Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা

গুচ্ছকবিতা ।। রূপক চট্টোপাধ্যায়

গুচ্ছকবিতা রূপক চট্টোপাধ্যায় ১)  বুড়ো জোকারের কাছে হাসির সব রসদ ফুরিয়ে এলে, নিজের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে হেঁটে যান! রঙিন রিবনে বেঁধে ফেলেন ফুসফুস জোড়া দীর্ঘশ্বাস গুণ গুণ গান ভাঁজতে ভাঁজতে হাঁটেন দূরে। শেষে ঝুঁকে পড়া শরীরটাকে মহাশূন্যের কাছে গচ্ছিত দিয়ে নিজেই হেঁসে যান নিজেরই আড়ালে। ২)  ঘরের সব ক্যালেন্ডার পুড়িয়ে ফেলেছি, ঘড়ির কাঁটা ভেঙে, সময়কে স্থাপন করেছি অনন্তের দিকে। এবার কি করে যাবে তুমি? প্রস্থান সুলভ কোনো সময় নেই আর তোমার জন্য তাহলে এসো, দুজন মুখোমুখি বসি। বসন্ত কাল কুঁকড়ে আছে মেঘের কার্নিশে আমাদের গল্প শুরু হলে, সেও শহর মুখি হবে। ৩)  তীক্ষ্ণ শরের আগে মৃত্যু লেখো অথবা চুম্বন বিদ্ধ হলে আঘাত লাগবেই। ক্ষরণ হবে স্বর্ণালি আলোর যন্ত্রণা। ক্ষত হবে নক্ষত্র দাগে। তোমাকে ঝুলন্ত সাঁকোর মতোই আমার এপার ওপার ভেবেছি আমি। অথচ তুমি মৃত্যুর চেয়ে বড়ো প্রেমিক, আর কাউকে ভাবতেই পারো নি! ৪)   তোমার স্পর্শ মাত্র, বিগত শতাব্দীর শরীর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রসোফিলা মাছি উড়ে আসে। তাদের জিনে এখনো রচিত আছে ফুল্লরা কাহিনী! এখন এই রক্তাক্ত ভ্রূণের সারি, কালো শহরের মাথায় ঈগলের জেগে ওঠা লালসা। আগ...

দুটি কবিতা ।। ছন্দা দাম

দুটি কবিতা ।। ছন্দা দাম  জনমের লেনদেন কবিতার কলোনী ধরে বহুদূর বিদর্ভ নগরে আঁধার নামে কত পথ ঘুরে, ফেরে পথিক দু দণ্ড শান্তির খোঁজে, সন্ধ্যার শুকতারা পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে চেনা মাটির গন্ধে, চেনা আঁধার চুঁইয়ে নামে ব্যথার বারিশ.... টালির চালের বুকের খাচা থেকে রাত ভর ঝরে যায়, কত কথার মাঝখানে শূন্যতার গল্প চুপ থেকে যায় সারা জনমের মতো, মুখামুখি বসে থাকা শুধু....কথাদের উষ্ণ শরীরের পালক ঝরে পরে, কার্নিশের মানি প্ল্যান্টটার তাকিয়ে থাকা অনিমেষ নয়নে...         কোন কথা নেই বয়ানে,     সামনে খুলে রাখা বনলতা সেন, পাখির নীড় উড়ে গেছে সে কবেই,এখন শুধু শূন্যতার একমুঠো খড়কুটো, রঙিন জানালার ওপার থেকে বড্ড চকচকে সব... সব ঝুটো,সব অর্থহীন কবিতার মতো দুমড়েমুচড়ে পড়ে থাকে ঘরের কোণে গার্বেজে, তবু কিছু কথা থেকে যায় বলবার... মুখোমুখি বসবার,থেকে যায় একটা জনমের লেনদেন।।   ভুলভাল আমি তুই আমি ভ...

