Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ১৩শ সংখ্যা # নারী বিষয়ক সংখ্যা

সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র

সম্পাদকীয় ব্লগ-নবপ্রভাত এক বছর অতিক্রম করে দ্বিতীয় বছরে পা রাখল। বহু মানুষের আশীর্বাদে আমরা আপ্লুত। বেশ কিছু রদবদল আমরা ইতমধ্যে করেছি।          প্রতিটি লেখার লিঙ্ক আমাদের ফেসবুক পেজ নবপ্রভাত (https://www.facebook.com/Nabapravat-760081794044853/) -এ পোস্ট করা হচ্ছে। লিঙ্ক যত খুশি শেয়ার করুন। লিঙ্ক-সুত্রে প্রত্যেকের লেখা ব্লগে এসে পড়ুন সবাই।           প্রতিটা লেখার শেষে ফেসবুক কমেন্ট-বক্স যুক্ত আছে। আপনারা লেখা সম্বন্ধে মত বিনিময় করুন ওখানে। এখানেই ফেসবুকের মতো কোনও মন্তব্যে লাইক করাও যাবে।           প্রতি মাসের সর্বোচ্চ পঠিত লেখাগুলি নিয়ে আমাদের আলাদা একটা ভাবনা আছে। তা সময় মতো ঘোষণা করা হবে।           আগামীতে আরও পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা আছে। আকর্ষণীয় করে তুলতে চাই ব্লগটিকে। আপনাদের মতামত পরামর্শ চাই খুল্লামখুল্লা।          সকলে খুব ভালো থাকুন। আনন্দে থাকুন। নমস্কার। নিরাশাহরণ নস্কর (সম্পাদক) সূচিপত্র প্রবন্ধ/নিবন্ধ/মুক্তগদ...

প্রবন্ধ: অরুণ চট্টোপাধ্যায়

নারীর অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা -- এটা বললে নিশ্চয় বেশী বলা হবে না যে মানব প্রাণ সৃষ্টির মুহূর্ত থেকে শরীর বা মনের দিক থেকে নারী দুর্বল ছিল। কিন্তু নারীকে নরের প্রয়োজন ছিল। আবার নরকেও নারীর। এই পারস্পরিক প্রয়োজন প্রাকৃতিক ভাবে বংশ প্রবাহকে রক্ষা করার খাতিরে। এছাড়াও আছে নারীর প্রতি নরের আবেগ আর আকর্ষণ। নর আর নারী এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালবাসার বন্ধন বা হৃদয়ের টান ঠিক কবে থেকে এসেছিল তা হয়ত বলা বেশ একটু শক্তই হবে। প্রথম দিকে হয়ত যৌনাবেগটাই প্রবল ছিল। আর এই তাড়নাতে নর নারীকে সর্বদা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করত। হয়ত নারীকে সে কেবল তার সম্ভোগের বস্তু বলে ধরে নিত আর নিজের সম্পত্তির মত তাকে আগলে রাখার চেষ্টা করত। এই সুরক্ষার প্রয়াস অবশ্যই নিজের স্বার্থে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। একথা অবশ্যই অস্বীকার করার উপায় নেই যে যৌনতার আবেগ হল জগতের সবচেয়ে বড় আবেগ। অন্য সমস্ত আবেগকে হার মানিয়ে দেয় এই আবেগ। এই আবেগ যখন চরমে ওঠে তখন মানুষ পারিপার্শ্ব ভুলে যায়। ভুলে যায় সব যুক্তি তর্ক। তাই এই আবেগ হল মানুষের আদিম আবেগ। এই আবেগ মানুষকে আচরণে এমন কী পোশাকেও করে তোলে সম্পূর্ণ আদিম। প...

