Skip to main content

উপন্যাসিকা ।। উদয় ।। তপন তরফদার

(উপন্যাসিকা)  

uday

উদয়

তপন  তরফদার

 

কলকাতার অনেক জায়গা বিভিন্ন কারনে প্রসিদ্ধ হয়ে যায়। ডেকার্স লেন। নাম শুনেই চোখ বুঁজে বলে দেওয়া যায় ওখানে প্রসিদ্ধ ডেকরেটারদের আস্থানা। ডাঁহা ভুল। ওটার  অঘোষিত অথচ সর্বজনবিদিত নাম -খাও গলি। কলকাতার অফিস পাড়ার অফিস বাবুদের পেটপূজার বা ভুড়িভোজের সর্বোত্তম তীর্থ ক্ষেত্র এই ডেকার্স লেন। অফিসের এক ঘেয়েমির যন্ত্রণা, এটুঁলি পোকার মত সর্বক্ষণ লেগে থাকা বুক চিন চিন করার একঘেয়েমি ভাবনায় কিছুক্ষণের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেনের যোগান দেয় এই খাবার বিক্রেতারা। দোকানের কোনো সাইনবোর্ডের দরকার হয়না। চকচকে সবুজ কলাপাতায় লুচি,ডাল, ক্ষীরের শিঙাড়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তৃপ্তি করে খায় আর তাকিয়ে থাকে গণেশ ঘোষের দোকানের ক্যাশবাক্সে বসে কে। বসে গণেশের বড় ছেলে অসীম। এই অসীম সিনেমায় অভিনয় করবে বলে স্টুডিয়ো পাড়ায় ঘুরঘুর করতো। ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ে যায়। পরিচালক তপন সিংহ ওকে পছন্দ করে ভিলেনের ভূমিকায়। ব্যাস, এক কোপেতেই ঠান্ডা। ক্ষীরের শিঙড়ার সঙ্গে  চর্মচক্ষে দেখতে পাওয়া পর্দার মানুষকে। উপরি পাওনা হয়ে যেতে পারে অসীমের সঙ্গে কথা বলতে আসা তাবড় তাবড় তারার জগতের নায়ক শিল্পীদের সঙ্গে।

      এই গণেশর দোকান সহ অগুনতি দোকানের জন্য প্রয়োজন অনেক অনেক কর্মচারী। শুধুমাত্র খাবার  তৈরি করলেই হবেনা। খাবার পরিবেশন করা। সঠিকভাবে মনে রাখা কে কি খাচ্ছে। খেয়ে পয়সা ঠিকমতো দিচ্ছে কিনা তারও নজরদারি করতে হয়। এই দোকানগুলো  বেশ কয়েকজন চাল চুলোহীন কিশোর কাজ করে। মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার মানুষেরাও আসে উদরপুর্তি করতে। মানুষের খিদের সময় খিদে ছাড়া আর কিছুই মনে থাকেনা। তাই এদেরকে নিয়ে  ওদের মালিকের কাছে কোনো উচ্চ বাচ্চা কেউই করে না।

        এই ছেলেরা কলকাতারই আশপাশের বস্তিতে থাকে। কলকাতার বড় রাস্তার পাশের ছোট রাস্তা ধরে এগোলেই গলির রাস্তা নজরে আসবে। এই গলির তস্য কানাগলির ভিতর কতযে বস্তি আছে কলকাতা কর্পোরেশন ও হিসাবে রাখতে পারে না। চওড়া নর্দমার উপরেই কাঠের পাটাতন ফেলে দর্মার বেড়া, মাথায় প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে ঘর বেধেছে। ওরা যদি এইভাবে বসবাস না করতো শহরের অনেকের বাড়ি অন্ধকার হয়ে যেত। ঝি, রাঁধুনি পাওয়া যেতনা। বাড়ির কি অবস্থা হত কল্পনা করুন। একদিন কামাই করলেই বাড়িতে সকাল থেকেই কাক-পক্ষীরা ধারে কাছে ঘেঁষতে পারেনা। আসলে সমাজের চলাচলের জন্য আপনা আপনিই একটা অলিখিত সামঞ্জস্য তৈরী হয়ে যায়। ছেলেরা আসে কাজ করে ডেরায় চলে যায়। এই ডেরায় থাকার সুযোগ ও কারো কারো থাকেনা। প্রকৃত অর্থে পথশিশু। এরা তিন -চার বছর বয়সেই মা-বাবা ছাড়া। কি ভাবে যে এগারো -বারো বছরে পৌঁছায় তার অনুসন্ধান করলে যে কোনো মর্মস্পর্শী আখ্যান জোলো হয়ে যাবে। এরকমই এক কিশোর যাকে সবাই ফালতু বলে ডাকে নজরে পড়ে যায় কাস্টমস অফিসের আরদালি নির্মলের চোখে। নির্মল প্রতিদিন খেতে আসে এখানে। বাড়ি থেকে না খেয়েই আসতে হয়, তাই পেট ভরে খেতে সময় লাগে। __নির্মল মালের মাঝারি উচ্চতা। বয়স অনুপাতে মাথায় কাঁচাপাকা চুল বেশি। চুলগুলো এলোমেলো। চওড়া কপাল। নাকটা টিকলো। ডানদিকের গালে, মেয়েরা যেমন  কপালে টিপ পরে ঠিক সেই ধরনের গোল টিপের সাইজে একটা কালো আঁচিল। তোবড়ানো গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, কিন্তু  চোখটা উজ্জ্বল। বড় বড় চোখ দিয়ে নির্মল মাল ফালতুকে লক্ষ করে যায়। ছেলেটা কবে থেকে উদয় হলো কে জানে। ছেলেটা যেন হাওয়ার উপর হেঁটে বেড়ায়। আরও নজরে এসে যায় গত বুধবার এক খদ্দেরের পার্সটা পকেটে ঠিকমতো ঢোকাতে না পারার ফলে রাস্তায় পড়ে যায়। খদ্দের দ্রুত পা চালিয়ে এগিয়ে যায়। ফালতুর নজরে যখন আসে  খদ্দের তখন বড় রাস্তায়। ফালতু  ফড়িংয়ের মতো উড়ে গিয়ে মানিব্যাগটা দিয়ে আসে। নির্মলের নিজের ছেলের কথা মনের অন্দরে ভেসে ওঠে। 

