( উপন্যাসিকা ) উদয় ত পন তরফদার কলকাতার অনেক জায়গা বিভিন্ন কারনে প্রসিদ্ধ হয়ে যায় । ডেকার্স লেন । নাম শুনেই চোখ বুঁজে বলে দেওয়া যায় ওখানে প্রসিদ্ধ ডেকরেটারদের আস্থানা । ডাঁহা ভুল । ওটার অঘোষিত অথচ সর্বজনবিদিত নাম - খাও গলি । কলকাতার অফিস পাড়ার অফিস বাবুদের পেটপূজার বা ভুড়িভোজের সর্বোত্তম তীর্থ ক্ষেত্র এই ডেকার্স লেন । অফিসের এক ঘেয়েমির যন্ত্রণা , এটুঁলি পোকার মত সর্বক্ষণ লেগে থাকা বুক চিন চিন করার একঘেয়েমি ভাবনায় কিছুক্ষণের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেনের যোগান দেয় এই খাবার বিক্রেতারা । দোকানের কোনো সাইনবোর্ডের দরকার হয়না । চকচকে সবুজ কলাপাতায় লুচি , ডাল , ক্ষীরের শিঙাড়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তৃপ্তি করে খায় আর তাকিয়ে থাকে গণেশ ঘোষের দোকানের ক্যাশবাক্সে বসে কে । বসে গণেশের বড় ছেলে অসীম । এই অসীম সিনেমায় অভিনয় করবে বলে স্টুডিয়ো পাড়ায় ঘুরঘুর করতো । ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যায় । পরিচালক তপন সিংহ ওকে পছন্দ করে ভিলেনের ভূমিকায় । ব্যাস , এক কোপেতেই ঠান্ডা । ক্ষীরের শিঙড়ার সঙ্গে ...
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...