গুচ্ছ কবিতা ।। অভিজিৎ হালদার সময়ের আয়নায় তুমি ও আমি পৃথিবীর সব যুদ্ধ শেষে যখন নামে এক নিঝুম রাত, আমি তখন খুঁজি প্রিয়তমা, তোমার ওই নরম হাত। সীমান্তের কাঁটাতার কি পারে ভালোবাসাকে রুখতে? নাকি মানুষ জন্মায় শুধু একাকীত্বের বিষ সইতে? প্রেম তো আসলে এক অমোঘ মুক্তি, এক শান্ত গান, যা ভুলে গিয়ে আমরা খুঁজি ক্ষমতার মিথ্যে সম্মান। বারুদের গন্ধে যখন বাতাস আজ বড় বেশি ভারি, তখন তোমার স্মৃতিটুকুই আমার শেষ সম্বল-তরী। প্রিয়তমা, তুমি কি জানো বিরহ আসলে এক আয়না? যেখানে নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না। মানুষের সভ্যতা আজ এক ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে, সবাই ছুটছে অজানায় নিজের অস্তিত্বকে হারিয়ে। অথচ একবিন্দু প্রেম কি পারত না পৃথিবী বাঁচাতে? নাকি আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি কেবলই আক্ষেপে পুড়তে। তুমি থেকো আমার সেই ধ্রুবতারা হয়ে দূর আকাশে, যখন মহাকাল হারিয়ে যাবে কোনো এক বিমূর্ত প্রকাশে। প্রেমিকার হাসি কি যুদ্ধের চেয়েও শক্তিশালী নয়? তবে কেন এই ভুবনে প্রতিদিন শুধু ঘৃণার জয়। শেষ বিদায়ে যখন এই চোখ দুটো বুজে আসবে ঘুমে, আমি একলা হারিয়ে যাব তোমার ওই কপাল-চুম্বনে। বিচ্ছেদের মহাকাব্য এই তো জীবন, যেখানে প্রেম আসে বসন্তের...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...