বহুরুপী অর্থাৎ বহুরূপ যার। । ঈশ্বর তো সর্বশ্রেষ্ঠ বহুরূপী । তাঁকে আমরা সাধনার মাধ্যমে শক্তির আধার হিসাবে বহুরূপে পাই ।আবার মানুষের কত রূপ! ভালোমানুষের মুখোশের আড়ালে এক জঘণ্য চরিত্র । কিংবা কারো বাহ্যিক সৌন্দর্য এর আড়ালে কুৎসিত মন । সমাজের বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন বিষয়ে আমরা তাদের গিরগিটি রূপে দেখা পাই । সময় ঠিক বুঝিয়ে দেয় তাদের বহুরূপতা । তারা বহুরূপী । তবে এখানে সমাজের এক শ্রেণির অবহেলিত ও প্রান্তিক শিল্পীদের ও একইসঙ্গে একটি সুপ্রাচীন শিল্পের পতনোন্মুখ অবস্থা এবং তাকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তার সম্পর্কে কিছু কথা আলোচনা করবো। আমরা যারা জেলার মানুষ গ্রামে মফস্বলে বড়ো হয়েছি তারা অবশ্যই বহুরূপী শব্দ বা এই কালচারের দের সাথে পরিচিত আছি । বৃহস্পতি বার বাদ দিয়ে ( গ্রামের গৃহস্থ বাড়িতে সাধারনত বৃহস্পতি অর্থাৎ লক্ষ্মী বারে লক্ষ্মী পুজো হওয়াতে তারা ঐ দিন টাকা পয়সা দিতে চায়তো না ) গ্রামে নিয়মিত বহুরূপী আসতো নানা সং এ নানা ঢং এ। ছোটবেলায় বহুরপী দের দেখে ভয় পায় নি এমন মানুষ কম আছেন ।কখোনো দেব দ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...