
গুচ্ছকবিতা
রূপক চট্টোপাধ্যায়
১)
বুড়ো জোকারের কাছে
হাসির সব রসদ ফুরিয়ে এলে,
নিজের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে হেঁটে যান!
রঙিন রিবনে বেঁধে ফেলেন ফুসফুস জোড়া দীর্ঘশ্বাস
গুণ গুণ গান ভাঁজতে ভাঁজতে হাঁটেন দূরে। শেষে
ঝুঁকে পড়া শরীরটাকে মহাশূন্যের কাছে গচ্ছিত দিয়ে
নিজেই হেঁসে যান নিজেরই আড়ালে।
২)
হাসির সব রসদ ফুরিয়ে এলে,
নিজের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে হেঁটে যান!
রঙিন রিবনে বেঁধে ফেলেন ফুসফুস জোড়া দীর্ঘশ্বাস
গুণ গুণ গান ভাঁজতে ভাঁজতে হাঁটেন দূরে। শেষে
ঝুঁকে পড়া শরীরটাকে মহাশূন্যের কাছে গচ্ছিত দিয়ে
নিজেই হেঁসে যান নিজেরই আড়ালে।
২)
ঘরের সব ক্যালেন্ডার পুড়িয়ে ফেলেছি,
ঘড়ির কাঁটা ভেঙে, সময়কে স্থাপন করেছি
অনন্তের দিকে। এবার কি করে যাবে তুমি?
প্রস্থান সুলভ কোনো সময় নেই আর তোমার জন্য
তাহলে এসো, দুজন মুখোমুখি বসি।
বসন্ত কাল কুঁকড়ে আছে মেঘের কার্নিশে
আমাদের গল্প শুরু হলে, সেও শহর মুখি হবে।
৩)
ঘড়ির কাঁটা ভেঙে, সময়কে স্থাপন করেছি
অনন্তের দিকে। এবার কি করে যাবে তুমি?
প্রস্থান সুলভ কোনো সময় নেই আর তোমার জন্য
তাহলে এসো, দুজন মুখোমুখি বসি।
বসন্ত কাল কুঁকড়ে আছে মেঘের কার্নিশে
আমাদের গল্প শুরু হলে, সেও শহর মুখি হবে।
৩)
তীক্ষ্ণ শরের আগে মৃত্যু লেখো অথবা চুম্বন
বিদ্ধ হলে আঘাত লাগবেই। ক্ষরণ হবে
স্বর্ণালি আলোর যন্ত্রণা। ক্ষত হবে নক্ষত্র দাগে।
তোমাকে ঝুলন্ত সাঁকোর মতোই আমার এপার ওপার
ভেবেছি আমি। অথচ তুমি মৃত্যুর চেয়ে
বড়ো প্রেমিক, আর কাউকে ভাবতেই পারো নি!
৪)
বিদ্ধ হলে আঘাত লাগবেই। ক্ষরণ হবে
স্বর্ণালি আলোর যন্ত্রণা। ক্ষত হবে নক্ষত্র দাগে।
তোমাকে ঝুলন্ত সাঁকোর মতোই আমার এপার ওপার
ভেবেছি আমি। অথচ তুমি মৃত্যুর চেয়ে
বড়ো প্রেমিক, আর কাউকে ভাবতেই পারো নি!
৪)
তোমার স্পর্শ মাত্র, বিগত শতাব্দীর শরীর থেকে
ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রসোফিলা মাছি উড়ে আসে। তাদের জিনে এখনো রচিত আছে ফুল্লরা কাহিনী!
এখন এই রক্তাক্ত ভ্রূণের সারি, কালো শহরের মাথায়
ঈগলের জেগে ওঠা লালসা। আগুনে খোদাই করে মানুষের দহনের শেষ পরিচ্ছদ। এর মাঝে
কোন খানে পিঁড়ি পেতে সাজাই বলো
সেই সব বিগত ব্রতকথার আয়োজন!
৫)
ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রসোফিলা মাছি উড়ে আসে। তাদের জিনে এখনো রচিত আছে ফুল্লরা কাহিনী!
এখন এই রক্তাক্ত ভ্রূণের সারি, কালো শহরের মাথায়
ঈগলের জেগে ওঠা লালসা। আগুনে খোদাই করে মানুষের দহনের শেষ পরিচ্ছদ। এর মাঝে
কোন খানে পিঁড়ি পেতে সাজাই বলো
সেই সব বিগত ব্রতকথার আয়োজন!