 

(২)

       নির্মলের সুখের সংসার একদিনেই কালো অমাবস্যায় ঢেকে গেল। আজ পূর্ণিমার আলোয় অবগাহন করে তুরীয় আনন্দ উপভোগ করছি। কাল কি হবে কেউ বলতে পারেনা। তিথি অনুযায়ী চাঁদের আলো বাড়বে বা কমবে, বিঞ্জানকে অনুসরণ করে বলতে পারি। কিন্তু  ব্যক্তিগত ভাবে মানুষের জীবনে কাল কি হবে কেউই বলতে পারেনা। যত দিন যাচ্ছে আমরা বিঞ্জান মনস্ক হচ্ছি। সত্যকি তাই। এখন খবরের কাগজ খুললেই দেখা যাবে স্বয়ং ঈশ্বরের থেকেও শক্তিশালী ওই জ্যোতিশরা। বেশ কয়েকটি টিভি  চ্যানেল ওই ভবিষ্যতের ফলাফল জানিয়ে গাদাগাদা টাকা পকেটে পুড়ছে  এখনো মানুষের হুঁশ হচ্ছেনা। উড়িষ্যার বালাসোরে করোমন্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় এতগুলো লোকজনের  কি একই রকমের শনির দশা ছিল তা কি জ্যোতিশরা বলেছিল। নির্মল মনে করে সবচেয়ে খারাপ জীবিকা ওই ভবিষ্যতের কথা বলে, ভাঁওতা দিয়ে উপার্জন করা।

         মিকি বিড়লা হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। মিকি নির্মলের একমাত্র সন্তান। লেখা পড়ায় যেমন ভালো  খেলা ধুলায়ও তেমন ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়াশুনা করবে মিকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু হবেই হবে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধূলায় বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে পুরস্কারজয়ী  হলে  তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের "ব্লু" স্বীকৃতি দেওয়া হয়। স্কুলের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রেকর্ড সংখক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে হিন্দু  হাই স্কুলের সর্বকালের রেকর্ড স্থাপন করেছে। আনন্দ আর আনন্দ। মিকির হাতে শ্রেষ্ঠ অ্যাথলিটের ট্রফি। মা মমতার হাতেও কয়েকটি পুরস্কার। কলকাতার এরিয়ান ক্লাবের মাঠ থেকে  তাড়াতাড়ি পাড়ায় ফিরতে হবে। পাড়ার লোকজনকে পুরস্কারগুলো দেখাতে হবে। ওদের ঘর এ্ন্টালিতে ফিরতে হবে। গেটের সামনেই একটা বাস দাঁড়িয়ে। রাস্তার বাঁদিক দিয়ে দেখা যাচ্ছে এন্টালি যাওয়ার এস নাইন মিনিবাসটা আসছে রাস্তার ওপাশে দাঁড়াবে। ঐই বাস চলে গেলে কম করে আধঘন্টা তীর্থের কাকের মত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। মা, ছেলে দুজনেই দৌড়ে রাস্তার ওপাশে যেতে চায়। রাস্তা পার হচ্ছে ওরা। সেই সময়েই দ্রতগামী এক টাটাসুমো চোখের পলকে ওদের পিষে দিয়ে  হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। মিকির মাথা ফেটে চৌচির হয়ে ডিমের কুসুমের মতো মানব দেহের ঘিলু কালো পিচের উপরে লেপটে রয়েছে। হাতে ধরা আছে শ্রেষ্ঠ স্পোষর্টম্যানের ট্রফিটা। মমতার হাতে শক্ত করে ধরা অন্যান্য পুরস্কার। সামনের চাকা ছেলের মাথাকে খেয়েছে পিছনের চাকা  মমতার কোমর গুড়িয়ে দিয়ে চলে গেল। এক ঘন্টা আগেও মিকি, মমতা জানতে পারিনি ওদের ভাগ্যে কি ঘটতে চলেছে।

           মমতার হৃদপিন্ড ধিক ধিক করে চলছে। প্রাণে বাঁচলেও এ বাঁচার কোন অর্থ হয়না। বিছানায় শয্যাশায়ী। প্রথমে মনে হয়ে ছিল স্মৃতি শক্তি ফিরে পাবেনা। ধীরে ধীরে স্মৃতি ফিরে পেলেও মমতা নিজের বিষন্ন মন নিয়ে নিজেই বলে যায়,  এ বাঁচার থেকে মরে যাওয়া অনেক ভাল। নির্মল সকালে মমতাকে চান করিয়ে দুধ মুড়ি খাইয়ে অফিসে চলে আসে।। দুপুর একটার পরে বুড়ি সবিতা মাসি সব বাড়ির কাজ শেষ করে এখানে এসে চান করে এদের চাট্টি ভাত ফুটিয়ে দিয়ে নিজেও খায়, মমতাকে খাওয়ায়।  রাতের জন্য কিছু  ডাল-ভাত ঢাকা দিয়ে  রেখে যায় নির্মল-মমতার জন্য। এইভাবে ধুঁকে ধুঁকে দিনক্ষয় করে নির্মলের সংসার চলছে।

 

(৩)

