হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা তোমাকে দিয়ে যাবো তোমাকে দিয়ে যাবো এই সম্পদ সমূহ নদী ও মাটি ,অরণ্য যাপনের শিহরণ যৌবনের বিধূর আত্মা রক্ত সত্রে পাওয়া ইচ্ছাপূরণের অলীক বেদনা সংযোগে সম্পর্কে সম্পূৰ্ণ আলোছায়ার খেলায় যা সমর্পন তোমাকে দিয়ে যাবো কল্পনার শিবলিঙ্গকে সুখ দুঃখ নিরাময়ে যা চিরকাল অবতল আগুন মহৎ এবং বিচিত্র এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় ... আর বেপরোয়া ভিখিরির মতো শেষ কপর্দক তুমিও ঠিক আমার মতোই বুঝবে সেদিন আসলে কোনো দুঃখ ই ব্যক্তিগত নয় ... প্রতীয়মান খরিশ আর পদ্মপাতার কি কি মিল আছে আমি জানি না তবু মাঝে মাঝেই ছলনার খাতিরে ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে নিয়ে যায় জয়পুরের জঙ্গলে,বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বর্ডারে মাইথন জলাধার,সেখানে জলপিপির নাচ আর ঘূর্ণি বাতাস একজন যুবকের মনে যে ব্যাকুলতার জন্ম দেয় তা সারাজীবন গবেষনার বিষয় যে কোনও কবিতার শব্দে ছন্দে উপমায় কিংবা দুটি লাইনের মাঝখানে এরকমভাবে কোন ও সুচিত্রা সেন কিংবা জুলিয়া রবার্টস মিশে আছেন বরং বলা ভালো শুয়ে আছেন সৃষ্টির বিষণ্ন ইতিহাসে চিরকাল এবং নিয়ত মর্মর গাথায় তা প্রতিয়মান. ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...