৫)
সস্তা ক্যানভাসে জাগলিং করছে একটা গোল
টুপি পরা হোমো সেপিয়েন্স। বেশ ছোকরা চেহারা!
সে দৃশ্য বড়োই একঘেয়ে। টনটনে জ্ঞান আছে
যে শহরের দেহে, তার কি দায় আছে
ঘুঘুর উদাসীনতা কিনে নেবে উৎসবের দরে!
তাই অলিগলি উপচে পড়লো চৈত্র সেলে। হরিরলুট।
তাড়াহুড়োয় রূপসী কপালের টিপ ব্যাঁকা পরে,
পৃথিবীও তো কক্ষ পথে ব্যাঁকা হয়ে হাঁটে তেরো মাস!
অনন্ত শাড়ির সম্ভার থেকে টেনে টুনে,
হে রূপসী একটি অর্ধমৃত নদীকেই নির্বাচন করলে শেষে!
৬)
টুপি পরা হোমো সেপিয়েন্স। বেশ ছোকরা চেহারা!
সে দৃশ্য বড়োই একঘেয়ে। টনটনে জ্ঞান আছে
যে শহরের দেহে, তার কি দায় আছে
ঘুঘুর উদাসীনতা কিনে নেবে উৎসবের দরে!
তাই অলিগলি উপচে পড়লো চৈত্র সেলে। হরিরলুট।
তাড়াহুড়োয় রূপসী কপালের টিপ ব্যাঁকা পরে,
পৃথিবীও তো কক্ষ পথে ব্যাঁকা হয়ে হাঁটে তেরো মাস!
অনন্ত শাড়ির সম্ভার থেকে টেনে টুনে,
হে রূপসী একটি অর্ধমৃত নদীকেই নির্বাচন করলে শেষে!
৬)
স্তন গ্রন্থি আসলেই ঘর্ম গ্রন্থি।
একথা শোনার পর তোমার রোম্যান্স ধর্ম
কুঁকড়ে গিয়ে বসে পড়লে বাসের পিছনের সিটে।
বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পড়ছে। পৃথিবী ঘুরছে
আহির ভৈরব লয়ে। ইক্ষু খেতে ঢুকে পড়ছে
আধ বয়সী মেঘ। জনপদ পার হয়ে ভীড় বাস
পার হচ্ছে মাতৃকল্যান সদন হাসপাতাল।
তোমার বুকে ঘামের বিন্দু টলটলে, তার ভেতরেই
সুস্পষ্ট হলো মাতৃ রূপেন সংস্থিতা!
৭)
একথা শোনার পর তোমার রোম্যান্স ধর্ম
কুঁকড়ে গিয়ে বসে পড়লে বাসের পিছনের সিটে।
বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পড়ছে। পৃথিবী ঘুরছে
আহির ভৈরব লয়ে। ইক্ষু খেতে ঢুকে পড়ছে
আধ বয়সী মেঘ। জনপদ পার হয়ে ভীড় বাস
পার হচ্ছে মাতৃকল্যান সদন হাসপাতাল।
তোমার বুকে ঘামের বিন্দু টলটলে, তার ভেতরেই
সুস্পষ্ট হলো মাতৃ রূপেন সংস্থিতা!
৭)
সব দৃষ্টি লন্ঠনকে দিয়ে
অন্ধত্ব নিয়ে বসে আছি। অনন্তের দিকে খিড়কি খোলা।
অন্ধত্ব নিয়ে বসে আছি। অনন্তের দিকে খিড়কি খোলা।
সুনসান মেরুদণ্ডী পথ জোনাকি সাজানো।
রসদ ফুরিয়ে এলো বলে, আর কিছু দিন পর
যুদ্ধ শেষ হলে, এই লন্ঠন নিয়েই
নেমে পড়বো শবদেহের মাঝে পুত্রশোক খুঁজে নিতে।
========================
Rupak Chattopadhyay
Bankura
রসদ ফুরিয়ে এলো বলে, আর কিছু দিন পর
যুদ্ধ শেষ হলে, এই লন্ঠন নিয়েই
নেমে পড়বো শবদেহের মাঝে পুত্রশোক খুঁজে নিতে।
========================
Rupak Chattopadhyay
Bankura
Comments
Post a Comment