       নির্মল অন্য একজনের থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছে, ফালতুর মা,বাবা আত্মীয় স্বজন নেই। শিয়ালদাহ স্টেশনের তেরো নম্বর প্যাল্টফরমের শেষে  রেলের পরিতক্ত সিগন্যাল হাউসে ও কয়েকজন ভবঘুরের সঙ্গে থাকে। নির্মলের ছেলেটাকে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে সেদিনের ওই মানিব্যাগ ফেরত দেওয়ার ঘটনাটা চোখে ভাসছে। ছেলেটার শরীরে ভালো মানুষের রক্তই বইছে।  ওর মা হয়তো ওর পিতৃত্বের পরিচয় দিতে পারেনি বলেই অন্ধকার জগতে ফেলে রেখে পালিয়েছে। এমন একটি ছেলেকে যদি ঘরে রাখা যায় দুপক্ষেরই মঙ্গল। ছেলেটাকে পরিচিতি দিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠিত করা যেতে পারে। নির্মল রবিবারে ওই খাবারের  দোকান বন্ধের দিনে খুঁজে খুঁজে রেল লাইন পেরিয়ে হাজির ওদের ডেরায়। ডেরাটা দেখে আরো কষ্ট পেল নির্মল। ছেলেটা এখনো কি করে ভালো আছে তাই ভেবেই ভয় পেয়ে যায় নির্মল। বেশ কয়েকজন গোল হয়ে বসে  নেশা করছে। এখন এক নতুন নেশা বাজারে এসেছে "ইয়াবা"। হেরোইনের মতো করেই নেশা করতে হয় ইয়াবার। অ্যালুমিনিয়ামের  ফয়েলের উপর ইয়াবা ট্যাবলেটটা রেখে নিচ থেকে তাপ দিয়ে ওটাকে গলাতে হয়। গলানোর ফলে যে ধোঁয়া বেরোয় তা একটা  নলের মাধ্যমে মুখ দিয়ে টানতে হয়। ধোঁয়া তত্ক্ষণাত সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে ফেলে। এই ইয়াবা  ট্যাবলেট কে বলা হয় "আপার ড্রাগ" কারণ এটার প্রথম টানেই শারীরিক ও মানসিক একটা  ঝটকা লাগে যার ফলে সব কিছু  চাঙ্গা হয়ে ওঠে।

          পাঁচ-ছজন ছেলে গোল হয়ে বসে আছে। ঠিক মাঝখানে কাগজ পুড়িয়ে অ্যালুমিনিয়ামের  ফয়েলে তাপ দিয়ে ধোঁয়া গিলছে। নির্মলকে দেখেই  ঝটপট সবাই এধার ওধারে সটকে গেল। ফালতু  ফ্যাল ফ্যাল করে নির্মলের দিকে তাকিয়ে থাকে। ফালতু  নির্মলকে চেনে। কতদিন খাবার তুলে দিয়েছে। চুপচাপ বসে খাবার খেয়ে চলে যায়। তেমন মনে রাখার মতো কোনো ঘটনা ফালতুর মনে পড়েনা। নির্মল সিধে এগিয়ে এসে আন্তরিক গলায় বলে, আমি তোর কাছেই এসেছি। ফালতু  অবাক হয়ে বলে আমার কাছে। আমি তো কোনো খারাপ কাজ আপনার সঙ্গে করিনি। আমার সঙ্গে কি দরকার। নির্মল বলে, না না আমি তোকে খারাপ বলছিনা। ফালতু  বলে, ওদের সঙ্গে  আমাকে মেশাবেন না। পারত পক্ষে  আমি ওদের সঙ্গে মিশিনা। আমি ভালো ছেলেদের মতো বাঁচতে চাই। আমি মানুষের মতো বাঁচতে চাই। আমার মা ভদ্রলোকের মেয়ে। আমি মায়ের মাথায় হাত রেখে শপথ নিয়েছি, আমি চুরি-চামারি, নেশা, কোনো অসৎকাজ করবোনা। মা বলেছে আমার বাবা ও ভদ্র ঘরের ছেলে। ভালো মানুষ। ভাগ্যের ফেরে আমার আজ এই অবস্থা। বাড়ির অমতে আমার বাবা বিয়ে করে। আমার মা নিচু জাতের মেয়ে বলে, দাদু, জ্যাঠারা আমার বাবাকে তাড়িয়ে দেয়। বাবা ও রাগে দুঃখে  মা কে নিয়ে  এক কাপড়ে ঘর ত্যাগ করে সংসার পাতেন। সংসার ভালোই চলছিল। আমার তখন পাঁচ বছরের। সব কিছু  উলোটপালট হয়ে যায় এক দুর্ঘটনার জন্য। বাবা বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসের ব্রেক ঠিক মতো কাজ না করার জন্য এক্সাইড মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে পিষে দেয়।  নির্মলের  পুরানো ক্ষতটা মনের মাঝে ভেসে উঠে। যন্ত্রণাটা সহ্য করে নিয়ে বলে, হাঁ ঘটনাটা খবরের কাগজে পড়েছিলাম। মা অনেক চেষ্টা করেছিল আমাকে নিয়ে  বাঁচতে। বস্তির একটা ঘরে ঠাঁই পেয়েছিলাম। প্রতি রাতেই বিশুমামা যে ঘরটা যোগাড় করে দিয়েছিল সে প্রতি রাত্রেই  ঝামেলা করতো মায়ের সঙ্গে।  বস্তিতে ও কিছু  ভালো মনের মানুষ থাকে। ওরাই বলে বিশু ভালো লোক  নয়। তোমাকে  নষ্ট করে দিয়ে  মেয়ে পাচারকারীদের কাছে  বিক্রি করে দেবে। তোমরা পালিয়ে যাও।  নির্মল জানতে চায় তোর মায়ের আর কোনো খবর পেয়েছিস। ফালতু ঝরঝর করে কাঁদতে থাকে। নির্মল অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। নিজেই ওর পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে সান্ত্বনা দিতে থাকে। ফালতু বলে, আমি জানি মা সবারই সব সময় থাকেনা। ছোট্ট ফালতু যে এমন বড়দের মতো কথা বলবে নির্মলের ধারণাই ছিলনা। ফালতু বলে উঠে মা মরেনি গুণ্ডারা আমার মাকে ধরে নিয়ে গেছে। ওদের  কথামত  বস্তির ঘর ছেড়ে আমরা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকতে শুরু  করি। গভীর রাত। আমি আর মা পাল্টফরমে শুয়ে আছি। ধ্বসাতাধ্বস্তির আওয়াজে ঘুম ভেঙে গিয়ে দেখি মাকে চ্যংদোলা করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি মায়ের শাড়ি ধরে আছি। আমাকে এক থাপ্পড় মেরে ফেলে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে তুলে নিয়ে যায়। মায়ের সেই কান্না এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে। আমাকে মানুষের মত মানুষ হতে হবে।  নির্মল এত কিছু  শুনবে আশা করেনি। ফালতুর মাথায় হাত বোলায়, বলে শান্ত হও। আমি না বুঝে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমার পরিবারেও এক অঘটনের ফলে আমাদের সব থেকেও কিছু  নেই। নির্মল সব ঘটনা ফালতু কে বলে। দুজনের মধ্যে এক অন্তরঙ্গ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেই  মোক্ষম সময়েই নির্মল বলে, তুই আমার সঙ্গে চল। তুই আমার বাড়িতে আমাদের ছেলে হয়ে থাকবি। ফালতু  কোনো কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে যায়।