নিবন্ধ: আশিস চৌধুরী

অর্ধেক আকাশ ঢেকে আছে মেঘে                              প্রত্যেক বছর আন্তর্জাতিক নারীদিবসে  চারিদিকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়,মঞ্চে মঞ্চে বক্তারা ভাল ভাল কথাও বলেন,সে এক মহাসমারোহ এই দিনটিতে।তারপর সারাবছর ধরে নারীদের ওপর নানারকম অত্যাচার চলে।তাহলে কী প্রয়োজন এত আড়ম্বর করে ওই দিবসটি পালন করার? হয়তো এও আমাদের এক ইনটেলেকচুয়াল এক্সারসাইজ।প্রকৃতপক্ষে কাজের কাজ কিছুই করতে পারি না।এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে কিছুতেই মাথা তুলে দাঁড়াতে দিতে চায় না।চারিদিকে নারীনির্যাতনের ঘটনা তারই সাক্ষ্য বহন করছে।সতীদাহ প্রথার দিনগুলিতে নারীদের ওপর বীভৎস অত্যাচার চালিয়ে সহমরণে যেতে বাধ্য করা হত।ক্রমে সেই অসভ্য বর্বর প্রথার অবসান হয় কতিপয় পুরুষের আন্তরিক প্রচেষ্টায়।তারপর বহু নারী এবং পুরুষের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নারীসমাজের অগ্রগতির রথ চলতে আরম্ভ করে।নারীও যে মানুষ এটা সমাজের একটা অংশ বুঝতে শেখে এবং সেই ভেবে তাদের মর্যাদার আসনে বসাতেও পিছপা হননি।সমাজের বৃহৎ অংশের মানুষ এতে বাধ সেধেও নারীপ্রগতির অগ্রগতি রদ করতে ...

মুক্তগদ্য: তাপসী লাহা

চাঁদের গায়ে কলঙ্ক চড়াই রাস্তার পারে একটু আলো ছড়িয়ে পড়ছে ঘুম ঘুম আঁকা জ্যোৎস্নারা জানেনা বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে দুম করে যে মেয়েটা রাতের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে সে আদৌ বাড়ি  ফিরবে কিনা,অন্তত অক্ষত শরীরে। শরীর শুধু,শরীর মানে যোনি, কিছু পেলব চর্বি চামড়ার মেলানো মেশানো ভালোবাসা।আচ্ছা গত রাতেও তো বেশ ভয়ার্ত একটা পরিস্থিতি গেছে,শামিয়ানা লাইব্রেরি  থেকে সোজা মেসে ফিরছিলো। পোশাক কেমন ছিলো,হ্যা এ প্রশ্নে হয়তো আপনার সম্পূর্ণ  মূল্যবোধেরা পেণ্ডুলাম স্বাচ্ছন্দ্যে টিকটক ডিকডক করছে।দুঃখিত। সে একটা খুব সাদামাটা কুর্তি লেগিন্স পড়েছিলো। বেতের ফ্রেমে মশারি  টাঙানোর মত এক চিত্রকল্পে তাকে ধরতে পারি আমরা। হ্যা, যেটার সাসপেন্স আপনি ধরে রাখতে পারছেন  না যে  কি হলো, সেকথায় ফিরি যাইহোক।         রাত্রি ঠিক  বলা যায়  না। সন্ধ্যে সাতটা।সাতটা বেজে দশ। শামিয়ানা ঘড়ি দেখে দূর্বাদলকে বললো,"আসি।"               লাইব্রেরির গলি থেকে মূল রাস্তায় উঠতে গেলে পেরোতে হয় ত্রাসগলি। একটু আওয়া...

নিসর্গ নির্যাস এর কলম

॥  মৃণালিনী আসার আগে... ॥ আয়নার সামনে এলোকেশী কৃষ্ণকলি স্নান সেরে চুল আঁচড়াচ্ছে । বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। আজ ৫, ৫ ই জুলাই । আমাদের বিবাহ বার্ষিকী । কত বছর পূর্ণ হল মনে আসছেনা এখনই । ও বিয়ের কথায় মনে এল আজ তো  জন্মদিন । আসলে এত বড় বাড়ির অন্দরমহলে স্বামী সংসার বাদে নিজেকে আর আলাদা করে মনে রাখবার সময় কই ! মাতঙ্গিনী তো নিজেকে ভুলেইছে যেদিন সে কাদম্বরী হলো । বাজার সরকারের মেয়ের আবার জন্মদিন! বিয়ে দিয়ে দায় সারা হলো । বোঝা মুক্ত হয়েছিল বাবা । আমার গান শেখা, খেলার সাথী রবি হয়ে গেল আমার দেবর! স্বামী দাপুটে বাড়ির 'নতুন' । পোড়ামুখীর কপালে শিকে ছেঁড়ায় তার বাবার প্রমোশন হয়েছিল নাকি বেয়াই বাড়িতে থেকে চাকুরী শোভা পায়না বলে গাজীপুর জমিদারী দেখভালের দায়িত্ব তা জানিনে । জানি আমি শ্রীমতী কাদম্বরী জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির মেজ বউ ।  স্বামীর উপযুক্ত নই বলে বড়বৌ থেকে দালান-থাম-দেওয়াল জুড়ে ফিসফাসের ফাঁস গলা টিপে ধরে । আমি বউ, মা হতে পারলাম কই! ঊর্মিলাকে বুকে ধরে সুখ পেতাম । সেও চলে গেলে দেবেন্দ্র-দ্বিজেন্দ্র-সত্যেন্ দ্র-জ্যোতিরিন্দ্রদের ইন্দ্র মহল জুড়ে প্রতিধ্বনি; মেজ বউ ডাইনি । য...

