বাঙালির আইকন রবিঠাকুর অনিন্দ্য পাল গিন্নি: ও গো শুনছো! যাও না বাজারটা করে আনো না। এরপর তো রান্না করতে আমার কালঘাম ছুটবে! কর্তা: আজ বাজার না করলেই কি নয়? গিন্নি: কেন? আজ কি আমাদের উপোস না কি? কোনও উৎসব আছে বোধহয়! কর্তা: গিন্নি ভুলে গেছ আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় আইকনের জন্মদিন! গিন্নি: এমন কার জন্মদিন? যার জন্য বাজার করাও বন্ধ? কর্তা: আরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। আজ তো ২৫শে বৈশাখ। গিন্নি: ওহ্, ভুলে গেছি একদম! এই হেঁসেল টানতে টানতে… মৃত্তিকা (কন্যা): কিন্তু বাবা কবে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? কর্তা: সেটাও জানিস না? এই তোরা আজকালকার ছেলেমেয়েরা সিনেমা আর্টিস্ট, ক্রিকেট প্লেয়ারদের জন্মকুণ্ডলী মুখস্থ রাখিস কিন্তু রবিঠাকুরের কথাই ভুলে যাস! শুনে রাখ, ১২৬৮ সনের ২৫শে বৈশাখ (১৮৬১ সালের ৮ মে) তিনি এসেছিলেন বাংলার মাটিতে। কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আর সারদা দেবীর কোল আলো করে এলেন সেদিন। সে সময় ছিল বাংলার 'সুবর্ণ যুগ'। সে যেন একটা যুগ সন্ধিক্ষণ। সিপাহী-যুদ্ধের পর তখন বাংলাদেশের মনে...
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...