 

(৪)

            ফালতু  নিজের মায়ের সেবা করতে পারেনি, মমতাকে মনপ্রাণ উজার করে সেবা করে। মমতা, নির্মল  জ্যোতিষে বিশ্বাস  না করলেও  ঈশ্বরের প্রতি আস্থা রাখে। মনে করে ঈশ্বর সৎমানুষের সঙ্গে থাকে। নির্মল, মমতা, ওরা মনে করে তাদের ছেলে কে ঈশ্বরই ফেরত দিয়েছে। নিজের ছেলে হয়ে যায় ফালতু । ফালতুর নাম বদলে রাখা হয়  উদয়।

             নির্মল পাড়ার ক্লাবের ছেলেদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ক্লাবের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সবাই হতবাক হয়ে যায়,বলতে থাকে এ কোথা থেকে উদয় হলো। সবকটা দৌড় প্রতিযোগিতায় অবিশ্বাস্য কম সময়ে দৌড়ে প্রথম হয়ে যাচ্ছে। মাঠের লোকজন জেনে গেল ছেলেটার নাম উদয়। আমাদের পাড়ার নির্মল বাবুর বাড়িতে থাকে। কেউ রটিয়ে দিল ওনার  দুরসর্ম্পকের আত্মীয়। কেউ  কেউ  বলতে লাগলো  নির্মলবাবু দত্তক নিয়েছে। ফালতুর দৌড়  কোনো অংশে ভারতের গর্ব মিলখা সিং এর  থেকে কম নয়। আর উদয়  মানে  আর্বিভাব। এক নতুন অধ্যায়ের শুরু  করলো উদয়। নতুন নতুন রেকর্ডের সৃষ্টি হবে এই উদয়ের দৌলতে। ছেলেটা ভালো দৌড়ায়। ক্লাবের ছেলেরা বলতে লাগল, ও আমাদের মিলখা সিংহ। সুযোগ পেলে ও ভালো দৌড়বীর হতে পারে। নির্মল  ওই জ্যোর্তময়ীর  রানার কোচিং সেন্টারে   উদয়ের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে দিল।  মমতা  শুয়ে শুয়েই ওকে লেখাপড়া করাতে লাগল। পাড়ার সবাইকে  অবাক করে দিয়ে প্রাইভেটে ভালো নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক  পাশ করলো। উদয় পড়াশুনার সঙ্গে দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা নিষ্ঠার সঙ্গে চালিয়ে যায়।

            মাঠের  ট্রেনিং শেষ করে কাস্টমস অফিসে নির্মলের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে বাড়িতে ফেরে। এই সময়ে অফিসের অনেকের ফাইফরমাশ হাসিমুখেই করে দেয়। অফিসের অনেকেই ভালোবাসে, পছন্দ করে উদয়কে। যে পরিশ্রমী হয়, মানুষের উপকারের জন সচেষ্ট তাকে সবাই ভালোবাসে, সে সহজেই মানুষের মনে স্থান করে নিতে পারে।   সেদিনটা ছিল নভেম্বরের কোনো একদিন। সব বামপন্থী দল মিলিত হয়ে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে খন্ড যুদ্ধ বেঁধে যায়। পুলিশ গুলি  চালায়। প্রতিবাদীরা যানবাহন বন্ধ করে দেয়। শহর অচল হয়ে যায়। সেই সময়েই অফিসে ফোন আসলো একটা জরুরি ফাইল সুপারিনটে্ন্ডন নিয়ে যেতে ভুলে গেছেন। বস দিল্লী যাচ্ছেন রাজধানী এক্সপ্রেসে। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ছেড়ে যাবে বিশ মিনিট পরেই। বড়বাবু ফ্যাকাশে মুখে বলছে কি করে এই সময়ের মধ্যে এই পরিস্থিতিতে শিয়ালদহ যাবো। উনিতো এসব মানবেননা। আমাকেই বলবেন অপদার্থ কোনো কাজের নয়। নির্মলের ও খারাপ লাগে। অফিসের সবাই নিরীহ পৌঢ় বড়বাবুকে ভালোবাসে। কি করা যায়। উদয় সব শুনছে। মাথা নিচু করেই বলে, আমি একবার চেষ্টা করবো। নির্মল বলে কি করে যাবি সব বন্ধ। উদয় বলে বন্ধ বলেইতো সুবিধা হবে। আমি দৌড়ে স্টেশনের পিছনের রেল লাইন ধরে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে যাবো। তোমারা উনাকে ফোন করে বলে দাও হলদে হাফশার্ট পরা, লম্বা একটা ছেলে যার নাম উদয় সে ফাইলটা নিয়ে  যাচ্ছে।

