আলোচনা - বর্ণিক বর্ণিকের ডিসেম্বর সংখ্যা প্রকাশ---- প্রতি মাসের ন্যায় এই মাসেও বর্ণিকের সূচিতে চমক রয়েছে। পত্রিকাটির প্রচ্ছদ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় ও কবি নাসের হোসেনকে নিয়ে কিছু কাজ করেছেন বর্ণিক পত্রিকা। পেশাদার প্রচ্ছদশিল্পী অয়ন চৌধুরী তাঁর দক্ষ হাতে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন দুই কিংবদন্তি শিল্পীকে। বর্ণিক পত্রিকা যেহেতু মাসিক পত্রিকা, তাই প্রতি মাসেই তারা নতুন নতুন কাজ করে চলেছে। এই ডিসেম্বর সংখ্যাতেও সবচেয়ে বড়ো কাজ যেটা করেছেন, তা হলো ' জন্মশতবর্ষে কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের উপর ক্রোড়পত্র' । যে কাজটি বাংলা সাহিত্যের কোনো ছোটো-বড়ো পত্রিকা এখনও করেনি। এই দিক দিয়ে একটা স্বতন্ত্রতার ছাপ রেখে গেলো বাংলা সাহিত্যের পত্র-পত্রিকার কাছে। যতদিন এই বাংলা সাহিত্য টিকে থাকবে এই সংখ্যার প্রাসঙ্গিকতা সবাইকে স্বীকার করতেই হবে। মূল্যবান সব লেখা দিয়ে সেজে উঠেছে এই বিভাগ। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তরুণ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঋতম মুখোপাধ্যায় যেমন লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন আসাম বিশ্ববিদ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...