Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা

যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

যে পথ হারিয়েছে দূরে জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সুগন্ধী মেখে মেয়েটি কাছে এলে ভয় লাগে দেশওয়ালী একটা গন্ধ মনে হয় আমার মৃত শহরের অন্ধকার ওর বুকের ভেতর আজ না হোক কাল,আমাকে সে পিঠে বেঁধে ছুঁড়ে ফেলবে আস্তাকুঁড়ে  আকাশের সব তারা দূরত্বের চেয়েও বেশি নিকটে এসে গিলে নেবে আমার অনুপস্থিতির রং তখন তোমার না থাকাদের জমিয়ে যে আমিটাকে বানিয়েছি,সেই মুহূর্তেই ফিকে হয়ে যাবে এইসব আকাশ পাতাল ভেবেই মেয়েটিকে আর কাছে ডাকা হয় না...   ============= জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত  

শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী

শৃঙ্গার  চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী  ধূসর বৃষ্টিতে আবছা চারিদিক সুস্পষ্টত তবু তীব্র আস্থা ওই তত উজ্জ্বল সাদা রঙে ধাবমান লঞ্চ তো হৃদস্পন্দন জীবনের রিদমিক অনিশ্চয়তায় মুখ তুলে মেখে নেয় শ্রাবণীর তীব্র শরীরী আশ্লেষ। মেখে নেয় চারিদিক ধূসর আঁধার করে আসা শ্রাবণধারা তার তত উজ্জ্বল সাদা রঙে। উদ্ভিন্ন যৌবন, কখন ধুয়ে গেছে তার কপালে সিঁদুরের রেখা। তবু দুর্ঘটনা হলেও সত্য এরকম অশান্ত দিনে রাখে না সে রাখঢাক কোনো, তার পিপাসিত শরীরে। ============== ডাঃ চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী, ভেটেরিনারিয়ান। ৪৩৮/২/২৮৪ জি টি রোড, বউবাজার, পো: চাতরা, শ্রীরামপুর, হুগলি। পিন -৭১২২০৪।

একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার

একালের অর্জুন জয়শ্রী সরকার  নারীকে কখনো শ্রদ্ধা করেছ? দলিত করেছ দিন দিন নারীরাও জানে প্রতিবাদী হতে ভুলে যাও তুমি অনুদিন। সখের বাগানে ফুল চাষ করো, হুলগুলো রেখো সামলে হায়নার মতো নখর হয়ে তো ঝাঁপিও না আর হামলে! পিপাসার জল নিংড়াতে সব করে যাও শুধু কর্ষণ কী বলে এটাকে, জানো কি? পরিভাষাতে ধর্ষণ। অশ্রুনদীতে ছলছল নারী, হাঙরের রূপে তুমি ভেবেছ কখনো? এ-নারী যোনি তোমারই জন্মভূমি! রবিঠাকুরের 'সবলা' পড়োনি? আমিত্বটাকেই জেনেছ  অহংকারের নামাবলী গায়ে নামেরই প্রসাদ মেনেছ। একদিন জেনো, সব অমানিশা কাটবেই ঘোর প্রতিবাদে, নরাধম যত পিশাচ-শকুন পড়বেই ওই আঁধার খাদে। বন্দুকই শুধু করেছ সঙ্গী কামনার রসে মেতেছ, সৈনিক তুমি হওনি কখনো, সেনাপতিটাই সেজেছ! ফুটো কলসীর শব্দ শুনেছ, ভরা কলসী কি দেখেছ? ফলভারে গাছ নত হয় জানি, সেই সাধনা কি শিখেছ? নিজেই নিজেকে তুচ্ছ করেছ উচ্চ আসনে বসিয়ে কেউকেটাদের লেজুড় হয়েছ, পুচ্ছটি শুধু খসিয়ে ! মুখের আড়ালে মুখোশের হাসি, অট্টহাসিতে খিল খিল কতই হাসবে? বন্ধ হবে তো আস্ফালনের যত ঢিল। এসো তবে আজ হুঙ্কার তুলি প্রতিবাদের এই মঞ্চে ফুল-মালা নয়, শানিত অস্ত্রে নারী-জাগরণ ধন-চে! **********...

