ব্লগ-নবপ্রভাত ২৩তম সংখ্যা : "শুধু গদ্য" মাঘ ১৪২৬ # জানুয়ারি 2020 ==================== -: সম্পাদকীয় :- আবহমানতার পথ বেয়ে জঙ্গম পৃথিবী এসে দাঁড়ালো আজ "বিশে বিশ"(২০২০)-এর বিষময় দ্বারে। ওপারেও রইল পড়ে কাঁটাপথ আর আগুনগোলা দিন। ইতিহাস থেকে এখনও চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত, হুতাশ্বাস। মুক্তমনা ব্লগার, নির্ভিক কলমচি, সত্যদ্রষ্টা কবি কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীর রক্তে রাজপথ রাঙাচ্ছে ধর্মবেনিয়া রাজনীতির পান্ডারা। বিধর্মী মায়ের জন্মদ্বার পুংশূলে বিদ্ধ করার নিদান দিচ্ছে মূঢ় ধর্মধ্বজী। সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রকৌশল ভুলিয়ে দিচ্ছে গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের ভুখা পেটের গল্প। ফাঁকাবুলির ফানুসে ফুটো চোখে পড়লেই শুরু হচ্ছে নতুন নতুন পুতুল নাচ। হে নববর্ষের নবপ্রভাত, তুমি নগ্ন হয়ে এসো -- ডাস্টবিনে খুলে এসো তোমার জল্লাদি ধর্ম-পোশাক। নাম-পদবী-গোত্র-বিহীন পাহাড়ি ফুলের মত খিলখিল হাসি ছড়িয়ে দাও পৃথিবীর পথে। পেটে ভাত, হাতে কাজ, মুখে হাসি, বুকে প্রীতি আর শিরায় শিরায় মানবতার রক্ত সঞ্চালিত করে দাও। বৈষম্য-ভোলানো প্রভাতী-আলোয় উদ্ভাসিত হোক চরাচর। মানবতার জয়গানে মুখরিত হোক বিভেদ...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...