বর্ষা : নগর, নক্ষত্র ও অন্তর্জলের ভাষা ।। রোকেয়া ইসলাম

বর্ষা : নগর, নক্ষত্র ও অন্তর্জলের ভাষা রোকেয়া ইসলাম বর্ষা কেবল আকাশের কান্না নয়, সময়ের ক্লান্ত কপালে জেগে ওঠা এক নীল শিরা জমে থাকা অপ্রকাশিত সভ্যতার ধুলো নগরের কংক্রিট-বন্দী দীর্ঘশ্বাস, মানুষের ভিতরে মূল হারানোর গোপন ইতিহাস। প্রথম বৃষ্টিধারায় প্রাচীন কবি তার অসমাপ্ত পান্ডুলিপি মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে রেখে পৃথিবীর ডাকবাক্সে জলরঙের চিঠি। ভেজা রাস্তায় নিয়ন আলোয় ভাঙা স্বপ্ন কুড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবিকে ভালোবাসতে শেখে। বর্ষা আমার প্রিয় কদমফুল বর্ষা নগরের ড্রেনভরা অবহেলা জলজটে থেমে থাকা অ্যাম্বুলেন্স,রিক্সা চালকের দুশ্চিন্তা ছাতা বিহীন শিশুর হাসিতে ব্যর্থ রাস্ট্রের বিস্ফোরণ তবু এই বৃষ্টি অদ্ভুতভাবে পবিত্র সে ধুয়ে দিতে চায়, আমাদের জমাট অহংকার উন্নয়নের বিলবোর্ড, অসংবেদনশীল ধুসর ধুলো জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ তোলে, হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনেরা বর্ষা এক অন্তর্জাগরণ, অস্তিত্বের গভীরে নিক্ষিপ্ত প্রশ্ন আমরা কি সত্যিই বেঁচে আছি নাগরিক বিস্মৃত স্মৃতিতে অতঃপর সন্ধ্যা নামে,, বারান্দায় একাকী একজন ভেজা বাতাসে দোলনচাপার অদৃশ্য গন্ধ, দূরে প্রার্থনার সুর মহাবিশ্বের ক্ষণস্থায়ী উষ্ণতায় আত্মা আর পরমাত্...

তিনটি কবিতা ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়

তিনটি কবিতা ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায় ডিম বৃষ্টির ইতিকথা এক, দুই, তিন--- হাঁ করে দেখছিল ছেলেটা আকাশ থেকে ডিম পড়ছে শিলাবৃষ্টির মত। সেই সক্কাল থেকে সারাদিন ইট টেনেছে সে অবনী বাবুর নির্মীয়মান বাড়ি পর্যন্ত। ফেরার পথে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে নির্বাক ছেলেটা। এক, দুই, তিন ---ওই আবার! মা রোগ-শয্যায়। বাবা মারা গেছে রেল-অ্যাক্সিডেন্টে হকারী করতে গিয়ে। যদি একটা ডিম খপ করে লুফে নিয়ে মায়ের জন্য নিয়ে যেতে পারত! কত্ত ডিম। এক সঙ্গে এত ডিম! আকাশ থেকে পড়ছে কেন? ভগবান দিচ্ছে? ওরা তো ডিম কতদিন খায়নি। ভগবান ওদের জন্যে দেয়না কেন? শব্দলেখা পথ চলতি দেখলাম  বইয়ের দোকানে একটা বক বসে আছে।  যে সাঁকো দিয়ে আমি জলাটা পার হচ্ছিলাম  সেটি ভয়ানক ভাবে দুলে উঠল।  ঝাঁকুনি খেয়ে উঠলাম সড়কে।  প্রত্যাশী বকটা আমার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল। দেখলাম বইয়ের দোকান থেকে উড়ে এসে জলে পড়ল কয়েকটা বইয়ের পৃষ্ঠা----  জলে ভেসে গেল শব্দলেখা নীরব জিজ্ঞাসা নিয়ে।  নির্জন সাঁকোর দোলা মৃত্যুর বিভীষিকা ছড়াচ্ছিল।  আমি জলের দিকে চেয়েছিলাম।  কিসের আকর্ষণে জানিনা, চোখের চাহুনি আমাকে  ভাসিয়ে ...

