্ডী। পুরুষের সকল বিপদজনক গেম এ তার অংশগ্রহন করা চাই পুরুষদের টেক্কা দিতে। এই পাগল মেয়েকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে পালাতে নিচ্ছিল ফ্রেডারিখ সামনে এসে পা ফাঁক করে দাড়িয়ে পড়লো যোদ্ধার ভঙ্গিতে।
"ও ভয় পেলে বুঝি? বিরক্তির একশেষ এই পাগল। জবরদস্তি এই নিম্নমানের গেম এ ওকে বসানোর চেষ্টা। এত কথা বলে ব্যাখ্যা করতে ইচ্ছা হয়না। ভয় শংকা জিনিস এর অস্তিত্ব যে তার জীবনে নাই তা বুঝিয়ে বলতে উৎসুক হলনা। শংকা ছিল আন্দ্রিয়া থাককালীন সময়টিতে।সারাক্ষণ ওর বিপদ আশংকা ওকে সকল ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করার দায়িত্বে থাকায় সাহসী হওয়া স্বত্বেও একধরনের ভয় ঘিরেছিল সে সময়। আন্দ্রিয়া চলে যাওয়ার সাথে ভয়টা ও চলে গিয়েছে চিরতরে ওর। 
"ফ্রেডারিখ আসো আসো আজ আমার ও খেলতে ইচ্ছে হচ্ছে বলে উঠলেন রালফ হুডলম ওর বস সিমকিন এর বাবা। আর নিষেধ করার উপায় নাই। ওনার এক বন্ধু জয়েন করবেন বলছেন আমাদের সাথে। পরিচয় করে দিই ইনি হলেন হ্যারল্ড জেফারসন। আমার বাল্য বন্ধু। আজ তোমরা তরুণ দুইজন বিটা- বি-৬ বসবে আর আমরা প্রবীণ দুজন ডেল্টা-ডি-৬ এ। জমবে খেলা। তোমরা ক্লক ওয়াইজ হুইল ঘোরাবে আমরা এন্টি ক্লক ওয়াইজ ঘোরাবো। চারজন বিপরীত দিকে দুজন করে বসলো। এই গেম বিল্ডিংটি পুরো সিলিকন সিলিকন রাসায়নিক উপাদান এ তৈরী। এ পর্যায় সারণীতে একটি উপধাতু হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। এ একটি কঠিন, চকচকে, ধূসর রঙের উপাদান, যা সাধারণত অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃার হয়। এই বিল্ডিং এর পাশে আছে বিশ্বের সবচেয়ে নয়নাভিরাম ভবন নাম ট্রান্স টেরেসট্রিয়াল। দুইটি বিল্ডিং ও কোন কার্টেন ঝোলানো হয়না কখন ও। ভিতরের মানুষ পরস্পরকে দেখতে পায় অনায়াসে। এ যমজ দালানের দেয়াল, জানালা বিভিন্ন অয়ার কেবল এ সংযোগ করা হয়েছে পৃথিবীর ও মঙ্গলগ্রহের সকল সাইকোলজিষ্ট এর মাধ্যমে। তাতে সবাই একে অপরের সাথে টেলিপ্যাথিক কন্ট্যাক্টে কথা ও বলতে পারে। ভবন দুইটির ভিতরে একটানা মধুর তাল বেজে যাচ্ছে। তালে একটা মোহাচ্ছন্ন আছে। দেয়ালের দিকে ঝুলানো এক বিশাল আকৃতির পিয়ানো আছে। তাতে বাদক আচ্ছন্ন হয়ে যেমন বাজাচ্ছে পিয়ানোর কর্ডে তেমনই ভবনে অবস্থিত সকল শ্রোতা মূহ্যমান হয়ে আছে বাজনার আবহে। অনেকের চোখ আধবোজা হয়ে আছে সূরের মূর্ছনায়। এখানের সঙ্গীত সকলকে ই এভাবে প্রভাবিত করে।ফ্রেডারিখ এখানে প্রথমে আসতে না চাইলে ও এখন আর সকলের মত সূরের আবেশে আবিষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভবনটাতে এক স্বর্গীয় আবেশ ছড়িয়ে আছে। শেষবারের মত পিয়ানোর কিবোর্ড শিল্পীর আঙ্গুল দ্রুত ছুঁয়ে গেল। তারপর ই বাজনা থেমে গেল আচমকা। ঝুলন্ত ষ্টেজ দখল করে দাড়ালো এই ভবন প্রধান আনাবেলা আসলাম। স্বচ্ছ জল রঙের হীরক চূর্ণ খচিত অপূর্ব এক গাউন পরে আছেন। সবাই নিশ্চুপ তাকিয়ে আছে এই ষ্টেজ এর দিকে। ফ্রেডারিখ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাড়ালো। হারল্ড জেফারসন একটু বিরক্ত চোখে তাকালো। এ তেমন পছন্দ করেনা ফ্রেডারিখকে।
"মিউজিকটা সুন্দর না? জিজ্ঞেস করে ফ্রেডারিখকে। ফ্রেডারিখ কেমন জানি আচ্ছন্ন হয়ে আছে আজ অন্য কোন ভাবনায়। 