শেফালি সরের নিবন্ধ

 ।। আমাদের অধিকার।।           আমরা নারী। আমরা বিধাতার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সৌন্দর্য সম্পদ।আমরাই পৃথিবীর সর্বত্র লক্ষ্মী শ্রী হয়ে বিচরণ করি। আমরা তো কারো হাতের খেলনা পুতুল নয়। প্রশ্ন জাগে মনে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্র পুঞ্জের স্বীকৃতিকে মেনে শুধু ৮ই মার্চ দিনটা কেন ই  বা নারী দিবস হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে? তাহলে কী ৮ই মার্চ এর রাত পোহালেই নারী দিবস শেষ হয়ে যাবে? ৯ই মার্চ ভোর থেকে আবার আমরা চলে যাবো গৃহকোণে বন্দিনী হতে সংসারের সব ছিদ্র গুলোকে ভরাট করতে সব গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে। সত্যি ই খুব লজ্জা হয়, এই একটা দিন যে কেন আমাদের চোখে মায়া কাজল পরিয়ে মিথ্যের বেসাতি করা হয়? যদিও এই প্রশ্ন টা আমাদের অর্থাৎ মেয়েদের ই করা উচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশের মেয়েরা এ প্রশ্ন না করে মিথ্যে বেসাতি র স ওয়ার হয়। গয়না, শাড়ি,বাসন কোসনের ছাড় গুলোকে কেন যে নিজেদের অহংকার বা অলংকার বলে মনে করে মেয়েরা সত্যি ই বুঝিনা।এ লজ্জা আমাদের মেয়েদের ই হ ওয়া উচিত। কিন্তু আমরা তো স্বপ্ন দেখতে পারি একজন ফুটবলার, একজন পর্বত অভিযাত্রী, একজন অ্যাথলেট, একজন দায়িত্বশীল সৈনি...

প্রবন্ধঃ অদিতি চৌধুরী

লিঙ্গ-সাম্য    বর্তমানে লিঙ্গ সাম্য, নারী ক্ষমতায়ন সম্পর্কিত অনেক বিষয় জনমাধ্যম ও সমাজ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রভূত আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু লিঙ্গ সাম্য বলতে প্রায় ক্ষেত্রে মানুষ বোঝেন যে একটি নারী পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় একটি নারী ও সুযোগ পেলে যে কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের সমান যোগ্যতা ও সাফল্যের অধিকারিনী হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এই  বাক্যটি উদার মনে হলেও এর আড়ালে একটি অপ্রিয় সত্য ধরা পড়ে তা হল স্বাভাবিক ভাবে নারীরা পুরুষের চেয়ে দুর্বল হয়ে থাকে, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সুযোগ দিয়ে তবে ই পুরুষের সমান করা যায়। মেয়েরা স্বাভাবিক ভাবে দুর্বল কারণ তারা প্রাচীনকাল থেকে ঘরোয়া কাজ-কর্ম ই শুধু করে এসেছে বলেই আমাদের সমাজের অনেক মানুষ মনে করেন। আর ঘরোয়া কাজ-কর্ম মানেই তা অগুরুত্বপূর্ণ ‌‌ও শৌর্য , বীরত্ব হীন।  "দুর্বল" মানুষদেরই সমাজে তাদের অপেক্ষা অধিকতর মান মর্যাদার অধিকারী মানুষদের সমকক্ষ হবার চেষ্টা করতে হয়। ঠিক তেমনি যেন সমাজে " দুর্বল "শ্রেণীর মানুষ " নারীদের ," সমাজে "সবল" শ্রেণীর মানুষ "পুরুষ"এর সমকক্ষ হতে হয়। অনেক মেয়ে...