নারী বিষয়ক কবিতা ।। সুমিত মোদক

আজ সুমিত মোদক যে মাটিকে তং হি দুর্গে বলা হয়  সেই মাটিতেই আমার জন্ম ; যে মাটিতে দুর্গা-অষ্টমীতে কুমারী পুজো হয়  সেই মাটিতে আমার কুমারীত্ব , আমার নারীত্ব ; অথচ , ভেঙে পড়া মেরুদণ্ড নিয়ে  কোনও রকমে দাঁড়িয়ে থাকা সময়ের কাছে অসহায় ভবিষ্যৎ , আমি ও আমরা ; সে কারণেই মা হতে ভয় পাই ; ভয় হয়  কন্যা সন্তানের জন্ম দিতে ; আজ সেই মাটিতে শুরু হোক চণ্ডী পাঠ ।   ========== সুমিত মোদক ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা

নারীশ্রম ।। মাথুর দাস

নারীশ্রম মাথুর দাস ধন্য নারী, বলিহারি ! 'সব পারি' এই জেদে, টেনে আনো যবনিকা নারী-পুরুষ ভেদে । ইঁটের পরে ইঁট মাথায় ভ'রেই শিশু ঝোলায়, মাথার ঘাম পায়ে ফেলো সংসার-ভার তোলায় । কর্মযজ্ঞে সামিল নারী অনাদিকাল থেকে, নারীশ্রমের মর্যাদা চাই সাম্য বজায় রেখে ।   *****************   মাথুর দাস, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান  

ভালবাসার পুষ্পস্তবক ।। তুষার ভট্টাচার্য

ভালবাসার পুষ্পস্তবক তুষার ভট্টাচার্য    হেমন্তের মাঠে শিশিরের জলে ভিজে অনাদরে পড়ে আছে  যে কিশোরীর রক্তমাখা শরীর   'তাকে তুমি চেনো' বলে শুধালো  চাঁদের  বুড়ি  নক্ষত্রের দু'চোখ দিয়ে, ঝরে পড়ল  বিন্দু বিন্দু অশ্রু জল ; চীৎকার করে আমি বলি - চিনি চিনি ওই মৃত কিশোরীকে সে ছিল আমার ভোরের কৈশোরের প্রেমিকা তার মেহেন্দি মাখা দু'হাতে এঁকে দিয়েছি কত চুম্বন রুপোলি ধান জোছনায় কতদিন তার সাথে  গিয়েছি হেঁটে নদীর পাড়ে ভালবাসার অফুরান স্বপ্ন বুনে শীত কুয়াশার বনে হারিয়ে গিয়েছি কানামাছি চোর চোর খেলে ; কে তাকে নিশি ডাক দিয়ে নিয়ে গেল জোর করে শ্বাপদ রাত্তির অন্ধকারে হিম শীতল মৃত্যুর খাদের কিনারে ! হেমন্তের আদুল মাঠে  আমি  একা একা সারারাত দাঁড়িয়ে থাকি ; ' মানুষের মৃত্যু আছে, ভালবাসার কোনও মৃত্যু নেই ' কিশোরীর রক্তমাখা মুখে দেখি লেগে আছে জোছনা চাঁদের আলোর সুষমা; আমি তার বুকে রেখে দিই ভালবাসার পুষ্পস্তবক । ============= তুষার ভট্টাচার্য বহরমপুর l মুর্শিদাবাদ দূরভাষ :৯৪৭৫৭৭৪৯৯৬