হ্যাঁ কি? দ্বিধাগ্রস্ত ফ্রেডারিখ। মিউজিক টি জেফারসন একটু তাচ্ছিল্যের সাথে জরীপ করছে ফ্রেডারিখকে। মনে মনে ঘৃনা করে এই সেনাপ্রধানকে। বন্ধু রালফের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে গিয়ে একে গুরুত্ব দেওয়ার অভিনয় করে। আর ও বাইশ বছর আগে এর দন্ড দেওয়া হয়েছিল। রালফ প্রভাব কাটিয়ে ওর দন্ড মওকুফ করেছিল। শুধু দন্ড মওকুপ করে ই ক্ষান্ত হননি রালফ। ফ্রেডারিখকে চারটা গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রনালয় সহ যুদ্ধ পরিচালনার সকল কার্য ক্রম পরিকল্পনার দায়িত্ব ও দেওয়া হয়েছে যার ঘোরতর বিরোধী ছিল জেফারসন। 
"মন্দ নয়। সূরে নির্দিষ্ট লয় আছে"। হুম একটু ঘোত করে উঠলো যেন জেফারসন। যেন সংগীত এর মাষ্টার এসেছে। তাদের সঙ্গে আরেকজন জয়েন করেছে। যিনি এতক্ষন পিয়ানোবাদকের সাথে বেহালা বাজাচ্ছিলেন।
"কিসের এত তর্ক হচ্ছে এখানে? বলে আলোচনায় অংশগ্রহন করলেন তিনি। লোকটি নিজের পরিচয় দিলেন "আমি এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড টেরেস্টিয়াল এর বাসিন্দা। 
"না ফ্রেডকে জিজ্ঞাসা করছিলাম এই সংগীত এর অনুভব নিয়ে"। বললেন জেফারসন আগের মত ঘোত স্বরে।
"আমাকে মাপ করতে হবে।লাপ দিয়ে দাড়িয়ে পড়লো ফ্রেডারিখ আর কোন ও বাদানুবাদের সুযোগ না দিয়ে। এক টা জরুরী কাজ করার ছিল যা করতে ভুলে গিয়েছি।
"দাড়াও দাড়াও সিমকিন তার পথরোধ করে দাড়ালো ওর। আমি ও আসছি। 
"তুমি না গেম খেলবে বলছিলে। তোমাদের চারজন পার্টনার দরকার ছিল। এখন তো হয়ে গেছে। সিমকিনকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করলো। এই গায়ে পড়া মেয়েটাকে ওর অনেক বিরক্ত লাগে। ওর বস সিমকিন এর বাবার কারনে মেয়েটিকে মেনে নেয়। বিরক্তিকর! আজকের শান্ত বিকাল এর কারনে নষ্ট হয়ে যাবে।
"ফ্রেড আমার সাথে একটু ব্লু লেক এ যাবে? একটু আহলাদী স্বরে সিমকিন।
"দুঃখিত আজ নয় ।কাল। বড় ক্লান্ত আমি। একটু জিরিয়ে নিতে চাই"।
"তাই তো চাচ্ছি সোনা তোমাকে ব্লু লেক এ ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে। সিমকিন জেদের সাথে বলে। বাবা বস ফ্রেডারিখকে আদেশ দেয় যে কোন ও কাজের। মেয়ে ও এখন যেন বাবার পজিশন হস্তগত করার চেষ্টা করছে।
রালফ ও যেন মেয়ের আবদারকে প্রশ্রয় দেওয়ার সুরে বলে উঠলো "ফ্রেড যাওনা ঘুরে আস। কাল তো উইক এন্ড। কাজ ও নাই। অগত্যা সিমকিন সহ রওয়ানা হল ব্লুলেক এর দিকে। 
ব্লুলেক স্থানীয়ভাবে নাম রোটোমায়ারওয়েনুয়া হলো এই গ্রহের অন্যতম স্বচ্ছ হ্রদ, যার জল এতই পরিষ্কার যে প্রায় আটশ মিটার গভীর পর্যন্ত দৃশ্যমান। এ হিমবাহ ও ঝর্ণার পানি দ্বারা গঠিত এবং প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ থাকে, যা শান্ত জলের লেক হিসেবে পরিচিত। এ বিশাল আয়তনের পরিস্কার লেকের পানি মূহুর্তেতেই সবার মনকে শীতল করে তোলে। লেকের পাশে চাঁদের মতো অভিঘাত খাদ, উপত্যকা ও মরুভূমি এবং মেরু অঞ্চলে বরফ দেখা যায়। এখানে ও দিনরাত্রির সময়কাল ও ঋতুচক্র পৃথিবীর অনুরূপ, তবে বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত হালকা এবং প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইড দ্বারা গঠিত। ওদের এই গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয় কেননা এর মাটিতে আয়রন অক্সাইড আছে। লেকের পানিতে বসতে বসতে এক গোলমাল এর আওয়াজ পেয়ে অনুসন্ধিষ্ণু হয়ে তাকালো। প্রহরীটা এক ময়লা উলুঝুলু কাপড় পরা মুখ ঢাকা একজন মানুষকে টেনে হিছড়ে নিয়ে আসছে। শারীরিক আকৃতিতে মনে হচ্ছে কোন মেয়ে। ওদিকে তাকিয়ে আবার লেক এর সৌন্দর্যের দিকে মনোনিবেশ করলো। কি এক অস্বস্তিতে তার মনটা খচখচ করতে লাগলো। সিমকিন একতরফা বকতে লাগলো।
"এই মিউজিকটা পছন্দ হয়নি তোমার? না জিজ্ঞাসা করে সিমকিন।
