বাস ছাড়বে সকাল সাতটায়, জলপাইগুড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে বসে আছি। এখনো অপেক্ষা করতে হবে প্রায় দু'ঘণ্টা । এই বাসস্ট্যান্ডে একটা দোকানে খুব ভালো চা বানায় শুনেছি । ভাবলাম, এক কাপ চা খাওয়া যাক। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার এমাথা থেকে ওমাথা দেশের পতাকা লাগানো, দু'দিন আগেই স্বাধীনতা দিবস গেছে। চায়ের দোকানের মালিক আমাকে চা দিতে দিতে- দু'জন লোকের সাথে ফিসফিস করে আলোচনা করছেন, 'সবাই ঠিক করেছে নাকি আজ রাতেই একটা ব্যবস্থা নেবে, কখন কি করে বসে বলাতো যায় না'। কি ব্যাপারে আলোচনা করছেন আমারও জানার একটু আগ্রহ হলো, জিজ্ঞাসা করতেই- চায়ের দোকানের মালিক বলে উঠল, আর বলবেন না- দু তিন দিন ধরে একটা বুড়ো মানুষ এই চত্বরে ঘোরাফেরা করছ। এলাকাবাসীর সন্দেহ তিনি উগ্রপন্থী। তাই ভাবছে আজ রাতের মধ্যেই একটা আইনি ব্যবস্থা নেবে। আমার কাপে চা এখনো অবশিষ্ট, হঠাৎ দেখি- কিছু লোক ওদিকটায় ছুটছে, ওদিকটা বলতে থানার দিকটা, বাসস্ট্যান্ডের পাশেই পুলিশ থানা। আমি...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...