প্রসঙ্গ ভাদুগান : দার্শনিকতার প্রেক্ষিতে – উপানন্দ ধবল ভাদু মূলত লোকদেবী। ভাদুগীত ও নৃত্যকে আশ্রয় করে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার বাউরি, বাগ্দি, মাহাত, কুম্ভকার, মাল, মাহালী, কুড়মী, সাঁওতাল প্রভৃতি প্রান্তিক সম্রদায়ের মানুষেরা ভাদ্র মাসের পয়লা (১ তারিখ) থেকে সংক্রান্তি অর্থাৎ সমগ্র ভাদ্রমাস জুড়ে যে লোকোৎসব পালন করে, তা-ই হল ভাদু-পরব। ভাদু গানের এলাকা : পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল তথা মানভূম হল ভাদু গান ও উৎসবের প্রধান ক্ষেত্রভূমি। বর্তমানে পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর, মানবাজার, হুড়া, বলরামপুর, বান্দোয়ান, পাড়া প্রভৃতি অঞ্চলে বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ যেমন তালডাংরা, সিমলাপাল, সারেঙ্গা, রায়পুর, মটগোদা, রাণীবাঁধ, খাতড়া প্রভৃতি অঞ্চলে, বর্ধমানের পশ্চিম অংশে, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম জেলা, ঝাড়খণ্ডের সিংভূম, রাঁচী ও হাজারীবাগ জেলার কিছু অংশ ছাড়াও বীরভূম জেলায় ভাদুগান প্রচলিত। ভাদুগানের উৎস ও নানা কিংবদন্তি : ভাদুগানের উৎস সম্পর্কে নানা কিংবদন্তি ও মতামত প্রচলিত আছে। এগুলির মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কালকেন্দ্রিক ও ফসলকেন্দ্রিক নামকরণই ব্যাপক প্রচলিত। কারো কার...
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...