"না আমি এত সমঝদার স্রোতা নই। শুধু এটাই বুঝলাম একটা স্বরলিপি বারবার বাজাচ্ছে।বলে ফ্রেডারিখ।
"গ্রেট। ও তুমি তাহলে সংগীত টা বুঝেছো। এ হচ্ছে মনো নির্ভানা মিউজিক। এ স্রোতাদের স্নায়ুকে শীতল করতে ব্যাবহার হয়। আসল মিউজিক হচ্ছে এখন। আমরা মিস করে চলে এসেছি। থাকবে না থাকবে না করে প্রায় দুইঘন্টা কাটালো এই ব্লু লেক এ। সুস্বাদু সার্ডিন আর লবষ্টার সালাদে ডিনার সারলো। রাত হতে ওর ঘরে ফিরে এল।
গেট এর সিকিউরিটি জানালো অ্যাডাম এসেছিলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে চলে গিয়েছেন একটু আগে। 
পরক্ষণে আবার বললো এক পরিচারিকা দিয়ে গেছেন। আপনার টেবিলে নোট লিখে রেখে গেছেন। আজ তার ঘরটা বেশ ছিমছাম পেল ফ্রেডারিখ।একজন অল্পবয়সী তরুন অ্যাসিস্টেন্ট থাকে তার কাজে সহযোগিতার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত্য। ওর নাম অ্যাডাম। আজ বারবার অ্যাডামের নাম ধরে ডেকে কোন ও সাড়া পেলনা। ডাইনিং স্পেস এর কাছে মনে হল খাওয়ার ঢেকে রাখা আছে। ঢাকনা সরাতে রুচিকর খাওয়ার গন্ধে তার রসনা উম্মুখ হয়ে উঠলো।
"অ্যাডাম কোথায় তুমি। হরেক রকমের ভাজাভুজি রুচিকর কাবাবের সাথে লবষ্টার স্যূপ, বিফ স্টু তার সাথে মৌসুমী ফলের কয়রকম ডেজার্ট ও ব্যাবস্থা করেছে দেখছি। আর অপেক্ষা করলো না। খেতে বসে গেল। যদি ও আজ দুপুরে ও হেভী লাঞ্চ করা হয়েছিল ব্লুলেক এর রেষ্টোরেন্ট এ। কেন জানি ক্ষুধার্তবোধ করলো আবার ও। সম্ভবত ব্লু লেক এর খোলা তাজা হাওয়া সেবনের জন্য। খেতে খেতে মনে হল কিচেন থেকে শব্দ আসছে। 
"কে অ্যাডাম নাকি? কোন শব্দ না পেয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দিল। খাওয়া শেষে বিছানায় চলে এল আজ তাড়াতাড়ি। ঘুমিয়ে পড়লো দ্রুত। ঘুমের মধ্যে এক মধুর স্বপ্ন দেখলো। ঘুম থেকে উঠে গেলে স্বপ্নের রেশ তাকে ছেড়ে গেলনা। 
"আহা আমার মধুযামিনী! কতদিন পরে তোমাকে দেখলাম ।স্বপ্নে ও তুমি ভারী জীবন্ত। মনে হয় তুমি আমার আশেপাশে ই আছো। ডাইনিং স্পেস থেকে এক খুটখুট শব্দ আসতে সচকিত হতে বিছানা থেকে উঠে দাড়ালো। ডাইনিং রুমের দরজার কাছে কালো পোষাকে এক অবগুন্ঠনধারীকে দেখতে পেল। তার ঘরের ভিতরে এ কে? মুখ ঢেকে আছে কেন?
"এই কে তুমি? মুখ ঢেকে আছো কেন? অবগুন্ঠনবতী শালটিকে মাস্ক এর মত করে মুখ ঢেকে নিয়ে সামনে আসলো। একটা কাগজ ওর সামনে মেলে ধরলো। কাগজটিতে আ্যাডাম এর লেখা এক মেসেজ।
"এই মেয়েটিকে আপনার পরিচারিকা হিসাবে নিয়োগ দিয়ে গেলাম। এ আমার কথা বোঝেনা বলতে ও পারেনা। একজন আ্যানড্রয়েড পরিচারক এর সমান দক্ষ কর্মী ও…….আ্যাডাম।
"কফি অ্যালোভেরা বানাতে পারো? অবগুন্ঠনবতীর উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলো।
মেয়েটি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো। ভিতরের কিচেনে চলে গেল ও। কিছুক্ষনের মধ্যে ট্রে তে করে কুকি আর চা এনে ডাইনিং টেবিলে রাখলো। চা কফি খেতে খেতে ফোন এল দপ্তর থেকে। তাড়াতাড়ি তাকে বর্ডার এ আসার জন্য আদেশ করা হল। বর্ডার এর কাছাকাছি পৌছতে দেখলো চারিপাশে সীল করে রাখা হয়েছে। এক সৈনিক ট্রুপ এর একজন এসে চিহ্নিত জায়গাটি দেখিয়ে বললো "স্পষ্টত এখানে এক যান অবতরন করেছিল লর্ড। এখান থেকে আবার অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে"। 
"কিন্তু যান তো ভৌত হবে। এ যদি এখানে আসে কোথায় যাবে? আমাদের শক্তিশালী রাডারে এর দৃশ্যমান হওয়ার কথা"