তিনটি কবিতা ।। শিখর চক্রবর্তী

শিখর চক্রবর্তী ১) নির্মোক   আত্মপরিচয় ভুলেছি  বৃক্ষের ঐশ্বর্য, নদীর উচ্ছ্বাস  আত্মপরিচয় লেখনীতে, হয়তো নির্মোক --  প্রাণের স্রোতে ভাসিয়েছি ঘর পরিজন  তবু কাঁঠালতলা দিয়ে আবছা আঁধার পথ,  পুরনো ঠিকানায় কড়া নাড়লে অজানা মুখ। বন্ধু আয়নাই চেনে মুখোশের আড়াল বাকি সব -- "ভালো আছো" ?  আর," বেশ আছি।"  ২) লালমাটি পরিচয়   এ সব পায়ে চলা নুড়ি,  লাল কাঁকর বৈরাগ  আমার চেনা। কখনো কবিতা আসে নি,  কবিও আসে নি। বৃষ্টির জলধোয়া শোণিত ভ্রম আসে নি  তবু আমাকে ডাকনামের মতো ঠোঁটে রাখে।  ভ্রম আরও হয় বিষণ্ণ যৌবনে  বিদায়ের ঋতুর পাশে গাছেদের শব সব চিত্রার্পিত আকাশমণির খোয়াবে  কেউ লিখছে কোপাইয়ের গান আমার উৎসর্গে। আমার জৈষ্ঠ্যে অতিথিশালায় বাতাসের তাপ  লালমাটি আমায় চেনে যেমন কিঙ্করকে বীরভূমি। ৩) তোমাদের জন্য    এরকম শূন্যতা দিয়ে নিজেকে ঢাকলাম।  শাটারে আঙুল প্রথাগত, শুষ্ক আকাশে আক্ষেপ ভাসুক,  নিদাঘও থাকুক বন্ধুর মতো।   দূরে দূরে ছড়িয়ে আছে একান্ত আপন -- সুখ থাক, বিচ্ছেদ দূরত্ব থাক লুকোনো সত্ত্বা ...

কবিতাগুচ্ছ ।। নীল ডায়েরি

নীল ডায়েরির কবিতা  রণক্ষেত্রের চিঠি বারুদের গন্ধে আজ বসন্তের হাওয়া ভারী, হাতে বন্দুক, আর পকেটে তোমার দেওয়া শেষ চিঠি। পরম মমতায় বেঁচে থাকা কতটুকু আর জানি? শুধু জানি—দূর দিগন্তে তুমি ভালো আছো, এটাই বড় ফাঁকি। এখানে আকাশ নীল নয়, এখানে আকাশ ধোঁয়ায় ঢাকা, প্রতিটা পদক্ষেপে মরণের সাথে লুকোচুরি খেলা। ভালোবাসা আজ বিলাসিতা, বেঁচে থাকাটা অভ্যাস, তোমার চোখের ছবিটা বুলেটের চেয়েও বেশি দাহ্য। যদি ফিরি, তবে চিনে নিও ক্ষতবিক্ষত এই দেহ, যদি না ফিরি, বুঝো—দেশপ্রেমই ছিল আমার গহ। শিরদাঁড়া সোজা রেখেছি আগুনের শিখায়, তোমায় ভালোবেসেই বেঁচে আছি, আবার তোমায় ভালোবাসার অপেক্ষায়। তুমি কি শুনছো? গুলির আওয়াজেও তোমার নাম বাজে, এই যুদ্ধ শেষে শুধু জানি, শান্তি মানে তুমিই আমার কাছে। পৃথিবীটা ধ্বংস হোক, ছাই হয়ে যাক মিথ্যে অহংকার, আমার প্রেম বেঁচে থাকবে, এই ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে বারবার। বৃষ্টির শহর ও বিচ্ছেদ বৃষ্টির শহরে আজ একলা আমি, সাথে এক কাপ বিষাদ, জানলার কাঁচে তোমার আঙুলের দাগ, মুছে গেছে অনেক আগেই। মানুষ বলে সব নাকি ভুলে যেতে হয় সময়ের স্রোতে, আমি আজও সেই পুরনো ট্রামে খুঁজে বেড়াই তোমায় প্রতি রাতে। তোমার চোখের জল আর আ...