          উদয় স্ট্রান্ড রোডের দিকে দৌড় শুরু  করে হাতে চকচকে রেক্সিনে বাঁধানো ফাইল। কলকাতার লোক না বুঝেই পরোপকারও করতে ওস্তাদ। দুজন লোক, চোর চোর বলে উদয়ের পিছনে দৌড়াচ্ছে। না পিছনে তাকিয়ে সময় নষ্টের সময় এখন নয়। কে যেন ওর কানে কানে বলছে, "ভাগ উদয় ভাগ।" জীবন যতদিন থাকবে যন্ত্রণাও ততদিন থাকবে। উদয় হেড পোষ্টঅফিসের গোলবাড়ির  পিছনের সুলভ শৌচাগারে ঢুকে  লাফিয়ে পিছনের পাঁচিলে উঠে পড়ে। পাঁচিল থেকে লাফ দিয়ে নেমে বাঁ দিকে ছুটে ঢুকে পড়ে  ডেভিড লেনে। উদয় বাস্তবের ধাক্কা খেয়ে বুঝে গেছে  আনপাড় পাবলিককে কি ভাবে বোকা বানাতে বা বোঝাতে হয়। উদয় দৌড়াতে  দৌড়াতে বলছে, আমাকে ট্রেন ধরতেই হবে, আমাকে ট্রেন ধরতেই হবে। উদয়ের চিৎকারে পাবলিক ভয়ে বা ভক্তিতে  রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে। কেউ মনে করছে পাগল কেউ মনে করছে ক্ষেপা কুকুরের মোতো দৌড়াচ্ছে, সরে যাওয়াই ভালো। গায়ে পড়লে বিপদ।  এই কানাগলি শর্টকাটে বাগরী মার্কেট মিশেছে। ওখান থেকে যায় কাশি দত্ত লেনে যা মেডিক্যাল কলেজে মিশেছে। মেডিক্যাল কলেজের বাঁ পাশের  হ্যাারিসন রোড ধরে সুভাষ ইন্সটিউ্টকে  পিছনে ফেলে রেললাইনটা ধরে পনেরো মিনিটেই পৌঁছে যায় রাজধানী এক্সপ্রেসে। বশ গুলারিয়া শাহ সাদা রুমাল দিয়ে ঘেমো টাক, মুখ মুছেই চলেছে। উদয়ের হাতে ফাইলটা দেখেই ধড়ে প্রাণ আসে। বাবারও বাবা থাকে। দিল্লীর কর্তা যা মধুর বাণী শুনাতো তাতে একটা প্যান্টের পাছা হলদে হয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কড়কড়ে একশো টাকার নোট এগিয়ে দেয় উদয়ের দিকে। উদয় বলে, সাহেব আমার বাবা ওখানে কাজ করে। আপনাদের নুন খাই। আমারও দায়িত্ব, সুযোগ পেলে আপনাদের  সাহায্য করা। আজ গুলারিয়া সাহেবের সব কিছু  গুলিয়ে যাচ্ছে। এই প্রথম একজনকে দেখলো টাকা না নিয়ে ও খুশী। গদগদ হয়ে বলে, আমি দিল্লী থেকে ফিরে তোমার একটা ব্যবস্থা করে দেবো। উদয় কোনো কথা বলে না, মনে মনে হাসে। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে বড়রা বিপদ থেকে উদ্ধার হতে বা হয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে কার্পণ্য করেনা, এবং ভুলে যেতেও ভোলেনা।

          গুলারিয়া সাহেব এক সপ্তাহ হলো ফিরেছে। বড়োবাবুকে বলেছে ওই ফাইলটা না নিয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যেতো। বড়বাবুর উপস্থিত বুদ্ধির ও প্রশংসা করেছে। কালের নিয়মেই ঝড় থেমে গেছে, অফিস শান্ত হয়ে আগের মতই গতানুগতিক চলছে। অফিসে নতুন কোনো ঝঞ্ঝাটের  উদয় হয়নি তাই স্বাভাবিক কারনেই উদয়ের খোঁজ পড়েনি। বৃহস্পতিবারের বারবেলায়  অফিসে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়লো। দিল্লী থেকে খবর এসেছে এইবারের অল ইন্ডিয়া কাস্টমস স্পোর্টস মিট কলকাতায় হবে। সব কিছুর ব্যবস্থা এই অফিসকে করতে হবে। গুলারিয়া সাহেব বড়োবাবুকে ডেকে রুমাল দিয়ে টাক, মুখ মুছেই চলেছেন।  বড়বাবু মাখন সমাদ্দার কে সামনে বসিয়ে সব কথা খুলেই  বলেন,। বড়বাবু বলেন, সাহেব ঘাবড়াবেন না। ওরা বাজেট করে যা টাকা দেবে সেই অনুযায়ী "ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ঠিকাদার" কে বরাত দিয়ে দেবো বলেই ঠোঁটের পাশে মুচকি হাসি। এই হাসির অর্থ গুলারিয়ার মর্মে মর্মে গাথা। ঠিকাদারের থেকে কমিশন পাওয়া যাবে। গুলারিয়া এক ফ্যাকাশে মুখ করে বলে লেকিন স্পোর্টসমে  হামারা অফিস কা কেয়া পজিশন হোগা। বিপদে পড়লে মাতৃভাষা অজান্তেই পেট থেকে বেরিয়ে আসে। গুলারিয়া সাহেবের কোন দোষ নেই। সারা ভারতের সব অফিসের সব কর্মচারিবৃন্দর এই প্রতিযোগিতা। কলকাতার শাখা যদি কোনো পদক না পায় তাহলে কলকাতার বদনামের  থেকে গুলারিয়ার অযোগ্যতাই বেশি প্রমাণিত হবে। কেউ বুঝবানা কত দিন হলো নতুন লোকজন নেওয়া হয় নি। স্পোর্টস কোটার কোনো কর্মচারী এই অফিসে কাজ করেনা। সমাদ্দার বাবু বলেন, ও নিয়ে  চিন্তা করবেন না। আপনি অস্থায়ী হিসাবে উদয় কে আমাদের দফতরে ঝাড়ুদার হিসাবে  নিয়োগ করে নিন।  সিনেমার পর্দায় যেমন দেখায় কড়াৎ করে বাজ পড়ার আওয়াজ আর পুরানো সব কথা মনে পরে যায়। প্রথম কথাটাই বলে, "আমি কোথায়।" গুলারিয়া টাকে রুমাল ঘষতে ঘষতে মনে পড়ে যায় শিয়ালদা স্টেশনের ঘটনা। গুলারিয়া মুখে চুক চুক আওয়াজ তুলে বলে, ভুলে গিয়েছিলাম, ও লেড়কা বহুত তেজি হ্যায় আচ্ছা হ্যায়।