"সে আমি ও ভাবছি মাই লর্ড। পৃথিবীর ধুরন্ধর কোন ও বিজ্ঞানী যদি এসে ও থাকে ওর যান কোথায়?" ফ্রেডারিখ আনমনা ও যায় কিছুক্ষণের জন্য। সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত এদিক ওদিক চারিদিকে সার্চ করার পর কিছুই মেলেনা। পরেরদিন সকাল পর্যন্ত হেডকোয়ার্টার ফ্রেডারিখ সহ সকল বড় অফিসাররা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল এ কোন যান নয় হয়তো পৃথিবীতে বড় কোন ভূকম্পন হয়েছে যার প্রভাবে এখানের মাটি এলোমেলো হয়ে আছে। বা হয়তো আগের যানের চাকার দাগ যা মাটির নীচে ছিল যা ধুলো ঝড় বা ভূমিকম্পের প্রভাবে নীচের মাটি উপরে উঠে এসেছে। বিকালের দিকে আজ ও চলে এল ফ্রেডারিখ ট্রান্স ওয়ালেজ ভবনে। ফোর-এম-চেজ খেলাটার জন্য নয়। এই ভবনে সবাই এই চিত্তাকর্ষক খেলা খেলতে আসে। খেলাটা কিভাবে খেলতে হয় জানলে ও ফ্রেডারিখ কখন ও এই খেলায় অংশগ্রহন করেনা। এক বৃত্তাকার চাকতিতে বারজন লোক হাত ধরে ঘুরতে থাকে। চাকতির মাঝখানে এক অ্যানড্রয়েড কম্পিউটার ঘুরতে থাকে। সবার চেষ্টা থাকে এই ডিভাইসটিকে টেক্কা দেওয়ার। বারজন কিপুশার ছয়জন করে দুই মেইন পুশার হয়ে কমপ্রেশার প্রেশার দিচ্ছিল। এই গ্রুপের মধ্যে একটা ছেলে ফ্রেডারিখ এর দৃষ্টি আকর্ষন করে নিল তার অদ্ভুত মুখশ্রী আর তার চিৎকার এর কারনে। ছেলেটি কমপ্রেশার বোর্ডকে ঠেলে ধরে রাখলো একা চিৎকার করে বলতে লাগলেন " আর বেশী আনবেন না কাছে প্লিজ! দূর্ঘটনা হতে পারে। ওর পাশের ছেলেটি তাতে পাত্তা না বিয়ে কমপ্রেশার বোর্ড কে জোরে ঠেলতে শুরু করলো। "দাড়ান দয়া করে ছেলেটি আবার চিৎকার করলো দলের উদ্দেশ্যে। আমি কিগুলি সেট করেছি এমনভাবে যাতে আমরা দুইদল ক্লকওয়াইজ অ্যান্টিক্লক ওয়াইজ ঘুরবো। অন্যথায় আমাদের দুইদলের সংঘর্ষে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। অবস্থানটা চিত্তা করতে যথাযথ মনে হয়েছে ফ্রেডারিখ এর ও। আজ ফ্রেডারিখ উল্লসিত হয়ে খেলা দেখতে লাগলো। বাহবা দিতে লাগলো আগন্তক তরুণটিকে।
"হ্যাঁ হ্যাঁ তোমার কি দুটো সরিয়ে থিটা সি-৬ থেকে গামা জি-৬ তে নিয়ে যাও। কম্পিউটারকে টেক্কা দিতে পারবে। এতক্ষণে তরুণটি দেখলো ফ্রেডারিখকে আবার গভীরভাবে দেখলো কিগুলি। পাশের জনকে কি টি বুঝিয়ে দরজা খুলে লাফ দিয়ে দাড়াল ফ্রেডারিখ এর সামনে। ফ্রেডারিখ চকিত হয়ে উঠলো। দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে পারছে না কেন যেন ও। এই ছেলেটি কে? কোথা থেকে এসেছে? এ কে আজ ই প্রথম দেখতে পেল। এখানের এই বয়সী সব ছেলে কে চেনে ফ্রেডারিখ। 
"তুমি এখানকার ছেলে? সন্ধিগ্ন দৃষ্টিতে প্রশ্ন করে ফ্রেডারিখ ছেলেটিকে। ছেলেটি একটু হকচকিয়ে গেল। অন্তত ফ্রেডারিখ এর তাই মনে হল। "সব বলবো। আমার আপনার সাহায্য দরকার। আমি ওই দক্ষিণ থেকে এসেছি। খুঁজতে বেরিয়েছি আমার মা আর বাবাকে।
"তোমার মা কোথায়? কোথা থেকে এসেছো? 
"মা কোথায় গেছে জানিনা। মার কাছে শুনেছি আমার বাবা এখানকার এক রেজিমেন্ট এর প্রধান।" নাম? ফ্রেডারিখ এর স্বর কেঁপে যায়। হঠাৎ ওদের চারিপাশে একদল সেনা অস্র তাক করে ছেলেটিকে ঘিরে দাড়ালো। " মহামান্য এ ছেলে শত্রুশিবির থেকে এসেছে। মহামান্য রালফ আদেশ করেছেন একে বন্দী বানাতে" 
"আপনি কে জানিনা। দয়ালু মনে হচ্ছে। অনেক বছর আগে আপনার মত এরকম একজন আমার মা কে বাঁচিয়েছিলেন। আমি ওর কাছে এসেছি।ওকে নিয়ে মাকে খুঁজবো। আমার ধারনা মা এখানে এসেছেন ওর খোঁজে। ফ্রেডারিখ ঠোটে আঙ্গুল রেখে ফিসফিস করে বলে "তুমি ওদের সাথে যাও। আমি কাল ই তোমাকে ওদের হাত থেকে উদ্ধার করে তোমার মার খোঁজে যাব। সৈনিকরা টেনে হিচড়ে ছেলেটিকে নিয়ে চললো।