নারী এখন ।। দেবব্রত মন্ডল

নারী এখন দেবব্রত মন্ডল  নারী এখন নির্বাচনের পোস্টার— দেয়ালের গায়ে গায়ে তার হাসিমুখের প্রতিশ্রুতি। বাস্তবে সে এক নিরাপত্তাহীন দেহ, অন্ধ গলির অন্ধকার যাকে প্রতিদিন অনুসরণ করে। তার সম্মান মঞ্চভরা স্লোগান, তার বিচার ধুলো জমা ফাইলের ভেতর নীরব অপেক্ষা। রাস্তায় সে ভয়ের ছায়া মেপে হাঁটে, ঘরে ফিরে নীরব কান্না লুকিয়ে রাখে বালিশের নিচে। এই সমাজে নারী হওয়া মানে— প্রতিটি সকাল একটি নতুন আশঙ্কা, প্রতিটি রাত একটি অসমাপ্ত যুদ্ধ। তবু সে বেঁচে থাকে— স্বপ্ন, লজ্জা, ক্ষত সবকিছু বুকে নিয়ে মানুষ হয়ে ওঠার অদম্য লড়াইয়ে।

নারী ।। ইকবাল খান

নারী ইকবাল খান নারী—পৃথিবীর প্রথম আলো, যে চোখে জেগে ওঠে স্বপ্নের নদী। কোমলতার ভেতর থাকে অদম্য শক্তি, দুঃখের মাঝে জ্বলে অচিন্ত্য সুখের ঝিলিক। তার পদচিহ্ন মাটির গভীরে সঞ্চিত ইতিহাস, তার হাসি বাতাসে ভেসে যায় মুক্তির গান। শুধু মমতা নয়, সে হলো বিদ্রোহের প্রতীক, যেখানে চুপ থাকা কথাও হয়ে ওঠে শব্দ। তার কণ্ঠে বাজে পৃথিবীর সুর, তার উপস্থিতিতে জন্ম নেয় আশা। যে নারী শিক্ষা ও স্বপ্নের আলো ধারণ করে, তার হাতে ধরা যায় সমগ্র ভবিষ্যৎ। নারীর হাতেই মাটির শক্তি, তার চোখে আকাশের উষ্ণতা। জীবন যদি কোনো কবিতা হয়, নারীই হবে তার অনন্য ছন্দ ও রং। ............................ ইকবাল খান, জাপানের গভর্নমেন্ট স্কলার স্ট্যাটাসে হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট, ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানা, ঢাকা!

বসন্তের রঙ ।। জয়নাল আবেদিন

      বসন্তের রঙ  জয়নাল আবেদিন  সুচরিতা, আজ বসন্ত প্রেম আর রঙের উৎসব চারিদিক বাতাসে যেন কিসের আহ্বান,  শুভ্র বসনে একটু রঙের ছোঁয়া  মনে পড়ে সেদিনের কথা।  তুমি বড় অভিমানী ছিলে  আজকের দিনে তর সইতো না, সারাটা দিন রঙিন হয়ে থাকতে বড্ড ভালো লাগতো তোমার।  বোলপুর স্টেশনে সেই শেষ দেখা  যে যার মত বাড়ি ফেরা,  কোথায় হারিয়ে গেল সেই দিন  শুধু মনের খাতায় চিঠিগুলো লেখা আছে।  যেখানেই থাকো আজকের দিনে  ইচ্ছে হলে শুধু বাতাসকে ছুঁয়ে থেকো,  আমি ওর হাতেই রঙ পাঠালাম  নিজের করে মেখো।  ------------------------------------    জয়নাল আবেদিন শাঁকপুকুর মাঝের পাড়া  বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা  কোলকাতা ৭০০১৩৭

