প্রাকৃতিক দুর্যোগ
অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)
সেদিন ছিল ২৫ শে জুন ১০-ই আষাঢ় বৃহস্পতিবার, প্রতিদিনের মতো সকালের কাজ
শেষ করে দুই মেয়েকে নিয়ে স্কুলে এসেছিলাম। বাড়ি ফিরে মধ্যাহ্ন ভোজনের
আয়োজন সেরে স্নান করে আবারও চললাম বিদ্যালয়ের দিকে...............
ঠিক দুপুর ২ টো তে বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন সমাপ্ত হয়, তাই আমরা একটা পনেরো
নাগাদ বেড়িয়ে পরি। আমরা সাথে একজন বৌদি তার বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে একসাথে
স্কুলে যায়। দুজনে কবে যেন ঠিক বোনের মতো হয়ে গেছি জানিনা, আমাদের
যাতায়াত চার বছরের মনে হয় যেন একটাই পরিবার। আবার কখনো মনে হয় সে আমার
বড় জা বা বন্ধু।
দুজনেই গল্প করতে করতে চলেছি.......
প্রতিদিনের মতোই ।
কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর ; কোথা হতে এক কালো রাক্ষসে মেঘে নীল আকাশ
ছেয়ে গেলো কেমন যেন নিস্তব্ধতা নিস্তরঙ্গ চারিপাশে। হঠাৎ এই দূরভাষ নামক
যন্ত্রটি বেজে ওঠে কর্তা মশাইএর ফোন - বজ্রপাত হলে কোথাও দাঁড়িয়ে যেও,
ফোনে বার্তা এসেছে।
চলেছি টোটো তে................. কাঁঠালিয়া স্কুল
আসতেই শব্দে একের পর এক আলোক স্ফুলিঙ্গের মতো বজ্রপাত হতে থাকে। শঙ্কিত
মনে অশান্ত প্রকৃতির রোষে একে অপরের হাত আঁকড়ে ধরে ছিলাম। তারপর পরিবেশ
একটু স্তব্ধ হতেই আবারো একটু এগিয়ে যেতে শুরু করলাম নিজেদের গন্তব্যে।
প্রায় মিনিট ১৫ চলার পর আবারো ঝোড়ো হাওয়া সাথে বৃষ্টি অনেকগুলি বজ্রপাত
একের পর এক মেঘের ধ্বনি সঞ্চারিত হতে থাকলো। তখন ঘড়িতে ঠিক দুপুর ২ টো
বেজে ১৫ মিনিট মেয়েদের স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। আমরা আবারো দাঁড়ালাম একটি
টিনের চাউনির নিচে পথের দুই পাশে থাকা ঢেঁড়সের ক্ষেতে ঘনঘন বজ্রপাত। আগে
কখনো দেখিনি চোখের সামনে এতো ঝলমলে আলো চোখ ধাঁধিয়ে গেলো এক পলকে একখানি
বজ্রপাত ঘটে গেলো ধানের ক্ষেতে। দুজনেই মেয়েদের চিন্তায় চোখে জল টলমল ;
দুজন দুজনের কখন যেন পরম আশ্রয় হয়ে উঠেছিলাম সেদিন এবং একে অপরকে জড়িয়ে
ধরেছিলাম। প্রকৃতির তাণ্ডব কিছুটা কে কমে গেলেও বর্ষণ কখনো
অবিচল................ চলেছি আবারও প্রায় দুটো বেজে ৪০ মিনিটে স্কুলে
পৌঁছলাম বাচ্চাগুলোর অশ্রু ভেজা চোখ ও শুকনো মুখ দেখে বুকের ভেতরটা কাঁচের
মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। তারা আমাদের পেয়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে
শুরু করলো, এবার বাড়ি ফেরার পালা।।
শুরু হলো বজ্রপাত বলে না সব
খারাপের মধ্যেও ভালো লুকিয়ে থাকে আমরা একটি সুন্দর ফুলের নার্সারি তে
প্রতীজ্ঞা করছিলাম প্রকৃতি শান্ত হওয়ার আশায়। একটু বর্ষণ কমতেই বেরিয়ে
পড়লাম, শোনপুকুর সেতুর ওপর চলমান টোটো তে বসে দেখলাম এক কর্কশ বজ্রপাত
খালের জলে মিশে গেলো। কাঁপতে কাঁপতে বাচ্চারা বাড়ি ফিরে এলো সবশেষে
প্রকৃতির অনুকূলে থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছিলো খুব।
এরকম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা আমার জীবনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।।

Comments
Post a Comment