সময়ঃরাত দশটা স্থানঃমঙ্গল সেনাপ্রধান আবাসন 
খেতে বসেছে ফ্রেডারিখ। আজ ও টেবিলে প্রচুর উপাদেয় খাবারে পূর্ণ। অবগুন্ঠনবর্তী আজ ও দরজার কাছে দাড়িয়ে। খাওয়ার একটু নাড়চাড়া করে উঠে এল। কিভাবে ছেলেটির সাথে দেখা করবে বুঝে উঠতে পারছেনা। বারান্দা, শয়নকক্ষে পায়চারী করে যাচ্ছে অস্থির হয়ে। গেট প্রহরী এসে জানালো অ্যাডাম এসেছে দেখা করতে।
"কি জরুরী তলব মহামান্য " অ্যাডামকে ছেলেটির ব্যাপারে সব খুলে বললো "ওকে আমি বলেছি যে কোন ভাবে কাল ওকে বের করে ওর মা কে খূঁজতে যাব"।
"আপনার ধারনা ওর মা মিসেস ফ্রেডারিখ আপনার মহামান্যা" অ্যাডাম আবেগে জিজ্ঞাসা করে। অ্যাডাম প্রভুর দুঃখ. কষ্ট সকল বেদনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। "আমি প্রথমে খেয়াল করিনি এখন নিশ্চিত আমি অ্যাডাম ও আমার সন্তান। ও আন্দ্রিয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে"। 
"না ভিতরের রুম থেকে কার অস্ফুট চিৎকার তার সাথে পতন এর আওয়াজ পেতে দৌড়ে এল ওরা।
ভিতরের রুমে পড়ে আছে মেয়েটি মূর্ছিত হয়ে। ওর অবগুন্ঠন সরে গিয়েছে। ওর মুখ দেখে কোন রকমে নিজের পতন সামলালো ফ্রেডারিখ। "আন্দ্রিয়া" আহা আজ কি আমার সব পাওয়ার দিন না চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার দিন? অবশের মত আন্দ্রিয়ার পাশে বসে পড়লো। পানির ঝাপটা দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনতে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো 
"আমার ছেলেকে বাঁচাও। আর কিছুই চাইনা তোমার কাছে। দয়া কর। আরবান ও তোমার ছেলে। আন্দ্রিয়াকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে বেরিয়ে এল দুজন একসাথে। বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করতে থাকলো একের পর এক দুজনে। দুইজনে দুজনকে ফ্লপ বলতে লাগলো। অবশেষে বলা যায় দুজন মিলে প্রানঘাতী এক পরিকল্পনা করলো যা দুজনের মনোপূত হল। কেননা এ ছাড়া আর কোন উপায় খোলা দেখতে পেলনা চোখের সামনে। 
সময়ঃ রাত দশটা, মঙ্গল টঙ্গো সেলঃ 
প্রহরীরা ওদের দেখে দরজা খুলে দিল সন্দেহ না করে। সেল এর প্রহরী দৌড়ে আসলো ওর দিকে 
"কি স্যার কোন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার? না আমাদের রেগুলার টহলে আজ এই সেলটা পড়েছে। চল আমার সাথে আসামীদের সাথে কথা বলি। অ্যাডামকে চোখ ইশারা করে দিল। ঠিক হয়েছে অ্যাডাম সেল এর ভিতরে কয়েদী আরবান এর পোষাক নিয়ে পরবে। ওর পোষাক অ্যাডাম পরে আপাতত ঘন্টাখানিক এর ছদ্মবেশ এ থাকবে। তারা দুজন এই আশা করছে প্রহরীরা অ্যাডাম আর আরবান এর মুখ প্রহরীরা নিশ্চয় মুখস্থ করে রাখেনি। কাজে অদলবদল খেয়াল করবে না। সকালের আগে ওদের যানে করে পৃথিবীতে পৌছে দিতে হবে যে করে হোক। তার আগে অ্যাডামকে মুক্ত করতে হবে অবশ্যই। পনের মিনিট এর মধ্যে দ্রুত সেল ভিতরে ঢুকে গেল অ্যাডাম। 
"শোন কথা বলার সময় নাই। এই নাও আমার আইডি কার্ড। তোমার নাম এখন অ্যাডাম ফ্রেডারিখ এর অ্যাসিস্টেন্ট। অ্যাডাম দ্রুত ফিসফিসিয়ে বলে। কেউ যেন সন্দেহ না করে। চুপ করে ফ্রেডারিখ এর পাশে যাও। তারপর ও সব বলবে তোমায়। আরবান আস্তে আস্তে এগোচ্ছে ফ্রেডারিখ এর দিকে। এক প্রহরী ওকে অতিক্রম করতে সন্দেহজনক ভাবে বলে "এই দাড়াও তোমার আইডি দেখাও"। আরবান এর বুক ধ্বক করে উঠলো। এই বুঝি ধরা পড়ে গেল। সামনে থেকে ফ্রেডারিখ এসে বাঁচিয়ে দেয় এই বলে "প্রহরী এ আমার সহকারী অ্যাডাম। 