নিবন্ধ:কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল

নারী মনে ওলট পালট                                                 'সংসার সুখের হই রমনির গুণে', কথাতি আতি জনপ্রিয় হলেও এর গভির অর্থ  এই যে মেয়েদের সংসারের প্রতি দায়বদ্ধ্বতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য বধ পরায়াণ হয়ে থাকে। শিশু কান্যা হিসাবে জন্ম গ্রহন করার পর থেকে পরিবেশ ও পরিবারে ধীরে ধীরে সে বেড়ে ওঠে, একটু বড় হতেই সে বুঝতে পারে শয়েতার ব্যবধানটা  অর্থাৎ সেই শিশু কন্যার বয়েস যখন পাঁচ কিম্বা ছয় বছর তখন বাবা মায়ের দ্বিতিয় কিম্বা তৃতীয় সন্তান রূপে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। বাবা মা সহ পরিবারের উৎসাহ আর আনন্দে মাতয়ারা হয়ে পড়ে। শিশু পুত্রটির প্রতি জত্নের মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে তার জন্যা আস্তে থেকে নতুন নতুন খেলনা, নতুন পসাক,ধীরে ধীরে ক্ষোভ জন্মায় বড় কন্যা সন্তান টির মনে ।এ ভাবেই বাড়তে থাকে  সে। নয় থেকে বারো বছর বয়সে মেয়েদের মনে কৌতূহল দানা বাঁধে ।সকলের জানা দরকার ৭থেকে১২বছর একটি মেয়ের জীবনে খুবই গুরুত্ব পূর্ণ সময়।বয়ঃসন্ধি কালে মেয়েদে...

রাণা চ্যাটার্জীর নিবন্ধ

               নারী ও নারী দিবস                         আর একটা বিশেষ দিন,পার করে ফেললাম দেখতে দেখতে, নারী দিবসের ঢেউ।রাত বারোটা বাজার অপেক্ষা, মোবাইল আতঙ্কিত হচ্ছিল ," ম্যাসেজ সুনামি"  আসবে,এই বুঝি জলোচ্ছাসের থেকে বেশি স্পর্ধা নিয়ে! চারিদিকে তোড়জোড় পোস্টার-ফেস্টুন,কত প্রশংসা স্তুতি আছড়ে পড়ছে নেট দুনিয়া জুড়ে।ভাবছি এর কয়েক আউন্স নজর যদি বাড়ির পুরুষ রা নিজ নিজ বাড়ির মহিলা,বয়ষ্কা, শিশু কন্যাটির প্রতি দেখাতো,তাহলে বেশ হতো।কিন্তু একজন নারী প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করে চলেছে আসল বাস্তবতাকে নগ্ন ভাবে। নারী নিয়ে মাদকতা আছে, কিন্তু নারী'র প্রথম অক্ষরটিই 'না' বলেই হয়তো আজও  একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসেও নারীকে শুনতে হয় প্রতি পদে পদে ঘরে বাইরে কেবল  'না' শব্দ।  মানবচক্রের যেই মাধ্যমে আমাদের এই পৃথিবীতে আসা, তার একটি অপার মাধ্যম এই নারী। এই নারী কখনো আপনার মা, কখনো আপনার বোন আবার কখনো স্ত্রী। ধর্মেও আছে নারীর সম্মানের স্থান। হাজার সম্পর্কের মাঝে ...

অমৃতা বিশ্বাস সরকারের নিবন্ধ

     যখন এ শতাব্দীও স্বপ্ন দেখে  'নারী 'আর 'নাড়ি 'শব্দ দুটি ভুলবশত অনেকেই মাঝে মাঝে ,বিশেষত লেখার সময় গুলিয়ে ফেলেন ।কিন্তু তাঁদের সেই ভুলের মধ্যেই থাকে শব্দ দুটির মধ্যে গভীর আত্মীকতার মূল ।মা একজন নারী ,তাঁর সাথে সন্তানের যে নাড়ির টান ।আবার যিনি মা তিনি একধারে কারোর কন্যা ,কারোর স্ত্রী -না জানি আরোও কতো সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ এক অস্তিত্বের অধিকারিণী ।শুধু সন্তানের সাথেই কি তাঁর নাড়ির টান ?আসলে তা নয় ।তিনি বাঁচেন প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর  চারপাশের মানুষগুলোর জন্য ,যাদের প্রতি এক অদৃশ্য নাড়ির টান অনুভব করেন তিনি ।ভালোলাগার মানুষগুলোর জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেবার আগে একবারের জন্যও ভেবে দেখেন না -এমনকি নিজের শখ -আহ্লাদটাও এক নিমেষে বাদের খাতায় লিখে ফেলেন ।কিন্তু সেটা কি তাঁর আশেপাশের  ভালোলাগার ও ভালোবাসার মানুষেরা বোঝে ?অনেকের মতেই -''মেয়ে হয়ে জন্মেছিস ।সব পারবি ।''কারোর কারোর বিনামূল্যের উপদেশ -''মানিয়ে নে না একটু ।কথায় আছে যে সয় ,সে রয় ।''বিপরীত স্রোতে যাবার আকাঙ্খা পোষণকারী মেয়েদের সম্পর্কে পুষ্প বর্ষণ -''যত্ত...