শেষ ট্রেন ।। শম্পা সামন্ত

  শেষ ট্রেন শম্পা সামন্ত বেশি কথা মনে থাকে না কাল কী বলেছি আজ তাই ভুল করে সব কথা ভুলে যাই এত কথা এত প্রতিশ্রুত রঙিন লেফাফা যেন যুদ্ধের আগে ঢাক বাজে দুন্দুভি কী নিয়ে এত হৈ চৈ পাটিপে টিপে মহা সমুদ্রে প্রবেশ করছি আর ভুলে যাচ্ছি যুদ্ধের কারণ কথা কথায় কথা বাড়ার আগেই তোমাদের লাস্ট স্টেশন ছপে মিয়াও

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা নৈঃশব্দ্যের ছায়া লুপ্ত জীবনের উঠোন ছেড়ে, শুদ্ধতায় বাঁধা পড়তে চাইছে মন— ভারহীন পৃথিবীর বুকে গণতান্ত্রিক মায়ায়। প্রবেশ ও প্রস্থানের সিঁড়িপথ বেয়ে খুঁটি গেঁড়ে, পিছনে তবু রয়ে গিয়েছে নৈঃশব্দ্যের ছায়া। নির্ভেজাল খরস্রোতা পাহাড়ের গা বেয়ে আসছে; দুঃখ এখনও, জন্মবধি, দাঁড়িয়ে রয়েছে কাঠগড়ায়। সহজাত নিপুণ হাতে আলাদা করছি প্রস্তরখণ্ডের জাল, মাইলফলকের ভিতরে এখনও রয়ে গিয়েছে নৈরাজ্য। রঙিন আলোর ভিতরে জমাট বাঁধছে অন্ধকার! গন্তব্যের রণভূমির বুকে শব্দের সমাবেশে, নিরাময়ের অনন্ত স্পর্শে রয়েছে ভারসাম্যের সমাধান। উত্তরণ বিরাট শূন্যতার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছি— সুস্পষ্ট পথের ঠিকানা নিরন্তর… গোলকধাঁধা পেরিয়ে, আকাশের দিকে মাথা তুলে, খড়কুটো ধরে নিজের কাছেই পেতেছি দু’হাত। নশ্বর দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াচ্ছি প্রত্যাশার বীজ; পটপরিবর্তনের ভাঙা রূপকথার মাঝে দাঁড়িয়ে— পাতার শব্দ শুনে, অনন্তকালের অন্তহীন পথ চলছি। হারানো অতীত এত বিষণ্ন, অস্বচ্ছ হয়! অস্তরাগের বলিরেখায় দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আরেকবার মেঠোপথ ধরে দিকশূন্যপুরের দিকে নতুন করে শুরু কর...

কবিতাগুচ্ছ ।। সাধন রায়

কবিতাগুচ্ছ ।। সাধন রায় (জামশেদপুর ) নগ্ন উষ্ণতা  কুয়াশার ভোরে তোমার হাত আমার হাতে— স্পর্শ নয়, এক নীরব পরিচয়। শিশিরভেজা বাতাসে তোমার গন্ধ ভাসে, যা শরীর পেরিয়ে স্মৃতিতে স্থির হয়। রোদ্দুর ত্বকে নামে, যেন অদৃশ্য আঙুল আমার সীমানা নির্ধারণ করে। প্রেম যখন গভীর হয়, শব্দ তখন অপ্রয়োজনীয়— দুই সত্তার মাঝের ক্ষুদ্র ফাঁকেই জ্বলে ওঠে অদেখা আগুন। তুমি না থাকলেও, তোমার অনুপস্থিতি নয়— আমার অস্তিত্বই তোমার উষ্ণতার অন্য রূপ। শূন্যতার দহন মুঠো ভরা শূন্যতা নিঃশব্দ দুঃখে আমাকে পিষে ধরে— শ্বাস নেবারও যেন আর অনুমতি নেই। বুকের ভেতর ফাটলগুলো ভাঙা স্মৃতির হাড়ে হাড়ে রক্তমাখা দিন গুনছে কাঁদতে কাঁদতে। রাতগুলো জ্বলন্ত কয়লার স্তুপ, ভস্মের তলায় চাপা পড়ে আছে মরে যাওয়া স্বপ্নের শেষ আর্তনাদ। স্বপ্নগুলোও আজ মৃতপ্রায়, অন্ধ...