"অলরাইট স্যার" বলে প্রহরী কূর্নিশ করে চলে গেল। সতর্ক পদক্ষেপে দুইজন আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে লাগলো কারা প্রকোষ্ঠ থেকে।বারবার আতংকের সাথে মনে হচ্ছিল এই বুঝি কেউ তাদের পথরুদ্ধ করে দাড়াবে। গাড়ীতে উঠে দুজনে হাফ ছেড়ে বাঁচলো। ফ্রেডারিখ এর গাড়ী ছুটতে লাগলো সেনা সদনের বাসভবনের দিকে। গেট এর প্রহরীকে কথা বলায় ব্যাস্ত রাখলো। এই অবসরে আরবান ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়লো। ভিতরে ঢুকে মা কে দেখে চিৎকার করে উঠলো আরবান। তিনজন এর মিলন হল অবশেষে। ফ্রেডারিখ,আন্দ্রিয়া আর আরবান তিনজনের কপালে চুমু খেতে লাগলো বারবার। চুমু খেতে খেতে তিনজন এর কপালে সংঘর্ষ হতে তিনজনে হেসে পরস্পরের দিকে তাকালো। ছেলে আর স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে ধরতে বললো "তোমাদের আর কতক্ষণের মধ্যে এই স্থান ত্যাগ করতে হবে বাবা প্রিয়"।
"আমরা তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছিনা। দুইজন ই জেদের সাথে বলতে থাকে"। জেদী শিশুকে বোঝানোর ভঙ্গিতে ফ্রেডারিখ বললো "খুব শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিত হব সোনারা। কিন্তু আজ যদি তোমরা এই স্থান ত্যাগ না কর তোমাদের জীবন যেমন বিপন্ন হবে একইসঙ্গে আমার তার ও সাথে অ্যাডাম যে এখন তোমার জায়গায় জেলে আছে তার ও"। 
"আমি চাই তোমরা নিরাপদে পৃথিবী অবতরন কর। তারপরে অ্যাডামকে ফিরিয়ে আনবো"
"অ্যাডামকে এখন ই নিয়ে এস। আহা ছেলেটা খুব ভাল। আন্দ্রিয়া বলে অস্থিরতার সাথে। "এখন আনতে গেলে ওরা জেনে যাবে আরবান জেলে নাই। তখন ওরা সিকিউরিটি কড়া করে দিবে। আর পালানোর সকল পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। মাই লাভ তখন তোমাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশী। ফ্রেডারিখ মাথা নেড়ে ওদের থেকে যাওয়ার বিপক্ষ্যে বলে। অনেকক্ষণ মতান্তরের পর মা আর ছেলেকে রাজী করানো গেল। সিদ্ধান্ত হল কয়লার ড্রামে আন্ড্রিয়া লুকিয়ে থাকবে। আরবান অ্যাডাম এর ছদ্মবেশে বর্ডার পর্যন্ত যাবে। অ্যাডাম প্রায় সময় এই কাজ করে। কাজে কার ও সন্দেহে পড়বেনা। ওখানে কয়লার একটা খনি আছে। পুরোনা কয়লা ফেলা হয় ফ্যাক্টরীর অন্য কাজের জন্য। ফ্যাক্টরীতে দুজন ল্যাব অ্যানালিষ্ট আছে অ্যাডামের আপন। তারা আইডি কার্ড দিয়ে যানে উঠিয়ে দিয়ে পালাতে সাহায্য করবে। আরবানকে গাড়ীতে উঠিয়ে গেট প্রহরীর সহায়তায় কয়লার ড্রাম পিছনে উঠিয়ে দিল।
"আজ ড্রাম টা এত ভারী মনে হচ্ছে কেন মাননীয় অ্যাডাম? আরবান ও ফ্রেডারিখ এর বুকটা ছ্যাৎ করে উঠলো এবার।
"অতিরিক্ত আর ও কিছু প্রোডাক্ট আছে ফ্যাক্টরীর। তাড়াতাড়ি উত্তেজনা দমিয়ে ফ্রেডারিখ সতর্ক ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো। প্রহরীটি আর দ্বিতীয় প্রশ্ন করলো না। আরবান গাড়ী চালাতে শুরু করলো। পরক্ষণে ফ্রেডারিখ এর বুক ধক করে ফোন এর জরুরী ঘন্টি বাজলো জেলখানা থেকে। কোন জরুরী কিছু হলে এই নাম্বারে ফোন আসে।
"কি ব্যাপার? কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করে ফ্রেডারিখ।
"মহামান্য তাড়াতাড়ি আসুন জেলে"। জেলার উত্তেজনা মাখা কন্ঠে বললো। 
"কি হয়েছে? কালকের কয়েদী পালিয়েছে অ্যাডাম সার এর ছদ্মবেশে। জেলে ওর জায়গায় অ্যাডাম স্যার শুয়ে আছেন। 
"এ কিভাবে সম্ভব? অ্যাডাম তো আমার সাথে ছিল। ফ্রেডারিখ অভিনয় করে বলে।
"না স্যার আপনি খেয়াল করেননি। ধুর্ত অপরাধী মান্য অ্যাডামকে অজ্ঞান করে ওর পোষাক পরে আপনার সাথে উধাও হয়েছে। কিন্তু স্যার আপনি খেয়াল করেননি?
