চিত্ত রঞ্জন চক্রবর্তী
না বলো না নীল প্রভা
তুমি যেতে বারণ করো না নীলপ্রভা ,
অশান্ত মন সেদিকেই গমন, চাঁদ সদাগর সপ্তডিঙ্গা ভিড়ায়।
কাল থেকে রাতের বিছানায় শুয়ে অনুমান সকাল। ,
প্রভাতী নীলিমা করেছে আড়ি, ----চঞ্চল আঁখিপাত।
তিস্তা নির্জনতা ভেঙে ঢেউ তুলে,
আবার মিলিয়ে যায়, সব কাহিনী কল্প স্বপ্নগুলো ডুবে অতলে।
অসীম গভীরে জন্ম নেয় দক্ষিণা তট, মায়াময় একি।
ভূমধ্যসাগরে সমুহ পর্বত ঘুমায়, গায়ে কুয়াশার চাদরে ঢাকি।
চারিদিকে বৃঙ্গ মৃদঙ্গ বাজে, উঠে সুর মাতৃভজন ,
রাতের স্তব্ধতা ভাঙ্গে প্রভাত, বুকে নিয়ে স্মৃতি অনুনন।
ভালোবাসা শেষ হলে পড়ে থাকে যে রঙ, 12/বসুধা প্রতীক্ষায় বসে খুলে রাখে বাতায়ন।
অনুরণ অনুমিতা আমাকে যেতে হবেই এবার,
আঁধার ফুরাবার আগেই উঠে জেগে সমুদ্র ভু-ধর।
সব কথা গুছিয়ে রেখো, বাসনা অনুমান,
কথা শেষ হলে, তুমি আমার, থাকবে কি অনুক্ষণ?
তুমি এসো, সামুদ্রিক ঝড় সব গেছে চলে , পাহাড়ের বিদ্যুৎ এখন করে খেলা নির্মল ভূতলে।
তুমি এসো,খোলা রবে সুশোভিত সজ্জিত দ্বার।
সরু বাতায়ন,ঘন কাঞ্চন-সুধা-নীড়, প্রতীক্ষার সমাহার।
জীবনের দৃশ্যপট
মৃতার শরীরে প্রসাধনির প্রলেপ,
তাকিয়ে দেখে নিদানপুরের শবযাত্রী।
সাগর সঙ্গমে হারিয়ে যাওয়া ছেলেটি
শ্মশানে শুয়ে খুঁজে খেলার মাঠ।
অভয়ার চোখে জ্বলে প্রতিবাদের আগুন।
আঁচল দিয়ে ঢেকে দেয় ওর মা।
মৃত খুনির হিংস্র মুখে নীল মাছির বিদ্রুপ হাসি।
মঙ্গলসূত্র খুলে নেয় স্বামী সোহাগী স্ত্রীর গলার।
শিশুটি আত্মচিৎকার করে ডাকে মাকে,
মা, মা বলে,
অভিমানে দাঁত দিয়ে কামড়ে দেয় মৃতা মায়ের স্তন।
কটি পাখি আর নেড়ি কুকুর খুঁটে খায় ছিটানো খই বাতাসা।
মগডালে বসে ডাকে কাক, উড়ে যায় এক ঝাঁক অচেনা পাখি।
কীর্তনের খোল বিশ্রাম নেয় মাটিতে শুয়ে।
কেউ কাঁদে,কেউ অলস নয়নে শবের খাটিয়া ছুঁয়ে থাকে বসে।
চিতা জানে তার আগুনে খনিকেই শেষ হয়ে যাবে বিত্ত বৈভব, হিংসা হানাহানি, অভাব অভিযোগ।
তার পর কেএক জন ডুব দিয়ে জল এনে চিতা ধুয়ে দিয়ে যাবে চলে,
পিছনে তাকাবেনা আর কেউ।
এভাবেই শেষ হয় জীবনের দৃশ্য পট।
রূপসী সকাল
সূর্যালোকের অপরুপ সকাল,কি রূপের বাহার।
জুই, চামেলী, মালতি, দোপাটি ফুলের সুঘ্রাণ সৌরভ শোভিত পুলকিত আলোর উদ্যান,
বাতাসে উড়ে সহস্র পাখির কলতান
সুমধুর সুঘ্রাণে উদাসী পূরবী হাওয়া
সবুজ ধানের শীষে দোলা লাগে ,নৃত্য করে অনুক্ষণ।
চারিদিকে শুধু ভাসে পাখিদের কলরব,
নির্জনে নদীতটে নৃত্য করে গাংচিল,পানকৌরি ডুব দিয়ে মাছ ধরে,
গাছের ডালে মাছরাঙ্গা ঝুপ করে পরে জলে,
তীর ঘেঁষে ঝাউবন বাতাসে বাজায় বীন।
ওপারে নৌকো বাঁধা ঢেউয়ের তালে নাচে।
নদীর স্রোতে ভাসে কচুরিপানা কতক,আর পুরনো উদাসী ভেলা।
কলরব করে আসে নিত্য দিনের মতো ছেলে- মেয়ের দল,
জলকেলি করে, সাঁতরে ওপারে যায়।
হাক ডাক জলের গান মোহময় দৃশ্যবলী
সবুজ সোনা রঙে রঙিন ছবির প্রকাশ ,
আনন্দে উৎফুল্ল সকালের মোহনায় একি
প্রাণ চঞ্চল বাতায়ন ভরে জাগতিক উন্মাদনা
যেন,বসন্ত বিহারী উৎসব নিত্যদিনের ছবি,
মায়ের রঙিন আঁচল বিছায়ে রেখেছে যেন রূপসী বাংলা।
সূর্য রোদ সুবাস কথার সুরতাল পাখির ডাক,
নিত্য দিনের সকল আয়োজন,
দেখি প্রতিদিন বাংলার সকাল।
Comments
Post a Comment