          কাস্টমস অফিসে সাজসাজ রব। কেউ হাঁটার রেসে নাম দেবে বলে বাস ছেড়ে দিয়ে হেঁটে অফিসে ঢুকছে। কিছুই বলতে পারছেনা গুলারিয়া। টিফিন টাইম পাস করে সবাই "প্রাক্টিসে যাচ্ছি" বলে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। গুলারিয়ার টাক আরও চওড়া হচ্ছে। দিল্লী থেকে হোমড়া চোমড়ারা আসবে। শোনা যাচ্ছে শুল্ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জ্ঞান সিং আসতে পারে।  

       ২৩শে জানুয়ারি মোক্ষম দিনেই অনুষ্ঠান। এই দিনে সব পক্ষই এক হয়ে কে কত দেশকে ভালোবাসে নেতাজী অন্ত প্রাণ প্রমাণ করে ছাড়ে। তেরঙ্গা পতাকা তুলে  জ্ঞান সিং জ্ঞান বিতরণ করতে শুরু  করলেন। থামার কোন লক্ষণ নেই। সেই কথায় বলে না, যার কেউ নেই তার ভগবান আছে। এখানে ভগবান লোড শেডিং করে দিলেন। সবাই স্বস্তির নিঃশাস ফেলল। আশাতীত দর্শক উপস্থিত হয়েছে। কর্মী বর্গের প্রত্যকেই পরিবার পরিজনবর্গ নিয়ে হাজির। ফ্রি চা বিস্কুট। জম্পেশ লাঞ্চ প্যাকেট পাওয়া যাবে।

          হুইসেল বাজিয়ে শুরু হলো প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীরা সর্বোচ্চ কটি বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে তার কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। দুটি -তিনটির বেশি বিষয়ে লড়তে গেলে যে দমের দরকার তা কজনের আছে। তাছাড়াও যত বেশি প্রতিযোগী থাকবে তত ভালো হবে।  ফাঁকা ফাঁকা লাগবেনা। একেই বলে কপালের নাম গোপাল। উদয়ের কপাল ফুলে কলাগাছ। প্রত্যেকটি বিষয়ে  সে একশ মিটার থেকে দুহাজার মিটার দৌড়। লং জাম্প থেকে হাই জাম্প। সব বিষয়েই প্রথম। মন্ত্রী জ্ঞান সিং ও খুব খুশি। হামারা ডিপার্টমেন্ট কি আদমী হামকো বহুত খুশ কিয়া। গুলারিয়া কানে কানে মন্ত্রীকে বলে, ও আমাদের কর্মচারী নয়। কয়েক দিনের জন্য ক্যজুয়াল লেবার হিসাবে নিয়েছি। মন্ত্রী বলে, আপনাদের এই বুদ্ধি নিয়ে কি করে ডিপার্টমেন্ট চালান। ওকে স্পোর্টস কোটায় চাকরির জন্য পাঠান, আমি সই করে দেবো। গুলারিয়া বড়বাবুকে সাক্ষী রাখতে খোঁজ করলো, পেলোনা।  গুলারিয়া জানে পরের উপকার করবে নিজের ক্ষতি করে নয়। চিঠি লিখলে  পাল্টি খেয়ে ওর ঘাড়েই যেন বন্দুক না চাপিয়ে দেয়।

          এই সব অনুষ্ঠানে শেষ হয় "গো এজ ইয়ু লাইক" দিয়ে। প্রতিযোগীরা যেমন খুশী সেজে আসে। কিস্তিমাত করে দিলেন বড়বাবু।  "মুঝে প্যায়র হোগায়া, মুঝে প্যায়র হো হো গেয়া গান গেয়ে, লুঙ্গি  ড্যন্স, লুঙ্গি ড্যন্সের কায়দায় নেচে। সবাইকে ডেকে ওনার সঙ্গে নাচতে অনুরোধ করলেন। অনুরোধ কেউ  উপেক্ষা করলোনা। ওনার সঙ্গে সবাই নাচতে শুরু  করে দিল। মধুরেণুয়তে সমাপ্ত হলো।

(৫)