"ও আসলে ড্রাইভ করছিল আর আমার তন্দ্রার মত চলে এসেছিল। তাই আসলে খেয়াল করিনি। কি সাংঘাতিক। মিথ্যে করে বললো ফ্রেডারিখ। এদিকে ফ্রেডারিখ এর মনে ঝড় বইতে শুরু করলো অশান্ত গতিতে। আরবান আর আন্দ্রিয়ার জীবন সংশয়ের মুখে। 
"আমি আসছি এখন ই। আর অ্যাডামকে ছেড়ে দাও। "জ্বি মহামান্য অ্যাডাম স্যার আপনার ঘরের দিকে রওয়ানা করেছেন। দ্রুত অ্যাডাম কোট পকেট এর ডিভাইসে টেক্সট পাঠালো "শীঘ্রি বর্ডার খনির ফ্যাক্টরীতে আসো"। অ্যাডাম এর উত্তর আসলো সঙ্গে সঙ্গে। আমি রওয়ানা করছি ফ্যাক্টরীর দিকে আপনি বলার আগে।

অধ্যায়ঃতিন

আরবান আন্দ্রিয়া দুইজন ফ্যাক্টরীতে এসে পৌছেছে কতক্ষণ। কথামত দুইজন বিজ্ঞানীর তাদের সাথে দেখা করার কথা। তাদের ইউনিফর্ম আইডি কার্ড ও যান এর এক্সেস কোড দেওয়ার কথা। আরবানের সাধের নভোযানটি পড়ে আছে এদের এক পরিত্যাক্ত গহবরে। ওখানে উঠতে এক লহমায় পৌছে যেতে পারতো পৃথিবীতে।
"বাছা আমি কিছু বুঝতে পারছিনা। আমরা ল্যাব এর ভিতরে ঢুকতে পারছিনা। এইভাবে এখানে অপেক্ষা করলে ওদের রাডারে ধরা পড়ে যাব। সংশয়ে বলে আন্দ্রিয়া। জানিনা ফ্রেড এর কি অবস্থা। এখন ও কোন মেসেজ দেয়নি। ও কি তোমাকে মেসেজ করেছে?" ওর ফোন রেকর্ডার চেক করে দেখলো কোন ও মেসেজ নাই।
"না মা করেনি তো" দুঃশ্চিন্তায় বলে। ওর কোন ও বিপদ হয়নি তো? তখন ই ল্যাব এর দরজা খুলে গেল। বেরিয়ে এল দুজন। ওদের ভিতরে নিয়ে গেল। দুজন এর এক্সট্রা ইউনিফর্ম আর ইগনিশন কি বুঝিয়ে দিল। দুজন ই নির্দিষ্ট নভোযানের কাছে দাড়াতে দেখতে পেল দুদিকে দু গাড়ী ছুটিয়ে আসছে ফ্রেডারিখ আর অ্যাডাম।
"মাম্মি চিৎকার করে উঠলো আনন্দে আরবান। বাবা কথা রেখেছে। আমরা সবাই একসাথে পৃথিবীতে যাব।"
"হ্যাঁ বাছা আমার ফ্রেড কথা রেখেছে" খুশীতে আন্দ্রিয়া ও চিৎকার দিয়ে উঠে। ফ্রেডারিখ আর অ্যাডাম এর গাড়ী একই সময়ে ফ্যাক্টরীর দরজায় এসে পৌছল। ফ্রেডারিখ এমন ভাবে তাকালো ওদের দিকে যেন মহামূল্যবান পাথর খন্ড খুঁজে পেয়েছে। আরবান আন্দ্রিয়া দুজনে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো ওকে। 
"ওহ আমি ভেবেছিলাম ওরা তোমাদের পাকড়াও করে ফেলেছে। উচ্ছাসে নিশ্চিন্তে বলে উঠে ফ্রেডারিখ। তার কথাকে নির্মম ভাবে সত্য করে দিয়ে একই সঙ্গে ফ্যাক্টরীর ভিতর থেকে লাপ দিয়ে বেরিয়ে এল একদল সৈন্য। ওদের ঘিরে আগ্নেয়াস্র তাক করে দাড়িয়ে রইলো। পুলিশের ভ্যান গাড়ীতে দুজনকে ধাক্কা দিয়ে উঠানো হল।
"খবরদার তোমাদের হাত ভেঙ্গে গুড়ো করে ফেলবো। যে আমার স্ত্রী আর সন্তানকে আবার আঘাত করবে। বন্দীর নূ্নতম মানবতা প্রদর্শন বাঞ্চনীয়। ওরা কোন অপরাধ করেনি। ওরা আমার সাথে দেখা করতে এসেছে শুধু। অপরাধ আমি করেছি ওরা নয়। ফ্রেডারিখ চিৎকার করে বলে উঠলো।
"আপনি ও আমাদের বন্দী মহামান্য। একজন সৈন্য উদ্ধত ভঙ্গিতে বলে উঠলো। মহান রুডলফ আদেশ দিয়েছেন আপনাকে বন্দী করতে।
"সে আদেশ দেওয়ার কে? আমি সেনাপ্রধান তোমরা আমার আদেশ মানতে বাধ্য। ফ্রেডারিখ বলে আবার। ইশারা করে আরবান আর আন্দ্রিয়ার দিকে যানের উঠার জন্য। আরবান আর আন্দ্রিয়া দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ফ্রেডারিখকে এই অবস্থায় ফেলে তারা যাবেনা। শেষপর্যন্ত লড়াই করে বাবাকে বাঁচিয়ে পৃথিবীতে নিয়ে যাবে। অস্রবিহীন ওরা কিছু করতে সমর্থ হলনা। সৈন্যদের হাতে সমর্পন করতে হল অবশেষে নিরস্র অবস্থায়। শুধু ওদের পকেটের বোতামে এক ট্রান্সমিট রেকর্ডার ছিল সৈন্যরা তাতে বেখবর ছিল। 
"বাবা ব্লুলেগুন পরিত্যাক্ত খনির কাছে পৌছতে ওদের উপর ঝাপিয়ে পড়বো। এখানে আমার যানটি আছে। এই যানটিতে ঢুকে একবার বসতে পারলে ই হল। আমরা নিরাপদে পৃথিবীতে পৌছতে পারবো। 
"এ অনেক বিপদজনক। চারজন ই মারা পড়বো। অ্যাডাম বলে হুশিয়ারীর ভঙ্গিতে।
