মাথার ঘামের ইকোসিস্টেম : রীনা সাহার কবিতা উদয় সাহা কবি রীনা সাহা৷ প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে৷ বরং বলা ভালো, আত্মপ্রচারের পিচ্ছিল রাস্তা থেকে বহু ক্রোশ ব্যবধানে তাঁর জীবন ও যাপন। তাঁকে নিয়েই আজকের দু-চার কথা৷ জন্ম সত্তর দশকের গোধূলি। কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার দেওয়ানহাট হাইস্কুলে পড়াশোনা শুরু৷ তারপর ইংরেজি সাহিত্যে যথাক্রমে দিনহাটা মহাবিদ্যালয় ও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্বের পাঠ সমাপন৷ বর্তমানে কোচবিহার জেলার ভেটাগুড়ি লালবাহাদুর শাস্ত্রী বিদ্যাপীঠের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরতা। নিজস্ব পড়াশোনা এবং পাঠদানের পাশাপাশি পছন্দ করেন গান গাইতে ও গান শুনতে৷ দেশ-বিদেশের সিনেমার প্রতি ভীষণ আসক্তি। ভ্রমণ পিপাসু প্রাণ; তাই ভালবাসেন সুযোগ হলেই ট্রাভেল ভ্লগে চোখ বোলাতে৷ নিঃসন্দেহে বই-অন্ত মননের অধিকারী কবি রীনা সাহা; তাঁর প্রিয় সাহিত্যিক জন ডান্, টি এস এলিয়ট, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। ধ্রুপদী জীবনানন্দ দাশ কবি রীনা সাহার নিভৃতের আশ্রয়৷ এছাড়াও বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলা সাহিত্যের কবি জয় গোস্বামী, কবি...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...