       উদয়কে চাকরি দেওয়া হয়েছে। কোনো কাজ করতে হয়না বলে ক্ষোভ। কবে দৌড় প্রতিযোগিতা হবে তখন দৌড়াবে। উদয়কে বলে ও "রেইড" করতে ওই দলের সঙ্গে পথেঘাটে যাবে। ডিউটি করবে।  উদয় দেখে লরি ভর্তি ফুডর্কপোরেশনের গম রবীন্দ্র সেতুতে উঠেছে। ড্রাইভার পকেট থেকে তাসের মতো কি একটা দেখিয়ে স্পীডে সেতুতে উঠে গেল। উদয় দৌড়ে লাফ দিয়ে ড্রাইভারের দরজা ধরে টান মেরে বলে, 'রোকো।' চোরাই মাল পাচার হচ্ছে। শোরগোল বেঁধে যায়। খবরের কাগজের লোক, টিভির লোক শকুনের মতো ঘিরে ধরে ছবি তুলতে থাকে। কতৃপক্ষ বাধ্য হলো অ্যরেষ্ট করতে। রাতেই পুলিশ কমিশনারের ফোন গুরালিয়াকে। "কি ব্যাপার। ওরা কমিশন দিয়েছে, আপনাকেও কমিশন দেওয়া হয়েছে তাও কেন ধরা হলো। আমি জানতে পারলাম ড্রাইভার "পাঞ্জা" দেখানোর পরও ধরা হয়েছে। গুলারিয়া টাকে হাত বুলাতে বোলাতে বলে টাকা পেয়েছি। কিন্তু বিপদ হয়েছে ওই উদয়। ওকে বলা যাচ্ছেনা আমরাই কমিশন খেয়ে ওদের কে ছেড়ে দিই।

            কয়েক মাস পেরিয়ে গেছে উদয়ের নাম অনেকেই জেনে গেছে। রাত বারোটায় ডন দাউদ মিঁয়া ফোন করে গুলারিয়াকে বলে, হচ্ছেটা কি। একটা লোককে কনট্রোল করতে পারছেন না। গুলারিয়া বলে, আমি শাঁখের করাতে পরে গেছি। ওকে তো এখন ডিউটি থেকে  সরাতে পারিনা। ওকে সরালেই কাগজে কাগজে  লেখা লেখি হবে। আমার সাত গুষ্ঠি ঘুষখোর প্রমাণ করে দেবে। ও যদি নিজে থেকে বলে যাবেনা তবেই সবার মঙ্গল। দাউদ বলে আপনাদের মাথায় গোবর ও নেই। যত সব ভূষিমালের দল। গুলারিয়া সাহেব, ওকে বদলি করে দিন যে কোনো জংলী জায়গায়। গুলারিয়া দাউদ মিঙাকে নিজের  বিবির থেকেও বেশি ভয় পায়। বিবিরা মুখে টাইট দেবে প্রাণে মারবেনা দাউদের মতো। দাউদকে বলবেনা  বলবনা মনে করেও বলে ফেলে, বদলি করলে, এখানে  কর্মচারীদের ইউনিয়ন ঘেরাও করে কাজকর্ম বন্ধ করে বগল বাজাবে। টিভির লোকজন দের ডেকে এমন গরমাগরম বক্তৃতা দেবে যা শুনে পাবলিক আমাকে তো ভিলেন বানাবেই সঙ্গে সরকারকে জড়িয়ে রগরগে গল্পকথন শুরু করে দেবে। দাউদ  এবার শোলের গব্বরের সেই ডায়লগটা স্মরণ করিয়ে বলে, আব তেরা কেয়া হোগা কালিয়া। গুলারিয়া সাহেব বাথরুমে যাওয়ার সময় পেলোনা। প্যান্টেই হয়ে গেল। ফোনে বলেই ফেলে উষকো প্রমোশন দেখে ভাগায়াঙ্গে। বড়বাবু এই সময়েই ঘরে ঢুকে কথাটা শুনেই চেপে ধরে গুলারিয়াকে। গুলারিয়া গড়গড় করে সব উগলে দেয়। বড়বাবু ও উদয়ের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। পুরো অফিসের বদনাম হয়ে যাবে। বড়বাবু বুদ্ধি দেয় ওকে ডেপুটেশনে উত্তর বঙ্গ পাঠিয়ে দিন। ওখানকার লোকজন দের কয়েক মাস সাহায্য করতে যাবে। গুলারিয়া মনে মনে বলে এই জন্যই বড়বাবুকে শকুন বলে।

 

(৬)

         উদয়  পাঠিয়ে দেওয়া হলো উত্তর বঙ্গের ফুলবাড়ি অফিসে। এই অঞ্চলে  কাঠ মাফিয়া দের রাজত্ব। পুরানো অনেক গাছ আছে যার সন্ধানে আন্তর্জাতিক মাফিয়ারা প্রচুর পরিমাণে টাকা  খরচ করে। কোনো এক গাছের কাঠের টুকরো এক রাত্রি জলে ভিজিয়ে খেলে মধুমেহ অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ  সেরে যায়। সারা পৃথিবীতে অগুনতি কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে  এই রোগের  জন্য। সামান্য  জলে ভিজিয়ে জলপান করলেই যদি রোগ সেরে যায়  তার মূল্য হিরের থেকেও কম দামি নয়। এই অঞ্চলের বনে অনেক প্রাচীন মূল্যবান গাছ আছে  যা দুস্প্রাপ্য। স্বাভাবিক কারনেই তার মূল্য অনেক  অনেক। সমগ্র চোরাচালানিরা উত্তর বঙ্গের এই রাস্তা ধরেই চোরাচালান   করে।

