কবি নাসির ওয়াদেনের 'অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজা' চলমান জীবনের জীবন্ত চিত্রনাট্য পাঠপ্রতিক্রিয়া : আবদুস সালাম কবি নাসির ওয়াদেন মফস্বলের জীবন ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে তার সাহিত্যের আঙিনায় বিচরণ। মফঃস্বল শুধু ভৌগোলিক পরিচয় নয়—এটি তাঁর সাহিত্যচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কবিসত্তার একটি উল্লেখযোগ্য দিক।তার বৈশিষ্ট্য হলো বিজ্ঞানমনস্কতা। বাস্তবতার সঙ্গে জাদু-বাস্তবতার মিশ্রণ তাঁর কবিতার একটি পছন্দের প্রবণতা। কবিতাকে শুধু আবেগের বিষয় হিসেবে দেখেননি; কবিতার ভাষা, শব্দনির্মাণ ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক বোধ তার কবিতায মূল সুর। ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি দারিদ্র্য, শোষণ, বিশ্বাসভঙ্গ, সামাজিক অসাম্য ও মানুষের অস্তিত্বের সংকট উঠে আসে। ভাষা ও চিত্রকল্পের ব্যাবহারে নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।তার কবিতায় উঠে আসে প্রকৃতি, গ্রামবাংলা, ঋতু, পাখি, আলো-আঁধারি ইত্যাদির সঙ্গে আধুনিক জীবনের সংকট। [অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজা] কাব্যগ্রন্...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...