প্রবন্ধ: রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের নারীরা ----------------------------- আমি অন্তঃপুরের মেয়ে,অতি সাধারণ ৷স্বপ্ন দেখার সময় কি সে সব মনে থাকে ? কত রাত একা একা বাসী ফুলের মালা বুকে চেপে নরেশকে হারিয়ে দেওয়ার স্বপ্নে মেতে উঠেছি ৷কিন্তু সে তো হবার নয় !আমি কখনও লাবণ্য হতে পারব না ৷শিলং-এর সৌন্দর্য  মেখে ফুটে থাকা রডডেনড্রন গুচ্ছ ,যাকে দেখে অমিত-এর মত প্রগল্ভ,বিলেত ফেরত ,আধুনিক যুবকও কাবু হয়ে যাবে ৷ ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে বলবে " For God sake ,Hold your tung and let me love " যার কাছে লাবণ্যের ভালোবাসা ঠিক ঝর্নার জলের মত-প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য নয় ৷ আমি অতি সাধারণ , আটপৌরে , নিয়মে বাঁধা ৷  প্রেমে পড়লে সর্বংসহা মহিয়সী হয়ে উঠি ,কেন যেন দুঃখ বিলাস পেয়ে বসে । নিজে ভালো না থেকে কাছের মানুষটার ভালো দেখতে চাই , চালাকেরা বলে কী বোকা ! আসলে আমাদের মত মেয়েদের একটা মায়ের মত হৃদয় থাকে । বড় স্নেহ পরবশ হয়ে পরি ৷ কেন আঘাতের বদলে আঘাত , অপমানের বদলে অপমান ছুঁড়ে দিতে পাড়িনা !  আমাদের নন্দিনীর মত ওমন প্রাণশক্তি, সৌন্দর্য, নিয়ম ভাঙার সাহস কোনটাই যে নেই ৷সেই জুঁই,সেই গোলাপ বা রজনীগন্ধা আমার প্রিয় ৷রক্ত...

সবিতা বিশ্বাসের প্রবন্ধ

নারী দিবস ও কিছু কথা "Balance for Better" আন্তর্জাতিক নারী দিবস 2019 র প্রতিপাদ্য " সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো।" 8 ই মার্চ 2019  বিশ্ব নারী দিবস।এই দিনটি উদযাপনের পিছনে রয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামী ইতিহাস।  1857 খ্রীষ্টাব্দে নিউইয়র্কের রাস্তায় সুতো কারখানার নারী শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে মজুরী বৈষম্য, কাজের সময় নির্দিষ্ট করা, কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশের দাবীতে মিছিলে সামিল হয়েছিলেন। তার জন্য সরকারের হাতে নির্যাতিত হতে হয়েছিল তাদের।  1908 খ্রীষ্টাব্দে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। 1910 খ্রীষ্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। 17 টি দেশ থেকে 100 জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনে ক্লারা 8ই মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। এইভাবে লাগাতার মিটিং, মিছিল, সম্মেলন চলতে  থাকে। অবশেষে 1975 সালের 8ই মার্চকে বিশ্ব নারী দিবসের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের ...

অণুগল্পঃ তরুনার্ক লাহা

                                                   বিজয়া                                     ---------------- ---মনসারাম,বাড়ি আছো? রান্নায় ব্যস্ত মনসারামের বৌ বিন্দির কানে এসে পৌঁছায় এই ডাক।কড়াইটা নামিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।জনাপাঁচেক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে ।।বিন্দি জানতে চায়---তুমরা কে গো? ধুতি পাঞ্জাবি পরা বয়স্ক ভদ্রলোকটি এগিয়ে এসে বলে---আমরা এসেছি সীতারামপুর থেকে।দুর্গা  পূজায় মনসারামকে বাজাতে হবে গো।আমরা বায়না   করতে এসেছি।মনসারাম কোথায় গেল? বিন্দি দ্বিধাগ্রস্ত।তবু মন শক্ত করে বলে---আমি উয়ার বৌ।তুমরা বায়না করে যাও।ইখানে একটুকুন দাঁড়াও।আমি আসছি। বিন্দি দ্রুত পা চালিয়ে পাশের গলিতে ঢুকে যায়।মিনিট দশেক পর ফিরে আসে প্যালারামকে সাথে নিয়ে।মনসারামের  ভাই ।যমজ ।প্যালারামের সামনেই বায়ন...