       উদয়ের সঙ্গে  আরো তিনজন  আছে ডিউটিতে। উদয় ছাড়া তিন জনেরই বয়স ষাটের কাছাকাছি। এই অঞ্চলের বাসিন্দা, অবসরের শেষ পর্যায় সবাই বাড়িতে থাকতেই বেশি ভালোবাসে। তেমাথার ঢালে দাঁড়িয়ে  দাঁড়িয়ে ডিউটি দিচ্ছে ওরা। সাধারণত সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়িরা তাড়াতাড়ি  শুয়ে পড়তো। এখন টিভির দৌলতে সবাই ঘরে বসেই টিভি দেখে, যার ফলে  যতদূর চোখ  যায় দুর থেকে মনে হয় বড় আকার বিশিষ্ট জোনাকিরা পাহাড়ের ধাপে  ধাপে জ্বলছে।

       পাহাড়ি এলাকায় কখন বৃষ্টি নামবে কেউ জানে না। হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। সমস্ত প্রকৃতি যেন রুদ্ধ-শ্বাসে প্রলয়ের প্রতীক্ষায়। একটা বিদুৎ আকাশকে এফোঁড় ওফোঁড়ে দীর্ণ-বিদীর্ণ করে দেবার পরই প্রচণ্ড শব্দ করে বজ্রপাত হল। তারপর আবার সব চুপচাপ। কয়েক পল পরেই সোঁ সোঁ শব্দের ঝড় এলো। কামান গর্জনের সঙ্গে সঙ্গে যেন যুদ্ধ আরম্ভ হলো। গাছগুলো  হাহাকার আওয়াজ তুলে আর্তনাদ করতে লাগলো। পাখিরা বিভ্রান্ত হয়ে  উড়তে লাগল। বৃষ্টি নামল। বেশ মুষলধারে। ঝড় বৃষ্টি দুটোই সমানে চলতে লাগল। গাছের ডালপালা ভেঙে ছড়িয়ে পড়তে লাগল, মনে হলো মৃত সৈনিকদের দেহ আছড়ে পড়ছে। ঝড়,বৃষ্টি আর অরণ্যের সমন্বয়ে  এক বৈচিত্র্যময় শব্দের সৃষ্টি করলো। কখনও মনে হচ্ছে কেউ যেন  অট্টহাসি  হাসছে, পরক্ষণেই মনে হচ্ছিল  কেউ যেন কাঁদছে। কান্নার আর্তনাদের সঙ্গে  খিকখিক হাসি মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক অসহনীয় আতঙ্কর পরিবেশ।

      উদয়রা  ওয়াটার প্রুফটা পড়ে  নিয়ে ডিউটি দিচ্ছে।। উদয়ই রাস্তার ধারে। একটা জীপ মাঝামাঝি গতিতে চলে গেল। উদয় বুঝতে পারলো এই জীপ আগে আগে রেইকি করে মোবাইলে খবর দিয়ে দিচ্ছে "রাস্তা ক্লিয়ার।" উদয় ওদেরকে বলে রাস্তায় আসতে। পাখি ধরতে হবে। ওরা এগিয়ে আসলোনা। একটা লড়ি সোঁ সোঁ করে এগিয়ে আসছে। উদয় হাত দেখিয়ে থামাতে বলে। লরি না থেমে ওর গা ঘেঁষে এগিয়ে  যায়। উদয় লরির পাশাপাশি দৌড়াতে থাকে। লরির নাগালের বাইরে, পিছন দিক থেকে আর একটা  জিপ জোরে ধাক্কা মারে। রাস্তা  থেকে  ছিটকে এক গভীর খাদে পড়ার আগেই দুস্প্রাপ্য পাহাড়ি গাছ  "সোনালু"র ডালের এক খাঁজে বাঁ হাতের পাঞ্জ্যা আটকে  যায়। ভাগ্যিস ডালে হাতটা আটকে গিয়েছিল তা নাহলে পাঁচশো মিটার নিচের খাদে পাইনের বনে আছড়ে পড়তো।  ঝুলতে থাকে উদয়, হাত ফসকালেই অতল খাদে। লরিটা এঁকে বেঁকে এগোচ্ছে। চড়াই রাস্তা টপ গিয়ারে ও কচ্ছপের গতি। উদয় ঝুলন্ত অবস্থায়  ডান হাতে অত্যাআধুনিক  নাইন এম এম পিস্তলটা টিপ করে ট্রিগার টিপে বলে, কালো বাজারিদের নিকেশ করবই। গুলিটা সিধে  লরির ডিজেল ট্যাংকে। জ্বলন্ত লরিটা পাহাড়ের অতলস্পর্শ খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

      উদয়ের বামহাতের পাঞ্জা সোনালু গাছের দুটি ডালের ফ্যঁকরার মাঝখানে আটকে গেছে। শরীর ঝুলছে। হাত খুলে গেলে  নিচে আছড়ে পরতে হবে। ভোর হতে এখনো কয়েক ঘন্টা বাকি। কিছু  অধিবাসি বুঝতে পেরেছে কিছু  একটা হয়েছে। উদয়ের সঙ্গে  আরো যারা  ডিউটি করছিল তারা ছুটে এসেছে। দু-তিনটে লরি মজা দেখার জন্য দাঁড়িয়ে গেছে। ড্রাইভাররা মনে মনে বলছে বেশ  হয়েছে। আমাদের ধরার ফল হাতেনাতে পেলি।  সহকর্মীরা উপর তলায়  ফোন করে দিয়েছে। রাত শেষ  হয়ে  আসছে। অহনার আলো বুঝিয়ে দিচ্ছে সূর্য দেবতার উদয় আসন্ন। উপর তলার আধিকারিকরা  এখনো ঠিক করতে পারছেনা  উদয়কে বাঁচতে টিম পাঠাবে কি পাঠাবেনা। সূর্যদেব উদিত হয়ে উদয়ের মুখেই পড়ছে। ওদিকে জ্ঞান হারিয়ে  ঝুলতেই থাকে উদয়।

      দর্শকদের একান্ত প্রার্থনা স্বমহিমায় আবার সমাজে ফিরে আসুক উদয়।

 

==============

 

 


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,