রঙ ।। মনোজ ঘোষ

     রঙ  মনোজ ঘোষ   সাধারণ পুরুষ রঙ চেনে  বড়জোর আটটি  সাধারণ নারী দুশো পঁচাত্তরটি  নারীদের কফি মোকা তামা দারুচিনি  পুরুষরা দেখে শুধুই বাদামী পুরুষের চোখে যা সবুজে সবুজ মেয়েদের কাছে তা রঙের সুন্দরবন   সাদার মধ্যে নারী দেখে       গোটা আন্টার্কটিকা  তার রঙের সাগর পুরুষের চোখে  নিছকই নীল কয়লাখনিতে রাঢ়ে নদীর চরে ঘুৱতে ঘুৱতে চোখ পেরেছে চিনতে   বাদামী মাটি ধুলো কাদার  হালকা রঙ  খনির আগুনে কঠিন রোষে  উত্তপ্ত নিশি   শীতল হয়ে আসা ধূসর ছাই  নীল থেকে অন্য নীল  কালো থেকে অন্য কালো গোধূলিতে আকাশ জুড়ে রঙের বলয় কখনো ঘুমের রঙের মতো  নির্জন সাদাটে সে আলো  ঝলমলে হঠাৎই ঝলকায় ভোরের মুখে বিবর্ণ রঙগুলো  চিনে রাখতে পারি না  যেমন জানলার স্বচ্ছ পর্দা দিয়ে দেখা  সাদা গোলাপের শুভ্রতার রঙ  কফির সঙ্গে মেশানোর পর  বাদামী হওয়ার আগে  দুধের আবর্তিত রঙের আঙরাখা চিনে রাখতে চাই কিন্তু পারি না   ............................. ...

রঙ || নীল ডায়েরি

  দুটি কবিতা  নীল ডায়েরি  সময়ের জলছবি শহরের পিচগলা দুপুরে আজ ভীষণ একাকীত্ব, ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়া একমুঠো রোদ্দুর— যেন কোনো প্রাচীন লিপির অস্পষ্ট পাঠোদ্ধার। সবুজ সংকেত আসতেই তারা মিলিয়ে যায়, ঠিক যেমন আমাদের শৈশব ভিড় করে স্মৃতির স্টেশনে। আমি আজও খুঁজি সেই হারানো ডাকবাক্স, যেখানে চিঠিরা অপেক্ষার হলুদ রঙ মেখে বসে থাকে। অথচ এখন শুধু ইমেলের ইনবক্সে ডিজিটাল নীরবতা— হৃদয়ের মানচিত্রে জমা হচ্ছে কেবলি ধূসর বালুচর। সময় তো নদী নয়, সময় আসলে এক আয়না, যেখানে আমরা প্রতিদিন অচেনা কাউকে দেখে চমকে উঠি। মায়া ও মৃত্তিকা মাটির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে আদিম এক ঘ্রাণ, সেখানে শিকড় চেনে তার নিজস্ব ঠিকানার হদিস। আমরাও তো বৃক্ষের মতো ডালপালা মেলেছি আকাশে, অথচ পায়ের তলায় মাটির স্পর্শ ছাড়া সবটাই অলীক। কুয়াশার চাদর সরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটে ওঠে, তখন মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই আসলে এক আশ্চর্য শিল্প। বুকের বাঁদিকে আজ এক অদ্ভুত জোনাকির আলো, হয়তো কোনো প্রিয় মানুষের ফিরে আসার পদধ্বনি। পাখিদের ডানায় লেগে থাকা বাতাসের গান শুনে— বিকেলের বিষণ্ণতা মুছে যায় চেনা কোনো সুরের টানে। জীবন মানে তো কেবল ফুরিয়ে যাওয়া নয়, জীবন মা...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...

শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার

 শেকড়ের খতিয়ান   মামুন চাকলাদার রক্তের অক্ষরে লেখা সেই অবিনাশী বর্ণমালা— আজ আর কেবল মিছিলে কিংবা স্মৃতির বেদিতে বন্দি নেই। মায়ের ভাষার মমতা নিয়ে, একুশের সেই অমর ভাষাশহিদরা আজও জ্যোৎস্না রাতে বাংলায় চিঠি লিখে যায় কৃষকের দোরে। সেই চিঠিতে থাকে না কোনো গ্লসি বিজ্ঞাপনের চটক, থাকে না কোনো কর্পোরেট মরীচিকার মায়াবী হাতছানির ঝলক। সেখানে ভোরের শিশিরে ভেজা থাকে ধানের সংশয়, আর রোদে পোড়া দুপুরে লেখা থাকে— মেহনতি মানুষের জয়গান। শহিদ মিনারের পাথর থেকে নেমে এসে বর্ণরা— হালভাঙা কৃষকের কানে কানে বলে যায় এক নতুন বসন্তের কথা। যেখানে পণ্য হওয়া নয়, মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় আভিজাত্য, আর নিজের ভাষায় স্বপ্ন দেখাই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জিয়ন মন্ত্র। .........................................   মামুন চাকলাদার সাভার, ঢাকা 

মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু

  মধুর ভাষা, বাংলাভাষা   রবীন বসু   ভাবের ভাষা বাংলাভাষা, আমার ভাষা কই কোথায় যেন ছিঁড়ছে সুতো বেসুরো যে হই। মায়ের ভাষা ভুলি আশা প্রাণের ভাষা নেই মুখের বুলি অন্য ভাষায় নকল শুধু সেই। এমনি ভাবে মাতৃ ভাষা ভিন্ন ভাষা হয় অন্য ভাষায় কথা বললে লজ্জা তারে কয়। ভাষা শিক্ষা মহান বটে প্রয়োজনও তাই ভুলে যেন মায়ের ভাষা কখনও না যাই। কিন্তু যারা কথায় কথায় মিশ্র বাংলা বলে তাদের জন্য মাতৃভাষা শির হেঁট করে চলে। ভাবের ভাষা মধুর ভাষা বাংলাভাষা ওই নোবেল আনেন রবি ঠাকুর, আমরা সেরা হই। •• •• •• •• •• •• ••   রবীন বসু Rabindra nath Basu 189/9, Kasba Road, Kolkata-700042

মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত

    মাতৃভাষা দিলীপ সামন্ত বাচ্চা যেমন নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে মাকে মাতৃভাষাও তেমন ভাবে হৃদয় জুড়ে থাকে। এই ভাষাতেই অকপটে মনের কথা বলি সুখ দুঃখের রাস্তা ধরে সামনে হেঁটে চলি। আউল বাউল এই ভাষাতেই গেয়ে চলে গান ভাটিয়ালির সুরটি শুনে নেচে ওঠে প্রাণ। কোথায় আছে কাছে দূরে এমন মধুর ভাষা ভাব প্রকাশের ভঙ্গিমাটি এই ভাষাতেই খাসা। শিল্পী কবি এই ভাষাতেই মনের ছবি আঁকে সুখ দুঃখের গল্প গাঁথা এতেই লেখা থাকে । শত্রু এসে বারে বারে নিষেধ জারি করে মায়ের যত দামাল ছেলে প্রাণের বাজি ধরে। এই ভাষাকে রক্ষা করার শপথ নেওয়া চাই দেশপ্রেমের শক্ত ভিতে ভাষা বাঁচে ভাই। মাতৃভাষাই স্বপ্ন দেখায় সবার দুচোখ ভরে নতুন আশা ভালোবাসার মিলন রশি ডোরে।   =============== দিলীপ সামন্ত বালি দুর্গাপুর, হাওড়া। পিনকোড্ -৭১১২০৫ 

একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান

    একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ রানা জামান সকালের কুয়াশায় শহীদ মিনার জেগে ওঠে পায়ে পায়ে জমে থাকে নীরব শ্রদ্ধার্ঘ্য একুশে ফেব্রুয়ারির মানে তো মাথা নত না করা  এই দিনে ভাষা কথা বলে রক্তের স্মৃতিতে অক্ষর সকল হেঁটে আসে রাজপথ বেয়ে নাম না জানা অনেক মুখ ইতিহাস হয়ে আছে তখন মায়ের ভাষা শুধু ভাষা ছিলো না— হয়ে উঠে প্রতিবাদের অদম্য সাহস। ফুলের তোড়া বা শলাকা হাতে শিশুরা দাঁড়িয়ে  সে জানে না সব গল্প, তবু অনুভব করে ভাষা হারালে কী হারাতে হয় শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে আত্মপরিচয়। একুশ তো শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে কথা বলতে শিখিয়েছে বিদেশি ভাষায় নয়, নিজের ভাষায় স্বপ্ন দেখতে এই দিনে প্রতিটি অক্ষর পায় নতুন জীবন প্রতিটি উচ্চারণ-ই হতে থাকে দায়বদ্ধ। বিশ্ব জেনে গেছে আমাদের ভাষা নিয়ে উৎসর্গের কথা মাতৃভাষা সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বব্যাপে সমাদৃত একুশ কেবল একটি দিন নয় এখন আর যে  একুশের মানে মাতৃভাষার চিরন্তন অধিকার।

প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

প্রিয় বাংলা ভাষা চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী   সেজে উঠি ভোরের আলোয় পাখির গানে শিশির ভেজা পথে কলমিলতা ছুঁয়ে কথা বলি ভাটফুলের সাথে। সন্ধ্যার বিগলিত খোঁপায় মুঠো মুঠো জোনাকি মুকুল যেন শ্লেটে আঁকা অ আ ঈ রূপোলিচাঁদ যেন তারই রঙ মাখবে বলে জোছনা হয়ে লুটোয় ধুলোর উপর। মাদলের শব্দ ভাসে মৃগনাভির মতো নাচমুদ্রা গুলি একে একে মেলে ময়ূরপাখা পাঁচালির স্তব আদরে ক্রমশ সবুজ হয়ে উঠে ঘরকন্না। কি দেখছে এমন করে দেখো না দেখো না ভিজতে চাইবে বুকের বেদী মূলে দিগন্ত আলো করে বসে আছে প্রিয় বাংলাভাষা। ===============   Chiranjit Bhandari  Vill+po-shyampur,ps-saltora  Dist:Bankura pin 722158

একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায়

  একুশের লড়াই বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায়  ফেব্রুয়ারি মানে একুশ তারিখ—রক্ততে ভেজা ফুল, ভাষার লড়াই আজও চলছে সে হয়নি তা নির্মূল। নিজের কণ্ঠ চাপা পড়ে যায় বোবা শব্দের জলে, ভাষা হারাবার যন্ত্রণাঘন সে বোধ কি ভোলা চলে? চিৎকার যত আটকিয়ে আছে শহর এবং গ্রামে, সেগুলোও বুঝি কিনে নেবে ওরা কোনোদিন দর-দামে! তারপর শুধু শেখানো কথায়—'মেক ফিল ভেরি হ্যাপি', ক্ষমতাবানের প্রচারক হবে মানুষ বিশ্বব্যাপী। বর্ণমালার অক্ষরগুলো জেনে যাবে নিশ্চয়, স্বাধীনভাবে তো কোনোটিই তারা আসলেতে ভাষা নয়। লুট হয়ে গেছে অনুভূতিগুলো, খুন হয়ে গেছে স্বর, প্রাণহীন যত উচ্চারণ তা— সবই যে অবান্তর। ফেব্রুয়ারি তাই স্মরণ করায় রক্ততে ভেজা ফুল, একুশে লড়াই এখনো চলছে—হয়নি তা নির্মূল।   .............................        বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায়। ওল্ড নিমতা রোড, বেলঘরিয়া,  কলকাতা- ৭০০০৫৬।

মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু

  ।। মায়ের ভাষা ।।  নজমুল ইসলাম খসরু  মায়ের ভাষায় যাদু আছে  আছে মোহ মায়া,  এই ভাষাতেই কথা বলে  পাই সুখ ছায়া।  মায়ের ভাষায় তৃপ্তি আছে  আছে মধুর সুর,  এই ভাষাতেই বাঁশের বাঁশি ক্লান্তি করে দুর। মায়ের ভাষায় আলো আছে  আছে স্বপ্ন আশা,  এই ভাষাতেই প্রিয় সুজন  জানায় ভালবাসা।  বাংলা আমার মায়ের ভাষা  বাংলা আমার প্রাণ,  এই ভাষাতেই ছড়িয়ে আছে  মন মাতানো  ঘ্রাণ।  ---------------------------------- নজমুল ইসলাম খসরু  লাউয়াই, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট  মোবাইল ফোন নং ০১৭১৬১০০৫৫০ ইমেইল mdnazmulislamkhasru@gmail.com

মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায়

    মাতৃভাষা শোভন চট্টোপাধ্যায়  শ্রদ্ধা করি সব ভাষাকে            বাংলা নিয়ে বাঁচতে চাই, মিষ্টি মধুর মা বলা          মায়ের আঁচল শ্রেষ্ঠ তাই। বাংলা ভাষায় অনেক জাদু             শক্তি জোগায় বাংলা ভাষা, বাংলা মায়ের ছড়ার গানে          মায়ের কোলেই কাঁদা হাসা। বাংলা ভাষায় পথ চলা          বাংলা খুশির গানে, ভাষা আজও ফোটায় হাসি            তুফান তোলে প্রাণে। ভাষায় প্রেম উথলে ওঠে           ভাষায় আগুন ঝরা, ভাষায় আছে রোদের উঁকি           বাংলায় রবির গড়া। সাতসমুদ্র পার হয়ে ভাই          বাংলা ভাষায় বলবো হরি, বিশ্ব চূড়ায় জয়ের মালা         বাংলা ভাষার সোনার তরী।    ============ শোভন চট্টোপাধ্যায়  পোস্ট : চন্দননগর  জেলা : হুগলী 

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

পুস্তক-আলোচনা ।। পুস্তক : বেগমপুরের ইতিহাস ।। লেখক : ড. দেবব্রত নস্কর ।। আলোচক: অরবিন্দ পুরকাইত

'বেগমপুরের ইতিহাস' :  অনুসরণযোগ্য জন্মগ্রাম-গাথা — অরবিন্দ পুরকাইত আজন্ম যে স্থানে মানুষের শৈশব-কৈশোর কাটে, যৌবন কাটে, তার স্মৃতি সচরাচর অবিস্মরণীয়। যত নগণ্যই হোক না সে স্থান। প্রত্যক্ষভাবে যদি না-ও হয়, আমরণ ছায়াসঙ্গী যেন তা মানুষের! আমাদের ইতিহাসচেতনা বলবার মতো নয়। একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব এ আক্ষেপ করে গেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কথা তো স্বত-ই মনে আসে। আমরা এমনকি ইতিহাস নিয়ে ভাবি-ই না তেমন করে! মৌখিক পরম্পরা একসময় হারিয়ে যেতে থাকে আগের প্রজন্মের মানুষের একের পর এক প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে, তার লিখিত বা অন্য রূপ তেমন ধরে রাখতে না পারার কারণে।        কেবল শৈশব-কৈশোর-যৌবনই নয়, জন্মতক দেবব্রত নস্করের প্রায়-সাতদশকজোড়া জীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে কেটেছে তাঁর ধাত্রী, পালয়িত্রী বেগমপুরে — দুশো-আড়াইশো বছর আগে বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনার দাড়া গ্রাম থেকে এসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল হাসিল-করা স্থানেই। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতাস্বরূপ লিখেছেন তিনি তাঁর জন্মগ্রামের কথা। বহু মানুষেরই স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্মভূমির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। সেই জন্মভূমির প্রতি প্রায়...