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ

প্রিয়া  ----------- আকাশে মরা চাঁদ  আলো নেই  দড়ির আলনায় ঝুলে আছে ঘন অন্ধকার  পাল্টে যাচ্ছে দিন  ক্ষুধা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে কতো পৃথিবী  থেমে যাচ্ছে নদী  তৃষ্ণার বসতি জুড়ে গহন রাত  বিকৃত ইতিহাস আঁকে মেকি ইতিহাসবিদ  রক্তাক্ত পদাতিক  রঙিন দিনগুলো গুছিয়ে রেখেছিলো যারা  তারা আজ নেই  এখন চারদিকে ত্রাস  ত্রাসের সাম্রাজ্য ভাঙছে হাজারো শ্রমিক  অনিবার্য বিপ্লব বৃষ্টি নেই কতোদিন  ছাদের টবে শুকনো চন্দ্রমল্লিকা  দাবদাহ  হৃদয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে পারাবত প্রিয়া  নদী  --------- বেলা নিভে আসে  মেঠোপথ পেরিয়ে যায় সময় অসময়  অসময়ের নিত্যযাত্রী যারা  তারা নিরুদ্দেশ  উঠোন জুড়ে হাঁটুজল শান্ত নদী এখন ঘরের ভেতর  জলে ভাসে উনোন  ক্ষুধার্ত পৃথিবী কুরে কুরে খায় চাঁদে...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুতপা সোঽহং

কবিতাগুচ্ছ ।। সুতপা সোঽহং ১) খেয়ালী ক্যামোফ্লেজ   সেদিন চৈত্রের দুপুর, দেহ পুড়ে খাক ক্লান্তিতে ভঙ্গুর যখন শুনলাম ডাক!  সে ডাক তোমার ছিল আরাম শীতল  কর্ণকুহরে মধু দিল আর আগুনে জল! সম্মোহিত হরিণ আমি ছুটলাম ঘোরে তোমার সামনে স্থির হলাম দৃষ্টির শরে।  কী ছিল সে দৃষ্টিতে? কী ছিল সেই চোখে? অনাথ আশ্রয় পায় অপ্রতিরোধ্য রোখে।  দুজনেই মূক বধির যেন বিবাহ-ভঙ্গিমা বিরল সে সমর্পণ সমবায়ী কমা!  (তারপরেই অকস্মাৎ,) চোখ, গাল, ঠোঁট ছেড়ে ছুঁয়েছো কপাল; মুগ্ধ অবলোকনে হৃদি উথালপাথাল!  প্রলুব্ধ হাওয়া এল বিস্ময়কর শ্বাস প্রেম-ভস্মে পিপাসার্ত ঠোঁটেদের চাষ! কম্পিত বুকে তখন শব্দহীন সিম্ফনি  প্রথম প্রণয় চুম্বন আগে তো জানিনি!  শিহরিত অস্থিরতা ডানার ভিতর  সমস্ত দিলাম, নিঃস্ব, ওড়ার কী জ্বর! হায়! সেই প্রথম সেই শেষ মায়ার খেলা। কী খেয়ালে ডেকেছিলে সেই দুপুরবেলা? একযুগ পরে বুঝি সমস্ত‌ই অসার টান শুধু একপক্ষের, তুমি নির্বিকার! (জানি) বাড়ি ফিরে বিরহের ছেড়েছ পোষাক তবু এক বুক আগুন শুধু আমার জন্য থাক! ২) নামকরণ ...