"রিস্ক নিতে ই হবে । ভেবে ফেললো ফ্রেডারিখ। আরো ঘন্টাখানিকের মধ্যে পৌছে গেল ওরা হান্দেরী নামক পরিত্যক্ত খনির কাছে। এই খনির সুড়ঙ্গ পথটি জুড়েছে পৃথিবীর আন্দামান দ্বীপপুন্জের সাথে। আচমকা ই ফ্রেডারিখ উঠে দুই সৈন্যকে লাথি মেরে ফেলে ওদের অস্র কেড়ে নিল হাত থেকে। ব্যাপারটি ছিল ওদের জন্য এতই আচমকা ওরা প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ ও পেলনা। তাছাড়া ফ্রেডারিখকে আক্রমন করবে কিনা তা বুঝে উঠতে পারছিলনা। সেই সুযোগ টা কাজে লাগালো অ্যাডাম আর আরবান। দুজন বাকীদের অস্র ও কেড়ে নিল। 
"আরবান আন্দ্রিয়া তোমরা আগে নেমে যান টা রেডী কর। আমি আর অ্যাডাম আসছি পিছনে। ফ্রেডারিখ বলে জরুরী গলায়।
"না সবাই একসাথে নামবো। আন্দ্রিয়া বাধা দেয়।
"আপনারা ভুল করছেন। উদ্ধত সৈনিকটি আবার কথা বলে উঠে।
"আমি এদেরকে কভার করছি। ফ্রেডারিখ আপনি ওদের সহ নামতে শুরু করুন। প্রথমে আন্দ্রিয়াকে নামিয়ে আরবান নেমে পড়ে। হাত বাড়িয়ে দেয় ফ্রেডারিখ এর জন্য। ফ্রেডারিখ না নেমে দাড়িয়ে থাকে অ্যাডাম এর জন্য।
"অ্যাডাম তুমি নেমে দৌড়াতে শুরু কর। আমি এখন এদের কভার করছি। একইসঙ্গে অ্যাডাম দৌড়াতে শুরু করে ফ্রেডারিখ এর এলোপাথারি গুলি ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে। অ্যাডাম দৌড়ানোর সাথে সৈন্যরা ও ফায়ার করতে করতে ছুটে আসতে থাকে ওদের দিকে। ফ্রেডারিখ আর অ্যাডাম দুজন ঝাপিয়ে পড়ে খনির গুহায়। একটা গুলি লেগে যায় বাম হাটুতে। ও গড়িয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে নীচে। এদিকে সৈন্যরা নামতে শুরু করেছে টপাটপ একের পর এক। 
আরবান আর আন্দ্রিয়া যান স্টার্ট সুইচ হাত দিয়ে অপেক্ষা করছে বেশ অনেকক্ষণ। এখন ও ফ্রেডারিখ আর অ্যাডাম এর দেখা না পেয়ে শংকিত হয়ে উঠলো। তখন ই দেখলো ফ্রেডারিখ এক হাতে ধরে অ্যাডাম আসছে। পিছনে তিন সৈনিক। অ্যাডাম পিছন ফিরে গুলী করছে আরেক হাতে ফ্রেডারিখকে কভার করছে। 
"আরবান ফ্রেডারিখকে যানে তোল। ওর পায়ে গুলি লেগেছে। আমি ওগুলিকে দেখছি। আরবান আন্দ্রিয়া দুইজন এসে ফ্রেডারিখ কে ধরে যানে তুলে ফেললো। অ্যাডাম দুই হাতে গুলি করতে করতে লাগলো সৈন্যদের দিকে ফিরে। ইশারায় ওদের চলে যেতে বললো। আরবান এবার স্টার্ট সুইচ অন করে দিল। সৈনিকগুলির মাথার উপর চালিয়ে দিল যানটি ওদের বিভ্রান্ত করতে। ওরা বিরামহীন গুলী করতে লাগলো যানটিকে লক্ষ্য করে। ওরা জানেনা আরবান এর যানটি সবধরনের আগ্নেয়াস্ত্র প্রুফ। বুমেরাং এর মত ওদের গুলি ওদের ই আঘাত করলো। এবার দরজা খুলে একটা মই ঝুলিয়ে দিল অ্যাডাম এর উদ্দেশ্যে।
স্বচ্ছন্দ্যে উঠে এল অ্যাডাম।
"ব্র্যাভো মাই ডিয়ার সন আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলো ফ্রেডারিখ। পায়ের গুলির ব্যাথা স্বত্বে ও হেসে ফেললো। "দেখলে অ্যাডাম কি দক্ষ আরবান" গর্ব করে বলে ও।
"আপনার বীজ যে" অ্যাডাম বলে প্রশংসার সুরে। আন্দ্রিয়ার দ্বিমত হলনা আর। 
আর ও ঘন্টাখানিক এর মধ্যে নভোযানটি মঙ্গলগ্রহের বিপদসীমা অতিক্রম করে ফেললো। আর ভয় নেই। আস্তে আস্তে ওরা প্রবেশ করছে পৃথিবীর আকাশ সীমায়।
আকাশে অসংখ্য তারকাবাজি চলছিল। সম্ভবত কোন অনুষ্ঠান উদযাপনের। তখন ই দেখলো আলোতে লেখা "Happy New Year" ও আজ নুতুন বছর শুরু হতে যাচ্ছে পৃথিবী গোলার্ধে আর আরবানদের জীবনে ও। আরবান এখন গর্ব করে সবার কাছে ওর বীর বাবাকে নিয়ে যাবে। আর কেউ তাকে দোআশলা বলে বিদ্রুপ করার সাহস পাবেনা। সেই বছর ই বিজ্ঞানমেলায় তার নভোযানটি সব বড় বড় বিজ্ঞানীদের মাথা ঘুরিয়ে প্রথম স্থান করে দিল। নাসা কোম্পানী বিরাট অংকের টাকা দিয়ে তার যানটি ক্রয় করে নিল।তার নামের পূর্বে পরম প্রতিভাময় বিজ্ঞানী খেতাবটি জুড়ে দেওয়া হল। তাকে দোআশলা বলে যারা নির্যাতন করেছিল পূর্বে আজ তারা সশ্রদ্ধ অভিবাদন করে তার পথ ছেড়ে সরে দাড়ায়।

----------------------------

Hosne Ara Arzu

40 Teesdale Place, Unit 1903

Scarborough, Ont, M1L1L3 Toronto 

Canada 



Hosne Ara Arzu




Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