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

কবিতা ।। সোনালি অতীত ।। প্রবোধ কুমার মৃধা

সোনালি অতীত  প্রবোধ কুমার মৃধা   সুশীতল ছায়াঘেরা স্নেহময়ী মাটি মা।   সে আমার জন্মভূমি সপ্তপুরুষের গাঁ।   প্রকৃতির বুক থেকে প্রাণের রসদ নিয়ে।   ফিরিতাম নদীতীরে হৃদয়ের গান গেয়ে।   সন্ধ্যাতারা উঁকি দিত গোধূলি লগনে।   প্রত্যুষে ভাঙিত ঘুম বিহঙ্গ কূজনে ।   আষাঢ়ের নব মেঘে ঘিরিত গগন।   বাদলের ছায়া ঢাকা কদম্ব কানন।   দলবেঁধে মাঠে-বাটে বেতালা-বেছন্দে।   কেটে যেত সারাদিন ভালো কভু মন্দে।   ডাক দেয় শিশুকাল, বাল্য ও কৈশোর।   অফুরন্ত প্রাণোচ্ছ্বল, আনন্দে বিভোর।   করমের স্রোতে ভেসে সংসারের হাটে।   ভিড়িল জীবনতরী নগরের ঘাটে।   ফিরিবার সাধ্য নাই ফেলে আসা পথে।   বাল্য রোমন্থন করি অতীত স্মৃতিতে।                    __________ 

কবিতা - বিকাশ দাস

প্রিয়তমা   দূরত্ব বাড়িয়ে ফেলেছি সাংসারিক অভাব লাঘব হবে বলে এসেছি আর এক অন্য শহরে অন্নসংস্থানে তোমাকে সাময়িক রেখে দূরের অতলে   ।   বুঝেছি ভালোবাসা শুধু কাছে থাকা নয় কাছে থাকা দূরে থাকা   মেঘ যেন মাটি মাখা কামনার ঝনৎকার সপ্নময়     বৃষ্টির স্বাদে দূরের ভেতর এলিয়ে হৃদয় পরিণয়   ।   কাছের যন্ত্রণা     হৃদয়ের রোদন বিরহ প্রতিধ্বনি হৃদয়ের বোধন প্রাণের গভীরে গভীরে প্রহর জাগে ভাবনার সঙ্কেতে তোমারি অনুরাগে আমি তৃষিত তুমি    তৃষিত সম্পর্কের বিস্তর পালঙ্কে দোঁহে দু ' জনের একলার    বিছিন্ন মোহে বিরহের ধারালো    হাওয়ায় ভালোবাসার মোমবাতি জ্বলতে থাকে কাঁপতে থাকে গলতে থাক পুড়তে থাকে   দিলদরিয়া দিগন্তের বসত মহলে এক দু ' জনার নিঃশ্বাস উথলে শুয়ে পাশাপাশি ছুঁয়ে ভালবাসাবাসি আগুনে আগুন পোড়ে কাছে বা দূরে থাকার বহ্নিতাপে   জ্বালার আরাম সুধাময় গোপনের বেড়ায় হৃদয়ের প্রলাপে   ।   =============================== Bikash Das...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। রঙ ।। ইউসুফ মোল্লা

  রঙ  ইউসুফ মোল্লা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,  পৃথিবী নানা রঙে সেজে উঠেছে।  ধূসর বাদামী রঙ তোমার দেহ,  মাথায় সবুজ রঙের বাবরি চুল,  তাতে গুঁজে রেখেছো লাল-নীল ফুল।  নববধূর মতো সিঁথিতে দিয়েছো সিঁদুর,  চোখে দিয়েছো কাজল।  দিগন্তভরা আকাশ তোমাকে নীল উপহার দিল,  সূর্যের লাল আলো তোমাকে সুন্দর করেছে।  তুমি তাদের ফিরিয়ে দিলে, বুকভরা ভালোবাসা আর স্নেহ।  মাঝে মাঝে এইভাবে হোলি আসে,  আমার মনকে রাঙিয়ে দিতে। ------------------    ইউসুফ মোল্লা উত্তর অঙ্গদ বেড়িয়া, ট্যাংরাখালী, ক্যানিং,  দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭৪৩৩২৯

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...