অণুগল্প: জয়শ্রী রায় মৈত্র

          অকুতোভয় শীতের সন্ধ্যা । ঘন আম বাগানের আঁকাবাঁকা পথে একটি কিশোরী মেয়ে প্রাণপন ছুটে চলেছে । পিছনে কাম পিপাসুর দল । দিশেহারা কিশোরী ছুটতে ছুটতে গ্রামের মেঠো পথ ধরে এক ছোট্ট বাড়ির দরজায় এসে আপ্রাণ কড়া নাড়তে থাকে – "বাঁচাও, কে আছো বাঁচাও"। মুহূর্তের মধ্যে দরজা খুলে দেয় মাঝবয়সী এক ভদ্রমহিলা । হাঁফাতে হাঁফাতে মেয়েটি ঘরে ঢুকে পড়ে । ভদ্রমহিলা কিছু বুঝে উঠবার আগেই মেয়েটির পিছনে ধেয়ে আসা চার যুবক ঘরে ঢুকে পড়ে । মেয়েটি তখন ভদ্রমহিলাকে আস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে । এবার ভদ্রমহিলা ঘটনা বুঝতে পারেন  এবং সব কিছু পরিস্কার হয়ে যায় তাঁর কাছে । মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে ভদ্রমহিলা সান্ত্বনা দেন – "কোন ভয় নেই, আমি তো আছি"। এবার যুবকদের দিকে তাকিয়ে ভদ্রমহিলা ওদের চলে যেতে বললেন । কাম পিপাসুর দল তখন নাছোড়বান্দা । তাদের মেয়েটিকে চাইই চাই । তারা ভদ্রমহিলাকে বলল – "ছাড়ুন ওকে, কেন শুধু শুধু নিজের বিপদ ডেকে আনছেন?"   এবার ভদ্রমহিলা ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন – "কি করবি শয়তানের দল ? মেরে ফেলবি ? প্রাণ থাকতে ওকে তোদের হাতে ছাড়ব না"। চকিতে ভদ্রমহিলা চৌ...

ছোটোগল্পঃ শ্যামাপদ মালাকার

অরণ্যস্বাদ """"""""""""""""""""""""" কিছুদিন পূর্বে, আমি এমনই এক পরিস্থিতিরর শিকার হয়েছিলাম, যা অবিশ্বাস্য! আজ তারই কিছু অংশ তুলে ধরলাম। সময়টা ছিল- ২০১৬ -- জানুয়ারীর প্রথম দিক, দূর সম্পর্কীয় এক দিদি ব্যাক্তিগতভাবে আমাকে একটি পত্র লিখে গেছেন। উনার সঙ্গে কি ভাবে আমার সাক্ষ্যত বা উনার আশ্রয়স্থলই বা কোথায়, এই পরিচয় দিতে আজ আমার কোনো লজ্জা বা সংকোচ নেই। তবে উনার পরিচয় দেওয়ার আগে,--আমার দু'একটা কথা বলা আবশ্যক। কিছুদিন আগে বাঁকুড়া জেলার ঝিলিমিলির প্রাকৃতিক-বন্যরুপদর্শনের সুযোগটি আমার নিকটে এসে পড়ে। আমিও  বিলম্ব না করে সুযোগটি গ্রহণ করি, সঙ্গে কলম ও ডাইরীটা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম--সেই অজানা অপরিচিত ঝিলিমিলি বনঞ্চালের রুপ-রস উপভোগের উদ্দেশ্য। আমার যাওয়ার একটাই কারণ- স্থনে স্থানে অরণ্যবেষ্টিত বাবুই বা- বিচুলিনির্মিত ছোটো ছোটো পিছিয়ে পড়া বস্তি, আমাকে আজও আকৃষ্ট করে। একশো দশ--পনেরো  কি,মি রাস্তা অতিক্রম করে, এক সময় সকলকে বাস থেক...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,