তিনটি কবিতা ।। প্রণব শংকর গাঙ্গুলী

তিনটি কবিতা ।। প্রণব শংকর গাঙ্গুলী অতি দর্শন সে এক আশ্চর্য আলো, ব্যপ্ত হয়ে আছে দশ দিক। জ্বালা নেই, তাপ নেই, হিমেল দংশন নেই, গতি নেই অন্হিক বার্ষিক। তাই ঋতু নেই, নেই রাত্রি -দিন তাই; শুধু আলো, ছায়া নেই, যে দিকে তাকাই। সুর গন্ধ গলে গলে মিশে যায় সেই আলোতেই। প্রেম নেই ,আলিঙ্গন, অখণ্ডিত অবয়ব, আলোময়, বুঝি সত্য সেই। ক্ষুধার পারে এমন চন্দ্রিমা আমি দেখেছি যা পূর্ণিমার ও বেশী। সুর ও সুগন্ধের প্রলোভন ফেলে , মধু চন্দ্র যাপনের রাত পার হয়ে, এসেছি শান্তির দেশে । অসংখ্য ক্ষুধার দাঁতে রক্তাক্ত চেতনা শান্তি চেয়েছিল ; তাই মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে এসেছি নির্জনে। কোলাহল নেই , বাতাস নি:শব্দে বয়ে যায় । বহু রাত্রি জাগরণ শেষে, এখন শান্তিতে ঘুম আসে। ছায়া পথ পার হয়ে অস্থি-র পিঞ্জরে আমি চাইনি তৃপ্তিকে খুঁজে নিতে । তোমার দু চোখে চেয়ে করেছি যে আলো অন্বেষণ, সে আলো আমাকে দাও ,করে তোলো অনন্ত এ ক্ষণ, আস্বাদের সাধ্যাতীত সাধনার সে সুধা অমৃতে। ফুলের কোমলতায় যদি জাগে নক্ষত্রের ভাষা; মৃত্তিকায় পদ চিন্হ রেখে তবু দৃষ্টি উর্ধ পানে , আকাশগঙ্গায় গিয়ে ডুবে য...

তিনটি কবিতা ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য

তিনটি কবিতা ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য  ডাক হরকরা চাঁদ ভাঙা জানালায় পূর্ণিমার ডাকহরকরা চাঁদ উড়ে এলে আমি মেঘের পালকে নীরবে ভাসিয়ে দিই রূপকথা স্বপ্নের অক্ষর, কারুকাজ ; তারপর হতাশার ঝুলকালি ঝেড়ে জেগে উঠি বেঁচে থাকার আনন্দে l কালের রাখাল হয়ে এই প্রাচীন জনপদ, জল, আলো বাতাস, শস্যভূমি অরণ্য, উর্বর পলিমাটির শিকড়ে আমি কালের রাখাল হয়ে নীরবে ছড়িয়ে দিই মুঠো মুঠো স্বপ্ন বীজ ; পাললিক শিলার বুকে খোদাই করে লিখে দিই ভোরের কৈশোরের গোপন ভালবাসার উঠোনজোড়া স্মৃতি কথা ; নিরর্থক এই জাবরকাটা দিনগুলির কথা ভুলে কালের যাত্রায় বাড়িয়ে দিই পা ; বন জোছনার গন্ধ নিয়ে একদিন পরিযায়ী পাখির মতন উড়ে চলে যাব ওই আকাশ গঙ্গায় ; শুধু রেখে যাব - সন্তানের টোল পড়া গালে স্নেহ ভালবাসার অন্তিম চুম্বনের স্মৃতি চিহ্নটুকু l রাত জাগা স্বপ্নগুলি দুঃখগুলি জমে জমে পাথর হয়ে গেছে ভাঙা বুকের পাঁজরে তবু রাত জাগা রূপকথা স্বপ্নগুলি উড়ে আসে রুপোলি জোছনার নরম গন্ধ নিয়ে খোলা জানালায় ; আর তখনই চোখের অশ্রুচিহ্ন মুছে মনের আয়নায় নীরবে আঁকি সূর্যমুখী সকালের ছবি ; জীবনের সব ব্যর্থতা আর অপমানের কথা ভুলে নুন ঘাম শ্রম...

