কাদের কিংবা কেদার সন্তোষ ঢালী ছোটখাটো ফর্সামতো হাফপ্যান্ট পরা হাসিখুশি যে লোকটা এসে সামনে দাঁড়াল , তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে না থেকে পারা যাবে না। প্রথম দেখাতেই আকৃষ্ট করল সে। পরনে উদ্ভট হাফপ্যান্ট , সার্কাসের ক্লাউনের মতো গায়ে হাফহাতা রঙচঙা গেঞ্জি , মাথায় নেপালি টুপি , পায়ে দৃষ্টিকটূ রঙিন চপ্পল। এমনিতেই সবসময় খুব ঠান্ডা দার্জিলিঙে তার উপর শীতকাল। বোঝার উপর শাকের আটির মতো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও আছে। শীত খুব জাকিয়ে বসেছে। এই শীতে সামান্য এ পোশাকে বিস্মিত হওয়ারই কথা। কিম্ভূতকিমাকার পোশাক-পরিচ্ছদ। কোনোটার সাথে কোনোটারই কোনো মিল নেই। অসামঞ্জস্য। সাইজও এক একটা এক এক রকমের। প্রথম দেখাতেই যে কেউ একটু ভিড়মি খাবে এবং কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতে হবে। হোটেল বয়। তাকে অবশ্য বয় বলা চলে না , কারণ তার দাড়ি-গোঁফ গজিয়ে গেছে ; যদিও দাড়ি নেই , গোঁফ আছে। চার্লি চাপলিন মার্কা গোঁফ। দেখলেই হাসি পায়। বেশ চটপটে। ‘ ঘুম ’ । পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম রেল স্টেশন। বৃষ্টিস্নাত দার্জিলিং। স্টেশন পাশ কাটিয়ে আমাদের জিপ এসে থামল হোটেলের সামনে। কাছেই। ‘ হোটেল মিল্কিওয়ে ’ । হর্ন শুনেই ছুটে এলো হোটেল বয়। ল্যাগেজগুলো নির্ধ...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...