ব্লগ-নবপ্রভাত ২৩তম সংখ্যা : "শুধু গদ্য" মাঘ ১৪২৬ # জানুয়ারি 2020 ==================== -: সম্পাদকীয় :- আবহমানতার পথ বেয়ে জঙ্গম পৃথিবী এসে দাঁড়ালো আজ "বিশে বিশ"(২০২০)-এর বিষময় দ্বারে। ওপারেও রইল পড়ে কাঁটাপথ আর আগুনগোলা দিন। ইতিহাস থেকে এখনও চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত, হুতাশ্বাস। মুক্তমনা ব্লগার, নির্ভিক কলমচি, সত্যদ্রষ্টা কবি কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদীর রক্তে রাজপথ রাঙাচ্ছে ধর্মবেনিয়া রাজনীতির পান্ডারা। বিধর্মী মায়ের জন্মদ্বার পুংশূলে বিদ্ধ করার নিদান দিচ্ছে মূঢ় ধর্মধ্বজী। সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রকৌশল ভুলিয়ে দিচ্ছে গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের ভুখা পেটের গল্প। ফাঁকাবুলির ফানুসে ফুটো চোখে পড়লেই শুরু হচ্ছে নতুন নতুন পুতুল নাচ। হে নববর্ষের নবপ্রভাত, তুমি নগ্ন হয়ে এসো -- ডাস্টবিনে খুলে এসো তোমার জল্লাদি ধর্ম-পোশাক। নাম-পদবী-গোত্র-বিহীন পাহাড়ি ফুলের মত খিলখিল হাসি ছড়িয়ে দাও পৃথিবীর পথে। পেটে ভাত, হাতে কাজ, মুখে হাসি, বুকে প্রীতি আর শিরায় শিরায় মানবতার রক্ত সঞ্চালিত করে দাও। বৈষম্য-ভোলানো প্রভাতী-আলোয় উদ্ভাসিত হোক চরাচর। মানবতার জয়গানে মুখরিত হোক বিভেদ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...