তিনটি কবিতা ।। নীলাঞ্জনা হাজরা

বিচ্ছেদ  হাত ধরা ছিল কঠিন  হাঁটা হয়নি কোনদিন  স্কুলের  মেঠো পথে পুকুর ছিল অদূর।  সামন ধানের ক্ষেত  শীতকাল হলে সর্ষে আমার চোখে তুমি  হলুদ ফুলে অপরূপ। একদিন কিছু কথা সাজিয়ে চিঠি লেখা সাহস ছিল কম  বিনিদ্র রাত জাগা। আঠারোর আগে  আবেগ বাঁধ ভাঙ্গা বেগতিক  তোমাকে ভুলিনি প্রথম  শিমূল বসন্ত  স্মৃতি। শান্তিনিকেতন  একদিন হেঁটে গিয়েছিলে তুমি বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন।  আমার অবাধ্য মন আমার চির বাঁধন।  সঙ্গী ছিল সাথী প্রিয় হাতের মুঠি ভালবাসার  দ্যুতি। সন্ধ্যার নক্ষত্র শব্দহীন পূর্বপল্লীর মাঠে চাঁদের গায়ে কলঙ্কের দাগ, সৌজন্য বিহীন  ভবিষ্যত দ্বন্দ্বের অকৃত্রিম  প্রতীক স্বরূপ।  তানে তানে ফুরিয়ে যাওয়া সময় যা কখনও  হারায় না।   জানালা বাড়ির উত্তর দিক...

তিনটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর

তিনটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর  পর্ণা পিঠের ওপরে উল্কি বাহুতে নগ্ন জরুল  পুঁথি শ্বাস বধির । কতবার বেআব্রু জীবন  নোংরা সোহাগে অতিষ্ঠ ঠোঁট  কাঁটা শয্যা শরীর। ফণিমনসার তৃষ্ণা  ধূ ধূ প্রান্তরে উঠে শুধু বালিঝড় । ঘৃণা দাগ ঘৃণিত স্বাদ এভাবেই পর্ণা বাসর । অন্ধ স্রোতে অন্ধ স্রোতে  ভেসে যাচ্ছে মানুষের ঢেউ আতস চোখে অন্ধ কিনারে ভালো বাসা এঁকেছে কেউ । স্রোতের টানে আজন্ম যন্ত্রণা আঁচলের গিঁটে বাঁধা শোক  মসৃণ চূড়ার হোঁচট  অবাধ্য অনন্তলোক । অন্ধ মুনীর চোখ অন্ধত্বের নিকষতায় চুপ গহীন অন্ধ স্রোতে  এসো কে দেবে মৃত্যু ডুব ।   ক্ষতস্থানে যেখানে ক্ষতস্থান  সেখানে আঙুল পরশ যন্ত্রণার পান্ডুলিপির আগুনে পুড়েছে প্রেমিক সারস । সোনা ঝুরি বাগানের আলপথে  রাধ...

চারটে কবিতা ।। রণেশ রায়

চারটে কবিতা ।। রণেশ রায় ইচ্ছের জাগরণ তুমি করতে পারো না তা নয়, তুমি করতে চাও না; তাই তো হয়ে যাও অকর্মা। তুমি বলতে পারো না তা নয়, তুমি বলতে চাও না; তাই রয়ে যাও অবলা। তুমি চলতে পারো না তা নয়, তুমি চলতে চাও না; তাই হয়ে পড়ো অচলা। তুমি চোখে দেখো না তা নয়, তুমি দেখতে চাও না; তাই জীবনটা রয়ে যায় অদেখা। তুমি শুনতে পারো না তা নয়, তুমি শুনতে চাও না; তাই রয়ে যাও অশ্রুতা। তুমি বোঝো না তা নয়, তুমি বুঝতে চাও না; তাই হয়ে পড়ো অবুঝ। তাই তো বলি তোমায়— ইচ্ছেটা এবার জাগিয়ে তোলো; করো, চলো, বলো, দেখো, বোঝো আর শোনো। অকর্মণ্য হয়ে থেকো না আর, জেগে উঠুক তোমার প্রাণসত্তা; ফিরে পাও নিজেকে নিজে। আকাশ, বাতাস, মানুষ আর প্রকৃতি, এই সুন্দর জীবন— সবাই হয়ে উঠবে আপনজন। রাগ, অনুরাগ, বিরহ কিংবা মিলন— হাতছানি দিয়ে যায় সবাইকে; তুমি...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...